প্রবাসী ভোটারদের জন্য সুখবর!

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৫ ১৪:৪২:৩৭
প্রবাসী ভোটারদের জন্য সুখবর!
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসী ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভোটাররা এখন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। বুধবার নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধনের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই সময় বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এক বার্তায় জানান, আগের প্রচারিত বার্তা সংশোধন করে নতুন তারিখ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরকে নিবন্ধনের চূড়ান্ত সময় হিসেবে প্রচার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময়সীমা শুরুতে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এখনো পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন শেষ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

-শরিফুল


বিদায়বেলায় ফয়ছল চৌধুরী: স্কটিশ পার্লামেন্টে এক বাঙালির ইতিহাস গড়ার গল্প

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১৯:৫৩:৫৯
বিদায়বেলায় ফয়ছল চৌধুরী: স্কটিশ পার্লামেন্টে এক বাঙালির ইতিহাস গড়ার গল্প
ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এমবিই/ ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

স্কটিশ পার্লামেন্টে ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এম.বি.ই, এম.এস.পি এর সময়কাল শেষের পথে, স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই জনজীবনে প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব নিয়ে ভাবছেন এবং আশা করছেন যে ভবিষ্যতেও অনুপ্রতিনিধিত্বশীল পটভূমি থেকে আরও মানুষ এগিয়ে আসবেন।

ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এম.বি.ই, এম.এস.পি, ইতিহাস সৃষ্টি করেন স্কটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি হিসেবে এবং তিনি এখনো সমগ্র যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ও একমাত্র পুরুষ পার্লামেন্টারিয়ান। তাঁর নির্বাচন স্কটিশ রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং এমন বহু কমিউনিটিকে অনুপ্রাণিত করে যারা আগে কখনো নিজেদের স্কটল্যান্ডের জাতীয় পার্লামেন্টে প্রতিফলিত হতে দেখেনি।

২০২১ সালে লোথিয়ান অঞ্চলের সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর, ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এম.বি.ই, সংস্কৃতি, সমতা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং কমিউনিটি ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচিত কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁর জনজীবনের পুরো সময়জুড়ে তিনি স্কটল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং অন্তর্ভুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও শক্তিশালী কমিউনিটি সম্পর্কের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বদরদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং স্কটল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফয়ছল হোসেন চৌধুরী-এর রাজনীতিতে যাত্রা গড়ে ওঠে কয়েক দশকের তৃণমূল পর্যায়ের কমিউনিটি কাজ, স্বেচ্ছাসেবা এবং নাগরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং স্কটল্যান্ডের বৈচিত্র্যময় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে কাজ করা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং কমিউনিটি গ্রুপের সঙ্গে ব্যাপকভাবে কাজ করেন।

ফয়ছল চৌধুরীর সমাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০০৪ সালে তিনি ব্রিটিশ রাণীর কাছ থেকে এমবিই (মেম্বার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাবে ভূষিত হন। এটি ছিল তাঁর জীবনের এক বিশাল অর্জন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সমাজসেবার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

পার্লামেন্টে থাকাকালীন, ফয়ছল চৌধুরী স্কটিশ লেবারের সংস্কৃতি, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী (Shadow Minister) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংস্কৃতি, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক Deputy Party Spokesperson হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক খাত, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা এবং মানবিক দায়বদ্ধতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণ ও সংসদীয় পর্যালোচনায় অবদান রাখেন।

তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টের একাধিক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে ছিল সিটিজেন পার্টিসিপেশন অ্যান্ড পাবলিক পিটিশনস কমিটি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা কমিটি, সংবিধান, ইউরোপ, বৈদেশিক বিষয়ক ও সংস্কৃতি কমিটি, গ্রামীণ বিষয়ক ও দ্বীপপুঞ্জ কমিটি এবং ডেলিগেটেড পাওয়ারস অ্যান্ড ল’ রিফর্ম কমিটি।। এসব দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি আইন পর্যালোচনা, জননীতি মূল্যায়ন এবং স্কটল্যান্ডজুড়ে অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় অবদান রাখেন।

সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি, ফয়ছল চৌধুরী স্কটিশ পার্লামেন্টের বিভিন্ন ক্রস পার্টি গ্রুপে নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ, বর্ণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রতিরোধ বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ এবং সংস্কৃতি ও কমিউনিটিজ বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপের কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি স্কটল্যান্ডের স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপের কো-কনভেনার হিসেবে, এবং অভিবাসন বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ ও ফিলিস্তিন বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপের ভাইস কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই কাজের মাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে দাতব্য সংস্থা, প্রচারণা গ্রুপ, কমিউনিটি নেতা এবং অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, যাতে কমিউনিটির কণ্ঠস্বর স্কটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছায়। তিনি স্কটল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগকে সমর্থন করেন।

একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর সময়জুড়ে, ফয়ছল চৌধুরী শুধু এডিনবারা এবং লোথিয়ান অঞ্চলের জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করেননি, বরং রাজনীতি ও পার্লামেন্টকে এমন কমিউনিটির জন্য আরও সহজলভ্য করে তুলতে কাজ করেছেন যারা দীর্ঘদিন জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন অনুভব করেছে। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বৈচিত্র্যময় ও অনুপ্রতিনিধিত্বশীল পটভূমির মানুষের মধ্যে রাজনীতি, জনসেবা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

তাঁর নির্বাচন এবং সংসদীয় জীবন স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বের প্রতিফলনও ছিল। তিনি ধারাবাহিকভাবে বলেছেন যে আধুনিক স্কটল্যান্ডের বৈচিত্র্য যেন পার্লামেন্টে প্রতিফলিত হয়, এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতেও অনুপ্রতিনিধিত্বশীল কমিউনিটি থেকে আরও মানুষ এগিয়ে আসবেন।

ফয়ছল চৌধুরী-এর জনসেবা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বের অবদান বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে MBE for services to the community, Channel S Community Award, Keighley Award for humanitarian work, Pride of British Bangladeshi People Award এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, যা কমিউনিটি উন্নয়ন, সমতা এবং জনজীবনে তাঁর অবদানের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

নিজের যাত্রা সম্পর্কে প্রতিফলন করতে গিয়ে ফয়ছল চৌধুরী বলেন:

“আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ছিল স্কটিশ পার্লামেন্টে এডিনবারা এবং লোথিয়ান-এর জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়া। স্কটিশ পার্লামেন্টে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং সমগ্র যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ও একমাত্র পুরুষ পার্লামেন্টারিয়ান হওয়ার দায়িত্ব আমি কখনোই হালকাভাবে নিইনি। আমি বুঝতাম যে আমার নির্বাচন বহু ব্যক্তি ও কমিউনিটির জন্য আশা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক, যারা আগে কখনো নিজেদের পার্লামেন্টে প্রতিফলিত হতে দেখেনি।

“একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমার পুরো সময়জুড়ে, আমি শুধু আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করিনি, বরং আরও বেশি মানুষকে—বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠী এবং অনুপ্রতিনিধিত্বশীল পটভূমির মানুষদের—রাজনীতি, জনসেবা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বে যুক্ত হতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে আমি স্কটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম এবং শেষ ব্যক্তি হব না, এবং আগামী বছরগুলোতে আরও অনেকেই এই পথ অনুসরণ করবেন।

“জনসেবার একটি মেয়াদ থাকতে পারে, কিন্তু কমিউনিটি সেবা আজীবনের। আপনি যদি সত্যিই পরিবর্তন আনতে চান এবং মানুষের জীবন উন্নত করতে চান, তবে এই কাজ কখনো থামে না।”

তাঁর পুরো কর্মজীবনজুড়ে, ফয়ছল চৌধুরী সমতা প্রচার, কমিউনিটিকে সমর্থন এবং জনজীবনে আরও বেশি অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছেন। তাঁর গল্প আজও স্কটল্যান্ডজুড়ে বহু মানুষকে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু কমিউনিটির মানুষদের, অনুপ্রাণিত করে—যে কীভাবে কমিউনিটি সেবা, দৃঢ়তা এবং জনসম্পৃক্ততা বাধা ভেঙে স্থায়ী পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে।


লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: প্রাণ হারালেন সাতক্ষীরার দুই বাংলাদেশি

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১১:২৪:৪১
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: প্রাণ হারালেন সাতক্ষীরার দুই বাংলাদেশি
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনেই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (পিতা আফসার আলী) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (পিতা মো. আবদুল কাদের)। দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের মরদেহ বর্তমানে নাবাতিয়ের নাবিহ বেররি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লেবাননে চলমান সংঘাতের বলি হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর আগে গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দিপালী বেগম নামে আরও এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি!

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:১৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিগ্রি প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহত জামিল লিমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে নিহত দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে এই বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে, নিহত বৃষ্টির মরদেহ আগামী ৭ মে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে যা ৯ মে সকালে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত ৪ মে লিমনের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে বর্তমানে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

/আশিক


জেলের বড়শিতে আটকাল কালো ব্যাগ: মিলল যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রীর মরদেহ

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১২:০২:১৩
জেলের বড়শিতে আটকাল কালো ব্যাগ: মিলল যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রীর মরদেহ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে জট খুলেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে কায়াক চালিয়ে মাছ ধরার সময় এক জেলের চোখে পড়ে একটি রহস্যময় কালো ব্যাগ। জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ পান।

কাছে গিয়ে দেখতে পান একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ আংশিক খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেখান থেকে নাহিদা বৃষ্টির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে, ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে সেটি শনাক্ত করতে হয়েছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনে থাকা পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়।

হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানিয়েছেন, তদন্তের সময় জামিল লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার চশমা, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ এবং রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘর এবং অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর কক্ষে বিপুল পরিমাণ রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।

লুমিনল পরীক্ষার মাধ্যমে মেঝেতে একটি মানবদেহের ক্ষুদ্র ছাপও শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি ব্যাগের ভেতর। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বৃষ্টির মরদেহ গাড়ির ট্রাংকে করে পাচার করা হয়েছিল।

তদন্তের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি বেরিয়ে আসে অভিযুক্ত হিশামের ফোন থেকে। সে ফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেললেও বিশেষজ্ঞরা তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। হিশামের সার্চ হিস্ট্রি এবং চ্যাটজিপিটির সাথে কথোপকথনে হত্যার সুপরিকল্পিত ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে জানতে চেয়েছিল— ছুরি দিয়ে খুলি ভাঙা সম্ভব কি না, গুলির শব্দ বাইরে থেকে শোনা যাবে কি না কিংবা মরদেহ গুম করার সবচেয়ে সহজ উপায় কী। এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণগুলো হিশামকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিনহীন কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিহত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল এবং জামিল লিমন ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে কী কারণে হিশাম এই বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটনে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

সূত্রঃ এনবিসি


ফ্লোরিডায় মেধাবীদের খুনি কে? পুলিশের বিশেষ অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর মোড়

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১২:৪১:১১
ফ্লোরিডায় মেধাবীদের খুনি কে? পুলিশের বিশেষ অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর মোড়
ছবি : সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়া দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান হলো দুঃসংবাদের মাধ্যমে। গতকাল শুক্রবার (১ মে ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার নিশ্চিত করেছেন যে, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির।

ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে থাকা পোশাকের সঙ্গে মরদেহের পোশাকের মিল দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং দুজনকে অ্যাভালন হাইটসের অ্যাপার্টমেন্টের কাছাকাছি দূরত্বে ও প্রায় একই সময়ে হত্যা করা হয়েছে।

শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনাকে ‘লোমহর্ষক’ ও ‘নিখাত শয়তানি’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে থাকা বৃষ্টির পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে লিমনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল, যা আগামী ৪ মে দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

অন্যদিকে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই দুই শিক্ষার্থীর জীবন কেড়ে নিয়েছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন থাকায় সুনির্দিষ্ট অপরাধীর নাম এখনই প্রকাশ করা না হলেও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

/আশিক


ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: রুমমেটের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১০:২৪:১২
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: রুমমেটের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্যের এক ভয়ংকর পরিণতি সামনে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় লিমনেরই রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ এনেছেন প্রসিকিউটররা।

হিলসবরো কাউন্টি আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উঠে এসেছে কীভাবে লিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার প্রেমিকা নাহিদা বৃষ্টিকেও একই পরিণতির শিকার হতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সেখানেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের পিঠে ধারালো অস্ত্রের এমন গভীর আঘাত ছিল যা তার লিভার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করা হলেও নাহিদা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ। তবে ব্রিজের দক্ষিণ পাশের জলাধারে মানুষের দেহাংশ পাওয়া যাওয়ায় তদন্তকারীরা প্রায় নিশ্চিত যে বৃষ্টিকেও হত্যা করে সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়াহ প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনের লোকেশন তাকে ফাসিয়ে দেয়। ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে শেষবার দেখা যাওয়ার পরদিনই হিশামকে ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় দেখা যায়, যেখানে লিমনের ফোনের লোকেশনও ছিল।

এছাড়া পুলিশ তার ঘর থেকে একটি রসিদ উদ্ধার করেছে যেখানে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের দিনই সে প্রচুর ময়লার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস এবং এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিল—যা মূলত রক্ত ও তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার হাতে ব্যান্ডেজ দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে, যদিও সে দাবি করেছিল পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে হাত কেটেছে। প্রসিকিউটররা এই অপরাধকে ‘অত্যন্ত নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে হিশামের জামিনহীন কারাদণ্ডের আবেদন জানিয়েছেন।

/আশিক


কাউন্সিলর  সৈয়দ ফিরোজ গনি : জনসেবায় দুই দশকের বেশি সময়ের নিবেদিত পথচলা

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:৪৬:০০
কাউন্সিলর  সৈয়দ ফিরোজ গনি : জনসেবায় দুই দশকের বেশি সময়ের নিবেদিত পথচলা
সৈয়দ ফিরোজ গনি কাউন্সিলর ২০২৬/ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গনি একজন অভিজ্ঞ সংগঠক, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ, যিনি দীর্ঘ ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্থানীয় জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং কমিউনিটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা

এই দীর্ঘ পথচলায় সৈয়দ ফিরোজ গনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এলাকাকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য করে তোলাই তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য। মানুষের পাশে থাকা, তাদের সমস্যা শোনা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান বের করাই তাঁর কাজের প্রধান প্রেরণা।

কাউন্সিলে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব

কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দু’বার অ্যাসেম্বলির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এনফোর্সমেন্ট, কমিউনিটি সেফটি এবং পার্কিং বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এর আগে তিনি পাবলিক রিয়ালম (পরিবেশ) বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার হিসেবে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বরো গড়ে তোলার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে Labour Party-এর একজন সক্রিয় সদস্য। এই সময়ে তিনি ন্যায়বিচার, কমিউনিটি নিরাপত্তা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা ও দক্ষতা

শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে মার্কেটিং বিষয়ে এমএ এবং এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা তাঁকে কৌশলগত চিন্তাভাবনা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসেবায় গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে।

আঞ্চলিক ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকা

কাউন্সিলের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি London Borough of Barking and Dagenham-এর প্রতিনিধিত্ব করে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থায় কাজ করছেন। এর মধ্যে থেমস রিজিওনাল ফ্লাড অ্যান্ড কোস্টাল কমিটি এবং পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন অংশীদারিত্বে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।এছাড়াও London TEC-এর একজন সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন।

শিক্ষা ও কমিউনিটি উন্নয়ন

স্থানীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি Grafton Primary School-এর গভর্নর, বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম অ্যাডাল্ট কলেজের উপদেষ্টা এবং BDCVS-এর ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ

কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গনি নিয়মিত টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (TRA) মিটিং এবং সেফার নেইবারহুড টিম মিটিংসহ বিভিন্ন স্থানীয় ফোরামে অংশগ্রহণ করেন। বাসিন্দাদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

বিশেষ অর্জন

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীদের মধ্যে তিনিই প্রথম চট্টগ্রামের প্রতিনিধি, যিনি ২০১৪ সালে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া, Barking and Dagenham কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর হিসেবে গত ৮ বছর ধরে ক্যাবিনেট মেম্বারের দায়িত্ব পালন করছেন।

সহকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সৈয়দ ফিরোজ গনি ভ্যালেন্স এলাকাকে আরও উন্নত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে একজন সফল ও জনপ্রিয় জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


ভালোবাসার ঘর বাঁধা হলো না লিমন-বৃষ্টির: ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:২৮:৪৫
ভালোবাসার ঘর বাঁধা হলো না লিমন-বৃষ্টির: ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত জামিল আহমেদ লিমন (২৭) এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির অকাল প্রয়াণে কেবল দুটি মেধাবী প্রাণের অবসান ঘটেনি, বরং তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের সব স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা খুব শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিকল্পনা করছিলেন।

লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, লিমন প্রায়ই পরিবারের কাছে বৃষ্টির প্রশংসা করতেন এবং তাদের সম্পর্কের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে তারা দুজনেই দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখতেন। লিমনের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করা। জুবায়েরের ভাষায়, লিমন ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ, যাঁর জীবন এমন নৃশংসভাবে শেষ হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

উল্লেখ্য যে, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণারত ছিলেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া বৃষ্টির নিথর দেহের খবরও পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার এখন বাকরুদ্ধ। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে লিমনের রুমমেটের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে মেধাবী ছাত্র লিমনের করুণ পরিণতি! এখনো নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১১:৩৯:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে মেধাবী ছাত্র লিমনের করুণ পরিণতি! এখনো নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে ২৭ বছর বয়সি এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে লিমনের সাথে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৭) কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দফতর জানিয়েছে, লিমনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তাঁর রুমমেট ২৬ বছর বয়সি হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী নন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, অনুমতি ছাড়া মরদেহ সরানো এবং কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখাসহ মোট ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, লিমনের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন হিশাম।

নিখোঁজ লিমন ও বৃষ্টি দুজনেই ইউএসএফ-এর পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৭ এপ্রিল থেকে তাঁদের কোনো খোঁজ মিলছিল না। লিমনের মরদেহ পাওয়া গেলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য এখনো কাটেনি। শেরিফের দফতর জানিয়েছে, বৃষ্টি ওই বাসায় থাকতেন না এবং তাঁকে খুঁজে বের করতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। লিমনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফ্লোরিডায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্র: সিএনএন, পিপল ম্যাগাজিন

পাঠকের মতামত: