Banner

সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২১:১৪:২৪
সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ
মুফতি ফয়জুল করীম। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের গত সাত বছরে আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি তাঁর পরিবারের সম্পদের ঝুলিও হয়েছে বেশ ভারী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর সর্বশেষ হলফনামা ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ের ব্যবধানে তাঁর বার্ষিক আয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ৫৩ বছর বয়সী এই প্রার্থীর বর্তমানে শিক্ষকতা, মাহফিলের সম্মানী ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। অথচ সাত বছর আগে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ টাকা। বর্তমানে তাঁর নিজের নামে নগদ ৩১ লাখ ১২ হাজার টাকাসহ ৩৩ লক্ষাধিক টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এ ছাড়াও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিশাল পরিমাণ জমির মালিকানা রয়েছে তাঁর নামে।

তবে সবচেয়ে বড় চমক লক্ষ্য করা গেছে তাঁর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সম্পদের হিসাবে। ২০১৮ সালের হলফনামায় স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ না থাকলেও এবার তাঁর নামে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকারও রয়েছে। এ ছাড়াও স্ত্রীর নামে কৃষি ও অকৃষি জমি, বাণিজ্যিক ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টসহ মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। অর্থাৎ গত সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের নিজের আয়ের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকার নতুন সম্পদ যুক্ত হয়েছে। এমএ পাশ এই ধর্মীয় নেতা ও প্রার্থীর সম্পদের এমন উল্লম্ফন এখন বরিশালের নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২১:০৭:৩৬
বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থ এবং একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জামায়াত দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডা. শফিকুর রহমান সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং কার্যালয়ে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বেগম জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের প্রশংসা করে বলেন—বেগম খালেদা জিয়া দেশের আপামর জনতার মধ্যে ঐক্যের যে মজবুত ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন, জামায়াতে ইসলামী সেই পথ অনুসরণ করেই আগামীর পথ চলতে চায়। তিনি মনে করেন, একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর এবং চূড়ান্তভাবে সরকার গঠনের আগে সকল মিত্র ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসবে জামায়াত। তিনি বলেন, "আমরা চাই আগামীতে সবাই মিলেমিশে দেশের স্বার্থে কাজ করতে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও আমাদের এই ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।" মূলত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনাই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।


শূন্য সম্পদ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ তুষার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২০:৪০:৪৫
শূন্য সম্পদ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ তুষার
সারোয়ার তুষার। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে এক ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বিপরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। তবে সবার নজর কেড়েছে তুষারের দাখিলকৃত হলফনামা, যেখানে তাঁর কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারোয়ার তুষারের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাশ। পেশায় নিজেকে একজন লেখক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি এবং লেখালেখি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ আছে ৩ লাখ টাকা এবং আয়কর রিটার্নে মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর নিজের বা পরিবারের নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি কিংবা জমিজমার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর নামে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই বলে জানা গেছে।

পলাশ আসনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. আবদুল মঈন খানের বিপরীতে এমন একজন তরুণ ও বিত্তহীন প্রার্থীর লড়াইকে স্থানীয় ভোটাররা বেশ কৌতূহলের সঙ্গেই দেখছেন। এ বিষয়ে সারোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে জানান যে, তাঁর হলফনামায় দেওয়া তথ্যের বাইরে লুকানোর মতো কিছুই নেই। তাঁর নিজের বা পরিবারের নামে কোনো সম্পদ নেই এবং লেখক হিসেবে যেটুকু সামর্থ্য আছে, তা নিয়েই তিনি জনগণের অধিকার আদায়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিত্তবানের ভিড়ে এই ‘সম্পদহীন’ প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনে এক নতুন মাত্রার যোগ করল।


ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২০:১৯:২০
ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ডাকসু প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলের এই বৈঠকে তারেক রহমান দেশের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিশেষ পরামর্শ দেন। বৈঠক শেষে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমকে জানান যে, তারেক রহমান বিএনপি, জামায়াতসহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী দল এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈঠকের শুরুতে ডাকসু প্রতিনিধি দলটি সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আলোচনায় তারেক রহমান জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই সময়ে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। ভিপি সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশ এবং বিপ্লবের প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিপ্লবের সুফল ঘরে তোলার পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে দিল্লির তাঁবেদার ও পতিত ফ্যাসিস্টরা পুনরায় ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাবে।

সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে আরও জানান যে, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে ‘বাংলাদেশপন্থি’ রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। বিগত ১৬ বছর ধরে তরুণ প্রজন্ম যে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তা ফিরিয়ে দিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ছাত্র সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার শপথ নেওয়া হয় এই বৈঠক থেকে। ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগকে কোনোভাবেই হাতছাড়া না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডাকসু নেতারা।


সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৮:৪৯:৩০
সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
কোলাজ: ইত্তেফাক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার রাজনীতিতে এখন এক অভাবনীয় দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে একই পরিবারের দুই সদস্য—বাবা ও ছেলে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পৃথক দল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে তাঁদের দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—সম্পদের বিচারে বাবার চেয়ে ছেলে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বিত্তবান।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী আব্দুল হান্নান মাসউদ নিজেকে ‘ডিজিল্যান্ড গ্লোবাল’ নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকার পাশাপাশি ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা। পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এই বাবার সম্পদের তালিকায় নগদ টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্সের পাশাপাশি ১৬৮ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমি রয়েছে।

সম্পদের এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আব্দুল হান্নান মাসউদ জানান, ছাত্র অবস্থায় টিউশনি এবং নিজস্ব ব্যবসা থেকে তিনি এই অর্থ উপার্জন করেছেন। এছাড়া গত এক বছরে বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া প্রচুর ‘গিফট’ তাঁর সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, হলফনামায় তিনি কোনো তথ্য লুকাননি এবং তাঁর আয়ের বিবরণ সম্পূর্ণ সত্য। অন্যদিকে তাঁর বাবা বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বলেন, তিনি তাঁর অর্জিত সম্পত্তির সঠিক বিবরণ দাখিল করেছেন এবং এর বাইরে কোনো কথা বলতে রাজি নন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এই পিতা-পুত্র। আব্দুল হান্নান মাসউদ ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এনসিপির ব্যানারে এবং তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আলোচিত ছাত্রনেতা মাসউদের রাজনৈতিক উত্থান এবং বাবার সঙ্গে তাঁর এই লড়াই হাতিয়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।


ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৮:৪৪:১৭
ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
ছবি : সংগৃহীত

একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সাধারণ মানুষ এখন ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত অফিসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কনকাপৈত ইউনিয়ন জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সাথে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ডা. তাহের তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে বলেন—বাংলাদেশের মানুষ এখন মূলত দুটি স্পষ্ট পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, আর অন্যদিকে দেশের আপামর জনতা যারা ইসলামী জোটের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন এবং একটি চাঁদাবাজমুক্ত ও সুশাসিত বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে জনগণ আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোকেই বেছে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

চৌদ্দগ্রামের কনকাপৈত ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধায়ক ভিপি সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. তাহের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থেই উৎসবমুখর করে তুলতে হলে দলমত নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের সুমহান বার্তা এবং দেশ গড়ার পরিকল্পনা পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মন জয় করার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।

উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কনকাপৈত ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাসান মজুমদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মজুমদার এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি পেয়ার আহমেদ প্রমুখ। সভায় স্থানীয় সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন করার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১১:৩৪:০৭
ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘গোপন বৈঠক’ হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করেন। তিনি জানান, অসুস্থতা পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎকে কিছু গণমাধ্যম ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে দেশীয় কিছু সংবাদমাধ্যম এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তিনি জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অসুস্থ হয়ে যখন বাসায় ফেরেন, তখন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের মতো ভারতের দুজন প্রতিনিধিও তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। সৌজন্যবোধের খাতিরে তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তবে এটি কোনো রাজনৈতিক বা গোপন বৈঠক ছিল না।

জামায়াত আমিরের তথ্যমতে, অন্যান্য কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি যেমন প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল, তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও তেমনটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই দুই কূটনীতিক বিষয়টি প্রচার না করার জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান তাঁদের জানিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলে তা অবশ্যই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে, কারণ এখানে গোপনীয়তার কোনো স্থান নেই।

গণমাধ্যমে এই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, প্রকৃত ঘটনা না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকা উচিত। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যে, জামায়াতে ইসলামী সকল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।


পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১১:০৫:৫৭
পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

পারিবারিক শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং মায়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, জীবনের প্রথম শিক্ষক ও তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময়।

মায়ের অনুপস্থিতির শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে দেশবাসীর অভূতপূর্ব সমর্থন তাঁকে সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি লেখেন—অগণিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল তাঁর মা ছিলেন না; তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা। এই কঠিন সময়ে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শ্রদ্ধা তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিদেশি কূটনীতিকদের সরাসরি উপস্থিতির জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং অকালপ্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষের এই বিপুল ভালোবাসায় তাঁর মনে হচ্ছে—পুরো বাংলাদেশই এখন তাঁর পরিবার। নিকটজন হারানোর হাহাকার ছাপিয়ে মানুষের এই বিশ্বাস তাঁকে নতুন করে শক্তি দিচ্ছে। সারাজীবন দেশ ও মানুষের কল্যাণে মায়ের যে নিরলস প্রচেষ্টা ছিল, সেই উত্তরাধিকার বহন করার গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।

পোস্টের শেষ দিকে তারেক রহমান একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও মানবিক বার্তা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন—যেখানে মায়ের পথচলা থেমে গেছে, সেখান থেকেই তিনি সেই অসমাপ্ত পথযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রেরণা দিয়েছে, সেই মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার শপথ নেন তিনি। মায়ের ত্যাগ ও উদারতাকে পাথেয় করে ঐক্যবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ০৮:৪৪:৩০
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় যথাযথ শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রিয় মায়ের অন্তিম যাত্রায় সংশ্লিষ্টদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণেই সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তারেক রহমান তাঁর পোস্টে বিশেষভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, বরং শোকময় পরিবেশেও এক অনন্য মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র‍্যাব এবং এপিবিএন সদস্যদের ধৈর্য ও সততার প্রশংসা করেন তিনি, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে লাখ লাখ মানুষ নিরাপদে জানাজায় অংশ নিতে পেরেছে। গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের সতর্কতার কারণে দিনটি নির্বিঘ্ন ছিল বলে তিনি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে সরকারের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সমর্থন তাঁদের পরিবারের জন্য অমূল্য ছিল। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, দেশের সীমানার বাইরেও বেগম জিয়ার প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জানাজা ও দাফনের খবর বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মীদের প্রতিও তিনি অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পোস্টের শেষে তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে।” গভীর শোকের এই মুহূর্তে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাহিনীর দেখানো এই সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তাঁর হৃদয় স্পর্শ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর এই বার্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সংহতি ও শৃঙ্খলার এক ইতিবাচক ছবি ফুটে উঠেছে।


আয়ের দৌড়ে শীর্ষ নেতাদের পেছনে ফেললেন নুর, হলফনামায় নতুন চমক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ২১:৪৮:২৭
আয়ের দৌড়ে শীর্ষ নেতাদের পেছনে ফেললেন নুর, হলফনামায় নতুন চমক
ছবি: কোলাজ ইত্তেফাক

বাংলাদেশের রাজনীতির উদীয়মান মুখ এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বার্ষিক আয়ের হিসাবে দেশের অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে লড়াই করতে যাওয়া নুরের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁর বর্তমান বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। এই আয়ের অঙ্ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের ঘোষিত আয়ের চেয়েও অনেক বেশি।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নুরের আয়ের প্রধান উৎস হলো ব্যবসা, যেখান থেকে তিনি বছরে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা আয় করেন। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে তাঁর ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা আয় আসে। বিপরীতে তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং ডা. শফিকুর রহমানের আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে বার্ষিক আয়ে এগিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের হিসাবে নুর অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন। নুরের মোট সম্পদ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা দেখানো হলেও তারেক রহমানের সম্পদ রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার কাছাকাছি।

নুরুল হক নুরের সম্পদের খতিয়ানে উল্লেখ রয়েছে, তাঁর কাছে নগদ ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা এবং ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা জমা আছে। পৈতৃক সূত্রে তিনি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকার আমানত লাভ করেছেন। এছাড়া পটুয়াখালীতে তাঁর নামে ৮২ ডেসিমেল এবং তাঁর স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে ৩ একর কৃষিজমি রয়েছে। পেশায় শিক্ষিকা মারিয়া আক্তারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা। নুরের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে ৬টি মামলা চলমান রয়েছে এবং এর আগে তিনি ৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

জোটগত সমঝোতার কারণে নুরের নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি, যার ফলে নুরের জয়ের পথ অনেকটা সুগম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেখানে সাবেক বিএনপি নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র হিসেবে এবং নুরেরই দলের শহিদুল ইসলাম ফাহিম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় লড়াই হবে ত্রিমুখী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের আগে নুরের এমন উচ্চ আয়ের তথ্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত

এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে

এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় আবারও দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের... বিস্তারিত