প্রবাসী ভোটে বড় ধাক্কা, ৭ দেশে নিবন্ধন স্থগিত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১৫:২৪:২০
প্রবাসী ভোটে বড় ধাক্কা, ৭ দেশে নিবন্ধন স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি হলেও, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির নিবন্ধনপত্রে ঠিকানা ত্রুটির কারণে প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসি জানায়, বাহরাইন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে যে ঠিকানা দিয়েছেন, তার বেশিরভাগই অসম্পূর্ণ, অসংলগ্ন বা ডাকযোগে ব্যালট প্রেরণযোগ্য নয়। ফলে ব্যালট পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাবিহীন আবেদন গ্রহণ করলে ব্যালটপত্র পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে না এবং এতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই ব্যাহত হয়। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভোটারদের খুব শিগগিরই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ৫৩ হাজার ৯৬ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসী ভোট যোগ হওয়ায় সামগ্রিক ভোটার কাঠামো আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো ডাকযোগে প্রবাসী ভোট পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও, ইসি বলছে সঠিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা অসম্ভব। তাই নিবন্ধন পুনরায় চালুর আগে প্রযুক্তিগত যাচাই, ঠিকানা ভ্যালিডেশন ও কনট্যাক্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সূত্র: বাসস


বিশ্বের সব দেশের জন্য নিবন্ধন উন্মুক্ত হওয়ার পর অ্যাপে প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ২০:৪৫:২৩
বিশ্বের সব দেশের জন্য নিবন্ধন উন্মুক্ত হওয়ার পর অ্যাপে প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার প্রবাসী ভোটার অ্যাপের মাধ্যমে সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে শনিবার ২৯ নভেম্বর বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত মোট ৮৬ হাজার ৫ জন প্রবাসী ভোটার এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যাই বেশি। পরিসংখ্যান বলছে ৭২ হাজার ২১৪ জন পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটার নিবন্ধন করেছেন ১৩ হাজার ৭৯১ জন। দেশভিত্তিক নিবন্ধনের দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ১৬ হাজার ৮২৬ জন প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ৯ হাজার ২৬৫ জন এবং কানাডায় ৮ হাজার ২১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া জাপান সিঙ্গাপুর দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাজ্য এবং ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন এখন প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সময় ২৭ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে প্রবাসীরা নিবন্ধন করতে পারবেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ অব্যাহত থাকবে।

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও বিশেষ কিছু শ্রেণির ভোটারের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার এবং নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং বা আইসিপিভি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ ভোটার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সেখানকার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান করা অপরিহার্য বলে জানিয়েছে কমিশন।


ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৫:১২:১২
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।

দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহারনবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।

এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।

নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।

তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহনজাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।

২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপিজোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।

এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি

খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহারনবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুলকলেজ, হাটবাজার, মসজিদমাদরাসা থেকে পাড়ামহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”

সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।

দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়

ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।

কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।

দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুলকলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণতরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।

অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।

একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।

এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।


দেশের বিচারকদের উদ্দেশে ১৪ ডিসেম্বর শেষ ভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ২১:১৮:২৫
দেশের বিচারকদের উদ্দেশে ১৪ ডিসেম্বর শেষ ভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
ফাইল ছবি

দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির বয়সসীমা ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি এই তারিখে অবসর গ্রহণ করবেন। তবে অবসরে যাওয়ার আগে আগামী ১৪ ডিসেম্বর তিনি দেশের বিচারকদের উদ্দেশে তাঁর বিদায়ী ভাষণ দেবেন বলে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় আগামী ১৪ ডিসেম্বর রবিবার বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতে কর্মরত উচ্চ পদমর্যাদার বিচারকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান বিচারপতি দেশের সব জেলা জজ মহানগর দায়রা জজ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তাঁর বিদায়ী অভিভাষণ প্রদান করবেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হিসেবে তাঁকে গত বছরের ১০ আগস্ট নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরদিন তিনি শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচার বিভাগের সংস্কার ও উন্নয়নে তিনি একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। গত দেড় বছরে সেই পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েই তিনি বিদায়ী ভাষণে আলোচনা করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ করে চলমান বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নিচের আদালতের বিচারকদের সক্ষমতা উন্নয়ন বিচারপ্রার্থীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করা এবং মামলার জট কমানোর মতো বিষয়গুলো তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের সব বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামনে বিচার বিভাগের সংস্কারের রোডম্যাপ পেশ করেন।

সেখানে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন এবং বিচার বিভাগে দুর্নীতি প্রতিরোধসহ নানা সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় গত দেড় বছরে ওই রোডম্যাপকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগে বিস্তৃত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে গত ২০ নভেম্বর বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয় সরকার যা উচ্চ আদালতের অধীনে পরিচালিত হবে এবং সেদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।


বিশ্বজুড়ে সুযোগ মিললেও ঠিকানার গেরোয় আটকে গেল ৭ দেশের প্রবাসীদের ভোট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ২০:৫৬:২২
বিশ্বজুড়ে সুযোগ মিললেও ঠিকানার গেরোয় আটকে গেল ৭ দেশের প্রবাসীদের ভোট
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের চালু করা পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা না থাকায় সৌদি আরবসহ সাতটি দেশে প্রবাসীদের নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে এসব ঠিকানা যাচাই বাছাই শেষ হওয়ার পর আগামী সপ্তাহের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন বা ওসিভিএসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. সালীম আহমাদ খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন আমরা স্ট্যান্ডার্ড ওয়েতে যে রেজিস্ট্রেশন প্রসেসটা করেছিলাম সেটাকেও আমরা ওপেন করে দিয়েছি। তার মানে এখন আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশের নাগরিক যারা আছেন এবং ১৮ বছরের মধ্যে এনআইডি কার্ডধারী তাঁরা নিবন্ধন করে পোস্টাল অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।

তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান রেজিস্ট্রেশন শুরু হওয়ার পর রেসপন্স খুব বেশি ছিল। তবে রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা দেখেন যে সাতটি দেশের প্রবাসী ভোটাররা তাঁদের ঠিকানায় ভুল করছেন বা ঠিকমতো দিতে পারছেন না। ঠিকানা ভুল হলে তো ব্যালট পৌঁছাবে না জায়গামতো। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সাময়িকভাবে সাতটা দেশে বন্ধ রাখাটাই ভালো হবে।

সমস্যা সমাধানে তিনি আরও জানান অ্যাপের ভেতরে একটি অ্যাড্রেস কারেকশনের এডিট অপশন চালু করার চেষ্টা চলছে যাতে সবাই ঠিকানা আবার রিচেক করতে পারেন। ঠিকানা কনফার্ম হওয়ার পরই সামনের সপ্তাহের শেষের দিক থেকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পোস্টাল প্যাকেজ পাঠানো শুরু হবে। একদিন সময় নষ্ট হলেও প্রবাসী ভোটাররা পর্যাপ্ত সময়ই পাবেন বলে মন্তব্য করেন সালীম আহমাদ খান। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন তাঁরা ওখানে ২১ দিন পাচ্ছেন যা যথেষ্ট সময় এবং কোনো একজন ভোটারও যাতে রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ না পড়েন সে চেষ্টা করা হবে।


বাউলদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: প্রেস সচিব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১৮:৪৫:৩০
বাউলদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: প্রেস সচিব
ছবিঃ সংগৃহীত

সম্প্রতি বাউল সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন যারা বাউলদের ওপর হামলা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী মানিকগঞ্জের পুলিশ কাজ করছে। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এমন নির্দেশনা দেন বলে বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের জানান প্রেস সচিব।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রেস সচিব বলেন যে রোহিঙ্গা সংকট একসময় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আমলে গুরুত্ব হারিয়েছিল তা এখন আবার সামনে আনা হয়েছে। সমাধানের বদলে শেখ হাসিনা নিজেকে মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে উপস্থাপনে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন এতে বাস্তব কাজ হয়নি বরং ইমেজ বিক্রির চেষ্টায় আসল সংকট আন্তর্জাতিক মহলের নজর থেকে সরে গেছে। প্রেস সচিব আরও বলেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং সরাসরি বৈশ্বিক যোগাযোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আবারও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার হিসেবে স্থাপন করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম জানান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চিফ অ্যাডভাইজার ঈদের সময় সম্ভাবনার কথা বললেও এসব কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। তিনি বলেন আজই ফল পাবেন না তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে আর আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

দেশজুড়ে ভবন নিরাপত্তা ও তদারকি দুর্বলতার প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন যেভাবে অননুমোদিত স্থাপনা ধরা পড়ছে তাতে বোঝা যায় কতটা দুর্বল ছিল তদারকি ব্যবস্থা। চিফ অ্যাডভাইজার বারবার বলেছেন অনুমোদন ছাড়া দেশের কোথাও কোনো বাড়ি বা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। সব সিটি করপোরেশনেই অনুমোদন প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রেস সচিব।


মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের মাটি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১৮:৩৩:৪৭
মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের মাটি
ছবিঃ সংগৃহীত

মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প সময়ে এমন ঘন ঘন কম্পন দেশের ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মৃদু থেকে মাঝারি তবুও সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায় বুধবার দিবাগত রাত ৩টার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে প্রায় ১৩ ঘণ্টার মধ্যে এই কম্পনগুলো অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মাঝারি বা হালকা। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান এটা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। আবহাওয়া অফিস পর্যবেক্ষণ করে এই মাত্রা নিশ্চিত করেছে। এদিকে ভারতের জাতীয় ভূকম্পবিদ্যা কেন্দ্র বা এনসিএস জানিয়েছে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬ এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার ভেতরে।

উল্লেখযোগ্য যে গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। এদের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থলই ছিল নরসিংদী এবং একটির ঢাকা। এর মধ্যে শুক্রবার ২১ নভেম্বর একটি এবং শনিবার ২২ নভেম্বর তিনটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বারবার একই অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে।


শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে ও মেয়ের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলার রায় দিল আদালত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১২:০৪:১৫
শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে ও মেয়ের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলার রায় দিল আদালত
ছবিঃ সংগৃহীত

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিন মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার সকাল সাড় ১১টার পর এ রায় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তিন মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল। সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। এর আগে, ২৩ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এই তিন মামলায় রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

এই তিন মামলায় শুরু থেকে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পলাতক রয়েছেন। রাজউক-এর সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা তিন মামলার আসামি। জয় ও পুতুল পৃথক এক মামলার আসামি।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।


শেখ পরিবারের দুর্নীতি মামলার সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১১:২৮:৩৪
শেখ পরিবারের দুর্নীতি মামলার সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ

ঢাকার আদালত এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রধান ফটকসহ প্রাঙ্গণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সাঁজোয়া যান ও প্রিজনভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলে প্রবেশকারীকে তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান সামী জানান রায় ঘিরে কোনো নাশকতা যাতে হতে না পারে সেজন্য তাঁদের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন আদালত প্রাঙ্গণ ও চারপাশে প্রচুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকার পূর্বাচলে নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আকারের তিনটি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার রায় বৃহস্পতিবার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘোষণা করবেন।

এই মামলায় শেখ পরিবার ছাড়াও আরও ২০ জন আসামি রয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার রয়েছেন কেবল একজন। কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির হবেন বলে জানা গেছে। শেখ পরিবারের তিনজনের সঙ্গে আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ও কাজী ওয়াছি উদ্দিন সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার।

এছাড়া রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা সাবেক সদস্য এস্টেট ও ভূমি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সদস্য প্রশাসন ও অর্থ কবির আল আসাদ সদস্য উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ তন্ময় দাস সদস্য এস্টেট ও ভূমি মো. নুরুল ইসলাম সাবেক সদস্য পরিকল্পনা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সাবেক সদস্য উন্নয়ন অবসরপ্রাপ্ত মেজর প্রকৌশলী সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী সাবেক সদস্য উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শফি উল হক পরিচালক এস্টেট ও ভূমি ২ শেখ শাহিনুল ইসলাম রাজউকের উপপরিচালক এস্টেট ও ভূমি ৩ হাফিজুর রহমান হাবিবুর রহমান ও নায়েব আলী শরীফ সাবেক উপপরিচালক এস্টেট ও ভূমি ২ কামরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক এস্টেট ও ভূমি ৩ মাজহারুল ইসলামও এই মামলার আসামি।

এ মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে প্রথম কোনো আইনি সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে যা বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


সাগরের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে কাঁপল কক্সবাজারের টেকনাফ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৯:৩৯:৪৫
সাগরের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে কাঁপল কক্সবাজারের টেকনাফ
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যরাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ শহর। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ২৯ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূকম্পনবিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে সাগরের গভীরে ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে।

ভলকানো ডিসকভারি ভূমিকম্পের উৎপত্তির গভীরতার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে না পারলেও ইউরোপিয়ান মেডিটেরিনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার বা ইএমএসসি নিশ্চিত করেছে যে এটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল। গভীর রাত এবং কম্পনের মাত্রা মৃদু হওয়ার কারণে টেকনাফের অধিকাংশ মানুষই এটি টের পাননি বলে জানা গেছে। তবে যারা জেগে ছিলেন তাঁরা মৃদু ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। উপকূলীয় এলাকায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত