হরমুজ প্রণালিতে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তেহরানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপারের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ইরান প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কিছু দেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসনে যুক্ত হয়েছে, তাদের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না।
মাজিদ তখত-রাভানচির ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের দৃষ্টিতে যারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে ইরান কৌশলগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে চাপ প্রয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই বাছাই করা নীতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরান যুদ্ধে না নামলে সৌদিকে কঠোর ‘পরিণতির’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ায় সৌদি আরবের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের সম্ভাব্য পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম অভিযোগ করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে চলমান অভিযানে সৌদি আরব তাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
গ্রাহাম প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যদি সৌদি আরব এমন সংঘাতে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা দেখায়, তাহলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বা নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত কি না।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত সপ্তম মার্কিন সেনাও পরে মারা গেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইরান সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের একটি গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সৌদি আরব এখনো সরাসরি জড়াতে অনিচ্ছুক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিক উপসাগরীয় মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অন্যতম জোরালো কণ্ঠ ছিলেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
-রাফসান
সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাঁর একটি রেকর্ডকৃত ভাষণ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। গত রবিবার সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, যেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতি ও চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ভাষণে মোজতবা খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন যে, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের এই হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, ঘাঁটিগুলো এখনই বন্ধ না করা হলে সেগুলোতে নিয়মিত আক্রমণ চালানো হবে।
বর্তমান যুদ্ধকালীন সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে নবনিযুক্ত এই সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেন যে, শত্রুপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি সম্প্রতি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নেওয়া সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে ইরানের সাহসী যোদ্ধারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি জানান যে, ওই অঞ্চলের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।
সামরিক আলোচনার পাশাপাশি মোজতবা খামেনি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জনকল্যাণমূলক ঘোষণাও দিয়েছেন। তিনি জানান, চলমান যুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যারা আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। মূলত কঠোর সামরিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই নিজের প্রথম ভাষণে ভবিষ্যৎ ইরানের রূপরেখা তুলে ধরলেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
/আশিক
ইরানের পাশে দুই মুসলিম দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দেওয়া এই ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং চলমান সংঘাতের মুখেও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
তার ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তাদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইরান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার মতে, ইরান তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে।
খামেনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিরোধ শক্তি ইসলামী বিপ্লবের আদর্শকে সমর্থন করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই তারা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষভাবে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংগঠনগুলো ইসলামি বিপ্লবের লক্ষ্য ও আদর্শকে সমর্থন করে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সাম্প্রতিক হামলার সময় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং তাদের ত্যাগই ইরানকে পরাধীনতা বা বিভক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, যখন দেশ বহুমুখী চাপের মুখে এবং সামরিক আক্রমণের শিকার, তখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এজন্য তিনি সেনা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী কেবলমাত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন হলে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাই তিনি এই অঞ্চলের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
ইসরায়েল অভিমুখে বৃষ্টির মতো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান ও লেবানন থেকে পরিচালিত এই যৌথ হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই আক্রমণের ফলে উত্তর ইসরায়েলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হয়েছে।
আইডিএফ-এর তথ্যমতে, হিজবুল্লাহ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করে। যদিও সব রকেট সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু রকেট সরাসরি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম।
বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তারা আহত হন এবং পরবর্তীতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া বিয়িনা শহরে একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলে সেখানে অন্তত চারজন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল ও হাইফা এলাকায় বারবার সাইরেন বেজে ওঠে এবং লেবানন সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
একই সময়ে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি হিজবুল্লাহর সাথে তাদের একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’। আইডিএফ দাবি করেছে যে, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদরদপ্তর অবস্থিত। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যভাগে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
/আশিক
নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আইচা বাক্কার এলাকায় ভোরের দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবনের দুটি তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কাচ, কংক্রিট ও ধুলাবালিতে ঢেকে যায় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-আহমাদ জানান, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, প্রথম বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত উঠে সন্তানদের খোঁজ নিতে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পুরো এলাকা আরও কাঁপিয়ে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার ফলে একটি আবাসিক ভবনের অন্তত দুটি সম্পূর্ণ তলা ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শক্তিতে আশপাশের রাস্তা ভেঙে পড়া কাচ, কংক্রিটের টুকরো এবং ধুলায় ঢেকে যায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলি কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে, যে অ্যাপার্টমেন্টটিতে হামলা হয়েছে সেটি জামা’আ ইসলামিয়ে (ইসলামিক গ্রুপ) নামের একটি সংগঠনের ব্যবহৃত ছিল। তবে সংগঠনটি এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের কোনো সদস্য বা কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
মোহাম্মদ আল-আহমাদ বলেন, তার বাসা হামলার শিকার ভবনের ঠিক পাশেই অবস্থিত এবং একই উচ্চতায় হওয়ায় তার বাসাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে ঘরের প্রায় সব কাচ ভেঙে গেছে এবং ঘরের ভেতর সর্বত্র ভাঙা কাচ ছড়িয়ে আছে।
তিনি আরও জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি অবিস্ফোরিত গোলা উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরিত হয়নি। তার মতে, সেটি বিস্ফোরিত হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারত।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী ইরবিল শহরের আকাশে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের আকাশে উড়ন্ত ড্রোনকে লক্ষ্য করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হলে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরবিলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি ড্রোনকে প্রতিহত করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ড্রোন দুটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
ইরবিল মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক স্থাপনা থাকায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলার চেষ্টা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননেও নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আকাশ হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, একটি হামলা নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের হারিস ও কাফরা শহরের উপকণ্ঠে আঘাত হানে। আরেকটি হামলা চালানো হয় টাইর জেলার নাকুরা এলাকার কাছাকাছি স্থানে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, এসব হামলার ফলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব সামরিক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইরান এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাত বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিহাসের অন্যতম বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
আইইএ জানায়, চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বর্তমানে দৈনিক অন্তত ৮ মিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে। এর সঙ্গে পেট্রোলিয়ামজাত অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক তেল উৎপাদক দেশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ব তেলবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে স্বাভাবিক প্রবাহের ১০ শতাংশেরও কমে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে অনেক কোম্পানি সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অথবা বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে।
আইইএ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহ কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব দীর্ঘদিনের। তাই ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এমন উদ্যোগকে সমর্থন করছে যা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস করতে পারে এবং সংঘাতকে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। মস্কোর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।
মারিয়া জাখারোভা সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সহিংসতার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই আহ্বান এমন এক সময় এসেছে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু সংকট একসঙ্গে চলমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একযোগে বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া নিজেও বর্তমানে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে জড়িত রয়েছে, যা এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সত্ত্বেও মস্কো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
-রাফসান
যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে প্রথমবারের মতো তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে তেহরান আঞ্চলিক শান্তিতে বিশ্বাসী হলেও এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পেজেশকিয়ানের মতে, জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই যুদ্ধ সমাপ্ত করার একমাত্র উপায় হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের বৈধ অধিকারকে নিঃশর্ত স্বীকৃতি দেওয়া। এর পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে চলমান সংঘাতের ফলে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাঁর দেওয়া তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো আগ্রাসন হবে না মর্মে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রদান করা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের এই তালিকায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া এই কয়েক দিনের হামলায় আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও থেমে নেই; তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হরমুজ প্রণালিতে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের
- আজ ২৩ রমজান: আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ইরান যুদ্ধে না নামলে সৌদিকে কঠোর ‘পরিণতির’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
- মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়া চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আল্টিমেটাম দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
- ইরানের পাশে দুই মুসলিম দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী
- বাস, ট্রেন, লঞ্চ যাত্রীদের জন্য পুলিশের নির্দেশনা
- বিনা জামানতে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসী ঋণ; জেনে নিন সহজ আবেদন পদ্ধতি
- বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন, আইন চলবে নিজস্ব গতিতে: নুরুল হক নূর
- ইফতারের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত: বেলাইব্রিজে ঝরল ১৩ জনের তাজা প্রাণ
- টিকটক করতে গিয়ে বৃদ্ধকে অপমান; আদালতের কাঠগড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার
- ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
- সপ্তাহজুড়ে কেমন ছিল শেয়ারবাজার, দেখুন সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা
- ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
- ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার
- ইফতারে ভিন্ন স্বাদ পেতে ঝটপট তৈরি করুন মুচমুচে চিকেন স্প্রিং রোল
- যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- যুদ্ধের শঙ্কা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক
- রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ফাঁস করলেন জামায়াত আমির
- কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর যেন সংসদ কলুষিত না করে: নাহিদ ইসলাম
- গোলাম পরওয়ারের পিটিশন গ্রহণ: খুলনা-৫ আসনের বিজয় কি তবে অনিশ্চিত?
- রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনবে না বিরোধী দল: প্রথম অধিবেশনেই সংসদের উত্তপ্ত চিত্র
- ১২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১২ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ১২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- আল-আকসা ১২ দিন বন্ধ: মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ
- ইসরাইলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা ইরানের
- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্পিকারকে বললেন শফিকুর রহমান
- খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত
- সংসদের প্রথম দিনে কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
- স্পিকার আর কোনো দলের নন, পুরো সংসদের অভিভাবক
- ইরানকে উৎখাত সহজ নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দারা
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন
- বাড়িতেই হবে ফলের সমারোহ: আপনার বারান্দার টবে যে ৩টি ফল সহজে ফলবে
- কম্পিউটার স্ক্রিনে ক্লান্তি? চোখের আরাম পেতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ব্যায়াম
- ইরানের হামলার ৪০তম ধাপ শুরু! ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
- আসিফ নজরুলের বার্তা: এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী
- ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
- জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করবে এই সংসদ: সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার
- সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার: প্রতিটি পরিবার হবে স্বনির্ভর
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী থেকে স্পিকারের চেয়ারে; নয়া ইতিহাসের সামনে মেজর হাফিজ
- হরমুজের পর নতুন সমুদ্রপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি! যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে এলাকায় ফেরার দরকার নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ৪০ বারের সমন্বয়ে ২৬ বারই দাম বৃদ্ধি: স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা থামছেই না
- দেশের ১২ জেলায় কালবৈশাখীর হুঙ্কার! সন্ধ্যার মধ্যে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- মাইন আতঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন: যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি
- মিত্রদের পতনে কেন চুপ পুতিন? খামেনির মৃত্যুতে ক্রেমলিনের রহস্যময় নীরবতা
- টিভিতে আজকের খেলা; ইউরোপা লিগের শেষ ষোলোর সূচি দেখে নিন
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- ২৭ রমজানই কি কদরের রাত? মুসনাদে আহমাদ ও বুখারির হাদিস যা বলছে
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬








