পাশ্চাত্যে উচ্চ শিক্ষা

হাঙ্গেরি: ইউরোপের হৃদয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৪ ১৫:৩৬:৪০
হাঙ্গেরি: ইউরোপের হৃদয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার

বিদ্যা অর্জনের নির্দেশনা সীমাহীন, আর সেই সীমারেখা পেরিয়ে ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত হাঙ্গেরি এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের শিক্ষার্থীদের নতুন গন্তব্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অনন্য সংমিশ্রণ—এই দেশটি আজ ইউরোপের শিক্ষা ও গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। “দানিয়ুবের তীরে জ্ঞান ও ভবিষ্যতের শহর” হিসেবে পরিচিত বুদাপেস্টে শিক্ষা গ্রহণ মানে শুধুমাত্র একাডেমিক উৎকর্ষ নয়, বরং এক পরিপূর্ণ ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা অর্জন।

কেন হাঙ্গেরি পড়াশোনার জন্য বেছে নেবেন?

অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝখানে অবস্থিত এই দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শেনজেন চুক্তিভুক্ত, ফলে শিক্ষার্থীরা একসাথে বহু দেশের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। উন্নত মানের রিসার্চ সুবিধা, আন্তর্জাতিক কোর্স, এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ হাঙ্গেরিকে তুলনামূলক কম খরচে উন্নত শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

বুদাপেস্ট বিশ্বের অন্যতম বাসযোগ্য শহর—শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার মানে এটি ইউরোপের শীর্ষ শহরগুলোর একটি। শিক্ষার পাশাপাশি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন।

উচ্চশিক্ষায় যোগ্যতা ও ভাষাগত প্রয়োজনীয়তা

হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর পর্যায়ে ভর্তি হতে HSC বা সমমানের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। মাস্টার্সে ব্যাচেলর এবং পিএইচডি পর্যায়ে মাস্টার্স ডিগ্রি আবশ্যক। ভাষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে IELTS স্কোর ৫.৫–৬.৫ বা TOEFL ৭২–৯০ পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় Medium of Instruction (MOI) গ্রহণ করে, বিশেষত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। কিছু কোর্সে Duolingo বা PTE স্কোরও বৈধ।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও জনপ্রিয় বিষয়সমূহ

হাঙ্গেরির বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Eötvös Loránd University (ELTE)
  • University of Szeged
  • University of Debrecen
  • Budapest University of Technology and Economics (BME)
  • University of Pécs
  • Corvinus University of Budapest
  • Hungarian University of Agriculture and Life Sciences

এখানে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্থাপত্য, আইন, ব্যবসা ও অর্থনীতি, এবং মনোবিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

খরচ ও স্কলারশিপ সুবিধা

হাঙ্গেরিতে পড়াশোনার খরচ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম—প্রতি বছর প্রায় €1,500 থেকে €5,000 পর্যন্ত। মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় €300–€600 এর মধ্যে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকারি স্কলারশিপ হলো Stipendium Hungaricum, যা পুরো টিউশন ফি ছাড়, মাসিক স্টাইপেন্ড (HUF 43,700–180,000), বিনামূল্যে আবাসন বা আবাসন ভাতা, স্বাস্থ্যবীমা, এবং পরিবার নিয়ে থাকার সুযোগ প্রদান করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ও সরকারি গবেষণা বৃত্তিও পাওয়া যায়।

ভিসা প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরির ভিসা আবেদন করা যায় ঢাকার VFS Global-এর মাধ্যমে। প্রয়োজন হবে:

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার
  • স্কলারশিপ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • স্বাস্থ্য বীমা
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • বৈধ পাসপোর্ট ও ছবি

ভিসা প্রক্রিয়া সাধারণত ৪–৫ সপ্তাহ সময় নেয়, এবং আবেদন ফি প্রায় ৫০ ইউরো।

পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ার ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

ডিগ্রি শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা ৯–১২ মাসের Job Search Visa পান, যার মাধ্যমে তারা ইউরোপজুড়ে চাকরির আবেদন করতে পারেন। চাকরি পেলে সহজেই Work Permit ও পরবর্তীতে Permanent Residence (PR)-এর জন্য আবেদন করা যায়। আইনত ৩ বছর বসবাসের পর National Permanent Residence Permit (NPRP) পাওয়া সম্ভব, যা ফ্রান্স, ইতালি বা পর্তুগালসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়।

জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট তার অসাধারণ স্থাপত্য, সেতু, আর্ট গ্যালারি ও দানিয়ুব নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এখানে নিরাপত্তা সূচক অত্যন্ত উচ্চ, ক্রাইম ইনডেক্স মাত্র ৩৩.৮—যা ইউরোপের সবচেয়ে নিরাপদ দেশগুলোর একটি। শিক্ষার্থীরা চাইলে সংগীত, সংস্কৃতি, ও ভ্রমণের মাধ্যমে ইউরোপীয় জীবনধারার স্বাদ নিতে পারেন।

ইউরোপীয় স্বপ্নের দুয়ারে হাঙ্গেরি

যে দেশে তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায় উচ্চমানের শিক্ষা, যেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠে সৃজনশীল ভবিষ্যৎ—সেই হাঙ্গেরি এখন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের গন্তব্য। আপনি যদি বিশ্বমানের ডিগ্রি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, ও ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত খুঁজে থাকেন, তবে হাঙ্গেরিই হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।


দুপুরের রেস্তোরাঁয় আকস্মিক অসুস্থতার পর চিরবিদায় নিলেন দেশের গুণী অধ্যাপক

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:১৪:৩৬
দুপুরের রেস্তোরাঁয় আকস্মিক অসুস্থতার পর চিরবিদায় নিলেন দেশের গুণী অধ্যাপক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে ৮৫ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে অধ্যাপনা করেছেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার আন্দোলনে তিনি আজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় তাঁর অবদান

পত্রিকা সম্পাদনা

তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি উচ্চমানের সাময়িকপত্র সম্পাদনা করে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য বই

তাঁর প্রকাশিত ২০টিরও বেশি মৌলিক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’ এবং ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’।

সম্পাদিত গ্রন্থ

তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘স্বদেশচিন্তা’-এর মতো একাধিক আকর গ্রন্থ।

স্বীকৃতি

মননশীল প্রবন্ধ ও গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন।

/আশিক


অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান: ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৮:১২:০৮
অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান: ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। রোববার (২৮ জুন) বিকেলে পিএসসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফল ও পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪৭তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার পদে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনসহ সর্বমোট ১ হাজার ৫২১ জন প্রার্থীকে সরকারের শূন্য পদগুলোতে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ বা মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে এই ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল, যাতে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৩১ জন ক্যাডার প্রত্যাশী প্রার্থী। পরবর্তী সময়ে মে মাস থেকে পিএসসির প্রধান কার্যালয়ে তাদের মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয় এবং সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।

/আশিক


বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ হলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ২১:৫৫:৪২
বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ হলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আবাসন সংকট নিরসনে এবং ক্যাম্পাসের এক নির্মম অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ‘আবরার ফাহাদ’ নামে একটি নতুন ছাত্র হল নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ধরনের অপচয় বা অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শনিবার (২৭ জুন) বুয়েটের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে নামমাত্র বরাদ্দের বিপরীতে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। শিক্ষা খাতের এই বরাদ্দকে জিডিপির বর্তমান ২ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেট বাড়াতে সবসময় প্রস্তুত, তবে শর্ত হলো সেই রাষ্ট্রীয় টাকার প্রতিটি পয়সা চরম সততার সাথে কাজে লাগাতে হবে। যারা মেধার কঠিন প্রতিযোগিতা দিয়ে আজকে উচ্চশিক্ষার এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে আসছে, আমরা যদি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের থাকার ন্যূনতম আবাসন বা হলের জায়গাটুকু দিতে না পারি, তবে সেই বড় বড় বাজেটের কোনো প্রকৃত অর্থ থাকে না।

এহছানুল হক মিলন বুয়েটের পূর্বাচল ক্যাম্পাস নিয়ে এক বড় সুখবর দিয়ে জানান, এই ক্যাম্পাসের জন্য বরাদ্দকৃত জমির যে বকেয়া কিস্তির টাকা রয়েছে, তা বর্তমান সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এককালীন পরিশোধ করে দেবে। বুয়েটকে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো নিজে আয় করে জমি কেনার চিন্তা করতে হবে না, বরং রাষ্ট্র তার একাডেমিক ও গবেষণামূলক প্রসারে সবসময় পাশে থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বুয়েটেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ‘অ্যালামনাই কন্ট্রিবিউশন ফান্ড’ গঠনের তাগিদ দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, আমরা বুয়েটের মেধার অপচয় করতে চাই না, এই অমূল্য মেধাকে তার সঠিক জায়গায় কাজে লাগাতে চাই। বুয়েটের আবাসন সংকট নিরসনে এবং ক্যাম্পাসের নির্মম স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘বুয়েটের মেধাবী ছাত্ররা যেন নষ্ট না হয় এবং যে নির্মম স্মৃতি বুয়েটের পাতা থেকে কোনোদিন মুছে যাবে না, সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ নামে একটি নতুন ছাত্র হল নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বুয়েটে এই হলের নির্মাণকাজ সুনিশ্চিত করা হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হলের প্রভোস্ট, নবাগত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:৩৮:০৫
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ২০ জুলাই চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে। কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সহযোগিতারই ফল।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী তার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে শিক্ষা খাতের সার্বিক সংস্কার, গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার মন্ত্রণালয় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, কার্যভার গ্রহণের পর পরই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বড় সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল এই বৃত্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে যুক্ত হতো না। তবে এবার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে এবং বৃত্তি কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন থেকে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগাম প্রস্তুতির সুবিধার্থে এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য গৃহীত বর্তমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ हजार শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হয়েছে। দেশের সরকার প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী নিজে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেস’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই বিশেষ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২৮ ও ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী আয়োজনে ৩২টি সম্মেলন ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. এহসানুল হক মিলন জানান, গত ৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্র ও ছাত্রী উভয় বিভাগের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে চলা এই প্রতিযোগিতা আগামী ২০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত পর্বের ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে। এই ফাইনাল খেলার বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি ও কর্মসূচি পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

শিক্ষা খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি আনন্দময় ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পোশাক ও মিড-ডে মিলের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলো নিয়েও কাজ চলছে।

/আশিক


২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা; পরীক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ডের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৮:১৯:৩৭
২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা; পরীক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বোর্ডের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ আদান-প্রদানের জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) চালু করার পাশাপাশি ক্যালকুলেটর, হাতঘড়ি ব্যবহার এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময়সূচি স্পষ্ট করে বুধবার (১৭ জুন) বোর্ডের ওয়েবসাইটে তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সার্বক্ষণিক একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পরীক্ষাসংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা, তথ্য বা জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর (০২-২২৩৩৬৯৮১৫, ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩, ০১৭৫৬১০৩১৫২) অথবা ই-মেইল ([email protected]) ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

ক্যালকুলেটর ও হাতঘড়ি ব্যবহারের বিষয়ে বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটরের পাশাপাশি নির্ধারিত ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার হলে নন-প্রোগ্রামেবল কাঁটাযুক্ত এনালগ হাতঘড়ি ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের ব্যবস্থা করার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। তবে পরীক্ষা কক্ষে চূড়ান্তভাবে আসন গ্রহণ ও প্রবেশসংক্রান্ত পূর্বের সব নিয়মিত নির্দেশনা অপরিবর্তিত ও বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


প্রাথমিকের শিক্ষায় মেগা বদল,২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আসছে নতুন কারিকুলাম

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৮:৪৩:৩১
প্রাথমিকের শিক্ষায় মেগা বদল,২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আসছে নতুন কারিকুলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধারায় নিয়ে যাওয়ার এক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক, সৃজনশীল ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলামের আলোকে পাঠদান শুরু করা হবে। আর এই বিশাল লক্ষ্য ও রূপরেখা বাস্তবে রূপ দিতে দক্ষ এবং সুপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) দেশের ২৪টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিভাগীয় প্রধানসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক মানের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায়োগিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।

প্রাথমিকের এই নতুন কারিকুলামের বিশেষত্ব নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও পেশাদার প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

ববি হাজ্জাজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য এক বিশাল ও নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আগামী ৫ বছরে এই বিশেষায়িত খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এবং এই বিষয়গুলোতে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার পাথওয়ে’ গড়ে উঠবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়কে এখনই সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষায়িত শিক্ষক হিসেবে যেন সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। সে লক্ষ্যে স্নাতক পর্যায়েই কীভাবে তাদের উপযুক্ত শিক্ষণ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের সঙ্গে পেশাদার শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করতে পারে—সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে রোডম্যাপ তৈরি করতে চাই।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন কারিকুলামে সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু প্রথাগত সহশিক্ষা (Co-curricular) কার্যক্রম হিসেবে রাখা হচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামগ্রিক বিকাশের একটি মূল এবং বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক প্যানেল তৈরির বিষয়ে এখন থেকেই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির জন্য নতুন প্রবর্তিত ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবইয়ে ৪টি প্রধান অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে এই বিষয়গুলো দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত বিষয় হিসেবে যুক্ত হবে।

/আশিক


আমূল বদলাচ্ছে কারিকুলাম: বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছর ব্যাপক পরিবর্তন

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২১:৫২:১৯
আমূল বদলাচ্ছে কারিকুলাম: বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছর ব্যাপক পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সনাতন সনদ-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একে সম্পূর্ণ আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশের সব সাধারণ শিক্ষাধারার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের এই নতুন সংস্কার পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট বা সনদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। বিগত ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা খাতে যে গভীর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, তা একদিনে বা এক বছরে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়; তবে বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার ধাপে ধাপে পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।"

তিনি জানান, নতুন এই শিক্ষাসংস্কারের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সম্পূর্ণ নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘ক্রীড়া শিক্ষা’, ‘সংস্কৃতি শিক্ষা’ এবং নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের একটি বিশেষ বিষয়। একই সাথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই 'তৃতীয় ভাষা' শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন কারিকুলাম ও বইয়ের পরিমার্জন নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, "সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় পেয়েছিল, তাই সব পরিবর্তন একসঙ্গে দৃশ্যমান করা সম্ভব হয়নি। তবে চলমান এই সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক আকারে বাস্তবায়ন করা হবে।" ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে তিনি এক বিশাল প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে প্রায় ১৪ লাখ 'ট্যাব' সরবরাহ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, খেলাধুলা ও উদ্ভাবনী মেধার বিকাশে সরকারের একাধিক জাতীয় কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এ বছর রেকর্ড ২২ লাখের বেশি খুদে শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, যার জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যেখানে তরুণদের সেরা উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্য দেওয়া হবে বিশেষ 'সিড ফান্ডিং'। কারিগরি শিক্ষাকে সমাজে সম্মানজনক স্তরে নিতে জাতীয় স্কিলস কম্পিটিশন ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে একটি করে চারা বিতরণের ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ প্রকল্প চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।

/আশিক


শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়াতে ব্যর্থ হলে বেতন মিলবে না শিক্ষকদের

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:৪০:৩৬
শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়াতে ব্যর্থ হলে বেতন মিলবে না শিক্ষকদের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়ার দক্ষতা এবং গণিতের মৌলিক চার নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল ও ৫ মে দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। সচিবের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চার নিয়ম এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ৯০ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরবর্তী এক মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের মধ্যে এই দক্ষতার হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করা বাধ্যতামূলক।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকার প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের অন্তত ৫ পৃষ্ঠা উচ্চস্বরে শব্দ করে পড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং তা আগামী ১০ মের মধ্যে ছক আকারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, বর্তমান সরকারের শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের বুনিয়াদি শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলা ও ইংরেজি রিডিং পড়তে না পারা বা সাধারণ গণিত না জানা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সচিব স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব জেলাতেই এই কঠোর বার্তা কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই বেতন বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

/আশিক


মাধ্যমিক শিক্ষায় এআই বিপ্লব! চীন সরকারের সহায়তায় স্কুলে স্কুল বসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১২:২৪:১৪
মাধ্যমিক শিক্ষায় এআই বিপ্লব! চীন সরকারের সহায়তায় স্কুলে স্কুল বসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে মোট ৩০০টি অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। চীন সরকারের আর্থিক অনুদানে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, এই ক্লাসরুমগুলোতে বিশ্বমানের সব আধুনিক সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (IEP) সরবরাহ করা হবে।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে, যা ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীরা দেখার সুযোগ পাবে। এমনকি শিক্ষার্থীরা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করেই মুহূর্তের মধ্যে ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রকল্পের অধীনে কেবল ক্লাসরুম নয়, মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। এই ডাটা সেন্টারটি সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে।

ইতিমধ্যে ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই প্রকল্পের কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও চাঁদপুরের দুটি বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন শিক্ষার্থীদের মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে। ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এই প্রকল্প ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র : বাসস

পাঠকের মতামত: