২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৫:১২:২০
২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে সার্বিকভাবে দরপতনই প্রাধান্য পেয়েছে। দিনশেষের চিত্রে দেখা যায়, মোট ৩৯৭টি ইস্যুর লেনদেনের মধ্যে ২২১টির দাম কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে ১১৯টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টি। অর্থাৎ বাজারের অধিকাংশ শেয়ারই নিম্নমুখী প্রবণতায় দিন শেষ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার ইঙ্গিত বহন করে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক চিত্র

এ ক্যাটাগরির ২০৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৩৩টির দর কমেছে এবং মাত্র ৪৫টি শেয়ার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ব্লু-চিপ ও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারেও বিক্রির চাপ থাকার প্রমাণ দেয়।

বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি ইস্যুর মধ্যে ৫০টির দরপতন হয়েছে, যেখানে বেড়েছে ২১টি।

জেড ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভারসাম্য দেখা গেলেও ১০৮টি ইস্যুর মধ্যে ৩৮টির দর কমেছে এবং ৫৩টি বেড়েছে।

এন ক্যাটাগরিতে কোনো লেনদেন হয়নি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৩টির মধ্যে ৯টির দর কমেছে, ৭টি বেড়েছে এবং ১৭টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডে ৪টির মধ্যে ১টি বেড়েছে, ১টি কমেছে এবং ২টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকারি সিকিউরিটিজে (জি-সেক) ৭টির সবকটিতেই দরপতন হয়েছে, যা স্থির আয়ের খাতেও চাপের প্রতিফলন।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনভর মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি। মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩১টি ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ২৮ কোটি ৫৩ লাখ শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার বেশি এবং ঋণ সিকিউরিটিজে প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।

ব্লক মার্কেটে সক্রিয়তা

ব্লক ট্রেডে ২৬টি সিকিউরিটিজে মোট ৯৩টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২৯৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, গ্রামীণফোন, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ফাইন ফুডস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, গিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে।

বিশেষ করে গ্রামীণফোন ও ফাইন ফুডসে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণ পদ্ধতি

ডিএসইতে ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারিত হয় শেষ ৩০ মিনিটের সকল লেনদেনের ওজনিত গড় দামের ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট সময়ে লেনদেন না হলে পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ২০টি লেনদেনের ওজনিত গড় মূল্যকে সমাপনী দাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত শেষ লেনদেন মূল্য (এলটিপি) এবং সমাপনী মূল্য (সিপি) কখনো ভিন্ন হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য থাকায় বাজারে তারল্য পুরোপুরি সংকুচিত হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রিটার্ন পেতে বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


২৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৫:০৮:০৬
২৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

Dhaka Stock Exchange-এ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেন চলাকালে বাজারে বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ করা গেছে। দুপুর ২টা ০৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য (ওয়াইসিপি) তুলনায় শীর্ষ ১০টি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে।

সর্বোচ্চ পতনের তালিকায় রয়েছে এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান (এলআরজিএলওবিএমএফ১)। শেয়ারটির দর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৩ টাকায় নেমেছে, যেখানে আগের দিন সমাপনী মূল্য ছিল ৩ দশমিক ২০ টাকা। একইভাবে পিএইচপি মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান (পিএইচপিএমএফ১) ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৭০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

শিল্প ও উৎপাদন খাতে তালিকাভুক্ত মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৩১ দশমিক ৩০ টাকায় নেমেছে, যার আগের সমাপনী মূল্য ছিল ৩৩ টাকা। টেক্সটাইল খাতের মনো ফ্যাব্রিকস ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ৮০ টাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি জাহীন স্পিনিং ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ২০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এতে উৎপাদন ও টেক্সটাইল খাতে চাপের চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। জিবিবি পাওয়ার ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং সাইফ পাওয়ারটেক ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ দর হারিয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ১৭ দশমিক ৫০ টাকায় নেমেছে।

উচ্চমূল্যের শেয়ার কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ)-এর দরও ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে। আগের দিনের ৪৮৮ দশমিক ৮০ টাকা থেকে কমে এটি ৪৬৮ দশমিক ৪০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এছাড়া কেওয়াইপি প্যাকেজিং লিমিটেড (কেপিপিএল) ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ১৫ দশমিক ১০ টাকায় অবস্থান করছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়া এবং তারল্য পুনর্বিন্যাসের কারণে এই দরপতন হতে পারে। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক, সুদের হার পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলভিত্তি, আয়ের প্রবণতা এবং খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনাই স্থিতিশীল রিটার্ন নিশ্চিত করতে পারে।

-রাফসান


২৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৫:০৪:৩৯
২৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) তুলনায় শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকায় প্রযুক্তি, শিল্প, লেদার, আইটি এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ার স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইনটেক, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৩৩ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছেছে। আগের দিন এর সমাপনী দর ছিল ৩০ টাকা ২০ পয়সা। দিনভর শেয়ারটি ৩০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়েছে, যা শক্তিশালী ক্রেতা আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সোনারগাঁও টেক্সটাইলস ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ টাকা ৬০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে। একইভাবে নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে ২৩ টাকায় উঠে এসেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ইবিএল ফার্স্ট এমএফ, ডিবিএইচ ফার্স্ট এমএফ, এবং এক্সিম ফার্স্ট এমএফ যথাক্রমে ৫ থেকে ৩ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগে নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত মিলছে।

উৎপাদন ও ভোক্তা খাতে সমতা লেদার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিকিউ বলপেন ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে জিকিউ বলপেন ৫১৫ টাকার উচ্চ দামে লেনদেন করে দিন শেষ করেছে, যা তুলনামূলক উচ্চ অস্থিরতার প্রতিফলন।

এছাড়া বিডিকম অনলাইন, এফবিএফআইএফ এবং অন্যান্য নির্বাচিত শেয়ারও ৩ থেকে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক লেনদেনে মাঝারি ও স্বল্পমূল্যের শেয়ারে ক্রেতা সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি ও লেদার খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নতুন করে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ধারাবাহিক দরবৃদ্ধি বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বল্পমেয়াদি উত্থান দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, আয়-লাভের ধারাবাহিকতা এবং খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

-রাফসান


২৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৫:২০:৪৪
২৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি-তে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দিনশেষে মোট ৩৯০টি ইস্যুতে লেনদেন হয়, যার মধ্যে ৩৪৭টির দর বেড়েছে, মাত্র ২১টির দর কমেছে এবং ২২টি অপরিবর্তিত ছিল। বাজারে স্পষ্টভাবে ক্রেতা প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।

এ ক্যাটাগরিতে ২০৩টি শেয়ারের মধ্যে ১৮০টি বেড়েছে, ১৫টি কমেছে এবং ৮টি অপরিবর্তিত ছিল। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টির মধ্যে ৭৪টি ঊর্ধ্বমুখী এবং মাত্র ৩টি পতন হয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতেও ১০৭টি লেনদেনযোগ্য শেয়ারের মধ্যে ৯৩টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। করপোরেট বন্ডে একটি ইস্যু লেনদেন হয়েছে এবং সেখানে দরপতন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে তিনটি লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে একটি বৃদ্ধি এবং দুটি পতন হয়েছে।

দিনভর মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ২০৫টি ট্রেড সম্পন্ন হয়। প্রায় ২৪ কোটি ২০ লাখ শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকার বেশি। বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ব্লক মার্কেটে এদিন ৩৪টি কোম্পানির ৫৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। মোট প্রায় ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৮২ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়।

সবচেয়ে বড় ব্লক ট্রেড হয়েছে অলিম্পিক শেয়ারে, যেখানে এককভাবে ৭২০ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফাইন ফুডস, বিডি থাই ফুড, এমএল ডাইং, সাপোর্টল, সোনারগাঁও, ইউপিজিডিসিএলসহ একাধিক শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের সীমিত সংশোধনের পর প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ব্যাংক, বীমা, উৎপাদন ও খাদ্য খাতে ক্রেতা আগ্রহ বৃদ্ধি সামগ্রিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক অগ্রসর শেয়ারের সংখ্যা বাজারে আস্থার প্রতিফলন। তবে বড় ব্লক লেনদেনের প্রভাব এবং স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয়-লাভের প্রবণতা ও খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

-রাফসান


২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৫:১০:২৩
২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষভাগে কিছু নির্বাচিত শেয়ারে দরপতন দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) তুলনায় শীর্ষ ১০ লুজারের তালিকায় শিল্প, ব্যাংক, বিদ্যুৎ, মিউচুয়াল ফান্ড ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে মেঘনা সিমেন্ট, যার শেয়ারদর ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৩৩ টাকায় নেমে এসেছে। আগের দিন শেয়ারটির সমাপনী দর ছিল ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা। দিনভর শেয়ারটি ৩২ টাকা থেকে ৩৫ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়েছে, যা তুলনামূলক উচ্চ অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইসিবি ইপিএমএফ১এস১ ২ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় বন্ধ হয়। তৃতীয় অবস্থানে জিয়াল বাংলা সুগার প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ পতন নিয়ে ১৩৫ টাকা ৭০ পয়সায় অবস্থান করে।

ব্যাংক খাতেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একইভাবে আইসিবি আগ্রাণী ওয়ান ফান্ড ১ দশমিক ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

সাপোর্টল-এও সামান্য মূল্যসংশোধন হয়েছে, দর কমেছে ১ শতাংশের কিছু বেশি। এছাড়া ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড, ক্যাপএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, কেপিসিএল এবং বাটা শু কোম্পানি সীমিত পরিসরে দর হারিয়েছে।

বিশেষ করে বাটা শু-এর মতো উচ্চমূল্যের শেয়ারে ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ পতন বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের কয়েক দিনের আংশিক দরবৃদ্ধির পর কিছু শেয়ারে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন হয়েছে। সিমেন্ট ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ-চাহিদা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক বাজারের মিশ্র মনোভাবের প্রভাব এদিনের লেনদেনে প্রতিফলিত হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও হালকা বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিন্যাস কৌশলের অংশ হতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ লুজার শেয়ারের পতনের হার সীমিত থাকায় বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত সংশোধনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

-রাফসান


২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৫:০৫:৫৪
২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষভাগে নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দরের (YCP) তুলনায় শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকায় শিল্প, খাদ্য, বীমা এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ার স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইপিজিএল, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। দিনভর শেয়ারটি ১৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা পিএইচপি এমএফ১ ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ২ টাকা ৮০ পয়সায় বন্ধ হয়। তৃতীয় অবস্থানে বিডি থাই ফুড ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ওয়ান জানাতা এমএফ, এবিবি ফার্স্ট এমএফ এবং ইফিক ফার্স্ট এমএফ যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে আগের দিনের বড় পতনের পর এশিয়াটিক ল্যাব ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৬১ টাকায় উঠে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যান্য গেইনারের মধ্যে রয়েছে লার্গো গ্লোবাল এমএফ১, এমএল ডাইং এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, যারা যথাক্রমে ৬ থেকে প্রায় ৫.৭ শতাংশ পর্যন্ত দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে এদিনের দরবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি আগের দিনের মূল্যসংশোধনের পর কিছু শেয়ারে পুনরুদ্ধার প্রবণতাও দেখা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি উল্লম্ফন দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, আয়-লাভের প্রবণতা এবং খাতভিত্তিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

-রাফসান


২২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:১৬:০৪
২২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি-তে (ডিএসই) লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে মোট ৩৮৮টি ইস্যুতে লেনদেন সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৯৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭১টি। পতনশীল শেয়ারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামগ্রিক বাজারে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

এ ক্যাটাগরিতে ২০০টি শেয়ার লেনদেনের মধ্যে ৯৯টি কমেছে, ৬১টি বেড়েছে এবং ৪০টি অপরিবর্তিত ছিল। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪৩টি কমেছে, ২৬টি বেড়েছে এবং ১১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতে ১০৮টি লেনদেনযোগ্য শেয়ারের মধ্যে ৫২টি পতন হয়েছে এবং ৩৬টি বেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে ৭টি বেড়েছে, ৭টি কমেছে এবং ২০টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডে একটি ইস্যু লেনদেন হয়েছে, যেখানে দরপতন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে এদিন কোনো লেনদেন হয়নি।

দিনভর মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২টি ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ২১ কোটি ৯৫ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৫ টাকা। বাজার মূলধন (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকায়, যার মধ্যে ইকুইটি খাতের অংশ ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকার বেশি।

ব্লক মার্কেটে এদিন ২৫টি কোম্পানির মোট ৫৪টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। মোট ৪১ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে প্রায় ১৬৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার লেনদেন হয়। উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড হয়েছে সাপোর্টল, ফাইন ফুডস, এমএল ডাইং, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং জিপি শেয়ারে।

এর মধ্যে সাপোর্টলে এককভাবে প্রায় ৯০ কোটি টাকার বেশি ব্লক লেনদেন হয়েছে, যা দিনের মোট ব্লক ট্রেডের বড় অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর কিছু শেয়ারে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন হয়েছে। ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স খাতে বিক্রির চাপ এবং নির্বাচিত শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

তবে ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিতে বিনিয়োগই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

-রাফসান


২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:১১:০৭
২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) বিবেচনায় শীর্ষ ১০ লুজারের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাব, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৫৭ টাকায় নেমে আসে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ৬৩ টাকা। দিনভর শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৬৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৫৬ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ কমে ৩ টাকায় লেনদেন শেষ করে। তৃতীয় স্থানে থাকা ফারকেম ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৩ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে।

এ ছাড়া এনবিএল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ৫ টাকায়, ফ্যামিলি টেক্স ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ টাকা ৭০ পয়সায় এবং ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ৩ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

টেক্সটাইল ও শিল্প খাতেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আল-হাজ টেক্সটাইল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ১৩০ টাকা ২০ পয়সায় এবং শ্যামপুর সুগার মিলস ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ১৫৭ টাকা ৩০ পয়সায় অবস্থান নেয়।

এছাড়া আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৩০ পয়সায় এবং তুংহাই ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়া, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির চাপ এবং নির্বাচিত কোম্পানির শেয়ারে মূল্যসংশোধনের কারণে এই দরপতন হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের উত্থানের পর কিছু শেয়ারে স্বাভাবিক মূল্যসমন্বয় ঘটেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মৌলভিত্তি, আর্থিক প্রতিবেদন এবং খাতভিত্তিক প্রবণতা বিশ্লেষণ ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

-রাফসান


২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:০১:৫৭
২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষ পর্যায়ে নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দরের তুলনায় শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকায় বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও মিউচুয়াল ফান্ড স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে সোনারগাঁও, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৭ টাকা ৭০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৫ টাকা ৭০ পয়সায় বন্ধ হয়। তৃতীয় স্থানে থাকা কেবিপিপিডব্লিউবিআইএল ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ টাকা ১০ পয়সায় অবস্থান নেয়।

এ ছাড়া আইবিপি ৫ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১৪ টাকা ১০ পয়সায় এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

ব্যাংক খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। এবি ব্যাংক ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৬০ পয়সায় এবং ব্র্যাক ব্যাংক ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায় দিন শেষ করে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ৪ শতাংশ, পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং সাপোর্টল ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ দরবৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২ টাকা ৬০ পয়সা, ২ টাকা ৭০ পয়সা ও ৪৬ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ার ও ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে এই দরবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বাজার স্থিতিশীলতার ফলে আস্থা কিছুটা ফিরে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক উল্লম্ফন দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, মৌলভিত্তি ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

-রাফসান


শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৬:১৫:২৮
শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর ১৯ ফেব্রুয়ারি সমাপ্ত সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৫.৯৯ পয়েন্ট বা ১.২২ শতাংশ বেড়ে ৫,৪৬৫.৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক ১.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,০৯৭.৮৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক সামান্য ০.১৭ শতাংশ কমেছে এবং এসএমই সূচক ২.০৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা খাতভিত্তিক মিশ্র প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

এই সপ্তাহে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২,৫০২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গড় দৈনিক লেনদেন বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০,৫০০ কোটি টাকা, যা ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডলারে হিসাবে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪২৯ মিলিয়ন ডলার। লেনদেনের পরিমাণ ও হাউলা সংখ্যাও দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

বাজার মূলধন সামান্য ০.১৫ শতাংশ বেড়ে ৭১ লাখ কোটি টাকার উপরে অবস্থান করছে। সপ্তাহজুড়ে ২০৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি। বাজারের অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন অনুপাত ১.৩৩ হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাত শীর্ষে রয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২০ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব নিয়েছে। ফার্মা ও কেমিক্যাল খাত দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে প্রায় ১৬ শতাংশ লেনদেন করেছে। এছাড়া টেক্সটাইল, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার খাতেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার এবং আইটি খাতে লেনদেনের প্রবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো।

সাপ্তাহিক টার্নওভারে শীর্ষে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যার লেনদেন মূল্য ৪১৬ কোটি টাকার বেশি। এরপর রয়েছে সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। ব্লক মার্কেটে গ্রামীণফোন ও অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

সাপ্তাহিক টপ গেইনার তালিকায় বেশ কয়েকটি জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি স্থান পেয়েছে, যেখানে এনবিএল ও বিআইএফসি উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে। বিপরীতে, বন্ড ও কিছু ব্যাংকিং শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারের সামগ্রিক পিই রেশিও ৯.৯৪, যা তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় মূল্যায়ন নির্দেশ করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং সূচকের ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত বহন করছে। তবে এসএমই ও শরিয়াহ সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা বাজারে খাতভিত্তিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি সামনে এনেছে। সামনের সপ্তাহগুলোতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রবাহ বজায় থাকলে বাজারে এই ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: