গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ: মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২১ ০৮:৩৭:৪০
গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ: মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা
ছবি: সংগৃহীত

মানবসভ্যতা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যা কিছু জানে, তার প্রায় সবই এসেছে তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ বা আলোর মাধ্যমে। দৃশ্যমান আলো দিয়ে শুরু হওয়া জ্যোতির্বিদ্যা ধীরে ধীরে গামা রশ্মি থেকে শুরু করে রেডিও তরঙ্গ পর্যন্ত পুরো তড়িৎচৌম্বক বর্ণালিকে কাজে লাগিয়েছে। এই বিস্তৃত পর্যবেক্ষণের ফলে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন বিস্ময়কর সব মহাজাগতিক রহস্য। তবে এখন সেই আলোকনির্ভর পর্যবেক্ষণের বাইরে গিয়ে জন্ম নিয়েছে এক বিপ্লবী ধারা গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ জ্যোতির্বিদ্যা, যেখানে দেখা হয় আলো নয়, বরং স্থান-কাল বা স্পেসটাইমের কম্পন।

এই নতুন ধারার সঙ্গে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পর্যবেক্ষণাগার লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (LIGO)। এটি আলো নয়, বরং মহাবিশ্বের গভীরতম স্তরে সংঘটিত মহাকর্ষীয় আলোড়ন শনাক্ত করে।

গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ কীভাবে সৃষ্টি হয়

আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাকর্ষ কোনো অদৃশ্য শক্তি নয় যা দূর থেকে টানে। বরং এটি হলো স্থান-কাল বেঁকে যাওয়ার ফল। যখন কোনো অত্যন্ত ভারী বস্তু দ্রুতগতিতে নড়াচড়া করে বা ত্বরণপ্রাপ্ত হয়, তখন আশপাশের স্থান-কাল বিকৃত হয় এবং সেই বিকৃতি আলোর গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে পড়া বিকৃতিই হলো গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ স্থান-কালের মধ্যে সৃষ্ট তরঙ্গ।

কোন বস্তু থেকে আসে এই তরঙ্গ

গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ তৈরি করতে হলে প্রয়োজন হয় অসাধারণ ভারী বস্তুর। এর প্রথম বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় একটি বাইনারি পালসার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, যেখানে দুটি নিউট্রন তারকা একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরছিল। প্রতিটি তারকার ভর সূর্যের প্রায় সমান হলেও তাদের কক্ষপথ ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছিল। এই শক্তি ক্ষয় হচ্ছিল ঠিক সেই পরিমাণে, যা তত্ত্ব অনুযায়ী গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ হিসেবে নির্গত হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই তরঙ্গের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়।

কেন এটি শনাক্ত করা এত কঠিন

গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ যখন কোনো অঞ্চল দিয়ে যায়, তখন এটি দুটি বিন্দুর মধ্যকার দূরত্ব অতি সামান্য পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের মাত্রা এত ক্ষুদ্র যে LIGO-কে মাপতে হয় প্রায় ১০⁻¹⁹ মিটার দূরত্ব যা একটি প্রোটনের ব্যাসার্ধের তুলনায় প্রায় দশ হাজার গুণ ছোট। এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করা আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

LIGO কীভাবে এই অসম্ভব কাজটি করে

LIGO মূলত একটি বিশাল লেজার ইন্টারফেরোমিটার। এতে দুটি দীর্ঘ ভ্যাকুয়াম পাইপ রয়েছে, প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার, যা L-আকৃতিতে বসানো। একটি লেজার রশ্মি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে এই দুই পথে যায়, প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এসে আবার একত্রিত হয়। সাধারণ অবস্থায় দুটি রশ্মি একে অপরকে বাতিল করে দেয়। কিন্তু যদি কোনো গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ অতিক্রম করে, তাহলে এক বাহু সামান্য বড় হয় এবং অন্যটি ছোট ফলে আলো আর পুরোপুরি বাতিল হয় না। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যই সংকেত হিসেবে ধরা পড়ে।

এই সংবেদনশীলতা বাড়াতে লেজার রশ্মিকে একবার নয়, প্রায় ৪০০ বার প্রতিফলিত করা হয়, ফলে কার্যকর দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার।

অতিসংবেদনশীল যন্ত্র, অতিরিক্ত সতর্কতা

LIGO এতটাই সংবেদনশীল যে আশপাশের গাড়ির গতি পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এখানকার গতি সীমা ঘণ্টায় মাত্র ১৬ কিলোমিটার। এমনকি ভূমিকম্পের ক্ষুদ্র কম্পন বা পৃথিবীর মহাকর্ষক্ষেত্রের সামান্য পরিবর্তনও যন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই LIGO-এর আয়নাগুলো ৪০ কেজি ওজনের এবং বিশেষ সিলিকা ফাইবারে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

ভুল সংকেত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে দুটি পৃথক LIGO কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে একটি লুইজিয়ানার লিভিংস্টনে এবং অন্যটি ওয়াশিংটনের হ্যানফোর্ডে। প্রকৃত গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ হলে উভয় কেন্দ্রেই একসঙ্গে সংকেত ধরা পড়ে।

মহাবিশ্ব দেখার এক নতুন জানালা

গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ জ্যোতির্বিদ্যা আমাদের এমন সব ঘটনা দেখার সুযোগ দিচ্ছে, যা আলো দিয়ে কখনোই ধরা পড়ত না। যেমন দূরবর্তী গ্যালাক্সিতে লক্ষ লক্ষ সূর্যের ভরের ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষ, বা সামান্য বিকৃত আকৃতির নিউট্রন তারকার অভ্যন্তরীণ গঠন। ইতিহাস বলছে, প্রতিবার মানুষ মহাবিশ্ব দেখার নতুন পদ্ধতি পেয়েছে, তখনই এসেছে অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার। এই নতুন জ্যোতির্বিদ্যাও সম্ভবত এমন সব রহস্য উন্মোচন করবে, যা আমরা এখনো কল্পনাও করিনি।

সূত্র: ব্রিটানিকা


পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৮:৫৯:২৩
পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ থেকে ১৬০ কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হয়, যা থেকে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে পাহাড় সমান ইলেকট্রনিক বর্জ্য। সাধারণত এই ই-বর্জ্য বা পুরোনো মোবাইল, ল্যাপটপ ও সার্কিট বোর্ডগুলোকে আমরা আবর্জনা মনে করে ফেলে দিই। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রতিটি যন্ত্রের ভেতরে ভালো কন্ডাক্টিভিটির জন্য ব্যবহার করা হয় সামান্য পরিমাণে স্বর্ণ ও প্যালাডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু। সম্প্রতি চীনের গবেষকরা একটি বিস্ময়কর ও সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে এই ফেলে দেওয়া যন্ত্রগুলো থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সোনা বের করে আনা সম্ভব।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন পদ্ধতিতে কোনো জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ে ই-বর্জ্য থেকে সোনা আলাদা করা যাবে। সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই পদ্ধতিতে খরচ বর্তমানের প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, মোবাইল ফোনের সিপিইউ এবং প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড থেকে প্রায় ৯৮.২ শতাংশের বেশি সোনা এবং ৯৩.৪ শতাংশ পর্যন্ত প্যালাডিয়াম উদ্ধার করা সম্ভব। এই আবিষ্কার শুধু মূল্যবান ধাতুর জোগানই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনবে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি যদি বাণিজ্যিক স্তরে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি বড় ধরণের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাবে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো—তাদের পুরোনো ও অকেজো গ্যাজেটগুলো এখন আর ফেলনা থাকবে না। বড় বড় ইলেকট্রনিক কোম্পানিগুলোও এখন ই-বর্জ্য রিসাইকেল করে তাদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে পারবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে এত কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে স্বর্ণ নিষ্কাশন করার এই পদ্ধতিটি ২০২৬ সালের বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮


ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস : আতঙ্কে বিশ্ব

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১২:১৪:০৮
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস : আতঙ্কে বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

শনিবার ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইনস্টাগ্রামের বিশাল এক ডেটাসেট ডার্ক ওয়েবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা 'ম্যালওয়্যারবাইটস' প্রথম এই বিষয়টি শনাক্ত করে। ফাঁস হওয়া এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীদের

পূর্ণ নাম

ইমেইল অ্যাড্রেস

ফোন নম্বর

আংশিক ঠিকানা

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকাররা সরাসরি কোনো পাসওয়ার্ড চুরি করতে না পারলেও এই স্পর্শকাতর তথ্যগুলো ব্যবহার করে পরিচয় চুরি (Identity Theft) বা বড় ধরণের আর্থিক জালিয়াতি করা সম্ভব। 'সলোনিক' ছদ্মনামের এক হ্যাকার গত সপ্তাহে ডার্ক ওয়েবের একটি ফোরামে এই ১ কোটি ৭৫ লাখ তথ্য বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

এই তথ্য ফাঁসের পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করছেন যে, তাদের ইমেইলে হঠাৎ করে অসংখ্য 'পাসওয়ার্ড রিসেট' রিকোয়েস্ট আসছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হ্যাকাররা ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো ব্যবহার করে এখন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ডেটা চুরির ঘটনাটি মূলত ২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রামের এপিআই-এর (Application Programming Interface) একটি পুরনো ত্রুটি থেকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা অবশ্য তাদের প্রধান সার্ভার হ্যাক হওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে আসা পাসওয়ার্ড রিসেট ইমেইলগুলো আসলে একটি 'কারিগরি ত্রুটির' ফলাফল এবং ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট এখনো সুরক্ষিত আছে। তবে মেটার এই দাবিকে কেবল 'শব্দের মারপ্যাঁচ' হিসেবে দেখছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এপিআই-এর দুর্বলতা ব্যবহার করে তথ্য সরিয়ে নেওয়াও এক ধরণের হ্যাকিং এবং এটি সমানভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা এবং অপরিচিত কোনো ইমেইল লিংকে ক্লিক না করার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


একই খরচে মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট: জেনে নিন কোন প্যাকেজে কত গতি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৮:৫৮:১৫
একই খরচে মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট: জেনে নিন কোন প্যাকেজে কত গতি
ছবি : সংগৃহীত

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকরা এখন থেকে আগের মাসিক খরচেই বহুগুণ বেশি গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। অনলাইন শিক্ষা, দাপ্তরিক কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং গেমিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিটিসিএল মনে করছে, এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুফল ভোগ করতে পারবে।

বিটিসিএলের আপগ্রেড করা নতুন প্যাকেজগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

সাশ্রয়ী-২০ প্যাকেজ: আগে ৩৯৯ টাকায় ছিল ৫ এমবিপিএস, এখন পাওয়া যাবে ২০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-২৫ প্যাকেজ: ৫০০ টাকায় ১২ এমবিপিএসের জায়গায় এখন মিলবে ২৫ এমবিপিএস।

ক্যাম্পাস-৫০ প্যাকেজ: শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ টাকার ক্যাম্পাস প্যাকেজ ১৫ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০ এমবিপিএস করা হয়েছে।

সাশ্রয়ী-৫০ প্যাকেজ: ৮০০ টাকার ১৫ এমবিপিএস প্যাকেজটি এখন হয়েছে ৫০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১০০ প্যাকেজ: ১০৫০ টাকায় ২০ এমবিপিএসের পরিবর্তে গ্রাহকরা পাবেন ১০০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১২০ প্যাকেজ: ১১৫০ টাকায় ২৫ এমবিপিএস থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১৫০ প্যাকেজ: ১৫০০ টাকায় ৪০ এমবিপিএস প্যাকেজটি এখন হয়েছে ১৫০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১৭০ প্যাকেজ: উচ্চ ব্যবহারকারীদের জন্য ১৭০০ টাকায় ৫০ এমবিপিএসের পরিবর্তে মিলবে ১৭০ এমবিপিএস।

বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের ডিজিটাল রূপান্তর পূর্ণতা পাবে। এই আপগ্রেডেশনের ফলে বিটিসিএলের গ্রাহক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকরা কোনো বাড়তি ফি বা আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন গতি উপভোগ করতে পারবেন। নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্মার্ট সেবা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে বলে বিটিসিএল দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছে।


জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২১:১৪:৪২
জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কৃষ্ণগহ্বর ‘স্যাজিটারিয়াস এ-স্টার’-এর প্রকৃত আচরণ শনাক্ত করার মাধ্যমে। জাপান, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মহাকাশযান ‘এক্সআরআইএসএম’-এর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই কৃষ্ণগহ্বরটি আগে যতটা অলস মনে করা হতো, বাস্তবে তা মোটেও তেমন নয়। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রধান বিজ্ঞানী স্টিফেন ডিকারবি এবং তাঁর দল গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে, গত এক সহস্রাব্দের মধ্যে এই কৃষ্ণগহ্বরটি বেশ কয়েকবার অত্যন্ত উচ্চমাত্রার বিকিরণ নিঃসরণ করেছে। এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের সামনে মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং গ্যালাক্সির কেন্দ্রের গতিশীলতা বোঝার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কৃষ্ণগহ্বর নিজে কোনো আলো ছড়ায় না কারণ এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই প্রবল যে আলোও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তবে স্যাজিটারিয়াস যখন এর চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড টানে কাছে টেনে নেয়, তখন ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপ থেকে শক্তিশালী এক্স-রে বিকিরণ তৈরি হয়। গবেষকরা গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে থাকা একটি বিশালাকার গ্যাস মেঘের দিকে নজর দিয়ে দেখতে পান যে, ওই মেঘটি আসলে অতীতে কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা এক্স-রে প্রতিফলিত করছে। এই বিরল ঘটনাটি মহাকাশে এক ধরণের ‘মহাজাগতিক আয়না’ হিসেবে কাজ করেছে, যার মাধ্যমে কয়েকশ বছর আগের মহাজাগতিক সক্রিয়তা এখন বিজ্ঞানীদের নজরে এল।

২০২৩ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে এক্সআরআইএসএম মহাকাশযানের উচ্চ সংবেদনশীল যন্ত্রগুলো মহাকাশ থেকে আসা এক্স-রে এবং মহাজাগতিক কণাগুলোকে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বিকিরণের উৎস কোনো বিচ্ছিন্ন নক্ষত্র নয় বরং খোদ কৃষ্ণগহ্বর নিজেই। ৪০ লাখ সূর্যের সমান ভরের এই দানবীয় কৃষ্ণগহ্বরের এমন অদ্ভুত ও সক্রিয় আচরণ আগে কখনো প্রমাণিত হয়নি। এই আবিষ্কার কেবল আমাদের গ্যালাক্সির ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে সাহায্য করবে না, বরং মহাবিশ্বের অন্যান্য বিশাল কৃষ্ণগহ্বরগুলো কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কেও বিজ্ঞানীদের আরও গভীর ধারণা দেবে।


দিন-রাত কখন সমান হয় জানেন কি, জানুন বিজ্ঞানের  ব্যাখ্যা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ২১:৩৮:১০
দিন-রাত কখন সমান হয় জানেন কি, জানুন বিজ্ঞানের  ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের পেছনে যে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলো কাজ করে, তার মধ্যে অয়ন (Solstice) ও বিষুব (Equinox) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই এই দুটি শব্দকে এক মনে করলেও বাস্তবে এগুলো একে অপরের বিপরীতধর্মী ঘটনা। সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর অবস্থান ও কাতের ভিন্নতার কারণেই এই দুই প্রাকৃতিক ঘটনার সৃষ্টি হয়।

পৃথিবীর কাত ও ঋতুর জন্ম

পৃথিবী নিজের অক্ষে প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি কাত হয়ে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। এই কাতের কারণেই বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের আলো বেশি বা কম পায়। যদি পৃথিবী কাত না হতো, তাহলে সূর্য সারাবছর বিষুবরেখার ওপরেই অবস্থান করত, সব জায়গায় সমান আলো পড়ত এবং পৃথিবীতে কোনো ঋতু পরিবর্তন হতো না। সেই ক্ষেত্রে অয়ন বা বিষুব চিহ্নিত করারও প্রয়োজন পড়ত না।

বিষুব কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিষুব (Equinox) বছরে দুইবার ঘটে একবার মার্চ মাসে (প্রায় ২১ মার্চ) এবং আরেকবার সেপ্টেম্বর মাসে (প্রায় ২৩ সেপ্টেম্বর)। এই দিনগুলোতে সূর্য ঠিক বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এর ফলে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়।

উত্তর গোলার্ধে মার্চের বিষুবকে বলা হয় বসন্ত বিষুব, যা বসন্ত ঋতুর সূচনা করে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের বিষুবকে বলা হয় শরৎ বিষুব, যা শরৎ ঋতুর শুরু নির্দেশ করে।

অয়ন কীভাবে দিন-রাতের চরমতা তৈরি করে

অয়ন (Solstice)-ও বছরে দুইবার ঘটে জুন এবং ডিসেম্বর মাসে। এই সময় সূর্যের অবস্থান বিষুবরেখা থেকে সবচেয়ে বেশি উত্তর বা দক্ষিণে সরে যায়।

  • গ্রীষ্ম অয়ন (২০ বা ২১ জুন): উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ দিন এবং সবচেয়ে ছোট রাত। এ সময় উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যের কিরণ কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে।
  • শীত অয়ন (২১ বা ২২ ডিসেম্বর): উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে ছোট দিন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ রাত। তখন সূর্যের কিরণ মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে।

দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময়গুলোতে ঋতুর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো থাকে।

অয়ন ও বিষুবের মৌলিক পার্থক্য

বিষুবের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমান দিন ও রাত, আর অয়নের বৈশিষ্ট্য হলো দিন বা রাতের চরম দৈর্ঘ্য। বিষুব ঋতুর ভারসাম্য নির্দেশ করে, আর অয়ন ঋতুর চূড়ান্ত অবস্থানকে প্রকাশ করে।

কেন এগুলো মানবজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

অয়ন ও বিষুব শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘটনা নয়, কৃষি, আবহাওয়া, পরিবেশ ও মানবসভ্যতার সময় নির্ধারণে এগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। হাজার বছর ধরে মানুষ এই দিনগুলোকে কেন্দ্র করে ফসলের সময়, উৎসব ও ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করে আসছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা


জ্বালানি সংকটে নতুন আশার আলো! সূর্য আর পানিতেই বাজিমাত বিজ্ঞানীদের

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২১:৪০:৪৯
জ্বালানি সংকটে নতুন আশার আলো! সূর্য আর পানিতেই বাজিমাত বিজ্ঞানীদের
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ’ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় ছিল ব্যয়বহুল ধাতু প্লাটিনামের ব্যবহার। তবে সেই চিরাচরিত ধারণা ভেঙে দিয়ে সুইডেনের চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একদল বিজ্ঞানী কেবল পানি ও সূর্যালোক ব্যবহার করে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরির একটি বৈপ্লবিক ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। বিজ্ঞানবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী ‘অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলটি জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাইড্রোজেনকে ভবিষ্যতের আদর্শ জ্বালানি বলা হয় কারণ এটি ব্যবহারের ফলে উপজাত হিসেবে কেবল পানি নির্গত হয়, যা পরিবেশের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না। কিন্তু এতদিন এই গ্যাস উৎপাদনে অনুঘটক হিসেবে প্লাটিনাম ব্যবহার করতে হতো, যা অত্যন্ত বিরল এবং মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত হয়। প্লাটিনাম উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি যেমন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি এর আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে বাণিজ্যিকভাবে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। এই বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই সুইডিশ বিজ্ঞানীরা ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।

প্লাস্টিকের জাদুতে জ্বালানি উৎপাদন সুইডিশ গবেষক দলটি প্লাটিনামের বিকল্প হিসেবে বিশেষ এক ধরণের পরিবাহী প্লাস্টিকের ‘ন্যানোপার্টিকল’ বা অতি ক্ষুদ্র কণা তৈরি করেছেন। এই গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক এরগ্যাং ওয়াং জানিয়েছেন, তাঁরা প্লাস্টিকের আণবিক গঠন এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন যাতে এটি পানির সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে। এই রূপান্তরিত প্লাস্টিক কণাগুলো সূর্যালোক শোষণ করে পানির অণুকে ভেঙে হাইড্রোজেন গ্যাসে রূপান্তর করতে সক্ষম। ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ পানিভর্তি পাত্রে এই কণাগুলো মিশিয়ে তার ওপর সূর্যালোক ফেললে মুহূর্তের মধ্যেই হাইড্রোজেনের বুদ্‌বুদ তৈরি হতে শুরু করে।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই পদ্ধতির দক্ষতা অবিশ্বাস্য। মাত্র এক গ্রাম ওজনের এই বিশেষ প্লাস্টিক উপাদান ব্যবহার করে এক ঘণ্টায় প্রায় ৩০ লিটার হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। এই উদ্ভাবনটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ যেমন কয়েক গুণ কমে আসবে, তেমনি বিরল ধাতুর জন্য নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নির্ভরতাও কমবে।

তবে এই সাফল্যের মাঝে একটি সাময়িক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক বিক্রিয়া সচল রাখতে ভিটামিন-সি ব্যবহার করতে হচ্ছে। গবেষক দলটি এখন এমন একটি উন্নত সংস্করণের ওপর কাজ করছেন, যেখানে কোনো বাড়তি রাসায়নিক ছাড়াই কেবল পানি ও আলোর সাহায্যে পূর্ণাঙ্গভাবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আলাদা করা যাবে। যদিও এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও কয়েক বছর গবেষণার প্রয়োজন হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন তাঁরা হাইড্রোজেন অর্থনীতির মূল চাবিকাঠিটি খুঁজে পেয়েছেন।


কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য 

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:৪৬:৪১
কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য 
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে একটি অভিনব গ্যালাক্সি ক্লাস্টার। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ১৪০ কোটি বছর পরেই ‘এসপিটি২৩৪৯–৫৬’ নামের এই গ্যালাক্সি ক্লাস্টারটি বিজ্ঞানীদের ধারণার তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত ছিল। মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, এত চরম তাপমাত্রা কেবল অনেক পরে গঠিত পরিণত ও স্থিতিশীল গ্যালাক্সি ক্লাস্টারেই দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু আদি মহাবিশ্বের এই অপরিণত ক্লাস্টারের এমন রুদ্রমূর্তি বিজ্ঞানীদের রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিজ্ঞানী দাজি ঝো জানান, চিলির শক্তিশালী আলমা (ALMA) টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ১২০০ কোটি বছর আগের এই ক্লাস্টারটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এটি বর্তমান সময়ের অনেক পরিণত ক্লাস্টারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং এর গ্যাস পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি গরম। সাধারণত গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলো হাজার হাজার গ্যালাক্সি, ডার্ক ম্যাটার এবং অতি উত্তপ্ত গ্যাস (প্লাজমা) মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে ধরে রাখে। আগে ধারণা করা হতো, ক্লাস্টারগুলো ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার সময় মহাকর্ষীয় টানের ফলে গ্যাস উত্তপ্ত হয়। তবে নেচার সাময়ীকিতে প্রকাশিত এই গবেষণা সেই দীর্ঘদিনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।

গবেষকদের মতে, এই চরম তাপমাত্রার মূল কারণ হতে পারে ক্লাস্টারটির কেন্দ্রে থাকা তিনটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বা দানবীয় কৃষ্ণগহ্বর। এই কৃষ্ণগহ্বরগুলো বিপুল পরিমাণ শক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে সংলগ্ন গ্যাস প্লাজমা অবস্থায় কয়েক কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটছে। এর পাশাপাশি এই ক্লাস্টারে থাকা ৩০টিরও বেশি সক্রিয় গ্যালাক্সি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় কয়েক গুণ দ্রুত নক্ষত্র তৈরি করছে। এই আবিষ্কার এটাই প্রমাণ করে যে, আদি মহাবিশ্ব আমরা যতটা শান্ত ভেবেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটনাবহুল, শক্তিশালী এবং উত্তপ্ত ছিল।


সোনা ও প্লাটিনামের পাহাড় কি আকাশেই ভাসছে? গ্রহাণু নিয়ে গবেষকদের অবাক দাবি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২১:২০:৫৩
সোনা ও প্লাটিনামের পাহাড় কি আকাশেই ভাসছে? গ্রহাণু নিয়ে গবেষকদের অবাক দাবি
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে ভেসে থাকা বিশাল সব গ্রহাণু এতদিন কেবল মহাজাগতিক বিস্ময় হিসেবে গণ্য হলেও, বর্তমান গবেষকরা একে আগামীর ‘সম্পদের আধার’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল দাবি করেছে যে, মহাকাশে থাকা গ্রহাণুগুলো থেকে প্লাটিনাম, সোনা ও লোহার মতো মহামূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি পানিও সংগ্রহ করা সম্ভব। এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি ‘মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই হচ্ছে ‘সি-টাইপ’ বা কার্বনসমৃদ্ধ। এসব গ্রহাণুর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলোতে এমন বিপুল পরিমাণ খনিজ রয়েছে যার আর্থিক মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে। গবেষকদের মতে, এই গ্রহাণুগুলো থেকে পানি সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ ও বাস্তবসম্মত। সংগৃহীত এই পানি ভবিষ্যতে দূরপাল্লার মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে অথবা মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীদের অতি প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এই বিশাল সম্ভাবনার পথে বড় কিছু বাধা ও চ্যালেঞ্জও শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুতে সফলভাবে অবতরণ করা, সেখান থেকে খনিজ উত্তোলন এবং তা পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রযুক্তি এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। এছাড়া বর্তমান মহাকাশ আইন বা ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী, মহাকাশের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মালিকানা কোনো দেশ দাবি করতে পারে না। ফলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতাও এই মহাকাশ খনি খনন প্রক্রিয়ার জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তা সত্ত্বেও, সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস বহনকারী এই গ্রহাণুগুলোই যে আগামীর বৈশ্বিক অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।


আগুনের আংটি থেকে রক্তিম চাঁদ, ২০২৬ সালে দেখা যাবে ৪টি বড় গ্রহণ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২১:০১:৫৫
আগুনের আংটি থেকে রক্তিম চাঁদ, ২০২৬ সালে দেখা যাবে ৪টি বড় গ্রহণ
ছবি : সংগৃহীত

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পঞ্জিকার গণনায় দেখা যাচ্ছে যে ২০২৬ সাল মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। এ বছর পৃথিবীর আকাশে মোট চারটি গ্রহণের বিরল দৃশ্য দেখা যাবে। এর মধ্যে দুটি সূর্যগ্রহণ এবং দুটি চন্দ্রগ্রহণ সংগঠিত হবে। বছরের শুরুতেই বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক এই ঘটনাগুলোর সঠিক সময় ও দৃশ্যমানতার তালিকা প্রকাশ করেছেন।

২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের সূচি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণটি হবে একটি বলয়াকার গ্রহণ, যা মহাকাশে ‘আগুনের আংটি’ বা ‘রিং অব ফায়ার’ তৈরি করবে। তবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য বাংলাদেশ বা ভারত থেকে দেখা যাবে না। এটি মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, মরিশাস, অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে প্রত্যক্ষ করা যাবে।

১২ আগস্ট ২০২৬: বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণটি হবে শ্রাবণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে। এই গ্রহণটি উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, আর্কটিক অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের আকাশে দৃশ্যমান হবে।

২০২৬ সালের চন্দ্রগ্রহণের সূচি

৩ মার্চ ২০২৬: এ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। মহাকাশ বিজ্ঞানে এই গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি বাংলাদেশ ও ভারতসহ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশ থেকে পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে।

২৮ আগস্ট ২০২৬: বছরের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ চন্দ্রগ্রহণটি হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বিরল এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণটি বাংলাদেশ কিংবা ভারত থেকে দেখা সম্ভব হবে না। তবে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারবেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এই গ্রহণগুলো কেবল মহাজাগতিক সৌন্দর্য নয়, বরং বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন পথ উন্মোচন করবে। বিশেষ করে ৩ মার্চের আংশিক চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে এশীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত