পাকিস্তানের জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১০:০৭:০৯
পাকিস্তানের জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলো। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী, যা সমুদ্র ও স্থল—উভয় ক্ষেত্রেই নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ভারত–পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফল উৎক্ষেপণ উল্লেখযোগ্য ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) পাকিস্তানের প্রথম সারির দৈনিক ডন সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআরের বরাতে জানায়, অত্যাধুনিক নির্দেশনা ব্যবস্থা ও উন্নত ম্যানুভারিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে স্টেট অব দ্য আর্ট গাইডেন্স সিস্টেম, উন্নত অ্যাভিওনিক্স, অ্যান্টি-জ্যামিং ন্যাভিগেশন সিস্টেম এবং শেষ মুহূর্তে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে, যা শত্রুপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থা ভেদ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফল উৎক্ষেপণ পাকিস্তানের স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির শক্তি প্রমাণ করে এবং ভবিষ্যতের নৌকৌশলগত সক্ষমতা নিশ্চিত করার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষার সময় নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফসহ দেশীয় বিজ্ঞানী ও প্রতিরক্ষা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্র-ভিত্তিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, ভারতীয় নৌবাহিনীর বাড়তি সক্ষমতা প্রতিরোধ এবং আরব সাগরে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই নতুন ব্যালিস্টিক মিসাইল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের বড় যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী ও উচ্চমূল্যের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে এ মিসাইল এক গভীর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে।

পর্যবেক্ষকদের ধারনা, নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলে মিসাইলটি পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা রক্ষা, দূরপাল্লার সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সমুদ্রশক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

এর মাত্র দুই মাস আগে পাকিস্তান সফলভাবে পরীক্ষা করেছিল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ক্রুজ মিসাইল ফাতাহ–৪, যার পাল্লা ছিল প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। ধারাবাহিক পরীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

-রফিক


ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৪:০০:০০
ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই সহিংস রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবানন সফরকালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই দুই দেশ প্রকাশ্যেই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের প্ররোচনাতেই আন্দোলনের চরিত্র বদলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

আরাগচির মতে, শুরুতে ইরানের জনগণ অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু বিদেশি শক্তি এই স্বাভাবিক অসন্তোষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে কাজ করছে, যাতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এসব বক্তব্য সত্ত্বেও ইরানে সরাসরি বিদেশি হামলার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের কৌশলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানে চলমান এই সংকটের সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন তীব্র মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আন্দোলন দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১৩ দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়েছে, যদিও সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে বৈরুত থেকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি জানান, ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের মনোবল দৃঢ় রয়েছে। তার ভাষায়, বিদেশি হুমকি বা চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ভাঙতে পারবে না।

-রফিক


খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
০০০০ 00 ০০ ০০:০০:০০
খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে দেশটির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি সামরিক হামলার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান বর্তমানে এক বড় ধরণের সংকটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তিনি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি। ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি চলমান বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিদেশি শত্রু—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—এই বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইরানের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। খামেনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করে বলেন যে ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যারা জনসম্পদে হামলা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।

বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের কুর্দি ও বালুচ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা এখন চরমে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলুচ-অধ্যুষিত জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি গোপন রাখতে এবং আন্দোলনকারীদের সমন্বয় রুখতে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার ও জনগণের মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের প্রকৃত অভিযোগ শোনার কথা বলেছেন, কিন্তু প্রশাসনের উচ্চমহলের কঠোর মনোভাবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের বহু নাগরিক ইতিমধ্যেই পুলিশ থেকে সতর্কতামূলক বার্তা পেয়েছেন যেন তাঁরা সহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘গুলি ফর গুলি’ নীতি এবং খামেনির অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।


গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:২২:১৯
গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং প্রয়োজনে কঠোর পথেও এগোতে প্রস্তুত।

রুশ সংবাদমাধ্যম তাস–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠকে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে। জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, অর্থনৈতিক আলোচনার চেয়ে কৌশলগত বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র না এগোলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

গ্রিনল্যান্ডকে কেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে চান এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন। লিজ বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় কোনো ভূখণ্ডকে পূর্ণভাবে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, শান্তিপূর্ণ সমাধানই তার অগ্রাধিকার, তবে সে পথে অগ্রগতি না হলে বিকল্প পন্থাও বিবেচনায় থাকবে।

এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বক্তব্যে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীনতা অর্জন করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে রয়টার্স–কে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্টের হাতে সব ধরনের বিকল্প সবসময়ই থাকে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ১৯৫১ সালে ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী দ্বীপটির নিরাপত্তার বড় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

-রফিক


তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ০৯:৪৬:৩৫
তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত মাসে তেহরানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে দেশটির সকল অর্থাৎ ৩১টি প্রদেশেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই গণআন্দোলন দমনে ইরান সরকারের নেওয়া কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই গত বৃহস্পতিবার এক রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে আন্দোলনের তীব্রতা চরমে পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ধরণের সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের ওই প্রতিবেদনে তেহরানের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে।

ইরানে এই রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি খামেনি সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায় বা হত্যা করে, তবে এর জন্য দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। যদি এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে এটি স্পষ্ট যে তেহরান প্রশাসন হোয়াইট হাউসের সতর্কতাকে সরাসরি উপেক্ষা করেই রাজপথ রক্তে রাঞ্জিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এমন কঠোর অবস্থান হিতে বিপরীত হতে পারে এবং আন্দোলনকে আরও চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

টাইম ম্যাগাজিনের সাথে কথা বলা চিকিৎসক নাম গোপন রাখার শর্তে এক লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে হাসপাতালগুলো থেকে এসব মরদেহ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন।

টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তরে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর কড়াকড়ি থাকায় হতাহতের এই বিশাল সংখ্যা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে। গুলির মুখেও রাজপথ না ছাড়ার এই জেদ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সেখানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

সূত্র: টাইমস ম্যাগাজিন


বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা তেহরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৯:০৫:০৭
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষায় অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, ইরানি জনগণের রক্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত রঞ্জিত।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক কঠোর ভাষণে খামেনি দাবি করেন, তথাকথিত ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এ এক হাজারের বেশি ইরানির প্রাণহানির জন্য ট্রাম্প প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বরং সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ছিলেন।

খামেনি ট্রাম্পের আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সংঘাত চলাকালে তিনি নিজেই ‘আদেশ দেওয়ার’ কথা স্বীকার করেছেন, যা কার্যত দায় স্বীকারের সমান। খামেনির ভাষায়, ট্রাম্প একদিকে নিজেকে ইরানি জনগণের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করেন, অন্যদিকে তার নীতির ফলেই ইরানিদের প্রাণ ঝরে এই দ্বিচারিতা তিনি প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেন।

ভাষণে খামেনি দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত সহিংসতা ও ভাঙচুর নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনসম্পত্তি ধ্বংসের পেছনে কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা ওয়াশিংটনের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছে।

তার অভিযোগ, কেউ কেউ বিদেশি শক্তির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, যা ইরানি জাতির মর্যাদার পরিপন্থী। খামেনির ভাষায়, ইরানি জনগণ কখনোই ভাড়াটে মানসিকতা বা বিদেশি এজেন্ডা মেনে নেয় না এবং এ ধরনের তৎপরতা জাতি প্রত্যাখ্যান করবে।

ইরানের তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি সম্বোধন করে খামেনি জাতীয় ঐক্য ও সতর্কতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি যেকোনো বহির্শত্রুকে মোকাবিলা করতে সক্ষম। তার মতে, লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অস্থিরতা বা চাপের মুখে এই ব্যবস্থা কখনো পিছু হটবে না।

খামেনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট ও সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

ভাষণের একপর্যায়ে খামেনি ইতিহাসের বিভিন্ন উদ্ধত শাসকের পতনের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি ফেরাউন ও নমরুদের পাশাপাশি ইরানের সাবেক শাসক রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের নাম উল্লেখ করেন। তার ইঙ্গিত, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা যারা অহংকারে অন্ধ হয়ে ওঠে, শেষ পর্যন্ত তারাও পতনের মুখোমুখি হয়। খামেনির মন্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পও সেই পরিণতি থেকে ব্যতিক্রম নন।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইরান–জুড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের স্বঘোষিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে তার বৈঠক করা এই মুহূর্তে উপযুক্ত হবে না। এতে স্পষ্ট হয়, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে কাউকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে ওয়াশিংটন আপাতত অনিচ্ছুক। যদিও ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী নেতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেননি।

-রফিক


কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৪:৫০:৪৫
কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার সল্টলেক এলাকার সেক্টর ফাইভে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা আবেদনকেন্দ্র থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন ভিসা বন্ধের গুজব ছড়ালেও বাস্তবে সেখানে নিয়মিত ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সব বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। ওইদিন সকাল থেকেই সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত ভিসা আবেদনকেন্দ্রে অন্যান্য দিনের মতোই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয়।

ভিসা আবেদন করতে আসা একাধিক ভারতীয় নাগরিক জানান, তারা পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই সেগুলো গ্রহণ করেছে। আবেদনকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও জানিয়েছেন, পর্যটন ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বর্তমানে চালু রয়েছে।

এ বিষয়ে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাস–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, পর্যটন ভিসা বন্ধ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা সরকারি আদেশ এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী ভিসা আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কলকাতার কয়েকটি গণমাধ্যম মিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ না করেই পর্যটন ভিসা বন্ধের সংবাদ প্রকাশ করেছে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে। শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা আবেদনকেন্দ্রটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কারণে সাময়িকভাবে ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত থাকতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

-শরিফুল


ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৩:৩৬:৪৫
ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যদি হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তবে তার জবাবে ইরানকে গুরুতর ও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান–জুড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তার ভাষায়, “মানুষ হত্যা শুরু হলে আমরা চুপ করে থাকব না, বরং খুব শক্তভাবে আঘাত হানবো।”

সাক্ষাৎকারে হিউইট উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইতোমধ্যে বহু প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, কিছু মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে না-ও ঘটতে পারে; পদদলিত হওয়া বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতেও হতাহতের আশঙ্কা থাকে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগেও গত শুক্রবার একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যদি ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজন হলে ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হিউ হিউইটের অনুষ্ঠানে ইরানের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সমর্থনের বার্তা দিতে অনুরোধ করা হলে ট্রাম্প বলেন, স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের দৃঢ় থাকতে হবে। তিনি আন্দোলনকারীদের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রাফসান


স্বাধীনতার নামে পতন, স্বপ্নের নামে ধ্বংস: গাদ্দাফি–পরবর্তী লিবিয়া কী পেল?

মনজুর হাসান
মনজুর হাসান
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৯:৪৯:৩৬
স্বাধীনতার নামে পতন, স্বপ্নের নামে ধ্বংস: গাদ্দাফি–পরবর্তী লিবিয়া কী পেল?

১৯৬৯ সালে এক রক্তপাতহীন সামরিক বিপ্লবের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফি লিবিয়ার ক্ষমতায় আসেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এমন এক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, যাকে কেউ দেখেছে স্বৈরতন্ত্র হিসেবে, আবার কেউ দেখেছে আফ্রিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউ যখন **লিবিয়া**র ওপর আছড়ে পড়ে, তখন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার পরিণতি হয় ভয়াবহ, রক্তাক্ত এবং গভীরভাবে বেদনাদায়ক।

গাদ্দাফির আগে লিবিয়া ছিল দরিদ্র, পশ্চাৎপদ ও রাজনৈতিকভাবে নড়বড়ে একটি দেশ। ১৯৫১ সালে উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে রাজা ইদ্রিসের অধীনে দেশটি রাজতন্ত্রে রূপ নেয়। কিন্তু তেল আবিষ্কারের পরও সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অবহেলা ক্রমে জনঅসন্তোষকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রেক্ষাপটেই গাদ্দাফির উত্থান, যিনি তেল সম্পদের জাতীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আয়ের চাকা ঘুরিয়ে দেন এবং সেই অর্থ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করেন।

গাদ্দাফির শাসনামলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। বাসস্থান, জ্বালানি, খাদ্য এবং কর্মসংস্থানে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি সাধারণ নাগরিকের জীবনকে নিরাপত্তার এক ছায়ার নিচে রাখে। মরুভূমির বুকে গ্রেট ম্যান-মেড রিভার প্রকল্পের মতো উদ্যোগ লিবিয়াকে শুধু আফ্রিকার নয়, বিশ্বের বিস্ময়ের তালিকায় নিয়ে আসে। এই বাস্তব উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গাদ্দাফি হয়ে ওঠেন বিতর্কিত এক চরিত্র। আফ্রিকান ঐক্য, পশ্চিমা আধিপত্যের বিরোধিতা এবং স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থার ধারণা তাকে পশ্চিমাদের চোখে পরিণত করে “অস্বস্তিকর শাসকে”।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লিবিয়ার ভেতরেও বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে অসন্তোষ জমতে থাকে। এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কৌশলে ব্যবহার করে। ২০১১ সালে আরব বসন্ত লিবিয়ায় পৌঁছালে ছোট বিক্ষোভ দ্রুত বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। সেই মৃত্যুই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক প্রচারণার প্রধান অস্ত্র। মানবিক হস্তক্ষেপের নামে ন্যাটো সামরিক অভিযান শুরু করে, যার পরিণতিতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে।

২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সিরতে শহরে নিজ দেশের বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়ে গাদ্দাফি নিহত হন। তার পতনের মুহূর্তে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল—গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ লিবিয়া—তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং বিনামূল্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়, অবকাঠামো ভেঙে পড়ে, কর্মসংস্থান নিশ্চিহ্ন হয়। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে যাওয়ায় দেশটি উপজাতি সংঘর্ষ, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তির প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত হয়।

আজকের লিবিয়া আর সেই কল্যাণরাষ্ট্র নয়। লক্ষাধিক মানুষ নিহত বা বাস্তুচ্যুত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত অচল। অর্থনীতি বিপর্যস্ত, দারিদ্র ও নিরাপত্তাহীনতা নিত্যসঙ্গী। গাদ্দাফির আমলে যে রাষ্ট্রকে স্বৈরতন্ত্র বলা হতো, সেই রাষ্ট্রেই অন্তত সাধারণ মানুষের মৌলিক জীবনের নিশ্চয়তা ছিল। আর তথাকথিত নতুন স্বাধীনতা লিবিয়াকে দিয়েছে অনিশ্চয়তা, গৃহযুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট।

লিবিয়ার গল্প তাই শুধু একজন শাসকের উত্থান-পতনের গল্প নয়। এটি একটি রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলার মূল্য, একটি সমাজের স্বপ্নভঙ্গ এবং একটি জাতির দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস। প্রশ্ন থেকে যায়, স্বাধীনতার নামে যে পতন আসে, তা কি সব সময় মুক্তি বয়ে আনে, নাকি কখনো কখনো তা গোটা একটি জাতিকে আরও গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়।


ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৭:৩২:৫৯
ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার শাসন ক্ষমতা থেকে নিকোলাস মাদুরোর প্রস্থান এবং এর পেছনে হোয়াইট হাউসের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক এই সমীকরণে যে বিষয়টি সবথেকে কম আলোচিত হচ্ছে, তা হলো ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ। বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের একক প্রাধান্য কমে যাওয়া নিয়ে ওয়াশিংটন যে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, তার একটি বড় প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান তেল উৎপাদন দৈনিক মাত্র ১ মিলিয়ন ব্যারেলের আশেপাশে হলেও দেশটির মাটির নিচে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের এক বিশাল মজুত। এটি একক কোনো দেশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ এবং বৈশ্বিক মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অকল্পনীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেল শিল্পকে পুনর্গঠন করবে এবং এর বিনিময়ে বিশাল অংকের লভ্যাংশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে জমা হবে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকার এই রাষ্ট্রটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ৫ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ পাবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, এই তেল বিক্রির পুরো অর্থ ট্রাম্প নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর ভিত্তি করে পেট্রোডলারের সেই হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে, যা দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার প্রধান ভিত্তি ছিল।

পেট্রোডলারের উত্থান-পতন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝিতে, যখন তেলের বৈশ্বিক বাণিজ্য ডলারের মাধ্যমে করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়। এই ব্যবস্থার ফলেই বিশ্বজুড়ে ডলারের নতুন চাহিদা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত হয়। ২০০২ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে যখন তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠেছিল, তখন পেট্রোডলারের দাপট ছিল তার চূড়ান্ত পর্যায়ে। সে সময় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের উপার্জিত উদ্বৃত্ত অর্থের বড় অংশ মার্কিন ট্রেজারি মার্কেটে বিনিয়োগ করতো।

তবে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। ‘শেল’ তেলের বিপ্লব ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেই বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের মতো অনেক বড় উৎপাদক দেশ এখন তাদের বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত অর্থ মার্কিন ট্রেজারিতে রাখার পরিবর্তে নিজেদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যয় করছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এখন ডলার ছাড়াই বেচাকেনা হচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, ডলারের মান ও তেলের দামের মধ্যকার প্রথাগত বিপরীতমুখী সম্পর্ক এখন উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা পেট্রোডলারের ক্ষমতা হ্রাসের এক স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ‘শুল্ক রাজনীতি’ ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভগুলোতে বর্তমানে ডলারের পরিমাণ গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ডলারের প্রভাব বাড়াতে ‘স্টেবলকয়েন’ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারত, রাশিয়া ও চীনের মতো ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে সরাসরি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যারা ডলারের বিকল্প মুদ্রা তৈরির চেষ্টা করছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো হাং ট্রান এবং যুক্তরাজ্যের উইনচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড ওয়ার্নারের মতো বিশ্লেষকদের মতে, কারাকাসে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক তৎপরতা মূলত পেট্রোডলার ব্যবস্থাকে জোরদার করারই একটি বড় কৌশল। তবে তেলের বাজার ও মুদ্রার মান ধরে রাখতে আমেরিকার এই সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে তীব্র বিরক্তির সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ব্রিকস দেশগুলোকে ডলার বর্জনের দিকে আরও দ্রুত ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের এই ‘তেল মিশন’ পেট্রোডলারকে শক্তিশালী করবে নাকি এর পতনের গতি বাড়িয়ে দেবে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত