পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২১:৪০:০৮
পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির মূল ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার হওয়ার জন্য বেইজিংকে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন চীনের সরাসরি হস্তক্ষেপেই ইরান প্রাথমিক সমঝোতায় রাজি হয়। মূলত পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানকে রাজি করাতে বেইজিংয়ের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।

ইসলামাবাদের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাতে যুদ্ধবিরতির আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু চীনের সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করতে পারছে না বলেই এমন একজন শক্তিশালী জামিনদার চাইছে, যার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব দুই-ই আছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা পশ্চিমে কম থাকায় চীনই এখন সেরা বিকল্প।

তবে এই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন। নৌ-চলাচল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার মতো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে।

বেইজিং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জামিনদার হওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও পর্দার আড়ালে তারা শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। তেহরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইসলামাবাদের ‘অভেদ্য ভ্রাতৃত্বের’ বন্ধু হিসেবে চীন এখন এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পক্ষ।

যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তান ও চীন প্রথমদিন থেকেই নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আসছে। এমনকি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে ইরানকে বড় ধরনের স্বস্তি দেয়।

তবে লেবানন ইস্যু নিয়ে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। পাকিস্তান ও ইরান দেশটিকে যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও ইসরায়েল তাতে আপত্তি জানিয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই সংলাপ অত্যন্ত জটিল হতে যাচ্ছে, যেখানে সফল হতে হলে সব পক্ষকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।

/আশিক


তেলের দামে পতন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:৪৯:৫২
তেলের দামে পতন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী নতুন ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (২৪ আগস্ট) এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দামই ১ শতাংশের বেশি কমে যায়। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া—দুই কারণই এ পতনে ভূমিকা রেখেছে।

রয়টার্সের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে ৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ২০ ডলার কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৮৬ ডলারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে দর পরিবর্তিত হওয়ায় প্রাথমিক এশীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ৯৩ দশমিক ৪৫ এবং ডব্লিউটিআই ৮৬ দশমিক ১৪ ডলারের আশপাশেও লেনদেন হয়েছে।

তেলের এই দরপতন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, সোমবার থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা নজিরবিহীন আর্থিক চাপের অভিযান শুরু হবে। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা শুধু ইরানের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা। নতুন ব্যবস্থাগুলোর বিস্তারিত জানাতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতা কতটা বিস্তৃত হবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্রেতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেদিকে নজর রাখছেন জ্বালানি বাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।

তবে বাজারের জন্য পরিস্থিতি একমুখী নয়। সাধারণভাবে ইরানের তেল রপ্তানি আরও সীমিত করার মতো নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিপরীতে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সোমবার তেলের দামে তাৎক্ষণিক নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছিল।

বাজারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা এখনো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতি বাস্তবে তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং অপরিশোধিত তেলের দামে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

-রফিক


তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:৩৫:২০
তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
ছবি : সংগৃহীত

একটি পুরোনো ভিডিওতে মায়ের পাশে বসে হাসিমুখে চা পান করছেন ছেলে। অন্য একটি পারিবারিক মুহূর্তে মায়ের পা ধুয়ে তার আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় তাকে। মা-ছেলের গভীর সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করা সেই ভিডিওগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে এক মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি হয়ে। কারণ ভিডিওর মা সঙ্গীতা চন্দগুড়ে ও ছেলে কুনাল চন্দগুড়ে কেউই আর বেঁচে নেই। একই সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন কুনালের বাবা মুরলীধর চন্দগুড়েও। ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড়ি খাদে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাটি দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী কুনাল ছিলেন মুরলীধর ও সঙ্গীতা দম্পতির একমাত্র সন্তান। মুরলীধর পেশায় গাড়িচালক ছিলেন এবং তার আয়েই মূলত সংসার চলত। পরিবারটি প্রায় চার মাস আগে ঝালতা গ্রামের একদন্ত নগর এলাকায় বসবাস শুরু করেছিল। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মা, একমাত্র সন্তান এবং তাদের পোষা কুকুরকে নিয়েই ছিল ছোট সংসার।

ঘটনার সূত্রপাত একটি আইফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ থেকে এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুনাল কিস্তিতে একটি আইফোন ১৫ কিনেছিলেন। সেই কিস্তির অর্থ নিয়ে শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে তার তর্ক হয়। তবে একজন তরুণের এমন সংকটময় সিদ্ধান্তকে শুধু একটি ফোন না পাওয়ার ঘটনা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়; এর পেছনে অন্য মানসিক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত চাপ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তর্কের পর সকাল প্রায় ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কুনাল। পরে তিনি ওয়ালুজ এমআইডিসি থানা এলাকার তিসগাঁওয়ের একটি পাহাড়ের বিপজ্জনক প্রান্তে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে বাবা-মা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।

পরবর্তী প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে বোঝানো হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে মা সঙ্গীতাকে ছেলের কয়েক ফুট দূরে বসে কাঁদতে এবং তাকে প্রান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ছেলের সামনে নত হয়ে মিনতি করেন। আবার ধীরে ধীরে এগিয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কুনাল আরও প্রান্তের দিকে এগিয়ে গেলে আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে আসেন তিনি।

প্রকাশিত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, উপস্থিত লোকজনও তরুণটিকে শান্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার দাবি পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। মা-বাবা তাকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

ঘটনাস্থলে কুনালের কিছু বক্তব্যও ধারণ করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই বক্তব্যে তিনি নিজের কথা কেউ শুনছেন না এবং জীবনের সমস্যার কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছেন না—এমন হতাশার কথা বলেছিলেন। এই বক্তব্য ঘটনাটিকে কেবল একটি দামি ফোন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।

উদ্ধারকারীরাও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ঠেকাতে পাহাড়ের নিচে নিরাপত্তাজাল স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কুনাল একই জায়গায় স্থির না থেকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় উদ্ধারকারী দলকেও জালের অবস্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছিল। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

প্রায় তিন ঘণ্টার টানটান পরিস্থিতির পর দুপুর ১টার দিকে ছেলেকে বাঁচাতে নিজেই তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বাবা মুরলীধর। তিনি কুনালকে বিপজ্জনক প্রান্ত থেকে ধরে নিরাপদ দিকে টেনে আনার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে বাবা ও ছেলে দুজনই প্রায় ২৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

চোখের সামনে স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে পড়ে যেতে দেখে সঙ্গীতাও চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যেই তিনিও পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যান। উদ্ধারকারীরা পরে তিনজনকেই উদ্ধার করলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একটি পারিবারিক বিরোধ দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সংকট এভাবেই একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শেষ হয়।

ঘটনার পর কুনাল ও তার মায়ের পুরোনো ভিডিওগুলো নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দুজনকে পাশাপাশি বসে হাসতে হাসতে চা পান করতে দেখা যায়। আরেকটিতে মায়ের পা ধুয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় কুনালকে। এসব দৃশ্যের সঙ্গে ঘটনার শেষ কয়েক ঘণ্টার ভিডিওর তীব্র বৈপরীত্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে।

ট্র্যাজেডির আরেকটি বেদনাদায়ক দিক সামনে এনেছেন প্রতিবেশীরা। পরিবারটির সঙ্গে থাকা পোষা কুকুরটি এখন একা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরও প্রাণীটি বাড়িতেই অপেক্ষা করছে এবং বারবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছে। যে মানুষগুলোর সঙ্গে তার প্রতিদিনের জীবন কাটত, তারা আর ফিরবেন না সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই তার।

ঘটনাটি একই সঙ্গে সংকটাপন্ন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে আচরণ এবং জরুরি মানসিক সহায়তার গুরুত্বও সামনে এনেছে। আত্মহত্যার সংকেতকে ‘জেদ’, ‘অভিমান’ বা কোনো একটি বস্তুগত চাহিদার ফল হিসেবে সরলীকরণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি উদ্ধার সহায়তার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কেউ যদি বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারানোর কথা বলেন, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।

-রাফসান


‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:০৫:০৮
‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত শিগগিরই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। এবার ওয়াশিংটন শুধু নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে মিত্র দেশগুলোকেও পরবর্তী পর্যায়ের কর্মকৌশলে যুক্ত করতে চায়। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সহায়তায় এগিয়ে এলে ইরান-সংঘাতের একটি চূড়ান্ত পরিণতি টানার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।

রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘাতের ‘নতুন ধাপ’ শুরু হতে পারে এবং সেই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সক্রিয় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন ধাপ বলতে সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান, আরও কঠোর অবরোধ নাকি বহুজাতিক কোনো উদ্যোগ বোঝানো হচ্ছে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। ফলে তার বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ইরানের নেতৃত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য পেয়েছে। তিনি ‘সাপের মাথা’ কেটে ফেলার রূপক ব্যবহার করে বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই লক্ষ্য অর্জন করেছেন বলে তিনি মনে করেন। তবে এটি জনসনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন; ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলাদা আন্তর্জাতিক যাচাই প্রয়োজন।

কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন জনসন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে তেহরানের ওপর আস্থা রাখা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।

কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সমুদ্রপথে ইরানের ওপর চাপ আরও দৃশ্যমান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। একই অভিযানের আওতায় তিনটি জাহাজ অচল করা এবং দুটি জাহাজে আরোহণ করে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

এই সংখ্যা মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। এর আগে অবরোধের আওতায় ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের তথ্য সামনে এসেছিল। অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলে সমুদ্রপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইউএসএস জন ফিনের মতো গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের এই অভিযানে অংশ নেওয়ার তথ্যও এসেছে।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা সরু এই জলপথ আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত, অবরোধ কিংবা জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ১৮ আগস্ট তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ হিসেবে দেখানো হয়। পরে ২১ আগস্ট সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তিনি প্রণালিটিকে ‘আমেরিকান টেরিটরি’ হিসেবে দেখার কথাও বলেন। তবে এসব বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মানচিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তিত হয় না।

ইরান ট্রাম্পের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের দাবিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন। ফলে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রশ্নটি এখন শুধু সামরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধে পরিণত হয়েছে।

-রফিক


হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:৩১:৪১
হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেছেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে যুক্ত হলে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেওয়া হবে না। এমন পরিস্থিতিতে ইরান তার যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

তবে শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, গত ছয় মাস ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মোহসেন রেজাই।

এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার পরও যদি হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে সেই দেশ প্রশ্ন তুলতে পারে—‘আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?’

রেজাইয়ের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কিছু দেশ মনে করতে শুরু করেছে যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনই হয়তো আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরির পথ।

তিনি বলেন, ইরান যখন পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনও দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, এর ফলে বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে এনপিটি বা আইএইএর সদস্যপদ কোনো দেশকে কার্যকর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাঁর মতে, এ কারণেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে গেছে।

সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি নিয়েও আবারও সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে অংশ নিলে এর জবাবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।

/আশিক


বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট: বিপাকে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২০:১৩:৫৩
বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট: বিপাকে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প
ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কাটছাঁটের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বাংলাদেশে পরিচালিত একটি বড় জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প নির্ধারিত মেয়াদের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবন উপকূলের প্রায় ২০ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ সরাসরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০২৩ সাল থেকে সুন্দরবন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আসছিল, যার মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, লবণাক্ততা-সহনশীল কৃষি, আধুনিক মাছ চাষ প্রযুক্তি এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের মতো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য ২২ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত অর্থ ছাড় করা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, লক্ষ্যমাত্রা ছিল মোট ৫৭ হাজার মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা, কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে মাত্র ৩৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরি ও স্থানীয় সরকারের কাছে প্রকল্প হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) অনুদানভিত্তিক সাহায্য কমিয়ে সরকার-টু-সরকার সরাসরি অংশীদারত্ব ও বেসরকারি অর্থায়নের দিকে ঝুঁকছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সহায়তার পরিমাণ ৬ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড থেকে কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে সুন্দরবন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে (বছরে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার) বাড়ছে। আইলা-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য ও চরম লবণাক্ততার মধ্যে হঠাৎ এই তহবিল বাতিলের ফলে উপকূলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার লড়াই এবং নতুন গড়ে ওঠা ১৪০ জন স্থানীয় উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট


মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৮:১৪:৫৮
মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা ও অস্ত্র অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।

তার দাবি, মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক পারমাণবিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আক্রমণ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শনিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনের বরাতে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য প্রচার করে। মোহসেন রেজাই আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য থাকা কিংবা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলার মতো পদক্ষেপগুলোও কোনো সার্বভৌম দেশকে মার্কিন আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে তারা।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে রেজাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানকে তাদের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি ও বৈদেশিক কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তেহরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ধরন ও কূটনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১০:২৪:২৯
বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি ওশেন উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জাহাজটিতে থাকা বাকি ২২ নাবিকের এখনো সন্ধান মেলেনি। তাদের খুঁজে বের করতে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে বড় পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে যায়। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওশেন উইনারে মোট ২৪ জন নাবিক ও ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির জাতীয়তা বা পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

জাহাজটি ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লোহার আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন আয়রন ওর ফাইনস ছিল এবং ২০ আগস্ট রাতে পারাদ্বীপ ছেড়েছিল জাহাজটি। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২৭ আগস্ট।

শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে শ্রী বিজয়পুরমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা এমআরসিসি ‘ওশেন উইনার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সহায়তা চাওয়া হয়। এরপরই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে আশপাশে থাকা জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’-কে গতিপথ পরিবর্তন করে নিখোঁজ জাহাজ ও সম্ভাব্য লাইফ র‌্যাফট খুঁজতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পৃথক দুটি লাইফ র‌্যাফট থেকে দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে জাহাজটি। এরপরও বাকি ২২ জনের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘আইসিজিএস ভারাদ’ ও ‘আইসিজিএস আনমল’ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রী বিজয়পুরম থেকে ‘আইসিজিএস বিজিত’কে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীও অভিযানে যুক্ত রয়েছে এবং ওই সমুদ্রপথে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি থাকায় ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ উদ্বেগের। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দুই নাবিকের মধ্যে বাংলাদেশি ক্রু সদস্য রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পৃথক পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশি নাবিকটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ওশেন উইনারের আইএমও নম্বর ৯১৪৫৫৩০। পানামার পতাকাবাহী পানাম্যাক্স শ্রেণির এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি ১৯৯৮ সালে নির্মিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৫ মিটার, প্রস্থ প্রায় ৩২ মিটার এবং ডেডওয়েট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭২ হাজার ৯২৮ টন। অর্থাৎ এটি মূলত বিপুল পরিমাণ শুকনা বাল্ক পণ্য যেমন লৌহ আকরিক পরিবহনের উপযোগী একটি বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ।

জাহাজটি কেন ডুবে গেল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া, কার্গো-সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না এ পর্যায়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সামুদ্রিক তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

-রফিক


ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২১:২৭:৫৭
ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতাকে কার্যত গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন করে একে ‘একটি ছোট বিচ্যুতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাউথ ক্যারোলাইনায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে ট্রাম্প তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ও হালকা মেজাজে দেওয়া বক্তব্যে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, শুক্রবারের এই রাতে তাদের হাতে যথেষ্ট অবসর সময় রয়েছে। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, তার কি এখন অন্য কোনো কাজ বাকি আছে, নাকি তার আবার গিয়ে ইরানে কিছুটা বোমা বর্ষণ করা উচিত।

সংঘাতের বিষয়টিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হালকাভাবে তুলে ধরলেও ইরানের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে বড় ধরনের প্রস্তুতির পথে এগোচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও কঠোর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই লাগাতার অর্থনৈতিক হুমকিকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটনের দিক থেকে আসা তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণাকে পুরোপুরি ‘ব্যর্থ ক্লাসিক উপনিবেশবাদে প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থ রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।

সূত্র: সিএনএন


ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:০৩:১১
ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চলমান সংঘাতের পরিধি আরও বাড়িয়ে দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ মহাদেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানোর চিন্তাভাবনা করছে ইরান। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তেহরানের উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রগুলো ইতোমধ্যেই মূল্যায়ন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর নাম রয়েছে, যারা সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের জন্য নিজেদের বেজমিয়ার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এছাড়া সাইপ্রাসকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে চলতি বছরের মার্চে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

কেবল ইউরোপের সামরিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে ইরানি বাহিনী।

ইরানের সংশ্লিষ্ট সূত্রটি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে আত্মরক্ষার্থে সংঘাত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে তেহরান। তাদের স্পষ্ট বার্তা—যুক্তরাষ্ট্র সীমা অতিক্রম করলে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত পাল্টা আঘাত হানা হবে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থমকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না এবং অদূর ভবিষ্যতেও বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

অপরদিকে ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকেই সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে রয়েছে। উল্লেখ্য, সংঘাত নিরসনে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পারস্পরিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তা ভেঙে পড়ে এবং নতুন কোনো সমঝোতার পথও তৈরি হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পাঠকের মতামত: