বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:২৭:২৪
বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ । ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার পর জাহাজটিকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে পাঠানো হচ্ছে। বিএসসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হলে তারা তা নাকচ করে দেয়। বর্তমানে জাহাজটি প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং বিএসসি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পুনরায় অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত জাহাজটিকে শারজা বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ। নাবিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া ৬১ কোটির লুটপাটের প্রকল্প বাতিল ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:২৪:৩২
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া ৬১ কোটির লুটপাটের প্রকল্প বাতিল ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসচ্ছল মানুষের পুনর্বাসনের নামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেট’ শীর্ষক চরম বিতর্কিত প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা এই প্রকল্পে মাত্র ৮ কোটি টাকা মূল অনুদান বিতরণের বিপরীতে প্রশাসনিক পরিচালনা ও পরামর্শকদের ফি বাবদ ৫৩ কোটি টাকার এক অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন খরচের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিশাল আর্থিক অসংগতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও জনবিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিলের এই চূড়ান্ত ঘোষণা এল।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক ব্যয় কাঠামো নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বিশেষ সভায়ও তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছিল এবং সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা এটি অনুমোদনের অযোগ্য বলে মত দেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় দৈনিক ‘কালবেলা’ পত্রিকায় ‘৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি!’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের এই খামখেয়ালি প্রজেক্ট নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল কালবেলাকে নিশ্চিত করে বলেন যে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সেই বিতর্কিত প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) আর্থিক অনুদানে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ৬১ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর। পরবর্তীতে প্রকল্পটির খুঁটিনাটি যাচাই-বাছাই করতে গত ৫ জুলাই একটি উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্যের (সচিব) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ সভার নোটিশ জারি করা হয়েছিল চলতি বছরের ২৪ জুন, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত পিইসি সভায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত এই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় ও আকাশচুম্বী অর্থ বরাদ্দ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তোলেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পের মূল উপকারভোগী বাছাইয়ের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অবাস্তব ব্যয় কাঠামোর কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। বিশেষ করে প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, তাদের পেছনে বিপুল অঙ্কের ফি এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য বড় বাজেট রাখাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক বলে অভিহিত করা হয়। পিইসি সভার আগেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন কর্মকর্তারা, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে মূল্যায়ন কমিটির মূল সভায়।

যদিও এই পিইসি সভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী বা রেজল্যুশন এখনো দাপ্তরিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে সভায় উপস্থিত একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো নিয়মের আলোকেই এমন গণবিরোধী ব্যয় কাঠামো অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ নেই। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে আনুষঙ্গিক খাতের খরচ কয়েকগুণ বেশি এবং প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে গুরুতর অসংগতি রয়েছে, সেখানে জনগণের বা দাতার টাকা এভাবে অপচয় করতে দেওয়া যায় না। মন্ত্রণালয়ও নীতিগতভাবে এই লুটপাটের প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত সিলমোহর করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘ইন্টিগ্রেট’ নামক এই প্রকল্পের মোট বাজেট ধরা হয়েছিল ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪... হাজার টাকা, যার মূল লক্ষ্য ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার মাত্র ৩০০ জন জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অসহায় মানুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল বাজেটের মধ্যে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের ভাগ্যউন্নয়নে অনুদান হিসেবে পৌঁছানোর কথা ছিল মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা পুরো বাজেটের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। অথচ বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৪... হাজার টাকাই বরাদ্দ রাখা হয়েছিল কর্মকর্তাদের বিলাসী ব্যবস্থাপনা খরচ, বিলাসবহুল অফিস ভাড়া, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং পরামর্শকদের পকেট ভরানোর জন্য।

নথির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের পেছনেই ২৯ কোটি 62 লাখ টাকা ও অফিস ভাড়া বাবদ ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এমনকি সরকারি কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬... হাজার টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা বর্তমান সরকারের কঠোর আর্থিক কৃচ্ছ্রসাধন নীতির পরিপন্থী।

/আশিক


শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:০১:৫৫
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্প্রতি শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের দেশের প্রচলিত আদালত একজনকে সুনির্দিষ্ট অপরাধে সাজা প্রদান করেছেন। সেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যিনি দেশের মাটিতে অসংখ্য অন্যায়, অত্যাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে বর্তমানে বিদেশে পলাতক জীবনযাপন করছেন, তিনি নিজে এখন কী বলছেন বা না বলছেন, তা বর্তমান সরকারের কাছে বিন্দুমাত্র প্রাসঙ্গিক বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বন্দি প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়াটি ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সচল রয়েছে। এই মুহূর্তে একজন চিহ্নিত আসামির ব্যক্তিগত বক্তব্য কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কাল থেকেই তাঁকে ফিরিয়ে আনার যে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানেও সমান গতিতে চলমান আছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় কূটনীতির কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। এটি কেবল এককভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যৌথভাবে এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভারতের অনীহা বা কোনো বড় ধরনের আইনি জটিলতা রয়েছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, আইনি কোনো জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা, তা আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক স্তরে যে ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া চালানো আবশ্যক, তা নিয়মিত বজায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে তিনি কোনো ধরনের খামতি বা ঘাটতি দেখছেন না।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ সঠিক ও আইনি চ্যানেল ব্যবহার করেই এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বন্দি বিনিময় চুক্তির শর্তাবলি, আন্তর্জাতিক প্রটোকল এবং প্রতিষ্ঠিত আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করেই উক্ত আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত এনে আদালতের মুখোমুখি করা হবে। দেশের সাধারণ জনগণও এই স্বৈরাচারী শাসনের অন্যায়ের সঠিক বিচার দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক


আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর মেগা পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৭:৫৫:৫৪
আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর মেগা পরিকল্পনা সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে এক কোটি দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুনির্দিষ্ট মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের তরুণ সমাজকে আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ (আইএমটি) মোট ১১০টি আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কারিগরি ট্রেড ও কোর্সে উন্নত দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনার কথা জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করা, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান বাজারগুলো ধরে রাখার লক্ষ্যে দক্ষ কর্মী তৈরি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য সমস্যা দূর করতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করা।

একই অধিবেশনে বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের অপর একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, অভিবাসন খাতের অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ পর্যায়ের দালালচক্রের প্রতারণা বন্ধে প্রশাসন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

বিদেশগামী কর্মীদের অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পাঠানো, মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ প্রভাব কমানো, কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া, সার্বিক মনিটরিং, ডিজিটাল সনদায়ন, বিদেশের শ্রম উইং থেকে ডিমান্ড লেটার বা ভিসা সত্যায়ন এবং বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুর মতো অভিবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় সেবাকে সহজ করতে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম’ (ওইপি) নামক একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এই আধুনিক ও অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে অভিবাসনের প্রতিটি স্তরে দালালদের দৌরাত্ম্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।

অভিবাসন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ের দালাল বা সাব-এজেন্টদের জবাবদিহিতা ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, সরকার ইতিমধ্যে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স এবং সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ) বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে।

এর ফলে এখন থেকে দালালদেরও আইনি নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সমাধান ও কার্যক্রম সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনে জেলা পর্যায়ে ‘জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটি’ এবং উপজেলা পর্যায়ে ‘উপজেলা অভিবাসন সমধা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বিদেশগামীদের আইনি ও প্রশাসনিক সুরক্ষা প্রদান করছে।

/আশিক


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১১:০৭:২০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং সাপ্তাহিক ছুটি একসঙ্গে পড়ায় টানা নয় দিনের বিরতিতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ১০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ছুটির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, এ সময় নির্ধারিত কয়েকদিন সব প্রশাসনিক দপ্তরে কোনো ধরনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে আগামী ১২ জুলাই (রোববার) থেকে ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক অফিস সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ, আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অবগত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছুটির ধারাবাহিকতা শুরু হবে ১০ ও ১১ জুলাই, যা সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এ দুই দিনও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপর ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটি কার্যকর হবে। আবার ১৭ ও ১৮ জুলাই যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে পুরো বিরতির মেয়াদ দাঁড়াবে টানা ৯ দিন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে চলমান পরীক্ষা, একাডেমিক কার্যক্রম, ভর্তি কিংবা অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যসূচি সম্পর্কে নতুন কোনো নির্দেশনা অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব কার্যক্রম পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথক কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব শিক্ষার্থী সনদ উত্তোলন, নম্বরপত্র সংগ্রহ, নিবন্ধন, প্রশাসনিক অনুমোদন কিংবা অন্যান্য দাপ্তরিক সেবা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের নির্ধারিত সময় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ ছুটির পুরো সময় প্রশাসনিক সেবা কার্যত বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর গ্রীষ্মকালীন ছুটি নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পালন করা হয়। এবার সেই ছুটির সঙ্গে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়েছে। ছুটি শেষে ১৯ জুলাই (রোববার) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক দপ্তর স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

-রফিক


ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২১:৩৪:১১
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির বর্তমান সহসভাপতি ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যক্তিগত আইডিতে পৃথক দুটি বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, সাংস্কৃতিক সংগঠনটির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেও মূল প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর কার্যক্রমে তাঁরা আগের মতোই যুক্ত থাকবেন।

সংগঠনটির নেতৃত্ব ও মালিকানা সংক্রান্ত এই বড় পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে শহীদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকারীদের অধিকার এবং আইনি দলিলপত্রের বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে। জাবের এবং জুমা উভয়েই জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির মুখে এবং বিদ্যমান যাবতীয় নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে প্রকৃত দাবিদারদের কাছে হস্তান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জাবের তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি জীবদ্দশায় এবং শাহাদাত বরণের পূর্বে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি সেই কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। শুরু থেকেই এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটিকে জনগণের একটি পবিত্র আমানত হিসেবে পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।

তবে গত ছয় মাস ধরে এই সংগঠনের উত্তরাধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকীর্ণ ও জটিল রূপ ধারণ করেছে। শহীদ ওসমান হাদিকে সৃষ্টিকর্তা যে মহান মর্যাদা দিয়েছেন, সেই সম্মানের পবিত্রতা রক্ষা করার স্বার্থেই তাঁর ওয়ারিশদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কিছু মতাদর্শিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বড় রাজনৈতিক দলের লোভনীয় প্রস্তাব ও সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই তিনি ইনকিলাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের আবর্তে এই সংগঠনটি তার মূল সাংস্কৃতিক এজেন্ডা ও কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদির প্রয়াণের পর থেকেই মূলত এই উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সমস্যা ও জটিলতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ট্রাস্ট গঠনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তী সময়ে এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য ময়দানে নানা বিতর্ক, কুৎসা, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি তীব্র মানসিক চাপের সম্মুখীন হন। শহীদ ওসমান হাদির সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই সমস্ত নথিপত্র সাপেক্ষে সেন্টারটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে ডাকসুর এই নেত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে পরিচালিত সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তবে এরপর থেকে তাঁর নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সেন্টারের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও ব্যয়ের হিসাব অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে। ইনকিলাবের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের যে অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা রয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংস্কৃতির এই লড়াই জারি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

/আশিক


সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:৩৬:২১
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের নারী শিক্ষার অভূতপূর্ব প্রসার এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে স্নাতক বা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের সম্পূর্ণ অবৈতনিক (ফ্রি) শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে মেধা বৃত্তি প্রদানের এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের সুনির্দিষ্ট সরকারি রোডম্যাপও সংসদে উন্মোচন করেন তিনি।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক প্রশ্নের সরাসরি জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এই বৃহৎ সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানান।

সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক সুনির্দিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার নারী শিক্ষার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নারী এম্পাওয়ারমেন্ট বা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে তুলতে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড (Family Card) চালু করেছে।

এর পাশাপাশি আমরা নারী শিক্ষার প্রসারে আরেকটি মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট বা দ্বাদশ (এইচএসসি) শ্রেণী পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রি করেছিলেন। বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় নারীদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে আমরা এবার ডিগ্রি বা অনার্স (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক করতে চাই।’

সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আমাদের সংসদের গ্যালারিতে অনেক নারী শিক্ষার্থী সশরীরে উপস্থিত আছে এবং তারা সরাসরি এই ঐতিহাসিক সংসদ অধিবেশনটি প্রত্যক্ষ করছে। আমরা অনার্স পর্যন্ত নারীদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেবল তা-ই নয়; উচ্চশিক্ষার আঙিনায় তাদের মধ্যে যারা মেধার স্বাক্ষর রেখে ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিশেষ সরকারি স্কলারশিপ বা মেধা বৃত্তি দিতে চাই।’

পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেওয়া বড় উপহারের ঘোষণাটি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

একই সঙ্গে আমরা প্রতিটি বাচ্চার হাতে উন্নত মানের স্কুল ব্যাগও তুলে দেব। আমি এই পবিত্র সংসদের মাধ্যমে দেশের সকল সম্মানিত সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, আমরা পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশের সরকারি প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম পৌঁছে দেব। বর্তমানে এই ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখের মতো বাচ্চা পড়াশোনা করছে; আমরা পর্যায়ক্রমে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত এই বিশাল সংখ্যক সকল বাচ্চার কাছেই এই ফ্রি উপহার পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

/আশিক


দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:২৫:৩৭
দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের এক মেগা ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং বিগত স্বৈরাচারী আমলের লুটপাটে ধসে যাওয়া পুঁজিবাজারের আমূল সংস্কার নিয়ে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা ও দূরদর্শী উদ্যোগের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানান।

জাতীয় সংসদে বর্তমান শিক্ষা খাতের বেহাল দশার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বড় বড় বিল্ডিং নির্মাণ ও অবকাঠামোগত চটকদারি দেখানো হয়েছে; কিন্তু প্রকৃত হিউম্যান রিসোর্স বা মানবসম্পদের কোনো গুণগত উন্নয়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার কেবল অবকাঠামো নয়, শিক্ষার মূল মানে জোর দিচ্ছে। এজন্য দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে তাঁদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।’

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষির অভূতপূর্ব অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিকীকরণ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষিভিত্তিক কলকারখানা বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আবার চালু করা হবে। সনাতনী বা পুরোনো আমলের চাষাবাদ পদ্ধতির বদলে দেশের সামগ্রিক কৃষিতে আধুনিক ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তির সংযোজন করতে নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ এ সময় কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ থেকে এবার সরাসরি চীনে পুষ্টিকর ফল কাঁঠাল রপ্তানি করার চুক্তি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বিগত ১৬ বছরের চরম অরাজকতায় ধুঁকতে থাকা দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ইতিহাসের নৃশংসতম শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটের সঙ্গে পর্দার আড়ালে বা সামনে যারা জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেককে কঠোরভাবে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।’ একই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও সংস্কারমুখী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগোপযোগী ও স্বচ্ছ আর্থিক সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে দেশের পুঁজিবাজার খুব দ্রুতই আবার বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফিরছে এবং ভালো অবস্থার দিকে যাচ্ছে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/আশিক


রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:৪২:২৩
রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং মানবিক বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী। বৈঠকের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, নগর নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনার শুরুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিভিন্ন মানবিক সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্র বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ না থাকায় অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি) সংগ্রহে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টির মানবিক সমাধানে পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নগর নিরাপত্তা আধুনিকায়নের বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের প্রশংসা করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতেও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আধুনিক অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং নগর পুলিশিংয়ের মতো বিষয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে দুই দেশের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে ইসলামাবাদ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

-রফিক


জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:০৫:২৯
জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হওয়ার দাবি করে জমা দেওয়া নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০০টি আবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন এবং বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন আবেদনগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো মোট ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন যাচাই করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তিনটি ক্যাটেগরিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত জুলাইযোদ্ধা সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নতুন করে যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৫৯০ জনের নাম যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি। নতুন আবেদনগুলোও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাদেরও সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, যাদের তথ্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হবে কিংবা পূর্বে ভুল তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছেন—তাদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুতে জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের প্রথম গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে বিপুলসংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনকারীরা নিজেদের আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

এর আগে প্রকাশিত গেজেট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার পর ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গেজেট প্রকাশের পর মোট ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৯০টি আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএস অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে এবং ২১০ জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে।

তদন্তে শুধু ভুয়া আবেদনই নয়, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির চিত্রও উঠে এসেছে। প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০টি আবেদন নিয়ে দুই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করেছেন, শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদন করা হয়েছে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বিতর্কিত আবেদনগুলোর মধ্যে আরও প্রায় ১০০টির সত্যতা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হতে পারে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কোথাও চিকিৎসার কাগজপত্র মিলেনি, কোথাও জমা দেওয়া ছবি ও তথ্য যাচাই করে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের পরিচয় ব্যবহার করে আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও তদন্তে ধরা পড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যাতে সরকারি সুবিধা বা গেজেটভুক্তির সুযোগ না পান, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন স্বীকৃতি পেয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুসারে শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা, আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে আহতদের জন্য ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী এককালীন আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ভাতা, চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো, কেবল প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদেরই সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এই তালিকা নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: