মার্কিন সেনাদের সাথে ইরানে থাকছে না ইসরায়েল! ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১০:১৭:১০
মার্কিন সেনাদের সাথে ইরানে থাকছে না ইসরায়েল! ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে মার্কিনীরা—এমন খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে কিছু সমালোচনা থাকলেও কৌশলগত বাস্তবতাই এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সীমিত পরিসরের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এসব পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নামও উঠে এসেছে। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় খারগ দ্বীপে প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ইরান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবুও সাম্প্রতিক কোনো প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে এমন ধারণা থেকে যে, এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়ছে, অথচ এটি মূলত ইসরায়েলের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখার চেষ্টা করলে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থনও সীমিত। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। অনেকের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরায়েলের বেশি স্বার্থ রক্ষা করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলকে ‘অনুপস্থিত’ মনে হলেও বাস্তবে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য ফোরামের নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ রোমান বলেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে ইসরায়েলের হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দ্বীপগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যও দিয়েছে ইসরায়েল।

তবে সরাসরি স্থল যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইজ মিসজটাল বলেন, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার ইসরায়েল স্থল যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে কূটনৈতিক নয় বরং সামরিক বাস্তবতা বড় কারণ।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হুমকির কারণে ইসরায়েলকে নিজ সীমান্তেই বড় অংশের সেনা মোতায়েন রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক ডিভিশন মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরেও তাদের অভিযান চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল পুরোপুরি বাইরে থাকবে—এমনও নয়।

গোপনে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ইরানের ভেতরে সীমিত অভিযান চালানো হতে পারে। গ্রেগ রোমানের ভাষায়, ‘ইরানের মাটিতে একজনও ইসরায়েলি সদস্য না থাকা কৌশলগত ভুল হবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোপন কার্যক্রমে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে এটি ইসরায়েলের অনাগ্রহ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন অভিযানে কৌশলগত দায়িত্ব বণ্টনেরই অংশ।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার!চলছে ইরানি বাহিনীর সাথে তুমুল লড়াই

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১০:১১:৫৬
নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার!চলছে ইরানি বাহিনীর সাথে তুমুল লড়াই
ছবি : সংগৃহীত

ইরানি বাহিনীর সঙ্গে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর অবশেষে নিখোঁজ দ্বিতীয় মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ওই ক্রু সদস্যকে তুমুল গোলাগুলির মধ্য দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইলটকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তিনি এখনো ইরানি ভূখণ্ডে থাকায় নিরাপদ নন; উদ্ধারকারী স্পেশাল ফোর্সের দলকে তাকে নিয়ে সফলভাবে ইরান সীমান্ত পার হতে হবে। গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই এই ক্রু সদস্যকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা ইরানে প্রবেশ করলে তারা ইরানি বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এই উদ্ধার অভিযান চলাকালে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টারও ইরানি হামলার শিকার হয়।

অন্যদিকে, ওই পাইলটকে জীবিত ধরতে ইরানও ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছিল এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। পাইলটকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে এখন এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন সেনারা তাকে উদ্ধার করতে পারলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে এখনো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

/আশিক


কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলা, জ্বলছে তেল কমপ্লেক্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ০৯:০৪:২৬
কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলা, জ্বলছে তেল কমপ্লেক্স
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যখন ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ সুয়াইখ তেল সেক্টর কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে সংঘটিত এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সুয়াইখ অঞ্চলের এই কমপ্লেক্সে কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং তেল মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অবস্থিত। হামলার ফলে এসব স্থাপনার কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে কুয়েতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ড্রোন হামলা সরাসরি সরকারি অফিস কমপ্লেক্সেও আঘাত হেনেছে। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতির একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘটনা নয়; বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তেহরানের এই পাল্টা কৌশলের অংশ হিসেবে কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত জ্বালানি অবকাঠামো এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

-রফিক


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘বড় চমক’ দেবে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ০৮:৪৪:৪৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘বড় চমক’ দেবে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার যুদ্ধ কৌশল নিয়ে নতুন করে শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা অনুসরণ করেই সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘ফারস’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, তবে তার মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সামরিক পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি ‘অপ্রত্যাশিত বড় চমক’ প্রস্তুত রয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতেই দৃশ্যমান হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চমক যুদ্ধের গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো সংঘাতের কৌশলগত ভারসাম্য তেহরানের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, ওয়াশিংটনের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন যথাযথ নয় এবং এতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না। বিশেষ করে ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘অবাস্তব’ ও ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ বলে উল্লেখ করেন।

তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং কিছু সামরিক অভিযানে ব্যর্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসছে, যা মূলত চাপের প্রতিফলন। এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি কৌশলগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও অভিহিত করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক! উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২২:০৪:০০
তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক! উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিপর্যয় ঘটলে এর প্রভাব কেবল ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর রাজধানীগুলো সরাসরি প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আরাগচি পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে বিশ্ব যেভাবে সোচ্চার হয়েছিল, বুশেহরের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে চারবার এই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

যদিও ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হামলার প্রকৃত উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা থাকলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন।

/আশিক


ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২১:৩০:০০
ইরানকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চরম এবং চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সময়সীমা বা ডেডলাইন ঘোষণা করে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইরানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি এর আগে দেশটিকে একটি চুক্তিতে আসার অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খুলে দেওয়ার জন্য যে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলেন, তার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি আছে। সময় শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের ওপর ভয়াবহ সামরিক আক্রমণ শুরু হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিলেন। সেই হিসেবে সোমবারই হচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত ডেডলাইন। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্প তাঁর এই পোস্টে ‘গ্লোরি বি টু গড’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে নিজের অনড় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এই আল্টিমেটামকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং এখন দেখার বিষয় হচ্ছে এই শেষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না। অন্যথায় ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখন তীব্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


নিজের এলাকায় বোমা ফেলল ইসরায়েলি হেলিকপ্টার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ২০:২৪:২২
নিজের এলাকায় বোমা ফেলল ইসরায়েলি হেলিকপ্টার
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে, তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ভুলবশত উত্তর ইসরায়েলের একটি উন্মুক্ত জনহীন এলাকায় বোমা ফেলার ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন হেলিকপ্টারটি নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আকাশে অবস্থান করছিল।

আইডিএফ দ্রুত এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, বোমাটি জনশূন্য এলাকায় পড়ায় এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহত বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠিয়ে অবিস্ফোরিত বোমাটি নিরাপদে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে।

সামরিক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে একটি যান্ত্রিক বা মানবিক "ভুল" হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বর্তমানে উত্তর ইসরায়েলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এই ঘটনা সামরিক প্রস্তুতির সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে সাতটি যুদ্ধবিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৫:৪৯:৩২
ইরান যুদ্ধে সাতটি যুদ্ধবিমান হারালো যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সর্বশেষ দুইটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার পর মোট হারানো মার্কিন বিমানের সংখ্যা অন্তত সাতটিতে পৌঁছেছে, যা সংঘাতের তীব্রতা ও জটিলতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনায় একটি এফ-৩৫ এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এর আগে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও পাঁচটি বিমান হারানোর ঘটনা ঘটেছে, যা ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

২ মার্চ কুয়েতের আকাশে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ঘটনাটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজস্ব বাহিনীর ভুলবশত হামলার ফল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

এরপর ১২ মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন বিমানকর্মীর মৃত্যু ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে নয়; বরং অপারেশন চলাকালে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের ফল।

২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের হামলায় একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান মাটিতেই ধ্বংস হয়ে যায়। একই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হন এবং একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের সম্ভাব্য হামলার কারণে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে, যা এই সংঘাতে আকাশযুদ্ধের ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমানের এ ধরনের ধারাবাহিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধাক্কা। এটি শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রশ্নই নয়, বরং আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা কার্যকর হয়ে উঠেছে, সেই বিতর্ককেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, এই ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সংঘাত শুধু স্থল বা সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আকাশপথেও একটি উচ্চমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন


গোপনে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ, বিশ্লেষণে টেলিগ্রাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৩:৪৩:১৪
গোপনে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক সরবরাহ, বিশ্লেষণে টেলিগ্রাফ
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাতে থাকে, যার ফলে গোটা অঞ্চল ক্রমেই অস্থির হয়ে ওঠে।

এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুটটি অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে শুরু করে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, চীন এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে ইরানকে সহায়তা করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনা বন্দর থেকে যাত্রা করা কয়েকটি জাহাজ ইরানে পৌঁছেছে, যেগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান বহন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Telegraph-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্তত চারটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বন্দরে নোঙর করেছে এবং আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব জাহাজ চীনের ঝুহাই অঞ্চলের গাওলান বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জাহাজে বহন করা সোডিয়াম পারক্লোরেট নামের রাসায়নিকটি কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্ভব, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে ইরান দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে এবং এই আমদানি সেই কৌশলেরই অংশ। CNN-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিছু দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এতে বোঝা যায়, ইরানের সামরিক অবকাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং তারা বিকল্প ও ছড়িয়ে থাকা উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব জাহাজ Islamic Republic of Iran Shipping Lines-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য প্রদর্শন এবং নাম পরিবর্তনের মতো পদ্ধতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সময়গত দিক থেকেও এই সরবরাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলমান যুদ্ধে ইরান ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে এবং তাদের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কাঁচামাল আমদানি তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও কিছুদিন বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গোলবান’ ও ‘জাইরান’ নামের দুটি জাহাজের বহনক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান অতিরিক্ত প্রায় ৭৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে। এর ফলে তারা অন্তত আরও এক মাস প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।

চীনের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, বিশ্লেষকদের মতে তারা বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখছে।

তবে এই কৌশল চীনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্যের বিষয়। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে, যা এই সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার একটি জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:দ্য টেলিগ্রাফ


হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১২:৫৬:২৩
হরমুজ প্রণালিতে নতুন পথ! ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো ভারতীয় জাহাজ?
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়ে এক বিকল্প ও নিরাপদ রুট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছেছে ভারতীয় কার্গো জাহাজসহ মোট চারটি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ। ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জলসীমার ঝুঁকি এড়িয়ে এই জাহাজগুলো সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে শনিবার (৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নিরাপদ রুটটি ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে লজিস্টিকস ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বহরে ছিল মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী তেলবাহী সুপার ট্যাংকার ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’, পানামা পতাকাবাহী এলএনজি জাহাজ ‘সোহর’ এবং ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩’।

এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছ দিয়ে ওমানের জলসীমানায় প্রবেশ করার পর মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল বন্ধ করে দেয় যাতে ইরানি রাডারে ধরা না পড়ে। পরবর্তীতে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সেগুলোকে পুনরায় শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ‘হাবরুত’ ও ‘ধালকুট’ জাহাজ দুটি যথাক্রমে সৌদি আরব ও আমিরাতের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ইরানের হামলার ভয়ে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

অন্যদিকে, ইরানও তাদের নিজস্ব জলসীমার ভেতর দিয়ে কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝ দিয়ে একটি বিকল্প রুট চালু করেছে, তবে সেখানে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি এবং তেলের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শুল্ক দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিকল্প ওমানি রুটটি ব্যবহার সফল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: