১৯ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ সামগ্রিকভাবে লেনদেন সক্রিয় থাকলেও কিছু নির্দিষ্ট শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিক্রয়চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ কোম্পানি ও কিছু উৎপাদন খাতভুক্ত শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়া, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা ঘিরে সতর্ক অবস্থান এবং কিছু শেয়ারের মৌলভিত্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা এই দরপতনের অন্যতম কারণ।
শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার (ক্লোজিং প্রাইস ও ওয়াইসিপি বিবেচনায়)
১. প্রাইম ফাইন্যান্স
দিনের সবচেয়ে বড় দরপতন দেখা গেছে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। শেয়ারটির ক্লোজিং মূল্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ টাকা, যা আগের দিনের ১ টাকা ০৮ পয়সা থেকে ৯.০৯ শতাংশ কম।
২. এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–১
এই ফান্ডের ইউনিট মূল্য কমে হয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। আগের দিনের তুলনায় দর কমেছে ৭.৫০ শতাংশ।
৩. জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি
স্বল্পমূল্যের এই শেয়ারটির দাম নেমে এসেছে ১ টাকা ৪০ পয়সায়। দিন শেষে দরপতনের হার ছিল ৬.৬৭ শতাংশ।
৪. ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স
বীমা খাতের এই শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের দিনের ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩.৭১ শতাংশ কম।
৫. জিল বাংলা সুগার মিলস
চিনি শিল্প খাতের এই শেয়ারের দর কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা ১০ পয়সা। দরপতনের হার ৩.৬৪ শতাংশ।
৬. শ্যামপুর সুগার মিলস
এই শেয়ারের দাম নেমে হয়েছে ১৩০ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের দিনের তুলনায় ৩.৪৮ শতাংশ কম।
৭. বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডস
ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের এই শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা। দরপতন হয়েছে ৩.২৪ শতাংশ।
৮. বিডি ল্যাম্পস
বিদ্যুৎ সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার নেমে এসেছে ১৪১ টাকা ৩০ পয়সায়। দর কমেছে ২.৮৯ শতাংশ।
৯. জাহিন স্পিনিং মিলস
বস্ত্র খাতের এই শেয়ারের দাম হয়েছে ৩ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের দিনের তুলনায় ২.৫০ শতাংশ কম।
১০. এপেক্স ফুডস
খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের এই শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৪২ টাকা ৫০ পয়সা। দিন শেষে দরপতনের হার ছিল ২.৪৯ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের দরপতন মূলত নির্বাচিত কিছু শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল। স্বল্পমূল্যের ফাইন্যান্স কোম্পানি ও কিছু শিল্প খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে বিক্রির দিকে ঝুঁকেছেন। তবে বাজারের সামগ্রিক লেনদেন ও অংশগ্রহণ দেখে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।
-রাফসান
১৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার লেনদেনে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। বাজারে মূল্য ও লেনদেন উভয় দিক থেকেই আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দিনের শুরু থেকেই বাজারে ক্রয়চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। লেনদেন শেষে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬৮টির দর বেড়েছে, ৭২টির দর কমেছে এবং ৫৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দরবৃদ্ধির এই বিস্তৃত চিত্র বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক মনোভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ক্যাটাগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়তা ছিল। এ ক্যাটাগরিতে ২১০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৩৬টির দর বেড়েছে এবং ৪২টির দর কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৫৬টি শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেলেও ১৫টির দর কমেছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও দরবৃদ্ধির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি ছিল, যা দুর্বল ভিত্তির শেয়ারেও স্বল্পমেয়াদি আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল ইতিবাচক ধারা। এই খাতে ২৩টি ফান্ডের দর বেড়েছে, মাত্র একটি ফান্ডের দর কমেছে এবং ১০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এতে বোঝা যায়, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও মিউচুয়াল ফান্ডে আগ্রহ বজায় রয়েছে।
দিনভিত্তিক লেনদেন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৩৬ বার। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৫২৮টি। আর মোট লেনদেন মূল্য ছিল প্রায় ৫ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই উচ্চ লেনদেন মূল্য বাজারে তারল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বাজার মূলধনের দিক থেকেও ডিএসইতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দিন শেষে ইক্যুইটি খাতে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায়। মিউচুয়াল ফান্ড ও ঋণপত্রসহ মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা বাজারের সামগ্রিক শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে।
এদিন ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। মোট ২৭টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। ব্লক লেনদেনে প্রায় ৩২৮ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। বড় অঙ্কের ব্লক লেনদেন সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা নির্দেশ করে, যা বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি মুনাফার প্রত্যাশায় খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলভিত্তি ও ঝুঁকি বিবেচনায় রাখা জরুরি। অল্প সময়ে অতিরিক্ত দরবৃদ্ধি হওয়া শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তারা।
সার্বিকভাবে, ১৯ জানুয়ারির লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, উচ্চ লেনদেন মূল্য এবং অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি বাজারের স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
-রাফসান
শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
সপ্তাহের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও ক্রয়চাপের ফলে একাধিক শেয়ারের দরে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে আগের কার্যদিবসের তুলনায় সর্বাধিক দরবৃদ্ধির তালিকায় উঠে এসেছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড ও উৎপাদন খাতভুক্ত বেশ কয়েকটি শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময় ঘিরে বাজারে আস্থার উন্নতি, কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি স্পেকুলেটিভ চাহিদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আংশিক সক্রিয়তা এই দরবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার (ক্লোজিং প্রাইস ও ওয়াইসিপি বিবেচনায়)
১. কেবিপি প্রোডাক্টস ওয়েলফেয়ার বিল
দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি হয়েছে এই শেয়ারে। শেয়ারটির ক্লোজিং মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের দিনের ৪৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৯.৯১ শতাংশ বেশি।
২. রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স
বীমা খাতের এই শেয়ারের দর বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা। আগের দিনের ৩০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৮৭ শতাংশ।
৩. এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড–১
মিউচুয়াল ফান্ড খাতের এ ইউনিটের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা, যা ৭.১৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
৪. এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড
লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি মূল্য হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ৭.০২ শতাংশ।
৫. এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক খাতের এই শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ২০ পয়সা। দিনশেষে দরবৃদ্ধি ৬.৪৪ শতাংশ।
৬. সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের এ শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিনের তুলনায় ৬.৩২ শতাংশ বেশি।
৭. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রথম বিনিয়োগ তহবিল
এই মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা। দরবৃদ্ধি হয়েছে ৬.২৫ শতাংশ।
৮. আইসিবি ইপিএমএফ–১ (সিরিজ–১)
ইউনিটপ্রতি দর বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা, যা ৫.৮৮ শতাংশ উত্থান নির্দেশ করে।
৯. সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা
পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের এই শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৭০ পয়সা। দরবৃদ্ধি ৫.১৪ শতাংশ।
১০. রিলায়েন্স ওয়ান ফান্ড
তালিকার দশম স্থানে থাকা এই ফান্ডের ইউনিট মূল্য হয়েছে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা, আগের দিনের তুলনায় ৪.৭৩ শতাংশ বেশি।
বাজার বিশ্লেষণ
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজকের লেনদেনে মিউচুয়াল ফান্ড ও বীমা খাত তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় ছিল। পাশাপাশি কিছু নির্বাচিত শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকরা বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
-রাফসান
ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ডেইলি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) প্রকাশের পর পুঁজিবাজারে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব কটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি বাজারদরভিত্তিক এনএভি অভিহিত মূল্য ১০ টাকার অনেক নিচে অবস্থান করছে, যদিও কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১১ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান শুধুই স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামার ফল নয়; বরং এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ঘাটতির প্রতিফলন।
ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ডে মূল্যচাপ প্রকট
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর এনএভি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটপ্রতি বাজারদরভিত্তিক এনএভি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ টাকা ৪০ পয়সা, যেখানে কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি ১১ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনায় ফান্ডটি প্রায় ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। ফান্ডটির মোট নিট সম্পদের বাজারমূল্য ১০৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কিছু বেশি।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংক এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড–এর ক্ষেত্রেও। ফান্ডটির বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৬ টাকা ৫২ পয়সা, যেখানে কস্ট প্রাইস ১১ টাকা ৩৪ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি আরও কমে ৬ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে, কস্ট প্রাইস ১১ টাকা ৫০ পয়সা থাকা সত্ত্বেও।
এ ছাড়া এবিবি প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৭ টাকা ২৩ পয়সা এবং প্রথম জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–এর এনএভি ৬ টাকা ০৯ পয়সায় অবস্থান করছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত আইসিবি পরিচালিত ফান্ডেও একই বাস্তবতা
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ঐতিহ্যগতভাবে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বলে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক ডেইলি এনএভিতে সেখানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
আইসিবি অগ্রণী এক ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৯ টাকা ৪৫ পয়সা, কস্ট প্রাইসে ১২ টাকা ২৩ পয়সা।আইসিবি সোনালী এক ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৮ টাকা ২৬ পয়সা, কস্ট প্রাইসে ১২ টাকা ১৪ পয়সা।
এ ছাড়া আইসিবি তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৭ টাকা ৬২ পয়সা এবং আইসিবি ইপিএম ফার্স্ট শরিয়াহ মিউচুয়াল ফান্ড–এর এনএভি ৭ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা কস্ট প্রাইসের তুলনায় বড় ধরনের ব্যবধান নির্দেশ করে।
ইসলামিক ও বিশেষায়িত ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা, স্বল্পমেয়াদি চাপ
শরিয়াহভিত্তিক ও বিশেষায়িত ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রেও বাজারদরের চাপ অব্যাহত রয়েছে। আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৬ টাকা ৯৬ পয়সা হলেও কস্ট প্রাইসে তা ১১ টাকা ২৪ পয়সা।
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৯ টাকা ৪৭ পয়সা এবং কস্ট প্রাইস ১১ টাকা ০৭ পয়সা। অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংক প্রথম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৭ টাকা ৬৯ পয়সা এবং কস্ট প্রাইস ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।
সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে প্রথম প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড–এর ক্ষেত্রে। এই ফান্ডের বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৮ টাকা ২৬ পয়সা হলেও কস্ট প্রাইস ১৫ টাকা ৯০ পয়সা, যা প্রায় দ্বিগুণ।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে যে গভীর ডিসকাউন্ট দেখা যাচ্ছে, তা একদিকে যেমন বাজারের দুর্বলতার প্রতিফলন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগও নির্দেশ করে।
তাদের ভাষায়, “যদি বাজারে তারল্য বাড়ে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্রিয় হয় এবং মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফিরে আসে, তাহলে এই ফান্ডগুলোর ইউনিটপ্রতি বাজারদর ধীরে ধীরে প্রকৃত এনএভির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।”
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬–এর ডেইলি এনএভি প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাত এখনো গভীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। প্রকৃত সম্পদমূল্য থাকা সত্ত্বেও বাজারে আস্থার ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত নন।
-রাফসান
বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শিল্পখাতের প্রতিষ্ঠান Bengal Windsor Thermoplast Limited শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পরিশোধ করেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নের আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই লভ্যাংশ বিতরণ শেষ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ও সময়ানুবর্তী লভ্যাংশ পরিশোধ কোম্পানির আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বাজার পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে সময়মতো নগদ লভ্যাংশ বিতরণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিল্পখাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যৎ আয় ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়।
-রাফসান
ডিএসইতে একদিনে লেনদেন প্রায় ৪৭৪১ কোটি টাকা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান বোর্ডে শনিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা গেছে। দিনশেষে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে লেনদেন ও বাণিজ্যের পরিমাণ দুই ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এদিন প্রধান বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে মোট ১৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮৫টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উচ্চ লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দিনের মোট লেনদেন মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিনে এত বড় অঙ্কের টার্নওভার বিনিয়োগকারীদের আস্থার উন্নতি এবং বাজারে কেনার চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
-রাফসান
১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শনিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেন শেষে শেয়ারবাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনজুড়ে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে এবং বাজারজুড়ে কেনার চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
দিনের লেনদেনে মোট ৩৮৯টি সিকিউরিটি অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৯০টির দর বেড়েছে, ৪২টির দর কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই পরিসংখ্যান বাজারে শক্তিশালী বুলিশ মনোভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারে জোরালো গতি
বাজারের সবচেয়ে মানসম্মত ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ইতিবাচক ধারা আরও স্পষ্ট ছিল। এই ক্যাটাগরির ২০৩টি শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৬৪টির দর বেড়েছে এবং মাত্র ১৫টির দর কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থাই এই উত্থানের মূল চালিকাশক্তি।
‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও উত্থান
‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৮১টি শেয়ারের মধ্যে ৬৬টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৬০টি শেয়ারের দর বেড়েছে, যা স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের সক্রিয়তা নির্দেশ করে।
মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজারেও ইতিবাচক চিত্র
দিনের লেনদেনে ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে, ৫টির কমেছে এবং বাকিগুলো অপরিবর্তিত ছিল। পাশাপাশি করপোরেট বন্ড বাজারে সীমিত লেনদেন হলেও একটি বন্ডের দর বেড়েছে, যা ঋণবাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেন ও বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
দিনজুড়ে মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এতে ১৫ কোটি ৩৪ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়ে মোট লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় ৪৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।
লেনদেন শেষে বাজারের মোট মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইকুইটি বাজারের অংশ ৩৩ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ২ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা এবং ঋণপত্র বাজারের মূলধন প্রায় ৩৫ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা।
ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
দিনের ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ব্লকে লেনদেন হয়েছে। মোট ৩৮টি ব্লক ট্রেডে প্রায় ১৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। এর মধ্যে ফাইন ফুডস, জি কিউ বল পেন, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভেলো, রহিম টেক্সটাইল এবং ওয়ালটন হাই-টেক–এর শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন নজর কাড়ে।
বাজার বিশ্লেষণ: আত্মবিশ্বাস ফিরছে বিনিয়োগকারীদের
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সূচক স্থিতিশীলতা, নির্বাচনী সময়ের আগে অর্থনৈতিক প্রত্যাশা এবং কিছু কোম্পানির ইতিবাচক আর্থিক খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা বাজারে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছেন, যার প্রতিফলন আজকের লেনদেনে স্পষ্ট।
-রাফসান
১৮ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেন শেষে আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) বিবেচনায় বেশ কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। দিনের শীর্ষ দশ দরহারানো শেয়ারের তালিকায় জেড ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাধান্য স্পষ্ট ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা, দুর্বল মৌলভিত্তি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানই এ দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
সর্বোচ্চ দরপতন ফ্যামিলি টেক্সটাইলে
দিনের সবচেয়ে বেশি দরহারানো শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফ্যামিলি টেক্সটাইল। শেয়ারটির দর ৮.৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ টাকা ১০ পয়সায়। লেনদেনজুড়ে বিক্রয়চাপ থাকায় শেয়ারটি আগের দিনের সমাপনী দর ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।
ক্ষুদ্র মূলধনী ও জেড ক্যাটাগরির শেয়ারে চাপ
তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাপোলো ইস্পাত এবং মেঘনা সিমেন্ট–এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। অ্যাপোলো ইস্পাতের দর কমেছে ৬.২৫ শতাংশ, আর মেঘনা সিমেন্টের দর নেমেছে প্রায় ৫.৫৪ শতাংশ, যা শিল্প খাতে স্বল্পমেয়াদি অনিশ্চয়তার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটেও নেতিবাচক প্রবণতা
দিনের লুজার তালিকায় এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক ফার্স্ট ইনভেস্টমেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিট দরও কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিটধারীরা সাম্প্রতিক বাজার অস্থিরতার কারণে ঝুঁকি কমাতে বিক্রির পথে হাঁটছেন।
খাদ্য ও বীমা খাতেও দরপতনের ছোঁয়া
তালিকায় থাকা মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, সালাম ক্রিস্টাল সুগার এবং ফার ইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারেও ২ থেকে ৪ শতাংশের বেশি দর কমেছে। বিশেষ করে ভোগ্যপণ্য ও বীমা খাতে চাহিদা দুর্বল হওয়ায় এসব শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
বাজার বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক বাজারে লেনদেন কমে আসা এবং সূচকের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আরও সংযত করছে। মৌলভিত্তি দুর্বল ও দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দরপতনের তালিকায়।
-রাফসান
১৮ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির শেয়ার তালিকা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের শেষ দিকে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে বেশ কয়েকটি নির্বাচিত শেয়ারে। দিনের লেনদেন শেষে আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) বিবেচনায় শীর্ষ দশ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় একাধিক শিল্প, ট্যানারি, ও ভোগ্যপণ্য খাতের কোম্পানি জায়গা করে নিয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা প্রত্যাশা, কিছু কোম্পানির আর্থিক উন্নতির ইঙ্গিত এবং খাতভিত্তিক চাহিদা বৃদ্ধিই এ উত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
শীর্ষে অ্যাপেক্স ট্যানারি, প্রায় ১০ শতাংশ উত্থান
দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স ট্যানারি। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯.৯২ শতাংশ বেশি। লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে শেয়ারটি ক্রেতাদের শক্ত আগ্রহে ছিল বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও প্যারামাউন্টের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স শেয়ারটি প্রায় ৯.৮৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। একই সঙ্গে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল প্রায় ৯.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৫৩ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারী শিল্প ও সিমেন্ট খাতেও ইতিবাচক গতি
তালিকায় থাকা রহিম টেক্সটাইল, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের শেয়ার প্রায় ৮.৭৪ শতাংশ বেড়ে ২৩৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছায়, যা নির্মাণ খাতে সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওষুধ ও খাদ্য খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
দিনের শীর্ষ তালিকায় আরও রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রহিমা ফুড, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স। এসব শেয়ারে ৫ থেকে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত দর বৃদ্ধি হয়েছে, যা ভোক্তা ও প্রতিরক্ষামূলক খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষণ
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামগ্রিকভাবে বাজারে এখনও সতর্কতা বিরাজ করলেও নির্বাচিত কিছু শেয়ারে ফান্ড রোটেশন ও ট্রেডিং-ভিত্তিক আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি ও আর্থিক অবস্থান বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
-রাফসান
ইপিএস ও ক্যাশ ফ্লোতে বড় উন্নতি লাভেলোর
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ভোগ্যপণ্য খাতের প্রতিষ্ঠান লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫) উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রি ও কর-পরবর্তী মুনাফা বৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটির আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
কোম্পানির প্রকাশিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সমাপ্ত প্রান্তিকে লাভেলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কোম্পানিটির মোট বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার সম্প্রসারণ, বিক্রয় চ্যানেল শক্তিশালী করা এবং পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। এই দুটি সূচকের উন্নতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়ের ওপর।
অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে লাভেলোর ডাইলিউটেড শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৪) এই ইপিএস ছিল ০ দশমিক ৫৬ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রান্তিকভিত্তিক ইপিএস প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর ছয় মাসের সমন্বিত হিসাবে কোম্পানিটির ডাইলিউটেড ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩৮ টাকা। এতে লাভেলোর ধারাবাহিক আয় বৃদ্ধির ধারা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (ডাইলিউটেড এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সূচক ছিল ১ দশমিক ৭৮ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই শক্তিশালী নগদ প্রবাহ কোম্পানিটির তারল্য ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ সক্ষমতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে লাভেলোর শেয়ারপ্রতি ডাইলিউটেড নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫২ টাকা। এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই এনএভি ছিল ১২ দশমিক ০১ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে বাস্তব উন্নতি হয়েছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- ১৯ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৯ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- আমিরাতের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ, রমজান শুরু হতে আর কত দিন
- বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে চাপ বাড়ছে আইসিসির ওপর
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
- শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিনে সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা
- ২০২৬ হজে হজযাত্রী সেবায় নতুন নির্দেশনা
- নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল
- মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
- রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা
- সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
- সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
- ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
- খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
- শীতের দুপুরে খাবারের স্বাদ বাড়াতে ‘আচারি ফুলকপি’; জেনে নিন বিশেষ রেসিপি
- বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
- শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তেজনা: ডিসির কার্যালয়ে তলব পেলেন রুমিন ফারহানা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- বিশ্বকাপে কি তবে থাকছে না বাংলাদেশ? আইসিসির ‘আল্টিমেটাম’ ঘিরে তোলপাড়
- মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আয়কর থেকে ভ্যাট: সব খাতেই রাজস্ব ঘাটতি, সংকটে সরকারি কোষাগার
- আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী
- অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- ভালুকার হাজির বাজারে সড়ক থেকে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
- আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি
- ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য
- মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকি, ফেসবুকে চাঞ্চল্যকর পোস্ট
- ১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি
- ক্যামেরা তাক করলেই অনুবাদ; গুগল ট্রান্সলেটের নতুন চমক
- ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের প্রচারণার পরিকল্পনা
- বিপিএলে সিলেটের বড় চমক: প্লে-অফের আগে আরও শক্তিশালী টাইটান্স বাহিনী
- পিঠের ব্যথা কি সাধারণ নাকি কিডনি স্টোনের সংকেত? চিনে নিন লক্ষণগুলো
- নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ নিয়ে মির্জা ফখরুল
- বিশ্ব শান্তি ঝুঁকিতে: গ্রিনল্যান্ড পেতে ইউরোপকে ট্রাম্পের নজিরবিহীন আল্টিমেটাম
- মোড় নিল বিশ্বকাপ বিতর্ক: বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের নতুন সমীকরণ
- কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজের অভিযোগ
- পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
- জামায়াত-জোটের এনসিপি: ৩০ আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ
- ডিএসইতে একদিনে লেনদেন প্রায় ৪৭৪১ কোটি টাকা
- ১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৮ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ডিএসই–৩০ শেয়ারে মিশ্র সূচনা, ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
- শেয়ারবাজারে ১৫ জানুয়ারির টার্নওভার চিত্র








