পাকিস্তানের জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১০:০৭:০৯
পাকিস্তানের জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলো। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী, যা সমুদ্র ও স্থল—উভয় ক্ষেত্রেই নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ভারত–পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফল উৎক্ষেপণ উল্লেখযোগ্য ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) পাকিস্তানের প্রথম সারির দৈনিক ডন সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআরের বরাতে জানায়, অত্যাধুনিক নির্দেশনা ব্যবস্থা ও উন্নত ম্যানুভারিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে স্টেট অব দ্য আর্ট গাইডেন্স সিস্টেম, উন্নত অ্যাভিওনিক্স, অ্যান্টি-জ্যামিং ন্যাভিগেশন সিস্টেম এবং শেষ মুহূর্তে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে, যা শত্রুপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থা ভেদ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফল উৎক্ষেপণ পাকিস্তানের স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির শক্তি প্রমাণ করে এবং ভবিষ্যতের নৌকৌশলগত সক্ষমতা নিশ্চিত করার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষার সময় নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফসহ দেশীয় বিজ্ঞানী ও প্রতিরক্ষা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্র-ভিত্তিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, ভারতীয় নৌবাহিনীর বাড়তি সক্ষমতা প্রতিরোধ এবং আরব সাগরে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই নতুন ব্যালিস্টিক মিসাইল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের বড় যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী ও উচ্চমূল্যের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে এ মিসাইল এক গভীর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে।

পর্যবেক্ষকদের ধারনা, নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলে মিসাইলটি পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা রক্ষা, দূরপাল্লার সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সমুদ্রশক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

এর মাত্র দুই মাস আগে পাকিস্তান সফলভাবে পরীক্ষা করেছিল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ক্রুজ মিসাইল ফাতাহ–৪, যার পাল্লা ছিল প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। ধারাবাহিক পরীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

-রফিক


বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২১:০৮:৩৭
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা: রেকর্ড বাড়ল তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মেক্সিকো উপসাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ও মার্কিন জ্বালানি উত্তোলনে বড় ধরনের ধাক্কা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের আগেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালানো হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।

ভূরাজনৈতিক এই সংকটের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের আঘাতে সেখানকার মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ ব্যারেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট ক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ। শেল ও শেভরনের মতো শীর্ষ সংস্থাগুলো তাদের একাধিক অফশোর স্থাপনায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এক দিনেই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৪৩ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪.৬ শতাংশ বেড়ে ৯২.৪২ ডলারে পৌঁছেছে।

/আশিক


রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৪৯:৪৫
রাজনৈতিক ভাষণে স্ত্রীর দেয়া বিশেষ বার্তার কথা ফাঁশ করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় নিজের বৈবাহিক জীবনের এক কৌতূহলোদ্দীপক কথা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের পর আজও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁকে প্রথাগত সম্মান দেখিয়ে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, ঠিক যেভাবে সরকারি কর্মচারীরা তাঁর সাথে কথা বলেন। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কড়া সমালোচনা করেন।

ভাষণ চলাকালে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর ওপর আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখে তাঁকে ভিগান (পূর্ণ নিরামিষভোজী) হিসেবে দাবি করেন। তবে তালারিকো ট্রাম্পের এই দাবি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প জানান, তিনি আগে ‘ভিগান’ শব্দটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না এবং মেলানিয়া ট্রাম্পই তাঁর সেই ভুল শুধরে দেন। স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মেলানিয়া তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, শব্দটির সঠিক উচ্চারণ ‘ভেগান’ নয়, বরং ‘ভিগান’।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় রাজনীতির উত্তাপ ও সাম্প্রতিক জরিপে পিছিয়ে থাকার পটভূমিতে টেক্সাসের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্যাক্সটনের অবস্থান শক্তিশালী করতেই ট্রাম্পের এই সফর। রাজনৈতিক মঞ্চে টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটনের চেয়ে ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তালারিকো ক্রমাগত এগিয়ে আছেন।

বিপরীতে, তালারিকো নিজের নিরামিষাশী হওয়ার খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সমাবেশে ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে সুবিধা করতে বাধ্য হয়ে আমিষ খাওয়া শুরু করায় এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিওতে গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল ট্রাম্পের চতুর্থ সফর। সাম্প্রতিক জরিপগুলো যেমন সিয়েনা কলেজের ৫১-৪৫ শতাংশ ব্যবধান কিংবা ফক্স নিউজের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার চিত্র প্রকাশের প্রেক্ষাপটেই এই জোর প্রচারণা চালাচ্ছে রিপাবলিকান শিবির।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট


বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৩০:১৬
বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে এল নিনোর তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং সামগ্রিক আবহাওয়ায় মারাত্মক পরিবর্তন আসার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডব্লিউএমওর সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার আগে এই এল নিনো প্রক্রিয়াটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, এল নিনো ইতোমধ্যেই সক্রিয় হয়ে দ্রুত তীব্র হচ্ছে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বহাল থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের এল নিনোটি ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা অন্যতম শক্তিশালী ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার এই প্রাকৃতিক ঘটনা বিশ্বজুড়ে খরা ও অতিবৃষ্টির মতো চরম দুর্যোগ ডেকে আনে। এবার প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা আগে থেকেই উঁচুতে থাকায় বায়ুমণ্ডলে রেকর্ড পরিমাণ তাপ নির্গত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে উষ্ণতা তৈরি হয়েছে, তার সাথে শক্তিশালী এল নিনোর যুক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম খরা, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং নজিরবিহীন দাবদাহের ঝুঁকি তৈরি হবে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন, বাস্তুতন্ত্র, সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি


বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করল সুইডিশ একাডেমি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৭:৪০:৫৯
বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করল সুইডিশ একাডেমি
ছবি : সংগৃহীত

ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন কানাডিয়ান লেখক, কবি ও অনুবাদক অ্যান কারসন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্য সুইডিশ একাডেমি তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত থাকা অ্যান কারসন তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জন নারী সাহিত্যে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন। প্রসঙ্গত, এর আগের বছর (২০২৫ সালে) হাঙ্গেরির প্রখ্যাত লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন, যাঁর আলোচিত উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’-এ সামাজিক অস্থিরতা ও মানবজীবনের টানাপোড়েন নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছিল।

চলতি বছরের নোবেল ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আগামী শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ী পান একটি সম্মাননা ডিপ্লোমা, একটি স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের চেক। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে ফোনালাপে মিলিত হলেন দুই বিশ্বনেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:৫৬:০৫
গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে ফোনালাপে মিলিত হলেন দুই বিশ্বনেতা
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে টেলিফোনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বুধবার তুর্কি যোগাযোগ অধিদপ্তরের এক বিবৃতির বরাতে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কৃষ্ণসাগরে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ চলাচল সুনিশ্চিত করতে তুরস্কের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার বিষয়টি পুতিনকে পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে তুরস্ক যেকোনো ধরণের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত বলে পুতিনকে নিশ্চিত করেছেন এরদোয়ান। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় এই ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশটির দুমা নির্বাচনে পুতিনের রাজনৈতিক দলের সফলতায় অভিনন্দন জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন নৌ চলাচল উভয় দেশের আলোচনার মূল কেন্দ্রে স্থান পাচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:১৭:৫০
গুহাবাড়ির কঠিন লড়াই থেকে লাল চীনের মসনদ: শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার রূপকথা
ছবি : সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ১৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন শি জিনপিং। এই সময়ে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের শক্ত অবস্থান তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তবে ৭৩ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী নেতার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন সবসময় এতটা মসৃণ ছিল না। একসময় তিনি ছিলেন চীনের ক্ষমতাসীন রাজ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, যা তাকে 'রাজপুত্র' উপাধি দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এক পর্যায়ে পরিবারের প্রায় সব সুবিধাই হারাতে হয়েছিল তাকে।

১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন শি জিনপিং। তার বাবা শি ঝংজুন ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম প্রথম সারির নেতা ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী। শৈশবে নামকরা স্কুলে পড়াশোনা এবং বিশেষ কিছু সুবিধা পেলেও ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে বদলে যায় পরিস্থিতি। শি ঝংজুনকে 'দলবিরোধী' চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করে গ্রামাঞ্চলের কারখানায় পাঠানো হয় এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বাবার পতনের প্রভাবে কিশোর শি জিনপিংকেও 'প্রতিবিপ্লবী' সন্তান হিসেবে পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মাও জেদংয়ের আহ্বানে শহরের লাখো তরুণের মতো ১৫ বছর বয়সে শি-কেও গ্রামে চলে যেতে হয়। শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামের একটি গুহাবাড়িতে টানা সাত বছর কাটান তিনি। এই কঠিন সময়ে কৃষিকাজ, সার বহন ও নালা খননের মতো তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে, যা তাকে বাস্তবিক জীবনবোধ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়।

২২ বছর বয়সে গ্রাম ছেড়ে বেইজিংয়ের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিংহুয়া বিশ্বিবদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশলে ভর্তি হন শি। পড়ালেখা শেষে ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হয়। মাও জেদংয়ের মৃত্যুর পর তার বাবা রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেলে বাবার পুরোনো যোগাযোগও শি-র রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গতি আনে। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৯ সালে সাবেক চীনা রাষ্ট্রদূতের মেয়ে কে লিংলিংকে বিয়ে করলেও তিন বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তিনি খ্যাতনামা সামরিক লোকসংগীত শিল্পী পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়া তাঁদের একমাত্র কন্যা শি মিংজে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়।

২০০৭ সালে সাংহাইয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব সামলানোর পর শি জিনপিং চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নেন। এরপর ২০১২ সালে হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করেছে চীন।

একই সময়ে হংকং, শিনজিয়াং ও তিব্বতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’ নামে নতুন রাজনৈতিক মতাদর্শ সংবিধানে যুক্ত করেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় তার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ভারতের নরেন্দ্র মোদীর মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করছেন কিশোর বয়সে কঠিন বাস্তবতা পার করে উঠে আসা এই লৌহমানব।

/আশিক


তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:৩৬:০৭
তিন বছর ধরে জ্বলছে গাজা: ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে শোক ও অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ইসরাইলজুড়ে নানা স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এই দিনটিতে নিহতদের স্মরণে বুধবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, তিন বছর আগের ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী সেই ঘটনার পরই গাজায় পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবুও উপত্যকাটিতে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় আরও ১,৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইসরাইল তাদের এসব পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে দাবি করে আসছে, হামলার মূল লক্ষ্য কেবল হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের পরাস্ত করা।

হামলার তিন বছর পূর্তিতে ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এবং যেসব এলাকা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছিল, সেখানে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশেষ করে কিবুতজ কাফার আজা এলাকায় নিহতদের স্মরণে নিস্তব্ধতা পালন ও বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অনেক বাসিন্দা আজও নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেননি। এছাড়া যে নোভা সংগীত উৎসবে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সেখানে জড়ো হয়ে স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান।

তিন বছর আগে শুরু হওয়া এই সহিংসতা ও যুদ্ধ গাজা এবং ইসরাইল অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় এক সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে। বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচি একদিকে যেমন ইসরাইলে নিহত ও জিম্মিদের স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে পুরো অঞ্চলের অস্থিতিশীল বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক


নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:৫২:১৬
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬: মহাকাশ স্টেশন নাকি ট্রাম্প, আলোচনায় যাদের নাম
ছবি : সংগৃহীত

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতুহল ও আলোচনা তীব্র হচ্ছে। সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় এবার অন্যতম বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) নাম। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বেশ কয়েকটি পূর্বাভাসদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষক এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জাতীয় স্বার্থের সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে বিভিন্ন দেশের যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নোবেল কমিটির পূর্বাভাসদাতা হাকন গেরলোভের মতে, আইএসএস-কে পুরস্কৃত করা হলে তা বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের জন্য একটি ব্যতিক্রমী এবং জোরালো বার্তা পাঠাবে।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। সম্ভাব্য বিশ্বনেতাদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প একাধিকবার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনীত করার দাবি করলেও, নোবেল কমিটি সাধারণত ব্যক্তিগত মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে না। বৈশ্বিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত ইস্যুতে ট্রাম্পকে ঘিরে নানান বিতর্ক বিদ্যমান থাকায় তার সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই তালিকায় অন্যতম নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরে বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত বেশ কয়েকটি সংস্থাও জোর আলোচনায় রয়েছে। সুদান, ইউক্রেন ও গাজা সংকট মোকাবিলায় বিশেষ অবদানের জন্য সুদানের জরুরি ত্রাণকর্মীদের নেটওয়ার্ক, ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মিকোলা কুলেবা এবং আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংগঠন 'সেভ দ্য চিলড্রেন'-এর নাম তালিকায় এসেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এবং দুটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক আদালতের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে যখন সামরিক উত্তেজনা ও সহিংস সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন মানবিক কাজ ও আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনকে উৎসাহিত করতে এ বছরের শান্তি পুরস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। নরওয়ের অসলোতে আগামী ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। ৯ অক্টোবরের সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়েই অবসান ঘটবে বিশ্বজুড়ে চলা সমস্ত জল্পনা-কল্পনার।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:৫৭:৪০
হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত ও প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও কঠোর, যা প্রতিপক্ষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। বিশেষ করে 'কুহ-ই কোলাং' বা 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' অঞ্চলে কোনো আক্রমণের চেষ্টা করা হলে তার সমুচিত জবাব দিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যেই শত্রুদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও স্পর্শকাতর স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চূড়ান্ত করে রেখেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ড্রোন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ ও স্থলভাগের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পার্টনার নেটওয়ার্কের আওতায় এক হাজারের বেশি সামরিক উপকরণ ও সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে, যেখানে কিছু বিশেষ প্রযুক্তির অস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি অর্জিত হয়েছে।

এ ছাড়াও মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরে তালায়ি-নিক জানান, চলমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি, চুক্তি ও পরামর্শ মূলক লেনদেন বিন্দুমাত্র কমেনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও বেশি জোরদার ও সুসংহত হয়েছে। ইসরায়েল মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (CENTCOM) সহায়তায় নতুন করে ইরানে আগ্রাসনের পরিকল্পনা করছে—এমন সংবাদ প্রকাশের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর সতর্কবার্তা ও সক্ষমতার তথ্য সামনে আনা হলো।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

পাঠকের মতামত: