নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:৫৮:৩৬
নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : কালবেলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে এক সভায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারাকে তিনি সরকারের বড় ধরণের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিএনপি এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন যে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে নির্বাচনের প্রকৃত পরিবেশ এবং সরকারের সদিচ্ছা বোঝা যাবে যখন দলগুলো পুরোদমে প্রচারণা শুরু করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে যাতে মানুষ নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনি মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

ক্রিকেট এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়েও মির্জা ফখরুল বেশ ইতিবাচক ও জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরেন। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি বলেন যে ক্রিকেটের সাথে দেশের সম্মান জড়িত এবং একে কোনোভাবেই রাজনীতির সাথে মিশিয়ে ছোট করা ঠিক নয়। ক্রিকেট বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সাথে বিএনপি একমত পোষণ করে এবং জাতীয় স্বার্থে ছোট ছোট বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে ভারতের সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই অভিন্ন নদী সমস্যার সমাধান করা হবে। সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আওয়ামী আমলেও এমনটা দেখিনি: ছাত্র রাজনীতির নতুন কালচার নিয়ে ক্ষুব্ধ সারজিস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২২:০৮:১৮
আওয়ামী আমলেও এমনটা দেখিনি: ছাত্র রাজনীতির নতুন কালচার নিয়ে ক্ষুব্ধ সারজিস
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ছাত্ররাজনীতির বর্তমান সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন যে, লাখ লাখ ছাত্রের নেতৃত্ব দেওয়া একজন শীর্ষ ছাত্রনেতা যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে দৌড়ান, তখন সেটি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ছাত্রনেতাকে এভাবে নেতার পেছনে দৌড়াতে দেখেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে অমর একুশে বইমেলার একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি বহরের পেছনে বর্তমান ছাত্রদল সভাপতির দৌড়ানোর বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে হয়েছে। তিনি ছাত্রদলসহ সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, ছাত্ররাজনীতিতে নতুন একটি মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন যা দেখে আগামী দিনের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কেবল ক্ষমতার পেছনে না ছুটে ছাত্রদের নিজেদের মর্যাদা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম আরও বলেন যে, বর্তমানে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল পূর্ববর্তী সরকারের চেয়েও নিজেদের কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের বদলে সর্বত্র যেন এক ধরণের অভিনয় প্রতিযোগিতা চলছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ছাত্রশক্তিকে আরও সুসংগঠিত হওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই প্রভাবশালী সংগঠক।

/আশিক


গভর্নর সরিয়ে লুটপাটের পথ খুলল সরকার: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:৩৫:৫২
গভর্নর সরিয়ে লুটপাটের পথ খুলল সরকার: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়াকে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করার একটি অশুভ প্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাতে দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন যে গণঅভ্যুত্থানের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব দিয়েছিল এবং তিনি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা ও আমদান-রপ্তানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ফেরাতে অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং সরকার শেষ পর্যন্ত অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে লুটপাটের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

নাহিদ ইসলাম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে গতকালের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তারা ব্যাংকের বিধির তোয়াক্কা না করে এক নির্লজ্জ ‘মব’ তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টাকে শারীরিক হেনস্তা করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময়কর তথ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে হামলাকারীদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামীপন্থী নীল দল থেকে নির্বাচিত নেতা হলেও এখন বিএনপিপন্থী সেজে এই অরাজকতা চালাচ্ছেন। এসকল অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সফল গভর্নরকে অপমানজনকভাবে না জানিয়েই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যা থেকে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম আরও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে বলেন যে সরকার একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দিয়েছে যিনি নিজে একজন সাবেক ঋণ খেলাপি। তাঁর দাবি অনুযায়ী নতুন গভর্নরের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল যা গত বছরের জুনে বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতপশিল করা হয়েছে।

এমন একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় পুনরায় একজন সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

/আশিক


এমপিই নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষের কী হবে? : জামায়াত নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:২২:৫৪
এমপিই নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষের কী হবে? : জামায়াত নেতা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে হান্নান মাসউদের গাড়িবহরের ওপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এই ন্যক্কারজনক হামলায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদসহ প্রায় ১৫-২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন যা গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সহনশীলতার পরিপন্থি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন যে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে এমন সশস্ত্র হামলা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন যে যেখানে একজন সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ কোথায়? জামায়াতের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে রাজনৈতিক সহিংসতার এই পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে; অন্যথায় দেশব্যাপী আইনহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করতে পারে যা জাতির জন্য এক অশনিসংকেত। বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলাকারী বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জনগণের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

/আশিক


বাংলাদেশ ব্যাংকের মব-কালচার অগ্রহণযোগ্য: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ০৯:৪০:২৭
বাংলাদেশ ব্যাংকের মব-কালচার অগ্রহণযোগ্য: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে আকস্মিক পরিবর্তন এবং ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।

শফিকুর রহমান বলেন যে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে যা ঘটেছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত মব-কালচারের এক আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে হচ্ছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তাঁর উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে জনসমক্ষে অপমান করার অধিকার কারো নেই এবং এ ধরণের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।

বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে দেশের অর্থনীতি এমনিতেই চরম দুরবস্থায় রয়েছে এবং সর্বস্তরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মহামারি চলছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন যে উৎপাত চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সব স্তর থেকে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এ ধরণের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি দাবি করেন যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মূলত পোশাক ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, জামায়াত আমিরের এই পোস্ট সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলেছে।

/আশিক


জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার অপতৎপরতা চলছে: ভিপি আবু সাদিক কায়েম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:০৮:৪৮
জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার অপতৎপরতা চলছে: ভিপি আবু সাদিক কায়েম
ছবি : সংগৃহীত

একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন যে পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিং ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লবকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা ও কনসেন্ট তৈরির খেলা চলছে যা দেশের জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা। তিনি অভিযোগ করেন যে কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে বর্তমানে এক ধরণের আওয়ামী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা চালানো হচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে সরকারের গ্রিন সিগন্যাল থাকার দাবি করছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আবু সাদিক কায়েম সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে যদি কোনোভাবে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপ্লবীদের হয়রানি করা হয়, তবে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। তিনি মনে করেন এমনটি ঘটলে ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সকল আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এমনকি দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে তিনি তাঁর পোস্টে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন যে জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার জন্য পতিত ফ্যাসিস্ট ও তাদের সুবিধাভোগীদের সকল অপপ্রয়াস অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সাথে আন্দোলনকারীদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অনুরোধ জানান তিনি।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ছাড়া জুলাইয়ের বিচার পূর্ণ হবে না: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৮:৫৮:২২
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ছাড়া জুলাইয়ের বিচার পূর্ণ হবে না: নাহিদ ইসলাম
ছবি : কালবেলা

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন এবং জুলাই গণহত্যার দায়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি উত্থাপন করেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত নজিরবিহীন গণহত্যা ঠেকাতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর চরম ব্যর্থতা। এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে তিনি গণহত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় এই নেতা।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান যে আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তিনি দাবি করেন যে শুধুমাত্র পদ থেকে অপসারণই যথেষ্ট নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের সময় সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নারকীয় হত্যাকাণ্ডে নিরব ভূমিকা পালন করার অপরাধে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। পিলখানা ট্র্যাজেডির বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন যে অতীতের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতে পারে।

/আশিক


অসুস্থ জামায়াত আমিরের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৬:২৩:৩৬
অসুস্থ জামায়াত আমিরের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর সাথে টেলিফোনে কথা বলে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে প্রধানমন্ত্রী যখন জামায়াত আমিরের সাময়িক অসুস্থতার সংবাদ পান, তখন তিনি তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এরপর মিয়া গোলাম পরওয়ারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াত আমিরের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। ফোনালাপের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে ইফতারের আমন্ত্রণ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাসহ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেন। ইতিপূর্বেই উভয়কে আনুষ্ঠানিক দাওয়াতপত্র পাঠানো হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সেই দাওয়াত গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডা. শফিকুর রহমানের, কিন্তু যাত্রাপথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে আজ তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং দুপুরের দিকে তিনি বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দুই শীর্ষ নেতার এই ফোনালাপ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সম্প্রীতির এক ইতিবাচক প্রতিফলন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সপরিবারে ইফতারের এই দাওয়াত গ্রহণ সরকারের সাথে শরীক ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চিত্রটিই ফুটিয়ে তুলছে।

/আশিক


নৈতিকতার প্রশ্নে আপস নেই: ছাত্রশিবিরের অধিবেশনে জামায়াত আমিরের বড় বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ০৯:৩৫:৩৪
নৈতিকতার প্রশ্নে আপস নেই: ছাত্রশিবিরের অধিবেশনে জামায়াত আমিরের বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বিজয় অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন—এমন ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতি দেখা দেওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে। ছাত্রশিবিরের প্রকৃত শক্তি ও মর্যাদার জায়গা হলো তাদের নৈতিক চরিত্র; তাই এই প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিরে জামায়াত সংগঠনের জনশক্তিকে আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।” নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “নামাজ হলো নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হলে তার প্রভাব সারা জীবন থেকে যায়। মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য যখন অন্যদের আকৃষ্ট করবে, তখন কোনো শক্তিই তাদের বিজয় রুখতে পারবে না।”

অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনশক্তির নৈতিক মান উন্নয়ন ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। অধিবেশনে ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা, শপথ গ্রহণ এবং বার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।

অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


ভোটের রাজনীতিতে আসিফ মাহমুদ: ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির বড় বাজি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ২১:৫৭:১৩
ভোটের রাজনীতিতে আসিফ মাহমুদ: ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির বড় বাজি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হতে পারেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই এই পূর্বাভাস দিয়েছেন। আসিফ মাহমুদ জানান, দল থেকে তাঁকে প্রাথমিকভাবে এই পদের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ ছয়টি সিটি করপোরেশনে তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব আসার পর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জায়গায় দলীয়ভাবে বঞ্চিত বা নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং কতদিনের জন্য তারা নিয়োগ পেয়েছেন তার কোনো সময়সীমা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই।” স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ দেড় বছর জনপ্রতিনিধি শূন্য থাকায় নাগরিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি দ্রুত নির্বাচনের রূপরেখা দেওয়ার দাবি জানান।

গত দুদিন ধরে পুলিশের অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এনসিপি মুখপাত্র। তিনি বলেন, “সরকার এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দোলন বা রাস্তা অবরোধ না করার যে কথা বলেছেন, আমরা অযৌক্তিক অবরোধ সমর্থন করি না। কিন্তু জনগণের যৌক্তিক দাবির আন্দোলন করার অধিকার যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।”

এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ জানান, এনসিপি প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় নির্বাচনে যেহেতু দলীয় মার্কা থাকবে না, তাই এনসিপি যোগ্য ব্যক্তিদের সাংগঠনিকভাবে সমন্বয় করে সহযোগিতা করবে। তিনি আরও জানান, অনেক কারচুপির মধ্যেও তাদের দলের ৬ জন সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং তারা প্রতিটি স্তরে যোগ্য প্রার্থী প্রস্তুত করছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: