পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প

সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবী শুধু আরেকটি গ্রহ নয়; এ পর্যন্ত জানা মহাবিশ্বে এটি একমাত্র স্থান যেখানে জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। সূর্য থেকে এর অবস্থান, উপযুক্ত তাপমাত্রা, তরল পানির উপস্থিতি, সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল এবং শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে অন্য সব পরিচিত গ্রহ থেকে আলাদা করেছে। মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল, সাদা ও বাদামি রঙের এক জীবন্ত গোলক হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু এর এই সুন্দর বাহ্যিক রূপের আড়ালে আছে জটিল ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ার এক দীর্ঘ ইতিহাস।
সূর্য থেকে দূরত্বই জীবনধারণের প্রথম শর্ত
পৃথিবীর সূর্য থেকে গড় দূরত্ব প্রায় ১৪৯.৬ মিলিয়ন কিলোমিটার। এই দূরত্ব এমন এক অঞ্চলে পড়ে, যাকে প্রায়ই “habitable zone” বা জীবনোপযোগী অঞ্চল বলা হয়। এখানে তাপমাত্রা এমন যে পানি দীর্ঘ সময় ধরে তরল অবস্থায় থাকতে পারে। পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ৩৬৫.২৫ দিন, আর নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে লাগে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট। এই ঘূর্ণন ও পরিক্রমণের সমন্বয়ই দিন-রাত ও ঋতুচক্র সৃষ্টি করেছে।
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩.৪৪ ডিগ্রি কাত হয়ে আছে। এই সামান্য হেলানই ঋতুর জন্ম দিয়েছে। বছরের এক অংশে উত্তর গোলার্ধ বেশি আলো ও তাপ পায়, অন্য অংশে দক্ষিণ গোলার্ধ। ফলে জলবায়ু একঘেয়ে থাকে না; বরং পরিবর্তনশীল থাকে, যা জীববৈচিত্র্যের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে।
পৃথিবী কেন নীল দেখায়
মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে সবচেয়ে বেশি নীল দেখায়, কারণ এর পৃষ্ঠের প্রায় ৭১ শতাংশই পানি দ্বারা আচ্ছাদিত। মহাসাগর, সাগর, উপসাগর ও অন্যান্য জলভাগ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে এক অনন্য চেহারা দিয়েছে। এই জলমণ্ডল শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, জীবনের ভিত্তিও বটে। পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ শতাংশ লবণাক্ত, যা মহাসাগরে রয়েছে। অবশিষ্ট অল্প অংশের বেশিরভাগই বরফ বা ভূগর্ভস্থ পানি; নদী, হ্রদ ও বায়ুমণ্ডলে থাকা পানির পরিমাণ খুবই কম হলেও জীবনচক্রে তার গুরুত্ব অপরিসীম।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল: জীবনের ঢাল
পৃথিবীর চারপাশে তুলনামূলক পাতলা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এতে প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, ২১ শতাংশ অক্সিজেন এবং অল্প পরিমাণে আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস আছে। এই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে বহু বিপদ থেকে রক্ষা করে। এটি ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ আটকে দেয়, মহাজাগতিক ছোট কণাকে পুড়িয়ে ফেলে, তাপমাত্রাকে একটি সহনীয় সীমায় ধরে রাখে এবং আবহাওয়া ও জলচক্র পরিচালনা করে।
বায়ুমণ্ডলটি আবার বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। ট্রপোস্ফিয়ারে আবহাওয়া তৈরি হয়, স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়, আর উপরের স্তরগুলোতে আয়নিত কণার উপস্থিতি অরোরা বা মেরুপ্রভা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই পুরো কাঠামো পৃথিবীর জীবমণ্ডলকে টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য।
অক্সিজেনভরা বায়ুমণ্ডল আসলে জীবনেরই সৃষ্টি
আজকের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে বিপুল পরিমাণ মুক্ত অক্সিজেন রয়েছে, তা আদিকাল থেকেই ছিল না। প্রাচীন পৃথিবীতে অক্সিজেন ছিল খুবই কম। পরে আলোকসংশ্লেষী জীব, বিশেষত সায়ানোব্যাকটেরিয়া, দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিজেন উৎপাদন করতে করতে বায়ুমণ্ডলকে বদলে দেয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে জীবন শুধু বায়ুমণ্ডলের ওপর নির্ভর করেনি, বরং বায়ুমণ্ডলকেও গঠন করেছে। অক্সিজেনের এই উত্থানই জটিল প্রাণীর বিকাশের পথ খুলে দেয়।
পৃথিবীর জলচক্র: এক অবিরাম পুনর্জন্ম
পৃথিবীর জীবনধারণে জলচক্রের ভূমিকা মৌলিক। সূর্যের তাপে মহাসাগরের পানি বাষ্পীভূত হয়, বায়ুমণ্ডলে উঠে মেঘ তৈরি করে, পরে বৃষ্টি বা তুষার হয়ে স্থলে পড়ে। এই পানি নদী হয়ে আবার সাগরে ফিরে যায়, কিছু অংশ মাটির নিচে সঞ্চিত হয়, কিছু অংশ উদ্ভিদ ব্যবহার করে এবং কিছু আবার বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে। এই অবিরাম চক্র শুধু পানির পুনর্বণ্টনই করে না, বরং আবহাওয়া, মাটি গঠন, শিলার ক্ষয়, নদীর গতিপথ এবং কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
পৃথিবীর ভেতরে আছে স্তরবিন্যাসিত এক জগৎ
পৃথিবী বাইরে থেকে দৃঢ় গোলক মনে হলেও এর অভ্যন্তরীণ গঠন বহুস্তরবিশিষ্ট। সবচেয়ে বাইরে আছে ভূত্বক, এর নিচে ম্যান্টল, আর কেন্দ্রে কোর। মহাদেশীয় ভূত্বক তুলনামূলক পুরু এবং মূলত গ্রানাইটজাত শিলায় গঠিত, আর মহাসাগরীয় ভূত্বক পাতলা ও প্রধানত ব্যাসল্টিক।
ম্যান্টল পৃথিবীর আয়তনের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে। এটি কঠিন হলেও ভূতাত্ত্বিক দীর্ঘসময়ে ধীরে ধীরে প্রবাহমান পদার্থের মতো আচরণ করে। আরও গভীরে রয়েছে কোর, যার বাইরের অংশ তরল ধাতব এবং ভেতরের অংশ কঠিন। পৃথিবীর মোট লোহার বড় অংশ এই কোরে কেন্দ্রীভূত।
