শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৪:৫৮:১১
শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব: শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও ক্রয়চাপের ফলে একাধিক শেয়ারের দরে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে আগের কার্যদিবসের তুলনায় সর্বাধিক দরবৃদ্ধির তালিকায় উঠে এসেছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড ও উৎপাদন খাতভুক্ত বেশ কয়েকটি শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময় ঘিরে বাজারে আস্থার উন্নতি, কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি স্পেকুলেটিভ চাহিদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আংশিক সক্রিয়তা এই দরবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার (ক্লোজিং প্রাইস ও ওয়াইসিপি বিবেচনায়)

১. কেবিপি প্রোডাক্টস ওয়েলফেয়ার বিল

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি হয়েছে এই শেয়ারে। শেয়ারটির ক্লোজিং মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের দিনের ৪৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৯.৯১ শতাংশ বেশি।

২. রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স

বীমা খাতের এই শেয়ারের দর বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা। আগের দিনের ৩০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৮৭ শতাংশ।

৩. এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড–১

মিউচুয়াল ফান্ড খাতের এ ইউনিটের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা, যা ৭.১৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

৪. এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড

লেনদেন শেষে ইউনিটপ্রতি মূল্য হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ৭.০২ শতাংশ।

৫. এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ

ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক খাতের এই শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ২০ পয়সা। দিনশেষে দরবৃদ্ধি ৬.৪৪ শতাংশ।

৬. সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের এ শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিনের তুলনায় ৬.৩২ শতাংশ বেশি।

৭. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রথম বিনিয়োগ তহবিল

এই মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা। দরবৃদ্ধি হয়েছে ৬.২৫ শতাংশ।

৮. আইসিবি ইপিএমএফ–১ (সিরিজ–১)

ইউনিটপ্রতি দর বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা, যা ৫.৮৮ শতাংশ উত্থান নির্দেশ করে।

৯. সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা

পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের এই শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৭০ পয়সা। দরবৃদ্ধি ৫.১৪ শতাংশ।

১০. রিলায়েন্স ওয়ান ফান্ড

তালিকার দশম স্থানে থাকা এই ফান্ডের ইউনিট মূল্য হয়েছে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা, আগের দিনের তুলনায় ৪.৭৩ শতাংশ বেশি।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজকের লেনদেনে মিউচুয়াল ফান্ড ও বীমা খাত তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় ছিল। পাশাপাশি কিছু নির্বাচিত শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকরা বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

-রাফসান


ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১১:৩০:৩৩
ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ডেইলি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) প্রকাশের পর পুঁজিবাজারে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব কটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি বাজারদরভিত্তিক এনএভি অভিহিত মূল্য ১০ টাকার অনেক নিচে অবস্থান করছে, যদিও কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১১ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান শুধুই স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামার ফল নয়; বরং এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ঘাটতির প্রতিফলন।

ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ডে মূল্যচাপ প্রকট

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর এনএভি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটপ্রতি বাজারদরভিত্তিক এনএভি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ টাকা ৪০ পয়সা, যেখানে কস্ট প্রাইসভিত্তিক এনএভি ১১ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনায় ফান্ডটি প্রায় ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। ফান্ডটির মোট নিট সম্পদের বাজারমূল্য ১০৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কিছু বেশি।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংক এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড–এর ক্ষেত্রেও। ফান্ডটির বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৬ টাকা ৫২ পয়সা, যেখানে কস্ট প্রাইস ১১ টাকা ৩৪ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি আরও কমে ৬ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে, কস্ট প্রাইস ১১ টাকা ৫০ পয়সা থাকা সত্ত্বেও।

এ ছাড়া এবিবি প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৭ টাকা ২৩ পয়সা এবং প্রথম জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–এর এনএভি ৬ টাকা ০৯ পয়সায় অবস্থান করছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত আইসিবি পরিচালিত ফান্ডেও একই বাস্তবতা

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ঐতিহ্যগতভাবে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বলে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক ডেইলি এনএভিতে সেখানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

আইসিবি অগ্রণী এক ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৯ টাকা ৪৫ পয়সা, কস্ট প্রাইসে ১২ টাকা ২৩ পয়সা।আইসিবি সোনালী এক ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৮ টাকা ২৬ পয়সা, কস্ট প্রাইসে ১২ টাকা ১৪ পয়সা।

এ ছাড়া আইসিবি তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৭ টাকা ৬২ পয়সা এবং আইসিবি ইপিএম ফার্স্ট শরিয়াহ মিউচুয়াল ফান্ড–এর এনএভি ৭ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা কস্ট প্রাইসের তুলনায় বড় ধরনের ব্যবধান নির্দেশ করে।

ইসলামিক ও বিশেষায়িত ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা, স্বল্পমেয়াদি চাপ

শরিয়াহভিত্তিক ও বিশেষায়িত ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রেও বাজারদরের চাপ অব্যাহত রয়েছে। আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৬ টাকা ৯৬ পয়সা হলেও কস্ট প্রাইসে তা ১১ টাকা ২৪ পয়সা।

গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৯ টাকা ৪৭ পয়সা এবং কস্ট প্রাইস ১১ টাকা ০৭ পয়সা। অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংক প্রথম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড–এর বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৭ টাকা ৬৯ পয়সা এবং কস্ট প্রাইস ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।

সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে প্রথম প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড–এর ক্ষেত্রে। এই ফান্ডের বাজারদরভিত্তিক এনএভি ৮ টাকা ২৬ পয়সা হলেও কস্ট প্রাইস ১৫ টাকা ৯০ পয়সা, যা প্রায় দ্বিগুণ।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে যে গভীর ডিসকাউন্ট দেখা যাচ্ছে, তা একদিকে যেমন বাজারের দুর্বলতার প্রতিফলন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগও নির্দেশ করে।

তাদের ভাষায়, “যদি বাজারে তারল্য বাড়ে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্রিয় হয় এবং মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফিরে আসে, তাহলে এই ফান্ডগুলোর ইউনিটপ্রতি বাজারদর ধীরে ধীরে প্রকৃত এনএভির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।”

সার্বিক চিত্র

সব মিলিয়ে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬–এর ডেইলি এনএভি প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাত এখনো গভীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। প্রকৃত সম্পদমূল্য থাকা সত্ত্বেও বাজারে আস্থার ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত নন।

-রাফসান


বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১১:২০:৫৯
বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শিল্পখাতের প্রতিষ্ঠান Bengal Windsor Thermoplast Limited শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পরিশোধ করেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নের আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই লভ্যাংশ বিতরণ শেষ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ও সময়ানুবর্তী লভ্যাংশ পরিশোধ কোম্পানির আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বাজার পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে সময়মতো নগদ লভ্যাংশ বিতরণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিল্পখাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যৎ আয় ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়।

-রাফসান


ডিএসইতে একদিনে লেনদেন প্রায় ৪৭৪১ কোটি টাকা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৫:৩১:০০
ডিএসইতে একদিনে লেনদেন প্রায় ৪৭৪১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান বোর্ডে শনিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা গেছে। দিনশেষে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে লেনদেন ও বাণিজ্যের পরিমাণ দুই ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এদিন প্রধান বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে মোট ১৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮৫টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উচ্চ লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনের মোট লেনদেন মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিনে এত বড় অঙ্কের টার্নওভার বিনিয়োগকারীদের আস্থার উন্নতি এবং বাজারে কেনার চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

-রাফসান


১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৫:১৯:৫৮
১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শনিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেন শেষে শেয়ারবাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনজুড়ে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে এবং বাজারজুড়ে কেনার চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

দিনের লেনদেনে মোট ৩৮৯টি সিকিউরিটি অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৯০টির দর বেড়েছে, ৪২টির দর কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই পরিসংখ্যান বাজারে শক্তিশালী বুলিশ মনোভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারে জোরালো গতি

বাজারের সবচেয়ে মানসম্মত ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ইতিবাচক ধারা আরও স্পষ্ট ছিল। এই ক্যাটাগরির ২০৩টি শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৬৪টির দর বেড়েছে এবং মাত্র ১৫টির দর কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থাই এই উত্থানের মূল চালিকাশক্তি।

‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও উত্থান

‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৮১টি শেয়ারের মধ্যে ৬৬টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৬০টি শেয়ারের দর বেড়েছে, যা স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের সক্রিয়তা নির্দেশ করে।

মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজারেও ইতিবাচক চিত্র

দিনের লেনদেনে ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে, ৫টির কমেছে এবং বাকিগুলো অপরিবর্তিত ছিল। পাশাপাশি করপোরেট বন্ড বাজারে সীমিত লেনদেন হলেও একটি বন্ডের দর বেড়েছে, যা ঋণবাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেন ও বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

দিনজুড়ে মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এতে ১৫ কোটি ৩৪ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়ে মোট লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় ৪৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।

লেনদেন শেষে বাজারের মোট মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইকুইটি বাজারের অংশ ৩৩ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ২ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা এবং ঋণপত্র বাজারের মূলধন প্রায় ৩৫ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা।

ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন

দিনের ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ব্লকে লেনদেন হয়েছে। মোট ৩৮টি ব্লক ট্রেডে প্রায় ১৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। এর মধ্যে ফাইন ফুডস, জি কিউ বল পেন, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভেলো, রহিম টেক্সটাইল এবং ওয়ালটন হাই-টেক–এর শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন নজর কাড়ে।

বাজার বিশ্লেষণ: আত্মবিশ্বাস ফিরছে বিনিয়োগকারীদের

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সূচক স্থিতিশীলতা, নির্বাচনী সময়ের আগে অর্থনৈতিক প্রত্যাশা এবং কিছু কোম্পানির ইতিবাচক আর্থিক খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা বাজারে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছেন, যার প্রতিফলন আজকের লেনদেনে স্পষ্ট।

-রাফসান


১৮ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৫:১৬:২৩
১৮ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেন শেষে আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) বিবেচনায় বেশ কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। দিনের শীর্ষ দশ দরহারানো শেয়ারের তালিকায় জেড ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাধান্য স্পষ্ট ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা, দুর্বল মৌলভিত্তি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানই এ দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

সর্বোচ্চ দরপতন ফ্যামিলি টেক্সটাইলে

দিনের সবচেয়ে বেশি দরহারানো শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফ্যামিলি টেক্সটাইল। শেয়ারটির দর ৮.৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ টাকা ১০ পয়সায়। লেনদেনজুড়ে বিক্রয়চাপ থাকায় শেয়ারটি আগের দিনের সমাপনী দর ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

ক্ষুদ্র মূলধনী ও জেড ক্যাটাগরির শেয়ারে চাপ

তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাপোলো ইস্পাত এবং মেঘনা সিমেন্ট–এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। অ্যাপোলো ইস্পাতের দর কমেছে ৬.২৫ শতাংশ, আর মেঘনা সিমেন্টের দর নেমেছে প্রায় ৫.৫৪ শতাংশ, যা শিল্প খাতে স্বল্পমেয়াদি অনিশ্চয়তার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটেও নেতিবাচক প্রবণতা

দিনের লুজার তালিকায় এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক ফার্স্ট ইনভেস্টমেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিট দরও কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিটধারীরা সাম্প্রতিক বাজার অস্থিরতার কারণে ঝুঁকি কমাতে বিক্রির পথে হাঁটছেন।

খাদ্য ও বীমা খাতেও দরপতনের ছোঁয়া

তালিকায় থাকা মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, সালাম ক্রিস্টাল সুগার এবং ফার ইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারেও ২ থেকে ৪ শতাংশের বেশি দর কমেছে। বিশেষ করে ভোগ্যপণ্য ও বীমা খাতে চাহিদা দুর্বল হওয়ায় এসব শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

বাজার বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক বাজারে লেনদেন কমে আসা এবং সূচকের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আরও সংযত করছে। মৌলভিত্তি দুর্বল ও দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দরপতনের তালিকায়।

-রাফসান


১৮ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির শেয়ার তালিকা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৫:০০:৪৪
১৮ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির শেয়ার তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের শেষ দিকে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে বেশ কয়েকটি নির্বাচিত শেয়ারে। দিনের লেনদেন শেষে আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) বিবেচনায় শীর্ষ দশ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় একাধিক শিল্প, ট্যানারি, ও ভোগ্যপণ্য খাতের কোম্পানি জায়গা করে নিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা প্রত্যাশা, কিছু কোম্পানির আর্থিক উন্নতির ইঙ্গিত এবং খাতভিত্তিক চাহিদা বৃদ্ধিই এ উত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

শীর্ষে অ্যাপেক্স ট্যানারি, প্রায় ১০ শতাংশ উত্থান

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স ট্যানারি। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯.৯২ শতাংশ বেশি। লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে শেয়ারটি ক্রেতাদের শক্ত আগ্রহে ছিল বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও প্যারামাউন্টের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স শেয়ারটি প্রায় ৯.৮৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। একই সঙ্গে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল প্রায় ৯.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৫৩ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারী শিল্প ও সিমেন্ট খাতেও ইতিবাচক গতি

তালিকায় থাকা রহিম টেক্সটাইল, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের শেয়ার প্রায় ৮.৭৪ শতাংশ বেড়ে ২৩৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছায়, যা নির্মাণ খাতে সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওষুধ ও খাদ্য খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

দিনের শীর্ষ তালিকায় আরও রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রহিমা ফুড, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স। এসব শেয়ারে ৫ থেকে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত দর বৃদ্ধি হয়েছে, যা ভোক্তা ও প্রতিরক্ষামূলক খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামগ্রিকভাবে বাজারে এখনও সতর্কতা বিরাজ করলেও নির্বাচিত কিছু শেয়ারে ফান্ড রোটেশন ও ট্রেডিং-ভিত্তিক আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি ও আর্থিক অবস্থান বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

-রাফসান


ইপিএস ও ক্যাশ ফ্লোতে বড় উন্নতি লাভেলোর

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১০:১১:৪২
ইপিএস ও ক্যাশ ফ্লোতে বড় উন্নতি লাভেলোর
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ভোগ্যপণ্য খাতের প্রতিষ্ঠান লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫) উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রি ও কর-পরবর্তী মুনাফা বৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটির আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

কোম্পানির প্রকাশিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সমাপ্ত প্রান্তিকে লাভেলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কোম্পানিটির মোট বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার সম্প্রসারণ, বিক্রয় চ্যানেল শক্তিশালী করা এবং পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। এই দুটি সূচকের উন্নতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়ের ওপর।

অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে লাভেলোর ডাইলিউটেড শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৪) এই ইপিএস ছিল ০ দশমিক ৫৬ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রান্তিকভিত্তিক ইপিএস প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর ছয় মাসের সমন্বিত হিসাবে কোম্পানিটির ডাইলিউটেড ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩৮ টাকা। এতে লাভেলোর ধারাবাহিক আয় বৃদ্ধির ধারা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (ডাইলিউটেড এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সূচক ছিল ১ দশমিক ৭৮ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই শক্তিশালী নগদ প্রবাহ কোম্পানিটির তারল্য ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ সক্ষমতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে লাভেলোর শেয়ারপ্রতি ডাইলিউটেড নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫২ টাকা। এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই এনএভি ছিল ১২ দশমিক ০১ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে বাস্তব উন্নতি হয়েছে।

-রাফসান


একাধিক ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড সভা ঘোষণা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১০:০৭:৪৩
একাধিক ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড সভা ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কয়েকটি কোম্পানি চলতি মাসে তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভার সময়সূচি ঘোষণা করেছে। ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশনস, ২০১৫–এর ১৬(১) ধারা অনুযায়ী প্রকাশিত এসব তথ্যে জানানো হয়েছে, সভাগুলোতে মূলত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (কিউ২) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

টাল্লু স্পিনিং মিলসের বোর্ড সভা ২৫ জানুয়ারি

ডিএসইকে দেওয়া এক ঘোষণায় টাল্লু স্পিনিং মিলস লিমিটেড জানিয়েছে, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা ও বিবেচনা।

একই দিনে মিথুন নিটিংয়ের পর্ষদ বৈঠক

একই দিনে আরেকটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড তাদের বোর্ড সভা আহ্বান করেছে। ডিএসইর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৪টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সভাতেও ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসবে।

জেএইচআরএমএলের বোর্ড সভা ২৭ জানুয়ারি

এদিকে জেএইচআরএমএল জানিয়েছে, তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভা আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য আলোচ্য বিষয়ের পাশাপাশি এই সভাতেও দ্বিতীয় প্রান্তিকের (কিউ২) অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ের আর্থিক অবস্থা, আয় প্রবণতা ও ব্যয় কাঠামোর একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। ফলে এসব বোর্ড সভা ও পরবর্তী আর্থিক ঘোষণার দিকে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি থাকবে।

বিশেষ করে টেক্সটাইল ও শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শেয়ারবাজারের সামগ্রিক মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


ডিএসই পরিদর্শনে বন্ধ পাওয়া গেল কয়েকটি কারখানা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১০:০৩:৫৭
ডিএসই পরিদর্শনে বন্ধ পাওয়া গেল কয়েকটি কারখানা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) সম্প্রতি দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন করেছে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বর্তমান উৎপাদন ও পরিচালন অবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিএসই সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একাধিক কারখানা ঘুরে দেখা হয়। এতে কোথাও আংশিকভাবে উৎপাদন চালু থাকলেও, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস: এক ইউনিট চালু, আরেকটি বন্ধ

ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল ২০২৫ সালের ৩ ও ৪ নভেম্বর যথাক্রমে আশুলিয়া (সাভার) এবং পলাশ (নরসিংদী) এলাকায় অবস্থিত ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড–এর কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, আশুলিয়া, সাভারে অবস্থিত ইউনিটটি সচল রয়েছে এবং সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান। তবে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অবস্থিত কোম্পানিটির অন্য ইউনিটটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

ডিএসই জানায়, এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানিটির প্রকৃত পরিচালন অবস্থা যাচাই করা এবং বাজারে স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা।

প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেডের কারখানা বন্ধ

ডিএসইর আরেকটি দল ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড–এর কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরামিট সিমেন্টে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ

এদিকে ২০২৫ সালের ২২ জুলাই আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড–এর কারখানা পরিদর্শন করে ডিএসইর প্রতিনিধি দল। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সিমেন্ট খাতের এই কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নুরানী ডাইং অ্যান্ড সুয়েটার লিমিটেডেও তালা

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে নুরানী ডাইং অ্যান্ড সুয়েটার লিমিটেড–এর ক্ষেত্রেও। ডিএসইর দল ২০২৫ সালের ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির কারখানা পরিদর্শন করে এবং সেখানে উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ দেখতে পায়।

রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলসেও উৎপাদন স্থগিত

ডিএসই জানায়, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড–এর কারখানা পরিদর্শন করা হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় ছিল।

বাজারে প্রভাব ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। এতে কোম্পানিগুলোর আয়, নগদ প্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ টেকসই পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অবস্থা বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরাই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: