যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে শর্তে সমাধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৮:০৭:২৫
যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে শর্তে সমাধান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত নিরসনে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও ভবিষ্যতে একই ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা–এর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সদিচ্ছা রয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে কিছু মৌলিক শর্ত পূরণের ওপর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই অবস্থান ইরানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না করে কোনো শান্তি চুক্তি টেকসই হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থানই আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার আশা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলোর মধ্যে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে, যা বাজারে সামগ্রিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক সবচেয়ে বেশি উত্থান দেখিয়ে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদকে নির্দেশ করে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমার সম্ভাবনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা কমলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রাফসান


৬০ দিনের মধ্যে কেটে গেল ১৪ দিন, তবুও আলোর মুখ দেখেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:১৭:০৫
৬০ দিনের মধ্যে কেটে গেল ১৪ দিন, তবুও আলোর মুখ দেখেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈরিতা এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্য নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চুক্তির ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে এর সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক এই সমঝোতার শর্তগুলো তেহরানের পক্ষে বেশ সুবিধাজনক মনে হলেও, শেষ পর্যন্ত এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনও চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

দ্বিপক্ষীয় এই সমঝোতার প্রধান প্রধান শর্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে ইরানের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা সমস্ত জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থাকা অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করতে হবে। এর বিপরীতে তেহরানের দায়িত্ব হবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক সব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে নিজেদের পূর্বঘোষিত অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করা।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই দুই সপ্তাহে মাঠপর্যায়ে একাধিক নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এই যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার ভিত এখনও কতটা নাজুক ও ভঙ্গুর। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে, যার জেরে মার্কিন ও ইরানি সশস্ত্র বাহিনী একে অপরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালায়। এই আকস্মিক সংঘাতের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক নৌপথে আবারও জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যদিও এর আগের সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে তা এখনও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ও উত্তাপ কমানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা ও প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি থামেনি, বরং তা অব্যাহত রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো, বেশিরভাগ জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর চূড়ান্ত মীমাংসা পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ইতোমধ্যে মূল্যবান দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মূল বিষয়গুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কার্যকর ফল আসেনি।

বিশেষ করে, সমঝোতার একটি নির্দিষ্ট ধারা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে— ইরানের জব্দ করা অর্থের মুক্তি, ইরানি তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দুই দেশের সংঘাতের পাশাপাশি লেবানন সীমান্তের যুদ্ধ বন্ধের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোর সমাধান হওয়ার পরই কেবল পরবর্তী আনুষ্ঠানিক টেবিলে বসা যাবে। শর্তের এই মারপ্যাঁচের কারণে কোন সমস্যাটি আগে সমাধান করা হবে, অর্থাৎ আলোচনার সঠিক ক্রম নির্ধারণ করাও দুই পক্ষের কূটনীতিকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। ইরান গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা তাদের জব্দ করা সম্পদের অর্ধেক অংশ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এই দাবি নাকচ করে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো সম্পদই মুক্ত বা অবমুক্ত করা হয়নি।

নিরাপত্তা ফ্রন্টেও উত্তেজনা কমেনি। ইরান এখনও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোর দিয়ে বলছে যে, নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করে কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে অবশ্যই তেহরান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে। কিন্তু ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে এখন বিশ্ববাণিজ্যের বেশিরভাগ জাহাজ ওমান উপকূল ঘেঁষে তৈরি হওয়া বিকল্প নিরাপদ রুট ব্যবহার করছে। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই পুরো সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও কোনো ধরনের অর্থবহ বা আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র : সিএনএন


দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ০৯:৪৩:০৫
দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকেই আলোচনার অনুরোধ এসেছে এবং সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই ওয়াশিংটন আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কারিগরি বা আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ফলে দুই দেশের বিপরীতমুখী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ বড় হাতের অক্ষরে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।” তবে তিনি বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি কিংবা কূটনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

অন্যদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশের আগে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে বলেন, কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের কোনো কারিগরি দলের বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। তার ভাষ্য, দোহায় সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান সাধারণত কূটনৈতিক বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এবং এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দুই দেশের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান দোহার সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে উভয় পক্ষ এখনো প্রকাশ্যে একে অপরের অবস্থান যাচাই করছে। ফলে বৈঠক আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো সমঝোতা হবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের মোট ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০০ কোটি ডলার ছাড় করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, কয়েক দিন ধরে চলা সামরিক উত্তেজনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

-রাফসান


দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ০৯:৩৭:৩৪
দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশটি।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা কারিগরি বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ ধরনের বৈঠকের খবর প্রকাশিত হলেও তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে ইরান সাধারণত শেষ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো সূচি নিশ্চিত করা হয় না।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সেই সংলাপের অগ্রাধিকার এখন পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ওই জলপথের নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং সংঘাত প্রশমনই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী। তেহরানের দাবি, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা সেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি করিডোর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এ পথ দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানি কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, দোহায় সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে এখনও কোনো সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সময়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে। আপাতত কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বলেই ইরানের অবস্থান।

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, নতুন কোনো সংলাপ শুরু হওয়ার আগে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে এবং ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছে। ফলে আস্থা পুনর্গঠন ছাড়া নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়া কঠিন হবে।

ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং পঞ্চম ধারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা ইরানের দায়িত্বে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই শর্তগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মনে করছে তেহরান।

এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি মিত্র দেশ ওমান উপকূলের কাছাকাছি বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে। তেহরানের দাবি, যদি নতুন রুট চালু করা হয়, তবুও বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী ওই নৌপথের নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল তদারকির অধিকার তাদেরই থাকা উচিত। এই ইস্যু ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম বড় বিতর্কে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

-রফিক


মহাকাশের ৩ স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ২১:৫২:২৫
মহাকাশের ৩ স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ প্রযুক্তির তিনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে চীন। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে জিপিএসের মতো অত্যাধুনিক গ্লোবাল নেভিগেশন ব্যবস্থা, আকাশ থেকে সুনিপুণ ও উন্নত নজরদারি (রিকনেসান্স) এবং কক্ষপথে শত্রুভাবাপন্ন স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার বিধ্বংসী সক্ষমতা।

ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন’ (আইটিআইএফ)-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। হংকংভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে রোববার (২৮ জুন) এই গবেষণা রিপোর্টের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আইটিআইএফ তাদের গত ৮ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চীনের কমিউনিস্ট সরকারের শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক সমর্থনের কারণে দেশটিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত গড়ে উঠেছে। এর ফলে মহাকাশ প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের যে ব্যবধান ছিল, তা এখন কল্পনাতীত গতিতে কমে আসছে। প্রতিবেদনে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি অনতিবিলম্বে মহাকাশ খাতে আরও জোরালো ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ না নেয়, তবে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির একক নেতৃত্ব চিরতরে চীনের হাতে চলে যাবে। উল্লেখ্য, আগামী দশ বছরের মধ্যে এই বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশিত এই গবেষণায় মহাকাশ প্রযুক্তির প্রধান ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের একটি তুলনামূলক চিত্র ও শক্তির খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘স্টারলিংক’ এবং অ্যামাজনের ‘প্রজেক্ট কুইপার’ প্রযুক্তিগত দিক থেকে চীনের ‘কিয়ানফান’ ও ‘গুয়াওয়াং’ প্রজেক্টের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে।

রকেট উৎক্ষেপণের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিইউজেবল) রকেটের অভাব চীনের এই খাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পজিশনিং, নেভিগেশন ও টাইমিংয়ের ক্ষেত্রে মার্কিন জিপিএসকে পেছনে ফেলে দিয়েছে চীনের নিজস্ব ‘বেইদু’ নেভিগেশন সিস্টেম। মহাকাশে স্যাটেলাইটের বিশাল সংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেছে।

তৃতীয়ত, রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট ইমেজিং বা মহাকাশ থেকে ছবি তোলার প্রযুক্তিতেও বেইজিং এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় ‘গাওফেন’ এবং বাণিজ্যিক ‘জিলিন-১’ এর মতো শক্তিশালী স্যাটেলাইট বহরের নিখুঁত সমন্বয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় ও নির্ভুল ইমেজিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তারা। চতুর্থত, নিজস্ব মহাকাশ স্টেশনের দিক থেকে দুই দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা প্রায় সমান পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে চীন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের নিজস্ব ‘তিয়ানগং’ স্টেশন সম্প্রসারিত করে চলেছে।

পঞ্চমত, স্যাটেলাইট বিধ্বংসী বা ‘কাউন্টারস্পেস’ প্রযুক্তির লড়াইয়ে চীন এখন বিশ্বের স্পষ্ট নেতৃত্বে রয়েছে। কাইনেটিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং ডাইরেক্টেড এনার্জি বা লেজার অস্ত্রের পেছনে বেইজিংয়ের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ এখন ফল দিতে শুরু করেছে। এমনকি কক্ষপথে শত্রুর স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি ‘ডগফাইটিং’ বা আকাশযুদ্ধে লড়তে সক্ষম স্যাটেলাইট তৈরিতেও চীন অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যেও ভীতিজনক ইঙ্গিত মিলেছে।

ষষ্ঠত, পুনঃব্যবহারযোগ্য বা রিইউজেবল রকেটের ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ এর অনন্য ও সফল প্রযুক্তির কল্যাণে আমেরিকা এখনও চূড়ান্ত আধিপত্য ধরে রেখেছে, যা চীন এখনও পুরোপুরি নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে পারেনি।

মহাকাশ জয়ের এই মহাযুদ্ধে দুই পরাশক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি পথ বেছে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো সরকারি সংস্থা নাসা ও বেসরকারি খাতের (বিশেষ করে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স) মধ্যকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা। অপরদিকে, চীন তাদের ‘হোল-অফ-সোসাইটি’ অ্যাপ্রোচ এবং সামরিক-বেসামরিক ফিউশন নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের বিপুল আর্থিক সম্পদ ও দক্ষ জনবলকে একক উদ্দেশ্যে একত্রিত করছে। ২০১৪ সালে চীন তাদের মহাকাশ খাতের কিছু অংশ প্রথম বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর থেকে দেশটিতে ল্যান্ডস্পেস, গ্যালাকটিক এনার্জি, আইস্পেসের মতো ৫০০-এরও বেশি শক্তিশালী বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে উঠেছে।

এই গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক এলিস শেরার মন্তব্য করেছেন, চীনের বৈজ্ঞানিক উৎপাদন ও দ্রুত মহাকাশযান তৈরির সক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ ও বিস্ময়কর। তবে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের প্রযুক্তিতে পুরোপুরি ও বাণিজ্যিকভাবে সফল না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণভাবে উপড়ে ফেলা চীনের পক্ষে বেশ কঠিন হবে। তবে প্রতিবেদনের শেষ অংশে মার্কিন সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, চীন যদি সামগ্রিকভাবে মহাকাশ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্তভাবে পেছনে ফেলে দিতে সক্ষম হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকার সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জাতীয় নিরাপত্তা অত্যন্ত মারাত্মক ও অপরিবর্তনীয় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

/আশিক


যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:১১:০৪
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে দেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ‘বিশাল বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার কোম সফরকালে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জানজানির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকালে তিনি ঘোষণা করেন, এই নতুন চুক্তির সুবাদে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কাতারের ব্যাংকে জব্দ হয়ে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করে তা দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে যে অর্থটি অবমুক্ত হচ্ছে তা কাতারে আটকে থাকা মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ মাত্র। তহবিলের বাকি অর্থও যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য ইতিমধ্যে পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশাল তহবিল মুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের বিষয়টি মূলত সুইজারল্যান্ড আলোচনা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষের সম্মত হওয়া দ্বিপক্ষীয় কাঠামোরই একটি সফল অংশ।

বিগত দিনের যুদ্ধ ও চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব সহনশীলতা ও দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার, সমাজের অভিজাত বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে কোমলমতি স্কুলছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকার রাষ্ট্র রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করতে এবং একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে দেশটির পতন ঘটাতে তাদের সমস্ত সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু ইরানি জনগণের অদম্য শক্তি ও আত্মত্যাগের কারণে শত্রুপক্ষের সেই সব ষড়যন্ত্র ও হিসাব সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং ভবিষ্যতেও এর কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি তাদের পূর্ববর্তী শহীদ নেতার ঘোষিত একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী নীতি এবং বর্তমান সরকারও এই অবস্থানে পুরোপুরি অনড় রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু ও প্রতিরক্ষা খাতের পরবর্তী সকল পদক্ষেপ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ আত্মরক্ষা ও প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং তা পূর্বঘোষিত নীতিমালার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, চরম অনিচ্ছা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। অবশ্য ইসরায়েল প্রশাসন এবং কিছু চরমপন্থী বিরোধী গোষ্ঠী এখনো পর্দার আড়াল থেকে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা ও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চুক্তি-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার ইতিমধ্যে বসে নেই। দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ জনগণের স্বস্তির জন্য খাদ্য ভর্তুকির পরিধি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করা হয়েছে।

মেহের নিউজ


সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১২:২৯:২০
সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে কর্মরত লাখো প্রবাসী এবং তাদের নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ‘কিওয়া’ (Qiwa) প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতিপত্র) নবায়ন অথবা কর্মী স্থানান্তরের নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কিওয়া প্ল্যাটফর্মের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত নিয়োগকর্তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, স্থানান্তর (ট্রান্সফার) অথবা কর্মীর আইনগত অবস্থান নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন। এরপর বুধবার (১ জুলাই) থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ তিন মাসের বেশি সময় আগে শেষ হয়েছে, তাদের তথ্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মী তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীর নাম রেকর্ড থেকে বাদ পড়লেও সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার আর্থিক দায় শেষ হবে না। বরং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মী যতদিন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, সেই সময়ের বকেয়া ফি, সরকারি চার্জ এবং সম্ভাব্য আর্থিক জরিমানার সম্পূর্ণ দায় প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। ফলে সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না করলে নিয়োগকর্তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

কিওয়া প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমী বিধানের কথাও স্পষ্ট করেছে। যদি কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার ইকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) এখনও কমপক্ষে ১৮০ দিন বৈধ থাকে, তাহলে শুধুমাত্র ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না হওয়ার কারণে তাকে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হবে না। এই বিধান বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয়ের জন্য কিছুটা সময়ের সুযোগ তৈরি করে।

তবে ইকামার অবশিষ্ট মেয়াদ যদি ১৮০ দিনের কম থাকে, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট এবং ইকামা—উভয়ই নবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

সৌদি শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অধিকাংশ নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট, চাকরি পরিবর্তন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের তথ্য ডিজিটালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ নথি, বকেয়া ফি বা আইনগত অনিয়ম এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময় শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আবারও নিয়োগকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আইনি ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এড়াতে অবিলম্বে বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট ফি পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব কর্মীর অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা বৈধভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুত আইনসম্মত অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য এই সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ওয়ার্ক পারমিট বা ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের উচিত নিজ নিজ নিয়োগকর্তার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ নিশ্চিত করা। এতে ভবিষ্যতে চাকরি, বসবাস কিংবা আইনি অবস্থান নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

-রফিক


হামলা থামাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:২৩:৫৯
হামলা থামাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের সামরিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে বড় সংঘাতের আশঙ্কার পর হামলা আপাতত বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম Axios জানিয়েছে, দুই দেশ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, সাম্প্রতিক হামলা এবং ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর নতুন হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ কাজ করবে।

এই সমঝোতা এমন সময়ে এলো, যখন মাত্র তিন দিনের উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও বড় যুদ্ধের আশঙ্কায় পৌঁছে গিয়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এরপর ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করার দাবি করে।

রোববার ভোরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে সতর্কতা বাড়ানো হয়। কুয়েত ও বাহরাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। কয়েকটি এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার খবরও পাওয়া যায়।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংযমকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অন্যদিকে ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাই উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে দুর্বল করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মার্কিন হামলার জবাব।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণেই ১৭ জুনের ১৪ দফার অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা বড় ঝুঁকির মুখে পড়ে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থামানো, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দোহা বৈঠককে এখন নতুন করে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে সামরিক পর্যায়ের ভুল বোঝাবুঝি, নৌ চলাচলের নিয়ম, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে হামলা বা হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। ইরান বলছে, হরমুজ অঞ্চলে তার নিরাপত্তা স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না।

এই সংকটের সঙ্গে লেবানন পরিস্থিতিও নতুন করে যুক্ত হয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতির পরও শনিবার একই ধরনের আরেকটি হামলার কথা জানা যায়।

ইরানের দাবি, বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা কার্যকর রাখতে হলে শুধু হরমুজ নয়, লেবাননের সংঘাতও থামাতে হবে। তেহরান মনে করছে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলতে থাকলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরিবেশ দুর্বল হতে পারে।

এ কারণে দোহা বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই নয়; এর আঞ্চলিক গুরুত্বও বড়। হরমুজ প্রণালি, লেবানন সীমান্ত, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—সবকিছু মিলিয়ে আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত যুদ্ধের ঝুঁকি সাময়িকভাবে কমালেও স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ সমঝোতার ভাষা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ব্যাখ্যার মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান আছে।

তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পক্ষ অন্তত আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি হয়েছে। কাতার এর আগেও আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা রেখেছে। তাই দোহা বৈঠককে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাস্তব সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২০:১৪:৫১
দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

বিচার বিভাগ সপ্তাহ উদযাপনে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। এই বার্তায় তিনি দেশের বিচার বিভাগকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, গত বছর থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী আক্রমণের কারণে দেশের যে সমস্ত অধিকার খর্ব হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের বিশিষ্ট দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি এবং তার সহযোদ্ধাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২৮ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী এবং অহংকারী আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে দেশের যেসব জাতীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করাই এখন সমগ্র ইরানি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় আইনি ও বিচারিক দায়িত্ব।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আরও স্পষ্ট করেন যে, মানুষের অধিকার রক্ষা করার বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিদেশি আগ্রাসী শক্তিগুলোর মাধ্যমে দেশের যে সামষ্টিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তা রক্ষা করাও এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিচার ব্যবস্থার মূল দায়িত্বগুলো মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ধরে রাখা, জনস্বার্থ রক্ষা ও বৈধ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, আল্লাহর বিধানের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ তদারকি করাই বিচার বিভাগের কাজ। এই সমস্ত গুরুদায়িত্ব যদি সঠিকভাবে পালন করা যায়, তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

দেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী এবং বৈশ্বিক আগ্রাসী চক্র, বিশেষ করে যারা গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে দেশের ক্ষুণ্ন হওয়া অধিকার আদায় করা বিচার বিভাগের এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

এই প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন যে, ২০২৫ সালের জুন মাসে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দফায় ইরানের ওপর যে আগ্রাসী সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তাতে বহু নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে ইরানি জনগণের যে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং আধ্যাত্মিক বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করা হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনাই শত শত কিংবা হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলার অকাট্য ভিত্তি হতে পারে।

সর্বোচ্চ নেতা তার বার্তায় মিনাব ও লামের্দে শিশু হত্যার মতো নজিরবিহীন ও নৃশংস যুদ্ধাপরাধের ঘটনা মনে করিয়ে দেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো এবং নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনাগুলোকেও যুদ্ধাপরাধের বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তিনি শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির শাহাদাতবরণের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে নিয়ে আসেন। তাকে এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব, সময়ের এক অনন্য রত্ন এবং এক মহান মুজাহিদ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

এই সমস্ত ঘটনার আইনি লড়াইয়ের বিষয়ে তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি নৃশংসতার বিচার দেশের ভেতরের আদালতে এবং আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে লড়তে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায় এবং তারা যেন নিজেদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য হয়।

তিনি বিচার বিভাগকে আরও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিজেদের দেওয়া প্রকাশ্য বক্তব্যে এই সমস্ত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দায় সরাসরি স্বীকার করেছেন, এমনকি তা নিয়ে গর্ববোধও প্রকাশ করেছেন। এসব বক্তব্যকে অপরাধের আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করা যায়, যা ইরানি জাতির পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণ্ন হওয়া অধিকার পুনরুদ্ধারের আইনি ভিত্তিকে আরও অনেক বেশি জোরালো ও শক্তিশালী করবে।

মোজতবা খামেনি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, গত বছর বিচার বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির যে শেষ বৈঠকটি হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের যুদ্ধকালীন অপরাধগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনাটি এখন সর্বশেষ হওয়া যুদ্ধটির ক্ষেত্রেও পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আদালতের রায় চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই আইনি লড়াই বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। কারণ এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র : প্রেস টিভি


সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৮:৪১:৪৩
সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন খাদের কিনারায়। রবিবার (২৮ জুন) ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে একযোগে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই শিথিল হবে না এবং ওয়াশিংটনের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ‘নরক’ বানানোর মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করার কারণে মার্কিন বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে সফলভাবে আঘাত করেছে।

ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারব না এবং সামরিকভাবে কাজটি পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব। আর তেমনটা হলে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!” মূলত শনিবার হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান এই পাল্টা হামলা চালায়।

এর আগে ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, পানামার পতাকাবাহী ‘এম/টি কিকু’ নামের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানি ড্রোন হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা ওই বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল। কুয়েত ও বাহরাইন সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন প্রতিহতের দাবি করলেও মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম

স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত