কোহিনূর কেমিক্যালসের বোনাস ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ

কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বোনাস শেয়ার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশও শেয়ারহোল্ডারদের হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড ডেট অনুযায়ী যেসব বিনিয়োগকারী কোহিনূর কেমিক্যালসের শেয়ার ধারণ করেছিলেন, তারাই এই বোনাস শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশের সুবিধা পেয়েছেন। বোনাস ও ক্যাশ ডিভিডেন্ড একসঙ্গে বিতরণ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, একই অর্থবছরে বোনাস শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশ প্রদান একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতা, মুনাফা বণ্টনের সক্ষমতা এবং শেয়ারহোল্ডারবান্ধব নীতির প্রতিফলন। কোহিনূর কেমিক্যালসের এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
-রফিক
মন্নো অ্যাগ্রোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান মন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেড তাদের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ সফলভাবে বিতরণ সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট সকল যোগ্য শেয়ারহোল্ডারের কাছে ইতোমধ্যে প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্যমতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই লভ্যাংশ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যা কোম্পানিটির আর্থিক শৃঙ্খলা ও শেয়ারহোল্ডার–বান্ধব ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ প্রাপ্তির যে প্রত্যাশা ছিল, এই ঘোষণার মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত ও সময়োপযোগী লভ্যাংশ বিতরণ কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেডের এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
-রফিক
ডিএসই মেইন বোর্ডে ভারসাম্যপূর্ণ টার্নওভার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ডে লেনদেন শেষ হয়েছে মাঝারি মাত্রার সক্রিয়তায়। দিনভর বাজারে সতর্ক ক্রয়–বিক্রয়ের প্রবণতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে লেনদেনের গতি স্থিতিশীল ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
ডিএসই সূত্রে জানানো হয়েছে, এদিন মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। শেয়ার লেনদেনের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ১৭ হাজার ২০০ ইউনিট, আর আর্থিক লেনদেনের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই টার্নওভার সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় ভারসাম্যপূর্ণ এবং বড় কোনো হঠাৎ প্রবাহের ইঙ্গিত দেয় না।
লেনদেনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় মূলধনী ও সূচক–প্রভাবশালী শেয়ারগুলোতে সীমিত কিন্তু ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ছিল। ব্যাংক, বিমা ও ভোক্তা পণ্য খাতের কিছু শেয়ারে আগ্রহ দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীরা সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
-রফিক
১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (Dhaka Stock Exchange PLC) লেনদেন শেষ হয়েছে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু অনিশ্চিত প্রবণতার মধ্য দিয়ে। দিন শেষে মোট ৩৯০টি সিকিউরিটিজ লেনদেনের আওতায় আসে, যার মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির এবং দর কমেছে ১৫৬টির। অপরিবর্তিত ছিল ৭৫টি শেয়ার। এই পরিসংখ্যান বাজারে ক্রয় ও বিক্রয়ের মধ্যে প্রায় সমতা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর চিত্র তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ছিল। এই শ্রেণিতে লেনদেন হওয়া ২০৩টি শেয়ারের মধ্যে ৯৮টির দর বেড়েছে এবং ৬৩টির দর কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো বজায় রয়েছে, যার প্রতিফলন এ ক্যাটাগরির ফলাফলে দেখা গেছে।
অন্যদিকে বি ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ৮২টি শেয়ারের মধ্যে দর কমেছে ৪৭টির, যেখানে দর বেড়েছে মাত্র ২০টির। জেড ক্যাটাগরিতেও একই ধরনের মিশ্র কিন্তু দুর্বল প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে ৪১টি শেয়ার দর বাড়লেও ৪৬টি শেয়ারের দর কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের দূরে থাকার প্রবণতাকেই তুলে ধরছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও দিনটি ছিল কিছুটা নেতিবাচক। লেনদেন হওয়া ৩৪টি ইউনিটের মধ্যে ১১টির দর কমেছে, বিপরীতে ৫টির দর বেড়েছে এবং ১৮টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডে লেনদেন ছিল সীমিত, যেখানে একটি বন্ড অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে তিনটি ইস্যু লেনদেনের আওতায় আসে, যার মধ্যে দুটি দর কমেছে এবং একটি দর বেড়েছে।
লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদিন মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৬১ লাখ এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই লেনদেনের পরিমাণ মাঝারি মাত্রার এবং বড় ধরনের আক্রমণাত্মক বিনিয়োগের প্রবণতা এখনো গড়ে ওঠেনি।
বাজার মূলধনের দিক থেকে দিন শেষে ইকুইটি খাতে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বাজার মূলধন ছিল প্রায় ২ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা এবং ঋণপত্র খাতে বাজার মূলধন ছাড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ব্লক মার্কেটের লেনদেন। এদিন ব্লকে ২৮টি কোম্পানির মোট ৭২টি লেনদেনে প্রায় ২৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস, জিকিউ বল পেন, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং বিএক্সজিএস সুকুকে। বিশেষ করে ফাইন ফুডসে এককভাবে প্রায় ৮৯ কোটি টাকার লেনদেন বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বাজারচিত্র স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা এখনো পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক দরপতন, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তারা বাছাই করা শেয়ারে সীমিত বিনিয়োগেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলভিত্তি শক্ত শেয়ার বাছাই, খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং অতিরিক্ত লিভারেজ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল বলে মত দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
-রফিক
ডিএসইতে আজকের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে একাধিক শেয়ারে তীব্র বিক্রয়চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। সামগ্রিক বাজারে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে দরপতনের মাত্রা ছিল চোখে পড়ার মতো, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে।
দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড–এর শেয়ার। শেয়ারটির ক্লোজিং দর নেমে দাঁড়িয়েছে ৩২ পয়সায়, যা আগের দিনের ৩৬ পয়সার তুলনায় প্রায় ১১.১১ শতাংশ কম। দিনজুড়ে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৮ পয়সা, তবে শেষভাগে বিক্রয়চাপ বাড়ায় এটি দিনের সর্বনিম্ন দরের কাছাকাছি অবস্থান নেয়।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দিন শেষে ৩২ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৩৬ টাকা থেকে সরাসরি ১০ শতাংশ দরপতনের ইঙ্গিত দেয়। দিনের শুরুতে শেয়ারটির দর ৩৬ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠলেও শেষদিকে বড় আকারের বিক্রয়চাপে দাম দ্রুত নেমে আসে।
আর্থিক খাতের আরেকটি শেয়ার বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) ৯.০৯ শতাংশ দর হারিয়েছে। শেয়ারটির ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ১ টাকায়, যেখানে আগের কার্যদিবসে এটি লেনদেন হয়েছিল ১ টাকা ১০ পয়সায়। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক খাত ঘিরে অনিশ্চয়তা এই দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
শিল্প খাতের এপেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড–এর শেয়ারটিও উল্লেখযোগ্য দরপতনের শিকার হয়েছে। শেয়ারটির দর ৮.৭৭ শতাংশ কমে ২৮ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে। দিনজুড়ে সর্বোচ্চ ৩১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত লেনদেন হলেও শেষদিকে বিক্রয়চাপ প্রাধান্য পায়।
নন–ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড–এর দর কমেছে ৮.১১ শতাংশ। শেয়ারটির ক্লোজিং দর হয়েছে ৩৪ পয়সা, যা আগের দিনের ৩৭ পয়সার তুলনায় স্পষ্ট পতন নির্দেশ করে।
উচ্চমূল্যের শেয়ারগুলোর মধ্যে জিকিউ বল পেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড–এর শেয়ার ৬.৭১ শতাংশ দর হারিয়ে ৪৮৫ টাকায় নেমে এসেছে। দিনজুড়ে এই শেয়ারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেলেও লেনদেনের শেষভাগে বিক্রয়চাপই বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।
টেক্সটাইল খাতের আল–হাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড শেয়ারটি দিন শেষে ৫.০৩ শতাংশ দরপতন নিয়ে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় অবস্থান করছে। কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক চাপ এই দরপতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড এবং এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড–১—উভয় ইউনিটই ৪.৭৬ শতাংশ করে দর হারিয়েছে। দুটি ইউনিটেরই ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৪ টাকায়, যা আগের দিনের ৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কম।
দরপতনের তালিকার শেষ দিকে থাকা জাহীন স্পিনিং লিমিটেড শেয়ারটিও একই হারে অর্থাৎ ৪.৭৬ শতাংশ কমে ৪ টাকায় নেমে এসেছে। দিনজুড়ে শেয়ারটির দামে বড় কোনো গতি না থাকলেও শেষভাগে বিক্রয়চাপই দিকনির্দেশনা দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের শীর্ষ লুজার তালিকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উপস্থিতি স্পষ্ট। তাদের পর্যবেক্ষণে, এই দরপতন মূলত স্বল্পমেয়াদি মুনাফা গ্রহণ, খাতভিত্তিক দুর্বলতা এবং সামগ্রিক বাজারে সতর্ক মনোভাবের প্রতিফলন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলভিত্তি বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
-রফিক
ডিএসইতে আজকের দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষ পর্যায়ে দরবৃদ্ধিতে থাকা শেয়ারগুলোর তালিকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সামগ্রিক বাজারে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা গেছে, যার ফলে দিনের শেষে শীর্ষ গেইনার তালিকায় জায়গা করে নেয় বিভিন্ন খাতের কোম্পানি।
দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। শেয়ারটির ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিনের ৪৩ টাকা ৮০ পয়সার তুলনায় প্রায় ৯.৮২ শতাংশ বেশি। দিনজুড়ে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৪৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দর ছিল ৪৮ টাকা ১০ পয়সা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতে সাম্প্রতিক বিনিয়োগ আগ্রহ এই উল্লম্ফনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারটি দিন শেষে ২০ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭.২২ শতাংশ বেশি। শিল্প ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট এই শেয়ারে দিনের মধ্যভাগে সক্রিয় লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ক্যাপিটাল মিউচুয়াল ফান্ড (CAPMIBBLMF) শেয়ারটি ৬.৫৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। শেয়ারটির ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিনের ৭ টাকা ৬০ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের শেয়ার এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের দর বেড়ে হয়েছে ৪৭ টাকা ৩০ পয়সা। আগের দিনের ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে প্রায় ৫.৩৫ শতাংশ এই বৃদ্ধিকে বিশ্লেষকরা খাতভিত্তিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
বিমা খাতের আরেকটি শেয়ার বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (BNICL) দিন শেষে ৫.২৭ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে ৫১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। একই খাতে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারও ৪.৪৯ শতাংশ বেড়ে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে।
টেক্সটাইল ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট দেশবন্ধু পলিমার্সের শেয়ারটি ৪.০৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে। দিনজুড়ে এই শেয়ারে ওঠানামা তুলনামূলক বেশি ছিল, যা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নির্দেশ করে।
বিমা খাতের আরও দুটি শেয়ার—ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স—দরবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার ৩.৯৯ শতাংশ বেড়ে ৬৭ টাকা ৭০ পয়সায় এবং স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার ৩.৫৭ শতাংশ বেড়ে ৪০ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।
তালিকার শেষ দিকে থাকা বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (BGIC) শেয়ারটি দিন শেষে ৩.৫৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে ৩২ টাকা ৩০ পয়সায় অবস্থান করছে, যা বিমা খাতে সামগ্রিক ক্রয়চাপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের শীর্ষ গেইনার তালিকায় বিমা খাতের আধিপত্য স্পষ্ট। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড ও শিল্পখাতের কিছু শেয়ারে নির্বাচনী সময়কে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীদের বাছাই করা ক্রয় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করছেন, এই দরবৃদ্ধি আংশিকভাবে স্বল্পমেয়াদি মুনাফাভিত্তিক হলেও খাতভিত্তিক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বুঝতে সহায়ক।
-রফিক
মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (Dhaka Stock Exchange PLC) মার্জিন ঋণের আওতায় বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে, যা পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে প্রকাশিত এই তালিকায় মোট ১২৬টি কোম্পানির শেয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো মার্জিন ফাইন্যান্স সুবিধার জন্য প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে মূল্যায়িত হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বড় অংশই ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত, যেখানে আর্থিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের রেকর্ড রয়েছে। পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে, তবে শর্ত ছিল সর্বশেষ অর্থবছরে কমপক্ষে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণ করা।
এই তালিকায় ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, ভোক্তা পণ্য, টেক্সটাইল ও শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় বহু কোম্পানির নাম রয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মার্জিন ফাইন্যান্সযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যাংকের আর্থিক সূচক ও বাজার মূলধন মার্জিন ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক।
বিমা খাতে এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জনপ্রিয় লাইফ ইন্স্যুরেন্স, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সসহ অসংখ্য জীবন ও সাধারণ বিমা কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতে প্রতিফলিত হয়েছে বিমা খাতের বিস্তৃত অংশগ্রহণ এবং মার্জিন লেনদেনে এই খাতের গুরুত্ব।
ওষুধ শিল্প থেকেও শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, আইবিএন সিনা ফার্মা এবং বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো কোম্পানিগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থিতিশীল আয়ের ধারা ও উচ্চ বাজার মূলধনের কারণে ওষুধ খাত মার্জিন বিনিয়োগে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
টেলিযোগাযোগ ও ভোক্তা পণ্য খাতে গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং মারিকো বাংলাদেশের মতো বহুজাতিক ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির উপস্থিতি এই তালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এসব কোম্পানির ফ্রি ফ্লোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন এবং আয়ের ধারাবাহিকতা মার্জিন ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিল্প ও উৎপাদন খাত থেকে বিএসআরএম স্টিলস, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস, ক্রাউন সিমেন্ট, কনফিডেন্স সিমেন্ট, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ওয়ালটন হাই–টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রানার অটোমোবাইলসের মতো কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ভারী শিল্প ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোও মার্জিন বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিএসই জানিয়েছে, এই তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ট্রেইলিং প্রাইস–টু–আর্নিং (P/E) রেশিও, ফ্রি ফ্লোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন এবং সর্বশেষ প্রকাশিত আয় প্রতিবেদনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানির টানা চার প্রান্তিকের আয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে সর্বশেষ ঘোষিত আয়কে বার্ষিকীকরণ করে P/E রেশিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
-রফিক
ডিএসই–৩০ শেয়ারে মিশ্র সূচনা, ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিএসই–৩০ সূচকভুক্ত শেয়ারগুলোর পারফরম্যান্সে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্লু–চিপ ও বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে সীমিত পরিসরে দরবৃদ্ধি দেখা গেলেও কিছু শেয়ারে আবার মুনাফা গ্রহণের চাপ স্পষ্ট হয়েছে। লেনদেনের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর থাকলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে।
ভোক্তা পণ্য ও বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেনে ২৫১ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য ঊর্ধ্বমুখী। একই সময়ে গ্রামীণফোনের শেয়ারে হালকা দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২৫০ টাকা ৫০ পয়সায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টেলিকম ও বহুজাতিক খাতে বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছেন।
ব্যাংক খাতে আজ সকালের লেনদেনে তুলনামূলক ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার ৬৭ টাকায় লেনদেন হয়ে আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে, একইভাবে সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং পূবালী ব্যাংকের শেয়ারে সীমিত দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পূবালী ব্যাংকের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারে প্রায় ১.৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি হলেও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারে লেনদেন সীমিত পরিসরে ঘোরাফেরা করেছে। রেনেটা ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও লেনদেনের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে সামান্য দরপতন দেখা গেছে, যেখানে আইডিএলসি ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ারে সীমিত দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাজার অস্থিরতার পর বিনিয়োগকারীরা এই খাতে ধীরে ও হিসেবি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
জ্বালানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে যমুনা অয়েল ও পদ্মা অয়েলের শেয়ারে হালকা দরবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ারে নিরাপদ বিনিয়োগ প্রবণতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও হাইডেলবার্গ গ্রুপ সংশ্লিষ্ট শেয়ারে আজ সকালের লেনদেন স্থবির ছিল।
উচ্চমূল্যের শেয়ারগুলোর মধ্যে ওয়ালটন হাই–টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, লিন্ডে বাংলাদেশ এবং কোহিনূর কেমিক্যালসের শেয়ারে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। কোহিনূরের শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেলেও ওয়ালটনের শেয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।
ডিএসই–৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কিছু শেয়ারে এখনো কোনো লেনদেন হয়নি, যেমন বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএসসি পিএলসি, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট এবং ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস। এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষমাণ অবস্থান বাজারের সতর্ক মনোভাবকেই তুলে ধরছে।
-রফিক
তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এর ক্রেডিট রেটিং এ চমক
তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানি তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানের স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের অন্যতম স্বীকৃত রেটিং প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর) কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট রেটিং নির্ধারণ করেছে সর্বোচ্চ স্তর ‘এএএ (AAA)’ এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং দিয়েছে ‘এসটি–১ (ST-1)’। পাশাপাশি, কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্থিতিশীল (Stable Outlook) হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এই রেটিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিআর। রেটিং সংস্থাটির মূল্যায়নে কোম্পানিটির মূলধন কাঠামো, দাবি পরিশোধ সক্ষমতা, তারল্য পরিস্থিতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং সামগ্রিক পরিচালন দক্ষতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ রেটিং কোনো কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও দায় পরিশোধ সক্ষমতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড নির্দেশ করে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি–১’ রেটিং পাওয়া মানে হলো তাৎক্ষণিক দায় পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকি অত্যন্ত কম এবং তারল্য অবস্থান শক্তিশালী।
-রফিক
ডিএসই পরিদর্শনে পাঁচ কোম্পানির কারখানা বন্ধ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (Dhaka Stock Exchange PLC) তালিকাভুক্ত একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের বাস্তব কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র প্রকাশ করেছে। ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত পৃথক নোটিশগুলোতে দেখা যায়, কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম আংশিক কিংবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর আশুলিয়া, সাভার এবং নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অবস্থিত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড–এর কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, আশুলিয়া ও সাভারের ইউনিটটি চালু থাকলেও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কারখানাটি বন্ধ পাওয়া যায়। উৎপাদনের এই দ্বৈত চিত্র প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।(Dominage Steel Building Systems Limited)
একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি নোটিশে জানানো হয়, ডিএসইর একটি দল গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড–এর কারখানা পরিদর্শন করে এবং সেখানে কোনো ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম চালু পাওয়া যায়নি। দেশের রপ্তানিনির্ভর ডেনিম ও তৈরি পোশাক খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির কারখানা বন্ধ থাকা শিল্পখাতের সামগ্রিক চাপের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।(Pacific Denims Limited)
এদিকে, সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড–এর কারখানাও ডিএসইর পরিদর্শনে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। গত ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে পরিদর্শনের সময় কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত ছিল। নির্মাণ খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ থাকা অবকাঠামো ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।(Aramit Cement Limited)
একই ধারাবাহিকতায়, টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার খাতের কোম্পানি নুরানি ডাইং অ্যান্ড সুয়েটার লিমিটেড–এর কারখানাও গত ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ডিএসই পরিদর্শনে বন্ধ পাওয়া যায়। রং ও সুয়েটার উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিক, সরবরাহকারী এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।(Nurani Dyeing & Sweater Limited)
স্টিল খাতের আরেকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড–এর কারখানাও ডিএসইর পরিদর্শনে উৎপাদন বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম চালু ছিল না বলে জানানো হয়, যা ইস্পাত খাতের সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।(Ratanpur Steel Re-Rolling Mills Limited)
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির কারখানা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুর্বলতার ইঙ্গিতই নয়, বরং দেশের শিল্পখাতে চলমান চাপ ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে ডিএসই যে বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে, তা বাজারে স্বচ্ছতা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- কোহিনূর কেমিক্যালসের বোনাস ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!
- মন্নো অ্যাগ্রোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- প্রবাসী'র পক্ষে ব্যারিস্টার নাজির ও মীর্জা আসহাব এর বিমান ও পর্যটন সচিব ও উপদেষ্টার সাথে বৈঠক
- আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল
- কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা
- মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে
- হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- স্মার্টফোন এখন আরও হাতের নাগালে: ৪০ হাজার টাকার ফোনে ছাড় ৮ হাজার
- বিসিবি-আইসিসি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়,কী ঘটেছিল সেদিন
- স্বর্ণের বাজারে অগ্নিমূল্য: রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় দাম, দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
- টিভিতে আজকের খেলা: বিগ ব্যাশ থেকে বুন্দেসলিগা, চোখ থাকবে যেখানে
- তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- সংকুচিত হয়েছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: ২০২৪-এর সৌর ঝড় নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ
- শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি
- আবারও দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম
- ১৫ মেগাসিটির সফর শেষে ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের স্বর্ণালি ট্রফি
- ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সেরা ৪টি তেল
- ৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি
- মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা
- বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি
- অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
- নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান করেছে নানিয়ারচর জোন
- গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম
- ভালুকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
- বিসিবি ও আইসিসি বৈঠক: বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কাটছে না জটিলতা
- শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- ডিএসই মেইন বোর্ডে ভারসাম্যপূর্ণ টার্নওভার
- ১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজকের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ডিএসইতে আজকের দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
- সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু
- সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ
- স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগ, পাঠানো হলো চিঠি
- ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
- ওজন হাতের মুঠোয় রাখতে চান? ডিনার শেষে পান করুন এই পানীয়
- পেঁপে কিনছেন? রাসায়নিকযুক্ত ফল চেনার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন
- রেস্তোরাঁ স্টাইলে মিষ্টি আলুর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির সহজ নিয়ম
- শীতে পিঠার স্বাদে ভিন্নতা আনতে পাতে রাখুন ‘বাঁধাকপির পিঠা’: জেনে নিন রেসিপি
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








