মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ
"মিত্রদের" জন্য হরমুজে ফি মওকুফ, মধ্যপ্রাচ্যে আরো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: কী বার্তা দিচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবারও এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা একই সুতোয় গাঁথা হয়ে পড়েছে। একদিকে ইরান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি পদক্ষেপ শুধু আলাদা কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নতুন কৌশলগত শক্তিপরীক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
সম্প্রতি মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে “বন্ধুপ্রতিম” রাষ্ট্রগুলোর জন্য ট্রানজিট ফি মওকুফ করা হয়েছে। বিশেষভাবে রাশিয়া-এর নাম উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তেহরান এখন কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশল দিয়েও তার মিত্রজোটকে শক্তিশালী করতে চাইছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের প্রথম ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাবু নিশ্চিত করেন যে, ইরান প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফি আদায় শুরু করেছে এবং সেই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানের “সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা” হিসেবে দেখছেন। কারণ হরমুজ প্রণালি শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়; এটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই রুটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কিংবা অর্থনৈতিক শর্ত আরোপের সক্ষমতা দেখিয়ে ইরান আসলে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
তবে এই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তার পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দ্রুত দৃশ্যমান হয়েছে। US Central Command নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS George H.W. Bush ভারত মহাসাগর পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনটিতে। এর আগে USS Gerald R. Ford লোহিত সাগরে এবং USS Abraham Lincoln আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থান করছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম নৌ সামরিক সমাবেশ। সেন্টকম এই অবস্থানকে “মাল্টি-ক্যারিয়ার স্ট্রাইক পোস্টার” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার অর্থ যেকোনো সামরিক পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সমন্বিত হামলা চালানোর প্রস্তুতি। বাস্তবে এটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নয়; বরং ইরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে, হরমুজ প্রণালি বা আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে কোনো ধরনের একক নিয়ন্ত্রণ বা অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ওয়াশিংটন সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
এখনকার পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের কৌশলগত বার্তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরান বলতে চাইছে, “আমরা এই সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করি এবং আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।” বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, “বিশ্ব বাণিজ্য ও আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সামরিক শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত।” অর্থাৎ, একপক্ষ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ভাষা ব্যবহার করছে, অন্যপক্ষ সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে চাইছে।
এই উত্তেজনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সরাসরি এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে চাপে ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি নতুন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামান্য ভুল হিসাব, ভুল সংকেত কিংবা সীমিত সামরিক উসকানিও বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অর্থনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন মূলত একই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে: মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে কে—সমুদ্রপথের ভৌগোলিক মালিক, নাকি বৈশ্বিক সামরিক শক্তির অধিপতি?
যে আতঙ্কে খালি করা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির সদর দপ্তর: বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত?
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি ঘটায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট আরামকো তাদের ধাহরানে অবস্থিত মূল সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির সাথে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হেডকোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলো। রয়টার্সকে নিশ্চিত করা একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের কার্যালয়ে না এসে দূর থেকে বা রিমোটলি কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে নিরাপত্তার এমন চরম কড়াকড়ি মূলত ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলার ফল। চলতি মাসের শুরুর দিকে ধাহরানে আরামকোর এই মূল ভবনে হুথিদের সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকটি তলায় ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মারাত্মক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। এর পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথি যোদ্ধারা অগ্রসর হওয়ায় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে হুথি মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু শহরের আরামকো স্থাপনা এবং রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট এসব দাবির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও জোট বাহিনী জানিয়েছে, রিয়াদ ও পবিত্র নগরী মদিনার আকাশে বেশ কয়েকটি হামলাকারী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এর জবাবে হুথিদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালায় সৌদি জোট। গত জুলাই থেকে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যে ইয়েমেনে ৫ শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছে বলে হুথিরা দাবি করেছে।
তেল অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতেও হামলা জোরদার করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি ধাহরানের কাছে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি হামলায় এক সৌদি ও এক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান এবং আরও আটজন আহত হন। যদিও বর্তমানে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে, তবুও ঝুঁকি কাটেনি। এর আগে রিয়াদ ও আভা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার কঠোর হুমকি দিয়েছে হুথিরা।
আরামকোর সদর দপ্তর খালি করা ও বিমানবন্দরগুলোতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ২.৫ শতাংশ কমে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.০৬ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১১১.৮৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক অঞ্চলের মূল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।(সূত্র: রয়টার্স ও দ্য আলজেমাইনার)
রিয়াদ ও মদিনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার দাবি সৌদি জোটের
সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রেরিত চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতেই ড্রোনগুলো শনাক্ত করা হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
উলেখ্য, গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে ইরান থেকে ফিরে আসা হুথি নেতাদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজ অবতরণে সৌদি জোট বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সূচনা হয়। এর পরপরই প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারে ধারাবাহিক হামলা চালাতে শুরু করে হুথিরা। বিপরীতে, হুথিদের রাজধানী সানা থেকে বিতাড়িত করতে 'অপারেশন ডন অব ইয়েমেন' নামে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি জোট।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, হুথিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে হুথিরা এই অভিযোগকে 'ঘৃণ্য মিথ্যাচার' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি দিয়েছে যে, মক্কা ও মদিনা অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র সৌদি আরবের আকাশসীমায় যেকোনো ধরনের বিমান চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর মধ্যেই বুধবার দাম্মাম বিমানবন্দরে চালানো হুথি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
/আশিক
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনায় রাজি রাশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নতুন করে শান্তিতে সম্মত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের তথ্য মতে, আগামী ১০ নভেম্বর বা তার পরপরই রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বহুপ্রত্যাশিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রেমলিন জানায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনীতির অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে এটি নবম বৈঠক। বৈঠকে সুসংবাদের অংশ হিসেবে পুতিন রাশিয়াতে বন্দি মার্কিন স্কুলশিক্ষক স্টিফেন হাবর্নিকে মুক্তি প্রদান করেন। ফোনে উইটকফের সঙ্গে এই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও।
তবে সম্ভাব্য এই বৈঠককে ইতিবাচক বললেও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির মূল শর্তাবলি নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল সম্পূর্ণ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখা, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান থেকে বিরত থাকা এবং অস্থায়ী বিরতির বদলে স্থায়ী চুক্তি করার দাবিতে অনড় পুতিন। অন্যদিকে ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে যে ওয়াশিংটন হয়তো ধীরে ধীরে ইউক্রেনের পাশ থেকে সরতে শুরু করেছে। ইউক্রেনকে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এখনই যুদ্ধ বন্ধের উপযুক্ত সময়, নয়তো দেশটিকে আরও খারাপ পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। এছাড়া এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইরান সংকট, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক ও মার্কিন কৃষিতে রুশ সার সরবরাহ সংক্রান্ত যৌথ অর্থনৈতিক আলোচনা স্থান পেয়েছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত: সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় রক্তাক্ত প্রবাসীরা
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক এক হামলার ঘটনায় দুজন বাংলাদেশিসহ মোট আটজন যাত্রী ও কর্মী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)। সংস্থাটি জানায়, আহতদের মধ্যে একজন সৌদি, দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, দুজন বাংলাদেশি এবং একজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একাধিক হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জিএসিএ নিশ্চিত করেছে যে, হামলার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বিমান চলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রী ও কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ চলছে। একইসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে তারা।
মূলত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করায় এই হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চলায় বাধ্য হয়ে দেশের প্রধান বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা এবং একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেয় রিয়াদ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি মাসেই দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে দফায় দফায় চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুথিরা।
/আশিক
ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের: মাঝপথে রুখে দিলেন ট্রাম্প
চলতি মাসের শুরুতে ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে এই পরিকল্পনায় বাধা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক বিশেষ প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১০ অক্টোবর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারি দপ্তর ও শাসনব্যবস্থার সংবেদনশীল অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ একাধিক বেসামরিক জায়গায় বড় ধরনের হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেটোর মুখে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটের ঠিক আগে নতুন কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলেও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ ও ক্ষমতার টানাপোড়েনের মাঝেই ইরানের ওপর হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলে এই হামলার ব্যাপ্তি গত ফেব্রুয়ারির সামরিক সংঘাতকেও ছাড়িয়ে যেত। তবে এতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি অংশ নিত নাকি ইসরায়েল এককভাবে অভিযান পরিচালনা করত, সে বিষয়টি এখনো অস্পষ্টই রয়েছে।
/আশিক
ফরাসি রাজপথে ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত বিশেষ স্লোগান ঘিরে নতুন তোলপাড়
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জামের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। এই আন্দোলনের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে একটি বিশেষ স্লোগান নজর কাড়ছে—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু) এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ (এটি অন্ধকার)—এ দুটি ভাষার মিশ্রণে তৈরি স্লোগানটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের প্রতীক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরাসি শিক্ষার্থীদের একটি গোপন স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে আন্দোলনের পরিকল্পনার সুযোগ নিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা একটি রহস্যময় বার্তা থেকে এই বাক্যাংশের উৎপত্তি। মামাদৌ বা আবদুল্লাহর মতো ছদ্মনাম ও আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে বলা হয়েছিল, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র... আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত ধরে ফেলেন যে বার্তাটি কোনো সত্যিকারের তরুণের নয়; বরং আন্দোলন দমন ও নজরদারির উদ্দেশ্যে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আনাড়িভাবে তরুণ ও আরব-কৃষ্ণাঙ্গদের ভাষা নকল করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশে কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব-ফরাসিদের যেভাবে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হয়, এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীরা সেই বৈষম্য ও অন্ধবিশ্বাসের বড় উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলনকে জোরদার করেন।
শিক্ষার্থীরা এখন এই হাস্যকর বাক্যটিকে নিজেদের স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করে এটিই বুঝাচ্ছেন যে, সরকারের নজরদারি বা অনুপ্রবেশ তারা ধরে ফেলেছেন এবং এ সবে তারা ভীত নন। বর্তমানে কেবল ফ্রান্সেই নয়, বেলজিয়াম, জার্মানি এমনকি পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের সংহতি বার্তাতেও ব্যবহৃত হয়ে এই স্লোগানটি আন্তর্জাতিক প্রভাবে রূপ নিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ধার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
/আশিক
১৫ বছর ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে সাগরের গভীরে খুঁজছেন এক স্বামী
২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে নিখোঁজ হন স্ত্রী ইউকো। ঘটনার পর দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গেলেও স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার শেষ আশাটুকু পুরোপুরি ছেড়ে দেননি জাপানের ইয়াসুও তাকামাতসু। তার দৃঢ় বিশ্বাস, সমুদ্রের গভীর তলদেশে কোথাও না কোথাও হয়তো আজও তার স্ত্রী তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাই স্ত্রীকে খোঁজার তাগিদে প্রতি মাসে নিয়মিত দুবার করে গভীর সাগরে ডুব দেন এই অনুগত স্বামী।
জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিয়াগি প্রিফেকচারের ওনাগাওয়া বন্দর থেকে ছোট একটি মাছ ধরার নৌকায় চেপে সাগরের উদ্দেশে রওনা হন ইয়াসুও। উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার গভীরে গিয়ে ডাইভিং মাস্ক, অক্সিজেন ট্যাংক ও ওজনযুক্ত বেল্ট পরিধান করে নেমে পড়েন হিমশীতল পানিতে। এভাবে গত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অব্যাহত রেখেছেন এই অনুসন্ধান। ২০১১ সালের ১১ মার্চ আঘাত হানা সেই প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প ও সুনামি মিয়াগির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ইউকোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন সকালে স্ত্রীকে কর্মস্থলে পৌঁছে দেওয়ার পর রাতের খাবার নিয়ে কথা হয়েছিল তাদের; আর সুনামির ঠিক মুহূর্তে স্ত্রী শেষ বার্তা পাঠিয়েছিলেন—'তুমি কি নিরাপদে আছ? আমি বাড়ি যেতে চাই।' সেটিই ছিল তাদের শেষ যোগাযোগ।
পরদিন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্ত্রীকে না পেয়ে ভেঙে পড়েন ইয়াসুও। দীর্ঘ দিন ধরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর অনুসন্ধান দেখার পর, স্ত্রীর দেহাবশেষের খোঁজে তিনি নিজেই ডুব দেওয়া শেখার সিদ্ধান্ত নেন। এ পর্যন্ত তিনি মোট ৭৬৩ বার সমুদ্রের গভীরে নেমেছেন। প্রচলিত কবর না থাকায় গভীর সাগরে ডুব দেওয়াটাই এখন ইয়াসুওর জন্য স্ত্রীকে স্মরণ করার এবং তার কাছাকাছি পৌঁছানোর একান্ত ব্যক্তিগত উপায়। পানির প্রায় ৫০ মিটার গভীরে সুনামির ভগ্নাবশেষের মধ্য দিয়েই তিনি খুঁজে ফেরেন স্মৃতির আবেশ। ১৫ বছরের পুরনো শোক আর বার্ধক্যকে সঙ্গী করেই স্ত্রীর ভালোবাসার টানে সাগরের নীল জলে নিজের এই আত্মনিবেদন চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াসুও তাকামাতসু।
/আশিক
মার্কিন ডিভি লটারি ফিরছে: সুযোগ কি পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা?
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত 'ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা' (ডিভি) লটারি চালু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ডিভি লটারি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলায় গত ১৯ অক্টোবর দেশটির একটি ফেডারেল আদালত কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন বলে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফোর্বসের প্রকাশিত তথ্যমতে, আদালত নির্দেশিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালুর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া অন্তত ৩০ দিন খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে এবং লটারিতে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নোটিশ দেওয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
তবে নতুন এই সুসংবাদের মাঝেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে অভিবাসিত হলে সেই দেশকে ডিভি লটারির বাইরে রাখা হয়। এই নিয়মেই ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই কর্মসূচিতে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, যা ডিভি-২০২৬-এর সরকারি নীতিমালায়ও বলবৎ ছিল। তাই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বাংলাদেশের ভাগ্যে এবার সুযোগ মিলবে কি না।
প্রতিবছর এই কর্মসূচির অধীনে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার মার্কিন অভিবাসী ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে। ইচ্ছুক আবেদনকারীদের প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে—লটারির পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও যোগ্যতা নিশ্চিত না হয়ে কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখা জরুরি, ডিভি লটারির নিবন্ধনে কোনো ফি লাগে না; ফলে টাকার বিনিময়ে ডিভি লটারিতে নাম কাটিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।
আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট: dvprogram.state.gov
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক উত্তাপ
ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংঘটিত বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করা বিশ্বনেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। এসব বক্তব্যকে 'বোকামিপূর্ণ মন্তব্য' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি পরোক্ষ কটাক্ষ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে কাতারের দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাখোঁ বলেন, নিজ নিজ দেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরাসি পরিস্থিতি নিয়ে মনগড়া রাজনীতি করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ভিডিও দ্বারা প্রভাবিত হয়েই বিদেশি নেতারা ফরাসি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ রূপ নেয় সহিংসতায়। মাখোঁ সরাসরি কারো নাম না নিলেও আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ও ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা বিশ্বনেতারা যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে ফ্রান্স উগ্র ইসলামপন্থিদের আগ্রাসনের মুখোমুখি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফরাসি অস্থিরতার পেছনে অভিবাসীদের দায়ী করে দেশটির কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লো পেনের প্রশংসা করেন।
এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফ্রান্স অভিবাসী কিংবা ইসলামপন্থিদের আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কারসাজিমূলক। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেই মূলত প্রকাশ পায় কারা প্রকৃতপক্ষে ফ্রান্সের বন্ধু আর কারা শত্রুম ভাবাপন্ন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- 'এখন থেকে ১০ হাজার লোক নিয়ে চলব': সরাইল থানায় এমপি রুমিন ও ওসির তীব্র বাগ্বিতণ্ডার পেছনে আসল ঘটনা কী?
- যে আতঙ্কে খালি করা হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল কোম্পানির সদর দপ্তর: বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত?
- ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয় না: ডা. তাসনিম জারা
- টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলের ইতিহাস ও নতুন বিশ্বরেকর্ড
- রিয়াদ ও মদিনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার দাবি সৌদি জোটের
- সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই: ডা. শফিকুর রহমান
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- ৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ-জামায়াত মিলে ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন
- অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ে বিটিআরসির বড় সিদ্ধান্ত
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- বিভ্রান্তিকর ছবি ট্রোলের কড়া জবাব দিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
- ভিডিও বানিয়ে আয়ের সুযোগ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স
- ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনায় রাজি রাশিয়া
- বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপির ভেতরেও আছে: মীর শাহে আলম
- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত: সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় রক্তাক্ত প্রবাসীরা
- অনলাইনে ই-নামজারি করবেন যেভাবে: জমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা
- এআই চ্যাট গোপনে রাখতে মেটার পর এবার ওপেনএআইয়ের বড় পদক্ষেপ
- সাজেক সড়কে বন্দুকযুদ্ধ ও পর্যটকদের চরম ভোগান্তি
- সৌদি মিডিয়ার খবর দেখে দুই বাংলাদেশির প্রাণদণ্ডের তথ্য জানল কনস্যুলেট
- আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ হলো সাজেক ভ্যালি
- বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকায়
- শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা ও গণশিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বার্তা
- ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের: মাঝপথে রুখে দিলেন ট্রাম্প
- ফেসবুকে উঠে যাচ্ছে অতিপরিচিত ‘রিচ’ মেট্রিক: মেটার নতুন সিদ্ধান্ত
- শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে ১৮ ডিসেম্বরের আলটিমেটাম
- ক্রীড়াঙ্গনের নতুন যুগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ
- এনসিপি অপকর্মের আশ্রয়স্থল ও জামায়াত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র: রাশেদ খাঁন
- ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার
- ফরাসি রাজপথে ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত বিশেষ স্লোগান ঘিরে নতুন তোলপাড়
- ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণের মুখে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
- ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে সাগরের গভীরে খুঁজছেন এক স্বামী
- ব্যালন ডি’অর নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের রহস্যময় বার্তা
- মার্কিন ডিভি লটারি ফিরছে: সুযোগ কি পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা?
- ঢাকা-সৌদি রুটে ভয়াবহ ফ্লাইট বিপর্যয়: চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
- ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক উত্তাপ
- টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ: একাদশে বড় পরিবর্তন
- পাঁচ বছরের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে পরবর্তী নির্বাচন: চিফ হুইপ
- শারদীয় দুর্গোৎসবে যোগ দিতে চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
- খুলনার তেরখাদায় বিএনপির দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- জরুরি সংস্কারকাজের কারণে বুধবার বন্ধ থাকছে বেশ কিছু এলাকার গ্যাস সরবরাহ
- টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়
- বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?
- সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড: আইনি দিক ব্যাখ্যার ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর
- সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ জোগানের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর
- রোনালদোর জরিমানা মেটাতে লাগবে মোটে ৪০ সেকেন্ড!
- অনলাইনে আবেদন করলেও মিলবে না ভোটার নিবন্ধন, যা করতে হবে
- পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
- এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে মাইক নিয়ে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী ধাওয়া
- এআই ভুয়া আইডি ও গুজব রুখতে সাধারণদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক
- শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
- আন্তর্জাতিক ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নজিরবিহীন সমীকরণের মুখে জাতীয় দল
- ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
- বিদেশের ঘরোয়া লিগে বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের নতুন গন্তব্য
- ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
- গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবি জানাল জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বলিউডের জনপ্রিয় তারকার ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও বড় ধরনের সাফল্য
- মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
- তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার সতর্কবার্তা
- অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা
-2.jpg)







