ভারতে মূর্তির পায়ে হাতজোড় করতে বাধ্য করল তিন মুসলিম ছাত্রকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১০:৩৮:৫২
ভারতে মূর্তির পায়ে হাতজোড় করতে বাধ্য করল তিন মুসলিম ছাত্রকে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন আবারও আলোচনায় এসেছে মহারাষ্ট্রের কল্যাণ অঞ্চলে সংঘটিত এক উদ্বেগজনক ঘটনার মাধ্যমে। সম্প্রতি আইডিয়াল কলেজের তিন মুসলিম শিক্ষার্থীকে জনসমক্ষে অপমানিত ও হেনস্তা করা হয়; তাদের বাধ্য করা হয় ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তির পায়ে হাত জোড় করে মাথা নত করতে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রতিবাদ না করে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে, যেখানে দেখা যায় তিন মুসলিম শিক্ষার্থী নির্জন এক শ্রেণীকক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করছেন। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দলের সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। তারা উত্তেজিত ভঙ্গিতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে থাকে এবং তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতির চাপে পড়ে মূর্তির সামনে হাত জোড় করে মাথানত করতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে চরমপন্থিদের কর্মকাণ্ড দেখে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা বলেন, সংখ্যালঘু ছাত্রদের সুরক্ষায় পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ।

মহারাষ্ট্রসহ বহু বিজেপি–শাসিত রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হয়রানি, হামলা, মিথ্যা অভিযোগে নির্যাতন ও সামাজিক অপমানের যেসব ঘটনা বেড়ে চলেছে, এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ। স্থানীয় মুসলিমরা বলছেন, চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়াই সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে এদের বিরুদ্ধে কোনোরূপ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ঘটনায় অপদস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ জনতার চাপে আত্মসমর্পণ করেছে; শুধু তা-ই নয়, ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, নামাজ পড়ার কারণে যদি ছাত্রদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা হয়, তবে উগ্র সংগঠনের হাতে ক্যাম্পাসে যে উস্কানি ও নিপীড়ন হয়েছে তার দায় কে নেবে?

অভিভাবকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, মুসলিম ছাত্রদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং কলেজ ক্যাম্পাসে নিরপেক্ষ পরিবেশ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

-রাফসান


নেসেটে মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ২২:০২:০৯
নেসেটে মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি ইসরায়েলে পৌঁছালে নেতানিয়াহু তাঁকে জেরুজালেমে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিনি এর আগে কখনো এতটা আবেগাপ্লুত হননি।

নেতানিয়াহু মোদিকে ইসরায়েলের একজন মহান বন্ধু এবং বিশ্বমঞ্চের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বর্ণনা করে দুই দেশের মধ্যকার এই জোটকে আরও সুসংহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যখন বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহু ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন এবং যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ভারত এর বিরোধিতা করলেও এবং দীর্ঘদিন ফিলিস্তিনিদের কড়া সমর্থক থাকলেও ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তবে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে একটি অসাধারণ জোট বিদ্যমান এবং দুই নেতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

গত বছর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশ একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছিল যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে যা প্রমাণ করে যে ঐতিহাসিক বৈরিতা ভুলে ভারত ও ইসরায়েল এখন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৩৩:৫৮
১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘বসন্ত’ উৎসবে ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে লাহোর হাই কোর্টকে (এলএইচসি) জানিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একজন আইনজীবীর দায়ের করা পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত এই হতাহতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করেছিল। উল্লেখ্য যে এ বছর ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে ধারালো সুতার কারণে প্রাণহানি ও আকাশমুখী গুলিবর্ষণের ঘটনায় এই উৎসব নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের নতুন অধ্যাদেশের আওতায় পাঞ্জাব সরকার এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরকারের বিশেষ জোর দেওয়া সত্ত্বেও উৎসব চলাকালে শতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে উৎসবের তিন দিনে মোট ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে যার মধ্যে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, দুইজন গাছ থেকে পড়ে এবং বাকি ১২ জন ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। তবে আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজহার সিদ্দিক জানিয়েছেন যে ঘুড়ির ধারালো সুতার আঘাতে কতজন আহত হয়েছেন সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

যদিও পাঞ্জাব সরকার মেটাল বা রাসায়নিক প্রলেপযুক্ত সুতা নিষিদ্ধ করে শুধু সুতি মাঞ্জা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো শহরকে তিনটি জোনে ভাগ করে নজরদারি করা হয়েছিল, তবুও দুর্ঘটনার হার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মজার ব্যাপার হলো উৎসব শেষে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ একটি ‘নিরাপদ বসন্ত’ আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ঘুড়ির সুতার আঘাতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। আদালতের এই প্রতিবেদন সরকারের সেই দাবিকে এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১০:৩৯:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আজ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র, অথচ একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে যা ওই অঞ্চলে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার জানিয়েছে যে এসব যুদ্ধবিমান মূলত কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সার্বক্ষণিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই বিশাল সামরিক সমাবেশ নিশ্চিত করতে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে প্রায় ২৭০টি সি–১৭ ও সি–৫ সামরিক পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনা করেছে পেন্টাগন। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে শুধু বিমানই নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে মোতায়েনকৃত এই বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান যার মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-ই/এফ, ৩৬টি এফ–১৫ই, ৪৮টি এফ–১৬সি এবং ৪২টি অত্যাধুনিক এফ–৩৫এ/সি স্টেলথ যুদ্ধবিমান।

বাকি ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত বিমানের মধ্যে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের জন্য ইএ–১৮জি গ্রাউলার এবং আকাশপথে রাডার নজরদারির জন্য ই–৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস বিমান রাখা হয়েছে যা যেকোনো শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তেই পঙ্গু করে দিতে সক্ষম। যদিও গত বছরের জুনে ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি–২ বোমারু বিমানের নতুন কোনো মুভমেন্ট এখনও দেখা যায়নি, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা একে ঝড়ের আগের স্তব্ধতা হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তুতির সাথে পাল্লা দিয়ে ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কাছে থাকা প্রায় তিন শতাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমানের সাথে যদি মার্কিন বাহিনী যুক্ত হয়, তবে সম্মিলিত আকাশশক্তি হবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী বাহিনী। মঙ্গলবার ইসরায়েল আরও ১২টি মার্কিন এফ–২২ র‌্যাপ্টর স্টেলথ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে যা সরাসরি শত্রু আকাশসীমায় প্রবেশ করে রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ কূটনীতি হলেও প্রয়োজন হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১২:২২:৩০
যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখন ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েনের পাশাপাশি আকাশে উড়ছে ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান। এই বিশাল সামরিক সমাবেশের মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? না কি এটি কেবলই একটি বড় সমঝোতার আগের চাপ সৃষ্টির কৌশল?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন সামরিক চাপ রাখছে, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলও খোলা রাখছে।

নিষেধাজ্ঞা আর মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে। এমন সময় যুদ্ধ শুরু হলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ জনরোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। তবে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘সীমিত’ হামলা চালাতে পারে। তবে সেই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত একটি মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত নাটকীয় কোনো সমঝোতার মাধ্যমেই হয়তো এই যাত্রায় যুদ্ধের মেঘ কেটে যেতে পারে।

/আশিক


জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:০২:১৭
জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই নতুন দফার আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় এখন এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব শাহ আমলের পতাকা হাতে নিয়ে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।

আর্থিক দুরবস্থা ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত এক মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই গণআন্দোলনে নিহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি হতে পারে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী। যদিও ইরান সরকার ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে, তবে তাদের দাবি—বিদেশি উসকানিতে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ রুখতে গিয়েই এই সহিংসতা হয়েছে।

বিক্ষোভের পাল্টায় গতকাল তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থিত তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলেছে। বিশেষ করে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বড় বিদ্যাপীঠের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসন্তের এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের নতুন এই জাগরণ তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের দেশগুলোর চাপ আর অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


এত চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৪:০৮:২১
এত চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না এই প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর কাছে ব্যাখ্যা চান।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ জানান, প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন কেন তেহরান এখনো অবস্থান পরিবর্তন করেনি, যদিও যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে উল্লেখযোগ্য নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হতাশ নন, কারণ তাঁর হাতে নানা বিকল্প রয়েছে; তবে তিনি কৌতূহলী কেন ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নতি স্বীকার করছে না।

ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, তেহরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অনুসরণ করছে না এবং এর পক্ষে যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের রূপরেখা দেবে। এই ইস্যুই দুই দেশের মধ্যে প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে জেনেভায় সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, উভয় পক্ষ কিছু ‘দিক-নির্দেশনামূলক নীতিমালা’তে একমত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল ইস্যুগুলোতে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে পারে। অপরদিকে আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানও শিগগিরই একটি পাল্টা খসড়া উপস্থাপন করবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক দর-কষাকষিও সমান্তরালভাবে চলছে।

-রফিক


সমুদ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১২:১৫:২৩
সমুদ্র থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহেই সামরিক শক্তিতে বড় ধরণের অগ্রগতির জানান দিল ইরান। প্রথমবারের মতো সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘সায়াদ-৩জি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে দেশটি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ শীর্ষক এক বৃহৎ নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মহড়াকালে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ সায়াদ শিরাজি’ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি মূলত ইরানের স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৌ সংস্করণ, যা এই প্রথমবারের মতো সমুদ্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করল তেহরান।

আইআরজিসির নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি সোজাসুজি উৎক্ষেপণযোগ্য (ভার্টিক্যাল লঞ্চ) এবং এর কার্যকর পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে শুরু হওয়া এই বিশেষ ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ মহড়াটি টানা তিন দিন ধরে চলে।

এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার জানান দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘শহিদ সোলাইমানি’ শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলোর জন্য একটি দুর্ভেদ্য আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা যেকোনো আকাশপথের আক্রমণ প্রতিহতে সক্ষম।

উল্লেখ্য যে, সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আদি বা স্থলভিত্তিক সংস্করণটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সেই প্রাথমিক সংস্করণের কার্যকর পাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার। বর্তমানে নৌ সংস্করণে এর সক্ষমতা আরও ৩০ কিলোমিটার বৃদ্ধি করে ১৫০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে, যা সমুদ্রে ইরানের নৌবাহিনীর কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

পশ্চিমের দেশগুলোর অবরোধ ও চাপের মুখেও ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এই ধরণের মহড়া তেহরানের সামরিক প্রভাব বিস্তারের বড় একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


দিল্লিতে বড় হামলার ছক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:২৩:৩৮
দিল্লিতে বড় হামলার ছক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও বাংলাদেশভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মদদে ভারতে বড় ধরণের নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছয়জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার একটি পোশাক উৎপাদন ইউনিট থেকে এবং বাকি দুইজনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে যে ছয়জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন—মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শহীদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বল।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতের স্থানীয় পরিচয়পত্রের জন্য জাল আধার কার্ড ব্যবহার করছিল। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তামিলনাড়ু পুলিশ এই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রকে ধরতে আরও নিবিড় তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই গোষ্ঠীটি মূলত পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যোগসাজশ রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা এবং চাঁদনী চকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরসহ জনাকীর্ণ ও ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিস্ফোরণের ভয়াবহ পরিকল্পনা করছিল। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি দিয়ে হামলার ছক কষছিল—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার মাত্র একদিন পরেই এই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই গ্রেপ্তারের ফলে দিল্লিতে একটি সম্ভাব্য বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী হামলা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ভারতের সীমান্ত এলাকা ও জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


সৌদি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য একগুচ্ছ বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১০:২৫:৩৮
সৌদি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য একগুচ্ছ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি সরকার। বিশেষ করে পবিত্র রমজানে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিধি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে খালিজ টাইমস। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান মাসে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটে, যার ফলে বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ রাতে নামাজের আগে ও পরে গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়।

এই ভিড় নিয়ন্ত্রণে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মুসল্লিদের নির্ধারিত পথ, দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি মসজিদের প্রবেশপথে ডিজিটাল সংকেত ব্যবস্থা বসানো হয়েছে; যেখানে সবুজ বাতি মানে ভেতরে জায়গা খালি আছে এবং লাল বাতি জ্বলে উঠলে বুঝতে হবে ভেতরটি মুসল্লিদের দ্বারা পূর্ণ।

যানজট নিরসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে মুসল্লিদের সরকারি বাস, অনুমোদিত ট্যাক্সি এবং হারামাইন হাই স্পিড রেলওয়ে ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় মোটরসাইকেল, সাইকেল এবং যেকোনো ধরণের অনুমোদনহীন যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও বৈদ্যুতিক কার্টের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শিশুদেরকে ভিড় এলাকায় না আনার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমরাহ পালনকারীদের পানিশূন্যতা এড়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং কঠোরভাবে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ওমরাহ যাত্রীর জন্য ডিজিটাল অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ওমরাহ পালনকারীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং যানজট কমাতে নির্ধারিত সময়সূচী ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষায় গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় অস্ত্র বহন, ধূমপান, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত বেচা-কেনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বা শৃঙ্খলা পরিপন্থী যেকোনো কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি সরকার।

/আশিক

পাঠকের মতামত: