রাজু ভাস্কর্যে ১১ দলীয় জোটের হুঙ্কার: শুরু হলো নতুন এক ‘আজাদী যাত্রা’

বাংলাদেশকে সব ধরণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে ‘আজাদী লড়াই’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন জোট মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ‘আজাদী পদযাত্রা’ শুরুর প্রাক্কালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘আজাদী বনাম গোলামীর লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও অর্থ পাচারকারীরা বর্তমানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ‘সেজদা’ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে দুটি পথ ছিল—হয় গোলামীর জোটে শামিল হওয়া, না হয় আজাদীর পক্ষে দাঁড়ানো। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আজাদীর পথ বেছে নিয়েছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদ ওসমান হাদির রক্তের ঋণ শোধ করা এবং তাঁর শুরু করা বিপ্লব সম্পন্ন করাই এখন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
ঢাকা-৮ আসনের আওতাধীন রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর এলাকায় কোনো ধরণের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা দখলদারিত্ব হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান পাটওয়ারী। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামী ২১ জানুয়ারির আগে এই পদযাত্রায় কোনো প্রতীক ব্যবহার বা সরাসরি ভোট চাওয়া হবে না। মূলত শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত ও তাঁর আদর্শ প্রচারের মাধ্যমেই এই যাত্রার সূচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনকে দলীয় দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তবে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম আরও তীব্রতর হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলীয় জোটের এই অবস্থান ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব: আসিফ
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বজায় রেখে দেশে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর এনসিপি সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের একটি বড় অংশ বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্যে পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “জনরায় প্রতিষ্ঠার আগেই সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আবারও যদি পর্দার আড়ালে কোনো পুরোনো ‘সেটেলমেন্ট’ বা আপসের পথে হাঁটা হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে তা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন যে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসাররা নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে কাজ করছেন বলে এনসিপির কাছে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ইসি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সারজিস আলমের দুই নথিতে দুই রকম আয়, হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামা ও আয়কর নথি পর্যালোচনায় আয় ও সম্পদের তথ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২৭ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা হলফনামায় নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং বার্ষিক আয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৯ লাখ টাকা। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দাখিল করা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় ঘোষিত আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দুটি সরকারি নথিতে ভিন্ন ভিন্ন আয়ের তথ্য উপস্থাপন করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আয়ের পাশাপাশি সম্পদের ঘোষণাতেও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা হলেও হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে করে তার প্রকৃত সম্পদের চিত্র নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত ১ লাখ টাকার তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং সমপরিমাণ মূল্যের আসবাবপত্র। হলফনামায় কোনো স্বর্ণালংকারের উল্লেখ নেই।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে বলা হয়েছে, দানসূত্রে প্রাপ্ত সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমি তার মালিকানায় রয়েছে। জমিটির অর্জনকালীন মূল্য মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।
-রাফসান
রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে: হাসনাত
জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো পরিকল্পিতভাবে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। সোমবার দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্র বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করছে। এনসিপি মনোনীত এই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিপ্লবীদের কণ্ঠরোধ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী ও তাহরিমা সুরভীর ওপর ঘটা সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে তিনি বিপ্লবীদের কোণঠাসা করার রাষ্ট্রীয় নীল নকশার অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কমিশন সবার জন্য সমান আইন প্রয়োগ না করে ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন আচরণ করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
লাইভে তিনি সরকারের ডিজিটাল নীতি ও গণমাধ্যমের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন। সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক আইডি গায়েব হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট আইডিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও সরকার বিরোধী বা সংস্কারপন্থীদের দমনে রাষ্ট্র অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে অতীতে ‘হাসিনার সেবাদাস’ হিসেবে কাজ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটেও নিরপেক্ষতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপি সংস্কারের পক্ষে এবং যেকোনো ধরণের বৈদেশিক আগ্রাসন ও দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অটল রয়েছে। তিনি দেশবাসীকে আসন্ন নির্বাচনে সংস্কারকামী শক্তিকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক পথকে আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেন। বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় দেশবাসীকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে তিনি তাঁর লাইভ শেষ করেন।
২৫ ঘণ্টায় ব্যারিস্টার ফুয়াদের তহবিলে লাখ লাখ টাকা, জানুন কত
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। **এবি পার্টি**র সাধারণ সম্পাদক ও এই আসনের প্রার্থী হিসেবে মাত্র ২৫ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ টাকা নির্বাচনি তহবিলে সংগ্রহ করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক লাইভ বার্তায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ তহবিল সংগ্রহের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে মোট ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯ টাকা, একটি নগদ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৭ টাকা জমা হয়েছে। এ ছাড়া তার নির্বাচনি কার্যালয়ে উপস্থিত এক সাংবাদিক অনলাইনের বাইরে ২ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। সব মিলিয়ে মোট সংগ্রহের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫ টাকা।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ এই অর্থায়নকে জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তা প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবসহ প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, যাতে অর্থ ব্যবহারে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
তবে এই অনলাইন সহায়তার ঢলের মধ্যেই প্রতারণার ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, তার ফেসবুক লাইভ ভিডিও কপি করে কিছু অসাধু ব্যক্তি ভুয়া পেজ খুলে বিকাশ ও নগদের নম্বর পরিবর্তন করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে তিনি অনুরোধ জানান, অনুদান দিতে ইচ্ছুকরা যেন শুধুমাত্র তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নম্বর ও তথ্য ব্যবহার করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনি তহবিলে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়ে এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
-রাফসান
একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না: তারেক রহমান
মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব মত ও পথের মানুষকে নিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা প্রথমে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজসহ শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান বলেন, “একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের এগোতে হবে। আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই থাকবে। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”
বৈঠক শেষে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, তারা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন। তবে আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। বাম নেতাদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন সংক্রান্ত বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বাইরে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ে কথা হয়নি।”
একই দিনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। তারেক রহমান বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর কাছ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাম ও ডানপন্থী দলগুলোর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির
বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তা এখনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেড় হাজার শহীদের আত্মত্যাগ এবং ৩০ হাজারের অধিক পঙ্গুত্ববরণকারী মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা চক্রান্তের হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না ঘটিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে তা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে না। কোনো বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে না পড়ে দেশপ্রেমের সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাহী পরিষদের এই বৈঠকে জামায়াত নেতারা শপথ নেন যে, কোনো ধরনের চক্রান্ত বা বিদেশি আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশকে নতজানু হতে দেওয়া হবে না। একই সাথে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিন দশকের নারী শাসনের ইতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খরা
নব্বইয়ের দশক থেকে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রধান বিরোধী দলের চাবিকাঠি ছিল দুই মহীয়সী নারীর হাতে। বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা—পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার আসন অলঙ্কৃত করেছেন। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং সম্প্রতি গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির সেই ‘নারী প্রধান’ অধ্যায়ের আপাত সমাপ্তি ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে এখন এক অভূতপূর্ব নারী নেতৃত্বের শূন্যতা বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্বে এলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে তাঁরা নারী নেতৃত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। তবে তাঁদের দীর্ঘ শাসনামলে দলের অভ্যন্তরে কোনো টেকসই বা প্রক্রিয়াগত নারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডীলারা চৌধুরীর মতে, বড় দুই দলেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনো খুবই সীমিত। রাজনৈতিক দলগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নগণ্য। আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৩০০ আসনেই কোনো নারী প্রার্থী না থাকা এই পুরুষতান্ত্রিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করেছে।
বর্তমানে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক এবং অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন কোনো নারী শীর্ষ নেতৃত্ব উঠে আসার মতো পরিবেশ রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে নেই। এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মের দুই নারী—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমান এবং শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। কূটনীতিকদের সাথে জায়মা রহমানের সাক্ষাৎ এবং সায়মা ওয়াজেদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের জল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আবারো হয়তো উত্তরাধিকার সূত্রেই আসতে পারে।
তবে মাঠ পর্যায়ের নারী কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা দলগুলোর মধ্যে নেই। মনোনয়ন বা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো পারিবারিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, দেশের শীর্ষ নির্বাহী পদে কোনো নারীকে দেখার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের রাজনীতি কি তবে আবারো দীর্ঘ মেয়াদে পুরুষ নেতৃত্বকেন্দ্রিক ধারায় ফিরে যাচ্ছে—এটিই এখন সব মহলের বড় প্রশ্ন।
মোস্তাফিজ ইস্যু এখন রাজনৈতিক: তারেক-ফুয়াদ বৈঠকের পর বড় বার্তা
জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট করে বলেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য হলেও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভাজন কাম্য নয়।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত (পলিসি) ইস্যু। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক জানান, রাষ্ট্রসত্তা ও জাতি গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোই হওয়া উচিত আগামী দিনের বাংলাদেশের ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই কাঠামোর ভেতরে থেকেই দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি কাজ করতে আগ্রহী। বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ‘ওয়েস্টমিনস্টার মডেল’-এর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিল্লির আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে। বৈঠকে ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করা, বেকারত্ব দূরীকরণ, পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক সংস্কার নিয়ে তারেক রহমানের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, তারেক রহমান এসব নীতিগত বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এমন নীতিনির্ধারণী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, মোস্তাফিজের বিষয়টি কেবল খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটিকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত। বৈঠকে এবি পার্টির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া এবং ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি। এই বৈঠককে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে জাতি গঠন ও বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে তা ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর মিছবাহুল মাদ্রাসায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক সংকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, “এই শক্তি কেবল নির্বাচনী স্বার্থে নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজে লাগানো হবে।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ কখনো কোনো দেশের করদ রাজ্য হওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়নি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে এই জাতি প্রস্তুত রয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন পর্যন্ত জিয়াউর রহমান জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেও জিয়াউর রহমান তা বিলুপ্ত করে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করেছিলেন। এছাড়া সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তা বাতিলের সমালোচনা করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “দেশনেত্রী আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন।” ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা তাঁর জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিপীড়িত মানুষের দোয়া ও বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকামী মানুষের শ্রদ্ধা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস এবং নৈতিকতার ভিত্তিতেই সবসময় সঠিক রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাঠকের মতামত:
- প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
- শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী না ক্ষতিকর জানুন বিশেষজ্ঞ মত
- আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ
- সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত
- আখেরি যামানার ভয়াবহ বার্তা: দাব্বাতুল আরদের আগমন
- হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপবে দেশ: ৬ ডিগ্রিতে নামবে ৫ বিভাগের তাপমাত্রা
- জিরা-মেথি-আজওয়াইন-সওফ এর পানি খাওয়ার যাদুকরী উপকার
- মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ
- চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব: আসিফ
- ০৬ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ৬ জানুয়ারির ডিএসই লেনদেনে টপ টেন গেইনার তালিকা প্রকাশ
- এইচএসসি ফরম পূরণের তারিখ ফের পরিবর্তন, জানুন নতুন সময়সূচি
- হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল
- সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা নিয়ে ইসির শঙ্কা প্রকাশ
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা
- ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কারা এগিয়ে
- ডিএসই–৩০: যেসব খাতে বিনিয়োগকারীদের নজর
- সারজিস আলমের দুই নথিতে দুই রকম আয়, হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন
- পাঠ্যবইয়ে এমন কী বদলালো, যা নিয়ে শুরু আলোচনা
- ভারতের দ্বিচারিতা ফাঁস করলেন পাক কিংবদন্তি, বাংলাদেশের পক্ষে বড় সমর্থন
- রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে: হাসনাত
- ২৫ ঘণ্টায় ব্যারিস্টার ফুয়াদের তহবিলে লাখ লাখ টাকা, জানুন কত
- কোন শেয়ারে মিলবে মার্জিন সুবিধা, জানাল ডিএসই
- সব সময় শীত লাগছে? জানুন যে ভিটামিনের অভাবে শরীরে বেশি শীত অনুভূত হয়
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- জমি রেজিস্ট্রিতে ১১৫ বছরের প্রথা ভাঙল: দলিল সরবরাহ নিয়ে নতুন নিয়ম জানুন
- ০৬ জানুয়ারি বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- জিকিউ বল পেনের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- ছুটির দিনেও ছুটি গণনা? প্রাথমিকের আজব তালিকা নিয়ে তোলপাড় ফেসবুক
- এসকিউ ব্রোকারেজের ট্রেক বাতিল করল ডিএসই
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
- শীতে নাক বন্ধ? অস্বস্তি থেকে মুক্তির ৮ উপায়
- ভিপি পদে লড়াই করছেন ১২ জন: জকসু নির্বাচনে কার গলায় উঠবে জয়ের মালা?
- একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না: তারেক রহমান
- অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির
- তাপমাত্রা নামছে হু হু করে: শীতের এই তান্ডব চলবে কতদিন?
- আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ ০৬ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীতে আজ কোথায় কী কর্মসূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- তিন দশকের নারী শাসনের ইতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খরা
- স্বর্ণের বাজারে আগুন: মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- মোস্তাফিজ ইস্যু এখন রাজনৈতিক: তারেক-ফুয়াদ বৈঠকের পর বড় বার্তা
- শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- কনকনে শীতে এক কম্বলে রাত কাটে তিন সন্তানের আর পাশে বসে থাকেন মা
- আগুনের আংটি থেকে রক্তিম চাঁদ, ২০২৬ সালে দেখা যাবে ৪টি বড় গ্রহণ
- শীতে ত্বক সজীব রাখাতে যা খাবেন
- হাড়কাঁপানো শীতে শরীর উষ্ণ রাখবে ৪ ধরনের খিচুড়ি
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত: নতুন সম্ভাব্য তারিখ জানাল অধিদপ্তর
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ জানুন
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- মেঘ আর কুয়াশায় ঢাকা সূর্য: কবে দেখা দেবে সোনালী রোদ জানাল অধিদপ্তর
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- ৩১ ডিসেম্বরের হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর








