মুখ বদলালেও থামেনি জুলুম, রাজনৈতিক পরিচয়েই চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য কমবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবিক চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চাঁদাবাজি তো কমেইনি, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মাত্রা আরও বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক সমঝোতা করা কঠিন হলেও চাঁদাবাজির সমঝোতা করা অনেক সহজ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যখন চাঁদাবাজদের একটি দল সরে যায়, তখন অনিবার্যভাবে অন্য একটি দল সেই শূন্যস্থান দখল করে নেয়। এই পর্যবেক্ষণ এমন এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয় যেখানে চাঁদাবাজি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি কৌশলগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আশা ছিল নতুন সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং একটি স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়বে, কিন্তু বাস্তবতা হলো চাঁদাবাজির চক্রগুলো এখনো পুরোদমে সক্রিয়, কেবল তাদের নিয়ন্ত্রণকারীদের হাতবদল হয়েছে।
একটি চক্রের পতনের পর নতুন চক্রের এই উত্থান প্রমাণ করে যে, চাঁদাবাজি কোনো নির্দিষ্ট দলের সমস্যা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির গভীরে প্রোথিত একটি কাঠামোগত সমস্যা। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়, যা মাস শেষে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। সারা দেশে বাস ও মিনিবাস খাত থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়। এছাড়া হাট-বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় রাজনীতি এবং তথাকথিত সংগঠনের ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে পণ্য সরবরাহ বন্ধ, ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার হুমকি কিংবা সরাসরি হামলার শিকার হতে হয়। সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার, নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে জলমহাল ও বালুমহালের ইজারা—সবর্ত্রই দলীয় ও প্রশাসনিক মদদপুষ্ট চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় (এডিপি) দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা (১৩-২৪ বিলিয়ন ডলার) নষ্ট হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূলত পাঁচটি গোষ্ঠী সরাসরি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এগুলো হলো—রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয়ে বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। গত ১৫ মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২ হাজার ৩২৫টি চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির মতো বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠছে।
কিছু ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেমন, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে শরীয়তপুর রুটে চলাচলকারী ‘শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস’ নামের একটি পরিবহন কোম্পানির কাছে ৫ কোটি টাকা অথবা মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে চলতি মাসে। টাকা না দেওয়ায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ৮ জুলাই থেকে তিন-চার দিন বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এমনকি বাসের কর্মচারীদের মারধর করার অভিযোগও পাওয়া যায়, যার প্রতিবাদে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়। এই ঘটনার সঙ্গে যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের এক নেতার নাম উঠে আসে, যাকে পরে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপি গত ১১ মাসে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ৪ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করলেও চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছে। রংপুরের পীরগাছায় এক অফিস সহায়কের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ধারণ করে তাকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নাটোরে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ কর্মসূচি পালন করেছে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চাঁদা না পেয়ে বাস টার্মিনালের ইজারাদারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া জামালপুরের মেলান্দহে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে স্থানীয় জামায়াত নেতার ভাতিজা বলে দাবি করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরেও মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে, যদিও জামায়াত তাকে নিজেদের কর্মী বলে অস্বীকার করেছে।
জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগে তাদের কিছু নেতা আটক ও সমালোচিত হয়েছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গত এপ্রিলে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া ধানমন্ডিতে সমন্বয়ক পরিচয়ে মব হামলার ঘটনায় এনসিপির নেতা আবদুল হান্নান মাসুদের নাম আলোচনায় আসে। গত বছরের আগস্টের পর থেকে সারা দেশেই সমন্বয়ক পরিচয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার এক যুগ্ম সমন্বয়ককে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুধু বড় দল নয়, অনেক ছোট দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।
তফসিল ঘোষণার দিন প্রকাশ করল ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তফসিল ঘোষণার সময়সূচি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে বুধবার ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অথবা পরদিন বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন তফসিল প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার ভাষণসহ পুরো প্রক্রিয়া ইসিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারই এখন মাত্র আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বাকি আছে। এ সাক্ষাৎ বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি মাছউদ জানান, তফসিল ঘোষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত রাজনৈতিক দলের কোনো নির্বাচনী প্রতীক স্থান পাবে না।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সকল প্রস্তুতি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইসি একটি অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
-রাফসান
কারাবন্দিদের জন্য দেশে চালু হচ্ছে নতুন যোগাযোগ সুবিধা
দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দিরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে সপ্তাহে একবার নির্দিষ্ট নম্বরে মাত্র ১০ টাকায় ১০ মিনিট অডিও কলে কথা বলার সুযোগ পান। এবার সেই সুবিধার পরিধি আরও বাড়িয়ে ভিডিও কলের ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে অচিরেই দেশের সব কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে আইপি ফোন স্থাপন করা হবে। কারা প্রশাসন মনে করছে, এতে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সহজ হবে এবং সাক্ষাতের জন্য বারবার কারাগারে ছুটে যাওয়ার ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দির আত্মীয়স্বজনদের কারাগারে আসতে প্রায়শই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। পরিবহন, সময়, খাবারসহ নানা খরচ যোগ হয়ে সাধারণত একটি সাক্ষাতে গড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অনেক পরিবারকে ধারদেনা করে এ ব্যয় বহন করতে হয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে ভিডিও কলের মাধ্যমে সহজ ও কম খরচে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থার আওতায় বন্দিরা নিজের ডিভাইস বা পিসি ব্যবহার করে সপ্তাহে ১৫ টাকায় ১০ মিনিট সহজেই ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন।
কয়েকটি কারাগারের কর্মকর্তারা জানান, একসময় কারাগারে টেলিফোন স্থাপনা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হতো। তবে আধুনিক সফটওয়্যার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে এখন পুরো প্রক্রিয়া সহজে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। ভিডিও কল ব্যবস্থা চালু হলে বন্দিরা কেবল কণ্ঠ নয়, প্রিয়জনদের মুখও দেখতে পারবেন। যা তাদের মানসিক চাপে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কমাতে সহায়ক হবে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত–উল–ফরহাদ জানিয়েছেন, "কারাগার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভিডিও কল চালুর কার্যক্রম গুরুত্বসহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে অডিও কল সুবিধা সফল হওয়ায় এবার আইপি ফোন ব্যবহার করে ভিডিও কল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।"
কারা প্রশাসন বিশ্বাস করে, এই ডিজিটাল সুবিধা একদিকে যেমন বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে, তেমনি কারাগারের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করে তুলবে।
-শরিফুল
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার শীর্ষস্থান
বিশ্বের বড় শহরগুলোতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা বায়ুদূষণ এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। একইভাবে দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানী ঢাকা মারাত্মক বায়ুদূষণের চাপের মধ্যে রয়েছে। কিছু সপ্তাহ আগে শহরটির বায়ুগুণমানে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে আবারও দূষণের মাত্রা তীব্রভাবে বেড়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ২৫৯। এই স্কোর শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকার শীর্ষ স্থানে নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মাত্রার বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই সময়ে ভারতের কলকাতা শহরের একিউআই স্কোরও ছিল ২৫৯, যা তাকে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দূষিত শহরের মধ্যে মিশরের রাজধানী কায়রো ২৫৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয়, পাকিস্তানের লাহোর ২৪১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ভারতের দিল্লি ২২৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
বায়ুমানের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ভালো বায়ু হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে মাঝারি মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়।
একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বায়ুকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। আর ২০১ থেকে ৩০০–এর মধ্যে স্কোর থাকলে তা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর ইঙ্গিত দেয়। এ অবস্থায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ঘরের বাইরে চলাফেরা সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
-শরিফুল
এইচএসসি নম্বরপত্র সংগ্রহে নতুন সূচি প্রকাশ
এইচএসসি ২০২৫ পরীক্ষার ফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মূল নম্বরপত্র আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রদান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।বোর্ড জানিয়েছে, এই বিতরণ কার্যক্রম চলবে ধারাবাহিকভাবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের মূল নম্বরপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল নম্বরপত্র নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বোর্ডের সনদ শাখা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। নম্বরপত্র প্রদান কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চলবে এবং সনদ শাখা অবস্থিত ৪ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলা থেকে নম্বরপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা ভিত্তিক নম্বরপত্র বিতরণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল ও ঢাকা জেলার নম্বরপত্র দেওয়া হবে ১০ ডিসেম্বর। নরসিংদী ও ফরিদপুর জেলার শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১১ ডিসেম্বর। ১৪ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার নম্বরপত্র বিতরণ হবে। কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নম্বরপত্র দেওয়া হবে ১৫ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নম্বরপত্র বিতরণ করা হবে। রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১৮ ডিসেম্বর। গাজীপুর জেলার শিক্ষার্থীরা পারবেন ২১ ডিসেম্বর নম্বরপত্র সংগ্রহ করতে। আর সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর বিতরণ করা হবে ঢাকা মহানগরের শিক্ষার্থীদের মূল নম্বরপত্র।
অফিস আদেশে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নম্বরপত্র গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিভাগভিত্তিক তালিকা জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধিকে যথাযথ কর্তৃত্ব পত্রসহ তিনটি স্বাক্ষরের নমুনা সত্যায়িত করে নম্বরপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
-রফিক
আগের ৯৬টি বাতিল করে নতুন ৮১ সংস্থাকে ভোটের মাঠে নামাচ্ছে কমিশন
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্তভাবে ৮১টি দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি। সোমবার ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণপূর্বক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন।
এ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো দাবি আপত্তি বা অভিযোগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছিল এবং অভিযোগের স্বপক্ষে সহায়ক প্রমাণও জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে প্রথম ধাপে ৬৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এই ৬৬ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইসির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে যাচাই বাছাই করে আরও ১৫টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ১৫ সংস্থাকে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হলো। ইসি জানায় বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫ এর ধারা ১৬ মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ইসি জানায় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা শুরু করে কমিশন। সেই সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল এবং ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল এক লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮০টির মতো সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট আয়োজনে নজর রেখেছিলেন।
গ্রামের গর্ভবতী মা থেকে শহরের কর্মজীবী নারী সবার জন্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন নারীমুক্তি ও মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। আগামীকাল মঙ্গলবার ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৯ ডিসেম্বর দেশে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে প্রধান উপদেষ্টা আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন এই অঞ্চলের নারী সমাজকে যথাযোগ্য মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে বেগম রোকেয়ার অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। দিবসটি উপলক্ষে তিনি এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
বাণীতে ডক্টর ইউনূস উল্লেখ করেন ঊনবিংশ শতাব্দীতে রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীদের ভাগ্য উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি ছিল শিক্ষা। এই উপলব্ধি থেকে বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তারে বিরাট সাহসী ভূমিকা পালন করেন। বেগম রোকেয়া নারী উন্নয়নের পথে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন তার ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গ্রামীণ অসচ্ছল নারীদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচি এবং গ্রামীণ এলাকায় দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের ও শহর এলাকায় স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মায়েদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান। এছাড়া দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের আত্ম কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান প্রান্তিক নারীদের উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা প্রদান করাসহ কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ আবাসনের লক্ষ্যে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল পরিচালিত হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিকার ও প্রতিরোধে সমন্বিত সেবা জোরদারকরণ এবং কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় টোল ফ্রি হট লাইন সেবা ১০৯ সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে।
বাণীর শেষাংশে বেগম রোকেয়ার আদর্শ অনুসরণে নারী অধিকার ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য যাঁরা বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
জুলাই গণহত্যার বিচারে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় শেখ হাসিনার ১৭ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা
চব্বিশের জুলাই আগস্ট আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলের সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ১৭ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সোমবার ৮ ডিসেম্বর সকাল পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এরপর একে একে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের হাজতখানায় নেন।
এদিন ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আনা আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এছাড়া সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম সাবেক এমপি ফারুক খান সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারকেও হাজির করা হয়েছে।
এর মধ্যে সালমান এফ রহমান আনিসুল হক হাসানুল হক ইনু ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। ইনুর মামলায় ইতিমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণও চলছে। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল ১। একইসঙ্গে জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও উপদেষ্টা সালমানের ফরমাল চার্জে কারফিউ জারি করে ছাত্র জনতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আমলে নিয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর পৃথক মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আজ সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
কে হচ্ছেন দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি? জল্পনা চূড়ায়
দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। তার অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় বিচারাঙ্গনে জল্পনা তৈরি হয়েছে কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে থাকা বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। রীতি অনুযায়ী আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে এই বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া আছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও আপিল বিভাগ থেকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থির সময়ে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে ছাত্র-জনতার দাবির মুখে হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি এক অনন্য নজির, কারণ অতীতে সব প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ পেয়েছেন।
সংবিধানের ৯৫ ও ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন এবং প্রয়োজনে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও সংবিধানে জ্যেষ্ঠতা বাধ্যতামূলক বলা হয়নি, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশ করেছিল। কমিশন আরও বলেছে, জ্যেষ্ঠ বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বর্তমান সংবিধানে জ্যেষ্ঠতার বাধ্যবাধকতা নেই; রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যেকোনো বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি করতে পারেন। এখন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির হাতে তিনি কাকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বেছে নেবেন।
আসন্ন নিয়োগকে সামনে রেখে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির প্রোফাইল নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম নুরুল ইসলাম ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুর সন্তান। ১৯৮৩ সালে আইন পেশায় প্রবেশ করে তিনি ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০২২ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে ২০২৪ সালে আপিল বিভাগে যোগ দেন। তিনিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পরিবারের সন্তান।
বিচারপতি মো. রেজাউল হক ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন এবং ২০০৪ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। বিচারপতি এস.এম. ইমদাদুল হক ১৯৯০ সালে আইন পেশায় প্রবেশ করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে আপিল বিভাগে উন্নীত হন।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতার পর ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ওঠেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আইনজীবী পরিবারের সন্তান হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হন।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগকে ঘিরে এখন আদালতপাড়া সরগরম। আইনজীবী মহলে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, সিনিয়রিটি ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা। সবশেষ সিদ্ধান্ত এখন রাষ্ট্রপতির হাতে, যিনি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতির নাম ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-রফিক
ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকারের নতি স্বীকার, বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ বৈঠকের পর অবশেষে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা সোমবার ৮ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। রবিবার ৭ ডিসেম্বর বৈঠকের পর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হবে ১৯৫ টাকায় যা আগে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৮৯ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৭৬ টাকায় যা আগে ১৭০ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতি লিটার পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৬ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫৫ টাকা।
এর আগে গত ১০ নভেম্বর লিটারে ৯ টাকা বাড়ানোর অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল সংগঠনটি। অনুমতি না পেয়েই ব্যবসায়ীরা এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাজারে প্রতি লিটারে ৯ টাকা বাড়িয়ে খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকায় বিক্রি শুরু করেছিলেন। মোড়কে নতুন দাম সংবলিত করে বাজারে তেল ছাড়ায় ক্রেতাদের বাড়তি দামেই তেল কিনতে হচ্ছিল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন দাবি করেছিলেন সরকারকে না জানিয়েই আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের শোকজও করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর লিটারে ৯ টাকার বদলে ৬ টাকা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।
পাঠকের মতামত:
- ৯ ডিসেম্বর ডিএসই টপ গেইনার তালিকা প্রকাশ
- তফসিল ঘোষণার দিন প্রকাশ করল ইসি
- পুরুষ কমে যাওয়ায় স্বামী ভাড়া করছেন নারীরা
- কারাবন্দিদের জন্য দেশে চালু হচ্ছে নতুন যোগাযোগ সুবিধা
- কোন মুদ্রার দর কত আজ দেখুন সর্বশেষ তালিকা
- পিরিয়ডের সময়ে কোন ফল এড়িয়ে চলবেন
- ডিএসই ৩০ ট্রেড ডেটা জানুন কোন শেয়ারে কেমন লেনদেন
- মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর নতুন ন্যাভ প্রকাশ, জানুন বিস্তারিত
- আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানি সেনা নিহত
- থ্রি ইডিয়টস ২ আসছে তবে কি ফিরছেন আগের তারকারা
- দুর্নীতি কমাতে নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা তারেক রহমানের
- আমিনুল ইসলাম হল ‘দুনিয়ায় পাঠানো আল্লাহর ফেরেশতা’- বিএনপি নেতা
- আজও টিকে থাকা ছোট রাজতন্ত্রগুলোর অজানা গল্প
- মহাবিশ্বের প্রসারণে নতুন সংকট: হাবল টেনশন
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের সুখবর!
- ডিএসইর পরিদর্শনে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ
- স্টক এক্সচেঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের নতুন ঘোষণা
- আজকের রিংগিত রেট বেড়েছে, জানুন কোথায় বেশি টাকা পাবেন
- ভারতকে নতুন শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
- ইমরানে খানের বিরুদ্ধে নতুন করে তোপ দাগলেন সানাউল্লাহ
- আজকের ইসলামী সময়সূচি: নামাজ ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত
- ভোগান্তি এড়াতে দেখুন আজকের মার্কেট বন্ধ তালিকা
- আজ রাজধানীতে রাজনৈতিক-সরকারি নানা কর্মসূচি
- ক্রিকেট–ফুটবলে ভরপুর আজকের টিভি তালিকা
- সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় স্থবির তেঁতুলিয়ার জনজীবন
- বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার শীর্ষস্থান
- আবহাওয়া অধিদপ্তর জানালো আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া
- এইচএসসি নম্বরপত্র সংগ্রহে নতুন সূচি প্রকাশ
- নৈতিক সমাজ ও মানসিক প্রশান্তির খোঁজে ইসলামি বিয়ে এবং নবীজির সা. নির্দেশনা
- বারবার হাই তোলা শুধুই ক্লান্তি নয় বরং এটি হতে পারে হৃদরোগের আগাম বার্তা
- নামিদামি ক্রিম নয় বরং গরম পানির ভাপেই মিলবে শীতের শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি
- বিশেষ একজন ছাড়া সবাই খারাপ এই মানসিকতা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক: তারেক রহমান
- বিএনপির সঙ্গে জোট হলে মাঠের পরিস্থিতি কেমন হবে জানালেন রাশেদ খান
- বিএনপির আমলে শেয়ার বাজারে ধস নামেনি: রিজভী
- বিএনপির এক অংশের আচরণ আওয়ামী লীগের মতোই: ফুয়াদ
- আগের ৯৬টি বাতিল করে নতুন ৮১ সংস্থাকে ভোটের মাঠে নামাচ্ছে কমিশন
- প্রিজনভ্যানে উঠে জাতীয় সংগীত গাইলেন পলক
- গ্রামের গর্ভবতী মা থেকে শহরের কর্মজীবী নারী সবার জন্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা
- আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথে হেঁটে জামায়াত দেশের জন্য অশুভ সংকেত আনছে: এনসিপি
- ক্ষমতায় গেলে খাল খনন প্রকল্প আবার চালু করা হবে: তারেক রহমান
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সরকার দিল কঠোর নীতি
- দেশে ফেরা নিয়ে যা জানালেন সাকিব আল হাসান
- ৮ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ৮ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ১০ শেয়ারের তালিকা প্রকাশ
- ৮ ডিসেম্বর ডিএসই টপ গেইনার তালিকা প্রকাশ
- মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর নতুন ন্যাভ প্রকাশ, জানুন বিস্তারিত
- নীতি ছাড়া ধর্মের নামে রাজনীতিতে একটি দল: সালাহউদ্দিন
- বিমান প্রস্তুত হলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টা খালেদা জিয়ার জন্য অগ্নিপরীক্ষা
- চাঁদাবাজদের কাছে মাথা নত করব না: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- জুলাই গণহত্যার বিচারে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় শেখ হাসিনার ১৭ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা
- ফিউচার স্টার বনাম ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা, দেখুন সূচি
- আজকের রাশিফল: ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- প্রবৃদ্ধির সুফল গরিবের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না বরং ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে
- খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিতে পারছেন যা ভালো লক্ষণ: ডা. জাহিদ
- আজকের রাশিফল: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- এসএসএফ নিরাপত্তা পেলেন খালেদা জিয়া: কী সুবিধা থাকছে
- ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকারের নতি স্বীকার, বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম
- চট্টগ্রামে দাপুটে জয়ে আয়ারল্যান্ড বধ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- ব্যথানাশক নিয়েই খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার
- একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- আজকের রাশিফল: ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- কর্মবিরতি নিয়ে ফার্মাসিস্ট টেকনোলজিস্টদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিল সরকার
- সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের বাজার দর ও বিস্তারিত মূল্য তালিকা
- আকাশ আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক আবহাওয়া নিয়ে ঢাকার সর্বশেষ পূর্বাভাস








