আসিফ নজরুল বনাম আইসিসি: বিশ্বকাপে কি তবে অনিশ্চিত বাংলাদেশ?

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে বর্তমানে এক বিশাল বিতর্ক তৈরি হয়েছে যা খোদ ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের করা একাধিক দাবিকে আইসিসি সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে এই বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মিল নেই।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইসিসির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিসিবির সঙ্গে একটি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ হয়েছিল ঠিকই, তবে সেটিকে আসিফ নজরুল ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে আসিফ নজরুল যে ধরনের দাবির কথা উল্লেখ করেছেন তা বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আসিফ নজরুলের করা বিস্ফোরক অভিযোগগুলো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এর আগে গত সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন যে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী প্রথম বড় কারণটি ছিল দলে মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি যা নাকি সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে।
এছাড়া সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরে চলাচল এবং দেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে দলের ওপর বাড়তি হুমকি আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তবে আইসিসি এই দাবিগুলোকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বার্তায় উল্লেখ করা হয়নি। আইসিসির পক্ষ থেকে মুস্তাফিজকে দলে রাখলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে—এমন কোনো ইঙ্গিতকেও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ওপর বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যার শুরুটা হয়েছিল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়পত্র না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় যা দুই দেশের ক্রীড়া কূটনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আইসিসিকে প্রস্তাব দিয়েছে যেন তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামার জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা দল। আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের নির্ধারিত অনুশীলন সেশনটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্কালোনির শিষ্যরা। তবে অনুশীলনের আগে লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাতে শুরুর একাদশে বড় কোনো রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সর্বশেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মাঠের পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সেই ম্যাচে ইউরোপের দলটি দ্বিতীয়ার্ধের ২৭তম মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও আর্জেন্টিনাকে জয় ছিনিয়ে আনতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পরও কোচ স্কালোনি তাঁর নিয়মিত ও অভিজ্ঞ একাদশের ওপরই ভরসা রাখছেন এবং তাদের বেশিরভাগকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রারম্ভিক লাইনআপে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্কালোনি মূলত মিশরের বিরুদ্ধে জয়ী দলটিকে অপরিবর্তিত রেখে মাঠে নামিয়েছিলেন। তাঁর পুরো কোচিং ক্যারিয়ারে এটি ছিল মাত্র চতুর্থবারের মতো একই শুরুর একাদশ টানা দুই ম্যাচে ব্যবহার করার ঘটনা। ওই ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন বস জানিয়েছিলেন, আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তারা ইতিবাচক দিকই বেশি খুঁজে পেয়েছেন। কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল এবং পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল; মূল সমস্যা ছিল কেবল ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং রক্ষণের কিছু বিচ্ছিন্ন ভুল।
তবে আসন্ন সেমিফাইনালে নিয়মিত খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার কারণটি কিছুটা ভিন্ন। এর পেছনে কাজ করছে খেলোয়াড়দের প্রতি কোচের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, দলের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার সাথে তাদের গভীর বোঝাপড়া এবং কাতার বিশ্বকাপের মতোই তারা নিজেদের খোলস ছেড়ে সেরা ফর্মে ফিরবে—এমন জোরালো প্রত্যাশা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে আলবিসেলেস্তেদের মাঝমাঠ নিয়ে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস আগের ম্যাচে পেশিতে টান অনুভব করায় কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও, মিডফিল্ডের বাকি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও প্রত্যাশার তুলনায় বেশ ম্লান ছিল। তবে এই সংবেদনশীল পজিশনে নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর বাইরে কিছু নির্দিষ্ট পজিশনে কৌশলগত কারণে ছোটখাটো পরিবর্তন বা সমন্বয় দেখা যেতে পারে, যদিও কারা একাদশে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স ও ফর্ম বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, নাহুয়েল মোলিনার পরিবর্তে গনসালো মন্তিয়েল এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হতে পারে।
কাতার বিশ্বকাপের কৌশলের মতোই, এবারও স্কালোনি ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর শুরুর একাদশ সম্পূর্ণ গোপন রাখার নীতি বজায় রাখছেন। স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে দলের চূড়ান্ত বৈঠকেই কেবল খেলোয়াড়রা জানতে পারবেন কারা মাঠে নামছেন। এর আগে আজকের অনুশীলন, মঙ্গলবারের প্রস্তুতি সেশন এবং কোচের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে আরও কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: টিওয়াইস্পোর্টস
ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচয় সরালেন ভিনিসিয়ুস, ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়
ফুটবল অঙ্গনে নাটকীয় এক গুঞ্জনের জন্ম দিয়ে নতুন করে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সব ধরনের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা মুছে ফেলেছেন এই তারকা উইঙ্গার। বর্তমানে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত পরিচিতি বা বায়োতে শুধুমাত্র ব্রাজিল জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে পরিচয় দেওয়া রয়েছে।
সোমবার ভিনিসিয়ুসের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই আকস্মিক পরিবর্তনটি ফুটবলপ্রেমীদের নজরে আসে। আর এই ঘটনার পর থেকেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এই তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে নানামুখী জল্পনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে তার নতুন চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ভিনিসিয়ুসের সাথে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিকে রিয়াল মাদ্রিদ প্রশাসন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ক্লাবের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও চেয়েছিলেন দলে নতুন কোনো বড় তারকা ভেড়ানোর আগেই এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিসিয়ুসের এই আকস্মিক পরিবর্তন সেই পরিকল্পনার ওপর এক ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেনসা সেন্ট্রাল’ তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভিনিসিয়ুস তার প্রোফাইলের মূল ছবি পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ কালো রঙের ছবি দিয়েছেন, বায়ো থেকে রিয়াল মাদ্রিদের নাম বাদ দিয়েছেন এবং ক্লাব সংক্রান্ত পূর্বের পিন করা পোস্টগুলোও প্রোফাইলের ওপর থেকে সরিয়ে ফেলেছেন।
এমনকি তার সাম্প্রতিক পোস্টগুলোর দিকে তাকালেও রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ছবি বা সম্পৃক্ততা তেমন একটা চোখে পড়ছে না। সতীর্থ ডেভিড আলাবা এবং দানি কারভাহালের বিদায়লগ্নে দেওয়া কিছু আবেগঘন বার্তা ছাড়া ক্লাবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোনো পোস্ট করেননি। তবে এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সেভিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচের পর ভিনিসিয়ুস একইভাবে নিজের প্রোফাইল থেকে রিয়াল মাদ্রিদের নাম সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকদের একাংশের কাছ থেকে তাকে দুয়োধ্বনিও শুনতে হয়েছিল।
অবশ্য ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের এই পরিবর্তনকে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই ক্লাব ছাড়ার চূড়ান্ত সংকেত হিসেবে এখনই বিবেচনা করতে নারাজ। অনেক সময় ফুটবলাররা ব্যক্তিগত কৌশল, স্পনসরশিপের তাগিদ বা বাণিজ্যিক বিভিন্ন কারণেও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে এমন রদবদল এনে থাকেন। তাছাড়া এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ভিনিসিয়ুস নিজে বা তার প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের সাথে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে নিকট ভবিষ্যতের মধ্যে যদি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে লস ব্লাঙ্কোসদের বাধ্য হয়েই তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
ভিনিসিয়ুস যদি শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে নিজের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত না করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে মাইকেল ওলিসের মতো উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তারকাদের দলে ভেড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে। তবে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার বিশাল বেতন কাঠামো বজায় রেখে নতুন কোনো সমীকরণ মেলানো রিয়ালের জন্য বেশ জটিল ও কঠিন হতে পারে। আপাতত ফুটবল বিশ্ব সাগ্রহে অপেক্ষা করছে দেখার জন্য যে, ভিনিসিয়ুস শেষ পর্যন্ত রিয়ালের নতুন চুক্তিতে সই করে বার্নাব্যুতেই থেকে যান, নাকি তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন কোনো বাঁক আসে।
/আশিক
ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প
ইউরোপীয় রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মহাদেশটিতে অভিবাসন প্রক্রিয়া, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে কেন্দ্র করে নানামুখী উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। তবে এই চেনা পরিস্থিতির উল্টো পিঠে, ইউরোপের ফুটবল মাঠগুলোতে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বর্তমান প্রজন্মের একঝাঁক মুসলিম ফুটবলার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরগুলোতে খেলার সময় নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অত্যন্ত প্রকাশ্যে ও গর্বের সাথে তুলে ধরছেন। মাঠের এই চেনা দৃশ্যগুলো যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ইসলাম এখন ইউরোপীয় সমাজেরই একটি অন্যতম এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিমের বসবাস, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। স্বাভাবিকভাবেই, ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইসলামের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি ও অনুশীলনের প্রতিফলন দেখা যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবারের আসরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপীয় দেশগুলোর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা মুসলিম তারকাদের প্রকাশ্য ধর্মীয় উদযাপন।
এর একটি বড় উদাহরণ স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা তথা বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার পর তিনি মাঠেই সেজদা দিয়ে পরম করুণাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইয়ামালের এই উদযাপন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
অথচ এই ঘটনার মাত্র কয়েক মাস আগেই বার্সেলোনায় স্পেন ও মিসরের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির একটি অংশ থেকে ‘যে লাফায় না, সে মুসলিম’—এমন আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কড়া জবাব দিয়ে ইয়ামাল লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। ফুটবল মূলত মানুষের বিনোদন এবং পারস্পরিক অনুপ্রেরণার জন্য তৈরি, কারও ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত বা অসম্মান করার জন্য নয়।’
সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টেডিয়ামে ফুটবলারদের লক্ষ্য করে এমন বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে উগ্র ডানপন্থি দল এবং মূলধারার কিছু রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে ‘খ্রিস্টান ইউরোপ’ বনাম ‘বহিরাগত ইসলাম’—এমন একটি কাল্পনিক বিভাজন দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম—উভয় ধর্মেরই উৎপত্তি ইউরোপের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে, প্রায় একই অঞ্চলে।
ইউরোপে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা শুধু ইয়ামালের একার নয়। ২০২৪ সালে জার্মানির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ডান হাতের এক আঙুল উঁচিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা ইসলামে আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদের প্রতীক হিসেবে সর্বজনবিদিত।
কিন্তু জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান রাইশেল্ট এই ছবিটিকে উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সমর্থনের প্রতীক বলে দাবি করেন। এই ঘটনার পর রুডিগার ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি ও বর্ণবাদী বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে মামলাটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটে সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আইয়ারির ক্ষেত্রে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ইয়ামালের সেজদা দেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই, তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার পর একইভাবে সেজদা দেন আইয়ারি। তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার গোলের পর প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হাত তুলে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিও করেছিলেন। তবে তার এই ধর্মীয় উদযাপন সুইডেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে জাতিগত পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। সুইডেনের উগ্র ডানপন্থি দল ‘সুইডিশ ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা জিম্মি আকেসনসহ কট্টরপন্থিদের অনেকেই আইয়ারিকে ‘প্রকৃত সুইডিশ’ নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
উগ্রপন্থিদের এমন বিরোধিতার মুখে আইয়ারির পরিবার তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেছে। তার বাবা আজুজ, যিনি বহু বছর আগে তিউনিসিয়া থেকে সুইডেনে এসে স্থায়ী হয়েছেন, তিনি সবসময় তার ছেলেকে তিউনিসিয়ার পরিবর্তে সুইডেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম ‘আফটনব্লাডেট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানেরা সম্পূর্ণভাবে সুইডেনের অংশ। তারা এই দেশেই জন্মগ্রহণ করেছে, এখানেই বড় হয়েছে এবং তাদের বন্ধু সার্কেলও এখানকারই। আমি নিজে একজন অভিবাসী হলেও ইয়াসিন তিউনিসীয় শিকড় বহনকারী একজন খাঁটি সুইডিশ নাগরিক। সুতরাং সুইডেনের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম সে যেন সুইডেনের হয়েই মাঠে নামে। যে দেশ তাকে উন্নত শিক্ষা, সুন্দর জীবনের সুযোগ এবং নিরাপত্তা দিয়েছে, সেই দেশের জন্য অবদান রাখা ও কিছু ফিরিয়ে দেওয়াটা তার নাগরিক দায়িত্ব। আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই বিশাল অর্জনে আমি একজন বাবা হিসেবে অত্যন্ত গর্বিত।’
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহোৎসব চলাকালেই মাঠের বাইরের চরম রাজনৈতিক প্রভাব, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) ও এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন বিশ্বজুড়ে তীব্র ও নজিরবিহীন সমালোচনার মুখে পড়েছে।
একদিকে চলমান বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এক আমেরিকান খেলোয়াড়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে; অন্যদিকে গ্রুপ ও নকআউট পর্বে মিশর ও কেপ ভার্দের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে পরাশক্তি আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিদের নগ্ন ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তবে সমালোচক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে ফিফার এমন বিতর্কিত ও একপেশে আচরণ মোটেও নতুন কিছু নয়। ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়িত ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সংস্থাটির নিজস্ব গঠনতন্ত্রে মানবাধিকার রক্ষার বড় বড় অঙ্গীকারের কথা লেখা থাকলেও, ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্ষেত্রে তারা বছরের পর বছর ধরে তা বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্ধ ও নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (PFA) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বসবাসকারী ক্লাবগুলোকে নিজেদের ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি দেওয়ায় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (IFA) ফিফা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হোক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) একাধিক রায় এবং জাতিসংঘের অসংখ্য প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ফিফা প্রতিবারই ফিলিস্তিনের সেই ন্যায্য দাবিকে চরম ঔদাসীন্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফিফা এখনও হাস্যকরভাবে দাবি করে যে, ফিলিস্তিনের এই রাজনৈতিক অভিযোগগুলো ‘আন্তর্জাতিক জনআইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়’ এবং পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সমালোচকদের স্পষ্ট ভাষ্য, ফিফার এই অবস্থান মূলত পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বকেই আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন জোগায় এবং ফিলিস্তিনি ভূমি গ্রাসকে বৈধতা দেওয়ার চক্রান্তের সঙ্গে সুর মেলায়।
শুধু তাই নয়, ইসরায়েলি বাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের নির্বিচারে হত্যা, পঙ্গু করা কিংবা বিনা বিচারে গ্রেপ্তারের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনোদিন একটি আনুষ্ঠানিক নিন্দাপ্রস্তাবও জানায়নি ফিফা। সর্বশেষ ইসরায়েলি কারাগারের অন্ধকারে বন্দী ফিলিস্তিন জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় র্যান্ড হালাওয়ানি ও নাতালি আবু দায়েহর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতেও তারা ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ তোলেনি। গাজায় ফিলিস্তিনি স্টেডিয়ামগুলো বোমাবর্ষণ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া কিংবা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচে যাতায়াতে ইসরায়েলি চেকপোস্টে বছরের পর বছর ধরে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাতেও ফিফা সবসময় চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
সমালোচকদের মতে, ইসরায়েল যেভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্য (অ্যাপারথেইড) ও বর্বর দখলদারত্বকে স্বাভাবিক করার হাতিয়ার হিসেবে পর্যটন ও কৃষিকে ব্যবহার করেছে, ঠিক একইভাবে ফুটবলকেও তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এই কাজে ফিফা সরাসরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি গাজা ও লেবাননে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষে যেসব ফুটবলার সাফাই গেয়েছেন, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও ফিফা নির্বিকার।
ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ:মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমলে সংস্থাটির এই একচোখা ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকা আরও বেশি নগ্ন ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর এই অপরাধমূলক নীরবতার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্ণবৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে শত শত সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও প্রতিবেদন পাঠানো সত্ত্বেও ইনফান্তিনো তা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছেন এবং কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
নীরব থাকার পাশাপাশি ইসরায়েলের কলঙ্কিত ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে উজ্জ্বল করার জন্য ফিফা নিজে সক্রিয় দালালি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি একটি অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে মুখোমুখি করার একটি কৃত্রিম প্রস্তাব দেয় ফিফা, যার পোশাকি উদ্দেশ্য বলা হয়েছিল ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইনফান্তিনো নিজে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পিএফএ (PFA) সভাপতিকে তাঁর ইসরায়েলি সমকক্ষের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করতে বাধ্য করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা আর কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেনি। সংস্থাটি এখন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ভূরাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির এক আজ্ঞাবহ গোলাম ও দাসে পরিণত হয়েছে।
ইনফান্তিনোর বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২০১৮ সালে তিনি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনে বিতর্কিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (ইসরায়েল-আরব স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফ্রেমবন্দী হন। ২০২১ সালে তিনি ডানপন্থী ইসরায়েলি মিডিয়া জেরুজালেম পোস্ট-এর একটি বিশেষ সম্মেলনে অংশ নেন, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল জেরুজালেমের মামিল্লাহ মুসলিম কবরস্থানের ওপর নির্মিত একটি বিতর্কিত স্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জাতিসংঘকে ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলদারত্ব বন্ধে আন্তর্জাতিক আইনি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে গঠিত বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ইনফান্তিনো কোনো রাখঢাক না রেখেই ফুটবলের মাধ্যমে পুনর্গঠন ও তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ওই বিতর্কিত বোর্ডের সঙ্গে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে চলমান মার্কিন হস্তক্ষেপ ও রেফারিংয়ের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারীকে মূলত ফিফার এই বৃহত্তর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের অংশ হিসেবেই দেখছেন ক্রীড়ামোদীরা। আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলোয়াড়, রেফারি ও সমর্থকদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে ইনফান্তিনো উল্টো বিশ্ববাসীকে ধমকের সুরে ‘শান্ত থাকুন, আরাম করুন’ বলে মন্তব্য করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ফিফার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফুটবলকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখার মূল চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আস্থার ভিতকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছে। ইনফান্তিনো যদি অবিলম্বে মার্কিন দাসত্ব ও ইসরায়েলি তোষণ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কেবলই ধ্বংস, দুর্নীতি ও কলঙ্কের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
তবে ফিফার এমন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও আগ্রাসী দখলদারত্বের সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিলিস্তিনি ফুটবল টিকে থাকবে বুক চিতিয়ে। আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, ১৯০৪ সালে জেরুজালেমের সেন্ট জর্জ স্কুল দলের হাত ধরে ফিলিস্তিনের পবিত্র মাটিতে যে ফুটবলের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফিলিস্তিনের আপামর জনতার মুক্তিকামী চেতনার মতোই, তাদের এই প্রিয় খেলাটিও যেকোনো অবৈধ দখলদারত্ব, পাশবিক গণহত্যা এবং ফিফার চরম দুর্নীতির দেয়াল ভেঙে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার অসীম শক্তি রাখে।
লেখক: জেভিয়ার আবু ঈদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
রেফারিই হারিয়ে দিল আমাদের, এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফুঁসছেন মুরাত ইয়াকিন
চলতি বিশ্বকাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফিফা ব্যাপক উন্নতিসাধন করলেও, ফুটবল বিশ্বের চিরন্তন বিতর্ক ‘রেফারিং’-এর জটলা থেকে মুক্ত হতে পারেননি সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিগত আসর বানানোর চেষ্টা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রেফারিং নিয়ে দলগুলোর ক্ষোভ ও অভিযোগের পাহাড় জমছে। নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচটিও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন তাঁর দলের প্রধান স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড নিয়ে সরাসরি রেফারি ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রেফারি কর্তৃক ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (Mistaken Identity) প্রোটোকল ব্যবহার করে এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন সুইস কোচ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রেফারির এই চরম বিতর্কিত ও ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের উইঙ্গার ড্যান এনডয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরান। কিন্তু ইউরোপীয় দলটির সেই সমতায় ফেরার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ৭০ মিনিটের মাথায় ঘটে এই আসরের অন্যতম সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাটি।
ম্যাচে সমতা আসার কিছুক্ষণ পর মাঠের মাঝখানে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে পেছন থেকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠের দায়িত্বে থাকা পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো পারেদেসকে ফাউলের অপরাধে হলুদ কার্ড দেখান। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আপত্তির মুখে ভিএআর (VAR) রুম থেকে অন-ফিল্ড রেফারিকে রিপ্লে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রেফারি পিনেইরো মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখার পর তাঁর মূল সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শরীরের সাথে সরাসরি কোনো স্পর্শ বা সংস্পর্শে আসার আগেই এমবোলো ডাইভ দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রেফারি ভিএআর-এর বিশেষ ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ প্রোটোকল প্রয়োগ করেন। এর ফলে পারেদেসের ওপর আনা ফাউলের অভিযোগ ও হলুদ কার্ডটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়। উল্টো রেফারিকে ধোঁকা দেওয়ার বা ডাইভ দেওয়ার অপরাধে ব্রিল এমবোলোকে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন রেফারি।
যেহেতু সুইস এই ফরোয়ার্ড ম্যাচের প্রথমার্ধেই প্রথাগত অন্য একটি ফাউলের কারণে একটি হলুদ কার্ড পেয়ে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন, তাই ডাইভের কারণে প্রাপ্ত এই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সমীকরণে রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। ১-১ সমতার ম্যাচে মুহূর্তের মধ্যে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড, যা তাদের পুরো রণকৌশলকে ধ্বংস করে দেয়।
ম্যাচ পরবর্তী অফিশিয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে রেফারির ওপর নিজের সমস্ত ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দেন সুইস মাস্টারমাইন্ড মুরাত ইয়াকিন। তিনি ম্যাচ হারের প্রধান কারণ হিসেবে রেফারিকে দায়ী করে বলেন, “রেফারির একটি সম্পূর্ণ ভুল ও একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে আজ আমাদের পুরো দলকে চড়া মূল্য চোকাতে হয়েছে। ফুটবলের এই অদ্ভুত নিয়মটি সম্পর্কে ম্যাচ শুরুর আগে আমি বা আমার কোচিং স্টাফের কেউই জানতাম না। খুবই সাধারণ এবং সাধারণ একটি ট্যাকলের ঘটনায় ভিএআর যেভাবে অযাচিত হস্তক্ষেপ করল, সেটাই আজ ম্যাচের পুরো ভাগ্য বদলে দিল।
রেফারি এখানে সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওটা যদি ডাইভ বা ফাউলও হয়ে থাকে, তবে সেটি ছিল খুবই লঘু একটি ঘটনা, যার জন্য লাল কার্ডের মতো কঠোর শাস্তি কখনোই হতে পারে না। আমি ভালো করেই জানি ফিফা অফিশিয়ালি তাদের রেফারিকেই সমর্থন করবে, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো এই ত্রুটিপূর্ণ নিয়মটি আজ আমাদের পুরো ম্যাচটাই নষ্ট করে দিয়েছে।”
/আশিক
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ইংল্যান্ড!
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চ এখন একদম শেষ প্রান্তে। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের সমস্ত নাটকীয়তা পেছনে ফেলে ইতিমধ্যেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার পরাশক্তি। ফাইনালে ওঠার প্রথম হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও স্পেন। অন্যদিকে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ধ্রুপদী দ্বৈরথে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে লড়াকু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
সেমিফাইনালে পা রাখা প্রতিটি দলই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় শক্তিতে শিরোপা জেতার সমান সামর্থ্য রাখে। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল মেটাতে শক্তিমত্তা, সাম্প্রতিক ফর্ম ও নিখুঁত অতীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সেমিফাইনালের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে বিখ্যাত ক্রীড়া পরিসংখ্যান ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান অপ্টার (Opta) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার।
অপ্টার ডেটা অ্যানালিসিস অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। তবে সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ তথ্য হলো, দুই দলের এই মহাযুদ্ধে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নয়, বরং থ্রি-লায়ন্স খ্যাত ইংল্যান্ডকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখছে অপ্টা সুপার কম্পিউটার। তাদের গাণিতিক হিসাব বলছে, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় কিঞ্চিৎ এগিয়ে রয়েছে ইংলিশরা। হ্যারি কেনদের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা যেখানে ৫০.৯৬ শতাংশ, সেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৪৯.০৪ শতাংশ।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফলের ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, মাঠের লড়াইয়ে সরাসরি ইংল্যান্ডের জেতার সম্ভাবনা ৩৮.৯ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ৩৪.১০ শতাংশ। এর পাশাপাশি চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো ফলাফল না এসে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে (ড্র) গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২৭ শতাংশ।
ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ের পাশাপাশি এই আসরের মূল সোনালী ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যাচ্ছে, তা নিয়েও একটি দীর্ঘমেয়াদি সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ সিমুলেশন অনুযায়ী, এবারও টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ২০.৫৫ শতাংশ। তবে ট্রফি জয়ের এই দৌড়েও আর্জেন্টিনাকে সামান্য পেছনে ফেলে ২১.৯৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে হ্যারি কেন ও বেলিংহ্যামদের ইংল্যান্ড। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, মাঠের বাস্তব লড়াইয়ে সুপার কম্পিউটারের এই গাণিতিক হিসাব শেষ পর্যন্ত কতটা মেলে, তা দেখার জন্য।
/আশিক
‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের রোমাঞ্চকর লড়াই শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং ম্যাচ রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনেইরোর মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ড একটি ফ্রি-কিক পাওয়ার পর ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। প্রতিরক্ষা দেওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মেসিকে নির্ধারিত দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দেন পর্তুগিজ রেফারি পিনেইরো। তবে নির্দেশ দেওয়ার সময় তার কথা বলার ধরন ও অঙ্গভঙ্গি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পছন্দ হয়নি। এতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেসি রেফারিকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন।’
ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। ফ্রি-কিক নেওয়ার পরও দুজনের মধ্যে আবার কথোপকথন হয়। টেলিভিশনের ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি আবারও রেফারির কাছে গিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ঠোঁটের ভাষা বিশ্লেষণে ফুটে ওঠে, তিনি বলছিলেন, ‘আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি তো আপনাকে সম্মান দিয়েই কথা বলেছি।’
উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তেও মেসির আচরণ ছিল সংযত। উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করলেও তিনি হাত পেছনে রেখে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অধিনায়ক হিসেবে তিনি মূলত সম্মানজনক আচরণের দাবিই জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি।
এই ঘটনার ভিডিও দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ মেসির অবস্থানকে নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ মাঠে রেফারির কর্তৃত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
ম্যাচটি পরিচালনা করা জোয়াও পেদ্রো পিনেইরো বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় রেফারি হিসেবে পরিচিত। ৩৮ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ রেফারি ২০১৫ সালে দেশটির শীর্ষ লিগে অভিষেক করেন। মাত্র এক বছর পরই তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি ব্যাজ অর্জন করেন।
পরবর্তীতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ, উয়েফা নেশনস লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা সুপার কাপসহ ইউরোপের একাধিক শীর্ষ প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তাকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
-রাফসান
সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই আবারও ফিরছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার মহাসমীকরণে বা কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে এই ভেন্যুতেই আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের লড়াকু দল সুইজারল্যান্ডের।
ফুটবলীয় ইতিহাস ও পরিসংখ্যান অবশ্য এই দ্বৈরথে স্পষ্ট ব্যবধানে আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। কারণ, সুইসদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই হারের মুখ দেখেনি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বকাপের শেষ ও চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে সেমির টিকিট কাটার লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত তারা সর্বমোট সাতটি ম্যাচে একে অপরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ছিল সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে—প্রথমটি ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এবং দ্বিতীয়টি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে।
সরাসরি সাতবারের দেখায় পাঁচটিতেই শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা, আর বাকি দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। আজ থেকে ৬০ বছর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর দুই দলের সর্বশেষ স্মরণীয় দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেই আসরের রাউন্ড অব সিক্সটিনে ১-০ গোলের নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস থেকে ডি-বক্সে বল পান আনহেল ডি মারিয়া। নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন তিনি।
এবারের ২০২৬ আসরে আর্জেন্টিনার সেই ট্রফিজয়ী তারকা ডি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় দলে না থাকলেও, বরাবরের মতোই দলকে নেতৃত্ব দিতে আছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
এদিকে ফুটবলীয় এক দারুণ সংযোগ হিসেবে, ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের তিন ফুটবলার দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও এই বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি, সুইজারল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক ও মাঝমাঠের চালিকাশক্তি গ্রানিত জাকা এবং দলটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ।
কানসাসের চেনা মাঠে এবারও কি অতীতের সেই অপরাজেয় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সেমিফাইনালে পা রাখবে আর্জেন্টিনা, নাকি শক্তিশালী বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বধ করে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে নতুন রূপকথা লিখবে সুইজারল্যান্ড—সেই চূড়ান্ত উত্তর মিলবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের মাঠের লড়াইয়ে।
/আশিক
মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যেভাবে তিনি একের পর এক ম্যাচে আলো ছড়াচ্ছেন, তা দেখে অনেকেই তাঁর বয়সকে সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না; মাঠের গতিতে তাঁকে ২৫ বছর বয়সী কোনো উদ্যমী তরুণের মতোই সাবলীল দেখাচ্ছে। স্প্যানিশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেসির এই অসাধারণ শারীরিক ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচ ফিটনেসের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, মেসি এখন বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম।
মেগা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে ব্যক্তিগত ৮টি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার এই প্রাণভ্রমরা। গোল্ডেন বুটের শীর্ষ দৌড়ে থাকা এই ফুটবল জাদুকর শুধু মাঠের ভেতরেই রাজত্ব করছেন না, বরং মাঠের বাইরের চরম সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার কারণেই তিনি বয়সের এই কঠিন বাঁধাকে অনায়াসে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
অথচ বেশ কিছুদিন আগে, মেসি যখন ইউরোপীয় ফুটবলের পাট চুকিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সমালোচকদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের বুঝি গোধূলি লগ্ন শুরু হয়ে গেছে। তবে বর্তমানের বাস্তবতা সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছে। আমেরিকার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শারীরিকভাবে কতটা কঠিন ও চাহিদাপূর্ণ একটি লিগ, তা মেসি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এমএলএস-এর দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ সূচি, কৃত্রিম টার্ফে (আর্টিফিশিয়াল টার্ফ) খেলার চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর বৈরিতা সামলে যেভাবে তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ ফিট রেখেছেন, তা তাঁর পেশাদারিত্বের এক পরম উৎকর্ষতা প্রকাশ করে। মায়ামিতে তাঁর সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বমঞ্চে মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে এমএলএস আদতে কতটা মানসম্মত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ফুটবল লিগ।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির এই অসামান্য ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পেছনে আকস্মিক কোনো জাদুমন্ত্র নেই, বরং রয়েছে বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। তাঁর পরিবার, মার্কেটিং পার্টনার এবং বিশেষায়িত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত সুচারুভাবে মাঠের বাইরের সব ধরনের মানসিক চাপ ও মিডিয়া হাইপ থেকে তাঁকে দূরে রাখে, যাতে তিনি মাঠে নেমে কেবল শতভাগ ফুটবলেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।
এ ছাড়া, ইন্টার মায়ামি ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বছরের শুরুতে সুপরিকল্পিত প্রাক-মৌসুম (প্রি-সিজন) কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ফিজিও থেরাপির আধুনিক ও সঠিক ব্যবহার তাঁকে বিশ্বকাপের মতো আসরের জন্য শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ চূড়ায় প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি নিজের চিরচেনা খাদ্যভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনার মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোও এখন দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনছে, যা তাঁকে বয়সের ভার থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে।
তাঁর এই বয়সে এসেও শারীরিক সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তাঁর দৌড়ের গতির নিখুঁত পরিসংখ্যানে। স্প্যানিশ খ্যাতনামা ক্রীড়া পত্রিকা ‘মার্কা’-এর প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেসির ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে তাঁর সর্বোচ্চ গতি যেখানে ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি; সেখানে ৩৯ বছর বয়সে এসে চলমান বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় ৩০.৯ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি তুলেছেন।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও বর্তমান সময়ে এসে তাঁর গতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে এক রহস্যময় ও অভূতপূর্ব উন্নতি, যা চিকিৎসা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের আধুনিক ইতিহাসেও অত্যন্ত বিরল। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও মনে করেন, মেসি আসলে তাঁর সহজাত সামর্থ্যের সেরা ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করছেন এবং তিনি যখনই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সুযোগ পান, তখনই মাঠে এক বিধ্বংসী ও অপ্রতিরোধ্য গোলিং মেশিনে পরিণত হন।
চলতি আসরে মেসির এই দুর্দান্ত ও রাজকীয় পথচলা দেখে এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন এক রোমাঞ্চকর প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে; লিওনেল মেসি কি তবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে মাঠ কাঁপাবেন? ৪৩ বছর বয়সে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ও কাল্পনিক মনে হলেও, মেসির সাম্প্রতিক ফর্ম, নিখুঁত ফিটনেস ও ফুটবলের প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে যেকোনো অসম্ভবই যেন সম্ভব হতে পারে।
তিনি নিজে যতদিন না বুটজোড়া তুলে রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত মাঠের ফুটবলে তাঁকে থামিয়ে দেওয়া কোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের পক্ষেই সম্ভব নয়। আপাতত বৈশ্বিক ফুটবলে তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হওয়ার প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ববাসী, কারণ লিওনেল মেসি কেবল একজন ক্ষণজন্মা খেলোয়াড় নন, তিনি ফুটবলের ইতিহাসের এক অমর ও জীবন্ত মহাকাব্য।
সূত্র: মার্কা
পাঠকের মতামত:
- মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
- বন্যায় মানুষ মরছে, আর প্রধানমন্ত্রী বরিশালে সফর করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- দুর্যোগেও কেন চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, কারণ ব্যাখ্যা করল শিক্ষা বোর্ড
- রাঙ্গামাটিতে ভারীবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
- ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
- ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হয়ে অর্থ আদায় করবে ওয়াশিংটন
- পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: কোন দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচয় সরালেন ভিনিসিয়ুস, ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়
- সবাই মিলে স্বৈরাচার হটিয়েছি, এবার আসুন দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প
- গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা
- যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা
- আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
- শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে আইন অনুযায়ী জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ
- সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে গল্প ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- বন্যা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ঢাকাজুড়ে আজও বৃষ্টি, কী বলছে আবহাওয়া অফিস?
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
- আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- স্বর্ণবাজারে নতুন ধাক্কা, এক লাফে বাড়ল ভরির দাম
- শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা বঙ্গোপসাগরেও জায়গা পাবেন না: পাটওয়ারী
- সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১
- ছাত্র দিয়ে এসএসসি খাতা মূল্যায়ন: দেবিদ্বারের আলোচিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ছাত্র গ্রেপ্তার
- কুমিল্লার বাজারে সবজির দামে আগুন: কাঁচা মরিচ ২৮০ ও টমেটো ২৪০ টাকা কেজি
- ৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
- ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি
- দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
- রেফারিই হারিয়ে দিল আমাদের, এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফুঁসছেন মুরাত ইয়াকিন
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ইংল্যান্ড!
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- সাত জেলায় বন্যার্তদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা ও ৩ কেজি চাল!
- ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুসহ ১৩ বিশ্বনেতাকে হত্যার ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করল ইরানের গণমাধ্যম
- প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা
- মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি
- আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম
- তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর: বিনা জামানতে মিলবে ১০ লাখ টাকার ঋণ
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- ‘প্রতিশ্রুতি না রাখলে মূল্য দিতে হবে’: গালিবাফ
- রোববার রাজধানীর কোথায় মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, যেভাবে জানবেন রেজাল্ট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা, তবু কেন অনীহা ব্যাংকগুলোর?
- বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করল মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট
- ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ উদ্ধারের সময় বাসের চাপা, ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
- দাউদকান্দি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২১ ও ১৭ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- টানা বাড়তির পর বড় ধাক্কা, কমল স্বর্ণের দাম
- ২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- ‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প








