সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ০৯:২৮:৫৯
সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস (CBS) জানিয়েছে, ইরান এই হামলায় অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন এবং স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০০ জনে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ২৭৩ জন চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে এই এক মাসের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে, যা পেন্টাগনের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি মূলত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের একটি প্রধান কেন্দ্র। এই ঘাঁটিতে আঘাত হানার মাধ্যমে ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে তাদের পাল্টা সক্ষমতার বার্তা দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স


হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ০৯:১০:২০
হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে রসিকতা করে নিজের নামে অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (FII) সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। ইরান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে যখন এই জলপথটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এমন নামকরণ বিষয়ক রসিকতা উপস্থিত বিনিয়োগকারী ও দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল তৈরি করে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।” পরক্ষণেই তিনি বিদ্রূপের সুরে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো (Fake News) হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে তাঁর অভিধানে ‘ভুল’ বলে কিছু নেই। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে পরাজিত এবং তারা এখন একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ (Begging) করছে। যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে ট্রাম্পের দাবি— ইরান ইতিপূর্বেই আলোচনার অংশ হিসেবে ৮ থেকে ১০টি তেলের ট্যাঙ্কার ছেড়েছে, যা প্রমাণ করে যে তারা পর্দার আড়ালে সমঝোতা করতে চায়।

বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানকে আগামী ৬ এপ্রিলের (বর্ধিত সময়সীমা) মধ্যে এই জলপথটি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে, অন্যথায় দেশটির বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামকরণ মূলত তাঁর চিরচেনা ব্র্যান্ডিং মানসিকতারই প্রতিফলন, যা যুদ্ধের এই সংবেদনশীল সময়েও তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য প্রকাশের একটি কৌশল।

সূত্র: সিএনবিসি


ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৯:৩১:৫৬
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মস্কো তেহরানকে সীমিত পরিসরে সহায়তা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নয়; বরং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে একটি পরোক্ষ কৌশলগত সমর্থন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে উন্নত স্যাটেলাইট তথ্য সরবরাহ করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কার্যকর গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ‘লিয়ানা’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতায় উৎক্ষেপিত ইরানের ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইট উচ্চমানের চিত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তব সময়ের নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

এই স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা ইরানকে শত্রুপক্ষের সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য প্রদান করছে, যা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সাম্প্রতিক কিছু হামলার দাবি নাকচ করে দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সহযোগিতা যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়; বরং এটি একটি পারস্পরিক নির্ভরতার কাঠামো তৈরি করেছে। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ সিরিজের ড্রোন এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ পুনরায় ইরানের কাছে ফিরে আসছে, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি চক্র তৈরি করেছে।

উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি জ্যামিং-প্রতিরোধী নেভিগেশন প্রযুক্তি শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়ায়, যা আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যে কৌশল ব্যবহার করেছে যেমন ড্রোন ও ডামি টার্গেটের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সেই অভিজ্ঞতাও এখন ইরানের যুদ্ধ কৌশলে প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঝুঁকি নেবে না; বরং পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশলই অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকট, চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৭:৪৫:৩৮
ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকট, চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটি কৌশলগত হিসাব করেছিলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ধারণা ছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু জোরদার করলে জনমত নিজের পক্ষে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি; বরং উল্টো রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা বাড়ার পরিবর্তে বরং কমতে শুরু করেছে, যা সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে বাজেট ইস্যুতে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে জাতীয় বাজেট অনুমোদন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ ভেঙে যাবে এবং তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এই বাস্তবতায় সরকার এখন দ্রুত বাজেট পাস করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন জোটের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রবল। ফলে রাজনৈতিকভাবে সময় কেনাই এখন নেতানিয়াহুর প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের শুরুতে হিসাব ছিল ভিন্ন। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আগাম নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে—এমন আশাবাদ তৈরি হয়েছিল নেতানিয়াহুর শিবিরে। মার্চের শুরুতে লিকুদ পার্টি নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দাবি করেছিল এবং এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

কিন্তু চার সপ্তাহ পার হওয়ার পরও যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ফলে সেই কৌশল কার্যকর না হয়ে উল্টো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

সরকার এখন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে মিত্র দলগুলোর প্রতি আরও উদার হচ্ছে। বিশেষ করে অতিরক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর জন্য বাড়তি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে জোট ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গাজা ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরান প্রসঙ্গ সামনে এনে কিছুটা জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা হলেও, বাস্তবে ভোটের অঙ্কে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে।

টাইমস অব ইসরায়েল-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের সংসদে লিকুদ পার্টি পেতে পারে মাত্র ২৮টি আসন। পুরো জোটের আসন দাঁড়াতে পারে ৫১-এ, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।

অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতেও। প্রতি সপ্তাহে বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সরকারকে আরও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

-রাফসান


চীনের চিপ সরঞ্জাম যাচ্ছে ইরানে, অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৬:০০:৩৬
চীনের চিপ সরঞ্জাম যাচ্ছে ইরানে, অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা এখন ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন-কে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এসেছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, এসএমআইসি ইরানের সামরিক খাতে ব্যবহারের উপযোগী চিপ তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। তাদের দাবি, এই সহযোগিতা শুধুমাত্র সরঞ্জাম সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তা বন্ধ হয়েছে এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে এই সরঞ্জামগুলোর উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এসব প্রযুক্তির কোনো অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎপত্তি হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানে রপ্তানি করা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

অন্যদিকে চীন সরকার এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ইরানের সঙ্গে কেবল স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং কোনো সামরিক সহযোগিতায় জড়িত নয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র এসএমআইসিকে একটি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত মূলত চীনের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা সীমিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার সংযোগ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে উন্নত চিপ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের প্রযুক্তি খাতকে সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লাম রিসার্চ, কেএলএ এবং অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস-এর মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত সরঞ্জাম থেকে চীনা কোম্পানিগুলোকে দূরে রাখাই ছিল এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে, বিশেষ করে হুয়াওয়ে-এর মেট ৬০ প্রো স্মার্টফোনে উন্নত চিপ ব্যবহারের পর এই নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এর ফলে এসএমআইসির আধুনিক কারখানাগুলোতে মার্কিন প্রযুক্তির প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে একই সময়ে ইরান ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানা যায়নি, চিপ তৈরির এই সরঞ্জামগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতায় কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব প্রযুক্তি উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

-রাফসান


খামেনির শেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৩:৫১:৫৬
খামেনির শেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি। তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবি কেবল আবেগঘন প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করেনি, বরং সংঘাতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ এবং আঞ্চলিক মাধ্যম ‘আল মায়াদিন ইংলিশ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তোলা। এতে তাকে রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে গভীর মনোযোগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়, যা তার শেষ সময়ের কর্মনিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। হামলার তীব্রতায় দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত এই কমপ্লেক্স মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া চিত্রে দেখা যায়, পুরো প্রাসাদ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা হামলার মাত্রা ও পরিকল্পনার গভীরতা স্পষ্ট করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, খামেনি তার অফিসে দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই এই হামলায় নিহত হন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়। একই হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই অন্তর্ভুক্ত।

ইরানি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই খামেনির মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।

-রফিক


ইরানে ১২ বছর বয়সিদের যুদ্ধে যুক্ত করার ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৩:৩৯:৩১
ইরানে ১২ বছর বয়সিদের যুদ্ধে যুক্ত করার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন সহায়ক কার্যক্রমে এখন থেকে কম বয়সি কিশোরদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি জানান, ‘ফর ইরান’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে টহল কার্যক্রম, চেকপয়েন্ট পরিচালনা এবং লজিস্টিক সহায়তার মতো বিভিন্ন কাজে কিশোরদের যুক্ত করা হচ্ছে।

নাদালির বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক কম বয়সি কিশোর স্বেচ্ছায় যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। তাদের এই আগ্রহ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বয়সসীমা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে এখন ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সি কিশোররাও এসব কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা মনে করছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানে শিশুদের নিরাপত্তা বা আধাসামরিক কাজে ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময়ও শিশুদের সামরিক পোশাকে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছিল।

এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান। একই সঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিভিন্ন সময়ে শিশুদের আটক ও নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিশুদের কোনো ধরনের সামরিক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ফলে ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় অধিকারকর্মীদের মতে, ইরানে ইতোমধ্যেই ৩০ লাখের বেশি শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কাজে শিশুদের অন্তর্ভুক্তি তাদের জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।


সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:২৮:৪৬
সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি প্রধান কেন্দ্র।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই হামলা বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন উপস্থিতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মোট ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করছে। এর মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে ইরানপন্থী সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ধারাবাহিকভাবে হামলার মুখে পড়ছে। কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়েছে। এই ঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।

এছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলার দাবি করা হয়েছে, যা উপসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবিকে বারবার ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রচারিত তথ্যগুলো অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

-রফিক


যুদ্ধ থামাতে ইরানকেই এগোতে হবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:০৮:৫৫
যুদ্ধ থামাতে ইরানকেই এগোতে হবে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এখন আর ওয়াশিংটনের হাতে নেই; বরং ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন কৌশলগতভাবে কঠিন। তার মতে, ইরান যদি সত্যিই সংঘাতের অবসান চায়, তবে তাদেরই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, কিংবা আদৌ চুক্তিতে যেতে চায় কি না, সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের সূচনায় ট্রাম্প গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাস্তবে আলোচনায় ফেরার চেষ্টা করছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়।

তার বক্তব্যে দ্বৈত বার্তাও লক্ষ্য করা যায়। একদিকে তিনি ইরানের নেতাদের দক্ষ আলোচক হিসেবে স্বীকৃতি দেন, অন্যদিকে তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘দুর্বল যোদ্ধা’ বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, যুদ্ধ থামানোর দায় ইরানের ওপরই বর্তায়। তিনি বলেন, ইরান চাইলে আলোচনায় আসতে পারে, তবে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও যুদ্ধকে কৌশলগতভাবে সফল বলে দাবি করেছেন। তার মতে, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভ্যান্স বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন কৌশলগত বিকল্প তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করে সংঘাতের সমাধান খোঁজা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতীতে তিনি বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি প্রশাসনের কঠোর নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বক্তব্য দিচ্ছেন।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও প্রকাশ্যে যুদ্ধপন্থী অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রোধ করাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা মিত্রদের জন্য পারমাণবিক হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এই সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। ফলে যুদ্ধ ও আলোচনার এই দ্বৈত কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

-রাফসান


এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১০:৫৮:২১
এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে বিতর্ক এখন আর আড়ালে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নিয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে কট্টরপন্থী মহলের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের মতে, পারমাণবিক নীতির প্রশ্নে এখন কট্টরপন্থীদের মতামত নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে উঠে আসছে।

তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান তাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়নি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিদ্যমান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে অথবা অন্তত সেই সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনি অতীতে পারমাণবিক অস্ত্রকে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি, অর্থাৎ এনপিটির সদস্য।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমেও ভিন্ন ধরনের বক্তব্য উঠে আসছে। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের দ্রুত এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

একসময় পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার বাইরে থাকলেও এখন তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচিত হচ্ছে, যা নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।

এই প্রেক্ষাপটে কট্টরপন্থী রাজনীতিক মোহাম্মাদ জাভেদ লারিজানি, যিনি সম্প্রতি নিহত আলি লারিজানির ভাই, প্রকাশ্যে এনপিটি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে মূল্যায়ন করা উচিত যে এই চুক্তি ইরানের জন্য আদৌ উপকারী কি না। প্রয়োজনে তা থেকে সরে আসার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত অবস্থান মূলত সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ফল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ এমন এক সময় সংঘটিত হয়েছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। ফলে ইরানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রেখে বা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় থেকে তেমন কোনো কৌশলগত সুবিধা অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

সার্বিকভাবে, ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক নীতিকে ঘিরে যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: