সবচেয়ে বড় হামলার দাবি ইরানের! কাঁপছে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযান চালিয়েছে তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, রাতভর চালানো এই অভিযানে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই শক্তিশালী হামলায় তারা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'খোররামশাহর' ব্যবহার করেছে।
আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই পরিকল্পিত ও তীব্র হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—শত্রুর সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে যুদ্ধের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হচ্ছে, ততক্ষণ এই লড়াই থামবে না। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শত্রুকে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। হেগসেথ উল্লেখ করেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নির্ধারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তারাও এই লড়াইয়ে কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়।
বুধবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে মুহুর্মুহু সাইরেন বেজে ওঠায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়। আইডিএফ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
/আশিক
ইরানের হাইপারসনিক তাণ্ডব! শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত
ইরান তাদের সামরিক অভিযানে এক বিধ্বংসী ও নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। ৩৪তম দফার এই বিশাল হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আঘাত মূলত ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
এই দফার হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের অতি গোপনীয় ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে ইরানের এই ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া হাইপারসনিক ও অন্যান্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে। বর্তমানে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। তবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও ক্ষমতার কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যুহ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
/আশিক
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন বৃষ্টি! রণক্ষেত্র ইরাকের আকাশ
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক সহায়তা ক্যাম্পে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই হামলার সংবাদ নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। মার্কিন দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা এই সহায়তা ক্যাম্পটি লক্ষ্য করে ড্রোন ছোঁড়া হয়। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই বাগদাদের এই উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের একটি সাম্প্রতিক হামলা। গত রবিবার (৮ মার্চ) রাতে বৈরুতের রামাদা হোটেলে ইসরায়েলি বাহিনী এক ‘ইচ্ছাকৃত সন্ত্রাসী হামলা’ চালায় বলে দাবি করেছে ইরান। এই হামলায় ইরানের চারজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক জরুরি চিঠিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত চার কূটনীতিককে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। ইরাভানি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। বৈরুতে ইরানি কূটনীতিকদের এই হত্যাকাণ্ড এবং বাগদাদে মার্কিন ক্যাম্পে ড্রোন হামলার ঘটনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
/আশিক
ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের ৩৪তম দফার শক্তিশালী হামলা পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইরান প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট চার ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুনির্দিষ্ট হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইআরজিসির তথ্যমতে, এই দফার হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের ভেতরে থাকা রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হামলার তীব্রতা বোঝাতে ইরান দাবি করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের ছোঁড়া শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি গোপন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে (লঞ্চার) সরাসরি আঘাত হেনেছে। তবে এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন হতাহত হয়েছে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে যেমন যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, অন্যদিকে তাঁর কৌশলে কিছু অসামঞ্জস্যতাও ফুটে উঠেছে। সোমবার (৯ মার্চ) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং তাঁরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বললেও কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি। এরই মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে একটি সম্মানজনক ‘প্রস্থানপথ’ বা এক্সিট র্যাম্প খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চান যা বহু বছরের শান্তির পথ উন্মুক্ত করবে। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন, যা তেহরানের অনমনীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য অভ্যন্তরীণ মতভেদের খবরকে ‘আজেবাজে’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল করতে উপদেষ্টারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা স্ববিরোধী চিত্রও দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ এবং প্রয়োজনে স্থলবাহিনী পাঠানোর ইঙ্গিত দিলেও সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তেমন কোনো নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি তিনি নেই। তবে কিছু সূত্রের দাবি, তেহরান যদি নতি স্বীকার না করে, তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নতুন ইরানি নেতার ওপর কঠোর পদক্ষেপের পক্ষপাতী। মূলত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং এর ফলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্পের অনেক মিত্র ও রিপাবলিকান নেতা এখন বেশ উদ্বিগ্ন।
অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুরের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সবকিছুর ওপরই তার প্রভাব পড়ে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের সমীকরণ মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধের সমাপ্তি ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রই লাভবান হবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তাঁকে যুদ্ধের একটি দ্রুত ও টেকসই সমাধানের দিকে ধাবিত করছে। শেষ পর্যন্ত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ কতদূর গড়াবে, তা এখন পুরোপুরি হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে আকাশপথে হামলার অভিযোগ তোলার মাত্র কয়েক দিন পরই আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানে বড় ধরনের মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। বাকুর এই পদক্ষেপকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি প্রশমনের একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যেন ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই দুই দেশ এই ইতিবাচক কূটনৈতিক পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে আজারবাইজান অভিযোগ করেছিল যে, একটি ইরানি ড্রোন তাদের বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে এবং একটি স্কুলের পাশে বিস্ফোরিত হয়েছে। ইরান সীমান্তবর্তী নাখিচেভান অঞ্চলে ঘটা এই ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তাঁর সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তেহরান থেকে নিজ দেশের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও ইরানের সামরিক বাহিনী শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ইসরায়েলের উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।
উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গত ৮ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান টেলিফোন করেন আলিয়েভকে। ফোনালাপে পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দেন। এই আলোচনার পরই আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার কয়েক টন খাদ্য ও ওষুধবাহী সহায়তা ইরানে পাঠানোর ঘোষণা দেয়। দুই নেতার এই সরাসরি যোগাযোগ এবং বাকুর পক্ষ থেকে পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী নির্দেশ করছে যে, দুই দেশই বর্তমান সংকটকে আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল বাকুর ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানের ওপর গোয়েন্দাগিরি ও হামলার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানে বড় হামলা চালানোর পর বাকু তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ইরানে বসবাসরত বিশাল সংখ্যক জাতিগত আজারি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব নিয়েও তেহরানের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে বর্তমান এই মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনার ফলে দুই দেশের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশ্বাসের খবর পাওয়া গেছে। ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে কোনো বাধার মুখে পড়বে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরান এই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগে পূর্বেই অবহিত করলে সেগুলোকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। ইরানের এই আশ্বাসে দেশের জ্বালানি খাতের সাময়িক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটেছে।
দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি জাহাজে করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের বাড়তি চাহিদা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা এড়াতেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও সরকার পরিকল্পিতভাবে প্রতিদিন ৯ হাজার টন সরবরাহ নিশ্চিত করছে। আসন্ন পাঁচটি চালানে আসা মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে অন্তত ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা অনায়াসেই পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ মোট আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য আমদানি করছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সাহায্য করছে।
এদিকে বাংলাদেশের এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বন্ধুপ্রতীম দেশ চীন ও ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দেশে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও এক বার্তায় জানিয়েছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বেইজিং ঢাকার পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দেবে। সংকটকালীন এই সময়ে আন্তর্জাতিক মিত্রদের এমন অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার দেশব্যাপী নজরদারি বা মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করেছে যাতে কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। এছাড়া মজুতদারি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমনে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে রহস্য দানা বেঁধেছিল, তা নিরসনে এবার নতুন একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইসরায়েল' প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, ছবিটি গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) ধারণ করা হয়েছে। মূলত গত কয়েক দিন ধরে হিব্রু ভাষার বিভিন্ন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যুর যে জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, এই ছবি প্রকাশের মাধ্যমে তার একটি পরোক্ষ জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু সংস্করণে নেতানিয়াহুর অন্তর্ধান নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে প্রায় তিন-চার দিন ধরে নতুন কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশিত হয়নি এবং তাঁর নামে আসা সাম্প্রতিক বার্তাগুলো ছিল কেবল লিখিত। যেখানে আগে প্রতিদিন একাধিক ভিডিও বার্তা আসত, সেখানে এই দীর্ঘ নিরবতা জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি করেছিল। এছাড়া ৮ মার্চ থেকে তাঁর বাসভবনের চারপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের খবর এই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।
রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল করা হয়। এই সফরের বাতিলের পেছনে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে অনেকে ধরে নেন। পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর টেলিফোন আলাপের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে কেবল একটি লিখিত বিবরণ প্রকাশ করাও এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল।
বর্তমানে প্রকাশিত ছবিটি সেই রহস্যের চাদর কিছুটা সরালেও ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো জোরালো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও আলোচনা চলছে যে, পরিস্থিতি কি আসলেই স্বাভাবিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর সমীকরণ রয়েছে। তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত এই ছবিটি আপাতত উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করার প্রচেষ্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব সীমান্তে অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ইরাক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেনা মোতায়েনই নয়, বরং সীমান্তজুড়ে নজরদারিও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ইরাক ও ইরানের সীমান্ত এলাকা মূলত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে, যা বর্তমানে বাগদাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তের এই বিশেষ তৎপরতার মাধ্যমে বাগদাদ প্রশাসন মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাইছে। ইরাক কোনোভাবেই চায় না তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরানের ওপর হামলা চালাক। এর মাধ্যমে মূলত ইরাক তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে চায় বাগদাদ। ওই চুক্তির আওতায় ইরাক তার উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের তৎপরতা দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে ইরান ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলের কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে ইরাক নিজের ভূমিকে অন্য দেশের যুদ্ধের ময়দান হতে দিতে চায় না। নতুন করে কোনো বড় ধরনের সংঘাত বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই ইরাক সরকার সীমান্তে এই বিশেষ সতর্কতা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
/আশিক
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১৯১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেককে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাকি আহতদের অনেকেই বিস্ফোরণের আঘাত, ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া কিংবা আতঙ্কে আহত হয়েছেন।
এর আগে সোমবার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের শহর ইহুদ এলাকায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন বলে জানা গেছে। হামলার ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।
গত প্রায় দশ দিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমান হামলা এবং সামরিক পাল্টা অভিযানের কারণে উভয় পক্ষেই উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়ছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র:আল-জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- সবচেয়ে বড় হামলার দাবি ইরানের! কাঁপছে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
- ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের লাগাম টানছে সরকার; আর চলবে না ইচ্ছেমতো টিউশন ফি!
- আজ ২১ রমজান; জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ইরানের হাইপারসনিক তাণ্ডব! শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত
- বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন বৃষ্টি! রণক্ষেত্র ইরাকের আকাশ
- একই ছকে দুই বলি! হাদির সঙ্গে ইউটিউবার কাফিকেও শেষ করতে চেয়েছিল বিপ্লব
- জ্যাম এড়াতে জেনে নিন আজ রাজধানীর কোথায় কী কর্মসূচি
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
- মির্জা ফখরুলের শোকবার্তা
- খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
- এক কয়েল মানেই ১৪০টি সিগারেট! মশা তাড়াতে বিষ নয়, বেছে নিন প্রাকৃতিক উপায়
- পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর? ৫টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান!
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ১৭ বছর ধরে খালের গেট দখল! সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার আতঙ্কে গ্রামবাসী
- ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর
- পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০ নিয়ম
- কুসিকের প্রশাসক পদে আলোচনায় ৫ বিএনপি নেতা
- সাগরে লঘুচাপের প্রভাব! বজ্রসহ বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন সতর্কবার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
- ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা
- বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সামলাতে অভিনব প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শফিকুর রহমানের
- ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
- ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
- ১০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
- ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
- ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
- আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
- ইফতারে চাই নতুন কিছু? ঝটপট বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিকেন চিজ বল
- বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু! তাসনিম নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী?
- ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস
- নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানি রেশনিংয়ে স্থবির রাজধানী: গণপরিবহন সংকটে যাত্রী ভোগান্তি
- একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
- ইসরায়েলের ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু হামলা
- ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- ৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬








