ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১১:৫৯:২১
ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ 'খুব দ্রুতই শেষ হবে'—ট্রাম্পের এমন আশ্বাসের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে অভাবনীয় পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ না করার বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর সতর্কবার্তার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে অস্থির তেলের বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধের কোনো চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হামলা চালাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সামরিক অভিযান মূলত কিছু 'অশুভ শক্তিকে' দমনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং তাঁর বিশ্বাস—এই সংঘাত কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

ট্রাম্পের এই ইতিবাচক ও দৃঢ় অবস্থানের প্রভাবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯২ ডলারে নেমে এসেছে, যা সোমবারও ছিল ১২০ ডলার। একইভাবে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ১০.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেলের বাজারের এই হঠাৎ পতনকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তবে বাজারে বর্তমানে তেলের দাম কমলেও একটি আশঙ্কার দিক এখনো রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান দাম সোমবারের তুলনায় কম হলেও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় এটি এখনো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। ফলে বাজার পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরেছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আসলেই ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত শান্ত হয়, তবেই তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত: ইরানি প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২২:০৩:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত: ইরানি প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা “অহংকারী শক্তিগুলোকে” ইতিহাসের শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ১৯৮০ সালের তাবাস মরুভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ সামরিক অভিযানের ৪৬তম বার্ষিকীতে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ১৯৮০ সালের ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’-এর মতো এবারও আল্লাহর ইচ্ছায় দক্ষিণ ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি একে ‘আধুনিক যুগের তাবাস’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসনকারীরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে বারবার এমন অপমানজনক পরাজয়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে বাধ্য হবে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের কাছে গোপনে অবতরণের চেষ্টা করছিল মার্কিন কমান্ডো ইউনিটগুলো। ইরানি বাহিনী সেখানে দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করে।

এই অভিযানে অন্তত পাঁচজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ইরানিদের প্রতিরোধের মুখে তারা কিছু সংবেদনশীল সরঞ্জাম ও নথিপত্র রেখেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তেহরানের দাবি, এটি ছিল একটি ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে চালানো একটি ব্যর্থ গোপন মিশন।

সূত্র: প্রেস টিভি


ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:২২:৩২
ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত টালমাটাল, ঠিক তখনই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ফাটল ধরার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পেন্টাগনের একটি গোপন ইমেইল ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইপ্রাসে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই তথ্যে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনকে ন্যাটো থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া মেইলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, স্পেন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে পাশে না থাকে, তবে তাদের ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে ন্যাটোর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কারের সরাসরি কোনো বিধান নেই। স্পেনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলে জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

সাইপ্রাস সম্মেলনে পৌঁছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্পেন ন্যাটোর প্রতি দায়বদ্ধ। তবে ন্যাটোভুক্ত অন্য ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি স্পেনের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য এবং সবসময় তাই থাকবে। জার্মানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও একই সুর মিলিয়েছেন। অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে ‘ইতিবাচক নয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন নীতির কারণে ইতালিসহ গোটা ইউরোপের জনমত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এমনকি ট্রাম্পের একসময়ের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মেলোনিও এখন চাপের মুখে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন এবং জ্বালানি সংকটের এই নাজুক সময়ে ন্যাটোর ভেতর এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব পুরো পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ কি আরও ছড়াচ্ছে? ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আবার রকেট হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২০:৫০:০৮
যুদ্ধ কি আরও ছড়াচ্ছে? ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আবার রকেট হামলা
ছবি : সংগৃহীত

লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে আবারও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, হামলার আশঙ্কায় মেনারা, মারগালিওট এবং মিসগাভ আম এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানন থেকে অন্তত তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করছে। সীমান্ত এলাকায় নতুন করে এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জোরালো করল।

সূত্র: আল জাজিরা


৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১২:৫৩:১৯
৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তালিকায় থাকা দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে সরকারি সহায়তা বা কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণের হার অনেক বেশি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাওয়া অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।

তারা যেন আমেরিকান অর্থনীতির ওপর কোনোভাবেই বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই সব স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ নীতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূলত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে না পারে, সেটিই এই স্থগিতাদেশের মূল উদ্দেশ্য।

অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হলেও সাধারণ যাত্রী, পর্যটক ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ পর্যটক (Visitor Visa) এবং শিক্ষার্থী (Student Visa) সহ সব ধরনের অনভিবাসী ভিসার (Non-Immigrant Visa) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, যারা পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া আগের মতোই চলমান থাকবে।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশ রয়েছে। তালিকায় আরও আছে রাশিয়া, ইরান, ইরাক, মিশর, মিয়ানমার, ব্রাজিল ও লিবিয়ার মতো দেশগুলো। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ফাইলগুলো নতুন নীতি অনুযায়ী যাচাই করছে।

/আশিক


৩০ হাজার ইরানি হাজির অপেক্ষায় সৌদি আরব: সম্পর্কের নয়া অধ্যায়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১১:২৩:৫৫
৩০ হাজার ইরানি হাজির অপেক্ষায় সৌদি আরব: সম্পর্কের নয়া অধ্যায়
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি আরব। এবারের হজে ইরান থেকে আসা হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে ব্যাপক আতিথেয়তার প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হাজিদের ইবাদত ও যাতায়াত যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইরানের হজ সংক্রান্ত সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ইরানি হাজিরা মদিনায় পৌঁছাবেন। এরপর সেখান থেকে মক্কায় গিয়ে তারা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, মসজিদ আল-হারামের অতিথিদের সর্বোচ্চ সম্মান ও আতিথেয়তার সঙ্গে সেবা দিতে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজিদের জন্য আবাসন, মানসম্মত খাদ্য এবং স্থল, রেল ও আকাশপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে আসা হাজিদের জন্য এবার সৌদির আতিথেয়তা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩০ হাজার ইরানি নাগরিক হজে অংশ নিতে যাচ্ছেন এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই তাদের বড় বহর যাত্রা শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের অনুমোদনে পরিচালিত হচ্ছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি হাজিরা এক মাসের বেশি সময় সৌদি আরবে অবস্থান করবেন। এর মধ্যে অন্তত ৬ রাত ৭ দিন তারা মদিনার পবিত্র মসজিদে অবস্থান করবেন। যদিও তারা আকাশপথ নাকি স্থলপথ ব্যবহার করে সৌদি পৌঁছাবেন, সে সম্পর্কে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে তেহরান ও রিয়াদের এই সমন্বয়কে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন।

/আশিক


একই শহরে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা! ইসলামাবাদে কি তবে শান্তি চুক্তি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১০:১১:০৯
একই শহরে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা! ইসলামাবাদে কি তবে শান্তি চুক্তি?
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে এক সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার গুঞ্জন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার রাতে ইরানের প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে অবতরণ করলে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে চায়।

তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মধ্যস্থতাকারী’ দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

একদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত ও জামাতার উপস্থিতি এবং অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ এখন এক ঐতিহাসিক চুক্তির সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।

সূত্র: বিবিসি ও দ্য ডন


মাঝ সমুদ্রে নৌযান উড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র! ট্রাম্পের নির্দেশে রক্তক্ষয়ী অভিযান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১০:০১:৪৭
মাঝ সমুদ্রে নৌযান উড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র! ট্রাম্পের নির্দেশে রক্তক্ষয়ী অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি নৌযানে চালানো হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, শুক্রবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি পরিচিত মাদক পাচার রুটে সন্দেহভাজন একটি নৌযান শনাক্ত করা হয়। তাদের দাবি, নৌযানটি একটি ‘নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনের’ নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত ছিল।

সাউদার্ন কমান্ডের প্রকাশিত ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাঝ সমুদ্রে থাকা ওই নৌযানটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হচ্ছে। এ অভিযানে মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি। তবে নিহতদের ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে মাদক চোরাচালান রুখতে গত সেপ্টেম্বর থেকে এই ধরনের কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত এসব হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই এভাবে মাঝ সমুদ্রে মানুষ হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হয় এমন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ০৮:২৭:৩০
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হয় এমন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান এমন একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের দিকে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এবং ওয়াশিংটন সেটি মূল্যায়ন করবে। তবে প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন বলেও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। ওয়াশিংটন চায়, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তাও দিতে হবে তেহরানকে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন পুরো আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের নেতৃত্বের ভেতরে মতপার্থক্য ও বিভক্তি রয়েছে। একই সময়ে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো বর্তমানে একক অবস্থানে নেই এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নীতিগত টানাপোড়েন চলছে।

শুক্রবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের কোন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চান না। তবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি।

-রফিক


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা জানাল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ০৭:৩৪:০১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা জানাল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি ইস্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ অবস্থান তুলে ধরেছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্য অনুযায়ী, বাঘাই জানান, ইসলামাবাদে ইরানের পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পাকিস্তান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

ইরানি মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজে বের করা। তিনি দাবি করেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মূলত “যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের” অংশ, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

এদিকে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এই উচ্চপর্যায়ের অভ্যর্থনাকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে আরাগচি দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: