যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে শর্তে সমাধান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত নিরসনে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও ভবিষ্যতে একই ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা–এর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সদিচ্ছা রয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে কিছু মৌলিক শর্ত পূরণের ওপর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এই অবস্থান ইরানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না করে কোনো শান্তি চুক্তি টেকসই হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থানই আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার আশা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলোর মধ্যে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে, যা বাজারে সামগ্রিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক সবচেয়ে বেশি উত্থান দেখিয়ে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদকে নির্দেশ করে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমার সম্ভাবনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা কমলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
-রাফসান
মোজতবা খামেনি কোথায়, যা জানা গেল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর দেশটির নতুন নেতা মোজতবা খামেনি–কে ঘিরে রহস্য ও জল্পনা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সামরিক হামলায় খামেনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে তেহরান এই ধরনের দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করলেও খামেনির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এই অস্পষ্টতাই আন্তর্জাতিক মহলে আরও জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিন–এর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এমনকি সেখান থেকেই তিনি ইরাকের জনগণের উদ্দেশে একটি কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে তার সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলো নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া তার প্রথম বক্তব্য এবং পরবর্তী বার্তাগুলো সরাসরি তার কণ্ঠে প্রকাশ না হয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অন্য একজনের মাধ্যমে পাঠ করা হয়, যা তার অবস্থান ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে তোলে।
তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ এই জল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে নিরাপত্তাজনিত যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
দেদভের মতে, বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সম্ভাব্য হামলা বা গোয়েন্দা নজরদারি থেকে সুরক্ষিত রাখাই প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ‘শত্রুপক্ষের নজর’ এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার কৌশলগত সিদ্ধান্তই তার অনুপস্থিতির মূল কারণ।
-রাফসান
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে টার্গেটের হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর সাম্প্রতিক হুমকি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অঞ্চলে কার্যরত মার্কিন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে তারা এখন থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ–এর বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলো লক্ষ্য নির্ধারণ, নজরদারি এবং সামরিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তত ১৫টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য হামলার তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোয়িং, টেসলা, মেটা, গুগল এবং অ্যাপল–এর মতো বৈশ্বিক কর্পোরেশনগুলো।
আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং এসব প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ইরানের কোনো উচ্চপর্যায়ের নেতাকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রকৃতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে সামরিক ও রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি কর্পোরেট অবকাঠামোও সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া, এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কার্যরত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অপারেশনাল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুদ্ধ থামতে পারে দ্রুত ও হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই একটি সমাপ্তির দিকে এগোতে পারে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশি সময় ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে না এবং ধীরে ধীরে তাদের সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে এখনো কিছু অপারেশনাল কাজ বাকি রয়েছে।
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–এর প্রসঙ্গে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কৌশলগত জলপথ শিগগিরই পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, যেসব দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল, তারাই নিজেদের স্বার্থে এটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ইরান নিজেই আর এই রুট বন্ধ রাখার মতো অবস্থানে নেই।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, দেশটির পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। যদিও এই ধরনের দাবি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত সৃষ্টি করেছে, তবুও এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
আল: আল জাজিরা
চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
রান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের শান্তি আলোচনার উদ্যোগের পর এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এশীয় পরাশক্তি চীন। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পারস্য উপসাগরে শান্তি পুনরুদ্ধারে একটি ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।
শান্তি পুনরুদ্ধারে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাব
১. যেকোনো মূল্যে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা থামাতে হবে এবং এই সংঘাত যাতে অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
২. ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে চীন ও পাকিস্তান সব পক্ষকে মধ্যস্থতায় সহায়তা করবে।
৩. সাধারণ মানুষ এবং অ-সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৪.বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ ও বাধাহীন রাখতে হবে।
৫. জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যাপকভিত্তিক শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এই শান্তি প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলেই যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অংশীদার হওয়ায় এবং পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায়, এই ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাবকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!
ইরাকের ভূখণ্ডে এবার সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থিত সংগঠন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইরাকের কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।
পিএমএফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুর্ফ আল-নাসর এলাকায় তাদের ‘ব্রিগেড ৪৫’-এর ওপর তিনটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম আনবার প্রদেশের কারমা এলাকায় ‘ব্রিগেড ৩১’-কে লক্ষ্য করে চতুর্থ হামলাটি পরিচালিত হয়। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এই আক্রমণ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পিএমএফ মূলত ২০১৪ সালে আইএসআইএস জঙ্গিদের দমনে গঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে এটি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ইরাকের সরকারি বাহিনীর ওপর এই হামলা নতুন করে যুদ্ধের ডালপালা মেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো ওই অঞ্চলে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া। এই ঘটনার পর ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে চীন-পাকিস্তান জোট! হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নাটকীয় পিছুটান?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের বলেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও তিনি এই যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস বর্তমানে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অভিযান তাদের পূর্বনির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই ট্রাম্প এখন সরাসরি প্রণালি খোলার চেয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং নৌবাহিনীকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করছেন, সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করার পর কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি প্রায় অচল করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। 'গ্যাসবাডি'র তথ্যমতে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে, তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ না করা হয় এবং কোনো শান্তি চুক্তি না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপ পুরোপুরি ধ্বংস (Obliterate) করে দেবে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক হামলার ফলে তেহরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইআরজিসি (IRGC) কমান্ডার নিহত হওয়ায় ওয়াশিংটনের পক্ষে বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর কোনো আলোচনা বা চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে তেহরান বড় কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা সমন্বয় করার ক্ষমতাও হারিয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিং সফরে গেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ আলোচনা’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং উভয় পক্ষই পাকিস্তানের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, বেইজিং ও ইসলামাবাদ এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত যোগাযোগ আরও ‘শক্তিশালী’ করবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করবে। চীন শুরু থেকেই যুদ্ধে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা না দিয়ে বরং বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।
/আশিক
যুদ্ধ থামাতে যেসব শর্ত দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপের মুখে ইরানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন এবং এই সংকট মোকাবিলার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
সোমবার প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান অবস্থা, জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন, সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বজায় রাখা এবং জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তার মতে, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা একসঙ্গে কাজ করলে যুদ্ধকালীন চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুধুমাত্র তখনই, যখন তা ইরানের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করবে। বাহ্যিক চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো আপসের পথ গ্রহণ করা হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও এই বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট তাদের ‘বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ’কে জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গে, গত এক মাস ধরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক জনসমর্থন ও ঐক্যের প্রকাশ ঘটেছে, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।
-রাফসান
যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে দুবাই ও আবুধাবির পুঁজিবাজার মিলিয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাজারমূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারগুলোর মধ্যে ইউএইকে স্থান দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাইয়ের প্রধান সূচক প্রায় ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। Dubai Financial Market General Index–এর বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে বৃহত্তর ADX General Index–এর মূল্য হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে উপসাগরীয় অন্যান্য বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতার ও বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে প্রায় ৪ শতাংশ ও ৭ শতাংশ কমেছে, তবে সৌদি আরব ও ওমানের বাজারে উল্টো প্রবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এই অস্থিরতার প্রতিফলন স্পষ্ট। S&P 500 সূচক একই সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধসংক্রান্ত অনিশ্চিত বার্তা এবং বাজারে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, ইউএই তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত বিমান ও পর্যটন খাত বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার একটি বড় অংশ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পর্যটন ও ভ্রমণ খাত গত বছর ইউএই অর্থনীতিতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে, যা মোট জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে এই খাতে ধাক্কা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হাইথাম আউন মনে করেন, বর্তমান বাজার পতনকে স্থায়ী সংকট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার মতে, এটি মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থায় স্বল্পমেয়াদি ধাক্কার প্রতিফলন, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউএইর অর্থনৈতিক ভিত্তিকে তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
একইভাবে বারডিন হিকক উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুবাই ও আবুধাবির বাজারে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে। তার মতে, বাজারের মৌলিক কাঠামো যেমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তারল্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, ইউএই গত কয়েক বছরে অর্থনীতির বৈচিত্র্য আনতে আর্থিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার হিসেবে ইউএইকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাম্প্রতিক Global Financial Centres Index–এ দুবাইয়ের অবস্থান সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ঘোষিত ১০ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় দুবাইকে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি ইউএই অর্থনীতির জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক কাঠামো ও বিনিয়োগ পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন যুদ্ধবিমান ঠেকাতে আকাশ বন্ধ স্পেনের
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ইরান সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক কার্যক্রমে স্পেনের আকাশসীমা কিংবা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি এই সংঘাতকে ‘গভীরভাবে অবৈধ’ এবং ‘মূলত অন্যায্য’ হিসেবে বর্ণনা করে স্পেনের অবস্থানকে নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন।
এর আগে স্পেন সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোও এই অভিযানে ব্যবহার করতে পারবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন যে, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটের সূচনা ঘটাতে পারে।
স্পেনের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুমকি দিয়েছেন। স্পেনের রোতা ও মোরোন ঘাঁটি ব্যবহার করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ১৫টি সামরিক বিমান প্রত্যাহার করতে হয়েছে, যা অপারেশনাল সক্ষমতায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বামপন্থী সরকারের নেতৃত্বে স্পেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাধারণভাবে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে, সেখানে স্পেন সরাসরি ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করে একটি পৃথক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ পূর্বে সতর্ক করে বলেছেন, মানব ইতিহাসের বড় বড় বিপর্যয় অনেক সময় এই ধরনের সামরিক সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধ কিংবা বোমা হামলা কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না। এই বক্তব্য স্পেনের পররাষ্ট্রনীতির একটি নৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজা সংকট নিয়েও স্পেন দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের কড়া সমালোচক। গত অক্টোবরে স্প্যানিশ পার্লামেন্ট ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং ইসরাইল তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে শর্তে সমাধান
- আজকের খেলার সূচি, কোন ম্যাচ কখন
- বুধবার চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- মোজতবা খামেনি কোথায়, যা জানা গেল
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে টার্গেটের হুমকি ইরানের
- যুদ্ধ থামতে পারে দ্রুত ও হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে: ট্রাম্প
- শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ডিআইজি জলিল? ট্রাইব্যুনালের বড় তথ্য
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- সবচেয়ে দূরবর্তী রেডিও সংকেতের সন্ধান: আদি মহাবিশ্বের গোপন তথ্য ফাঁস
- ৩ মাসে ৫০ বার সমন্বয়! স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা থামবে কবে?
- পেনাল্টি বঞ্চিত বাংলাদেশ? রেফারির বাঁশিতেই হারল লাল-সবুজরা!
- মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিবারের রক্ত আছে: সংসদে আবেগঘন জামায়াতের আমির
- মেজর জেনারেল এসঘাঘি নিহত! সপরিবারে প্রাণ হারালেন ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা
- দেশবাসী তাকিয়ে আছে, প্রকল্পের টাকা লুটপাট করলে রক্ষা নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের নর্দাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপন
- কুমিল্লার বরুড়ায় দা দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক
- এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!
- ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে কালবৈশাখীর হানা: বজ্রসহ বৃষ্টির বড় আপডেট
- এপ্রিলে বাড়ছে না তেলের দাম!
- সশরীরে নাকি ভার্চুয়াল? জ্বালানি সংকটে শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন মোড়
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে চীন-পাকিস্তান জোট! হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নাটকীয় পিছুটান?
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে লোকসানে ১০ কোম্পানি
- ডিএসই গেইনার বিশ্লেষণ, কোন খাতে বেশি লাভ
- যুদ্ধ থামাতে যেসব শর্ত দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা
- যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে বড় পতন
- মার্কিন যুদ্ধবিমান ঠেকাতে আকাশ বন্ধ স্পেনের
- মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য মার্কিন প্যারাট্রুপার, ইরানের 'খারগ দ্বীপ' কি দখল করবে যুক্তরাষ্ট্র
- তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?
- মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ
- আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? মন ভালো করার ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ৫৫% মানুষের চাওয়া কি পূরণ হবে? অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা
- আজই কি শেষ ম্যাচ? কাবরেরার বিদায়বেলায় সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি বাংলাদেশ
- ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!
- টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের
- তেলের দাম কি ২০০ ডলার ছাড়াবে? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা
- পৈশাচিকতা! নিজের স্ত্রীকে ১২০ জন পুরুষের হাতে তুলে দিল স্বামী
- বসুন্ধরা সিটি কি আজ বন্ধ? জেনে নিন ঢাকার শপিং মলের সাপ্তাহিক ছুটির তালিকা
- তেলের খনি দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প! ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে উড়াল দিল হাজারো মার্কিন সেনা
- দুবাই বন্দরে রণক্ষেত্র! কুয়েতের তেলবাহী জাহাজে নজিরবিহীন আক্রমণ
- জ্বলছে তেহরান! কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক আক্রমণ
- চলতি বছর ৪৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয়: আজ কততে ঠেকেছে ২২ ক্যারেট?
- যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মার্কিন জ্বালানি সংকট, দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড
- সৌদি থেকে মার্কিন সেনা সরাতে ইরানের আহ্বান
- আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন
- ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচসহ আজকের খেলার সূচি
- স্বর্ণ কিনতে চান? আজই সুযোগ: রেকর্ড হারে দাম কমাল বাজুস
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- পদ্মার অতলে বাস ট্র্যাজেডি: ২৩ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদ্ধার অভিযান
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ১০ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে নতুন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
- বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?








