নবীজির যে ১০টি ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে

প্রায় ১৪০০ বছর আগে এমন এক মহামানব পৃথিবীতে এসেছিলেন, যিনি এমন কিছু ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা তখন কল্পনাতেও আনা যেত না। তিনি বলেছিলেন দুই পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের পতন, মরুভূমির বুকে আকাশচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণ, সুদের ব্যাপকতা এবং আরও অনেক কিছু। আজ আমরা সেই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে আমাদের চারপাশে বাস্তবরূপে দেখছি। তিনি হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), যিনি আল্লাহর রহমত হিসেবে সমগ্র মানবজাতির জন্য এসেছিলেন। তিনি নিজে থেকে অদৃশ্য জ্ঞান জানতেন না, বরং এসব ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত মুজিজা, যা তার নবুওয়ত ও সত্য বার্তার অন্যতম স্পষ্ট নিদর্শন। এই প্রতিবেদনে তার এমন ১০টি ভবিষ্যদ্বাণী তুলে ধরা হলো, যা সময়ের পরিক্রমায় অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
১. রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিজয়: মহানবী (সাঃ) যখন মক্কায় নিপীড়িত ছিলেন, তখনও তিনি সাহাবীদেরকে বিশ্বের দুই পরাশক্তি রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের পতন এবং মুসলমানদের হাতে তাদের সম্পদ আসার সুসংবাদ দেন। তিনি বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে আমার জন্য সংকুচিত করে দিয়েছেন এবং আমাকে এর পূর্ব ও পশ্চিম সীমানা দেখানো হয়েছে। আর যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে, ততটুকুতে অচিরেই আমার উম্মতের রাজত্ব বিস্তার লাভ করবে।" তার ইন্তেকালের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই হযরত ওমর (রাঃ)-এর শাসন আমলে মুসলমানদের হাতে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং রোমানদের প্রধান প্রধান এলাকা, যেমন শাম (সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও জর্ডান মিলে গঠিত) এবং মিশর বিজয় হয়।
২. খেলাফতের মেয়াদকাল: নবীজি (সাঃ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আদর্শ শাসন বা খেলাফত থাকবে মাত্র ৩০ বছর। এরপর শুরু হবে রাজতন্ত্র। তিনি বলেন, "নবুয়ত থাকবে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা করবেন। তারপর তিনি তা উঠিয়ে নেবেন। তারপর নবুয়তের পদ্ধতিতে খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে তা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী থাকবে। তারপর আল্লাহ তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর হবে হানাহানিপূর্ণ রাজত্ব।" ঠিক ৩০ বছর পরেই হযরত আলী (রাঃ)-এর শাহাদতের মাধ্যমে খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং মুসলিম বিশ্বে রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা শুরু হয়।
৩. নির্দিষ্ট সাহাবীদের শাহাদাত: তিনি তার অত্যন্ত প্রিয় সাহাবীদের শেষ পরিণতি সম্পর্কেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ)-কে বলেছিলেন, "আফসোস আম্মারের জন্য, তাকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।" পরে সিফফিনের যুদ্ধে আম্মার (রাঃ)-কে হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর দল হত্যা করে। এই ভবিষ্যদ্বাণী ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে এবং সেই সময়ের সাহাবীদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
৪. বাইজেন্টাইনদের পুনরুত্থান: কোরআনের সূরা রোমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে, পারস্যদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর রোমানরা (বাইজেন্টাইনরা) আবার অল্পদিনের মধ্যে বিজয়ী হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, "রোমানরা পরাজিত হয়েছে নিকটবর্তী এলাকায়। কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয়ী হবে কয়েক বছরের মধ্যেই।" এর ১০ বছরের মধ্যেই রোমানরা পারস্যকে পরাজিত করে, যা সেই সময়ের জন্য ছিল এক বিশাল বিষয় এবং পরে সত্য প্রমাণিত হয়।
৫. উঁচু ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা: কেয়ামতের আগে কী কী নিদর্শন প্রকাশ পাবে সে ব্যাপারে বলতে গিয়ে মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন, "যখন তোমরা দেখবে খালি পায়ের বস্ত্রহীন মেশপালকরা আকাশচুম্বি অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে, তখন কেয়ামতের অনেক নিদর্শন প্রকাশ পাবে।" ১৪০০ বছর আগে আরবের মেশপালকদের দ্বারা এত উঁচু ভবন তৈরি করার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু আজ তেল সমৃদ্ধ আরব দেশগুলোতে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে, যা কেয়ামতের এক সুস্পষ্ট নিদর্শন।
৬. সুদের ব্যাপকতা: তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, "এমন এক সময় আসবে যখন সুদ বা রিবা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। যে ব্যক্তি সুদ খাবে না, তার কাছেও এর ধুলিকণা পৌঁছে যাবে।" বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি, লেনদেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে সুদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা প্রায় অসম্ভব। এটি আমাদের অর্থনীতির একটি অনিবার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে সুদের লেনদেনে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
৭. পরিধান করেও উলঙ্গ নারী: জাহেলী যুগে এসে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছিলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। কেয়ামতের আগে নারীদের অশ্লীলতা নিয়ে তার অনুসারীদের সতর্ক করে গেছেন তিনি। তিনি বলেন, "কেয়ামতের আগে এমন একদল নারীর আবির্ভাব হবে যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ থাকবে। তারা নিজেকে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং অন্যের প্রতিও আকৃষ্ট হবে।" আজকের সমাজে পোশাকে শরীর ঢেকে রাখা সত্ত্বেও তা আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিকটুভাবে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রদর্শন করে, যা এই ভবিষ্যদ্বাণীকেই তুলে ধরে।
৮. হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধি: নবীজি (সাঃ) কেয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে 'হারজ' বা ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "মানুষ জানবে না কেন হত্যা করছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না কেন সে মারা গেল।" বর্তমান সময়ে আমরা দেখছি উদ্দেশ্যহীন সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ এবং গণহত্যার কারণে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই খুনি বা ভিকটিম জানেনা এর পেছনের মূল কারণ কি।
৯. ফোরাত নদীর উন্মোচন: তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ফোরাত নদী শুকিয়ে যাওয়ার পর একটি সোনার পাহাড় বেরিয়ে আসবে, যা নিয়ে মানুষ যুদ্ধ করবে এবং বেশিরভাগ মানুষ মারা যাবে। নবীজি (সাঃ) বলেন, "ততদিন পর্যন্ত কেয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না যতদিন না ফোরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় বের হবে। মানুষেরা এটি দখল করার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ যুদ্ধে শতকরা ৯৯ জনই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেই বলবে, আমি এ যুদ্ধে রেহাই পাব এবং স্বর্ণের পাহাড়টি দখল করে নেব।" বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফোরাত নদী দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং এর তলদেশ উন্মোচিত হচ্ছে। যদিও সোনার পাহাড় এখনও বের হয়নি, তবে এই নদীপথকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
১০. মসজিদে বিলাসিতা: আমরা বর্তমানে মদিনায় যে মসজিদে নববী দেখি, তা প্রথম নির্মিত হয়েছিল খেজুর গাছের খুঁটি ও উপরে খেজুর পাতা দিয়ে বানানো ছাউনি দিয়ে। তা এখন যুগে যুগে সংস্কার করে বিশাল মসজিদে পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বেও অনেক বড় বড় মসজিদ আমরা দেখতে পাই। নবীজি (সাঃ) বলেছেন, "লোকেরা মসজিদে পরস্পরের মধ্যে নির্মাণ ও কারুকার্য নিয়ে গর্ব না করা পর্যন্ত কেয়ামত হবে না।" বর্তমানে অনেক মসজিদকে বহিরাগত সৌন্দর্যের দিক দিয়ে প্রাসাদ বা বিলাসবহুল ভবনের মতো বানানো হলেও এর ভেতরের ইবাদতের গুণগত মান কমে যাচ্ছে।
আমরা আমাদের জীবনকালে মহানবী (সাঃ)-এর দেওয়া বহু ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য হতে দেখলাম। এটি কেবল ইতিহাস নয়, এটি মুমিনদের জন্য এক বিশাল বার্তা। এসব ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ করে যে তিনি আল্লাহর সত্য নবী ছিলেন। যারা তার নবুয়ত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তাদের জন্য এই ঘটনাগুলোই যথেষ্ট প্রমাণ। সমাজে যখন একের পর এক ফিতনা বা খারাপ সময় আসছে, তখন আমাদের করণীয় হলো তার দেখানো পথে ফিরে আসা এবং কেয়ামতের জন্য প্রস্তুত হওয়া। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নবীজির দেখানো পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার বিপরীতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৭৪১ জন যাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন; ফলে নির্ধারিত জাতীয় কোটার একটি বড় অংশই এখনও ফাঁকা রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হজ নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর পর আর কোনোভাবেই সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১। সার্কুলারে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই শুরু হওয়া এই নিবন্ধনের সময়সীমা পার হওয়ার পর সৌদি সরকারের কাছে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করা হবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সৌদি পর্বের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের অর্থ স্থানান্তর করা হবে। একই সাথে চূড়ান্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে শুরু হবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ প্রদান, বাধ্যতামূলক টিকাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কোটা পূরণ হতে এখনও ৭৪ হাজার ৭৫৯ জনের নিবন্ধন বাকি রয়েছে।
/আশিক
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
২০২৭ সাল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকতেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আসন্ন বছরের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গভীর কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মাসের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।
এরই মধ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস। এর ফলে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পবিত্র রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচটি চন্দ্রমাসে এসে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সন্ধ্যায় যদি আকাশে একফালি চাঁদের দেখা মেলে, তবে ওই রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করবেন প্রথম তারাবির নামাজ এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পালন করবেন প্রথম রোজা।
তবে নির্ধারিত সন্ধ্যায় যদি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান না হয়, সে ক্ষেত্রে রমজান শুরুর সম্ভাব্য এই তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইসলামিক চান্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস যেহেতু কেবলই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামান্য তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাস শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে আগামী ১০ মার্চকে ধারণা করা হলেও সেই তারিখটিও পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।
/আশিক
আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর দিকনির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপরই মূলত সৌদি পর্বের বাড়িভাড়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ ইস্যু, বাধ্যতামূলক টিকা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের মোট হজযাত্রী কোটা নির্ধারিত রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৬ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন চূড়ান্ত করেছেন।
/আশিক
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
হজযাত্রীদের সার্বিক অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব করতে খাবারের ব্যয় যুক্ত করার পরও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অধিকতর সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্যাকেজভিত্তিক বিস্তারিত খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য যেখানে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা, ২০২৭ সালে তা ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকায়। বিশেষ বিষয় হলো, নতুন এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকার খরচটি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে হজ প্যাকেজ-২-এর ব্যয়ও ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা, যা ২০২৭ সালের জন্য ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সাধারণত সময়ের পরিক্রমায় নানা সেবামূলক খাতের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হলেও হাজিদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় সরকার বিমান ভাড়া ও প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পূর্ববর্তী বছরের হিসাবের স্বচ্ছতা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৪ হাজার ৩৮১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে সরকারের কাছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার (বিএফটিএন) মাধ্যমে সেই বাড়তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক হাজির নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের কঠোর জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণেই এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
চলতি বছরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফল ও নির্বিঘ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নিবিড় তদারকির কারণে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই হাজিরা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা খোদ সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানই প্রশাসনের মূল ব্রত উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনগুলোতেও সততা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
/আশিক
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকলেও আগ্রহীদের সাড়া মিলছে তুলনামূলকভাবে কম। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জনসহ সর্বমোট ২ হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যার তুলনায় এখনো প্রায় সম্পূর্ণ কোটাই খালি পড়ে রয়েছে।
প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত এই তারিখের পর আর সময় বাড়ানো হবে না। হজে গমনেচ্ছুকদের শুরুতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে; এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে হবে।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এবং স্বাস্থ্যগত যোগ্যতার ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৫ বছর। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিলতা, ডিমেনশিয়া, স্নায়বিক ও মানসিক রোগ, চলমান থেরাপিতে থাকা ক্যানসার রোগী এবং যক্ষ্মা বা হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যাওয়ার অনুমোদন পাবেন না। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বা শেষ দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
/আশিক
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি ৯ ভাদ্র এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১০ রবিউল আউয়াল। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময় অনুযায়ী ওয়াক্তের শুরু বিবেচনায় নিয়ে মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। তাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় প্রতিদিন সময়ের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিট এবং মাগরিবের ওয়াক্তও শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে।
পরবর্তী দিন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। ওই দিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে। ফলে ফজরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের আগেই নামাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি মুসল্লিদের খেয়াল রাখতে হবে।
ঢাকার বাইরে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নামাজের ওয়াক্তে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই অন্য জেলা বা বিভাগে অবস্থানকারী মুসল্লিদের নিজ এলাকার জন্য প্রযোজ্য নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সময় পরিবর্তিত হয়। এ কারণে প্রতিদিনের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নামাজ আদায় করা সুবিধাজনক।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং নতুন ইসলামি বর্ষ শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। তবে এসব ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত দিনক্ষণ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈজ্ঞানিক গণনার সাথে বাস্তব ক্ষেত্রে এক-দুই দিনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা সরাসরি নির্ভর করে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি আরবি মাস শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তাদের সিদ্ধান্তের আলোকেই যাবতীয় ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাথমিক হিসাব পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রমজানের নতুন চাঁদ উদিত হতে পারে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি বা ২৯ শাবানের সন্ধ্যায় আরব আমিরাতসহ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে চাঁদ স্পষ্ট দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, কারণ ওই সময়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই চাঁদ অস্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশটিতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।
পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের শুরুর ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতরের সময় নির্ধারিত হবে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের নতুন চাঁদ আকাশে দেখা গেলে পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হবে। আর যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায় এবং রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে, তবে ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে; অর্থাৎ ৯ বা ১০ মার্চের যেকোনো একদিন মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর পালনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যার আগের দিন ৯ জিলহজ পালিত হয় পবিত্র আরাফাহ দিবস। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসারে, ২০২৭ সালের ৬ মে বৃহস্পতিবার বা ৭ মে শুক্রবার জিলহজের চাঁদের দেখা মিলতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের ১৬ মে রবিবার কিংবা ১৭ মে সোমবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা ঘটবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, জিলহজ মাসের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের ৫ জুন শনিবার থেকে ৭ জুন সোমবারের মধ্যে যেকোনো একদিন নতুন ইসলামি বর্ষের প্রথম দিন বা ১ মহররম সূচিত হতে পারে। তবে সমস্ত ধর্মীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।
/আশিক
মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অনুমোদন করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালায় আবাসন সুবিধাকে ‘ইকোনমি’ ও ‘ফার্স্ট ক্লাস’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আবাসন স্থাপনাগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘনসংক্রান্ত তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল-আনসারি জানান, সেবার নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মানদণ্ডে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, অতিথি কক্ষ ও অভ্যর্থনা এলাকার মান এবং জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
সেবার মান বজায় রাখতে লাইসেন্স অনুমোদনের আগে, কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে এবং পরিচালনাকালে—একাধিক ধাপে পরিদর্শন ও তদারকি চালানো হবে। ২০২৭ সালের হজে আবাসনসেবা দিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
/আশিক
চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবীর চূড়ান্ত তারিখ জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ বৃহস্পতিবার দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দৃশ্যমান না হওয়ায় আগামীকাল ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট (শনিবার) থেকে হিজরি ১৪৪৮ সনের রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু করা হবে।
সেই হিসাব অনুসরণ করে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধর্মীয় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পরমাণু শক্তির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ভিয়েনায় তুলে ধরলেন মন্ত্রী
- ব্যাট হাতে রূপকথার ঝড়, রেকর্ড বই তছনছ করে এলিট ক্লাবে তরুণ ভারতীয় তারকা
- শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেল চিত্র, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে দুই তারকার সরাসরি লড়াই
- টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানী ও আশপাশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
- সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মেগা ঋণ কর্মসূচি, মিলবে সাশ্রয়ী সুদে
- গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
- মক্কা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের বড় ঘোষণা, সতর্কবার্তা তেহরানের উদ্দেশে
- বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
- ‘শুধু পুরুষেরই কি তওবার অধিকার?’ এক সংলাপেই তোলপাড় পাকিস্তানি নাটক
- বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো
- নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
- ৮ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
- ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
- ৬ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য ইসির
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- ১ মিনিটের বিজ্ঞাপনে তোলপাড় নেটদুনিয়া, তীব্র সমালোচনার মুখে তারকা অভিনেত্রী
- নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
- ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
- মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের
- ডেঙ্গুর প্রকোপে নতুন রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের নতুন তথ্য
- হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল
- রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
- রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
- আগামী কয়েক দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
- চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
- বিশ্বকাপ বর্জনের নেপথ্যে কী ঘটেছিল? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল তদন্ত কমিটি
- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
- ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
- প্রস্তুতির ঘাটতি নয়, বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেই জিতেছে: প্যাট কামিন্স
- পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে
- ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
- ‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
- আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
- দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
- কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
- যোগ্যতা ছিল না, দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে: পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তোপ উপদেষ্টার
- ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
- দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
- ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে








