ই–১ প্রকল্প ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ‘শেষ কফিন’

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে আজ যে সহিংস বাস্তুচ্যুতি চলছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু সামরিক অভিযান নয় বরং সুদীর্ঘ সময় ধরে চালানো একটি পরিকল্পিত ও কাঠামোগত দখলনীতির সর্বশেষ রূপ। গাজায় অব্যাহত গণহত্যা, অবরোধ ও নির্বিচার বোমাবর্ষণের সমান্তরালে পশ্চিম তীরও ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে অবরুদ্ধ ও ধ্বংসস্তূপে ভরা আরেকটি ফ্রন্টে। আন্তর্জাতিক পরিসরে লজ্জাজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব পশ্চিম তীরের জনসংখ্যাগত মানচিত্র পাল্টে ফেলতে চায় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালের পুরোটা জুড়ে জেনিন, নুর শামস ও তুলকারেম শরণার্থী ক্যাম্পে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কঠোর অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞে ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে ঘরবাড়ি হারাতে হয়েছে যা ১৯৬৭ সালের পর এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ।
আন্দোলনের ভাষায়, এটি “সাধারণ সামরিক অভিযান” নয়; বরং একটি ক্যাম্পকে পুরোপুরি কার্যক্ষমতা হারানোর মতো করে ধ্বংস করে ফেলা রাস্তা কেটে দেওয়া, ঘর ধ্বংস, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করা এবং চলাচলের শেষ অবশিষ্ট পথও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া। ইসরায়েল দাবি করছে, এটি “নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা” এবং “অপারেশন আয়রন ওয়াল”–এর অংশ, যার লক্ষ্য ক্যাম্প থেকে প্রতিরোধমুখী ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করা।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বহু মাস পেরিয়ে গেলেও অধিবাসীদের ফিরতে দেওয়া হয়নি। বরং পুরো ক্যাম্পকে পরিণত করা হয়েছে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নিষিদ্ধ অঞ্চলে।
গাজায় গণহত্যা চলার পর থেকে পশ্চিম তীরজুড়েও ইসরায়েলি সহিংসতা তীব্রভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ১,০০০–রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, যা পশ্চিম তীরের জন্য নতুন বাস্তবতা। প্রতিদিনই রাতের অভিযান, আটক, গুলি, বুলডোজার দিয়ে রাস্তা-কাটা, ঘর ভাঙা ও অবরোধ চালানো হচ্ছে।
বিটসেলেম–এর নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেছেন, “পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা হচ্ছে আয়তন ছোট কিন্তু উদ্দেশ্যে গাজার মতোই ধ্বংসাত্মক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ইসরায়েলের সহিংসতাকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।”
পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় অংশ এরিয়া সি, যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রশাসনিক ক্ষমতা একেবারেই নেই। এখানে ইসরায়েল যেকোনো ঘরবাড়ি ভেঙে দিতে পারে, এবং সেটিই ঘটছে ব্যাপকভাবে। জাতিসংঘ (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই এরিয়া সি–তে ঘরবাড়ি ভেঙে ১,০০০–র বেশি মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমেও আরও ৫০০ মানুষ ঘরহারা।
ইসরায়েল বলছে, “পারমিট ছিল না” কিন্তু জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য পারমিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব, এবং সেটাই ইসরায়েলের একটি কৌশল: পারমিট না দিয়ে পরে ঘর ভাঙার অজুহাত তৈরি করা।
চরম ডানপন্থী ইসরায়েলি নেতৃত্ব, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ প্রকাশ্যেই বলেছেন:
- “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন হলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ঠেকানো।”
- “জুদিয়া–সামারিয়া (পশ্চিম তীর) ইসরায়েলের অংশ এটি আগে স্থলভাগে, পরে আইনে প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
- “সব অবৈধ বসতিকে বৈধ ঘোষণা করা হবে।”
ইসরায়েলি সংসদ ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক বিল পাস করেছে, যা পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের আইনগত এখতিয়ারে আনার পথ খুলতে পারে যা আন্তর্জাতিক আইনের ঘোর লঙ্ঘন।
আগস্টে স্মোত্রিচ ঘোষণা করেন নতুন ই–১ বসতি ৩,000 ঘর তৈরি হবে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের মধ্যবর্তী জায়গায়। এই অঞ্চল আলাদা হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই ভৌগোলিকভাবে যুক্ত একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে “সমাধিস্বরূপ প্রকল্প” বলে অভিহিত করছে।
বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী রয়েছে। এদের অনেকেই আবার সরকারের উচ্চপদে কাজ করছেন, ফলে বসতিদের সহিংসতা আরও প্রতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
জাতিসংঘের ওসিএইচএ বলছে, ২০২৩–২৪ সালে বসতি উগ্রপন্থীদের সহিংসতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে গড়ে প্রতিদিন ৮টি হামলা। এর মধ্যে রয়েছে:
- জলপাই গাছ কেটে ফেলা
- কৃষিজমি দখল
- ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি
- ঘরবাড়িতে আগুন
- পশুপাল হত্যা
- রাস্তায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা
জলপাই মৌসুমে এসব হামলা বহুগুণে বেড়েছে। প্যালেস্টাইনি ফার্মার্স ইউনিয়ন বলছে, “এটি গ্রামীণ ফিলিস্তিনি সভ্যতাকে ধ্বংসের কৌশল।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিটসেলেমসহ বহু মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও জাতিগত নির্মূল হিসেবে চিহ্নিত করলেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ রাজনীতিকভাবেই অনুপস্থিত।
চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ
দীর্ঘ আধা শতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদের পথে মানুষের ঐতিহাসিক সফরের সফল সমাপ্তি ঘটল। নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী ১০ দিনের মহাকাশযাত্রা শেষে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিরাপদে পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু পরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে মহাকাশযানটি অবতরণ (স্প্ল্যাশ ডাউন) করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে নভোচারীরা প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯২ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল দূর দিয়ে একটি ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করেছে, যা মহাকাশের এত গভীরে মানুষের এযাবৎকালের সবচেয়ে দূরের সফর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালের বিখ্যাত ‘অ্যাপোলো-১৩’ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিল আর্টেমিস-২।
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানিয়েছেন, তিনিসহ দলের চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার সম্ভাবনা যাচাই করা। আর্টেমিস-২-এর এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই নাসা ২০২৮ সাল নাগাদ পুনরায় চাঁদের মাটিতে সরাসরি পা রাখার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে। রিকভারি টিম ইতিমধ্যে সমুদ্র থেকে ক্যাপসুলটি উদ্ধার করে নভোচারীদের নিরাপদে উপকূলে নিয়ে এসেছে।
/আশিক
পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির মূল ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার হওয়ার জন্য বেইজিংকে অনুরোধ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন চীনের সরাসরি হস্তক্ষেপেই ইরান প্রাথমিক সমঝোতায় রাজি হয়। মূলত পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানকে রাজি করাতে বেইজিংয়ের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।
ইসলামাবাদের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাতে যুদ্ধবিরতির আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু চীনের সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করতে পারছে না বলেই এমন একজন শক্তিশালী জামিনদার চাইছে, যার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব দুই-ই আছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা পশ্চিমে কম থাকায় চীনই এখন সেরা বিকল্প।
তবে এই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন। নৌ-চলাচল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার মতো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে।
বেইজিং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জামিনদার হওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও পর্দার আড়ালে তারা শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। তেহরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইসলামাবাদের ‘অভেদ্য ভ্রাতৃত্বের’ বন্ধু হিসেবে চীন এখন এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পক্ষ।
যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তান ও চীন প্রথমদিন থেকেই নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আসছে। এমনকি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে ইরানকে বড় ধরনের স্বস্তি দেয়।
তবে লেবানন ইস্যু নিয়ে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। পাকিস্তান ও ইরান দেশটিকে যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও ইসরায়েল তাতে আপত্তি জানিয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই সংলাপ অত্যন্ত জটিল হতে যাচ্ছে, যেখানে সফল হতে হলে সব পক্ষকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।
/আশিক
ইরান না কি ইসরায়েল, কে জিতল? ইসরায়েলিদের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর চিত্র। অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন না যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই সরাসরি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জয়লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এই জরিপগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর দাবির বিপরীতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চ্যানেল থার্টিন, চ্যানেল টুয়েলভ এবং কান ইলেভেন-এর জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ নিজেদের পক্ষকে বিজয়ী মনে করছেন। বিপরীতে একটি বড় অংশ মনে করছে এই যুদ্ধে ইরানই কৌশলগতভাবে জয়ী হয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অর্ধেকেরও বেশি ইসরায়েলি বর্তমানে কার্যকর হওয়া এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঘোর বিরোধী। তারা মনে করেন, যুদ্ধ থামিয়ে ইরানকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তেহরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
নির্বাচনী বছরে জনগণের এই মনোভাব নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। যেখানে তিনি ‘মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেখানে মাত্র ৩৭ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে দেশের কৌশলগত অবস্থান উন্নত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
যুদ্ধ না কি শান্তি? যেকোনো একটি বেছে নাও: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শর্তের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিবিসির সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনকে এখন হয় ‘যুদ্ধ’ না হয় ‘যুদ্ধবিরতি’—যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এবং ইরান দাবি করছে যে, লেবাননও এই চুক্তির আওতাভুক্ত।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে ভিন্ন কথা; তাদের দাবি, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। এই দ্বিমুখী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে খাতিবজাদেহ বিবিসি রেডিও ৪-এ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘একই সাথে কেক রাখা এবং খাওয়ার’ (সুবিধা ভোগ ও নীতি লঙ্ঘন) চেষ্টা করছে, যা চলতে দেওয়া হবে না।
আগামীকাল শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু লেবানন ইস্যুতে তেহরানের এই কড়া অবস্থান এবং ইসরায়েলের অনড় মনোভাব সেই আলোচনার টেবিলকে যুদ্ধের ময়দানে রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি
প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান—মানুষের জয়যাত্রা কিংবা পতনের নেপথ্যে একটি তরল পদার্থের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্র্যাকিং বিপ্লব পর্যন্ত, তেলের ইতিহাস মানেই শক্তির পালাবদল।
আদি ইতিহাস: মমি থেকে নৌকা (৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)
তেলের ব্যবহার আধুনিক যুগের আবিষ্কার নয়। প্রাচীন ব্যবীলনীয়রা নৌকা পানিরোধক করতে এবং মিশরীয়রা মমি সংরক্ষণে তেলের আদি রূপ ব্যবহার করত। তবে তখন এটি ছিল কেবল একটি সহায়ক উপাদান, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক নয়।
আধুনিক বিপ্লব: পেনসিলভানিয়া থেকে মোটরগাড়ি (১৮৫৯-১৮৮৫)
১৮৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাণিজ্যিক তেল কূপ আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক তেল শিল্পের যাত্রা শুরু। ১৮৮৫ সালে কার্ল বেঞ্জ যখন প্রথম মোটরগাড়ি আবিষ্কার করলেন, তখন তেলের চাহিদা গগনচুম্বী হয়ে ওঠে। গ্যাসোলিন হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান জ্বালানি।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান ও বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯০৮-১৯১৮)
১৯০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিশাল মজুত আবিষ্কার বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, ট্যাঙ্ক, জাহাজ ও বিমান চালাতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। যার তেল আছে, যুদ্ধজয়ে সেই এগিয়ে।
তেলের ভাগবাটোয়ারা ও সুয়েজ সংকট (১৯৪৪-১৯৫৬)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালে মার্কিন ও ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। কিন্তু ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বুঝিয়ে দেয়, উৎপাদনকারী দেশগুলো (বিশেষ করে মিশর) এখন আর স্রেফ দর্শক নয়, তারা তেলের রুট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে।
তেল যখন মারণাস্ত্র: ১৯৭৩-এর সংকট ও উপসাগরীয় যুদ্ধ
১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো তেলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে, ফলে তেলের দাম ৪ গুণ বেড়ে যায়। এরপর ১৯৯০-এর উপসাগরীয় যুদ্ধের নেপথ্যেও ছিল কুয়েতের তেল ক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্র্যাকিং’ প্রযুক্তির উদ্ভাবন তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণ আনে। শিলাস্তর ফুটো করে তেল উত্তোলনের এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারকে পরিণত করে। ২০১৫ সালে এসে আরবের দেশগুলো তেলের দাম কমিয়ে দিয়ে পশ্চিমা এই ফ্র্যাকিং শিল্পকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে, যা বিশ্ববাজারে ধস নামায়।
তেল কেবল একটি জ্বালানি নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, বিশ্বের ক্ষমতার চাবিকাঠিও তার হাতে। ৩০০০ বছর আগের সেই মমি তৈরির তেল আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার যুগেও বিশ্ব অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে কাজ করছে।
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের।
তবে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ উপস্থিত থাকলেও সংলাপ শুরু হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন পরিস্থিতি। গত বুধবার পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টা পরই ঘোষণা করেন যে লেবানন এই চুক্তির আওতায় নেই। এরপরই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আহত হন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান এখন কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়, তবে আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের এই পরিকল্পিত সংলাপ স্থগিত করেছে। ইরান মূলত এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অনড় রয়েছে, যা মানতে রাজি নয় ইসরায়েল। ফলে ইসলামাবাদের এই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা এখন সুতোয় ঝুলছে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। উড্ডয়নকালে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ নজরদারি মিশন শেষে ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল।
ফেরার পথে ড্রোনটি থেকে জরুরি অবস্থা নির্দেশক ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়। এরপর ড্রোনটি হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই দিন আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা যখন কার্যকর হওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রোন নিখোঁজের এই ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দামি নজরদারি সরঞ্জাম, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা) বেশি।
এটি সাধারণত ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে সক্ষম এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।
সুইডেনভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক এই সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।
প্রতিদিনের হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই খরচ হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান ও নৌ অভিযানে। ড্রোন নিখোঁজের এই নতুন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বোঝাকে আরও ভারী করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি
যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ, যা অঞ্চলটিকে একটি গভীর মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দুটি প্রধান হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চলমান হামলার ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে লেবাননে শত শত শিশু হতাহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত ইতোমধ্যেই লেবাননে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, লেবাননে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একাধিক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সামরিক অভিযান সাময়িক কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কাতার ও যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তারা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তেহরানের সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে। দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণ ও হামলার পর শহরজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেকেই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও তারা আশঙ্কা করছে, এই শান্তি হয়তো স্থায়ী হবে না।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বিমুখী বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ফি আদায় বন্ধ না করলে যুদ্ধের হুমকি: ইরানের ওপর চটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে ‘ফি’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ধরনের কার্যক্রম ‘এখনই বন্ধ করতে হবে’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুদিন আগে ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও উত্তেজনার কালো মেঘ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ইরান ফি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যদি এই পথ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখে তবেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরান এখন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন যে, তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, খুব শিগগিরই তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আচরণের ওপর। একদিকে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘এখনই বন্ধ করো’ আল্টিমেটাম পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জ্বালানি বাজারের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ইরান এই টোল বা ফি আদায় বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্পের নির্দেশে আবারও মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের আকাশে গর্জে উঠতে পারে। আপাতত সবার নজর এখন ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং হরমুজ প্রণালির বাস্তব পরিস্থিতির দিকে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত
- আজকের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- ক্রেতাদের জন্য সুখবর, কমলো স্বর্ণের দর
- আজকের লাইভ খেলা, কখন কোথায় দেখবেন
- শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ, জানুন এলাকা
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক বগাছড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্টে পুরস্কার ও আর্থিক অনুদান
- পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি
- বিল পাসের পর 'বুঝলাম না' বলা গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সৌদি লিগে ‘রোনালদো-পক্ষপাত’! রেফারিদের নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড
- ইরান না কি ইসরায়েল, কে জিতল? ইসরায়েলিদের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- যুদ্ধ না কি শান্তি? যেকোনো একটি বেছে নাও: ইরান
- চলতি অধিবেশনে চতুর্থবার ওয়াকআউট: বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তুঙ্গে
- কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি
- শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চলবে: হিজবুল্লাহ প্রধান
- ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট
- ১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী
- ঢাকাসহ ৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা
- বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান
- রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
- আওয়ামী প্রশ্ন: নিষিদ্ধের রাজনীতি নাকি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ব্যবচ্ছেদ?
- যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
- নানিয়ারচর জোন কমান্ডার কর্তৃক বিদায়ী সংবর্ধনা ও ক্রীড়া পুরুস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
- দেবিদ্বারে ইমামকে মারধর ও হেনস্তা: বিচারের দাবিতে ইউএনও’কে স্মারকলিপি
- বদলে যাবে কুমিল্লা নগরীর চিত্র: ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প
- কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে'র উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
- টানা দুই দিন ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- দুপুরের মধ্যে ৪ জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবের শঙ্কা: ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- ফি আদায় বন্ধ না করলে যুদ্ধের হুমকি: ইরানের ওপর চটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- জ্বালানি সংকটে স্বস্তি: ৫ দিনে ৫ জাহাজ ভর্তি এলএনজি-এলপিজি আসছে দেশে
- যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার
- হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
- চার অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, বৃষ্টি সম্ভাবনা
- পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের
- আজকের টিভি খেলা: কোন ম্যাচ কখন
- ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা, আবেগে ভাসলেন মুসল্লিরা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন বিস্তারিত
- আজ ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- হাম হলে কী করবেন? জরুরি নির্দেশনা জানুন
- শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
- যুদ্ধবিরতির পর প্রথম ইরান-সৌদি কূটনৈতিক যোগাযোগ
- গণবিরোধী বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে সেরা ১০ গেইনার শেয়ার তালিকা
- শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সময়সূচি ঘোষণা
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে বেশি লোকসানে যেসব কোম্পানি
- আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
- যুদ্ধ এখন ইরানি ভূখণ্ডে! মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশে চরমে উত্তেজনা
- মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা: নীরবতার বদলে জবাবদিহি দরকার
- আজকের শেয়ারবাজারে কারা সবচেয়ে বেশি লোকসানে
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গা দিন, লাভের শীর্ষে ১০ কোম্পানি
- শেয়ারবাজারে কমেছে ১০ কোম্পানির দর
- অনলাইন ক্লাস কি আসছে? যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী








