বার্ষিক পরীক্ষার মুখে স্থবির শিক্ষা: শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে ক্লাস বন্ধ, শঙ্কায় পড়েছেন অভিভাবকরা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১০ ১০:০৩:৩৪
বার্ষিক পরীক্ষার মুখে স্থবির শিক্ষা: শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে ক্লাস বন্ধ, শঙ্কায় পড়েছেন অভিভাবকরা
ছবিঃ সংগৃহীত

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং শিক্ষকদের ওপর 'পুলিশি হামলার' প্রতিবাদে গতকাল রোববার থেকে দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকরা পাঠদান বন্ধ রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বার্ষিক পরীক্ষার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন অভিভাবকরা।

কর্মসূচি এগিয়ে আসার কারণ ও পদত্যাগের দাবি

আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, ১৫ নভেম্বরের পর তাদের কর্মবিরতি কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিন গত শনিবার শাহবাগে 'কলম সমর্পণ' কর্মসূচিতে পুলিশের অতর্কিত হামলার ঘটনায় তারা কর্মসূচি এগিয়ে আনেন। ওই হামলায় রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করা হয়, যাতে শত শত শিক্ষক আহত হন।

শহীদ মিনারের কর্মসূচি থেকে শিক্ষকরা এই 'পুলিশি হামলার' প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো— দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালাবেন বলে জানিয়েছেন।

কাফনের কাপড় হাতে শপথ

তিন দফা দাবি আদায়ে কাফনের কাপড় হাতে গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শপথ নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা শপথ নেন, '১০ম গ্রেড এবং শতভাগ পদোন্নতি ছাড়া ফিরে যাবেন না।'

শিক্ষক নেতা আনিসুর রহমান আনিস বলেন, একই যোগ্যতা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দশম গ্রেড পেলেও তারা পাচ্ছেন ত্রয়োদশ গ্রেড। বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট হয়েও তাদের দিনমজুরের অর্ধেক বেতনে চাকরি করতে হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ও ব্যয়ভার

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দুই ধাপ বাড়িয়ে একাদশ গ্রেড করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বর্ধিত গ্রেডে বেতন দিতে বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

তবে ১১তম গ্রেড থেকে আবার দশম গ্রেডের দাবি কেন তোলা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতা আবুল কাশেম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি নতুন পে-স্কেল করার জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে। পে-কমিশনের কার্যক্রম সামনে রেখে বাধ্য হয়ে তারা ১০ম গ্রেডের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গতবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের আশ্বাসে ক্লাসে ফিরলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তারা সহকারী শিক্ষকদের একাদশ গ্রেড দিতে সুপারিশ করেছেন। এটি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলেই বাস্তবায়ন হবে, এর বাইরে তাদের হাতে আর কিছু নেই।

অন্য অংশের কর্মসূচি ও নিন্দা

এদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শিক্ষকদের অন্য একটি অংশও একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এই মোর্চাভুক্ত সংগঠনগুলোর শিক্ষকরা অবশ্য এখন পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করছেন না।

অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতি এবং বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশন এই আন্দোলন কর্মসূচিতে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। তারা শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।


একাত্তরের সেই কালরাত্রি ও রাও ফরমান আলীর নীল নকশার ইতিহাস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ০৯:১১:৩১
একাত্তরের সেই কালরাত্রি ও রাও ফরমান আলীর নীল নকশার ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম শোকাবহ ও মর্মন্তুদ একটি দিন। বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হারানোর দুঃসহ যন্ত্রণার দিন আজ। তবে এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হচ্ছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে।

ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও নতুন প্রত্যাশা

ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে। দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জাতি নতুন এক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একাত্তরের বিজয়ের ঊষালগ্নে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিবেচনায় এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জনগণ গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছে।

একাত্তরের সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ

১৯৭১ সালের ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষলগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার আলবদর ও আলশামস বাহিনী দেশের বুদ্ধিজীবীদের নিধনে মেতে ওঠে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে। ১০ ডিসেম্বর থেকেই মূলত এই অপকর্ম শুরু হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলীর নীল নকশায় শিক্ষক সাংবাদিক চিকিৎসক প্রকৌশলী ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর মিরপুরের ডোবা নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলায় তাদের ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ পাওয়া যায় যা পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

শোকের আবহে আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ৭টা ৫ মিনিটে এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকাল ৭টা ৬ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি দিবসটি পালনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বিএনপি

সকাল ৬টায় কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ দিয়ে দিনের শুরু করেছে। সকাল ৯টায় মিরপুর ও রায়েরবাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ২টায় রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে দলটি।

জামায়াতে ইসলামী

বিকেল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

অন্যান্য দল

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে।

এছাড়া মসজিদ মন্দির গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।


রোববার ঢাকায় যেসব কর্মসূচি, বের হওয়ার আগে যা জানা জরুরি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ০৯:০২:৪৭
রোববার ঢাকায় যেসব কর্মসূচি, বের হওয়ার আগে যা জানা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে প্রতিনিয়ত সড়কে বের হয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মসূচিকর কারণে প্রায়ই স্থবির হয়ে পড়ে নানা সড়ক। তাই আজ রোববার ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে কী কী কর্মসূচি রয়েছে এবং কোথায় ভিড় হতে পারে তা জেনে নেওয়া জরুরি।

উপদেষ্টা রিজওয়ানার কর্মসূচি

সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ব্যস্ত সময় পার করবেন। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং এর অধীন দপ্তর বা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

বিএনপির কর্মসূচি

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে।

সকাল ৯টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা এবং ঢাকা মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

বেলা ১১টায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানের হোটেল লেকশোরে পেশাজীবী ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জামায়াতের কর্মসূচি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট হলরুমে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

কর্মসূচিগুলোর কারণে মিরপুর রোড ফার্মগেট এবং গুলশান এলাকায় সাময়িক যানজটের সম্ভাবনা থাকায় নগরবাসীকে সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন যেসব এলাকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ০৮:৫৬:১৪
রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন যেসব এলাকা
ছবি : সংগৃহীত

সিলেট নগরীর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য একটি জরুরি খবর রয়েছে। জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণমূলক কাজের জন্য আজ রোববার ১৪ ডিসেম্বর নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় রোববার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩/১১ কেভি লাক্কাতুড়া উপকেন্দ্রের আওতাধীন কাকুয়ারপাড় এয়ারপোর্ট থানা বাইশটিলা ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস ধোপাগুল বনশ্রী বাদামবাগিচা পাহাড়িকা ও বড়বাজার এলাকা।

এছাড়া লাক্কাতুড়া স্টেডিয়াম ফিডারের আওতাধীন লাক্কাতুড়া বাজার মুসলিমপাড়া মালনীছড়া বাঁশবাড়ী গলির মুখ আঙ্গুর মিয়ার গলির মুখ রূপসা আবাসিক এলাকা খাসদবির প্রাইমারি স্কুল ইসরাইল মিয়ার গলি দারুস সালাম মাদ্রাসা রোড বড়শালা মসজিদের আশপাশ পর্যটন ফরিদ্বাবদ সিলভার সিটি ও কেওয়াছড়া এলাকাতেও বিদ্যুৎ থাকবে না। হিলুয়াছড়া চা বাগান মহালদিক উমদারপাড়া আলাইবহর লিলাপাড়া দাপনাটিলা সাহেবের বাজার কালাগুল লালবাগ পীরেরগাঁও ছালিয়া রঙ্গিটিলা ও সালুটিকরঘাট এলাকাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অর্থাৎ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে লাক্কাতুড়া উপকেন্দ্রের বড় বাজার বনশ্রী এবং বাদামবাগিচা ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইলাশকান্দি উদয়ন আনার মিয়ার গলি সৈয়দ মুগনি চৌকিদেখী বাঁশবাড়ি গলি সিলসিলা গলি রূপসা গলি মোল্লাপাড়া গলি এবং বড় বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে ট্রান্সফরমারের জরুরি মেরামত বিদ্যুৎ লাইনের উন্নয়ন ও গাছপালার শাখা প্রশাখা কাটার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে সহযোগিতা চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।


খুলনায় জোড়াগেটে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান 

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ২০:৪৩:১২
খুলনায় জোড়াগেটে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান 
ছবি : সংগৃহীত

খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকা জোড়াগেটে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এইচআরসি ভবনের পাশের গলিতে অবস্থিত ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের একেবারে মধ্যবর্তী ও জনবসতিপূর্ণ স্থানে এমন একটি অস্ত্রের কারখানা আবিষ্কার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জোড়াগেট এলাকার দোহা আয়রন ফাউন্ডার নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। সেখানে লোহার কারখানার আড়ালে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল।

পুলিশের অভিযানে কারখানাটি থেকে অস্ত্র তৈরির ছাঁচ সীসা ট্রিগার ও ট্রিগার গার্ডসহ অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে বড় ধরনের নাশকতার জন্য অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন দোহা আয়রন ফাউন্ডার কারখানার মালিক নজরুল এবং তার দুই কর্মচারী শহিদুল ও আকবর আলী। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানান দোহা আয়রন ফাউন্ডারে সাধারণত লোহালক্কড়ের কাজ হতো বলে তারা জানতেন। কিন্তু এর ভেতরে যে মারণাস্ত্র তৈরি হতো তা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। শহরের এমন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এতদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।


আইনি লড়াই শেষে এবার ভোটের মাঠে নামছেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ২০:২২:০৪
আইনি লড়াই শেষে এবার ভোটের মাঠে নামছেন অ্যাটর্নি জেনারেল
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : কালবেলা

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীর শেকড় যতই শক্তিশালী হোক না কেন তা টেনে উপড়ে ফেলা হবে। শনিবার ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মালিথীয়া গ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন খুব শিগগির অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছেড়ে তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করবেন।

হাদির ওপর হামলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন হাদির ওপর আক্রমণ যে বা যারাই ঘটাক আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধীর যত শেকড় থাক না কেন সমস্ত শেকড় টেনে তুলে ফেলা হবে। তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে এবং যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম অগ্রদূত ছিল শরিফ ওসমান হাদি। হাদি আততায়ীর গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তাই তার সুস্থতার জন্য তিনি বিশেষ প্রার্থনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ঘোষণা দেন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। তিনি বলেন আগামী দিন আপনাদের সঙ্গে খুব অচিরেই দেখা হবে। আমি সবকিছু ছেড়ে এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদ ছেড়ে আপনাদের কাছে আবার ফিরে আসব। একজন ভোটপ্রার্থী হিসেবে যখন ফিরে আসব আপনাদের সঙ্গে আবার আমার কথা হবে। সুখ দুঃখের কথা হবে এবং আনন্দের কথা হবে। আমি যেন আপনাদের মাঝে এসে আমার সততা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আপনাদের সেবা করতে পারি।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। যত বাধা বা প্রাচীর আসুক নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ওই বিশেষ প্রার্থনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী মোল্লা খুলনা বিভাগীয় কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান আলী বিশ্বাস মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম হিরো শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ।


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ১২:২০:৫২
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং এটি একটি বড় ধরনের সামাজিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে তাদের মানবিক সহায়তা এবং মৌলিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা হলেও সম্প্রতি কিছু অশুভ দিক সামনে এসেছে। বিশেষ করে মাদক চর্চা ও ব্যবহারের বিষয়টি এখন অত্যন্ত আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে অভিযোগ এসেছে যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেদারসে মাদক প্রবেশ করছে এবং ব্যবহার হচ্ছে। এই মাদক মূলত মিয়ানমার থেকে আসে যেখানে তা অবৈধভাবে উৎপাদিত হয়। ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও মানবাধিকার সংস্থার মতে এই মাদক শুধু রোহিঙ্গাদের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না বরং বাংলাদেশের সমাজ ও নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে। মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন চায়ংদর এবং রাখাইন রাজ্য থেকে প্রচুর পরিমাণে মাদক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে ক্যাম্পে মাদকের ব্যবহার মূলত যুবক ও তরুণদের মধ্যে বেশি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের মানসিক চাপ হতাশা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। ক্যাম্পের বদ্ধ জীবনে কর্মসংস্থানহীন তরুণরা হতাশা কাটাতে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া অপরাধী চক্রগুলোর প্রলোভনও এখানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। মাদক ব্যবহারের ফলে ক্যাম্পের ভেতরে নানাবিধ সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্থানীয় জনসংখ্যার জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ প্রভাব এখন বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে পড়ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলাগুলোতে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। চুরি ছিনতাই ও হেনস্তার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক চোরাচালান ও ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা মাদক খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সরকার ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক তদারকি বাড়াতে হবে যাতে ক্যাম্পে মাদক প্রবেশ রুখে দেওয়া যায়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা যুবকদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং ক্যাম্পে স্কুল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক সহায়তা দেওয়াও জরুরি।

মাদক ব্যবহার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি সামাজিক মানবিক এবং নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ। এটি শুধু শরণার্থীদের জন্য নয় বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকাঠামোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বাড়তি চাপ। তাই মাদক প্রতিরোধের জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সমস্যার কুফল দেশের মাটিতে আরও গভীরভাবে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


ওসমান হাদির বাড়িতেে দুর্ধর্ষ চুরি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ১২:০১:০৭
ওসমান হাদির বাড়িতেে দুর্ধর্ষ চুরি
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জন্য শুক্রবার দিনটি ছিল চরম দুর্ভাগ্যের। রাজধানীর বিজয়নগরে তিনি যখন সন্ত্রাসীদের গুলিতে জীবনমরণ সন্ধিক্ষণে লড়ছেন ঠিক সেই রাতে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর রাতে নলছিটি শহরের খাসমহল এলাকায় হাদির পৈতৃক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমান হাদির চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে পরিবারের সদস্যরা বিকেলেই তড়িঘড়ি করে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন। এই সুযোগে বাসায় কেউ না থাকায় জানালা ভেঙে চোর ঘরে প্রবেশ করে। তবে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে বা ঘর থেকে কী কী নেওয়া হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি আরিফুল আলম জানান খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য এর আগে শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।


গোপালগঞ্জে আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ১১:০৬:১৬
গোপালগঞ্জে আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ
ছবি : সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিকট শব্দে একই স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। রাতের নিস্তব্ধতায় এই বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে বিস্ফোরণ ঘটানোর একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিন রাস্তার মোড়ে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

ঘটনার পর এক প্রেস নোটের মাধ্যমে পুলিশ জানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা গোপালগঞ্জ জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনের তিন রাস্তার মোড়ে দুটি হাতে বানানো পটকা সাদৃশ্য বস্তু নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে এলাকায় বিকট আওয়াজের সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থল হতে সংগৃহীত আলামত এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


শনি-রবিবার বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ০৯:৫৯:৩৭
শনি-রবিবার বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সফরমারের জরুরি সংস্কার, বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিতরণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী শনি ও রবিবার সিলেট নগরী ও আশপাশের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ–১ ও ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীদের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ লাইনের উন্নয়নমূলক কাজ, ট্রান্সফরমারের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং বিতরণ লাইনের আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের অংশ হিসেবে আগামী ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা ১১ কেভি শিবগঞ্জ ফিডার ও ১১ কেভি উপশহর ফিডারের আওতাভুক্ত এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এই সময় শিবগঞ্জ, সবুজবাগ, টিলাগড়, বোরহানবাগ, হাতিমবাগ, লামাপাড়া, রাজপাড়া এবং আশপাশের এলাকাগুলো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে।

একই দিনে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আরও ৮ ঘণ্টা ৩৩/১১ কেভি লাক্কাতুড়া উপকেন্দ্রের আওতাধীন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বড় বাজার, বনশ্রী ও বাদামবাগিচা ফিডারের আওতাধীন বনশ্রী, বাদামবাগিচা, ইলাশকান্দি, উদয়ন, আনার মিয়ার গলি, সৈয়দ মুগনি, লাক্কাতুড়া বাজার, মুসলিমপাড়া, চৌকিদেখী, বাঁশবাড়ি গলি, সিলসিলা গলি, রূপসা গলি, আঙ্গুর মিয়ার গলি, মোল্লাপাড়া গলি, পাহাড়িকা, মালনীছড়া, খাসদবির প্রাইমারি স্কুল এলাকা, ইসরাইল মিয়ার গলি, দারুস সালাম মাদরাসা রোড, বড় বাজার ও সংলগ্ন এলাকা।

অন্যদিকে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৩/১১ কেভি লাক্কাতুড়া উপকেন্দ্রের আওতাধীন ১১ কেভি ফিডারের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই তালিকায় রয়েছে এয়ারপোর্ট থানা এলাকা, বাইশটিলা, কাকুয়ারপাড়, ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস সড়ক, ধোপাগুল, বনশ্রী, বাদামবাগিচা, পাহাড়িকা, বড় বাজার, লাক্কাতুড়া বাজার, মুসলিমপাড়া, মালনীছড়া, বাঁশবাড়ী গলির মুখ, আঙ্গুর মিয়ার গলির মুখ, রূপসা আবাসিক এলাকা, খাসদবির প্রাইমারি স্কুল, ইসরাইল মিয়ার গলি, দারুস সালাম মাদরাসা রোড এবং বড় বাজার এলাকা।

এছাড়াও নির্ধারিত সময়ে আবাদানি, বড়শালা মসজিদের আশপাশের আংশিক এলাকা, পর্যটন, ফরিদাবাদ, সিলভার সিটি, কেওয়াছড়া, হিলুয়াছড়া চা-বাগান, মহালদিক, উমদারপাড়া, আলাইবহর, লিলাপাড়া, দাপনাটিলা, সাহেবের বাজার, কালাগুল, লালবাগ, পীরেরগাঁও, ছালিয়া, রঙ্গিটিলা, সালুটিকরঘাট ও আশপাশের এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

-শরিফুল

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত

৪.৪ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা এমডির

৪.৪ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা এমডির

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (SALVO)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোম্পানির শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক... বিস্তারিত