জন্মভূমিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: সরকারের পট পরিবর্তনের পর প্রথম সফর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৮ ১১:৪৯:২৬
জন্মভূমিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: সরকারের পট পরিবর্তনের পর প্রথম সফর
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পঞ্চমবারের মতো দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জন্মভূমি পাবনায় পৌঁছেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটি রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর প্রথম পাবনা সফর।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পাবনা জেলা স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণ করে। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান। এর আগে সকাল ৯টায় তিনি ঢাকার তেজগাঁও হেলিপ্যাড থেকে পাবনার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

সফরসূচি ও কর্মসূচি

সফরসূচি অনুযায়ী, হেলিপ্যাডে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর বেলা ১১টায় আরিফপুর কবরস্থানে তিনি তাঁর মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারতের পর রাষ্ট্রপতি তাঁর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে তিনি সার্কিট হাউজে রাত্রীযাপন করবেন।

সফরের শেষ দিন রবিবার সকালে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

এর আগের সফরগুলো

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই নিয়ে পাঁচবার পাবনা সফর করলেন। এর আগে তিনি ১৫ মে প্রথম, ২৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ৯ জুন চতুর্থবারের মতো পাবনায় সফর করেন।


চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না:  মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:৩৪:৪৪
চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না:  মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মহান আত্মত্যাগ ও রক্তের ঋণ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং ভুল করলে এবার জাতি কাউকে রেহাই দেবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় (LGRD) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত মেগা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু পিরোজপুর জেলাতেই এলজিইডি (LGED) থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে, অথচ মাঠপর্যায়ে কোনো কাজই হয়নি। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (IEB)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ করেন।

আইইবি (IEB) মিলনায়তনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশের শীর্ষ প্রকৌশলীদের একটি বৈষম্যহীন এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার মূল কারিগর হওয়ার আহ্বান জানান এলজিইডি মন্ত্রী। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের ওপর পুরো জাতির অনেক আশা ও ভরসা রয়েছে। তাই দেশের উন্নয়ন বাজেট ও প্রকল্পগুলোর সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের লুটপাটের উদাহরণ টেনে তিনি প্রকৌশলীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, পিরোজপুরের মতো হাজার হাজার কোটি টাকার এই প্রাতিষ্ঠানিক হরিলুট ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট বন্ধে এখন থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। নতুন বাংলাদেশের এই পুনর্গঠন পর্বে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কোনো ধরণের আর্থিক অনিয়ম ও ভুল করলে জাতি এবার কাউকে ক্ষমা করবে না বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন।

/আশিক


রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:২৩:১৫
রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পাষণ্ড সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ‘মৃত্যুদণ্ড’ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে দেশবাসীকে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকার শিশু ও নারী নির্যাতনের যেকোনো ঘটনায় সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ বা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি যাতে এভাবে নারী বা শিশুর ওপর হাত তোলার সাহস না পায়, তা এই দ্রুততম বিচারের মাধ্যমেই প্রমাণ করা হবে।

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেগা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, দেশের প্রচলিত ও নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই দ্রুততম সময়ে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, আজ দুপুরে ত্রিশালের বইলরে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রামিসা হত্যার বিচার নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর, বিকেলে মূল নজরুল জয়ন্তীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিচার কার্যকরের সুনির্দিষ্ট ‘এক মাসের’ ডেডলাইন (Deadline) ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও যোগ করেন, একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও সরকার আইনের শাসন বজায় রেখে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে শতভাগ বদ্ধপরিকর।

/আশিক


শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৮:৪২:০৯
শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!
ছবি : সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অফিশিয়াল নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী কায়দায় বেক্সিমকো এভিয়েশনকে সুকৌশলে ‘আকিজ-বশির এভিয়েশন’ নামে রূপান্তর এবং রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের আগেই বিমানবন্দরের ভিআইপি হ্যাঙ্গার অবৈধভাবে দখল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক বেসামরিক বিমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান থেকে রাতারাতি বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার ব্যবসার লাইসেন্স (AOC) হাতিয়ে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উন্মোচন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই নজিরবিহীন জালিয়াতির মূল মাস্টারমাইন্ড হলেন বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক এবং আকিজ-বশির এভিয়েশনের বর্তমান সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো এভিয়েশন চাপে পড়লে, ক্যাপ্টেন গুলজার মালিকপক্ষের দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে সিভিল এভিয়েশনকে চিঠি দেন।

তবে তৎকালীন ডিএফও ক্যাপ্টেন জাহিদুর রহমানসহ একাধিক পাইলট দাবি করেছেন, সিইও গুলজার সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বেক্সিমকোর এওসি (Air Operator Certificate) বাতিল করিয়ে আকিজ-বশির এভিয়েশনকে লাইসেন্স পাইয়ে দিতে কর্মচারীদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করেন।

২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিরেক্টর ফ্লাই অপারেশনসকে না জানিয়েই একটি ভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে নিয়ে ওড়েন ক্যাপ্টেন গুলজার। এই গোপন ফ্লাইটের পরই ২০২৫ সালের ৪ মার্চ বেক্সিমকোর এওসি সারেন্ডার করা হয় এবং মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই একই সিইও আকিজ-বশির এভিয়েশনের পক্ষে নতুন লাইসেন্সের আবেদন করেন।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত বেক্সিমকো এভিয়েশনের নামে হ্যাঙ্গার বরাদ্দ থাকলেও মার্চ মাস থেকেই তা আকিজ-বশির এভিয়েশনের অলিখিত কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, অথচ সিভিল এভিয়েশন তাদের নামে অফিশিয়াল বরাদ্দ দেয় আরও তিন মাস পর ৪ জুন।

আকিজ-বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশিরউদ্দীন এই দখলদারিত্বের বিষয় এবং বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার রাখার তথ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার জোনে অনুসন্ধানী দল সরেজমিনে গিয়ে শেখ বশিরউদ্দীনের সচল হেলিকপ্টারটির পাশেই বেক্সিমকো এভিয়েশনের রেজিস্ট্রেশনধারী দুটি হেলিকপ্টার জব্দ অবস্থায় দেখতে পায়।

উপদেষ্টা থাকাকালীন নিজেই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের চেয়ারম্যান হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়া শেখ বশিরউদ্দীনের এই লাইসেন্স কেলেঙ্কারি ও বেবিচকের তথ্য গোপনের বিষয়টি এভিয়েশন সেক্টরে এক মেগা দুর্নীতির সিন্ডিকেটকে পুনরায় সামনে এনেছে।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ


পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৮:২২:৫৮
পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

৫ আগস্টের পতিত স্বৈরাচারী শক্তির গভীর ষড়যন্ত্র এবং দেশের ভেতরের একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের গোপন আঁতাতের তীব্র সমালোচনা করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বৈরাচারের দোসরেরা বর্তমানে দেশে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়কে কৃত্রিম ইস্যু বানিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চায়।

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়নে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ঐতিহাসিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মেগা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দেন।

ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিশুদের স্কুল ব্যাগ-পোশাক ও মসজিদের ইমামদের জন্য বিশেষ ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া আলোচিত ‘রামিসা হত্যা’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর; তবে আইনি নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাউকে অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, দুপুর ২টায় তীব্র বৃষ্টির মাঝে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে ছাতা ছাড়াই নিজে খালে নেমে শ্রমিকদের সঙ্গে মাটি কেটে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ধরার খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী, যা উপস্থিত হাজারো জনতার মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

/আশিক


ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১২:০৫:১২
ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় পর্যায়ে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ঐতিহাসিক ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের সূচনা করতে আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

যদিও আগামী সোমবার (২৫ মে) জাতীয় কবির আসল জন্মবার্ষিকী, তবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার জাতীয় অনুষ্ঠানমালার সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী আজ শনিবার থেকেই ত্রিশালে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী উৎসব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নজরুলজয়ন্তী উৎসবের মহোৎসব উদ্বোধন করবেন। তবে নজরুল মঞ্চে যাওয়ার আগে ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে এই ঐতিহাসিক খালটির প্রথম খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, যা দীর্ঘ বছর পর পুনরায় খনন করা হচ্ছে।

সরকারি এই মেগা কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির বিশেষ সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাঁর পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

/আশিক


শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ২২:০০:৩৯
শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন গঠিত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আলোচিত ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তবে ওই আইনের বরাত দিয়ে সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশব্যাক (ঢালাও পুশব্যাক) বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড এবং দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মেগা ইস্যুতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেন।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন কট্টরপন্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গতকাল বুধবার (২০ মে) সিএএ-এর তালিকার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স’ বা বিএসএফের (BSF) হাতে তুলে দেওয়ার যে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক আলটিমেটাম দিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এর জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি বিষয়।

ভারতের ‘সিএএ’ (CAA) কিংবা আসামের ‘এনআরসি’ (NRC) তাদের নিজস্ব নাগরিকদের বৈধতা নির্ধারণের অভ্যন্তরীণ আইন-কানুন। সার্বভৌম দেশ হিসেবে সেখানে আমাদের কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা নাক গলানোর অবকাশ নেই। তবে ভারতের ভেতরের কোনো জটিলতার জেরে আমাদের দেশের সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাকের ঘটনা না ঘটতে পারে, সে জন্য বিজিবিকে (BGB) সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে ভারতে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমরা তো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কোনো অনানুষ্ঠানিক উপায়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই।

ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অফিশিয়াল প্রত্যার্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা চাই তিনি বাংলাদেশে ফিরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আদালতের মুখোমুখি হোন এবং নিজের সমস্ত মামলার আইনি মোকাবিলা করুন।”

/আশিক


রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ২১:৫৩:১৮
রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের শোকসন্তপ্ত মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের গভীর সমবেদনা জানাতে আজ রাতেই সরাসরি তাঁদের পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিশ্বস্ত দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) পূর্বনির্ধারিত মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রামিসার পল্লবীর ভাড়া বাসায় পৌঁছাবেন।

সেখানে তিনি শোকে পাথর হয়ে যাওয়া শিশুটির মা-বাবাকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা দেবেন এবং এই বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বস্ত করবেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর অবুঝ শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত ও বীভৎস মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে তার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই লোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবির বিশেষ দল দ্রুততম সময়ে মেগা অভিযানে নেমে প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল পলাতক ঘাতক ও পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও নিবিড় তদন্তের পর, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার কথা পুরোপুরি স্বীকার করে ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।

/আশিক


এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৪১:১৯
এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।

সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৪১:১৯
এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।

সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

/আশিক

পাঠকের মতামত: