পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৬:৫১:৫৬
পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবী শুধু আরেকটি গ্রহ নয়; এ পর্যন্ত জানা মহাবিশ্বে এটি একমাত্র স্থান যেখানে জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। সূর্য থেকে এর অবস্থান, উপযুক্ত তাপমাত্রা, তরল পানির উপস্থিতি, সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল এবং শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে অন্য সব পরিচিত গ্রহ থেকে আলাদা করেছে। মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল, সাদা ও বাদামি রঙের এক জীবন্ত গোলক হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু এর এই সুন্দর বাহ্যিক রূপের আড়ালে আছে জটিল ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ার এক দীর্ঘ ইতিহাস।

সূর্য থেকে দূরত্বই জীবনধারণের প্রথম শর্ত

পৃথিবীর সূর্য থেকে গড় দূরত্ব প্রায় ১৪৯.৬ মিলিয়ন কিলোমিটার। এই দূরত্ব এমন এক অঞ্চলে পড়ে, যাকে প্রায়ই “habitable zone” বা জীবনোপযোগী অঞ্চল বলা হয়। এখানে তাপমাত্রা এমন যে পানি দীর্ঘ সময় ধরে তরল অবস্থায় থাকতে পারে। পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ৩৬৫.২৫ দিন, আর নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে লাগে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট। এই ঘূর্ণন ও পরিক্রমণের সমন্বয়ই দিন-রাত ও ঋতুচক্র সৃষ্টি করেছে।

পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩.৪৪ ডিগ্রি কাত হয়ে আছে। এই সামান্য হেলানই ঋতুর জন্ম দিয়েছে। বছরের এক অংশে উত্তর গোলার্ধ বেশি আলো ও তাপ পায়, অন্য অংশে দক্ষিণ গোলার্ধ। ফলে জলবায়ু একঘেয়ে থাকে না; বরং পরিবর্তনশীল থাকে, যা জীববৈচিত্র্যের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে।

পৃথিবী কেন নীল দেখায়

মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে সবচেয়ে বেশি নীল দেখায়, কারণ এর পৃষ্ঠের প্রায় ৭১ শতাংশই পানি দ্বারা আচ্ছাদিত। মহাসাগর, সাগর, উপসাগর ও অন্যান্য জলভাগ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে এক অনন্য চেহারা দিয়েছে। এই জলমণ্ডল শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, জীবনের ভিত্তিও বটে। পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ শতাংশ লবণাক্ত, যা মহাসাগরে রয়েছে। অবশিষ্ট অল্প অংশের বেশিরভাগই বরফ বা ভূগর্ভস্থ পানি; নদী, হ্রদ ও বায়ুমণ্ডলে থাকা পানির পরিমাণ খুবই কম হলেও জীবনচক্রে তার গুরুত্ব অপরিসীম।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল: জীবনের ঢাল

পৃথিবীর চারপাশে তুলনামূলক পাতলা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এতে প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, ২১ শতাংশ অক্সিজেন এবং অল্প পরিমাণে আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস আছে। এই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে বহু বিপদ থেকে রক্ষা করে। এটি ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ আটকে দেয়, মহাজাগতিক ছোট কণাকে পুড়িয়ে ফেলে, তাপমাত্রাকে একটি সহনীয় সীমায় ধরে রাখে এবং আবহাওয়া ও জলচক্র পরিচালনা করে।

বায়ুমণ্ডলটি আবার বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। ট্রপোস্ফিয়ারে আবহাওয়া তৈরি হয়, স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়, আর উপরের স্তরগুলোতে আয়নিত কণার উপস্থিতি অরোরা বা মেরুপ্রভা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই পুরো কাঠামো পৃথিবীর জীবমণ্ডলকে টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য।

অক্সিজেনভরা বায়ুমণ্ডল আসলে জীবনেরই সৃষ্টি

আজকের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে বিপুল পরিমাণ মুক্ত অক্সিজেন রয়েছে, তা আদিকাল থেকেই ছিল না। প্রাচীন পৃথিবীতে অক্সিজেন ছিল খুবই কম। পরে আলোকসংশ্লেষী জীব, বিশেষত সায়ানোব্যাকটেরিয়া, দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিজেন উৎপাদন করতে করতে বায়ুমণ্ডলকে বদলে দেয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে জীবন শুধু বায়ুমণ্ডলের ওপর নির্ভর করেনি, বরং বায়ুমণ্ডলকেও গঠন করেছে। অক্সিজেনের এই উত্থানই জটিল প্রাণীর বিকাশের পথ খুলে দেয়।

পৃথিবীর জলচক্র: এক অবিরাম পুনর্জন্ম

পৃথিবীর জীবনধারণে জলচক্রের ভূমিকা মৌলিক। সূর্যের তাপে মহাসাগরের পানি বাষ্পীভূত হয়, বায়ুমণ্ডলে উঠে মেঘ তৈরি করে, পরে বৃষ্টি বা তুষার হয়ে স্থলে পড়ে। এই পানি নদী হয়ে আবার সাগরে ফিরে যায়, কিছু অংশ মাটির নিচে সঞ্চিত হয়, কিছু অংশ উদ্ভিদ ব্যবহার করে এবং কিছু আবার বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে। এই অবিরাম চক্র শুধু পানির পুনর্বণ্টনই করে না, বরং আবহাওয়া, মাটি গঠন, শিলার ক্ষয়, নদীর গতিপথ এবং কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

পৃথিবীর ভেতরে আছে স্তরবিন্যাসিত এক জগৎ

পৃথিবী বাইরে থেকে দৃঢ় গোলক মনে হলেও এর অভ্যন্তরীণ গঠন বহুস্তরবিশিষ্ট। সবচেয়ে বাইরে আছে ভূত্বক, এর নিচে ম্যান্টল, আর কেন্দ্রে কোর। মহাদেশীয় ভূত্বক তুলনামূলক পুরু এবং মূলত গ্রানাইটজাত শিলায় গঠিত, আর মহাসাগরীয় ভূত্বক পাতলা ও প্রধানত ব্যাসল্টিক।

ম্যান্টল পৃথিবীর আয়তনের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে। এটি কঠিন হলেও ভূতাত্ত্বিক দীর্ঘসময়ে ধীরে ধীরে প্রবাহমান পদার্থের মতো আচরণ করে। আরও গভীরে রয়েছে কোর, যার বাইরের অংশ তরল ধাতব এবং ভেতরের অংশ কঠিন। পৃথিবীর মোট লোহার বড় অংশ এই কোরে কেন্দ্রীভূত।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: অদৃশ্য রক্ষাকবচ

পৃথিবীর তরল বাইরের কোরে বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতুর গতিশীলতা থেকে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই ক্ষেত্র মহাশূন্যে একটি বিশাল ম্যাগনেটোস্ফিয়ার সৃষ্টি করে, যা সূর্য থেকে আসা চার্জিত কণার বড় অংশকে প্রতিরোধ করে। যদি এই চৌম্বক ক্ষেত্র না থাকত, তবে সৌরবায়ু ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে দিতে পারত, যেমনটা সম্ভবত মঙ্গলে ঘটেছে।

এই চৌম্বক ক্ষেত্রই ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্ট তৈরি করেছে এবং মেরু অঞ্চলে মেরুপ্রভার মতো চমৎকার দৃশ্যের জন্ম দেয়। যদিও এই ক্ষেত্র স্থির নয়; পৃথিবীর ইতিহাসে বহুবার এর মেরুতা বদলেছে। অর্থাৎ উত্তর চৌম্বক মেরু দক্ষিণে, আর দক্ষিণ উত্তর দিকে সরে গেছে। এই উল্টোপাল্টা পরিবর্তন এখনো ভূ-চৌম্বক গবেষণার বড় বিষয়।

প্লেট টেকটোনিক্স: পৃথিবীর জীবন্ত ভূতত্ত্ব

পৃথিবীর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর প্লেট টেকটোনিক্স। পৃথিবীর বহিরাবরণ একটানা নয়; এটি বড় বড় কঠিন প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে সরে যায়, কোথাও একে অন্যের থেকে দূরে সরে নতুন ভূত্বক তৈরি করে, কোথাও মুখোমুখি ধাক্কা খেয়ে পর্বতমালা তোলে, আবার কোথাও পাশাপাশি সরে গিয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমুদ্রতল তৈরি ও ধ্বংস হয়, মহাদেশ সরে যায়, আগ্নেয়গিরি জন্ম নেয়, ভূমিকম্প হয় এবং দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীর চেহারা বদলে যায়। হিমালয়, আন্দিজ, আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যমহাসাগরীয় রিজ, প্রশান্ত মহাসাগরের অগ্নিবলয় সবই এই প্লেট গতির ফল।

কেন শুধু পৃথিবীতেই পূর্ণাঙ্গ প্লেট টেকটোনিক্স

সৌরজগতের শিলা গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীতেই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক প্লেট টেকটোনিক্স সবচেয়ে সক্রিয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে পৃথিবীর আকার, অভ্যন্তরীণ তাপ, এবং বিশেষ করে পানির উপস্থিতি বড় ভূমিকা রেখেছে। পানি শিলাকে তুলনামূলক নরম করে এবং ভূত্বককে সাবডাকশনে সহায়তা করে। শুক্রের মতো গ্রহে পানি হারিয়ে যাওয়ায় সেই ধরনের সক্রিয় প্লেট প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি।

পৃথিবীর জন্ম: তারকা ধূলি থেকে প্রাণের গ্রহ

পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে, যখন সৌরজগত গঠনের সময় সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্যাস-ধূলির চাকতি থেকে ধীরে ধীরে কঠিন পদার্থ জমাট বেঁধে বড় হতে থাকে। ছোট কণা থেকে বড় পাথুরে টুকরা, সেখান থেকে গ্রহাণু-আকারের বস্তু, এবং শেষে সংঘর্ষ ও সংযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর মতো গ্রহ তৈরি হয়।

শুরুর পৃথিবী ছিল অনেক বেশি উত্তপ্ত। গ্রহ গঠনের সময় সংঘর্ষ, রেডিওঅ্যাকটিভ ক্ষয় এবং ভেতরের ধাতব পদার্থ নিচে ডুবে গিয়ে কোর গঠন করার ফলে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়। ধারণা করা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকে মঙ্গলের আকারের একটি বস্তু পৃথিবীতে আঘাত করে, আর সেই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ থেকেই চাঁদের জন্ম হয়।

পৃথিবী ও চাঁদের সম্পর্ক

চাঁদ শুধু রাতের সৌন্দর্য নয়; পৃথিবীর ইতিহাসে তার ভূমিকা অসাধারণ। চাঁদের মহাকর্ষ সমুদ্রজোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে, পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমায়, আর অক্ষের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর ঘূর্ণন আজ ২৪ ঘণ্টার কাছাকাছি হলেও প্রাচীন পৃথিবীতে দিন আরও ছোট ছিল। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিন দীর্ঘ হয়েছে, আর চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, পানি ও ভূত্বকের উত্থান

প্রথম দিকে পৃথিবীতে এখনকার মতো বায়ুমণ্ডল ছিল না। আগ্নেয়গিরির গ্যাস নির্গমন এবং অভ্যন্তরীণ পদার্থের বহিঃপ্রবাহের মাধ্যমে প্রাথমিক বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়। পানিও খুব প্রাচীনকালেই পৃথিবীতে উপস্থিত ছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়। ৪.৩ বিলিয়ন বছরেরও আগে তরল পানির উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কিছু প্রাচীন জিরকন কণার বিশ্লেষণ থেকে। এর মানে, পৃথিবীর পৃষ্ঠ খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পানি ধারণের সক্ষমতা অর্জন করেছিল।

পৃথিবী কেন এখনো বাসযোগ্য

পৃথিবীর বাসযোগ্যতার পেছনে একক কোনো কারণ নেই; বরং বহু প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম ভারসাম্য কাজ করছে। সঠিক দূরত্ব, তরল পানি, কার্বনচক্র, প্লেট টেকটোনিক্স, উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, মাঝারি মহাকর্ষ, এবং জীবমণ্ডলের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া মিলেই এই বাসযোগ্যতা বজায় রেখেছে। একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গ্রিনহাউস প্রভাব তৈরি করে তাপ ধরে রাখে, অন্যদিকে সমুদ্র, শিলা, জীব ও বায়ুমণ্ডল একসঙ্গে কাজ করে জলবায়ুকে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হতে দেয় না।

পৃথিবীর জলবায়ু স্থির নয়

যদিও পৃথিবী জীবনোপযোগী, এর জলবায়ু কখনোই পুরোপুরি স্থির ছিল না। অতীতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, গ্রহাণুর আঘাত, কক্ষপথের পরিবর্তন, অক্ষের দোলন, বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের ওঠানামা—সব মিলিয়ে কখনো বরফযুগ, কখনো উষ্ণ যুগ এসেছে। বর্তমানে মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও বনধ্বংসের কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার চরমতা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ছে।

পৃথিবীর ভবিষ্যৎও চিরস্থায়ী নয়

পৃথিবী আজ বাসযোগ্য হলেও এটি চিরকাল এমন থাকবে না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দূর ভবিষ্যতে সূর্যের উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকলে পৃথিবীর জলবায়ু আরও উষ্ণ হতে পারে। কোটি কোটি বছরের স্কেলে এই পরিবর্তন এতটাই গভীর হতে পারে যে তরল পানি টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর বর্তমান বাসযোগ্য অবস্থা মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে এক বিশেষ জানালা, যা চিরন্তন নয়।

কেন পৃথিবী অধ্যয়ন এত গুরুত্বপূর্ণ

পৃথিবীকে বোঝা মানে শুধু নিজের গ্রহকে জানা নয়; বরং পুরো গ্রহবিজ্ঞান, জলবায়ুবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও মহাজাগতিক বিবর্তনকে বোঝা। পৃথিবীর গঠন, বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, পানি, জীবমণ্ডল ও প্লেট টেকটোনিক্স আমাদের দেখায় কীভাবে একটি গ্রহ গতিশীল, বিবর্তনশীল এবং প্রাণবান হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আমাদের সতর্কও করে যে, এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট হলে পরিবেশ কত দ্রুত বিপজ্জনক দিকে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, পৃথিবী শুধু আমাদের বাসস্থান নয়; এটি মহাবিশ্বে জটিলতা, বিবর্তন এবং জীবনের এক বিরল উদাহরণ। এর ভেতরে আছে উত্তপ্ত ধাতব কেন্দ্র, ওপরের দিকে আছে চলমান শিলাস্তর, চারপাশে আছে সুরক্ষাকারী বায়ুমণ্ডল, আর পৃষ্ঠে আছে পানি, বন, মরুভূমি, বরফ, পর্বত ও জীবনের অসংখ্য রূপ। এই সবকিছুর মিলিত রূপই পৃথিবীকে করেছে আমাদের জানা মহাবিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গ্রহ।

সূত্র: ব্রিটানিকা


অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:২৪:৩১
অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা
ছবি : সংগৃহীত

কার্তিকের শুষ্ক আবহে চলতি অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাতের আকাশে দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর মহাজাগতিক ঘটনা। এর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি ‘ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি’, বছরের অন্যতম সুন্দর ‘হান্টার্স মুন’ বা শিকারি পূর্ণিমা এবং চাঁদ ও বিখ্যাত প্লেইয়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের (সেভেন সিস্টার্স) ঘনিষ্ঠ সংযোগ। জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র ও স্কাইম্যাপের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এসব চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাবেন দেশের আকাশপ্রেমীরা।

আসন্ন মহাজাগতিক ইভেন্টগুলোর মধ্যে আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে চরমে পৌঁছাবে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। আদর্শ পরিবেশে এই সময়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা খসে পড়তে দেখা যেতে পারে, তবে চাঁদের উজ্জ্বল আলোর কারণে ভোরের আগের সময়টিতে উল্কা দেখার সুবর্ণ সুযোগ মিলবে। এর ঠিক পরপরই আগামী ২৬ অক্টোবর পূর্ণতা পাবে ‘হান্টার্স মুন’, যা ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবর রাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের রূপ নিয়ে উদ্ভাসিত হবে। এছাড়া ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে পূর্ব আকাশে প্লেইয়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের খুব কাছে অবস্থান করবে চাঁদ। পাশাপাশি শনি গ্রহসহ হেমন্তকালীন ক্যাসিওপিয়া ও পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডল পর্যবেক্ষণের জন্য শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে খোলা স্থানে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিদরা।

/আশিক


মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:১৮:৩২
মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের চোখে সবুজ ও স্যামন মাছের মতো গোলাপি রঙের দুটি ব্যতিক্রমী নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালী ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মূলত সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন এই অবশিষ্টাংশগুলোর বাইরের স্তরে সংঘটিত ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াই তাদের আলোর বর্ণালীতে এই পরিবর্তন নিয়ে আসে।

সাধারণত নক্ষত্রের রং তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করলেও শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়া রঙের ভিন্নতা তৈরি করে। গবেষণার অংশ হিসেবে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী সবুজ রঙের নক্ষত্রটিতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, আর গোলাপি রঙের নক্ষত্রটির এই অদ্ভুত রঙের পেছনে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্বের সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

নক্ষত্রগুলো পৃথিবী থেকে বহুদূরে অবস্থিত হওয়ায় খালি চোখে সরাসরি তাদের দেখা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের আলোকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্লেষণ করে বর্ণালী তৈরি করেন, যা থেকে নক্ষত্রের রাসায়নিক গঠন ও সম্ভাব্য রং নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, নক্ষত্রের চারপাশে থাকা কোনো গ্রহাণু বা পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু ভেঙে তার ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ যখন নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হয়, তখন লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো উপাদানগুলোর রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে বহু আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের অভ্যন্তর সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন জরিপের মাধ্যমে এমন আরও অনেক শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।

/আশিক


ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:১৪:৫৭
ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

ভিডিওর ভয়েসওভার তৈরি, কনটেন্টে কণ্ঠ যোগ করা কিংবা লিখিত বক্তব্যকে অডিওতে রূপান্তর করার পুরো প্রক্রিয়াটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। নিজের গলায় রেকর্ড করার কোনো প্রয়োজন ছাড়াই টেক্সট থেকে নিখুঁত ও স্বাভাবিক শোনার মতো কণ্ঠস্বর তৈরি করা সম্ভব। এই কাজের জন্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ‘ইলেভেনল্যাবস’ (ElevenLabs) অন্যতম। কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করে যেকোনো লিখিত অংশকে খুব সহজেই পছন্দের অডিওতে রূপান্তর করা যায়।

প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ElevenLabs: AI Voice Generator’ অ্যাপটি ইনস্টল করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে। অ্যাপ চালু করার পর মূল ইন্টারফেসে থাকা ‘Text to Speech’ ফিচারটি নির্বাচন করতে হবে, যার সাহায্যে লিখিত অংশ কণ্ঠে রূপান্তরিত হয়। এরপর সেটিংস বা গিয়ার আইকনে ক্লিক করে মডেল অপশন থেকে উপযুক্ত এআই মডেল বা সর্বশেষ সংস্করণ বেছে নিয়ে তা সংরক্ষণ করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে ভয়েস নির্বাচনের অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট কণ্ঠ খুঁজে নিতে হয়। যেমন—সার্চ বারে ‘Bunty’ লিখে খোঁজার পর ‘Bunty Punchy’ পাওয়া গেলে সেটি সিলেক্ট করে কমান্ড নিশ্চিত করতে হয়। এরপর যে লেখাটিকে অডিওতে রূপান্তর করতে চান, তা নির্ধারিত টেক্সট বক্সে লিখে বা পেস্ট করে জেনারেট বাটনে ক্লিক করতে হবে। অল্প কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তৈরি হওয়া অডিওটি শুনে উচ্চারণ ও স্পষ্টতা যাচাই করে নেওয়া যায়। সব ঠিকঠাক থাকলে ডাউনলোড আইকনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় ফরম্যাটে ফাইলটি ডিভাইসে সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা পরবর্তীতে যেকোনো ভিডিও এডিটিং অ্যাপের মাধ্যমে রিলস বা অন্যান্য কনটেন্টে ব্যবহার করা যায়।

তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সংস্করণের কারণে অপশনের নাম এবং বিন্যাসে তারতম্য থাকতে পারে। এ ছাড়া ফ্রি এবং প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারের সময়সীমা, ডাউনলোড সুবিধা এবং মডেলের উপলব্ধতা ভিন্ন হতে পারে। তাই কাজ শুরু করার আগে অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও উপলভ্য মডেলগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।

/আশিক


প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:৩৫:৪৩
প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক

প্রথাগত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সীমানার বাইরেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মাধ্যমে দেশের গ্রাহকরা এখন থেকে প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও প্রয়োজনীয় মোবাইল অ্যাপ ও লোকেশনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন। প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে কোনো ধরনের অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এই যুগান্তকারী সেবাটি দিচ্ছে অপারেটরটি, যা পরবর্তীতে দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক প্যাকের আওতায় পাওয়া যাবে।

এই নতুন প্রযুক্তিটি ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারীদের আলাদা কোনো ব্যয়বহুল স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো জটিল যন্ত্র কেনার প্রয়োজন পড়বে না। কেবল একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোরজি (4G) স্মার্টফোন এবং একটি সচল বাংলালিংক সিম থাকলেই এই বিশেষ সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তবে শর্ত হলো ফোনটিকে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট কাভারেজের আওতাধীন এলাকায় অবস্থান করতে হবে। সেবাটি পরিচালনা বা চালুর জন্য আলাদা কোনো বাড়তি অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না, বরং বাংলালিংকের অফিসিয়াল ‘মাইবিএল’ (MyBL) অ্যাপের মাধ্যমেই এর যাবতীয় তথ্য ও শর্ত যাচাই করে নেওয়া যায়।

প্যাকেজ ও খরচের দিক থেকে, চালুর প্রথম মাসে যেকোনো নির্ধারিত ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গেই স্টারলিংক সংযোগ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। এরপর দ্বিতীয় মাস থেকে নির্বাচিত মাসিক প্যাকগুলোর সঙ্গে এই সুবিধা যুক্ত হবে। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি করে এসএমএস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলালিংক। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই স্যাটেলাইট সংযোগটিকে সাধারণ ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না; কারণ এটি উচ্চগতির বা সীমাহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জন্য নয়, বরং দুর্গম এলাকায় জরুরি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।

যখনই কোনো ব্যবহারকারী প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক আওতার বাইরে চলে যাবেন, তখন উপযুক্ত ও সমর্থিত ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সচেষ্ট হবে। তবে এর জন্য খোলা আকাশের নিচে থাকা বাঞ্ছনীয়, কারণ উঁচু পাহাড়ি অঞ্চল, বড় কোনো ভবন বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা স্যাটেলাইট সংযোগের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে দেশের দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, গভীর সমুদ্রে কর্মরত মৎস্যজীবী, ভ্রমণকারী এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন এই প্রযুক্তি জীবনরক্ষাকারী ও অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:১৪:৪৬
বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে নিজ নিজ ডিভাইসের সফটওয়্যার হালনাগাদ করার তাগিদ দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে মারাত্মক ধরনের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি (জিরো-ডে ভালনারেবিলিটি) শনাক্ত হওয়ার পর এই জরুরি সতর্কবার্তা জারি করল প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাপল সূত্রে জানা গেছে, আইফোন ও আইপ্যাডের ছবি ও গ্রাফিক্স প্রদর্শনে ব্যবহৃত ‘কোরগ্রাফিকস’ নামের সফটওয়্যার উপাদানে এই গুরুতর প্রযুক্তিগত দুর্বলতাটি খুঁজে পাওয়া যায়। হ্যাকাররা বিশেষভাবে তৈরি কোনো ক্ষতিকারক ফাইল বা ছবি পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর নির্দেশমালা (মেলিশিয়াস কোড) সক্রিয় করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যে, এই ফাঁককে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট কিছু উচ্চপদস্থ বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ডিভাইসে অত্যন্ত জটিল সাইবার হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে কার ওপর বা কোন মাধ্যমে এই নির্দিষ্ট সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি অ্যাপল।

কোন কোন ডিভাইসে এবং কীভাবে হালনাগাদ করবেন

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যাপল পুরোনো সফটওয়্যার চালিত আইফোনের জন্য ‘আইওএস ২৬.৭.১’ এবং আইপ্যাডের জন্য ‘আইপ্যাডওএস ২৬.৭.১’ সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছে। আইফোন ১১ ও পরবর্তী সময়ে বাজারে আসা সব মডেলে এই নিরাপত্তা প্যাকেজ ইনস্টল করা যাবে। অন্যদিকে, সদ্য বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলের প্রাথমিক ত্রুটি সংশোধনে পৃথকভাবে ‘আইওএস ২৭.০.১’ সংস্করণের হালনাগাদ আনা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিভাইস হালনাগাদ করার পূর্বে ব্যক্তিগত ডেটার ব্যাকআপ রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ডিভাইসটিকে চার্জারে যুক্ত করে এবং দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সংযোগে রেখে Settings > General > Software Update অপশনে গিয়ে 'Download and Install' বোতামে চাপ দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংস্করণটি হালনাগাদ হয়ে যাবে।

/আশিক


মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২১:৩৬:৫৮
মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্বের বিশালতায় মানুষের নিঃসঙ্গতা ভাঙতে এবং ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই মহাশূন্যের গভীর সংকেত পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সৌরজগতের বাইরের একটি এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইদো বার্জার পরিষ্কার করেছেন যে, এই বার্তাটি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর পাঠানো সংকেত নয়; বরং এটি উক্ত গ্রহটির অস্বাভাবিক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘বিটা পিকটোরিস বি’ নামের একটি বিশাল এক্সোপ্ল্যানেট থেকে এই পুনরাবৃত্তিমূলক রেডিও বিস্ফোরণের তরঙ্গ ধরা পড়েছে। বিশালাকার এই গ্যাসীয় গ্রহটির ভর আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির চেয়ে অন্তত ১২ গুণ বেশি এবং এটি সূর্যের চেয়ে প্রায় ১.৭৫ গুণ বড় একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, গ্রহটি যে নক্ষত্রমণ্ডলীতে অবস্থান করছে তার বয়স মাত্র ২.৩ কোটি বছর, যেখানে আমাদের নিজস্ব সৌরজগতের আনুমানিক বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।

দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থাপিত ৬৪টি বিশালাকার রেডিও টেলিস্কোপ ডিশের সমন্বয়ে গঠিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘মিরক্যাট’ (MeerKAT) প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষকরা এই তরঙ্গ শনাক্ত করেন। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে সংকেতটিকে কেন্দ্রীয় নক্ষত্র থেকে নির্গত বলে মনে করা হলেও, সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রেডিও তরঙ্গটি মূলত গ্রহটি থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে।

অধ্যাপক বার্জারের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে যেভাবে বায়ুমণ্ডলে মেরুপ্রভা বা ‘অরোরা’ সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি উক্ত গ্রহটিতে চলমান তীব্র চৌম্বকীয় ঝড়ের ফলেই এই শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গের উদ্ভব ঘটছে। বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে দিয়ে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ‘বিটা পিকটোরিস বি’ গ্রহটির চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্রতা আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়েও অন্তত ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

সাধারণত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব গ্রহের প্রতিরক্ষামূলক চৌম্বকীয় আবরণ থাকে না, যা মঙ্গল বা অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে দেখা যায়; যেমন পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ক্ষতিকারক সৌরঝড় থেকে বায়ুমণ্ডলকে সুরক্ষা দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহের নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে এমন রেডিও সংকেতের সৃষ্টি ইতিপূর্বে সৌরজগতের বৃহস্পতি, শনি, এমনকি সূর্য ও বাদামি বামন নক্ষত্রে (ব্রাউন ডোয়ার্ফ) লক্ষ্য করা গেলেও, সৌরজগতের সীমানার বাইরে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট গ্রহ থেকে এটিই প্রথম স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ রেডিও সংকেত।

উৎস উন্মোচনের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কঠোর ‘পিয়ার রিভিউ’ বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞানীদের মতে, গবেষণার ফলাফল চূড়ান্তভাবে সমর্থিত হলে তা বহির্বিশ্বের গ্রহসমূহের অভ্যন্তরীণ গঠন ও তাদের চৌম্বকক্ষেত্রের আচরণ বুঝতে জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এবং বর্তমানে গ্রহটির এই চরমমাত্রার শক্তি উৎপন্ন করার রহস্য উদঘাটন করাই বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৯:৫৮:৪৮
৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীতে মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য নির্ধারিত ৯টি প্রাকৃতিক ‘প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি’ বা পরিবেশগত সীমানার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে মানবজাতি। এভাবে পরিবেশের ওপর অনিয়ন্ত্রিত চাপ অব্যাহত থাকলে পৃথিবীর এমন স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আর কখনোই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি পটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের ৬০ জনেরও বেশি বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী যৌথভাবে ‘২০২৬ প্ল্যানেটারি হেলথ চেক’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন, সুপেয় পানির চরম সংকট, মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক ও রাসায়নিক দূষণ, সমুদ্রের অতিরিক্ত অম্লতা বৃদ্ধি এবং ভূ-রাসায়নিক প্রবাহ—এই গুরুত্বপূর্ণ ৭টি প্রাকৃতিক সীমানা ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় লঙ্ঘিত হয়েছে। বর্তমানে কেবল ওজোন স্তরের স্থায়িত্ব এবং বায়ুমণ্ডলীয় অ্যারোসলের সীমানা সুরক্ষিত রয়েছে। ২০০৯ সালে চিহ্নিত এই আন্তর্জাতিক পরিবেশগত বৈজ্ঞানিক ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, সীমানা অতিক্রম করার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক ধ্বংস ডেকে না আনলেও তা বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমকে এক মহা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষ করে আমাজন বন উজাড় এবং কার্বন শোষণের ক্ষমতার হ্রাসের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সূচকে লাল তালিকাভুক্ত করেছেন। তবে প্রখ্যাত বৈশ্বিক জলবায়ু বিজ্ঞানী জোহান রকস্ট্রোম জানিয়েছেন, এককভাবে না দেখে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস ও প্রকৃতি ধ্বংস অবিলম্বে রূদ্ধ করা গেলে বিশ্বকে আবারও মানবজাতির জন্য নিরাপদ সীমানায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি


অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৯:২১:৫৪
অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল শনাক্ত করার পাশাপাশি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা প্রতারণামূলক লিংক, ফোন নম্বর ও বার্তা যাচাইয়ের সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ট্রুকলার। 'স্ক্যাম চেকার' নামের একটি নতুন ওয়েবসাইট ও অ্যান্ড্রয়েড সেবা উন্মুক্ত করেছে সুইডেনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে কোনো ধরনের অ্যাপ ইনস্টল করা কিংবা অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করা ছাড়াই ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক তথ্য পরীক্ষা করার সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই ফিচারটি প্রথম ধাপে ভারতে চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ধাপে ধাপে এটি সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সন্দেহজনক নম্বর, ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা সম্পূর্ণ মেসেজ কপি করে পেস্ট করে সরাসরি পরীক্ষা করতে পারবেন। কোনো লিংক স্ক্যান করার জন্য জমা দেওয়া হলে সার্ভিসটি সেটির মূল ইউআরএল বের করতে প্রয়োজনে ভেতরের রিডাইরেক্টগুলো একের পর এক খুলবে। এরপর ওয়েব ঠিকানাটির বিস্তারিত তথ্য ট্রুকলারের নিজস্ব ঝুঁকি শনাক্তকরণ ডেটাবেস এবং স্ক্যাম সম্পর্কিত সংকেতগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই পদ্ধতিতে কোনো বার্তা বা মেসেজ পরীক্ষা করার সময় সেটিতে থাকা ফোন নম্বর ও লিংক আলাদা করে বিশ্লেষণ করবে ট্রুকলার।

এই পুরো ঝুঁকি শনাক্তকরণ কার্যক্রমে ট্রুকলার ব্যবহারকারীদের প্রদান করা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি 'স্ক্যামফিড' মুখ্য ভূমিকা রাখছে। ভারতে বর্তমানে এই স্ক্যামফিডে ২০ হাজারের বেশি সক্রিয় প্রতারণার তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে নতুন করে আরও অন্তত ১৩০০টি প্রতিবেদন সেখানে যুক্ত হচ্ছে। ট্রুকলারের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১২.৯ বিলিয়ন মেসেজ পরীক্ষা করে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ বার্তাকে ভুয়া ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কোনো ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির নির্দিষ্ট নাম দেখতে হলে ব্যবহারকারীকে ট্রুকলারের মূল অ্যাপ বা সার্ভিসে সাইন ইন করতে হবে।

ডিজিটাল জগতে সময়ের সঙ্গে প্রতারণার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন আসায় কেবল ফোনকল শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে শতভাগ সুরক্ষার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রুকলার জানিয়েছে, বর্তমানে কল ছাড়াও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ, এসএসএস ও লিংকের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জিএসএমএ জরিপের তথ্যমতে, ভারতের ৪৬ শতাংশ ভুক্তভোগী মেসেজিং অ্যাপ, ৩৭ শতাংশ এসএমএস এবং ৩২ শতাংশ ভয়েস কলের মাধ্যমে প্রতারকদের শিকার হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বার ওয়েবে সন্দেহজনক লিংক ও ফোন নম্বর যাচাইয়ের কাজ চলে।

ভবিষ্যতে এই স্ক্যাম চেকারে নতুন ধরনের প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি মেসেজের স্ক্রিনশট আপলোড করে তা সরাসরি বিশ্লেষণের সুবিধা যোগ করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে কল আইডেন্টিফিকেশন সেবার পরিধি বাড়িয়ে ভুয়া কল, বার্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে কাজ করছে ট্রুকলার।

/আশিক


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২০:৪৫:৫৭
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে
ছবি : সংগৃহীত

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ কাজকর্ম সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানান অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও মানুষ এখন ক্রমবর্ধমানভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের নির্ভরতা নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের মতে, কোনো অবস্থাতেই এআই মানুষের বিকল্প কিংবা প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারে না। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সৌন্দর্য, মানুষের আবেগ, বুদ্ধিমত্তা কিংবা অর্থসংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এআইয়ের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রযুক্তির নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকির কারণে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এআইয়ের মুখোমুখি হওয়া বা এর মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রথমেই আসে চেহারা ও সৌন্দর্যের মূল্যায়নের বিষয়টি। পোশাক বা ব্যক্তিগত আকর্ষণ নিয়ে এআই যা বলে, তা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। বেশিরভাগ এআই মডেলকেই ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইতিবাচক ও মনোরম ভঙ্গিতে কথা বলার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়, যা সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের বিকল্প হতে পারে না।

একইভাবে আবেগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় এআইয়ের মতামত চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কেউ আপনাকে ভালোবাসে কি না বা কারো মনে আপনার জন্য কী অনুভূতি রয়েছে—এ ধরনের প্রশ্নে এআই হয়তো সহানুভূতিশীল জবাব দেবে, কিন্তু মানুষের জটিল মানসিক অনুভূতি ও আচরণ অনুধাবন করার ক্ষমতা তার নেই। যেকোনো মানসিক সংকট বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে কৃত্রিম যন্ত্রের বদলে বিশ্বস্ত মানুষ বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

এ ছাড়া নিজের ব্যক্তিগত বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা কিংবা আত্মমর্যাদা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা থাকলেও এআই কোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব, নিজস্ব ক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যবোধ সঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারে না। ফলে এর কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না।

জরুরি অর্থসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এআইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিনিয়োগ, ঋণগ্রহণ বা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এআই যেসব পরামর্শ দেয়, তা যাচাই না করে প্রয়োগ করা মোটেও ঠিক নয়। কারণ ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, স্থানীয় আইনি রূপরেখা এবং পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে কেবল একজন পেশাদার আর্থিক পরামর্শকই সক্ষম।

একই সঙ্গে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সহায়তার বিকল্প কখনো প্রযুক্তি হতে পারে না। কাজের নির্দেশনা বা তথ্য সরবরাহে এআই দক্ষ হলেও বিপদের মুহূর্তে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা মানবিক সহানুভূতি প্রকাশের কাজগুলো এআইয়ের পক্ষে করা অসম্ভব। মূলত উপাত্ত ও অ্যালগরিদমের ওপর ভর করে চলা এআইয়ের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা বা অনুভূতি নেই। তাই একে জীবনের প্রধান ভরসা না বানিয়ে শুধুমাত্র একটি সাধারণ সহায়তামূলক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পন্থা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: