ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৩৪:০৬
ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ১৪৪৭ হিজরি সালের নতুন মাস গণনায় গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এসেছে। দেশের কোথাও গতকাল (১৮ এপ্রিল) জিলকদ মাসের চাঁদ দৃশ্যমান না হওয়ায় ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। এর ফলে আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিলকদ মাস শুরু হবে বলে নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুসারে, প্রতিটি মাসের সূচনা নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। যেহেতু শনিবার দেশের আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যায়নি, তাই রবিবার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় সোমবার থেকে নতুন মাস জিলকদ শুরু হচ্ছে, যা মুসলিম বিশ্বে হজের পূর্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচিত।

জিলকদ মাস শেষ হওয়ার পর শুরু হবে জিলহজ, যা ইসলামের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মাস। কারণ এই মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, যদি জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হয়, তাহলে ১৯ মে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, জিলকদ মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হলে ঈদ উদযাপিত হবে ২৯ মে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জিলকদ মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি চারটি সম্মানিত মাসের একটি, যেগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ পরিহার ও ইবাদতে মনোযোগ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। ফলে এই মাসকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত-বন্দেগির আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।

-রফিক


ফ্যামিলি কার্ডে গরিবদের বঞ্চিত করে আমলারা অন্যায় করেছেন: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ২১:৩৮:১২
ফ্যামিলি কার্ডে গরিবদের বঞ্চিত করে আমলারা অন্যায় করেছেন: ডেপুটি স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রকৃত গরিব ও দুস্থদের বঞ্চিত করে আমলারা চরম অন্যায় করেছেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ রোববার (১৭ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘চাষাভূষার সন্তান’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয় শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। আমলাতান্ত্রিক এই অনিয়মের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ দেন।

হাওড় অঞ্চলের সামগ্রিক নৈরাজ্য ও টেকসই উন্নয়নের অভাব নিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে হাওড় অঞ্চল নিয়ে কোনো রাষ্ট্রীয় বা বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। মৎস্য চাষ ও জলমহাল উন্নয়নের নামে প্রভাবশালী মহলের কাছে ইজারা বা লিজ দিয়ে হাওড়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের এক ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওড়ের ক্ষয়ক্ষতির যে সরকারি তালিকা তৈরি করা হয়, তা বাস্তবে প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে তিন গুণ বেশি বাড়িয়ে দেখানো হয়। এই তালিকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবে ব্যাপক ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন তিনি।

হাওড় অঞ্চলের এই পুঞ্জীভূত সমস্যা, দুর্নীতি এবং প্রকৃত কারণ নির্ধারণের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ গঠনের জোর দাবি জানান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেমিনারে উপস্থিত দেশের বিশিষ্ট গবেষক ও অন্যান্য বক্তারা দেশের হাওড় অঞ্চলের কৃষক, চাষী ও জেলেদের চলমান দুঃখ-দুর্দশা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

/আশিক


বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাইয়ের ট্যাক্সি কোম্পানি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১৭:১৮:২২
বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাইয়ের ট্যাক্সি কোম্পানি
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরেই বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৬ হাজার পেশাদার ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইভিত্তিক একটি স্বনামধন্য ট্যাক্সি কোম্পানি। আজ রোববার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে কোম্পানিটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই বিশাল কর্মসংস্থানের ঘোষণা দেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকেই ঢাকার বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিকেটিটিসি) শুরু হচ্ছে যোগ্য চালক বাছাইয়ের মূল ইন্টারভিউ কার্যক্রম।

সাক্ষাৎকার সভায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাঁদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮ হাজার কর্মীই বাংলাদেশি।

বাংলাদেশি চালকদের সততা, পরিশ্রম ও অসাধারণ দক্ষতার কারণে এবারও নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বাংলাদেশি নারী চালকরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ট্যাক্সি ড্রাইভিং পেশায় যুক্ত আছেন বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। প্রতিনিধিদল জানায়, চলমান বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ১ হাজার ৫০০ জন চালকসহ চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মোট ৬ হাজার চালককে দুবাইতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দুবাইতে যাওয়ার পর চালকদের প্রশিক্ষণকালীন সময়ের জন্য উপযুক্ত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করতে এবং ড্রাইভারদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের জন্য ইউএই প্রতিনিধিদলকে বিশেষ অনুরোধ জানান।

সভায় উপস্থিত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর অভিবাসন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষরা ঋণ করে বিদেশে যান। তাই সাধারণ কর্মীদের সুবিধার্থে দালালের দৌরাত্ম্য কমিয়ে এবং সব খরচ মিলিয়ে অভিবাসন ব্যয় যেন কোনোভাবেই এক লাখ টাকার ওপরে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ দৃষ্টি রাখার তাগিদ দেন তিনি।

/আশিক


নীতি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক মান ছাড়া চামড়া শিল্পের টেকসই বিকাশ অসম্ভব: শিল্পমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১১:৪৪:০৫
নীতি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক মান ছাড়া চামড়া শিল্পের টেকসই বিকাশ অসম্ভব: শিল্পমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

সাভারের ট্যানারি শিল্পাঞ্চলে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স অর্জন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই কঠোর নির্দেশনা দেন। চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

টাস্কফোর্সের সভায় শিল্পমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে মর্যাদার আসনে বসাতে হলে সাভার ট্যানারি পল্লীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাভারের ট্যানারি শিল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন বা লোডশেডিং ঘটতে দেওয়া যাবে না। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।

এ খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে মন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রদান করা হয়। শিল্পমন্ত্রী মনে করেন, দেশের অন্যতম প্রধান এই রপ্তানি আয়ের খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শতভাগ আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা অপরিহার্য।

/আশিক


ঈদযাত্রার শেষ দিন ২৭ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১১:২৯:৫৯
ঈদযাত্রার শেষ দিন ২৭ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে—এমন সম্ভাব্য তারিখ ধরে নিয়ে আজ রোববার (১৭ মে) থেকে ঈদযাত্রার শেষ দিন অর্থাৎ ২৭ মে’র আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বরাবরের মতোই স্টেশনের দীর্ঘ লাইন ও কালোবাজারি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে (রেলওয়ের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে) বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই লাখ লাখ উৎসবমুখী মানুষ রেলের পোর্টালে ভিড় জমিয়েছেন।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে আজ সকাল ৮টা থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনের টিকিট বুকিং। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগের ৫ দিনের অগ্রিম টিকিট ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে; যার শেষ দিন আজ। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে যদি ঈদ একদিন পিছিয়ে যায়, তবে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র ট্রেনের টিকিট পরবর্তী সময়ে নতুন সূচিতে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীদের সুবিধার্থে রেলওয়ে জানিয়েছে, কালোবাজারি রুখতে একজন যাত্রী ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট সর্বোচ্চ একবারই কিনতে পারবেন এবং একটি নিবন্ধিত আইডিতে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট মিলবে। এই বিশেষ টিকিট কোনোভাবেই রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য নয়। তবে যারা অনলাইনে টিকিট পাবেন না, সেইসব সাধারণ ও কর্মজীবী যাত্রীদের জন্য যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হবে।

/আশিক


আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল: ২০২৬-২৭ বাজেটে মিলবে প্রাথমিক রূপরেখা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২১:৫৪:১০
আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল: ২০২৬-২৭ বাজেটে মিলবে প্রাথমিক রূপরেখা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

একসঙ্গে বিশাল অঙ্কের আর্থিক চাপ এড়াতে সরকার নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দ রাখার বিষয়ে কাজ চলছে। প্রথম ধাপে কেবল কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে।

পরবর্তীতে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এই মেগা বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল কার্যকরের পর গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি হিমশিম খাচ্ছেন। এই তীব্র চাপ সামলাতে তাঁরা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক নজরে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল

গ্রেড ১: ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)

গ্রেড ২ থেকে ৫: সর্বোচ্চ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বেতন স্কেল সর্বনিম্ন ৮৬,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১,৫৩,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্রেড ৬ থেকে ১০: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের স্কেল সর্বনিম্ন ৩২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১,৩৪,০০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

গ্রেড ১১ থেকে ১৫: মধ্যম সারির কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ২২,৮০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০,৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাবিত।

গ্রেড ১৬ থেকে ২০: নিম্ন আয়ের বা সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রারম্ভিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০,০০০ টাকা, যা ভাতাসহ সর্বোচ্চ ৫২,৯০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত হবে।

/আশিক


ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভুগছে ভারতও, ব্যারাজ ভাঙার দাবি খোদ সে দেশে: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৮:৩২:৩৬
ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভুগছে ভারতও, ব্যারাজ ভাঙার দাবি খোদ সে দেশে: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং ভারতের ভেতরেও তীব্রভাবে পড়ছে এবং সে দেশের অনেক রাজনীতিবিদই এখন এই ব্যারাজ ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পানি ও পরিবেশ সংকটের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করবো না, তবে দাসত্বের শৃঙ্খলেও আটকে থাকবো না।" আঞ্চলিক সহাবস্থান বজায় রাখলেও দেশের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসেই ঐতিহাসিক ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের পানি সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের পানিবণ্টন সমস্যার একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, গঙ্গার পানির অধিকার আদায়ে এবার আর কোনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তি করা প্রয়োজন। একই সাথে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অববাহিকার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সরকারের 'পদ্মা ব্যারাজ' নির্মাণের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পেতে ২০ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করায় দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ, প্রকৃতি ও কৃষি খাত মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এর প্রতিবাদে এবং পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা আজও বাংলাদেশের পানির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।

/আশিক


আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৮:২৮:১১
আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারে ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।"

দেশের খাদ্য সংকট নিরসন এবং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে সমগ্র দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। শাহরাস্তির এই খোর্দ্দ খালটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে; এটি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করেছিলেন।

দীর্ঘ ৪২ বছর পর ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া ১৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পুনর্খনন কাজ শুরু করায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জিয়াউর রহমানের শুরু করা সেই কাজের সূত্র টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদানের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব ওয়াদা পূরণ করা হবে।"

সমাবেশে তারেক রহমান বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জনগণই হচ্ছে সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন থাকলে দেশ গড়ার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন স্লোগান দেন—‘আমরা করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

এর আগে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফলক উন্মোচন করে খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পর তিনি নিজে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।

/আশিক


মেগা সফরে চাঁদপুর গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সড়কপথে যাত্রা শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১০:৪৯:১০
মেগা সফরে চাঁদপুর গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সড়কপথে যাত্রা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টার পর রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত একটি পথসভায় যোগ দেবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

দুপুর পৌনে দুইটায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই দুটি খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষিকাজ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ হবে। সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১১:২১:০১
নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন গ্রেডের প্রস্তাবিত বেতন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, আলোচনা এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয় ১৯৭৩ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো চালু করা হয়েছে। সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।

২০২৬ সালে এসে আবারও নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা সামনে আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আর্থিক সংস্থার মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি সম্ভাব্য বেতন কাঠামো, আর্থিক প্রভাব, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের সম্ভাব্য মূল বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে বেতন হতে পারে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার মধ্যে। তৃতীয় গ্রেডের জন্য সম্ভাব্য বেতন কাঠামো ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

চতুর্থ গ্রেডে বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

প্রস্তাবিত তালিকায় ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। অষ্টম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া নবম গ্রেডের জন্য সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। দশম গ্রেডে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডেও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। একাদশ গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত সব পর্যায়েই বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীরাও সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাজেট, রাজস্ব আয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: