তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরল, তবে আগামী নির্বাচন কার অধীনে?

দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন—বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
রায়ে আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুনর্বহালকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে মূলত চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে। আদালত সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছেন, ২০১১ সালে দেওয়া আগের রায়টিতে বেশ কিছু ভুল ছিল, যার কারণে সেই রায়টি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্তটি আর টিকল না এবং এ সম্পর্কিত সব আপিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি করা হলো।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংবিধানের চতুর্দশ খণ্ডের ‘২এ’ অধ্যায়, যা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, তা পুনরায় সচল ও প্রাণ ফিরে পেল। ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল। তবে এই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে এলেও এর কার্যকারিতা কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করবে। ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৫৮খ(১) এবং ৫৮গ(২) অনুচ্ছেদগুলোর বিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমেই কেবল এটি বাস্তবে রূপ পাবে। এছাড়া আদালত জানিয়েছেন, এই রায়ের প্রভাব অতীতের কোনো ঘটনার ওপর পড়বে না, এটি কেবল ভবিষ্যতের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, রায়টি ‘প্রস্পেক্টিভ’ বা ভবিষ্যৎমুখী হিসেবে কার্যকর হবে।
এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, অনির্বাচিত ব্যক্তির অধীনে নির্বাচন অগণতান্ত্রিক। তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সুশীল সমাজের পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক আপিল দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আজ এই চূড়ান্ত রায় এল।
আপিল শুনানিতে বিএনপি মহাসচিবের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আইনজীবী শিশির মনির আগেই সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া সম্ভব নয়। কারণ সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নিয়ম রয়েছে, অথচ বর্তমান সংসদ ভেঙে গেছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। তাই আবেদনকারীরা চতুর্দশ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি সরকার সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিল। এই পদ্ধতির অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০০৪ সালে এই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালত তখন একে বৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন। পরে সেটি আপিল বিভাগে গেলে ২০১১ সালে বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অবসরে যাওয়ার অনেক পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন এবং সংক্ষিপ্ত আদেশে পরবর্তী দুই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার যে পর্যবেক্ষণ ছিল, তা পূর্ণাঙ্গ রায়ে বাদ দেন। এই রায়ের সুযোগ নিয়েই শেখ হাসিনার সরকার দলীয় অধীনে পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে ছিল, যার অবসান ঘটে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে।
বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা
বাংলাদেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতের তথ্য অবকাঠামোকে নিশ্ছিদ্র করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাপানভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত তথ্য-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইফার কোর লিমিটেডের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন জাপানের প্রখ্যাত তথ্য-নিরাপত্তা বিজ্ঞানী এবং এমআইটি-ভিত্তিক গবেষক প্রফেসর তাকাতোশি নাকামুরা। আলোচনায় গুরুত্ব পায় জাতীয় তথ্য-নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারকরণ এবং সরকারি ডিজিটাল সিস্টেমের সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
বৈঠকের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী’ প্রযুক্তির প্রয়োগ। প্রফেসর নাকামুরা এবং প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান বিশ্বের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ এনক্রিপশনের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কোয়ান্টাম চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এছাড়া কমিউনিটি পর্যায়ে ‘ডিজিটাল ক্যাশ’ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়, যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বৈঠকে চামড়া শিল্পে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও কার্যকর মতবিনিময় হয়। জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এক নতুন ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জাপানের সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোতোইউকি ওদাচি এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফার কোর লিমিটেডের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহী ইসলাম। সাইফার কোর লিমিটেড মূলত তাদের উদ্ভাবনী তথ্য সুরক্ষা প্রযুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের এই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সমন্বয় দেশের সাইবার স্পেসকে যেমন নিরাপদ করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আইটি খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়েছে সরকার। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর মুনাফা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের আগের উচ্চ মুনাফার হারই পুনরায় কার্যকর হলো। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে সরকারি সিদ্ধান্তের এমন পরিবর্তনকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিমে মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পূর্ণ মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিবার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরাও পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।
প্রজ্ঞাপনে ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটের হারের বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রেও একই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার কিছুটা কম হলেও তা আগের সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি। মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা ধরে রাখতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই সরকার আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানো হলে সাধারণ মানুষ ব্যাংকমুখী হওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারতেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। আজ থেকে সকল অনুমোদিত ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যুরো অফিসগুলোতে এই নতুন (পুরানো) হার অনুযায়ী লেনদেন শুরু হবে।
এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে বহুল আলোচিত ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যক্রম আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মোবাইল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আগামী তিন মাস এই পদ্ধতি কার্যকর থাকবে না এবং এই সময়ে কোনো মোবাইল ফোন ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা বন্ধ করা হবে না।
এর আগে আজ সকাল থেকেই এনইআইআর কার্যক্রম বাতিল, ব্যবহৃত (পুরাতন) মোবাইল আমদানির অনুমতি এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শত শত ব্যবসায়ী। অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এনইআইআর কার্যকর হলে খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় বিটিআরসি ভবনে একদল লোক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে ডিসি মাসুদ আলম আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। যদিও এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না, তবে আজকের বৈঠকের পর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিন মাসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ এলো।
এনইআইআর পদ্ধতিটি মূলত অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন শনাক্ত করে দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি কারিগরি প্রক্রিয়া। স্থগিতাদেশের এই তিন মাস সময়কে ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ থাকা পুরোনো হ্যান্ডসেটগুলো বিক্রির ‘গ্রেস পিরিয়ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তিন মাস পর এটি পুনরায় কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও আলোচনার অবকাশ রয়েছে বলে জানা গেছে। আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুপুর থেকে কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
রাজধানী ঢাকায় সভা–সমাবেশ সংক্রান্ত নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকা, পাশাপাশি বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কর্মসূচি আপাতত বন্ধ থাকছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬–এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং এবং মিন্টু রোড ক্রসিং এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রাসহ যেকোনো জনসমাগমমূলক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, এসব এলাকা রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা সংবেদনশীল। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
-রাফসান
জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আজ রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সারা দেশে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিযোগিতামূলক চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা অথবা প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবেন। আপিল গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
ইসি নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদনের সঙ্গে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের সুস্পষ্ট কারণসম্বলিত বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আপিল আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে। এসব আবেদন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আপিল গ্রহণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বুথে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ের কপি সংগ্রহের জন্য আলাদা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, যা কেন্দ্রীয় আপিল বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দাখিলকৃত আপিলগুলো আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলকারী বা তার মনোনীত প্রতিনিধি কমিশনের সিদ্ধান্তের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী আচরণ বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দলীয় মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে কাজ করা যে কোনো ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ মেনে চলতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইসি সতর্ক করেছে।
-রাফসান
বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংবাদকর্মীরা যে পরিমাণ ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এক শতাংশও ঘটছে না। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট প্রেস ক্লাবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান যেন তারা মানুষের মনে আশা জাগাতে বিগত সময়ের সেই কঠিন বাস্তবতাগুলো বারবার তুলে ধরেন।
নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি প্রকৃত ও স্বচ্ছ ভোট হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত ও অপশক্তি নানাভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার শুরু থেকেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভোটের সময় কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেহেতু স্বৈরাচারকে হঠানো সম্ভব হয়েছে, তাই ছোটখাটো বাধাগুলো অতিক্রম করে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া কঠিন হবে না।
গণমাধ্যমে ‘মব আক্রমণ’ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার নিজের বাসার সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু আমি তাতে বিচলিত হয়ে অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে চলাচল শুরু করিনি।” তিনি সাংবাদিকদের ‘ফাইটিং ব্যাক’ বা সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও হামলার পরও দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো কাজ থামিয়ে রাখেনি। অপশক্তিকে শুভশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক শক্তিকে সংগঠিত করতে পারলেই পরাজিত শক্তির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান জানান যে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণভোট ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণমাধ্যম ও সরকার একযোগে কাজ করলে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও রাষ্ট্রীয় শোক ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটির কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে, তবুও কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গ্রেড পুনর্বিন্যাস এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, স্থগিত হওয়া সভাটির বিকল্প তারিখ খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে এবং সেই বৈঠকেই পে স্কেলের কাঠামোগত রূপরেখা চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
নবম পে স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বর্তমানে চালু থাকা ২০টি গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো যেতে পারে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা প্রশমিত করতে গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো গ্রেড কাঠামোকে আমূল সংস্কার করে ১৪টি গ্রেডে সীমিত করা। কমিশনের একটি বড় অংশের মত, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্য দূর হবে এবং একটি আধুনিক, যুক্তিসংগত ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিচের ধাপের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে একই প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে বৈষম্য ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।
-রাফসান
কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
নতুন বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে শীতের ভয়ংকর রূপের আগাম বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ ‘তীব্র’ আকার ধারণ করতে পারে যেখানে দেশের উত্তর ও নদী অববাহিকার কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ পূর্বাভাস প্রদান করা হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন পারদ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে যা জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ঘন কুয়াশা বজায় থাকবে যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের অনুভূতি হবে অসহনীয়।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের দাপট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার যশোরে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে নেমেছিল। আবহাওয়া অফিসের দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা এর নিচে নেমে গেলে তা ‘অতি তীব্র’ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন যে আজ শনিবার দেশের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে যা শীতের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনবে। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না কারণ আগামীকাল রবিবার থেকেই তাপমাত্রা পুনরায় কমতে শুরু করবে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে পঞ্চগড়ে টানা কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। জানুয়ারির এই হাড়কাঁপানো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি ও বেসরকারিভাবে আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
দেশের জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার এক বিরল চিত্র ফুটে উঠেছে পটুয়াখালীর আরপিসিএল-নরিনকো ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। নিজস্ব কয়লা মজুত শেষ হয়ে আসায় কেন্দ্রটি সচল রাখতে এখন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লা ধার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আসন্ন রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশ দিলেও আরপিসিএলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানির বিষয়টি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে।
বর্তমানে আরপিসিএল কেন্দ্রে যে পরিমাণ কয়লা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে চলতি মাস পর্যন্ত একটি ইউনিট চালানো সম্ভব। অথচ এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। এই সংকট কাটাতে আরপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে কিছু কয়লা ধার নেওয়া। মাতারবাড়ীতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি উদ্বৃত্ত কয়লা মজুত রয়েছে, যা আরপিসিএল পরে মূল্য পরিশোধের শর্তে ব্যবহার করতে চায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরপিসিএল কেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহে চারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রতিবারই অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়াংথাই বারবার সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থরক্ষা না হওয়ায় সরবরাহকারী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ইয়াংথাই একক বিডার হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই দীর্ঘসূত্রতার মাশুল দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে এখন এক কেন্দ্রের কয়লা দিয়ে অন্য কেন্দ্র চালানোর মতো অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি দ্রুততম সময়ে কয়লা ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হয় বা নতুন সরবরাহকারী চূড়ান্ত না হয়, তবে শীত শেষে গরমের শুরুতে এবং আসন্ন রমজানে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, মাতারবাড়ীর কয়লা ধারের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগ সম্মতি দেয় কি না।
পাঠকের মতামত:
- কেন হঠাৎ আবার বাড়ল স্বর্ণের মূল্য
- আজ সৌদি আরবে স্বর্ণের দাম কত
- টাইগারদের ম্যাচ ভারত থেকে সরছে? বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে বড় খবর
- বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা
- তীব্র শীতে চরের জীবনসংগ্রাম: চরভদ্রাসনে অসহায় মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন
- ৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়
- এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা
- শীতের রাতে শরীর থাকবে গরম: জানুন রান্নাঘরের বিশেষ মশলার গুণ
- টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা
- সিলেটে মির্জা ফখরুলের বিশাল ঘোষণা আর দু-এক দিনেই নতুন চমক
- শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারে মির্জা ফখরুল: বছরের শুরুতে বড় বার্তা
- এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট
- তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে: জামায়াত
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- যৌথ অভিযানে কাঁপল সিরিয়া: আইএস নির্মূলে একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
- জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক: নতুন পাঠ্যবইয়ে যা লিখল বোর্ড
- মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে ঢাকা
- অবশেষে মুখ খুললেন মুস্তাফিজুর রহমান
- রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
- কোন কোন দেশের হাতে সবচেয়ে বেশি সোনা আছে
- নতুন বছরেই বড় ধাক্কা: রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে দুঃসংবাদ
- এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ
- টাইগারদের ছাড়া বিশ্বকাপ? বিসিবির অনড় অবস্থানে বিপাকে আইসিসি
- ৪ জানুয়ারি দিনশেষে ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ৪ জানুয়ারি টপ টেন লুজার দেখে নিন এক নজরে
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- তারেক রহমানের বাসার সামনে দুইজন আটক, যোগসূত্র কী?
- মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের নেপথ্য কাহিনি
- মোস্তাফিজ বাদ, পাল্টা কঠোর সিদ্ধান্ত নিল বিসিবি
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর, নগদ লভ্যাংশ দিল দুই কোম্পানি
- জানুয়ারির শুরুতেই শেয়ারবাজারে গতি, কী বলছেন বিশ্লেষকরা
- ৪ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- শীতে কম্বল ধোয়ার ঝামেলা শেষ: ঝকঝকে রাখার সহজ ৩ কৌশল
- শীতের সন্ধ্যায় মচমচে পালং পাকোড়া: ঝটপট তৈরির সহজ রেসিপি
- আমরাই ভেনেজুয়েলা চালাব: ট্রাম্প
- কম পরিশ্রমে বেশি সাফল্য, পোমোডোরো কৌশলে বদলান নিজের জীবন
- ভাইরাল ভিডিওর পর গ্রেপ্তারের নাটকীয়তা শেষে মাহদী হাসানের জামিন
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- রান্নাঘরের খরচ কি কমবে? আসছে এলপিজির দামে নতুন চমক
- মাদুরোকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: মামদানি
- বেগম জিয়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আসাদুজ্জামান
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- শীতে শরীর ভেতর থেকে গরম রাখবে যেসব খাবার
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ রবিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ার
- প্রিয় নেত্রীর প্রয়াণে বিপিএল আজ নিশ্চুপ: পেছানো হলো আজকের সব ম্যাচ
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ২৯ ডিসেম্বরের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত: নতুন সম্ভাব্য তারিখ জানাল অধিদপ্তর
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা