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: অদৃশ্য রক্ষাকবচ
পৃথিবীর তরল বাইরের কোরে বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতুর গতিশীলতা থেকে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই ক্ষেত্র মহাশূন্যে একটি বিশাল ম্যাগনেটোস্ফিয়ার সৃষ্টি করে, যা সূর্য থেকে আসা চার্জিত কণার বড় অংশকে প্রতিরোধ করে। যদি এই চৌম্বক ক্ষেত্র না থাকত, তবে সৌরবায়ু ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে দিতে পারত, যেমনটা সম্ভবত মঙ্গলে ঘটেছে।
এই চৌম্বক ক্ষেত্রই ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্ট তৈরি করেছে এবং মেরু অঞ্চলে মেরুপ্রভার মতো চমৎকার দৃশ্যের জন্ম দেয়। যদিও এই ক্ষেত্র স্থির নয়; পৃথিবীর ইতিহাসে বহুবার এর মেরুতা বদলেছে। অর্থাৎ উত্তর চৌম্বক মেরু দক্ষিণে, আর দক্ষিণ উত্তর দিকে সরে গেছে। এই উল্টোপাল্টা পরিবর্তন এখনো ভূ-চৌম্বক গবেষণার বড় বিষয়।
প্লেট টেকটোনিক্স: পৃথিবীর জীবন্ত ভূতত্ত্ব
পৃথিবীর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর প্লেট টেকটোনিক্স। পৃথিবীর বহিরাবরণ একটানা নয়; এটি বড় বড় কঠিন প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে সরে যায়, কোথাও একে অন্যের থেকে দূরে সরে নতুন ভূত্বক তৈরি করে, কোথাও মুখোমুখি ধাক্কা খেয়ে পর্বতমালা তোলে, আবার কোথাও পাশাপাশি সরে গিয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমুদ্রতল তৈরি ও ধ্বংস হয়, মহাদেশ সরে যায়, আগ্নেয়গিরি জন্ম নেয়, ভূমিকম্প হয় এবং দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীর চেহারা বদলে যায়। হিমালয়, আন্দিজ, আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যমহাসাগরীয় রিজ, প্রশান্ত মহাসাগরের অগ্নিবলয় সবই এই প্লেট গতির ফল।
কেন শুধু পৃথিবীতেই পূর্ণাঙ্গ প্লেট টেকটোনিক্স
সৌরজগতের শিলা গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীতেই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক প্লেট টেকটোনিক্স সবচেয়ে সক্রিয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে পৃথিবীর আকার, অভ্যন্তরীণ তাপ, এবং বিশেষ করে পানির উপস্থিতি বড় ভূমিকা রেখেছে। পানি শিলাকে তুলনামূলক নরম করে এবং ভূত্বককে সাবডাকশনে সহায়তা করে। শুক্রের মতো গ্রহে পানি হারিয়ে যাওয়ায় সেই ধরনের সক্রিয় প্লেট প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি।
পৃথিবীর জন্ম: তারকা ধূলি থেকে প্রাণের গ্রহ
পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে, যখন সৌরজগত গঠনের সময় সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্যাস-ধূলির চাকতি থেকে ধীরে ধীরে কঠিন পদার্থ জমাট বেঁধে বড় হতে থাকে। ছোট কণা থেকে বড় পাথুরে টুকরা, সেখান থেকে গ্রহাণু-আকারের বস্তু, এবং শেষে সংঘর্ষ ও সংযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর মতো গ্রহ তৈরি হয়।
শুরুর পৃথিবী ছিল অনেক বেশি উত্তপ্ত। গ্রহ গঠনের সময় সংঘর্ষ, রেডিওঅ্যাকটিভ ক্ষয় এবং ভেতরের ধাতব পদার্থ নিচে ডুবে গিয়ে কোর গঠন করার ফলে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়। ধারণা করা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকে মঙ্গলের আকারের একটি বস্তু পৃথিবীতে আঘাত করে, আর সেই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ থেকেই চাঁদের জন্ম হয়।
পৃথিবী ও চাঁদের সম্পর্ক
চাঁদ শুধু রাতের সৌন্দর্য নয়; পৃথিবীর ইতিহাসে তার ভূমিকা অসাধারণ। চাঁদের মহাকর্ষ সমুদ্রজোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে, পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমায়, আর অক্ষের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর ঘূর্ণন আজ ২৪ ঘণ্টার কাছাকাছি হলেও প্রাচীন পৃথিবীতে দিন আরও ছোট ছিল। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিন দীর্ঘ হয়েছে, আর চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, পানি ও ভূত্বকের উত্থান
প্রথম দিকে পৃথিবীতে এখনকার মতো বায়ুমণ্ডল ছিল না। আগ্নেয়গিরির গ্যাস নির্গমন এবং অভ্যন্তরীণ পদার্থের বহিঃপ্রবাহের মাধ্যমে প্রাথমিক বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়। পানিও খুব প্রাচীনকালেই পৃথিবীতে উপস্থিত ছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়। ৪.৩ বিলিয়ন বছরেরও আগে তরল পানির উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কিছু প্রাচীন জিরকন কণার বিশ্লেষণ থেকে। এর মানে, পৃথিবীর পৃষ্ঠ খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পানি ধারণের সক্ষমতা অর্জন করেছিল।
পৃথিবী কেন এখনো বাসযোগ্য
পৃথিবীর বাসযোগ্যতার পেছনে একক কোনো কারণ নেই; বরং বহু প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম ভারসাম্য কাজ করছে। সঠিক দূরত্ব, তরল পানি, কার্বনচক্র, প্লেট টেকটোনিক্স, উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, মাঝারি মহাকর্ষ, এবং জীবমণ্ডলের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া মিলেই এই বাসযোগ্যতা বজায় রেখেছে। একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গ্রিনহাউস প্রভাব তৈরি করে তাপ ধরে রাখে, অন্যদিকে সমুদ্র, শিলা, জীব ও বায়ুমণ্ডল একসঙ্গে কাজ করে জলবায়ুকে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হতে দেয় না।
পৃথিবীর জলবায়ু স্থির নয়
যদিও পৃথিবী জীবনোপযোগী, এর জলবায়ু কখনোই পুরোপুরি স্থির ছিল না। অতীতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, গ্রহাণুর আঘাত, কক্ষপথের পরিবর্তন, অক্ষের দোলন, বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের ওঠানামা—সব মিলিয়ে কখনো বরফযুগ, কখনো উষ্ণ যুগ এসেছে। বর্তমানে মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও বনধ্বংসের কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার চরমতা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়ছে।
পৃথিবীর ভবিষ্যৎও চিরস্থায়ী নয়
পৃথিবী আজ বাসযোগ্য হলেও এটি চিরকাল এমন থাকবে না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দূর ভবিষ্যতে সূর্যের উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকলে পৃথিবীর জলবায়ু আরও উষ্ণ হতে পারে। কোটি কোটি বছরের স্কেলে এই পরিবর্তন এতটাই গভীর হতে পারে যে তরল পানি টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর বর্তমান বাসযোগ্য অবস্থা মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে এক বিশেষ জানালা, যা চিরন্তন নয়।
কেন পৃথিবী অধ্যয়ন এত গুরুত্বপূর্ণ
পৃথিবীকে বোঝা মানে শুধু নিজের গ্রহকে জানা নয়; বরং পুরো গ্রহবিজ্ঞান, জলবায়ুবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও মহাজাগতিক বিবর্তনকে বোঝা। পৃথিবীর গঠন, বায়ুমণ্ডল, চৌম্বক ক্ষেত্র, পানি, জীবমণ্ডল ও প্লেট টেকটোনিক্স আমাদের দেখায় কীভাবে একটি গ্রহ গতিশীল, বিবর্তনশীল এবং প্রাণবান হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আমাদের সতর্কও করে যে, এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট হলে পরিবেশ কত দ্রুত বিপজ্জনক দিকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, পৃথিবী শুধু আমাদের বাসস্থান নয়; এটি মহাবিশ্বে জটিলতা, বিবর্তন এবং জীবনের এক বিরল উদাহরণ। এর ভেতরে আছে উত্তপ্ত ধাতব কেন্দ্র, ওপরের দিকে আছে চলমান শিলাস্তর, চারপাশে আছে সুরক্ষাকারী বায়ুমণ্ডল, আর পৃষ্ঠে আছে পানি, বন, মরুভূমি, বরফ, পর্বত ও জীবনের অসংখ্য রূপ। এই সবকিছুর মিলিত রূপই পৃথিবীকে করেছে আমাদের জানা মহাবিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গ্রহ।
সূত্র: ব্রিটানিকা
ইউটিউবে আসছে বড় পরিবর্তন: এআই ভিডিও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে অ্যালগরিদম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কিংবা সম্পাদিত ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য একদম নতুন ও কঠোর এক ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করছে বৈশ্বিক ভিডিও স্ট্রিমিং জায়ান্ট ইউটিউব। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায়, এখন থেকে কোনো ভিডিওতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এআই বা জেনারেটিভ টুলের ব্যবহার করা হলে দর্শকদের সুবিধার্থে সেখানে বিশেষ সতর্কতামূলক ডিজিটাল লেবেল দেখানো হবে।
তবে গুগলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, আপাতত এই হাইটেক সুবিধাটি শুধু ইউটিউবের মূল প্ল্যাটফর্মেই (Main App) কার্যকর করা হবে, শিশুদের জন্য তৈরি 'ইউটিউব কিডস' (YouTube Kids)-এ এখনই এটি আসছে না।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে অনলাইন দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেক দিয়ে তৈরি নিখুঁত এআইনির্ভর ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকায় কনটেন্টের উৎস, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সত্যতা সম্পর্কে সাধারণ দর্শকদের আরও স্পষ্ট ও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে এআই দিয়ে কোনো ভিডিও বানালে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিজ উদ্যোগে বা ম্যানুয়ালি সেটি চিহ্নিত বা লেবেল করতে হতো। তবে নতুন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় এআই লেবেলটি আরও দৃশ্যমানভাবে সরাসরি ভিডিওর প্রধান শিরোনামের (Title) পাশেই বড় করে প্রদর্শিত হবে। এছাড়া ইউটিউব শর্টসের (YouTube Shorts) ক্ষেত্রেও স্ক্রিনের একদম নিচে সাবটাইটেলের সাথে এই এআই লেবেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখা যাবে।
এদিকে এআই ভিডিও নির্মাতাদের আশ্বস্ত করে এক অফিশিয়াল ব্লগ পোস্টে টেক জায়ান্টটি জানিয়েছে, কোনো ভিডিওতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই লেবেল যুক্ত হওয়ার কারণে ভিডিওর অ্যালগরিদম, অর্গানিক রিচ বা সুপারিশ ব্যবস্থা (Recommendation System) এবং মনিটাইজেশন তথা আয় করার নিয়মিত সুযোগে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দর্শকদের কাছে কনটেন্ট সম্পর্কে কেবল আরও স্বচ্ছ তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এই এআই লেবেলিং উদ্যোগের একমাত্র ও মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে এআই দিয়ে তৈরি অতি নিম্নমানের ভিডিও এবং দর্শকদের প্রতারিত করা বিভ্রান্তিকর এআই বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউটিউব। প্ল্যাটফর্মের পরিচ্ছন্নতা ও সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে জেনারেটিভ এআই নীতিমালার আওতায় বিপুলসংখ্যক এআই কনটেন্ট, বিজ্ঞাপনী ভিডিও এবং এআই চ্যানেল একযোগে ডিলিট ও টার্মিনেট করে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এই সার্চ জায়ান্ট।
সূত্র: ম্যাশেবল
পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
পুরাতন বা ব্যবহৃত (ইউজড) আইফোন কেনার সময় সেটিংস অপশনে ‘Genuine Apple Part’ লেখা দেখা কিংবা ব্যাটারি হেলথ ৯০% বা ৯৫% থাকা মানেই আইফোনটি একদম ফ্রেশ—এমন ভাবার দিন শেষ। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে ব্যবহৃত আইফোনের বাজারে প্রতারণার কৌশলও এখন বহুগুণ আধুনিক ও উন্নত হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতা তো বটেই, অনেক সময় প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞদের পক্ষেও খালি চোখে বা সাধারণ সেটিং দেখে এই নিখুঁত জালিয়াতি ধরা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে বিশেষ থার্ড-পার্টি হার্ডওয়্যার ডিভাইস এবং কাস্টম সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের ভেতর এমন সব পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা আইফোনের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম (iOS) বা সেটিংসও সহজে সনাক্ত করতে পারে না।
তাই কোনো বিক্রেতাকে টাকা পরিশোধ করার আগে, বর্তমান বাজারের শীর্ষ ৫টি প্রযুক্তিগত জালিয়াতি এবং তা ধরার আধুনিক উপায়গুলো অবশ্যই জেনে নিন
পার্টস ও সার্ভিস হিস্ট্রি জালিয়াতি (Fake Genuine Parts)
অতীতে ক্রেতারা শুধু Settings > General > About থেকে "Parts and Service History" দেখেই নিশ্চিত হয়ে যেতেন যে ফোনের পার্টসগুলো আসল নাকি নকল। কিন্তু বর্তমানে ‘JC Programmer’-এর মতো অত্যাধুনিক থার্ড-পার্টি ডিভাইস ব্যবহার করে নকল ডিসপ্লে, ক্যামেরা বা ব্যাটারিতে আইফোনের অরিজিনাল পার্টসের সিরিয়াল নম্বরটি হুবহু কপি-পেস্ট (Write) করে দেওয়া হয়। ফলে ফোনটি আসল মাদারবোর্ডের সিরিয়াল রিড করে সেই নকল পার্টসটাকেও স্ক্রিনে "Genuine Apple Part" হিসেবে প্রদর্শন করে।
আধুনিক ধরার উপায়
শুধুমাত্র আইফোনের নিজস্ব সেটিংসের ওপর শতভাগ ভরসা করবেন না। ফোনটি কেনার সময় সম্ভব হলে একটি ল্যাপটপে 3uTools বা iMazing সফটওয়্যার ইনস্টল করে ডেটা ক্যাবলের মাধ্যমে ফোনটি কানেক্ট করুন এবং এর সম্পূর্ণ "Verification Report" চেক করুন। এটি মাদারবোর্ডের আসল সিরিয়াল নম্বরের সাথে প্রতিটি পার্টসের ফ্যাক্টরি সিরিয়াল মিলিয়ে নিখুঁত ও সত্য রিপোর্ট আপনার সামনে তুলে ধরবে।
ডুপ্লিকেট ডিসপ্লে ও ফেক ট্রু টোন (Fake True Tone)
আইফোনের অরিজিনাল ডিসপ্লে পরিবর্তন করা হলে সাধারণত এর ‘True Tone’ অপশনটি চিরতরে গায়েব হয়ে যায়। কিন্তু এখন অসাধু চক্র অরিজিনাল ডিসপ্লে চিপের ডেটা কপি করে ডুপ্লিকেট বা নকল ডিসপ্লেতেও ট্রু টোন অপশনটি অ্যাক্টিভেট করে রাখছে। এছাড়া আইফোন ১৩ প্রো বা তার পরবর্তী মডেলগুলোর ১২০ হার্জের (ProMotion) প্রিমিয়াম ডিসপ্লে বদলে ভেতরে সস্তা ৬০ হার্জের প্যানেল লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।
আধুনিক ধরার উপায়
Control Center-এ গিয়ে ব্রাইটনেস বারটি চেপে ধরে শুধু True Tone অন-অফ হচ্ছে কি না তা দেখবেন না, বরং ডিসপ্লের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং স্ক্রিন স্ক্রল করার সময় এর মসৃণতা (Refresh Rate) গভীরভাবে খেয়াল করুন। ওলেড (OLED) ডিসপ্লের জায়গায় সস্তা এলসিডি (LCD) লাগানো হলে স্ক্রিনের চারপাশের বেজেল বা কালো বর্ডারটি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা মোটা দেখাবে।
ব্যাটারি হেলথ বুস্টিং (Battery Health Boosting)
ব্যবহৃত আইফোনের বাজারে ব্যাটারি হেলথ ৮০%-এর নিচে থাকলে সাধারণ ক্রেতারা সেই ফোন কিনতে চান না। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা বিশেষ হার্ডওয়্যার ডিভাইস দিয়ে ব্যাটারির আসল হেলথ (যা হয়তো বাস্তবে ৭৫%) বুস্ট করে সাময়িকভাবে ৯০% বা ৯৫% বানিয়ে দেয়। এই ফোন কেনার মাত্র কয়েকদিন পরেই ব্যাটারি হেলথ হুট করে ১০-১৫% পর্যন্ত ড্রপ করে।
আধুনিক ধরার উপায়
আইফোনের ব্যাটারির চার্জিং সাইকেল (Cycle Count) চেক করুন। যদি দেখেন ব্যাটারি হেলথ ৯৫%, কিন্তু চার্জিং সাইকেল ৭০০ বা ৮০০-এর ওপরে, তবে নিশ্চিত বুঝবেন ব্যাটারি হেলথ বুস্ট করা বা ফেক। আইফোন ১৫ বা তার পরবর্তী মডেলগুলোতে সরাসরি Settings > Battery- তেই সাইকেল কাউন্ট দেখা যায়। এর পূর্ববর্তী পুরোনো মডেলের সাইকেল কাউন্ট দেখতে ল্যাপটপে 3uTools ব্যবহার করুন।
ফিজিক্যাল ই-সিম রূপান্তর ও ক্যারিয়ার লক (Hardware Drilling)
আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক আইফোন (বিশেষ করে আইফোন ১৪ ও তার পরবর্তী মডেলগুলো) শুধুমাত্র eSIM সমর্থিত হওয়ায় সেগুলোতে কোনো ফিজিক্যাল সিম স্লট থাকে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই ফোনগুলোর বডি ড্রিল (কেটে) করে মাদারবোর্ডে সস্তা চাইনিজ সিম ট্রে বসিয়ে "ফিজিক্যাল সিম সমর্থিত" বলে বিক্রি করছে, যা ফোনের মাদারবোর্ডের স্থায়ী ক্ষতি করে। পাশাপাশি এগুলো ক্যারিয়ার লকড (Carrier Locked) বা চোরাই ফোন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আধুনিক ধরার উপায়
Settings > General > About-এ গিয়ে Carrier Lock অপশনটি দেখুন। সেখানে অবশ্যই "No SIM restrictions" লেখা থাকতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট অপারেটরের নাম থাকে, তবে সেই ফোনে বাংলাদেশের সিম চলবে না। এছাড়া ফোনের মডেল নম্বরের প্রথম অক্ষরটি খেয়াল করুন—
'M' মানে রিটেল (অফিসিয়াল নতুন কেনা ডিভাইস)
'F' মানে অ্যাপল কর্তৃক রিফারবিশড (Refurbished) ডিভাইস
'N' মানে অফিসিয়াল রিপ্লেসমেন্ট (Replacement) ডিভাইস।
ফেস আইডি ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সিল নষ্ট
ফেস আইডি (Face ID) বা টাচ আইডি নষ্ট থাকলে সেই আইফোনের বাজারমূল্য ও কার্যকারিতা অর্ধেক হয়ে যায়। অনেক সময় মাদারবোর্ডের সূক্ষ্ম কাজের কারণে বা ফোনে পানি ঢোকার ফলে ফেস আইডি চিরতরে ডেড হয়ে যায়। এছাড়া ফোন একবার যেকোনো কারণে খোলা হলে এর ভেতরের ওয়াটারপ্রুফ গাম বা সিলটি নষ্ট হয়ে যায়।
আধুনিক ধরার উপায়
ফেস আইডি নতুন করে সেটআপ করে শতভাগ পরীক্ষা করার পাশাপাশি ফোনের সিম ট্রে-টি পুরোপুরি খুলুন। এরপর স্লটের ফাঁকা অংশ দিয়ে মুখের সাহায্যে ভেতরে হালকা ফু দিয়ে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন বাতাস সহজেই ভেতরে চলে যাচ্ছে এবং কোনো বাধা পাচ্ছে না, তবে বুঝবেন ফোনটি আগে খোলা হয়েছিল এবং এর ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স গাম বা সিলটি আর অক্ষত নেই।
টাকা দেওয়ার আগে চূড়ান্ত দুটি ধাপ (মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট)
ওপরের সবগুলো বিষয় যদি আপনার কাছে ঠিকঠাক মনে হয়, তাহলে বিক্রেতার হাতে টাকা তুলে দেওয়ার ঠিক আগে নিচের দুটি শেষ ধাপ অবশ্যই সম্পন্ন করুন—
ধাপ ১ (ফ্যাক্টরি রিসেট ও অ্যাক্টিভেশন)
বিক্রেতার সামনেই ফোনটি Settings > General > Transfer or Reset iPhone থেকে Erase All Content and Settings দিয়ে সম্পূর্ণ ফ্যাক্টরি রিসেট দিন। এরপর আপনার নিজের সচল সিম কার্ডটি ফোনে ঢুকিয়ে এবং ওয়াই-ফাই কানেক্ট করে ফোনটি স্ক্রিন গাইডলাইন অনুযায়ী নতুন করে চালু (Activate) করুন। ফোনটি যদি সফটওয়্যার দিয়ে বাইপাস করা থাকে বা আইক্লাউড লক (iCloud Lock) থাকে, তবে এই ধাপে এসে আটকে যাবে এবং জালিয়াতি ধরা পড়বে।
ধাপ ২ (আইএমইআই ব্ল্যাকলিস্ট চেক)
ফোনের ডায়াল প্যাডে *#06# চেপে IMEI নম্বরটি সংগ্রহ করুন। এটি অ্যাপলের অফিশিয়াল সাইটে (checkcoverage.apple.com) চেক করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যেকোনো ‘Blacklist Checker’ বা ‘IMEI Info’ ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিন ফোনটি আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া, হারিয়ে যাওয়া বা কোনো অপরাধের কারণে ব্লকড করা কি না।
/আশিক
চাঁদে এবার চীনের রোবট সেনা: যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে হিউম্যানয়েড প্রযুক্তির চমক
চাঁদ জয়ের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলতে এবার এক অনন্য হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীন। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানীদের তৈরি এই রোবটটি মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর চীনা মহাপরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ২০২৯ সালের ‘চাং-ই-৮’ অভিযানে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন ও স্থাপনের জটিল কাজগুলো সম্পন্ন করবে।
প্রায় ১০০ কেজি ওজনের এই রোবটটির উপরের অংশ মানুষের মতো হলেও নিচের অংশে রয়েছে চার চাকার বিশেষ মডিউল, যা সৌরশক্তিতে চলবে। এটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পন্ন, যার ফলে রোবটটি নিজে থেকেই বস্তু শনাক্ত করতে এবং সেটির গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবে। কাজের শুরুতেই নিজের পরিকল্পনা নিজে সাজানোর সক্ষমতা থাকায় এটি চাঁদের বন্ধুর পরিবেশে নভোচারীদের আগেই যন্ত্রপাতি সাজিয়ে রাখার কাজ করবে।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাসা তাদের ‘আর্টেমিস ফোর’ অভিযানের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিলেও কারিগরি জটিলতা ও স্পেস এক্স-এর স্টারশিপ প্রজেক্টের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিচ্ছে। নাসার সাবেক প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইনও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত অগ্রগতি না হলে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের পেছনে পড়ে যেতে পারে। চীনের এই রোবট প্রযুক্তি সেই সংকেতই দিচ্ছে।
/আশিক
কেন দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে আপনার শখের আইফোন? ভুলেও যে কাজগুলো করবেন না
বর্তমান সময়ে আইফোন কেবল উচ্চবিত্তের শৌখিন সামগ্রী নয়, বরং সহজলভ্যতার কারণে অনেক সাধারণ ব্যবহারকারীর হাতেও এই ডিভাইসটি দেখা যাচ্ছে। তবে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে আইফোন ব্যবহারকারীদের একটি বড় দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিভাইসের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া বা ওভারহিটিং সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই কৌতুক করে ফোন ঠান্ডা করতে ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দিলেও, বাস্তবে এমন কাজ ফোনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। মূলত অতিরিক্ত তাপমাত্রা ফোনের কার্যক্ষমতা বা পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয় এবং ব্যাটারি স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আইফোন অতিরিক্ত গরম হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। সরাসরি সূর্যের আলো বা তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলে এর তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ফোনে চার্জ থাকা অবস্থায় একটানা গেম খেলা বা ভারী কোনো অ্যাপ ব্যবহার করলে প্রসেসরের ওপর চাপ পড়ে, যা ডিভাইসটিকে উত্তপ্ত করে তোলে। পাশাপাশি ফোনে একসঙ্গে ব্লুটুথ, জিপিএস, ওয়াইফাই এবং উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম বা অ্যাপ চালু থাকলেও হিটিং সমস্যা প্রকট হতে পারে। মূলত ডিভাইসের হার্ডওয়্যার যখন অতিরিক্ত প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করে, তখনই তাপ উৎপন্ন হয়।
ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, ডিভাইসটি উত্তপ্ত অনুভূত হলে দ্রুত সেটিকে সরাসরি রোদের আড়াল করে কোনো ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে সরিয়ে রাখুন। ফোনের সাথে যদি খুব মোটা বা ভারী কোনো কাভার ব্যবহার করেন, তবে সেটি খুলে ফেলুন; কারণ ভারী কাভার ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপ বের হতে বাধা দেয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিন এবং প্রয়োজনে 'লো পাওয়ার মোড' চালু করুন, যা ফোনের প্রসেসিং গতি কমিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে ফোন ঠান্ডা করার ক্ষেত্রে কিছু প্রচলিত ভুল পদ্ধতি এড়িয়ে চলা একান্ত প্রয়োজন। ফোন কখনোই ফ্রিজে রাখা বা পানিতে ভেজানো যাবে না; এতে ডিভাইসের ভেতরে জলীয় বাষ্প জমে সার্কিট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ফোন গরম থাকা অবস্থায় সরাসরি চার্জে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ চার্জিং প্রক্রিয়া নিজেই তাপ উৎপন্ন করে যা বিপদজনক হতে পারে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতনতাই পারে আপনার মূল্যবান আইফোনটিকে ওভারহিটিং সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখতে।
/আশিক
স্ক্রিন আসক্তিতে বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা: সুস্থ থাকতে আজই বদলান এই অভ্যাস
সকালের শুরুটা এখন অনেকের জন্য একই—ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই হাতে ফোন, তারপর মেসেজ, নোটিফিকেশন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তহীন স্ক্রল। দিন শেষে এর পরিণাম চোখ জ্বালা, মাথা ভার আর অকারণ অস্থিরতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা বর্তমানে সম্ভব না হলেও, সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে এই ডিজিটাল ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
১. দিনের শুরু হোক প্রযুক্তিহীন
ঘুম থেকে উঠেই ফোন ধরার অভ্যাসটি আজই ত্যাগ করুন। দিনের প্রথম এক ঘণ্টা নিজের জন্য রাখুন। হালকা ব্যায়াম, জানালার আলো উপভোগ করা বা এক কাপ চা দিয়ে দিন শুরু করলে মন শান্ত থাকে এবং কর্মস্পৃহা বাড়ে।
২. ২০-২০-২০ নিয়ম ও কাজের বিরতি
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। তাই প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পর কয়েক মিনিটের বিরতি নিন। চোখের চিকিৎসকদের মতে, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি শিথিল হয়।
৩. নোটিফিকেশনের দাসত্ব থেকে মুক্তি
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। বারবার ফোন চেক করার প্রবণতা কমলে মনোযোগ বাড়ে এবং অকারণ মানসিক চাপ কমে যায়। ফোনকে আপনার নিয়ন্ত্রণে রাখুন, আপনি ফোনের নিয়ন্ত্রণে যাবেন না।
৪. ডিজিটাল ডিটক্স ও ঘুম
ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ বন্ধ করে দিন। স্ক্রিনের নীল আলো বা 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে ঘুমের মান নষ্ট করে। এর বদলে বই পড়ার অভ্যাস শরীর ও মনকে গভীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত করবে।
৫. অফলাইন সংযোগের গুরুত্ব
অনলাইনের ভার্চুয়াল জগতের বাইরেও একটি সুন্দর জীবন আছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই বাস্তব সংযোগগুলোই প্রকৃত প্রশান্তি এনে দেয়।
৬. ডিভাইসমুক্ত এলাকা (No-Device Zone)
শোবার ঘর বা ডাইনিং টেবিলের মতো নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করুন। এটি জীবনে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করবে এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাহায্য করবে। সচেতন ব্যবহারই পারে আমাদের জীবনকে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে।
/আশিক
অ্যাপ নামালেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ! সাইবার দস্যুদের নতুন কৌশলে দিশেহারা মানুষ
ডিজিটাল নিরাপত্তার চরম সংকটে সাধারণ মানুষ। গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, হ্যাকাররা এখন ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে মানুষের ফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। প্রতারকরা সাধারণত ফোনে একটি আকর্ষণীয় এসএমএস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে বিশেষ কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে প্ররোচনা দেয়।
ওই অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করার সাথে সাথেই ফোনের স্ক্রিন কালো বা ‘ব্ল্যাক’ হয়ে যায়। ব্যবহারকারী কোনো বাটন চেপে ফোনটি সচল করতে পারেন না, আর ঠিক এই সুযোগেই হ্যাকাররা ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে ওটিপি (OTP) ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে।
অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ‘এনবি’ নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেছিলেন পিংকি নামের এক নারী। অ্যাপটি ইনস্টল করার পরপরই তার ফোন হ্যাং হয়ে স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফোনে মেসেজ আসে যে, তার অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সৌম্য কান্তি দাশ। তিনি জানান, তার স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপে ঢোকার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ফোন ব্ল্যাক হয়ে যায় এবং স্ক্রিনে ‘সিস্টেম আপডেটিং’ লেখা দেখায়। কোনো বাটন কাজ না করায় তিনি কিছুই করতে পারেননি, আর এই সময়ের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেয় হ্যাকাররা।
ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, হ্যাকাররা এমনভাবে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যে, ব্যাংকিং সিস্টেমে মনে হয় ব্যবহারকারী নিজেই লেনদেন করছেন। তদন্তে দেখা গেছে, এই চুরির টাকা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে ঘুরে প্রতারক চক্রের অন্য অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, এই শক্তিশালী হ্যাকিং চক্রের কার্যক্রম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। চক্রটিকে শনাক্ত করতে সাইবার ইউনিট বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইট বা থার্ড পার্টি সোর্স থেকে কখনোই অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। বিশেষ করে যারা ফোনে নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন করেন, তাদের ফোনে কোনো ধরনের ‘ফ্রি গেম’ বা ‘ফ্রি অ্যাপ’ না রাখাই ভালো। যদি ভুলবশত কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক হয়ে যায় বা স্ক্রিন ব্ল্যাক হতে শুরু করে, তবে বিলম্ব না করে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ (ওয়াইফাই বা ডেটা) বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর
৫ মিনিটে ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ করার উপায়: রাউটার রাখুন সঠিক জায়গায়
দামী ইন্টারনেট প্যাকেজ বা হাই-কনফিগারেশনের রাউটার কিনলেই ইন্টারনেটের গতি ভালো পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাউটার বসানোর জায়গাটিই এখানে মূল ফ্যাক্টর। ওয়াইফাই সিগন্যাল মূলত রেডিও ওয়েভ, যা চোখে দেখা না গেলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় বাধাগ্রস্ত হয়। দূরত্ব, দেয়াল, আসবাবপত্র বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কারণে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আপনার ব্রাউজিং বা গেমিং এক্সপেরিয়েন্সকে ধীর করে দেয়।
যেসব জায়গায় রাউটার রাখা ইন্টারনেটের জন্য ‘বিষ’
১. টিভির পেছনে বা খুব কাছে
স্মার্ট টিভির ধাতব অংশ ওয়াইফাই সিগন্যালকে শুষে নেয়। টিভির পাশে বা পেছনে রাউটার রাখলে সিগন্যাল ড্রপ হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
২. বন্ধ আলমারি বা ড্রয়ারের ভেতর
ঘরের সৌন্দর্য রক্ষায় আমরা অনেকেই রাউটারকে ক্যাবিনেট বা আলমারির ভেতর লুকিয়ে রাখি। এতে সিগন্যাল ঠিকমতো ছড়াতে পারে না।
৩. অন্য তলায় বা মেঝেতে
ওয়াইফাই সিগন্যাল সাধারণত ওপর থেকে নিচে ছড়ায়। তাই মেঝেতে বা কার্পেটের ওপর রাউটার রাখলে এর অর্ধেক সিগন্যাল মেঝেই শুষে নেয়।
৪. অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাশে
ওভেন, মাইক্রোওয়েভ বা ব্লুটুথ ডিভাইস যেসব ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে, তা ওয়াইফাই সিগন্যালে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।
সিগন্যাল শক্তিশালী করার গোপন কৌশল
রাউটার রাখার আদর্শ জায়গা হলো ঘরের একদম মাঝখানের কোনো একটি উঁচু এবং খোলা জায়গা। বিশেষজ্ঞরা রাউটারকে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতায় কোনো সেলফে রাখার পরামর্শ দেন। জানালা বা দরজার খুব কাছে রাউটার রাখবেন না, কারণ এতে সিগন্যাল ঘরের বাইরে চলে যায়। আর যদি রাউটারে একাধিক অ্যান্টেনা থাকে, তবে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে (একটি সোজা, অন্যটি কাত করে) মুখ করে রাখলে ঘরের কোণায় কোণায় সমানভাবে ইন্টারনেট পৌঁছাবে।
সূত্র: জিও নিউজ
চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন
চ্যাটজিপিটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযুক্তি টুল হলেও এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু অলঙ্ঘনীয় সুরক্ষা দেয়াল। বিশেষ করে অপরাধ ও সহিংসতা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নে চ্যাটজিপিটি সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকার করে।
যেসব তথ্য সরাসরি মানুষের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করতে পারে, সেই ধরনের কোনো নির্দেশনা এই এআই থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিল এমন খবর আসার পর সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে যে, এআই কি তবে অপরাধেও সাহায্য করছে? বাস্তবতা হলো, চ্যাটজিপিটির প্রোগ্রামিং এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি অস্ত্র তৈরি, বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার বা আত্মহানির মতো বিপজ্জনক বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদান না করে। বরং এমন কোনো ইনপুট পেলে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্কতা বা পেশাদার সহায়তার পরামর্শ দেয়।
নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’র ক্ষেত্রেও চ্যাটজিপিটি অত্যন্ত কঠোর। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর, ঠিকানা, ব্যাংক তথ্য কিংবা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল ডেটা শেয়ার করে না। একইভাবে ভুয়া খবর তৈরি, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো কিংবা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরিতেও এটি সহযোগিতা করে না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল বা অপপ্রচারমূলক বার্তা তৈরির বিষয়ে চ্যাটজিপিটির ওপর বিধি-নিষেধ রয়েছে।
মূলত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই সীমাবদ্ধতাগুলো তৈরি করা হয়েছে। তবে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে সাধারণ তথ্য সংগ্রহ করে সেটিকে অপরাধমূলক কাজে অপব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে টুলটির চেয়ে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যই বেশি দায়ী। তাই প্রযুক্তির এই যুগে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি পরিবার ও শিশুদের ব্যবহারের ওপরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।
সূত্র: মিডিয়াম, চ্যাটজিপিটি পলিসি
মহাবিশ্বের পঞ্চম শক্তির সন্ধান! সৌরজগতেই মিলতে পারে রহস্যময় নতুন বলের খোঁজ
মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের সামনে এখন এক নতুন দিগন্ত। পরিচিত চারটি প্রাকৃতিক শক্তির বাইরেও মহাবিশ্বে থাকতে পারে এক রহস্যময় ‘পঞ্চম বল’ (Fifth Force)। নাসা ও হাঙ্গেরির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই শক্তির অস্তিত্বের প্রমাণ হয়তো আমাদের নিজেদের সৌরজগতেই লুকিয়ে আছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে মহাবিশ্বের সবকিছুকে চারটি মৌলিক বল—মহাকর্ষ, তড়িৎচুম্বকত্ব, শক্তিশালী পারমাণবিক বল ও দুর্বল পারমাণবিক বল—দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তবে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জির মতো জটিল রহস্যগুলো এই চারটি বল দিয়ে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী স্লাভা জি তুরিশেভ মনে করেন, সৌরজগতের ভেতরে সূক্ষ্ম ও আধুনিক পরীক্ষা চালালে এই পঞ্চম বলের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ২০১৫ সালে হাঙ্গেরির গবেষণায় পাওয়া ‘প্রোটোফোবিক এক্স বোসন’ কণা এবং সাম্প্রতিক মিউন (Muon) কণার অস্বাভাবিক আচরণ বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং গ্যালাক্সিগুলো কেন নির্দিষ্ট কাঠামোতে আটকে থাকে—তার সঠিক উত্তর মিলতে পারে এই পঞ্চম বলের মাধ্যমে। তাই এখন দূরের গ্যালাক্সির পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা আমাদের আপন সৌরজগতকেই এই রহস্যভেদের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হাদি হত্যা মামলার বাদী জাবের কেন? প্রশ্ন তুললেন বোন মাসুমা হাদি
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও মার্কিন সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় ধস
- দৌলতদিয়ায় ফের নদীতে বাস দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩৭ যাত্রী
- জেনে নিন আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার দর
- ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?
- পারকুল এলাকায় ৬ মাসের বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, পুলিশের উপস্থিতিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন
- এমপি হতে আওয়ামী লীগের সুবিধা নেন হান্নান মাসুদ: রাশেদ খান
- আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দিয়ে তাদের ফেরানোর পাঁয়তারা করছে সরকার: আসিফ মাহমুদ
- বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'
- ঢাকাসহ ৪৮ জেলায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ, তীব্র গরম কবে কমবে জানাল আবহাওয়া অফিস
- দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের রহস্যময় কাঠামো: হঠাৎ দেখা দিয়ে উধাও, তুঙ্গে উত্তেজনা
- ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়
- তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার
- কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলা
- টাকা ছাড়াও শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারে মিলল সোনা ও বিদেশি মুদ্রা
- কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দেবিদ্বারের সড়ক আবারও রক্তাক্ত: বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫
- হাদি খুন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল
- প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার
- ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে একটু আস্তে গুলি চালানো: ট্রাম্প
- মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির
- তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুৎ: ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধিতে সংসার চালানোয় টান
- বিএনপির পক্ষ থেকে যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ
- দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং
- ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ০০৭: জেমস বন্ড সেজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- দেশের ৪ অঞ্চলে আজ দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- জেনে নিন আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ
- স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার দরপতন, নতুন দাম কার্যকর করল বাজুস
- হাদির খুনিদের বাঁচাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল, মমতার মন্তব্যে নতুন মোড়
- আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন
- জেনে নিন আজ বৃহস্পতিবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
- ঢাকার শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড
- দেশের ৯ অঞ্চলে আজ রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় সবার আগে আমি বুক পেতে দেবো: জামায়াত আমির
- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় ভাই ওমর হাদির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে
- প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
- আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- জুড়ীতে ভয়াবহ বজ্রপাত: ১৩টি গরু ও ১টি মহিষের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ








