পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক সমীকরণ। দেশের চলমান আর্থিক সংকট এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের সুপারিশমালা ও একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পে-কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন মূলত বেতনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধাপের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন হবে ৮ টাকা।
সর্বনিম্ন বেতন কত হতে পারে? নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে
প্রথম প্রস্তাব: ২১ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১৭ হাজার টাকা।
তৃতীয় প্রস্তাব: ১৬ হাজার টাকা। কমিশন মূল্যস্ফীতি এবং একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন ধরে ব্যয়ের হিসাব কষছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উভয়েই জানিয়েছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়ে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও এটি কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি সময়োপযোগী কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরণের আর্থিক চাপ নিতে চাইছে না বর্তমান প্রশাসন।
প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা
২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত দুই বছর ধরে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সরাসরি আদালতে বা আইনের কাছে আত্মসমর্পণের কোনো ধরনের আইনি সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে যদি দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত আনা হয়, তবে তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার হয়ে বাধ্যতামূলকভাবে কারাগারেই যেতে হবে।
আজ রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এই আইনি ব্যাখ্যা ও কড়া বার্তা প্রদান করেন।
সম্প্রতি গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের দিকে তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে সশরীরে আদালতের মুখোমুখি হবেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা সমস্ত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন সবাই গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসে ওই সময়ে তাঁর সঙ্গে একযোগে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে জোর কূটনৈতিক অনুরোধ জানিয়েছে। এখন মূল আইনি প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যেহেতু বর্তমানে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে ও নজরদারিতে রয়েছেন, তাই তাঁর নিজের ইচ্ছায় বা নিজে নিজে বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগই নেই।
হয় দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) আওতায় তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) করা হবে, অথবা তাঁকে পুশব্যাক করা হবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, মূলত দেশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে দেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার এক অপকৌশল হিসেবেই শেখ হাসিনা ভারত থেকে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনিও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
এই অবস্থায় দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের আইনি জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দেশের বিচারিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার নজির নেই। সুতরাং, শেখ হাসিনাকে যদি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয় বা তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়, তবে সংগত কারণেই তিনি প্রথমে সরাসরি জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই আইনি বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে।”
আইনের জটিল ধারা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান স্বচক্ষে তুলে ধরে বলেন, “সেকশন ২১-এর ৩ উপধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার ৩০ দিনের পর আর কোনো আপিল দায়ের করার আইনি সুযোগ থাকবে না। ফলে, যদি আপিল করার নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে সুযোগ না থাকে, তবে তাঁর এই মৃত্যুদণ্ডের সাজাই সরাসরি বহাল থাকবে। আর যদি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করা যায়, তবে উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার মামলার বাইরেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দীর্ঘ তদন্তকাজ অবশেষে সফলভাবে শেষ হয়েছে।
আগামী ২১ জুলাই ধার্য তারিখে এই ঐতিহাসিক মামলার আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এ ছাড়া গত ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকাজ একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সেগুলোও দ্রুতই বিচারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
/আশিক
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর: বিনা জামানতে মিলবে ১০ লাখ টাকার ঋণ
দেশের উদীয়মান ও নতুন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু শক্তিশালী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নতুন ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা এখন থেকে কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই মাত্র ৭ শতাংশ সর্বোচ্চ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সুবিধা লাভ করবেন।
রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের একটি লিখিত প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক জবাবে অর্থমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের এই বিশেষ বৈঠকটি শুরু হয়। (উল্লেখ্য, মূল তথ্যে স্পিকারের নামের সাথে বীরবিক্রম পদবি যুক্ত থাকলেও তিনি মূলত একজন বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন)।
সংসদকে বিস্তারিত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সামগ্রিক তহবিলের আকার পূর্বের মাত্র ১০০ কোটি টাকা থেকে একলাফে পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বর্ধিত ও বিশেষ তহবিল থেকেই নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ এবং জামানত জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যা কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, দেশে নতুন আইডিয়ার উদ্ভাবনী স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের আর্থিক টানাপোড়েন দূর করতে ও ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজলভ্য করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি পৃথক ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে তরুণ আইটি ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ নামমাত্র সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের অভাবনীয় সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া স্টার্টআপ খাতে কেবল ঋণের বোঝাই নয়, বরং সরাসরি ইক্যুইটি বিনিয়োগের (অংশীদারিত্বমূলক পুঁজি) সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে দেশের ৩৯টি শীর্ষ তফসিলি ব্যাংকের যৌথ অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, পিএলসি’ নামে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগ্য ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো সরাসরি ইক্যুইটি অর্থায়ন বা মূলধনী সহায়তা লাভ করবে, যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করবে।
দেশের বিশাল বেকার যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বিগত ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সফলভাবে তার মেয়াদ শেষ করেছে।
বর্তমানে এই সফল যুব ঋণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ও পরিধি আরও ধরে রাখতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সম্পূর্ণ নতুন ও বৃহৎ একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে।
/আশিক
প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, যেভাবে জানবেন রেজাল্ট
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল। একাধিকবার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ পরিবর্তনের পর শিক্ষা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ফলে দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
ফল প্রকাশ উপলক্ষে দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল, নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হবে।
দুই মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমেও দ্রুত নিজেদের ফল জানতে পারবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক কিংবা এয়ারটেল—যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে খুব সহজেই ফল জানা যাবে। এজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে প্রথমে DPE লিখে একটি স্পেস দিতে হবে, এরপর পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে DPE 123456 এবং সেটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
অনলাইনের মাধ্যমে বিস্তারিত ফলাফল দেখতে চাইলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘সাবমিট’ বা ‘ফল দেখুন’ বাটনে ক্লিক করলে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও মার্কশিট দেখা যাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ফল প্রকাশের পর কিছু সময় ধৈর্য ধরে চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য সরকারি মাধ্যম থেকেই ফল সংগ্রহ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-রাফসান
বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব এলাকায় বহু মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেই নয়, তার টিমের সদস্যদের মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাস্তব অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করা যায়।
মুখপাত্র জানান, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর এবং জরুরি অবকাঠামো সচল রাখার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, রবিবার দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সারাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলমান দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুই কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক অনুদান অনুমোদন করেছেন। এই অর্থ দ্রুত জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক কর্মীরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মী এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার আহ্বানের পর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি, গবাদিপশু খামারি এবং গৃহহারা পরিবারের জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পেতে পারে।
বর্তমানে চালু থাকা এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তা দ্রুত পুনঃস্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানান মুখপাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদত হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন। সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সমন্বিত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
-রফিক
ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন
দেশের বাজারে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ রেশন সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির বাজারে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়া এবং ধার-দেনার মানসিক চাপে থাকা কর্মচারীদের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াতেই সরকারের এই বিশেষ কল্যাণমুখী উদ্যোগ।
ইতিমধ্যে রেশন সুবিধা চালুর এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে সরকারের অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রেরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী তিন মাস পর বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে এই কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ অগ্রগতিও বাধ্যতামূলকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
কর্মকর্তাদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি মূলত মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র থেকে উঠে এসেছে। গত ৩ মে আয়োজিত বার্ষিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। ডিসি সম্মেলনে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অর্থ বিভাগ এখন এটি স্বল্প, মধ্য নাকি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করবে—সেই রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে হবে।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রাসঙ্গিক। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সাধারণ কর্মচারীদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় সুযোগ-সুবিধার অভাবকে অযুহাত বানিয়ে অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, রেশন চালু হলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তবে বিতরণ ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন এই সুবিধা পান, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”
উল্লেখ্য, সরকারি কাঠামোর ১২তম গ্রেডের পদের মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক ও অডিটর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড হলো সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর; যার মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
বর্তমানে দেশে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান), পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, এনএসআই, এসএসএফ, দুদক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ মোট ১০টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সুলভ মূল্যে এই সরকারি রেশন সুবিধা পেয়ে আসছেন। উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশনে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সরকারি কর্মচারীরা এই রেশনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন এবং তৎকালীন খাদ্য উপদেষ্টাও এর পক্ষে অর্থ বিভাগে সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। এবার চূড়ান্ত সম্মতি মেলায় বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রক্রিয়া।
সূত্র: বাসস
খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি কর্মকর্তাদের তুচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় অজুহাতে বিদেশ ভ্রমণের নামে জনগণের অর্থ অপচয়ের দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অতীতে সরকারি আমলারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা নদী-নালার কচুরিপানা পরিষ্কার করার পদ্ধতি দেখার মতো হাস্যকর বিষয়েও রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে যেতেন; তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সেই অরাজক পরিস্থিতি আর নেই।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের নলাম এলাকায় ‘গণবিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি আধুনিক ও গতিশীল শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে দুই বছরের উচ্চশিক্ষার কোর্স নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই শেষ হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে ইন্টারমিডিয়েট (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছরের শিক্ষা জীবন কোনো ধরনের সেশনজট ছাড়াই শিক্ষার্থীরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা), খেলাধুলা ও নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং এ দেশের প্রকৃত ও সত্য ইতিহাস ধাপে ধাপে পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করা হবে। বর্তমান পাঠ্যবইগুলোতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি দূর করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে; তবে সামগ্রিক কারিকুলামের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (টিটিসি) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ নতুন মডেলে আধুনিক উপায়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী রবিবার (১২ জুলাই) এই বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এবারই দেশের শিক্ষা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই জাতীয় বৃত্তি ব্যবস্থার আওতার সুযোগ পেয়েছে। আপাতত কোটা বিন্যাস হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি ভর্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই অনলাইনে আগাম ফাঁস বা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো সার্ভার বা কারিগরি জটিলতা ছিল না। মূলত একজন অপারেটর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ফলটি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। এই গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মূল অপরাধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার সব পরীক্ষা বা ভর্তির ফলাফল দেশজুড়ে একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে চায়। পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক প্রস্তুতি ছাড়া কোনো একটি ফলাফল আগেভাগে বা আংশিকভাবে প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো অনিয়ম বা গাফিলতি কঠোর হস্তে দমন করা হবে, কোনো বরদাশত করা হবে না।
উক্ত মূল আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার আগে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও হাজারো শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে প্রচলিত ইতিহাসের একটি বড় অসঙ্গতি ও বিতর্কিত দাবি সামনে এনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না এবং ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ ভবনে আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ২৫ মার্চের সেই কালরাতে তাজউদ্দীন আহমদ স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হতে পারেন না এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভেঙে যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো অবদান থাকুক—এটি তিনি চান না। স্পিকারের দাবি অনুযায়ী, এই কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত ও নৃশংস আক্রমণের মুখে যখন সমগ্র বাঙালি জাতি দিশেহারা এবং অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনারা সাহসের সঙ্গে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই চরম সংকটময় ও নেতৃত্বহীন মুহূর্তেই তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য জাতিকে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, ‘এটিই হলো বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রকৃত সত্য ইতিহাস।’
মেজর হাফিজ উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস চর্চার সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এ দেশের আপামর জনসাধারণের একটি সমন্বিত ‘জনতার যুদ্ধ’। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা অন্য সবার অবদান অস্বীকার করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার পুরো কৃতিত্ব নিজেদের পকেটে পুরতে চেয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসের প্রতি এক চরম অন্যায়। রাজনীতিবিদদের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত অন্যের ত্যাগ ও কৃতিত্ব হাইজ্যাক বা ছিনতাই করতে পছন্দ করেন এবং নিজের দলের নির্দিষ্ট নেতা ছাড়া অন্য কাউকে ইতিহাসে স্থান দিতে চান না।
আলোচনা সভায় স্পিকার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন সক্রিয় ছিল। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর কোনো পূর্বপরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ছাড়াই একেকটি ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি অফিসার ও সৈনিকেরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ডাক দেন। সামরিক বাহিনীর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল পরবর্তী ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি।
নিজের সামরিক জীবনে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার প্রতি গভীর টানের কারণেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাতেই তিনি ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে’ যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।’
এ ছাড়া তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের ঐতিহাসিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি আধুনিক সামরিক বাহিনীতে সাধারণ সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত ও আত্মিক বন্ধন, তা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
/আশিক
পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
দেশের টেকসই ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার স্বার্থে শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি হলেও, উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো ধরনের নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ বর্তমান বাংলাদেশে আর নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই অনমনীয় ও পরিবেশবান্ধব নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল বা উৎসগুলো যদি আমরা আগে নির্ধারণ করতে না পারি, তবে কোনো ধরনের প্রতিরোধমূলক বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাই বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর পরিণতি বা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই সাধারণত সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে দেখা যায়। কিন্তু এই সংকটের মূল সোর্স বা উৎসগুলো নিয়ে তেমন কোনো ফলপ্রসূ কথা হয় না। অথচ সংকটের প্রকৃত উৎপত্তিস্থলগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে আমরা কখনোই একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব না।
বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে অন্যতম প্রধান জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আর এই কারণেই বর্তমান সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সুরক্ষার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের অন্যতম শীর্ষ এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করছে।
মন্ত্রণালয় পরিচালনায় নিজের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, যতদিন তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন, ততদিন পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে দেশের সামগ্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত রাখার জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবেন।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে কলকারখানার উৎপাদন বাড়াতেই হবে, যার জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্প খাতের বিকাশ। তবে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করার নামে আমাদের অমূল্য পরিবেশকে নষ্ট বা জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করা হবে–সেটি কোনোভাবেই বর্তমান প্রশাসন মেনে নেবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এই বিশেষ সেমিনারে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সব অংশীজনকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
/আশিক
ঢামেকে তারেক রহমান, উৎসবমুখর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই প্রতীকী কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি আধুনিক ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আবাসিক ভবন নির্মিত হলে নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
এছাড়া তিনি আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহ্য, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অতিক্রম করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উদ্দেশে রওনা দেয়। শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য গাড়িবহরের গতি ধীর হয়ে যায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে উপস্থিতদের অভিবাদনের জবাব দেন।
সফর উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। হাসপাতাল ও কলেজসংলগ্ন ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার, অস্থায়ী দোকান, স্টেশনারি স্টল এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন পর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং যান চলাচলেও স্বস্তি ফিরেছে। রোগীর স্বজন, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তাদের প্রত্যাশা, এই সফর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন গতি যোগ করবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও কার্যকর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশের প্রাচীনতম চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি নয়, বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েই এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- ছাত্র দিয়ে এসএসসি খাতা মূল্যায়ন: দেবিদ্বারের আলোচিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ছাত্র গ্রেপ্তার
- কুমিল্লার বাজারে সবজির দামে আগুন: কাঁচা মরিচ ২৮০ ও টমেটো ২৪০ টাকা কেজি
- ৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
- ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি
- দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
- রেফারিই হারিয়ে দিল আমাদের, এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফুঁসছেন মুরাত ইয়াকিন
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ইংল্যান্ড!
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- সাত জেলায় বন্যার্তদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা ও ৩ কেজি চাল!
- ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুসহ ১৩ বিশ্বনেতাকে হত্যার ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করল ইরানের গণমাধ্যম
- প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা
- মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি
- আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম
- তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর: বিনা জামানতে মিলবে ১০ লাখ টাকার ঋণ
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- ‘প্রতিশ্রুতি না রাখলে মূল্য দিতে হবে’: গালিবাফ
- রোববার রাজধানীর কোথায় মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, যেভাবে জানবেন রেজাল্ট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা, তবু কেন অনীহা ব্যাংকগুলোর?
- বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করল মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট
- ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ উদ্ধারের সময় বাসের চাপা, ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
- দাউদকান্দি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২১ ও ১৭ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯
- সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা
- মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
- ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন
- মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?
- চার বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
- খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান
- শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
- খামেনি হত্যার মোক্ষম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
- পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
- ট্রফির চেয়েও বড় কোন ‘উত্তরাধিকার’ খুঁজছেন স্কালোনি? সুইজারল্যান্ড বধের আগে বিশ্বজয়ীর আবেগঘন বার্তা
- ঢামেকে তারেক রহমান, উৎসবমুখর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’
- ঢাকা মেডিকেলে তারেক রহমান, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ
- মিয়ামিতে মহাদ্বৈরথ: ইংল্যান্ডকে ফেবারিট মেনেও কোন সমীকরণে হুঙ্কার ছাড়ছে নরওয়ে?
- যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত
- জ্বলছে দক্ষিণ স্পেন: এক রূপকথার অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নারকীয় তাণ্ডব, নেপথ্যে কী?
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- উত্তরাঞ্চলে দুই নতুন নদীবন্দর নির্মাণে সরকারি ঘোষণা
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- ‘আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারতের মতো বড় বন্ধু আছে’-ভ্যান্সকে জবাব নেতানিয়াহুর
- ২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু








