ওয়াশিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল-লেবানন: শান্তির পথে বড় মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:৩৪:৩৮
ওয়াশিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল-লেবানন: শান্তির পথে বড় মোড়
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার প্রথমবারের মতো সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন।

এই ফোনালাপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক পথ তৈরি হলো। এই সংলাপে বৈরুতে থাকা মার্কিন দূত মিশেল ইসাও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে মূলত একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সরাসরি শান্তি আলোচনার রূপরেখা ও তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা লেবানন সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় বসবে না। ইসরায়েলের ভাষায়, হিজবুল্লাহ একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং তারা শান্তির পথে প্রধান বাধা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট নিক্ষেপে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

গত মাসে ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে লেবাননে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল মাত্র ১০ মিনিটের ঝটিকা বিমান হামলায় ৩০৩ জন নিহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেই তারা শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। এখন সবার নজর মঙ্গলবারের ওয়াশিংটন বৈঠকের দিকে, যা এই অঞ্চলের ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

/আশিক


যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সমীকরণ: ইরানকে অত্যাধুনিক মিসাইল দিচ্ছে চীন!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:১৭:৩০
যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সমীকরণ: ইরানকে অত্যাধুনিক মিসাইল দিচ্ছে চীন!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন বেইজিং নিজেকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাহির করছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘ম্যানপ্যাডস’ (MANPADS) সরবরাহ করতে পারে। এই ধরনের অস্ত্র নিচু দিয়ে উড়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে এবং উৎসের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এই সরঞ্জামগুলো সরাসরি চীন থেকে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, চীন কখনো কোনো সংঘাতমান পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করে না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানে ‘তাপ-অনুসন্ধানী ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ইরানও একটি ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে, যা সিএনএন-এর এই দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন একদিকে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিও বজায় রাখতে আগ্রহী।

আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই অস্ত্র সরবরাহ এবং ইরান ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়লেই মিলবে ইরানের সাথে চুক্তি: ট্রাম্প 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১০:১৯:৪৫
পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়লেই মিলবে ইরানের সাথে চুক্তি: ট্রাম্প 
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এক কথায় জানিয়ে দিয়েছেন, একটি ভালো চুক্তির মূল নির্যাস হলো— ‘ইরানের জন্য কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ৯৯ শতাংশ শর্তই হওয়া উচিত দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখা। আলোচনার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই সংলাপ এক দফাতেই শেষ হবে না কি দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে কোনো বিকল্প বা ‘ব্যাকআপ’ পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর মতে ইরানে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে গেছে।

আলাপকালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যদিও তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই পথটির খুব একটা প্রয়োজন নেই। তবে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমনটা হতে দেবো না।”

- আল-জাজিরা


চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১০:১১:০০
চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আধা শতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদের পথে মানুষের ঐতিহাসিক সফরের সফল সমাপ্তি ঘটল। নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী ১০ দিনের মহাকাশযাত্রা শেষে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিরাপদে পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু পরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে মহাকাশযানটি অবতরণ (স্প্ল্যাশ ডাউন) করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে নভোচারীরা প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯২ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল দূর দিয়ে একটি ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করেছে, যা মহাকাশের এত গভীরে মানুষের এযাবৎকালের সবচেয়ে দূরের সফর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালের বিখ্যাত ‘অ্যাপোলো-১৩’ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিল আর্টেমিস-২।

মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানিয়েছেন, তিনিসহ দলের চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার সম্ভাবনা যাচাই করা। আর্টেমিস-২-এর এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই নাসা ২০২৮ সাল নাগাদ পুনরায় চাঁদের মাটিতে সরাসরি পা রাখার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে। রিকভারি টিম ইতিমধ্যে সমুদ্র থেকে ক্যাপসুলটি উদ্ধার করে নভোচারীদের নিরাপদে উপকূলে নিয়ে এসেছে।

/আশিক


পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২১:৪০:০৮
পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির মূল ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার হওয়ার জন্য বেইজিংকে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন চীনের সরাসরি হস্তক্ষেপেই ইরান প্রাথমিক সমঝোতায় রাজি হয়। মূলত পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানকে রাজি করাতে বেইজিংয়ের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।

ইসলামাবাদের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাতে যুদ্ধবিরতির আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু চীনের সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করতে পারছে না বলেই এমন একজন শক্তিশালী জামিনদার চাইছে, যার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব দুই-ই আছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা পশ্চিমে কম থাকায় চীনই এখন সেরা বিকল্প।

তবে এই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন। নৌ-চলাচল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার মতো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে।

বেইজিং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জামিনদার হওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও পর্দার আড়ালে তারা শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। তেহরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইসলামাবাদের ‘অভেদ্য ভ্রাতৃত্বের’ বন্ধু হিসেবে চীন এখন এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পক্ষ।

যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তান ও চীন প্রথমদিন থেকেই নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আসছে। এমনকি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে ইরানকে বড় ধরনের স্বস্তি দেয়।

তবে লেবানন ইস্যু নিয়ে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। পাকিস্তান ও ইরান দেশটিকে যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও ইসরায়েল তাতে আপত্তি জানিয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই সংলাপ অত্যন্ত জটিল হতে যাচ্ছে, যেখানে সফল হতে হলে সব পক্ষকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।

/আশিক


ইরান না কি ইসরায়েল, কে জিতল? ইসরায়েলিদের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২১:০৭:৪৩
ইরান না কি ইসরায়েল, কে জিতল? ইসরায়েলিদের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর চিত্র। অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন না যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই সরাসরি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জয়লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এই জরিপগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর দাবির বিপরীতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চ্যানেল থার্টিন, চ্যানেল টুয়েলভ এবং কান ইলেভেন-এর জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ নিজেদের পক্ষকে বিজয়ী মনে করছেন। বিপরীতে একটি বড় অংশ মনে করছে এই যুদ্ধে ইরানই কৌশলগতভাবে জয়ী হয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অর্ধেকেরও বেশি ইসরায়েলি বর্তমানে কার্যকর হওয়া এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঘোর বিরোধী। তারা মনে করেন, যুদ্ধ থামিয়ে ইরানকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তেহরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

নির্বাচনী বছরে জনগণের এই মনোভাব নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। যেখানে তিনি ‘মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেখানে মাত্র ৩৭ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে দেশের কৌশলগত অবস্থান উন্নত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: সিএনএন


যুদ্ধ না কি শান্তি? যেকোনো একটি বেছে নাও: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২১:০১:০৪
যুদ্ধ না কি শান্তি? যেকোনো একটি বেছে নাও: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শর্তের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিবিসির সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনকে এখন হয় ‘যুদ্ধ’ না হয় ‘যুদ্ধবিরতি’—যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এবং ইরান দাবি করছে যে, লেবাননও এই চুক্তির আওতাভুক্ত।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে ভিন্ন কথা; তাদের দাবি, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। এই দ্বিমুখী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে খাতিবজাদেহ বিবিসি রেডিও ৪-এ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘একই সাথে কেক রাখা এবং খাওয়ার’ (সুবিধা ভোগ ও নীতি লঙ্ঘন) চেষ্টা করছে, যা চলতে দেওয়া হবে না।

আগামীকাল শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু লেবানন ইস্যুতে তেহরানের এই কড়া অবস্থান এবং ইসরায়েলের অনড় মনোভাব সেই আলোচনার টেবিলকে যুদ্ধের ময়দানে রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি


কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২০:০৮:৩৪
কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি
পাম্প জ্যাকের মাধ্যমে তেল উত্তোলন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। ফাইল ছবি: এএফপি

প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান—মানুষের জয়যাত্রা কিংবা পতনের নেপথ্যে একটি তরল পদার্থের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্র্যাকিং বিপ্লব পর্যন্ত, তেলের ইতিহাস মানেই শক্তির পালাবদল।

আদি ইতিহাস: মমি থেকে নৌকা (৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

তেলের ব্যবহার আধুনিক যুগের আবিষ্কার নয়। প্রাচীন ব্যবীলনীয়রা নৌকা পানিরোধক করতে এবং মিশরীয়রা মমি সংরক্ষণে তেলের আদি রূপ ব্যবহার করত। তবে তখন এটি ছিল কেবল একটি সহায়ক উপাদান, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক নয়।

আধুনিক বিপ্লব: পেনসিলভানিয়া থেকে মোটরগাড়ি (১৮৫৯-১৮৮৫)

১৮৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাণিজ্যিক তেল কূপ আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক তেল শিল্পের যাত্রা শুরু। ১৮৮৫ সালে কার্ল বেঞ্জ যখন প্রথম মোটরগাড়ি আবিষ্কার করলেন, তখন তেলের চাহিদা গগনচুম্বী হয়ে ওঠে। গ্যাসোলিন হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান জ্বালানি।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান ও বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯০৮-১৯১৮)

১৯০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিশাল মজুত আবিষ্কার বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, ট্যাঙ্ক, জাহাজ ও বিমান চালাতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। যার তেল আছে, যুদ্ধজয়ে সেই এগিয়ে।

তেলের ভাগবাটোয়ারা ও সুয়েজ সংকট (১৯৪৪-১৯৫৬)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালে মার্কিন ও ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। কিন্তু ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বুঝিয়ে দেয়, উৎপাদনকারী দেশগুলো (বিশেষ করে মিশর) এখন আর স্রেফ দর্শক নয়, তারা তেলের রুট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে।

তেল যখন মারণাস্ত্র: ১৯৭৩-এর সংকট ও উপসাগরীয় যুদ্ধ

১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো তেলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে, ফলে তেলের দাম ৪ গুণ বেড়ে যায়। এরপর ১৯৯০-এর উপসাগরীয় যুদ্ধের নেপথ্যেও ছিল কুয়েতের তেল ক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্র্যাকিং’ প্রযুক্তির উদ্ভাবন তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণ আনে। শিলাস্তর ফুটো করে তেল উত্তোলনের এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারকে পরিণত করে। ২০১৫ সালে এসে আরবের দেশগুলো তেলের দাম কমিয়ে দিয়ে পশ্চিমা এই ফ্র্যাকিং শিল্পকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে, যা বিশ্ববাজারে ধস নামায়।

তেল কেবল একটি জ্বালানি নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, বিশ্বের ক্ষমতার চাবিকাঠিও তার হাতে। ৩০০০ বছর আগের সেই মমি তৈরির তেল আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার যুগেও বিশ্ব অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে কাজ করছে।


ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৯:১৯:৫৭
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের।

তবে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ উপস্থিত থাকলেও সংলাপ শুরু হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন পরিস্থিতি। গত বুধবার পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টা পরই ঘোষণা করেন যে লেবানন এই চুক্তির আওতায় নেই। এরপরই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আহত হন।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান এখন কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়, তবে আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের এই পরিকল্পিত সংলাপ স্থগিত করেছে। ইরান মূলত এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অনড় রয়েছে, যা মানতে রাজি নয় ইসরায়েল। ফলে ইসলামাবাদের এই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা এখন সুতোয় ঝুলছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:১৭:০২
রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। উড্ডয়নকালে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ নজরদারি মিশন শেষে ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল।

ফেরার পথে ড্রোনটি থেকে জরুরি অবস্থা নির্দেশক ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়। এরপর ড্রোনটি হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই দিন আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা যখন কার্যকর হওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রোন নিখোঁজের এই ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দামি নজরদারি সরঞ্জাম, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা) বেশি।

এটি সাধারণত ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে সক্ষম এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।

সুইডেনভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক এই সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।

প্রতিদিনের হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই খরচ হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান ও নৌ অভিযানে। ড্রোন নিখোঁজের এই নতুন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বোঝাকে আরও ভারী করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি

পাঠকের মতামত: