পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:১২:৩৪
পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক সমীকরণ। দেশের চলমান আর্থিক সংকট এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের সুপারিশমালা ও একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পে-কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন মূলত বেতনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধাপের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন হবে ৮ টাকা।

সর্বনিম্ন বেতন কত হতে পারে? নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে

প্রথম প্রস্তাব: ২১ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১৭ হাজার টাকা।

তৃতীয় প্রস্তাব: ১৬ হাজার টাকা। কমিশন মূল্যস্ফীতি এবং একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন ধরে ব্যয়ের হিসাব কষছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উভয়েই জানিয়েছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়ে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও এটি কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি সময়োপযোগী কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরণের আর্থিক চাপ নিতে চাইছে না বর্তমান প্রশাসন।


ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:৫৭:৫৮
ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমানো, অপচয় রোধ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের বৈঠকের কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেড় বছরে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অতিরিক্ত যোগ হয়েছে প্রায় ৭৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এই সময়ে একনেকের ১৯টি বৈঠকে ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়। গড়ে প্রতি বৈঠকে প্রায় পাঁচটি প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর মধ্যে মাত্র সাতটি প্রকল্পে ব্যয় কমানো হয়েছে, মোট সাশ্রয় ৯৫০ কোটি টাকা। যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের তুলনায় মাত্র ২.৪৫ শতাংশ। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ১৫টি প্রকল্পে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলেও সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।ঢ়এই ৬৫টি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৩৫.৬৭ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউনূস সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকেই গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ১,৩০৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৭১ কোটি টাকা করা হয়। একই বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচির ব্যয় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১,৬৩০ কোটি টাকা।

মেয়াদের শেষ দিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২২.৬৩ শতাংশ।

ঢাকার পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় ৪,৫৯৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ বেড়েছে ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা, যা প্রায় আড়াই গুণ।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এ অতিরিক্ত ৭,১৫৫ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বেড়েছে ৬,৬০৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পে ১,৪১০ কোটি টাকা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার একটি প্রকল্পে ১,৩২৪ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের ছোট স্টেডিয়াম প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওতবে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। এতে সাশ্রয় হয়েছে ৭৫৪ কোটি টাকা। মূলত স্টেশন এলাকা উন্নয়ন ও কিছু জমি অধিগ্রহণ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে ২১টি জেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। তাদের বিদায়ের সময় তা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় দেনার বোঝা রেখে যায় আগের সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশা ছিল বেশি। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি আগের সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ তোলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রকল্প অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ছোট কিন্তু উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার এবং বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প দ্রুত যাচাইয়ের নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্প সংশোধনের পুরনো সংস্কৃতি পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। ব্যয় কমানোর অঙ্গীকারের বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর থাকবে, বর্তমান সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার আনতে পারে কি না।

-রফিক


ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২১:৫৫:৩০
ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরবর্তী কমিশনার হিসেবে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করা পর্যন্ত বর্তমান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামীমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থায়ীভাবে কেউ ডিএমপি কমিশনারের পদে নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত মো. সরওয়ারই ডিএমপির যাবতীয় প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। যদিও চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, তবে মেয়াদের আগেই তিনি বিদায় নিলেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের এই জাঁদরেল কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল করে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। দুই বছরের সেই চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের মাঝপথেই তাঁর এই প্রস্থান পুলিশ প্রশাসনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ডিএমপির দায়িত্ব পাওয়া মো. সরওয়ার আলমের বাহিনীতে সুনাম রয়েছে বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতার কারণে। গত বছরের ৭ জানুয়ারি এসবি থেকে তাঁকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১১ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান। রাজধানীতে অসহনীয় যানজট নিরসনে তাঁর কার্যকর পদক্ষেপ ও অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার কাঁধেই বর্তালো।

/আশিক


গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৪৯:৫৭
গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল বহুল আলোচিত গণভোট। এই ভোটে দেশের সাধারণ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সূচক সিল মেরে সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থন ও বিরোধিতার রায় দেন। প্রাথমিক ফলাফল গণনার পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছিল যে, বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার জানা গেছে, সেই ফলাফল থেকে প্রায় ১০ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দিয়ে একটি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে কমিশন।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। পুনরায় প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগের গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি। সেখান থেকে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের পক্ষে বর্তমান রায়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৩০০টি। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম গেজেটের হিসাব অনুযায়ী ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। সেই হিসাবে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন। তবে সংশোধিত গেজেটে ‘না’ ভোটের সংখ্যাও ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টিতে। সার্বিকভাবে বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে এবং মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে। নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনীর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করলেও জানিয়েছে যে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে যা জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা চূড়ান্ত করবে।

/আশিক


কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:৫৭:৫০
কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নিয়োজিত দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কাছে কৃষকদের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওনা প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা এই মওকুফ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ায় কৃষকরা এখন তাঁদের সঞ্চিত অর্থ উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান উন্নত হবে, যা তাঁদের ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পেতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় মহাজনদের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিল; সেই ধারাবাহিকতায় এবারের এই সিদ্ধান্তও গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

/আশিক


দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মিশন: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:৫১:৫৪
দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মিশন: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়, এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই মেলা এখন মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক অনন্য স্মারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর উক্তি ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের একটি আন্তর্জাতিক জরিপ তুলে ধরে তিনি জানান, ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম এবং এ দেশের মানুষ গড়ে বছরে মাত্র তিনটি বই পড়ে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে তিনি অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যাতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র আরও দৃঢ় হয়। এছাড়া বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সারা বছর বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বইমেলা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


জনবল সংকট মেটাতে পুলিশের মেগা নিয়োগের ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৭:১৭:০০
জনবল সংকট মেটাতে পুলিশের মেগা নিয়োগের ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে কেবল কনস্টেবল নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৮০ জন ট্রাফিক সার্জেন্টও নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশের প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই জনবলের ঘাটতি রয়েছে এবং এই শূন্যতা পূরণের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশের ২ হাজার ৭০০ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন যে, আপাতত ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ পুরোপুরি খালি রয়েছে এবং এই শূন্যপদগুলো জরুরি ভিত্তিতে পূরণের জন্য বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জনবল বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে যাতে থানা ও মাঠপর্যায়ে সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।

/আশিক


যমুনা ছাড়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত: এবার বিশ্বজয়ে নামছেন ইউনূস!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৬:২৭:০৫
যমুনা ছাড়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত: এবার বিশ্বজয়ে নামছেন ইউনূস!
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন শেষে আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দিচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর তিনি হেয়ার রোডের এই ভবনেই বসবাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে তিনি যমুনাতেই অবস্থান করছিলেন। ড. ইউনূসের প্রস্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের এই অধ্যায়টির চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

এদিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর হেয়ার রোডের এই যমুনাকেই তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন যে, ড. ইউনূস ভবন ছাড়ার পর কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে সপরিবারে উঠবেন।

যদিও এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে সংসদ ভবন এলাকা বিবেচায় ছিল, তবে সময়স্বল্পতার কারণে যমুনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি মেয়াদে থাকাকালীনই ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ২০ জন উপদেষ্টা তাঁদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, যমুনা ছাড়ার পর ড. ইউনূস তাঁর ‘থ্রি জিরো’ ভিশন নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করবেন এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন যার সমন্বয় করছেন এসডিজি-র সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

/আশিক


নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের আইনি নোটিশ: বিপাকে মোঃ সাহাবুদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৬:১৯:১৪
নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের আইনি নোটিশ: বিপাকে মোঃ সাহাবুদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে পদ থেকে অপসারণ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে অসম্মান করে সাংবিধানিক দায়িত্ব ও শপথের পরিপন্থি বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই নোটিশটি পাঠানো হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার এই আইনি নোটিশটি সংসদ সচিবালয় এবং আইন সচিবের দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে পদের অমর্যাদা করেছেন এবং সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের জন্য অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত।

আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে অবিলম্বে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হোক এবং নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার তাঁর নোটিশে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে রিটসহ পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন মন্তব্য ও অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল, যা এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে নতুন এক আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


যমুনায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের আবাস বরাদ্দের পূর্ণ তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:২৬:৫১
যমুনায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের আবাস বরাদ্দের পূর্ণ তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা এবং সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগিতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্যবিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, তিনি আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি যমুনা ত্যাগ করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সংস্কার ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই দিন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেখানে বর্তমানে জাদুঘর নির্মাণকাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর আবাস হিসেবে গণভবন আর ব্যবহারযোগ্য নয়।

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আবাস কোথায় হবে, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে কয়েক মাস আলোচনা চলে। গত বছরের ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ছয় সদস্যের এই কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে ২০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং সংলগ্ন ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। সংলগ্ন দুটি বাংলোবাড়িতে বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। প্রধান উপদেষ্টা চলে গেলে সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বরাদ্দ থাকবে।

হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকাকে ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে চিহ্নিত করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর মন্ত্রিপাড়ার বাংলোবাড়িগুলোতে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাস বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ সাবেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে। তবে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বাসায় উঠতে কিছুটা সময় নিতে পারেন। ঈদুল ফিতরের পর অধিকাংশ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নতুন আবাসে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩৫ হেয়ার রোড, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২৪ বেইলি রোড এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ৫ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ একাধিক মন্ত্রীকে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে গুলশানে সরকারি বাসা দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ধানমন্ডিতে আবাস বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: