Banner

মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২০:১৩:২৯
মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর দেশবাসী ও সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই শোকাতুর সময়ে পরিবারের পাশে থাকাদের ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে এই তিন দিনে তিনি ও তাঁর পরিবার নতুন করে উপলব্ধি করেছেন তাঁর মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে কতটা গভীর ও অর্থবহ তাৎপর্য বহন করতেন।

পোস্টে তারেক রহমান বলেন যে অনেকের কাছেই বেগম জিয়া ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে অটল সাহসে দাঁড়ানোর এক অদম্য প্রেরণা। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সরকারের দ্রুত সমন্বয় ও আন্তরিক নেতৃত্বের কারণেই বেগম জিয়ার অন্তিম আয়োজন অত্যন্ত সম্মানজনক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো শোকবার্তা ও জানাজায় উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব সম্মাননা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

তারেক রহমান বিশেষভাবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মায়ের শেষ বিদায় ও সমাধিতে পৌঁছে দেওয়ার সময় পিজিআর-এর গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলে তিনি জানান। তিনি মনে করেন যে এই প্রতিটি সম্মাননা ছিল তাঁর মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া পর্দার আড়ালে থেকে যারা এই বিশাল আয়োজন সফল করতে সাহায্য করেছেন তাদের প্রতিও নির্মোহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।

বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে বলেন যে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষের যে ঢল নেমেছিল তা জিয়া পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতারই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের এই ভালোবাসা ও সংহতি পরিবারের জন্য সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে এবং এই স্মৃতি আগামীর বাংলাদেশে পাথেয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শোকাতুর এই অধ্যায় শেষে দেশ ও জাতির প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে আগামীর পথে হাঁটার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।


সিলেটে মির্জা ফখরুলের বিশাল ঘোষণা আর দু-এক দিনেই নতুন চমক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২০:৩২:৫১
সিলেটে মির্জা ফখরুলের বিশাল ঘোষণা আর দু-এক দিনেই নতুন চমক
ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই দলের নতুন ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।

সিলেটের বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপির মনে কোনো ধরণের আশঙ্কা নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ের ‘মব জাস্টিস’ বা মবোক্রেসির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরণের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তাই মবোক্রেসির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই সরকার এখন কার্যত একটি সফল ‘কেয়ারটেকার’ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপ নিয়েছে।

বিএনপির এই মহাসচিবের আজকের এই ঘোষণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৮ সাল থেকে তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবরণ করার পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখন তাঁকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান ঘোষণা করার এই সিদ্ধান্ত দলের চেইন অফ কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন দলীয় নীতিনির্ধারকরা। সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আসা এই বার্তা এখন সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারে মির্জা ফখরুল: বছরের শুরুতে বড় বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৯:১৪:৩৬
শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারে মির্জা ফখরুল: বছরের শুরুতে বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এক বিশেষ সফর করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বিশাল বহর নিয়ে তিনি এই দুই মহান অলির দরগায় উপস্থিত হয়ে দেশের কল্যাণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।

সকাল থেকেই সিলেটে মির্জা ফখরুলের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান এবং সেখানে ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে মির্জা ফখরুলের এই সফর মূলত আধ্যাত্মিক এবং ব্যক্তিগত হলেও রাজনীতির ময়দানে এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সিলেটে দুই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার শুভসূচনা করে থাকেন। মির্জা ফখরুলের আজকের এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মাজার জিয়ারত শেষে মির্জা ফখরুল সিলেটের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত এবং প্রতি বছরই দলের শীর্ষ নেতারা বছরের শুরুতে এই ধরণের আধ্যাত্মিক সফরে সিলেটে এসে থাকেন।


তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে: জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:৩১:৩১
তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে: জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ তুচ্ছ এবং গুরুত্বহীন অজুহাত দেখিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়ন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হচ্ছে। জামায়াতের ধারণা, এই প্রক্রিয়াটি কোনো একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এবং নির্বাচনের মাঠকে অসমতল করার হীন উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।

বিবৃতিতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং অফিসারদের দ্বিমুখী আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোথাও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বৈধ কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সামান্য ত্রুটিকে বড় করে দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। জামায়াত সেক্রেটারির মতে, রিটার্নিং অফিসারদের এমন ব্যক্তিগত ও কঠোর বিবেচনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্তরায় এবং এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ম্লান করে দিচ্ছে।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি শুরুতেই প্রার্থীদের সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ‘বাড়াবাড়ি’ চলতে থাকে, তবে দেশবাসীর মনে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে বড় ধরণের সংশয় তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সেই আশাকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবশেষে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে অবিলম্বে তুচ্ছ অজুহাতে বাতিল করা প্রার্থীদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই অবস্থান নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।


তারেক রহমানের বাসার সামনে দুইজন আটক, যোগসূত্র কী?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৫:০৭:২২
তারেক রহমানের বাসার সামনে দুইজন আটক, যোগসূত্র কী?
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে পুলিশ ও চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) যৌথভাবে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। রোববার সকালে পৃথক সময়ে এই আটক অভিযান পরিচালিত হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনের সামনে থেকে মো. রুহুল আমিন (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন। সন্দেহজনক আচরণের কারণেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নজরদারিতে নেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্যক্তি বাসভবন ও পার্কিং এলাকায় অবস্থানরত গাড়িগুলোর বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুলছিলেন। বিষয়টি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় পুলিশ ও সিএসএফ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে।

এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে একই স্থানের সামনে থেকে মো. ওমর ফারুক নামে আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে দেহ তল্লাশি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তল্লাশিকালে মো. ওমর ফারুকের কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় পৃথক ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:৪৯:৫৯
এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত হবে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তিনি নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, এবার কেবল প্রশাসন নয়, বরং ভোটাররা নিজেরাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র আমানত অর্থাৎ ভোট পাহারা দেবে। কোনো অপশক্তিই এবার জনগনের রায়কে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই জ্যেষ্ঠ নেতা নির্দেশ দেন যেন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে পৌঁছান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে আমাদের মূল হাতিয়ার হলো ধানের শীষ। প্রতিটি মানুষের কাছে ধানের শীষের বার্তা নিয়ে যেতে হবে এবং জনমত গঠন করতে হবে।” দলের ঐক্য বজায় রেখে যেকোনো ধরণের উস্কানি ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সভায় চকরিয়া পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার শপথ নেন। প্রতিনিধি সভাটি এক পর্যায়ে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়, যা কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে বড় ভূমিকা রাখবে।


মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২০:১৯:১৮
মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৬ আসর শুরুর আগেই কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর থেকে ফিজকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তকে তিনি ভারতের ‘উগ্র মানসিকতার’ প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভারতকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তোলেন।

আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এরকম একটা উগ্র রাষ্ট্রকে কোনোপ্রকার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত না। সরকার এবং বিসিবির যৌথ উদ্যোগে অপরাপর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।” তিনি মনে করেন যে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে একজন পেশাদার ক্রিকেটারকে এভাবে বাদ দেওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক কালো অধ্যায়। মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনার পর উগ্রপন্থীদের বাধার মুখে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন।

বাংলাদেশে ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও খেলার পরিবেশ নিয়ে যুক্তি দিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, “৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অসংখ্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভারতীয়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতা পূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।” অথচ ভারতে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ক্রিকেটারের নিরাপত্তা ও সম্মান দিতে ব্যর্থ হওয়াকে তিনি ভারতের দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আসিফ মাহমুদের এই মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৫৬:০২
মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন করে হত্যাকাণ্ড ও অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভোলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। হাফিজ উদ্দিন দাবি করেন যে মাফিয়া চক্রের মতো আচরণ করা আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচাল করতে আবারও রক্তক্ষয়ী পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের এই অপকর্মে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে।

বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন যে তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে অভয় দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে যাতে তাঁর কৃতকর্মের বিচার নিশ্চিত হয়। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের অসংখ্য নাগরিককে হত্যা করে এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের জীবন বিপন্ন করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা কোনো বাধা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উচিত এই খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

মেজর হাফিজের মতে বিগত দেড় দশকে যারা নতুন ভোটার হয়েছিলেন তাঁরা একবারও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। মাফিয়া সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এবং অবাধে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাছত ও তজুমদ্দিন-লালমোহন উপজেলার বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হাফিজ উদ্দিন পরিষ্কার জানিয়েছেন যে কোনো ধরণের ষড়যন্ত্রই এবার জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের সংগ্রামকে রুখতে পারবে না।


ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৩৭:০৯
ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘোষণা আসার পর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে এই সিদ্ধান্তে দমে না গিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন এই তরুণ চিকিৎসক ও সাবেক এনসিপি নেত্রী।

মনোনয়নপত্র বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটার জারাকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের আশ্বস্ত করতে শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে জারা উল্লেখ করেন যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়মকানুন থাকা স্বাভাবিক কিন্তু সেই আইনের প্রয়োগ হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক। মানুষের স্পষ্ট সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ছোটখাটো কারিগরি বিষয় দেখিয়ে কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন।

ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন যে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আপিল করছেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে আপনাদের পছন্দের প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকতে আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। মনোনয়নপত্র বাতিলের ধাক্কা সামলে আজ বিকেলেই তিনি মুগদার ওয়াপদা কলোনি, মামা-ভাইগ্না গলি, বাশার টাওয়ার এবং মদিনাবাগ এলাকায় পূর্বনির্ধারিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ডা. জারার মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া এবং তাঁর তাৎক্ষণিক এই চ্যালেঞ্জিং অবস্থান ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয় আপিল বিভাগে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়। ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী দৌড়ে তাঁর থাকা বা না থাকার ওপর অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে।


মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৩:১২:২০
মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে সামনে আসছে। ভারত, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে কাকে দেখতে চায়। দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অনেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি স্থিতিশীল অধ্যায় হিসেবে দেখলেও, বর্তমান বাস্তবতায় সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোতে উঠে আসছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক সম্ভাবনার কথা।

বিএনপির প্রতি কি দিল্লির আগ্রহ বাড়ছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্যের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমে বিএনপি এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে তুলনামূলক ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসা ও রাজনীতি বিষয়ক দৈনিক The Business Standard এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য গেম চেঞ্জিং মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বিএনপির মধ্যে একটি সতর্ক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ এখন মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য, উদার ও গণতান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই মূল্যায়ন ভারতের কৌশলগত ভাবনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

মোদির বার্তা এবং সম্পর্ক উষ্ণতার ইঙ্গিত

গত ডিসেম্বরে নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিএনপিও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপকে কেবল সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখলে চিত্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেকের বিশ্লেষণে এটি বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক উষ্ণ করার একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সংকেত।

জামায়াত প্রসঙ্গ এবং কৌশলগত মিল

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ সংস্থা Eurasia Review এবং International Crisis Group এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্র ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রাখার প্রশ্নে ভারত ও বিএনপির অবস্থানে একটি কৌশলগত মিল রয়েছে। এসব বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিএনপিই এখন তুলনামূলকভাবে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকেই দিল্লি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখছিল। এটি বর্তমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে।

জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং স্পষ্ট বার্তা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ঢাকা সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পিনাকী ভট্টাচার্যের ভিডিও বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই সফরে জয়শঙ্কর তিনটি নির্দিষ্ট বার্তা তুলে ধরেন।

প্রথমত, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে প্রয়োজনে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

পছন্দের শক্তি নয়, আপসযোগ্য অংশীদার

পিনাকী ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে। তার মতে, দিল্লির কাছে বিএনপি কোনো নির্দিষ্টভাবে নির্বাচিত শক্তি নয়। বরং ভারত বিএনপিকে একটি আপসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে, যাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষমতার প্রয়োজনে তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভার কার হাতে যেতে পারে, এই প্রশ্নে দিল্লির গণমাধ্যম ও বিশ্লেষণগুলো বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, আলোচনায় একটি সতর্ক বার্তাও উঠে আসছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সমর্থনে পরিচালিত হবে, বাইরের অনুকম্পায় নয়।

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেকের দৃষ্টিতে এটি বিদেশি প্রভাবের বাইরে একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ কিনা, সেই বিতর্কও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত