হরমুজ প্রণালিতে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ০১:১৩:১০
হরমুজ প্রণালিতে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেহরানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপারের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ইরান প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কিছু দেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসনে যুক্ত হয়েছে, তাদের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না।

মাজিদ তখত-রাভানচির ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের দৃষ্টিতে যারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে ইরান কৌশলগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে চাপ প্রয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই বাছাই করা নীতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা


আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৯:৫৭:০৮
আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাতের পারদ এক ধাক্কায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে দিয়ে এবার সরাসরি ইরান দখলের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই ইরানের ওপর ‘খুব কঠোরভাবে’ বিধ্বংসী সামরিক আঘাত হানবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বুটের নিচে নিয়ে আসা তথা দখল ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভবিষ্যতের কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে ইরানের প্রধান খনিজ হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) সহ অন্যান্য সব তেল ও জ্বালানি স্থাপনার ওপর ওয়াশিংটন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ ফ্ল্যাশ নিউজে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম যুদ্ধংদেহী বার্তার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে যেভাবে ভেনেজুয়েলাকে কোণঠাসা করেছিল, ঠিক একই কায়দায় এবার ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপরও হোয়াইট হাউজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।

ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, গত কয়েকদিনের মার্কিন নিখুঁত হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর (IRGC) প্রতিরোধ গড়ার সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপটি মূলত ইরানের মোট তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে বড় কৌশলগত কেন্দ্র, যেখান থেকে দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি ভূখণ্ড দখলের চরম উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ংকরী ও দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে ট্রাম্পের এই আজ রাতেই হামলার আলটিমেটামের বিপরীতে তেহরান বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা সামরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

/আশিক


বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৯:৪৫:৪৪
বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক প্রলয়ংকরী ও বিধ্বংসী সামরিক পাল্টা আঘাত হানার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইরানের শীর্ষ সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (IRGC)। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা জর্ডানের ভূখণ্ডে অত্যন্ত গোপনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘আল-আজরাক’ (Al-Azraq) বিমান ঘাঁটিতে একযোগে ১২টি শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বেআইনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সরাসরি ও মোক্ষম জবাব হিসেবে এই মেগা হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিখুঁত ব্যালেস্টিক মিসাইল আঘাতে ওই মার্কিন ঘাঁটিটির ইতিহাসের অন্যতম ব্যাপক ও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, তাদের বিমান ও মহাকাশ বাহিনী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ওই বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35), এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, “সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর” গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ঘাঁটির বিভিন্ন রানওয়ে, বাঙ্কার ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সেখানে পার্ক করে রাখা বিপুল সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমানও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে চরম হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের “অপতৎপরতা” ও আগ্রাসন যদি লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরে অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে তেহরানের এই সামরিক অভিযানও লাগাতারভাবে চলতে থাকবে।

এদিকে, ইরানের সামরিক নীতি নির্ধারণী সর্বোচ্চ সংস্থা ‘খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’ আজ বৃহস্পতিবার অপর এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া জানানো অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে হামলা বন্ধ করার আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন, তা আসলে মার্কিন দয়া নয়; বরং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাবের সরাসরি ফল।

এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে আরও একটি চরম ও লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ইউনিটও স্পষ্ট করেছে যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো স্তরে গিয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়তে দেশের সব বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি এবং ইরানি মূল সেনাবাহিনী (Artesh) জানায়, তারা গভীর রাতে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন সমন্বিত ও যৌথ প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা—যার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বিপুল কৌশলগত সম্পদ ও যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত।

আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে দুটি ধাপে এই নিখুঁত অপারেশন পরিচালনা করেছে, যা ছিল মূলত ইরানের মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় ঘাঁটি, সেবা ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোস্ট এবং বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর এলাকায় মার্কিন বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার সমানুপাতিক জবাব। অন্যদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ অত্যন্ত গর্বের সাথে দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘পঞ্চম নৌবহরের’ (5th Fleet) প্রধান সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে তারা একটি সফল ও বিধ্বংসী ড্রোন অভিযান সম্পন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই চরম সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চালানো আগ্রাসনের পর আছড়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকার এই আকস্মিক হামলাটি ছিল গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, সর্বশেষ এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে একযোগে মোট ৪৯টি দূরপাল্লার ‘টমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও প্রলয়ংকরী আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

সূত্র: প্রেস টিভি


মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১১:১৩:১৫
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত পাল্টা অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এই অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আক্রমণ ব্যবস্থা এবং আত্মঘাতী ড্রোন একযোগে ব্যবহার করা হয়েছে।

তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি। আইআরজিসি দাবি করেছে, ইরানবিরোধী সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত কয়েকটি উন্নতমানের যুদ্ধবিমান হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

জর্ডানের পাশাপাশি কুয়েতেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অপারেশনাল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত অংশীদার বাহরাইনও এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহর দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর, আরব সাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ফলে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি কেবল সামরিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় নৌঘাঁটির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে। কারণ অতীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও একযোগে একাধিক দেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি খুব কমই দেখা গেছে।

তেহরান বলছে, তাদের এই অভিযান ছিল প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। ইরানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সেই হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, ইরানের ভূখণ্ড, সামরিক স্থাপনা বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব আরও কঠোর হবে। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

-রফিক


ইরানকে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২২:৩৯:৫২
ইরানকে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যে কোনো মুহূর্তে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব এবং খুব কঠোরভাবেই হামলা চালাব।” এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করায় ইরানকে “মূল্য দিতে হবে”। পরে সাংবাদিকরা তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ইরান আলোচনার টেবিলে আন্তরিক নয় এবং সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি অর্থবহ চুক্তি চাই, এমন একটি চুক্তি যা কার্যকর হবে। আমরা চাই না ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করুক।” তার দাবি, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরান পিছিয়ে যায়।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানে যোগাযোগ ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানো হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, হামলায় শুধু সামরিক নয়, বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের বামানি এলাকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানির সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপের একটি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, এসব স্থাপনায় হামলার ফলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের নিরাপদ পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি পানিসংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রথম বড় ধরনের হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি, এসব হামলার মধ্যে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংরক্ষণাগারও লক্ষ্যবস্তু ছিল। যদিও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সৌদি আরব ইরানের এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদ এক বিবৃতিতে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেছে, এ ধরনের হামলা শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ধীরে ধীরে আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব শুধু অঞ্চলটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সীমান্ত অতিক্রম করে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

গুতেরেস আরও সতর্ক করেন, চলমান পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধের নির্মম মূল্য দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ, আর এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।”

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনুভূত হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেশি বাড়তে পারত। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির মূল্যও দ্রুত কমে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে ইরান একদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তেহরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও হামলা হলে তারা উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যুদ্ধ যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং উপসাগরীয় অঞ্চল, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

সূত্রঃ আল-জাজিরা।


বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২০:৩৩:৩০
বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্বাহী বোর্ডের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তিনটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে ইরানের স্বার্থবিরোধী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি।

আইএইএর নির্বাহী বোর্ডের জুন মাসের ত্রৈমাসিক বৈঠক উপলক্ষে পাঠানো ওই চিঠিতে আরাঘচি বলেন, বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, আইএইএর নির্বাহী বোর্ডকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর আইএইএর নির্বাহী বোর্ডে একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালায়। এতে বহু সাধারণ ইরানি নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

আরাঘচি প্রশ্ন তোলেন, আইএইএ কি আবারও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে যাচ্ছে? তিনি আরও বলেন, যে পক্ষগুলো বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী, তারাই এখন সমাধানের দাবিদার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে।

চিঠিতে গত বছর জুনের পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক হামলা এবং ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনাকে আইএইএর ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বশান্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।

আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি তিনি সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

চিঠির আরেক অংশে ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং আইএইএর তত্ত্বাবধানে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবহেলার প্রমাণ।

এ অবস্থায় বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের চলমান ত্রৈমাসিক সভায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে। এর পরপরই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এই চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান।

সূত্র: ইরনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালির ইরানি কেশম দ্বীপে ফের বিকট বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৮:৩৩:৩২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: হরমুজ প্রণালির ইরানি কেশম দ্বীপে ফের বিকট বিস্ফোরণ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) আবারও এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে একই দ্বীপ ও তার আশেপাশের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর বড় ধরনের হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘মেহের নিউজ’ (Mehr News) এক জরুরি বুলেটিংয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে ঘটা সর্বশেষ এই রহস্যময় বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে দেশটির সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ভোররাত থেকেই ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগরসংলগ্ন বিভিন্ন স্পর্শকাতর সামরিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডস (IRGC) বসে থাকেনি, তারা এসব হামলার অত্যন্ত দ্রুত ও পাল্টা দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। মূলত গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ওমান আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক ‘এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছিলেন যে, ওই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি কারিগরি ত্রুটিতে নয়, বরং ইরান অন্যায়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনার পরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে চড়া মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি দেন এবং এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের উপকূলীয় রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তীব্র হামলা শুরু করে।

মার্কিন বাহিনীর এই অতর্কিত আক্রমণের জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর একযোগে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও স্ট্র্যাটেজিক ক্যাম্পগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন এবং দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলার পর সাময়িকভাবে উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি এখনো চরম উত্তপ্ত।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো মার্কিন ড্রোন বা মিসাইল হামলা হলে তার চূড়ান্ত জবাব আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি প্রলয়ংকরী ও কঠোর হবে। এদিকে উদ্ভূত এই যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক মিত্র দেশ সৌদি আরব এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কূটনৈতিক আলোচনায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ বিপজ্জনক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন আগ্রাসনের সার্বিক চিত্র তাঁদের কাছে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন।

/আশিক


ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৮:১৭:০২
ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে এবং এর জন্য দেশটিকে এখন চড়া ‘মূল্য চুকাতে হবে’। নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করেন।

তিনি সরাসরি দাবি করেন, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের পুরো সামরিক বাহিনী এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কার্যত আর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর পোস্টের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের আঞ্চলিক শক্তির দম্ভকে নাকচ করে দিয়ে আরও বলেন, তারা (ইরান) কৌশলগতভাবে বর্তমানে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। ইরান আসলে শুধু বন্ধ দরজার পেছনে বড় বড় কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না; যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করা শক্তির আজ চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটেছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, হোয়াইট হাউজ বা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ইরান অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক বেশি সময়ক্ষেপণ করেছে, অথচ এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা খোদ ইরানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই খুবই ভালো ও লাভজনক হতে পারত।

যেহেতু তারা সুযোগ হাতছাড়া করেছে, তাই এখন তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে। তবে নিজের পোস্টে ‘মূল্য চুকাতে হবে’ বলতে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন—তা সামরিক কোনো পদক্ষেপ নাকি নতুন করে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

/আশিক


উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৯:১৯:০১
উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

দেশটির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ইরান। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় পাঁচটি নতুন স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে তেহরান। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের আলোকে এসব প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংসদের জ্বালানি ও নির্মাণবিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামি বলেন, ২০২২ সালে অনুমোদিত পারমাণবিক শিল্পের সমন্বিত কৌশলগত নথি অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অধীনে পারস্য উপসাগর ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক জ্বালানির অবদান বাড়ানো এখন ইরানের অন্যতম অগ্রাধিকার। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

ইসলামি আরও জানান, বর্তমানে চালু থাকা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তার দাবি, এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিংবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে ইরানের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক কেন্দ্র। তবে তেহরান এটিকে আর একক প্রকল্প হিসেবে রাখতে চায় না। বরং আগামী দশকে একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্রের মাধ্যমে একটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

ইরানের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান জানান, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বুশেহর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে। তিনি এসব প্রকল্পকে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, নতুন ইউনিটগুলো চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে এবং শিল্প খাত আরও স্থিতিশীল জ্বালানি সুবিধা পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইরান পারমাণবিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটি মনে করছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ালে মূল্যবান তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়ক হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনাকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা কেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

-রাফসান


মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৯:০২:৫৫
মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্ফোরক রূপ নিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

বুধবার ভোরে বাহরাইনের আকাশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বার্তায় জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। একই সময়ে বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

এরপর আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই নৌবহর দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে হামলার ফলে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক অবকাঠামো বা সেনা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বাহরাইন সরকার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

একই সময়ে কুয়েতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও প্রতিহত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার প্রকৃতি, উৎস কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর দূরপাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল এবং হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের জবাব। তবে জর্ডান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার সাইরেন বাজার ঘটনা নিশ্চিত করেনি। ফলে ইরানের এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সূচনা হয়েছিল, তা এখন দ্রুত বহুমাত্রিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিশ্চিত নিরাপত্তা বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ায় যেকোনো সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে মাঠের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আরও জটিল ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

সূত্র: সিএনএন

পাঠকের মতামত: