রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:১৭:০২
রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। উড্ডয়নকালে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ নজরদারি মিশন শেষে ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল।

ফেরার পথে ড্রোনটি থেকে জরুরি অবস্থা নির্দেশক ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়। এরপর ড্রোনটি হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই দিন আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা যখন কার্যকর হওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রোন নিখোঁজের এই ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দামি নজরদারি সরঞ্জাম, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা) বেশি।

এটি সাধারণত ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে সক্ষম এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।

সুইডেনভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক এই সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।

প্রতিদিনের হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই খরচ হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান ও নৌ অভিযানে। ড্রোন নিখোঁজের এই নতুন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বোঝাকে আরও ভারী করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি


ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: স্বার্থের অনুকূলে না হলে চুক্তি করবে না ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৮:১৩:২৩
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: স্বার্থের অনুকূলে না হলে চুক্তি করবে না ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতি নিয়ে নিজেদের অনমনীয় অবস্থান ও রেডলাইন পুনর্ব্যক্ত করে তেহরানকে এক চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে কোনো দায়সারা বা দুর্বল সমঝোতায় যাবে না। তেহরানের সঙ্গে চুক্তি হতে হলে তা হতে হবে অত্যন্ত অর্থবহ এবং সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে; অন্যথায় কোনো চুক্তিই সই করবে না মার্কিন প্রশাসন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা হবে একটি ‘মহা এবং অর্থবহ চুক্তি’ (Great and Meaningful Deal), আর তা না হলে আদৌ কোনো চুক্তি হবে না। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য মূলত তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের পুরোনো ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ (Maximum Pressure) কৌশলেরই একটি অবধারিত ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিলেন যে, আলোচনার টেবিলে বসার অর্থ এই নয় যে মার্কিন প্রশাসন তাদের মূল শর্তগুলো থেকে এক চুলও সরে আসবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তার ঠিক আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় একই সুরে তেহরানকে নিশানা করে একটি কড়া নীতিগত বক্তব্য দেন। রুবিও সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করবে, আর তা যদি সম্ভব না হয়, তবে সম্পূর্ণ ‘ভিন্ন উপায়ে’ (Other Ways) তেহরানের মুখোমুখি হতে ওয়াশিংটন বাধ্য হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভিন্ন উপায়ের পরোক্ষ সামরিক হুঁশিয়ারি এবং তার পরপরই ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের অনমনীয় অবস্থান থেকে এটি পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ভাঙতে এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দিতে রাজি নয়। ওয়াশিংটনের এমন সাঁড়াশি কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে ইরান এখন পাল্টা কী কৌশল অবলম্বন করে, আন্তর্জাতিক মহল এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


চীনের নতুন রপ্তানি নীতিতে তোলপাড়: হুমকির মুখে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের মেগা স্বপ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৭:৫৯:৪৮
চীনের নতুন রপ্তানি নীতিতে তোলপাড়: হুমকির মুখে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের মেগা স্বপ্ন
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে এবার রপ্তানি খাতে অত্যন্ত কঠোর ও নতুন এক সুরক্ষানীতি গ্রহণ করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই আকস্মিক চালের কারণে আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির মেগা স্বপ্ন এখন তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে। মূলত কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর কাছে নিজেদের 'চীনের বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র' বা 'চায়না প্লাস ওয়ান' হিসেবে তুলে ধরে ভারত যে আগ্রাসী কৌশল নিয়েছিল, বেইজিংয়ের নতুন ডিক্রির ফলে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'এনডিটিভি' (NDTV)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কোভিডের পর থেকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল (Apple)-এর প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম রেকর্ড পরিমণে বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) প্রকল্প ঘোষণা এবং নতুন নতুন হাইটেক শিল্পপার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি আসছিল। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি যেখানে ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে রেকর্ড ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এই ধারাবাহিকতায় ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই রপ্তানি ১২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। কিন্তু ভারত যখন নিজেদের উৎপাদন খাতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই চীন সেই শিল্পকে চালিত করা মূল ব্যাকবোন বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার (Supply Chain) ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ একচেটিয়াভাবে জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের নতুন ‘স্টেট কাউন্সিল ডিক্রি’-র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উপাদান রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা ভারতের উদীয়মান ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্পে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, হাই-টেক উপাদান এবং কাঁচামালের ওপর চীনের এই নতুন কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভারতের শিল্প সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ফলে শত বিলিয়ন ডলারের নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং চীনা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভারতের অভ্যন্তরীণ পঙ্গুত্ব ও নির্ভরশীলতা আরও নগ্নভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন বড় প্রশ্ন তুলছেন— কারখানা তৈরির মূল যন্ত্রপাতির চাবিকাঠিই যদি চীনের হাতে থাকে, তবে ভারত কীভাবে বেইজিংকে টেক্কা দিয়ে বড় উৎপাদনকারী হবে? পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই বেইজিংয়ের নতুন নিয়মে তাদের যন্ত্রপাতির চালান আটকে যাবে কিনা, তা জানতে চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ভারতের দেশীয় শিল্পখাতও এই মহা-সংকটের সম্ভাব্য ভয়াবহ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে মোদী সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেছে।

চীনা এই মাস্টারস্ট্রোকের কাউন্টার দিতে গত শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল বা চীনের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে ভারত সরকার খাতভিত্তিক বিকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনা (Alternative Investment Plan) প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব শিল্প অবকাঠামোতে বড় ধরনের গতি আনতে আগামী তিন বছরে প্রায় ৩৩ হাজার ৬৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে দেশে ৫০টি অত্যাধুনিক নতুন শিল্পপার্ক চালুর মেগা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV)—আধুনিক যেকোনো হাই-টেক উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি চীনা যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের নিজস্ব অটোমোবাইল খাতেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট যন্ত্রাংশ আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশই এসেছে সরাসরি চীন থেকে, যার সিংহভাগই ছিল অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক উপাদান। ফলে চীনের এই নতুন রপ্তানি নীতি আগামী দিনে ভারতের মোদী সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টকে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

/আশিক


মার্কিন ডলারকে বড় ধাক্কা: ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চীনের ইউয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৩:০২:১৮
মার্কিন ডলারকে বড় ধাক্কা: ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চীনের ইউয়ান
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের উলটপালট শুরু হয়েছে। মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের (Yuan) মান গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির একটি সম্ভাব্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনার জের ধরেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এই নাটকীয় উত্থান ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক তীব্র উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চলমান শান্তি আলোচনা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার স্পষ্ট আশাবাদ বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক আস্থার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে চীনা মুদ্রার ওপর, যা ডলারের বিপরীতে ইউয়ানকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

এই বিষয়ে চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের একজন কারেন্সি ট্রেডার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, "আপাতত এই সংঘাতপূর্ণ প্রণালী জুড়ে নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক যাতায়াত পুরোপুরি আগের অবস্থায় রাতারাতি পুনরুদ্ধার করা হয়তো কিছুটা কঠিন হতে পারে, তবে বাণিজ্য সামান্যতম শুরু হওয়াও স্থবির হয়ে পড়া বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী একটি সংকেত।"

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশই মূলত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের মন্দা ও স্থবিরতা কাটার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর এই সুযোগে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চীনের প্রভাব আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে এবং ইউয়ান গত তিন বছরের সব রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় আরোহণ করেছে।

সূত্র- আল জাজিরা


ছোট শয়তান থেকে ব্রিকসের অংশীদার: সোভিয়েত পতনের পর যেভাবে বদলে গেল ইরান-রাশিয়া অক্ষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১২:২৯:১৭
ছোট শয়তান থেকে ব্রিকসের অংশীদার: সোভিয়েত পতনের পর যেভাবে বদলে গেল ইরান-রাশিয়া অক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাসের পাতায় প্রায় ১৯৭ বছর আগে তৎকালীন পারস্যে (বর্তমান ইরান) নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিবোয়েদভকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি আজও রাশিয়া-ইরান সম্পর্কের এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ক্ষত। ১৮২৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তেহরানের রুশ দূতাবাসে হাজার হাজার উত্তেজিত জনতার হামলায় কবি, নাট্যকার ও কূটনীতিক গ্রিবোয়েদভসহ বেশ কয়েকজন রুশ কূটনীতিক নিহত হন।

নবস্বাক্ষরিত তুর্কমানচাই চুক্তি অনুযায়ী, রুশ দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়া আর্মেনীয় পলাতকদের (রাজকোষের এক খোজা ও হারেমের দুই নারী) ইরানের শাহ ফাতহ-আলির হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পারস্যের কাছ থেকে ২ কোটি রৌপ্য রুবল (বর্তমান মূল্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার) আদায়ের কঠোর রুশ নীতির কারণে এই গণবিক্ষোভ ফেটে পড়েছিল। পরবর্তীতে রুশ প্রতিশোধ থেকে বাঁচতে শাহের নাতি বিখ্যাত ৮৯ ক্যারেটের হলুদাভ 'পার্সিয়ান ডায়মন্ড' সেন্ট পিটার্সবার্গে জারকে উপহার দিয়ে ক্ষমা চান, যা বর্তমানে মস্কোতে সংরক্ষিত।

উনবিংশ শতাব্দী থেকে শুরু করে স্নায়ুযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক সবসময়ই এক ভূ-রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি হিসেবে ওঠানামা করেছে। ১৯২০ সালে উত্তর পারস্যে সোভিয়েতদের কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গঠনের ব্যর্থ চেষ্টা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জোসেফ স্টালিনের তেল সম্পদের একচেটিয়া অধিকার দাবি এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান কর্তৃক সোভিয়েত ইউনিয়নকে 'ছোট শয়তান' আখ্যা দেওয়ার নেতিবাচক স্মৃতি ইরানিদের মনে আজও তাজা। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এবং বিশেষ করে বর্তমান পুতিন জমানায় এই দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন কৌশলগত মোড় নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান বর্তমান সম্পর্ক কোনো আদর্শিক ভিত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ বাস্তব স্বার্থনির্ভর এবং যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা চাপবিরোধী অভিন্ন অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখে মস্কো যেমন জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছে, তেমনি ইরানও রাশিয়া থেকে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রোসাটমের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের পতন ঠেকাতে যৌথ হস্তক্ষেপ থেকে শুরু করে ২০২৩-২৪ সালে রাশিয়ার সমর্থনে ইরানের ব্রিকস (BRICS) জোটে অন্তর্ভুক্তি— এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকে আরও বাড়িয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে চীনও যুক্ত হয়েছে।

তবে এই সম্পর্কে গভীর অবিশ্বাসও বিদ্যমান। রাশিয়া কখনোই ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি, যার প্রমাণ মেলে ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের কাছে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি দীর্ঘকাল স্থগিত রাখা। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইরান রাশিয়াকে 'শাহেদ ড্রোন' ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে মিত্রতার প্রমাণ দিলেও, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর রাশিয়া কেবল নিন্দাই জানিয়েছে, সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুতিনের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা এবং এটি আবারও প্রমাণ করে যে, রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক আদতে কোনো আনুষ্ঠানিক বা চিরস্থায়ী সামরিক জোট নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের এক সাময়িক সমীকরণ মাত্র।

সূত্র : আল জাজিরা


২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১০:২৮:৩০
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে অত্যন্ত জোরালো দাবি করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে পুরো বিষয়টি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে আলোচনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন শীর্ষ প্রতিনিধিদলকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু'-তে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে ট্রাম্পের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের তথ্য জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন নির্দেশনার ফলে গত তিন মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটার যে বিশ্বব্যাপী আশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কিছুটা ম্লান ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তাড়াহুড়ো না করার পেছনে কূটনৈতিক যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হচ্ছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও অনেক বেশি পেশাদার ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে।

তবে দুই পক্ষকেই গোটা বিষয়টি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে একদম নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের ভুল বা দুর্বলতা রাখার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।’ এর আগে গত শনিবারই ট্রাম্প বেশ আশাবাদী হয়ে দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অধিকাংশ জটিল বিষয় চূড়ান্ত এবং এটি এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

কিন্তু রোববার তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়েও আগের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিয়েছেন। শনিবার সমঝোতার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়ার কথা বললেও, পরদিনই ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ‘চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে তাতে দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক সই না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকবে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিত্র দেশ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা শত শত ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে তেহরান প্রশাসন। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক সামরিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

এই মহাসংকট সমাধানের লক্ষ্যে বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বেশ কয়েক দফায় আনুষ্ঠানিক ও গোপন আলোচনায় বসে। তবে সেখান থেকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক সমাধান বেরিয়ে আসেনি। দুপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার চেষ্টা জারি থাকার মাঝেই ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের এই নতুন নির্দেশে শান্তি প্রক্রিয়া আবারও দীর্ঘায়িত আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মুখে পড়ল।

সূত্র: দ্য হিন্দু


চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিশেষ শোক চিঠি পাঠালেন ড. ইউনূস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২০:০৮:৩৭
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিশেষ শোক চিঠি পাঠালেন ড. ইউনূস
ছবি : সংগৃহীত

দনা জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে তিনি নিহতদের পরিবার, স্বজন এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন।

আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) পাঠানো ওই শোকবার্তায় ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু একটি ভয়াবহ ও গভীর ট্র্যাজেডি, যা বিশ্বমানবতার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। প্রিয়জনকে হারানোর এই অসীম বেদনা ও কষ্ট লাঘব করার মতো কোনো ভাষা বা শব্দ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, কয়লাখনির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ চরম ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকে শ্রমিকরা যে নিষ্ঠা ও অবদানের স্বাক্ষর রেখেছেন, তা বিশ্ববাসীর গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণের যোগ্য।

একই সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুর্ঘটনাস্থলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনকারী উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক এবং জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোর সাহসিকতা ও বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তাদের নিরলস ও মানবিক প্রচেষ্টা মানবসেবার ইতিহাসে এক সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। দুর্ঘটনার পরপরই চীন সরকারের দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ শোকাহত পরিবারগুলোর মনে আশার সঞ্চার করেছে উল্লেখ করে চিঠির শেষাংশে তিনি আহত খনি শ্রমিকদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো যেন এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও সাহস খুঁজে পায়, সেই প্রার্থনা জানান।

/আশিক


যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১৮:০৮:১৪
যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের চরম সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের বরফ গলার আভাস মিলছে। চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত চিরতরে বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে বিশ্বের দুই বৈরি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

তবে বড় ধরনের এই সমঝোতা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে চললেও, এর আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হচ্ছে ইরানের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুটি। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) ইরানের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এই বিশেষ ও সংক্ষেপিত তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানি সূত্রটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তেহরান প্রশাসন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে বা দেশের বাইরে পাঠাতে সম্মত হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম ইস্যুটি বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হতে যাওয়া প্রাথমিক এই শান্তি চুক্তির কোনো অংশ বা এজেন্ডা নয়।

ইরানি ওই শীর্ষ কর্মকর্তা আলোচনার ভেতরের কৌশলগত বিষয় ব্যাখ্যা করে বলেন, পারমাণবিক শক্তি ও ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এটিকে চূড়ান্ত বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির জন্য ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে বর্তমান খসড়া চুক্তিতে এটি কোনো ধরনের প্রভাব ফেলছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক বোঝাপড়ার বিষয়ে নিবিড় ও গোপন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন অনমনীয় অবস্থান প্রকাশ করা হলো।

তেহরানের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার পুনর্ব্যক্ত করছেন যে, বর্তমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ফোকাস এবং প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানো, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো—কোনোভাবেই নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সংকুচিত করা নয়।

সূত্র: রয়টার্স


আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১২:৪৩:৩৫
আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ঐতিহাসিক খোররামশাহর মুক্তি দিবস এবং জাতীয় প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ কৌশলগত বার্তায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়ক মার্কিন ও ইসরায়েলি অক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সাম্প্রতিক সামরিক বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) খোররামশাহর মুক্ত করার ৪৪ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে সিপাহ প্রধান এই বার্তা দেন। তিনি তাঁর বার্তায় জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশেও সচেতন ইরানি জাতি তাদের জাতীয় ঐক্য ও প্রজ্ঞাকে আরও গভীর করবে। একই সঙ্গে চুক্তিভঙ্গকারী ও প্রতারক শত্রুদের প্রতিটি গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের সমস্ত গোপন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।

প্রকাশিত বার্তায় সিপাহ প্রধান নওরোজ ক্যালেন্ডারের ৩রা খোরদদ তারিখের ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে বলেন, ৫৭৮ দিন সাদ্দাম বাহিনীর দখলে থাকার পর খোররামশাহর মুক্ত করার মধ্য দিয়ে ইরানি তরুণরা ‘আমরা পারি’ স্লোগানের বাস্তব রূপ দিয়েছিল। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর ‘খোররামশাহরকে আল্লাহ মুক্ত করেছেন’—এই ঐতিহাসিক উক্তিটি ঐশী ইচ্ছা ও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী জাতীয় শক্তির এক বিস্ময়কর বহিঃপ্রকাশ ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, ৪৪ বছর আগের সেই গৌরবময় ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ইরানি জাতি আজ আবারও একটি ‘তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে’র মুখোমুখি হয়েছে, যা মূলত ইসরায়েলি ও মার্কিন শত্রুদের সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং ইরানের এক মহান নেতার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। শত্রুপক্ষ ইরানের দীর্ঘ ৪০ দিনের তীব্র প্রতিরোধ ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাবের মুখে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধে ইরানিদের উত্তাল ও মারমুখী অবস্থানের সাক্ষী হচ্ছে।

ঐতিহাসিক খোররামশাহরের শিক্ষা, পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের শহীদ এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি (রহ.)-এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সিপাহ প্রধান ইরানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন।

প্রথমত, তিনি এই সাম্প্রতিক সংঘাতকে একটি সম্মিলিত বা ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের কারণে শত্রুর মূল লক্ষ্য ভেস্তে গেছে।

দ্বিতীয়ত, খোররামশাহরের মূল শিক্ষাই হলো অভ্যন্তরীণ শক্তির বিকাশ এবং সক্রিয় প্রতিরোধ; যার প্রমাণ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা খাতের অভাবনীয় অগ্রগতি আজ শত্রুদের নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে।

তৃতীয়ত, ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হলো দেশের জনগণের দৃঢ় উপস্থিতি, যা যে কোনো আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।

চতুর্থ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের স্থল, আকাশ, নৌ, মহাকাশ এবং সাইবার—প্রতিরক্ষার এই পাঁচটি খাতের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতায় রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক এবং তা আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত হবে।

পঞ্চমত এবং পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, খোররামশাহরের এই ঐতিহাসিক বিজয় হলো মূলত ভবিষ্যতের চূড়ান্ত বিজয়ের একটি স্থায়ী আদর্শ, যা একদিন পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্তি এবং বিশ্ব ইসলামি প্রতিরোধের হাত ধরে ইসরায়েলি শাসনের সম্পূর্ণ পতনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেবে। সিপাহ প্রধান ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পবিত্র কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ় রাখবেন।’

সূত্র: ফার্সনিউজ


ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১১:৩৪:৩৯
ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এক চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন সামনে এনেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গিওরা আইল্যান্ড। ইসরায়েলের প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এই সামরিক সংঘর্ষে ইসরায়েল নয়, বরং জয়ী হয়েছে ইরান। তাঁর মতে, চলমান পরিস্থিতি ও এর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান কেবল সফলই হয়নি, বরং তারা এই যুদ্ধের পরিণামে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট।

মেজর জেনারেল আইল্যান্ড তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, সামরিক অভিযানের তীব্রতা ও পাল্টা হামলার পরেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটুট ও অক্ষত রয়েছে। বিপরীতে, এই সংঘাতের ফলে ইসরায়েল বর্তমানে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের এই ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে।

সাবেক এই জেনারেলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওয়াশিংটন বর্তমানে তাদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে কেবল সংঘাত বন্ধের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি করতে চাইত। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মার্কিন প্রশাসন এখন কেবল হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো সহজ ও নমনীয় পন্থায় ফিরে যেতে চাইছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ইরান কঠোর পাল্টা জবাব দেয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, গিওরা আইল্যান্ডের এই মন্তব্য ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: