বিএনপি সরকার হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১৪:৪৩:২৩
বিএনপি সরকার হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠ-এ আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে তারেক রহমান দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে যে রাষ্ট্র পরিচালনার সময় দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তার ভাষায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের সময়কালে দেশ দুর্নীতির কারণে পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করে এনেছিলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, আগামী বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেউ যদি দুর্নীতি বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দুর্নীতি দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিএনপির জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ যদি নিরাপদ না থাকে, তবে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই টেকসই হতে পারে না। নিরাপদ চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। অতীতে বিএনপি সরকার নিজেদের দলের লোকদের বিরুদ্ধেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হয়নি বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার অঙ্গীকার

জনসভায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও আবেগঘন ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চল তাঁর পরিবার ও বিএনপির ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তাঁর শাহাদাত বরণ করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার একটি বড় দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। খালেদা জিয়া এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। বিগত দেড় দশকে এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ব্যাংকিং, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

-রফিক


৯ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিকুর রহমান: আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৪৯:২৭
৯ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিকুর রহমান: আমির হামজা
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৯ দিন পর দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সদর আসনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নারীদের এক উঠান বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হ্যাকিং ও ক্ষমতার সমীকরণ মুফতি আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক হওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি একে 'চরিত্র হননের দুরভিসন্ধি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইতিপূর্বে বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে, তারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০০৯ সালে বারাক ওবামা এবং পরবর্তীতে জো বাইডেনের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কয়েকদিন পরই তাঁদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর এই ইতিহাসই বলে দিচ্ছে যে ডা. শফিকুর রহমানই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

মানবিক রাষ্ট্র ও নারী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আমির হামজা ডা. শফিকুর রহমানকে একজন মানবিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাঁর কাছে দল-মত, ধর্ম ও বর্ণের কোনো বিভেদ নেই। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে সবাই শান্তিতে থাকবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা যাতে ঘরে বসে হস্তশিল্পের মাধ্যমে আয় করে সংসারের হাল ধরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আসলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দ্বৈত ভোটের আহ্বান ও নিরাপত্তা নির্বাচনী প্রচারণায় মুফতি আমির হামজা ভোটারদের উদ্দেশ্যে দুটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ রক্ষায় এবং ফ্যাসিবাদ রুখতে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের পাশাপাশি 'হ্যাঁ' ভোট প্রদান করতে হবে। ৫৪ বছর ধরে মানুষের তৈরি বিধানে দেশে শান্তি আসেনি দাবি করে তিনি আল্লাহর বিধান কায়েমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কুষ্টিয়া জেলার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সন্ত্রাসীদের 'মাজা ভেঙে দেওয়া হবে' এবং মানুষ ঘরের দরজা খুলে ঘুমানোর মতো নিরাপত্তা ফিরে পাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিল্লি-কলকাতায় গোপন বৈঠক: ভারত থেকেই দল গোছাচ্ছেন শেখ হাসিনা 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৪১:৫৬
দিল্লি-কলকাতায় গোপন বৈঠক: ভারত থেকেই দল গোছাচ্ছেন শেখ হাসিনা 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী এবং শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থান করে দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নতুন কৌশল সাজাচ্ছেন। গত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশত্যাগী অন্তত ৬০০ জন নেতাকর্মী কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং দিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

দিল্লি ও কলকাতায় গোপন বৈঠক ও রাজনৈতিক তৎপরতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যোগাযোগ রাখছেন। কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে বৈঠক করা হচ্ছে। গত বছর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি সেই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভারত থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।

আসন্ন নির্বাচন বর্জন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করায় এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় দলটি এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, তাঁরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দাবি, তাঁদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে ভোটের গণতান্ত্রিক বৈধতা ক্ষুণ্ণ হবে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, এটি হবে গত এক দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

ভারতে অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, দেশে ফিরলে তাঁদের প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে এবং শত শত কর্মী দেশজুড়ে সহিংসতায় নিহত বা কারাবন্দী হয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচন ব্যর্থ হলে দেশে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হবে, তাতে জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে। তবে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ের মতো কেউ কেউ স্বীকার করেছেন যে, দলটির শাসনামল কর্তৃত্ববাদী ছিল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপোড়েন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার (প্রত্যর্পণ) অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখন পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে আসছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সমাবেশে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জনগণের প্রতি অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতের এই ভূমিকা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিগত শাসনের অভিযোগ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে গুম, গোপন বন্দিশালা (আয়নাঘর) এবং সংবাদমাধ্যম দমনের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনাকে দণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মান নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বর্তমান সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।


দুই দশক পর বরিশালে বিএনপির রাজকীয় শোডাউন: জনসমুদ্রে রূপ নিচ্ছে বেলস পার্ক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:২৮:২৫
দুই দশক পর বরিশালে বিএনপির রাজকীয় শোডাউন: জনসমুদ্রে রূপ নিচ্ছে বেলস পার্ক
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই দশক পর আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বরিশালে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় নগরের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে (বঙ্গবন্ধু উদ্যান) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা বরিশাল বিভাগে ব্যাপক রাজনৈতিক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

২০ বছর পর বরিশাল সফর ও প্রস্তুতি বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন। প্রায় ২০ বছর পর তাঁর এই আগমনে উপকূলীয় অঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। সফরটি সফল করতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বেলস পার্কে বিশাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক মাইকিং ও প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল অঞ্চলে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, বুধবারের জনসভা তাকে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করবে।

বরিশালের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ দাবি আজকের এই জনসভায় বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। স্থানীয় নেতারা তারেক রহমানের কাছে বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ভোলার গ্যাস বরিশালে এনে সংযোগ প্রদান ও ভারি শিল্প স্থাপন, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কুয়াকাটা কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে হাই-টেক পার্ক স্থাপন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতা তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরী ও জনসভাস্থলে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই বেলস পার্ক ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একজন ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের স্কেলিটন ডিউটি, সিটিএসবি, ডিবি এবং মোবাইল টহল টিম সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জনসভাস্থলের চারপাশের ভবনগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তারেক রহমান আজ বরিশাল সফর শেষে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এই ঝটিকা সফরের মধ্য দিয়েই নির্বাচনের আগে ঢাকার বাইরের প্রচারণার সমাপ্তি ঘটবে।


বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:৩৮:০৮
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। বিশ্লেষণে বলা হয়, এই নির্বাচন হবে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যখন ‘জেনারেশন জেড’-এর আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের অপশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও দুর্নীতির অবসান ঘটায়। সাময়িকীটির মতে, গণতন্ত্রে এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফেরাবে এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামত করতে সহায়ক হবে।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দ্য ইকোনমিস্ট-এর এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একই ধরনের বিশ্লেষণের পর। সাময়িকীটি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার অভাবনীয় দৃশ্য বর্ণনা করে লিখেছে, বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন ফিরছিলেন, তখন কয়েক মাইল জুড়ে অপেক্ষমাণ উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ের কারণে তাঁর বাসটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল, যেন সমর্থকেরা তাঁকে ভালোভাবে দেখতে পারেন। দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে যে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি এবং দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনোই প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএস-এর শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ দুই দশক পর সাধারণ মানুষের ভোটের মূল্য ফিরছে এবং রাজধানীর রাস্তাঘাট এখন নির্বাচনি ব্যানারে ছেয়ে গেছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধান করাই হবে শেষ দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষ একমত যে, এই সরকার সফলভাবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে যা নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সাহায্য করবে—যেমন একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সাময়িকীটি লিখেছে, দলটি নির্বাচিত হলে সব বাংলাদেশির জন্য সংযতভাবে শাসন করবে বলে দাবি করলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াত নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং আগে কখনও সংসদে ১৮টির বেশি আসন না পাওয়া দলটির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই সবকিছুই তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ তাঁর দল বিএনপি বর্তমানে জনমত জরিপে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

তারেক রহমান দ্য ইকোনমিস্টকে জানিয়েছেন যে, তাঁর সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও তিনি আশাবাদী। তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের বিচার হতে হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি করবেন না। তাঁর মতে, ‘প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না।’ পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই মানুষটিকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভিন্ন এবং পরিণত মনে হচ্ছে।

সূত্র: বাসস


রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৯:২২:৪৬
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অগ্রগতির বিষয়ে জানতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জামায়াত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দলটির প্রতিনিধি দল এই ঘোষণা দেয়।

অভিযোগের ধরণ ও হ্যাকিং বিতর্ক জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেলটি হ্যাক করার ক্ষেত্রে বঙ্গভবনের একটি ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। হ্যাক করার পর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নারী-বিদ্বেষমূলক বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা চালানো হয়, যা দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা বলে মনে করছে জামায়াত।

বঙ্গভবনে জামায়াতের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যায়। সেখানে তাঁরা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এই গুরুতর সাইবার অপরাধের প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার প্রমাণাদি তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দল থেকে বেরিয়ে সিরাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, বঙ্গভবনের মতো স্পর্শকাতর স্থানের ই-মেইল ব্যবহার করে এ ধরনের ঘটনা ঘটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাক্ষাৎ শেষে জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই ঘটনার তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিকে জানাতে হবে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক হওয়া এবং এতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ কার্যালয়ের ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।


আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৯:০০:২১
আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর
ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “তারেক রহমান যেহেতু বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছে, আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম।”

আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিয়ে নুরের সমীকরণ নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন যে, পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার, কর্মী-সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদকেই বেছে নেবে। তিনি মনে করেন, এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। নুর আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও চরমোনাইয়ের লোকজন আগামী নির্বাচনে আমাকে ভোট দেবে।”

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও আশ্রয়স্থল সংখ্যালঘু ভোটারদের আশ্বস্ত করে নুর বলেন, তারা অতীতে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, কিন্তু এখন তারা গণঅধিকার পরিষদের ছায়াতলে নিরাপদ বোধ করছেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এখন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তাঁর প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আমখোলার এই বিশাল জনসভায় স্থানীয় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে নুরের প্রতি সমর্থন জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম মস্তোফা, সদস্য সচিব মো. আলতাফ মাহমুদ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব মো. সাহেব আলী মাতুব্বর। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন হাফিজুর রহমান, ইখতিয়ার রহমান কবির, জাকির মুন্সী এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের আরিফ বিল্লাহসহ আরও অনেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, নুরের এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তিনি জোটের প্রার্থী হয়েও প্রতিপক্ষ দলের ভোটারদের টানার চেষ্টা করছেন।


 শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৮:২৮:৪৯
 শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ ধাপে আগামীকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বরিশাল ও ফরিদপুর সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন। এই সফরের মাধ্যমেই বিএনপি চেয়ারম্যানের ঢাকার বাইরের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হতে যাচ্ছে।

সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার বেলা ১১টায় আকাশপথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় তিনি বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক (বঙ্গবন্ধু উদ্যান) মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এরপর দুপুর ১টায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ২টায় ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত অপর এক জনসভায় অংশ নেবেন। প্রচারণা শেষ করে বুধবার বিকালেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

ঢাকার বাইরের প্রচারণার সমাপ্তি বরিশাল ও ফরিদপুর সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দেশব্যাপী দীর্ঘ নির্বাচনি সফর শেষ হচ্ছে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রচার অভিযান শুরু হয়েছিল। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও উপজেলাগুলোতে জনসভা করে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন।

নিরাপত্তা ও জনসভার প্রস্তুতি তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, জনসভা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে বিশাল এই সমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তাঁরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় ভলান্টিয়াররাও তৎপর রয়েছেন।


মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৭:৩৬:২০
মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চকরিয়ার কোনাখালীতে এক নির্বাচনী পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দলটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও নারী সমাজের অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আগামীতে হয়তো এমনও শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামী এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল।” তিনি উল্লেখ করেন যে, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ ইতিহাস বর্ণনার চেষ্টা করছে।

বিএনপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অস্বীকার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। সালাহউদ্দিনের ভাষ্যমতে, জামায়াত আমির দাবি করেছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যা এক ধরনের ‘প্রতারণা ও ভণ্ডামি’।

‘ভাড়াটে’ মুক্তিযোদ্ধা ও সাইনবোর্ড রাজনীতি সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে তাকে ‘ভাড়াটে’ সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। তবে দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এই রাজনৈতিক কৌশল কখনোই মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারী সমাজ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ নারীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি কর্মজীবী নারীদের অপমান করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা আসলে তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি সুগভীর পরিকল্পনা। নারীদের কল্যাণের নামে এটি আসলে তাদের সমাজ থেকে পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল।

পথসভায় কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৭:৩০:৫৭
পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চোরেরা ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা নিয়ে আসতে পারি। এই টাকা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের ৪ গুণ। পাচার হওয়া সেই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাচারকৃত অর্থ ফেরত ও বিচারের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুর রহমান পাচারকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করার দিন শেষ। তিনি ঘোষণা করেন, কেবল সম্পদ নয়, ওই চোরদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের ঘুম হারাম করে দেওয়া হবে। পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশের উন্নয়নে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন রাজনীতির ডাক ও নেতৃত্বের পরিবর্তন নির্বাচনকে ঘিরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং জাতির ভাগ্য সঠিক পথে দাঁড় করানোর নির্বাচন। স্বাধীনতার আগের ২৩ ও পরের ৫৪—এই দীর্ঘ ৭৭ বছরের পুরোনো রাজনীতি দেশের মানুষ আর চায় না। তিনি বলেন, “এদেশের মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী এবং মাটির নিচে ও পানির নিচে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভুল ও অসৎ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।”

পাসপোর্টের মর্যাদা ও জাতীয় পরিচয় দেশের পাসপোর্টের দুর্বল মান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে অনেক জায়গায় বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে নাগরিকরা লজ্জাবোধ করেন। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে, তারাই গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশকে এগোতে দেয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সম্মানিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জেলা আমির আব্দুল করিমসহ স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত প্রার্থীদের জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী নির্বাচনে ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

পাঠকের মতামত: