ই–১ প্রকল্প ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ‘শেষ কফিন’

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে আজ যে সহিংস বাস্তুচ্যুতি চলছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু সামরিক অভিযান নয় বরং সুদীর্ঘ সময় ধরে চালানো একটি পরিকল্পিত ও কাঠামোগত দখলনীতির সর্বশেষ রূপ। গাজায় অব্যাহত গণহত্যা, অবরোধ ও নির্বিচার বোমাবর্ষণের সমান্তরালে পশ্চিম তীরও ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে অবরুদ্ধ ও ধ্বংসস্তূপে ভরা আরেকটি ফ্রন্টে। আন্তর্জাতিক পরিসরে লজ্জাজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব পশ্চিম তীরের জনসংখ্যাগত মানচিত্র পাল্টে ফেলতে চায় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালের পুরোটা জুড়ে জেনিন, নুর শামস ও তুলকারেম শরণার্থী ক্যাম্পে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কঠোর অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞে ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে ঘরবাড়ি হারাতে হয়েছে যা ১৯৬৭ সালের পর এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ।
আন্দোলনের ভাষায়, এটি “সাধারণ সামরিক অভিযান” নয়; বরং একটি ক্যাম্পকে পুরোপুরি কার্যক্ষমতা হারানোর মতো করে ধ্বংস করে ফেলা রাস্তা কেটে দেওয়া, ঘর ধ্বংস, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করা এবং চলাচলের শেষ অবশিষ্ট পথও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া। ইসরায়েল দাবি করছে, এটি “নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা” এবং “অপারেশন আয়রন ওয়াল”–এর অংশ, যার লক্ষ্য ক্যাম্প থেকে প্রতিরোধমুখী ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করা।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বহু মাস পেরিয়ে গেলেও অধিবাসীদের ফিরতে দেওয়া হয়নি। বরং পুরো ক্যাম্পকে পরিণত করা হয়েছে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নিষিদ্ধ অঞ্চলে।
গাজায় গণহত্যা চলার পর থেকে পশ্চিম তীরজুড়েও ইসরায়েলি সহিংসতা তীব্রভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ১,০০০–রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, যা পশ্চিম তীরের জন্য নতুন বাস্তবতা। প্রতিদিনই রাতের অভিযান, আটক, গুলি, বুলডোজার দিয়ে রাস্তা-কাটা, ঘর ভাঙা ও অবরোধ চালানো হচ্ছে।
বিটসেলেম–এর নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেছেন, “পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা হচ্ছে আয়তন ছোট কিন্তু উদ্দেশ্যে গাজার মতোই ধ্বংসাত্মক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ইসরায়েলের সহিংসতাকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।”
পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় অংশ এরিয়া সি, যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রশাসনিক ক্ষমতা একেবারেই নেই। এখানে ইসরায়েল যেকোনো ঘরবাড়ি ভেঙে দিতে পারে, এবং সেটিই ঘটছে ব্যাপকভাবে। জাতিসংঘ (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই এরিয়া সি–তে ঘরবাড়ি ভেঙে ১,০০০–র বেশি মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমেও আরও ৫০০ মানুষ ঘরহারা।
ইসরায়েল বলছে, “পারমিট ছিল না” কিন্তু জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য পারমিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব, এবং সেটাই ইসরায়েলের একটি কৌশল: পারমিট না দিয়ে পরে ঘর ভাঙার অজুহাত তৈরি করা।
চরম ডানপন্থী ইসরায়েলি নেতৃত্ব, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ প্রকাশ্যেই বলেছেন:
- “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন হলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ঠেকানো।”
- “জুদিয়া–সামারিয়া (পশ্চিম তীর) ইসরায়েলের অংশ এটি আগে স্থলভাগে, পরে আইনে প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
- “সব অবৈধ বসতিকে বৈধ ঘোষণা করা হবে।”
ইসরায়েলি সংসদ ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক বিল পাস করেছে, যা পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের আইনগত এখতিয়ারে আনার পথ খুলতে পারে যা আন্তর্জাতিক আইনের ঘোর লঙ্ঘন।
আগস্টে স্মোত্রিচ ঘোষণা করেন নতুন ই–১ বসতি ৩,000 ঘর তৈরি হবে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যবর্তী জায়গায়। এই অঞ্চল আলাদা হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই ভৌগোলিকভাবে যুক্ত একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে “সমাধিস্বরূপ প্রকল্প” বলে অভিহিত করছে।
বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী রয়েছে। এদের অনেকেই আবার সরকারের উচ্চপদে কাজ করছেন, ফলে বসতিদের সহিংসতা আরও প্রতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
জাতিসংঘের ওসিএইচএ বলছে, ২০২৩–২৪ সালে বসতি উগ্রপন্থীদের সহিংসতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে গড়ে প্রতিদিন ৮টি হামলা। এর মধ্যে রয়েছে:
- জলপাই গাছ কেটে ফেলা
- কৃষিজমি দখল
- ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি
- ঘরবাড়িতে আগুন
- পশুপাল হত্যা
- রাস্তায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা
জলপাই মৌসুমে এসব হামলা বহুগুণে বেড়েছে। প্যালেস্টাইনি ফার্মার্স ইউনিয়ন বলছে, “এটি গ্রামীণ ফিলিস্তিনি সভ্যতাকে ধ্বংসের কৌশল।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিটসেলেমসহ বহু মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও জাতিগত নির্মূল হিসেবে চিহ্নিত করলেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ রাজনীতিকভাবেই অনুপস্থিত।
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পদক্ষেপ নিতে ইরানকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেছেন দেশটির আইনি প্রতিনিধিদলের প্রধান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একাদশ ব্রিকস আইনি ফোরামের ফাঁকে ইরানের জুডিসিয়ারি বার অ্যাসোসিয়েশন সেন্টারের প্রধান হাসান আবদোলিয়ানপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনি প্রতিনিধিদলের প্রধান ম্যাকিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আইনি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে আবদোলিয়ানপুর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি নেতাদের বিচারের আওতায় আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের আইনি সহযোগিতা শুধু আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; বরং এটিকে বাস্তব ও ধারাবাহিক পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদলের প্রধান ইরানি জনগণের প্রতি তার সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ম্যাকিনি। বিশেষ করে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
ম্যাকিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তেহরানের সঙ্গে কাজ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়।
সূত্র : আইআরএনএ
উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নতুন আবিষ্কৃত এই গ্যাসক্ষেত্রে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস মজুত রয়েছে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, খনিটিতে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরাসরি উত্তোলনযোগ্য। এই উত্তোলনের পরিমাণ ইরানের বিখ্যাত ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ফিল্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ফেইজ থেকে টানা ১৫ বছর প্রাপ্ত গ্যাসের সমপরিমাণ।
তেলমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এটি ‘সুইট গ্যাস’ বা কম সালফারযুক্ত গ্যাস হওয়ায় এর প্রক্রিয়াকরণ ও উত্তোলন তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া গ্যাসের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মূল্যবান গ্যাস কনডেনসেটের উপস্থিতিও রয়েছে, যা রফতানি করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।
এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নীতিমালা ও শর্তাবলি নিয়ে দ্বিমতের কারণে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে।
/আশিক
তেলের দামে পতন
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী নতুন ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (২৪ আগস্ট) এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দামই ১ শতাংশের বেশি কমে যায়। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া—দুই কারণই এ পতনে ভূমিকা রেখেছে।
রয়টার্সের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে ৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ২০ ডলার কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৮৬ ডলারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে দর পরিবর্তিত হওয়ায় প্রাথমিক এশীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ৯৩ দশমিক ৪৫ এবং ডব্লিউটিআই ৮৬ দশমিক ১৪ ডলারের আশপাশেও লেনদেন হয়েছে।
তেলের এই দরপতন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, সোমবার থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা নজিরবিহীন আর্থিক চাপের অভিযান শুরু হবে। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা শুধু ইরানের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা। নতুন ব্যবস্থাগুলোর বিস্তারিত জানাতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতা কতটা বিস্তৃত হবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্রেতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেদিকে নজর রাখছেন জ্বালানি বাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।
তবে বাজারের জন্য পরিস্থিতি একমুখী নয়। সাধারণভাবে ইরানের তেল রপ্তানি আরও সীমিত করার মতো নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিপরীতে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সোমবার তেলের দামে তাৎক্ষণিক নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছিল।
বাজারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা এখনো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতি বাস্তবে তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং অপরিশোধিত তেলের দামে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
-রফিক
তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
একটি পুরোনো ভিডিওতে মায়ের পাশে বসে হাসিমুখে চা পান করছেন ছেলে। অন্য একটি পারিবারিক মুহূর্তে মায়ের পা ধুয়ে তার আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় তাকে। মা-ছেলের গভীর সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করা সেই ভিডিওগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে এক মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি হয়ে। কারণ ভিডিওর মা সঙ্গীতা চন্দগুড়ে ও ছেলে কুনাল চন্দগুড়ে কেউই আর বেঁচে নেই। একই সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন কুনালের বাবা মুরলীধর চন্দগুড়েও। ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড়ি খাদে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাটি দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী কুনাল ছিলেন মুরলীধর ও সঙ্গীতা দম্পতির একমাত্র সন্তান। মুরলীধর পেশায় গাড়িচালক ছিলেন এবং তার আয়েই মূলত সংসার চলত। পরিবারটি প্রায় চার মাস আগে ঝালতা গ্রামের একদন্ত নগর এলাকায় বসবাস শুরু করেছিল। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মা, একমাত্র সন্তান এবং তাদের পোষা কুকুরকে নিয়েই ছিল ছোট সংসার।
ঘটনার সূত্রপাত একটি আইফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ থেকে এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুনাল কিস্তিতে একটি আইফোন ১৫ কিনেছিলেন। সেই কিস্তির অর্থ নিয়ে শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে তার তর্ক হয়। তবে একজন তরুণের এমন সংকটময় সিদ্ধান্তকে শুধু একটি ফোন না পাওয়ার ঘটনা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়; এর পেছনে অন্য মানসিক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত চাপ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তর্কের পর সকাল প্রায় ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কুনাল। পরে তিনি ওয়ালুজ এমআইডিসি থানা এলাকার তিসগাঁওয়ের একটি পাহাড়ের বিপজ্জনক প্রান্তে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে বাবা-মা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।
পরবর্তী প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে বোঝানো হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে মা সঙ্গীতাকে ছেলের কয়েক ফুট দূরে বসে কাঁদতে এবং তাকে প্রান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ছেলের সামনে নত হয়ে মিনতি করেন। আবার ধীরে ধীরে এগিয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কুনাল আরও প্রান্তের দিকে এগিয়ে গেলে আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে আসেন তিনি।
প্রকাশিত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, উপস্থিত লোকজনও তরুণটিকে শান্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার দাবি পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। মা-বাবা তাকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
ঘটনাস্থলে কুনালের কিছু বক্তব্যও ধারণ করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই বক্তব্যে তিনি নিজের কথা কেউ শুনছেন না এবং জীবনের সমস্যার কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছেন না—এমন হতাশার কথা বলেছিলেন। এই বক্তব্য ঘটনাটিকে কেবল একটি দামি ফোন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।
উদ্ধারকারীরাও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ঠেকাতে পাহাড়ের নিচে নিরাপত্তাজাল স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কুনাল একই জায়গায় স্থির না থেকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় উদ্ধারকারী দলকেও জালের অবস্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছিল। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রায় তিন ঘণ্টার টানটান পরিস্থিতির পর দুপুর ১টার দিকে ছেলেকে বাঁচাতে নিজেই তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বাবা মুরলীধর। তিনি কুনালকে বিপজ্জনক প্রান্ত থেকে ধরে নিরাপদ দিকে টেনে আনার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে বাবা ও ছেলে দুজনই প্রায় ২৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
চোখের সামনে স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে পড়ে যেতে দেখে সঙ্গীতাও চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যেই তিনিও পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যান। উদ্ধারকারীরা পরে তিনজনকেই উদ্ধার করলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একটি পারিবারিক বিরোধ দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সংকট এভাবেই একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শেষ হয়।
ঘটনার পর কুনাল ও তার মায়ের পুরোনো ভিডিওগুলো নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দুজনকে পাশাপাশি বসে হাসতে হাসতে চা পান করতে দেখা যায়। আরেকটিতে মায়ের পা ধুয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় কুনালকে। এসব দৃশ্যের সঙ্গে ঘটনার শেষ কয়েক ঘণ্টার ভিডিওর তীব্র বৈপরীত্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে।
ট্র্যাজেডির আরেকটি বেদনাদায়ক দিক সামনে এনেছেন প্রতিবেশীরা। পরিবারটির সঙ্গে থাকা পোষা কুকুরটি এখন একা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরও প্রাণীটি বাড়িতেই অপেক্ষা করছে এবং বারবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছে। যে মানুষগুলোর সঙ্গে তার প্রতিদিনের জীবন কাটত, তারা আর ফিরবেন না সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই তার।
ঘটনাটি একই সঙ্গে সংকটাপন্ন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে আচরণ এবং জরুরি মানসিক সহায়তার গুরুত্বও সামনে এনেছে। আত্মহত্যার সংকেতকে ‘জেদ’, ‘অভিমান’ বা কোনো একটি বস্তুগত চাহিদার ফল হিসেবে সরলীকরণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি উদ্ধার সহায়তার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কেউ যদি বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারানোর কথা বলেন, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।
-রাফসান
‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত শিগগিরই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। এবার ওয়াশিংটন শুধু নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে মিত্র দেশগুলোকেও পরবর্তী পর্যায়ের কর্মকৌশলে যুক্ত করতে চায়। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সহায়তায় এগিয়ে এলে ইরান-সংঘাতের একটি চূড়ান্ত পরিণতি টানার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘাতের ‘নতুন ধাপ’ শুরু হতে পারে এবং সেই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সক্রিয় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন ধাপ বলতে সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান, আরও কঠোর অবরোধ নাকি বহুজাতিক কোনো উদ্যোগ বোঝানো হচ্ছে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। ফলে তার বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ইরানের নেতৃত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য পেয়েছে। তিনি ‘সাপের মাথা’ কেটে ফেলার রূপক ব্যবহার করে বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই লক্ষ্য অর্জন করেছেন বলে তিনি মনে করেন। তবে এটি জনসনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন; ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলাদা আন্তর্জাতিক যাচাই প্রয়োজন।
কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন জনসন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে তেহরানের ওপর আস্থা রাখা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।
কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সমুদ্রপথে ইরানের ওপর চাপ আরও দৃশ্যমান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। একই অভিযানের আওতায় তিনটি জাহাজ অচল করা এবং দুটি জাহাজে আরোহণ করে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এই সংখ্যা মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। এর আগে অবরোধের আওতায় ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের তথ্য সামনে এসেছিল। অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলে সমুদ্রপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইউএসএস জন ফিনের মতো গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের এই অভিযানে অংশ নেওয়ার তথ্যও এসেছে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা সরু এই জলপথ আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত, অবরোধ কিংবা জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ১৮ আগস্ট তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ হিসেবে দেখানো হয়। পরে ২১ আগস্ট সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তিনি প্রণালিটিকে ‘আমেরিকান টেরিটরি’ হিসেবে দেখার কথাও বলেন। তবে এসব বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মানচিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তিত হয় না।
ইরান ট্রাম্পের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের দাবিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন। ফলে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রশ্নটি এখন শুধু সামরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধে পরিণত হয়েছে।
-রফিক
হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই।
তিনি বলেছেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে যুক্ত হলে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেওয়া হবে না। এমন পরিস্থিতিতে ইরান তার যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
তবে শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, গত ছয় মাস ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মোহসেন রেজাই।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার পরও যদি হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে সেই দেশ প্রশ্ন তুলতে পারে—‘আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?’
রেজাইয়ের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কিছু দেশ মনে করতে শুরু করেছে যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনই হয়তো আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরির পথ।
তিনি বলেন, ইরান যখন পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনও দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, এর ফলে বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে এনপিটি বা আইএইএর সদস্যপদ কোনো দেশকে কার্যকর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাঁর মতে, এ কারণেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি নিয়েও আবারও সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে অংশ নিলে এর জবাবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
/আশিক
বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট: বিপাকে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প
যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কাটছাঁটের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বাংলাদেশে পরিচালিত একটি বড় জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প নির্ধারিত মেয়াদের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবন উপকূলের প্রায় ২০ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ সরাসরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।
ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০২৩ সাল থেকে সুন্দরবন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আসছিল, যার মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, লবণাক্ততা-সহনশীল কৃষি, আধুনিক মাছ চাষ প্রযুক্তি এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের মতো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য ২২ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত অর্থ ছাড় করা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, লক্ষ্যমাত্রা ছিল মোট ৫৭ হাজার মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা, কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে মাত্র ৩৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরি ও স্থানীয় সরকারের কাছে প্রকল্প হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) অনুদানভিত্তিক সাহায্য কমিয়ে সরকার-টু-সরকার সরাসরি অংশীদারত্ব ও বেসরকারি অর্থায়নের দিকে ঝুঁকছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সহায়তার পরিমাণ ৬ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড থেকে কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে সুন্দরবন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে (বছরে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার) বাড়ছে। আইলা-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য ও চরম লবণাক্ততার মধ্যে হঠাৎ এই তহবিল বাতিলের ফলে উপকূলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার লড়াই এবং নতুন গড়ে ওঠা ১৪০ জন স্থানীয় উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা ও অস্ত্র অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।
তার দাবি, মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক পারমাণবিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আক্রমণ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনের বরাতে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য প্রচার করে। মোহসেন রেজাই আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য থাকা কিংবা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলার মতো পদক্ষেপগুলোও কোনো সার্বভৌম দেশকে মার্কিন আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে তারা।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে রেজাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানকে তাদের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি ও বৈদেশিক কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তেহরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ধরন ও কূটনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি ওশেন উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জাহাজটিতে থাকা বাকি ২২ নাবিকের এখনো সন্ধান মেলেনি। তাদের খুঁজে বের করতে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে বড় পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে যায়। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওশেন উইনারে মোট ২৪ জন নাবিক ও ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির জাতীয়তা বা পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জাহাজটি ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লোহার আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন আয়রন ওর ফাইনস ছিল এবং ২০ আগস্ট রাতে পারাদ্বীপ ছেড়েছিল জাহাজটি। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২৭ আগস্ট।
শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে শ্রী বিজয়পুরমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা এমআরসিসি ‘ওশেন উইনার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সহায়তা চাওয়া হয়। এরপরই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে আশপাশে থাকা জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’-কে গতিপথ পরিবর্তন করে নিখোঁজ জাহাজ ও সম্ভাব্য লাইফ র্যাফট খুঁজতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পৃথক দুটি লাইফ র্যাফট থেকে দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে জাহাজটি। এরপরও বাকি ২২ জনের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘আইসিজিএস ভারাদ’ ও ‘আইসিজিএস আনমল’ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রী বিজয়পুরম থেকে ‘আইসিজিএস বিজিত’কে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীও অভিযানে যুক্ত রয়েছে এবং ওই সমুদ্রপথে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি থাকায় ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ উদ্বেগের। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দুই নাবিকের মধ্যে বাংলাদেশি ক্রু সদস্য রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পৃথক পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশি নাবিকটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ওশেন উইনারের আইএমও নম্বর ৯১৪৫৫৩০। পানামার পতাকাবাহী পানাম্যাক্স শ্রেণির এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি ১৯৯৮ সালে নির্মিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৫ মিটার, প্রস্থ প্রায় ৩২ মিটার এবং ডেডওয়েট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭২ হাজার ৯২৮ টন। অর্থাৎ এটি মূলত বিপুল পরিমাণ শুকনা বাল্ক পণ্য যেমন লৌহ আকরিক পরিবহনের উপযোগী একটি বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ।
জাহাজটি কেন ডুবে গেল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া, কার্গো-সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না এ পর্যায়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সামুদ্রিক তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
- উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
- নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস
- থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা
- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
- দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
- দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?
- চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়
- মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
- পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ
- সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি
- দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
- প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
- উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
- কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
- স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প
- গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন
- সোনা-রুপার আজকের দাম, দেখে নিন একনজরে
- তেলের দামে পতন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
- ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ, আজও একই প্রশ্ন নারীর নিরাপত্তায়
- দুপুরের মধ্যেই ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন
- ‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
- ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
- হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান
- ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা
- দূতাবাসে হুমকির ই-মেইল: কূটনৈতিক এলাকায় সতর্কতা
- বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব
- নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর
- বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট: বিপাকে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প
- ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত
- ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাড়ছে খরচ, যুক্ত হচ্ছে নতুন চার্জ
- ঢাকাসহ সারা দেশে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি
- ২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
- তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের
- চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত লড়াই নয়, ছিল লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান
- বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
- মার্কিন হামলার পর বৈশ্বিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের
- গ্যাস সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, যুদ্ধের প্রভাব: রিজভী
- পরিবার নিয়ে বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- এগিয়ে এলো জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, নতুন সূচি প্রকাশ
- গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হলেন আশিক চৌধুরী
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এবার বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
- আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
- স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- বিআরটিসির ‘পিংক বাসে’ এবার স্টারলিংকের হাই-স্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
- শিক্ষকদের পে স্কেল পর্যালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি








