শিগগিরই খুলছে হরমুজ প্রণালি! বিশ্বকে বড় বার্তা দিলেন ট্রাম্প

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই এই প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেবে।
তবে কাজটি যে সহজ হবে না, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নয় বরং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করতে চায়, যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রাখে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং এলপিজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এই অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও এখনো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
ট্রাম্প এই পরিস্থিতির জন্য ন্যাটো মিত্রদের ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নৌপথটি নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না। রয়টার্সের তথ্যমতে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর ইউরোপীয় দেশগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন মিত্রদের কাছ থেকে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায়।
হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির পর এই নাজুক যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালি কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত জাবালে রহমতে গুনাহ মাফের আকুল কান্নায় ভাসলেন হাজিরা
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পর্যায় সম্পন্ন করতে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বজুড়ে আসা ১৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) হাজিদের এই মহাসম্মিলনের দৃশ্যকে গভীর ভক্তি, বিনয় ও অশ্রুসিক্ত প্রার্থনার এক অভূতপূর্ব পরিবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই আল্লাহর মেহমানরা মিনায় তাঁবুর শহর ছেড়ে আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ করতে শুরু করেন।
ইসলামি শরিয়তের বিধান ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা (ওকুফে আরাফা) হজের প্রধান ও মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। স্বয়ং শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেন, “হজ হলো আরাফা”, যা মূলত এই বিশেষ দিনটির চরম গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে নির্দেশ করে। ইসলামি স্কলার ও আলেমদের মতে, এই দিনটি ইসলামি বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্রতম দিনগুলোর একটি, যা মহান আল্লাহর অসীম রহমত, ক্ষমা এবং বান্দার আত্মিক পরিশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই দিনটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক বিদায় হজের অমর স্মৃতির সঙ্গেও জড়িত, যেখানে তিনি এই ময়দান থেকেই মানবজাতির উদ্দেশে তাঁর শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন এবং বিদায় হজের ভাষণে ন্যায়বিচার, মানবসমতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার কালজয়ী শিক্ষা দিয়েছিলেন।
আজ দুপুরে আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। খুতবা শেষে হাজিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্তভাবে (কসর) আদায় করেন। নামাজ শেষে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা দুই হাত তুলে রোনাজারি, তালবিয়া, তাকবির পাঠ এবং আল্লাহর দরবারে নিজেদের জীবনের সব গুনাহ মাফের আকুল আকুতি জানান।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই উন্মুক্ত আরাফাত সমতলভূমির কেন্দ্রেই রয়েছে ঐতিহাসিক ‘জাবালে রহমত’ (রহমতের পাহাড়), যা আদি পিতা আদম (আ.) ও মাতা হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে গভীর আবেগের নাম।
এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (৮ জিলহজ) পালন করেন, যেখানে তারা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে হজের সবচেয়ে কঠিন অংশের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন। এবার মক্কার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
হাজিদের নিরাপদ চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সৌদি প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ড্রোন ক্যামেরাসহ আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। আজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ না পড়েই আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য রাত্রিযাপন করবেন।
সূত্র: আরব নিউজ
ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানিয়েছেন, ইরানের মজুত করা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অনতিবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অন্যথায় তা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২৫ মে) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তেহরানের প্রতি এই কড়া আইনি ও সামরিক আলটিমেটাম জারি করেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান মার্কিন-ইরান সামরিক উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক ধূলিকণা অবিলম্বে ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করা উচিত, যেন মার্কিন প্রশাসন তা নিজেদের দেশে এনে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে পারে।
আর ইরান যদি মার্কিন মাটিতে তা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিকল্প পথ হিসেবে ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে দেশটির বর্তমান অবস্থানে কিংবা আন্তর্জাতিক মহলে অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ জায়গায় এই ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মূলত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার একটি প্রকাশ্য মার্কিন কৌশল, যা তেহরানের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই চরম হুঁশিয়ারির মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার একটি গোপন জানালার কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে বর্তমানে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন কাতার বা ওমান) মাধ্যমে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।
তবে আলোচনার টেবিলে যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর বা ধ্বংসের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (IAEA) বা ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন’ কিংবা এর সমমানের কোনো আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও কঠোর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই শর্ত পূরণ না হলে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ কমার কোনো সুযোগ নেই, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানগুলোর ওপর হামলার তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবের এই যুদ্ধংদেহী ঘোষণার পরপরই আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে লেবাননজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ও ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক উত্তেজনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৪৫ দিনের চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সমঝোতার মধ্যেই ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক হামলা দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতকে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে মারাত্মক ও বিধ্বংসী আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে তারা এ পর্যন্ত ৬০০ জনেরও বেশি ‘সন্ত্রাসীকে’ নিশ্চিহ্ন বা হত্যা করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "শত্রুদের দমনে এখন আমাদের আক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে এবং হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।" ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত বেকা উপত্যকা এবং দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক হিজবুল্লাহর আস্তানায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের এই সাঁড়াশি বিমান হামলার বিপরীতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ২২টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং দূরপাল্লার রকেট হামলা চালিয়ে এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিয়েছে। হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সৈন্য, সাঁজোয়া ট্যাংক, সামরিক ব্যারাক ও কৌশলগত ভবনগুলো।
উল্লেখ্য, চলতি মে মাসের শুরুতেই লেবানন ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ৪৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল; তবে সেই শান্তিচুক্তিকে তোয়াক্কা না করেই লেবাননের মাটিতে অনবরত হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সেনা অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অজুহাতে এবার সরাসরি দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে এই সরাসরি হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক হামলার পর পরমাণু সমৃদ্ধ দেশ ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়ংকর সামরিক উত্তেজনার দিকে মোড় নিল।
মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্সের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য বড় ধরনের হুমকি ও আকস্মিক হামলা প্রতিরোধ করতেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই আগাম সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত নিজেদের কোয়ালিশন সেনাদের সুরক্ষায় এটিকে একটি শতভাগ ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ (Preemptive Self-Defense Strike) হিসেবে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের এই নিখুঁত হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণ ইরানে অবস্থিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Missile Launching Sites) এবং পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাইন স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা ইরানি নৌবাহিনীর বিশেষ যুদ্ধজাহাজ ও নৌযানগুলো। সেন্টকমের মুখপাত্র কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র তার বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। আমাদের সেনারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে; তবে সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা এখনও সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখছি।"
অন্যদিকে, মার্কিন এই বিমান হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বন্দরনগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এ এক বিকট ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ বন্দর আব্বাসের এই আকস্মিক বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আকস্মিক বিস্ফোরণের পর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই বিস্ফোরণটি মার্কিন বিমান হামলার অংশ নাকি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, তা নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
সামরিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় এই অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে সরাসরি মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর একটি ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের পর তেহরান এখন পাল্টা কী ধরনের সামরিক জবাব দেয়, এখন সেদিকেই কাঁপছে বিশ্ববাসী।
/আশিক
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: স্বার্থের অনুকূলে না হলে চুক্তি করবে না ওয়াশিংটন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতি নিয়ে নিজেদের অনমনীয় অবস্থান ও রেডলাইন পুনর্ব্যক্ত করে তেহরানকে এক চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে কোনো দায়সারা বা দুর্বল সমঝোতায় যাবে না। তেহরানের সঙ্গে চুক্তি হতে হলে তা হতে হবে অত্যন্ত অর্থবহ এবং সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে; অন্যথায় কোনো চুক্তিই সই করবে না মার্কিন প্রশাসন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা হবে একটি ‘মহা এবং অর্থবহ চুক্তি’ (Great and Meaningful Deal), আর তা না হলে আদৌ কোনো চুক্তি হবে না। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য মূলত তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের পুরোনো ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ (Maximum Pressure) কৌশলেরই একটি অবধারিত ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিলেন যে, আলোচনার টেবিলে বসার অর্থ এই নয় যে মার্কিন প্রশাসন তাদের মূল শর্তগুলো থেকে এক চুলও সরে আসবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তার ঠিক আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় একই সুরে তেহরানকে নিশানা করে একটি কড়া নীতিগত বক্তব্য দেন। রুবিও সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করবে, আর তা যদি সম্ভব না হয়, তবে সম্পূর্ণ ‘ভিন্ন উপায়ে’ (Other Ways) তেহরানের মুখোমুখি হতে ওয়াশিংটন বাধ্য হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভিন্ন উপায়ের পরোক্ষ সামরিক হুঁশিয়ারি এবং তার পরপরই ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের অনমনীয় অবস্থান থেকে এটি পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ভাঙতে এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দিতে রাজি নয়। ওয়াশিংটনের এমন সাঁড়াশি কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে ইরান এখন পাল্টা কী কৌশল অবলম্বন করে, আন্তর্জাতিক মহল এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
চীনের নতুন রপ্তানি নীতিতে তোলপাড়: হুমকির মুখে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের মেগা স্বপ্ন
বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে এবার রপ্তানি খাতে অত্যন্ত কঠোর ও নতুন এক সুরক্ষানীতি গ্রহণ করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই আকস্মিক চালের কারণে আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির মেগা স্বপ্ন এখন তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে। মূলত কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর কাছে নিজেদের 'চীনের বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র' বা 'চায়না প্লাস ওয়ান' হিসেবে তুলে ধরে ভারত যে আগ্রাসী কৌশল নিয়েছিল, বেইজিংয়ের নতুন ডিক্রির ফলে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'এনডিটিভি' (NDTV)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কোভিডের পর থেকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল (Apple)-এর প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম রেকর্ড পরিমণে বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) প্রকল্প ঘোষণা এবং নতুন নতুন হাইটেক শিল্পপার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি আসছিল। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি যেখানে ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে রেকর্ড ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
এই ধারাবাহিকতায় ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই রপ্তানি ১২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। কিন্তু ভারত যখন নিজেদের উৎপাদন খাতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই চীন সেই শিল্পকে চালিত করা মূল ব্যাকবোন বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার (Supply Chain) ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ একচেটিয়াভাবে জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের নতুন ‘স্টেট কাউন্সিল ডিক্রি’-র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উপাদান রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা ভারতের উদীয়মান ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্পে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।
শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, হাই-টেক উপাদান এবং কাঁচামালের ওপর চীনের এই নতুন কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভারতের শিল্প সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ফলে শত বিলিয়ন ডলারের নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং চীনা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভারতের অভ্যন্তরীণ পঙ্গুত্ব ও নির্ভরশীলতা আরও নগ্নভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন বড় প্রশ্ন তুলছেন— কারখানা তৈরির মূল যন্ত্রপাতির চাবিকাঠিই যদি চীনের হাতে থাকে, তবে ভারত কীভাবে বেইজিংকে টেক্কা দিয়ে বড় উৎপাদনকারী হবে? পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই বেইজিংয়ের নতুন নিয়মে তাদের যন্ত্রপাতির চালান আটকে যাবে কিনা, তা জানতে চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ভারতের দেশীয় শিল্পখাতও এই মহা-সংকটের সম্ভাব্য ভয়াবহ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে মোদী সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেছে।
চীনা এই মাস্টারস্ট্রোকের কাউন্টার দিতে গত শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল বা চীনের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে ভারত সরকার খাতভিত্তিক বিকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনা (Alternative Investment Plan) প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব শিল্প অবকাঠামোতে বড় ধরনের গতি আনতে আগামী তিন বছরে প্রায় ৩৩ হাজার ৬৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে দেশে ৫০টি অত্যাধুনিক নতুন শিল্পপার্ক চালুর মেগা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV)—আধুনিক যেকোনো হাই-টেক উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি চীনা যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের নিজস্ব অটোমোবাইল খাতেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট যন্ত্রাংশ আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশই এসেছে সরাসরি চীন থেকে, যার সিংহভাগই ছিল অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক উপাদান। ফলে চীনের এই নতুন রপ্তানি নীতি আগামী দিনে ভারতের মোদী সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টকে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
/আশিক
মার্কিন ডলারকে বড় ধাক্কা: ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চীনের ইউয়ান
বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের উলটপালট শুরু হয়েছে। মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের (Yuan) মান গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির একটি সম্ভাব্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনার জের ধরেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এই নাটকীয় উত্থান ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক তীব্র উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চলমান শান্তি আলোচনা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার স্পষ্ট আশাবাদ বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক আস্থার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে চীনা মুদ্রার ওপর, যা ডলারের বিপরীতে ইউয়ানকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
এই বিষয়ে চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের একজন কারেন্সি ট্রেডার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, "আপাতত এই সংঘাতপূর্ণ প্রণালী জুড়ে নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক যাতায়াত পুরোপুরি আগের অবস্থায় রাতারাতি পুনরুদ্ধার করা হয়তো কিছুটা কঠিন হতে পারে, তবে বাণিজ্য সামান্যতম শুরু হওয়াও স্থবির হয়ে পড়া বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী একটি সংকেত।"
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশই মূলত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের মন্দা ও স্থবিরতা কাটার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর এই সুযোগে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চীনের প্রভাব আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে এবং ইউয়ান গত তিন বছরের সব রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় আরোহণ করেছে।
সূত্র- আল জাজিরা
ছোট শয়তান থেকে ব্রিকসের অংশীদার: সোভিয়েত পতনের পর যেভাবে বদলে গেল ইরান-রাশিয়া অক্ষ
ইতিহাসের পাতায় প্রায় ১৯৭ বছর আগে তৎকালীন পারস্যে (বর্তমান ইরান) নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিবোয়েদভকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি আজও রাশিয়া-ইরান সম্পর্কের এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ক্ষত। ১৮২৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তেহরানের রুশ দূতাবাসে হাজার হাজার উত্তেজিত জনতার হামলায় কবি, নাট্যকার ও কূটনীতিক গ্রিবোয়েদভসহ বেশ কয়েকজন রুশ কূটনীতিক নিহত হন।
নবস্বাক্ষরিত তুর্কমানচাই চুক্তি অনুযায়ী, রুশ দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়া আর্মেনীয় পলাতকদের (রাজকোষের এক খোজা ও হারেমের দুই নারী) ইরানের শাহ ফাতহ-আলির হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পারস্যের কাছ থেকে ২ কোটি রৌপ্য রুবল (বর্তমান মূল্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার) আদায়ের কঠোর রুশ নীতির কারণে এই গণবিক্ষোভ ফেটে পড়েছিল। পরবর্তীতে রুশ প্রতিশোধ থেকে বাঁচতে শাহের নাতি বিখ্যাত ৮৯ ক্যারেটের হলুদাভ 'পার্সিয়ান ডায়মন্ড' সেন্ট পিটার্সবার্গে জারকে উপহার দিয়ে ক্ষমা চান, যা বর্তমানে মস্কোতে সংরক্ষিত।
উনবিংশ শতাব্দী থেকে শুরু করে স্নায়ুযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক সবসময়ই এক ভূ-রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি হিসেবে ওঠানামা করেছে। ১৯২০ সালে উত্তর পারস্যে সোভিয়েতদের কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গঠনের ব্যর্থ চেষ্টা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জোসেফ স্টালিনের তেল সম্পদের একচেটিয়া অধিকার দাবি এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান কর্তৃক সোভিয়েত ইউনিয়নকে 'ছোট শয়তান' আখ্যা দেওয়ার নেতিবাচক স্মৃতি ইরানিদের মনে আজও তাজা। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এবং বিশেষ করে বর্তমান পুতিন জমানায় এই দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন কৌশলগত মোড় নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান বর্তমান সম্পর্ক কোনো আদর্শিক ভিত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ বাস্তব স্বার্থনির্ভর এবং যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা চাপবিরোধী অভিন্ন অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখে মস্কো যেমন জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছে, তেমনি ইরানও রাশিয়া থেকে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রোসাটমের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের পতন ঠেকাতে যৌথ হস্তক্ষেপ থেকে শুরু করে ২০২৩-২৪ সালে রাশিয়ার সমর্থনে ইরানের ব্রিকস (BRICS) জোটে অন্তর্ভুক্তি— এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকে আরও বাড়িয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে চীনও যুক্ত হয়েছে।
তবে এই সম্পর্কে গভীর অবিশ্বাসও বিদ্যমান। রাশিয়া কখনোই ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি, যার প্রমাণ মেলে ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের কাছে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি দীর্ঘকাল স্থগিত রাখা। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইরান রাশিয়াকে 'শাহেদ ড্রোন' ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে মিত্রতার প্রমাণ দিলেও, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর রাশিয়া কেবল নিন্দাই জানিয়েছে, সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুতিনের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা এবং এটি আবারও প্রমাণ করে যে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক আদতে কোনো আনুষ্ঠানিক বা চিরস্থায়ী সামরিক জোট নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের এক সাময়িক সমীকরণ মাত্র।
সূত্র : আল জাজিরা
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে অত্যন্ত জোরালো দাবি করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে পুরো বিষয়টি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে আলোচনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন শীর্ষ প্রতিনিধিদলকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু'-তে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে ট্রাম্পের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের তথ্য জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন নির্দেশনার ফলে গত তিন মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটার যে বিশ্বব্যাপী আশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কিছুটা ম্লান ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।
চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তাড়াহুড়ো না করার পেছনে কূটনৈতিক যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হচ্ছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও অনেক বেশি পেশাদার ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে।
তবে দুই পক্ষকেই গোটা বিষয়টি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে একদম নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের ভুল বা দুর্বলতা রাখার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।’ এর আগে গত শনিবারই ট্রাম্প বেশ আশাবাদী হয়ে দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অধিকাংশ জটিল বিষয় চূড়ান্ত এবং এটি এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
কিন্তু রোববার তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়েও আগের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিয়েছেন। শনিবার সমঝোতার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়ার কথা বললেও, পরদিনই ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ‘চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে তাতে দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক সই না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকবে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিত্র দেশ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা শত শত ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে তেহরান প্রশাসন। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক সামরিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
এই মহাসংকট সমাধানের লক্ষ্যে বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বেশ কয়েক দফায় আনুষ্ঠানিক ও গোপন আলোচনায় বসে। তবে সেখান থেকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক সমাধান বেরিয়ে আসেনি। দুপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার চেষ্টা জারি থাকার মাঝেই ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের এই নতুন নির্দেশে শান্তি প্রক্রিয়া আবারও দীর্ঘায়িত আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মুখে পড়ল।
সূত্র: দ্য হিন্দু
পাঠকের মতামত:
- ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম
- ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে স্বস্তির ঈদযাত্রা: কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরছে মানুষ
- বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত জাবালে রহমতে গুনাহ মাফের আকুল কান্নায় ভাসলেন হাজিরা
- জামালপুরের পশুর হাটে পাগলা মহিষের আক্রমণ: নিহত ২
- ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
- যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ
- ঢাকাসহ ৯ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ওলটপালট আন্তর্জাতিক বাজার
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা
- আজ পবিত্র হজের মূল দিন: লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ঐতিহাসিক ময়দান
- ম্যাচের আগে চার্জ দিতে হবে বল! অ্যাডিডাসের তৈরি স্মার্ট বলে কাঁপবে বিশ্বকাপ
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- শিশু রামিসা হত্যার বিচার শুরু ১ জুন থেকে: আইনমন্ত্রী
- পদ্মায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ২৩টি কোরবানির গরুসহ ব্যবসায়ী নিখোঁজ
- রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: তীব্র পানির সংকটে নেভাতে হিমশিম ফায়ার সার্ভিস
- আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- হাসনাত-সারজিসের বিরুদ্ধে বেইমানির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন
- ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব: স্বস্তিতে লাখ লাখ সাধারণ কর্মচারী
- গাণিতিক মডেলের বিস্ফোরক পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- দেড় বছরেও দিকভ্রান্ত আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনার অনড় অবস্থানে মৃত সংস্কারের সম্ভাবনা
- পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে পৈশাচিকতার লোমহর্ষক বিবরণ
- ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: স্বার্থের অনুকূলে না হলে চুক্তি করবে না ওয়াশিংটন
- ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ, নতুন কর্মসূচির জল্পনা
- চীনের নতুন রপ্তানি নীতিতে তোলপাড়: হুমকির মুখে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের মেগা স্বপ্ন
- দেশে হামের ভয়াবহ তাণ্ডব: আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে ঢাকা বিভাগ
- মার্কিন ডলারকে বড় ধাক্কা: ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চীনের ইউয়ান
- ফ্রিজের শক্ত বরফ জমা মাংস দ্রুত গলানোর ৪টি বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ ঘরোয়া কৌশল
- বিজেপি সরকারের একের পর এক মেগা সিদ্ধান্ত: রেস্তোরাঁগুলোর মেনু থেকে উধাও হচ্ছে বিফ
- ছোট শয়তান থেকে ব্রিকসের অংশীদার: সোভিয়েত পতনের পর যেভাবে বদলে গেল ইরান-রাশিয়া অক্ষ
- মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
- পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার লোমহর্ষক চার্জশিট দাখিল
- ছাত্রদল-যুবদল ও পুলিশের যৌথ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- আজ সোমবার রাজধানীর কোথায় কী কর্মসূচি রয়েছে? জেনে নিন দিনের শুরুতেই
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম
- ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস
- কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম
- ১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস; নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ১৬০ গান ও ১২০ কবিতার জন্মভূমি; দৌলতপুরে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি
- সুবর্ণ কার্ডধারী প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেলে বড় ছাড়
- এনসিপি নেতা তানাইমের বাসার গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের চেষ্টা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ফ্যাসিবাদী শক্তি পালালেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি: জামায়াত আমির
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!
- অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে আসছে সম্পূর্ণ নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
- ১৯ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৯ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৯ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ








