পাশ্চাত্যে উচ্চ শিক্ষা

হাঙ্গেরি: ইউরোপের হৃদয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৪ ১৫:৩৬:৪০
হাঙ্গেরি: ইউরোপের হৃদয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার

বিদ্যা অর্জনের নির্দেশনা সীমাহীন, আর সেই সীমারেখা পেরিয়ে ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত হাঙ্গেরি এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের শিক্ষার্থীদের নতুন গন্তব্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অনন্য সংমিশ্রণ—এই দেশটি আজ ইউরোপের শিক্ষা ও গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। “দানিয়ুবের তীরে জ্ঞান ও ভবিষ্যতের শহর” হিসেবে পরিচিত বুদাপেস্টে শিক্ষা গ্রহণ মানে শুধুমাত্র একাডেমিক উৎকর্ষ নয়, বরং এক পরিপূর্ণ ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা অর্জন।

কেন হাঙ্গেরি পড়াশোনার জন্য বেছে নেবেন?

অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝখানে অবস্থিত এই দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শেনজেন চুক্তিভুক্ত, ফলে শিক্ষার্থীরা একসাথে বহু দেশের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। উন্নত মানের রিসার্চ সুবিধা, আন্তর্জাতিক কোর্স, এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ হাঙ্গেরিকে তুলনামূলক কম খরচে উন্নত শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

বুদাপেস্ট বিশ্বের অন্যতম বাসযোগ্য শহর—শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার মানে এটি ইউরোপের শীর্ষ শহরগুলোর একটি। শিক্ষার পাশাপাশি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন।

উচ্চশিক্ষায় যোগ্যতা ও ভাষাগত প্রয়োজনীয়তা

হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর পর্যায়ে ভর্তি হতে HSC বা সমমানের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। মাস্টার্সে ব্যাচেলর এবং পিএইচডি পর্যায়ে মাস্টার্স ডিগ্রি আবশ্যক। ভাষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে IELTS স্কোর ৫.৫–৬.৫ বা TOEFL ৭২–৯০ পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় Medium of Instruction (MOI) গ্রহণ করে, বিশেষত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। কিছু কোর্সে Duolingo বা PTE স্কোরও বৈধ।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও জনপ্রিয় বিষয়সমূহ

হাঙ্গেরির বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Eötvös Loránd University (ELTE)
  • University of Szeged
  • University of Debrecen
  • Budapest University of Technology and Economics (BME)
  • University of Pécs
  • Corvinus University of Budapest
  • Hungarian University of Agriculture and Life Sciences

এখানে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্থাপত্য, আইন, ব্যবসা ও অর্থনীতি, এবং মনোবিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

খরচ ও স্কলারশিপ সুবিধা

হাঙ্গেরিতে পড়াশোনার খরচ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম—প্রতি বছর প্রায় €1,500 থেকে €5,000 পর্যন্ত। মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় €300–€600 এর মধ্যে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকারি স্কলারশিপ হলো Stipendium Hungaricum, যা পুরো টিউশন ফি ছাড়, মাসিক স্টাইপেন্ড (HUF 43,700–180,000), বিনামূল্যে আবাসন বা আবাসন ভাতা, স্বাস্থ্যবীমা, এবং পরিবার নিয়ে থাকার সুযোগ প্রদান করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ও সরকারি গবেষণা বৃত্তিও পাওয়া যায়।

ভিসা প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরির ভিসা আবেদন করা যায় ঢাকার VFS Global-এর মাধ্যমে। প্রয়োজন হবে:

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার
  • স্কলারশিপ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • স্বাস্থ্য বীমা
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • বৈধ পাসপোর্ট ও ছবি

ভিসা প্রক্রিয়া সাধারণত ৪–৫ সপ্তাহ সময় নেয়, এবং আবেদন ফি প্রায় ৫০ ইউরো।

পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ার ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

ডিগ্রি শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা ৯–১২ মাসের Job Search Visa পান, যার মাধ্যমে তারা ইউরোপজুড়ে চাকরির আবেদন করতে পারেন। চাকরি পেলে সহজেই Work Permit ও পরবর্তীতে Permanent Residence (PR)-এর জন্য আবেদন করা যায়। আইনত ৩ বছর বসবাসের পর National Permanent Residence Permit (NPRP) পাওয়া সম্ভব, যা ফ্রান্স, ইতালি বা পর্তুগালসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়।

জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট তার অসাধারণ স্থাপত্য, সেতু, আর্ট গ্যালারি ও দানিয়ুব নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এখানে নিরাপত্তা সূচক অত্যন্ত উচ্চ, ক্রাইম ইনডেক্স মাত্র ৩৩.৮—যা ইউরোপের সবচেয়ে নিরাপদ দেশগুলোর একটি। শিক্ষার্থীরা চাইলে সংগীত, সংস্কৃতি, ও ভ্রমণের মাধ্যমে ইউরোপীয় জীবনধারার স্বাদ নিতে পারেন।

ইউরোপীয় স্বপ্নের দুয়ারে হাঙ্গেরি

যে দেশে তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায় উচ্চমানের শিক্ষা, যেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠে সৃজনশীল ভবিষ্যৎ—সেই হাঙ্গেরি এখন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের গন্তব্য। আপনি যদি বিশ্বমানের ডিগ্রি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, ও ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত খুঁজে থাকেন, তবে হাঙ্গেরিই হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।


সশরীরে নাকি ভার্চুয়াল? জ্বালানি সংকটে শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন মোড়

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৪০:৫৬
সশরীরে নাকি ভার্চুয়াল? জ্বালানি সংকটে শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে এক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজগুলোতে এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।

সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সপ্তাহে মোট ছয় দিনই সচল থাকবে। তবে এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি সশরীরে (অফলাইন) ক্লাসে উপস্থিত হবে এবং বাকি তিন দিন নিজ নিজ বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাসে অংশ নেবে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষকরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে ক্লাস পরিচালনা করবেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে জোড় ও বিজোড় রোল নম্বর বা দিন ভাগ করে এই অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয় করা হবে।

জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে পরিবহন খরচ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। যদিও শিক্ষামন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণ বজায় রাখতে পুরোপুরি অনলাইনে না গিয়ে এই ‘হাইব্রিড’ বা সমন্বিত মডেলটি বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

/আশিক


কেন্দ্র তালিকা দেখে নিন: এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় আপডেট

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২২:০০:২৪
কেন্দ্র তালিকা দেখে নিন: এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (৩০ মার্চ) বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের এই তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরাও বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে তাদের নির্দিষ্ট কেন্দ্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন। সাধারণত প্রতি বছর পরীক্ষার কয়েক মাস আগেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না হয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, কেন্দ্রে আসন বিন্যাস এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রতিটি কেন্দ্র সচিবকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্রে উল্লিখিত কেন্দ্র কোডের সাথে বোর্ডের প্রকাশিত এই তালিকার মিল দেখে নিতে পারবেন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালিকা দেখুন এখতে ক্লিক করুন এখানে…

/আশিক


এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬: নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ নির্দেশনা

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:৪৪:১১
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬: নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর এবং সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশাল পাবলিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ১১ দফার একটি বিশেষ নির্দেশনাবলী জারি করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এই নির্দেশনাগুলো প্রদান করা হয়। এতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরীক্ষার হলে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি রোধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ও কক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা অচল রয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে সরবরাহের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের নকল বা অন্য কোনো অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে দেহ তল্লাশি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের তল্লাশির ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে দেয়াল ঘড়ি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসসহ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাউশির আদেশে আরও জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্র সচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক কিংবা পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার্থে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাউশি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/আশিক


এপ্রিলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা; ১০টি কড়া নির্দেশনাসহ নীতিমালা প্রকাশ

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ১০:২২:৩২
এপ্রিলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা; ১০টি কড়া নির্দেশনাসহ নীতিমালা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনাসহ আচরণবিধি প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পাঁচটি প্রধান বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত মিলিয়ে ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মিলিয়ে আরও ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তির জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে মেধা তালিকার ভিত্তিতে ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে (৫০ শতাংশ করে) বৃত্তি প্রদান করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের জন্য যে ১০টি কড়া নিয়ম ও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে

পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা

১. প্রবেশপত্র ও উপস্থিতি: পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।

২. নিষিদ্ধ বস্তু: পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৩. ওএমআর শিট পূরণ: উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না।

৪. পরিদর্শকের স্বাক্ষর: উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটর বা কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষর থাকতে হবে; অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

৫. অপ্রাসঙ্গিক লেখা: উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না।

৬. খসড়া কাজ: খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রেই খসড়ার কাজ করতে হবে এবং পরে তা যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে।

৭. নিষিদ্ধ লিখন: উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না।

৮. হল ত্যাগ: প্রশ্নপত্র বিতরণের পর অন্তত এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না।

৯. উত্তরপত্র জমা: পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র বুঝিয়ে দিয়ে তবেই পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে।

১০. কর্তৃপক্ষের নিয়ম: এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য সকল নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি

পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।

অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না।

উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না।

উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা কোনোভাবে বিনষ্ট করা যাবে না।

/আশিক


২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় নতুন গাইডলাইন প্রকাশ

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৬:৫৩:৫১
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় নতুন গাইডলাইন প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার কেন্দ্র কমিটি গঠন নিয়ে নতুন এক বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। সোমবার প্রকাশিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী 'কেন্দ্র কমিটি' গঠন করতে হবে। এই কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (মাধ্যমিক) কাছে পাঠাতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা সদরের কেন্দ্রগুলোর জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং একজন সরকারি ও একজন বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তবে কোনো কেন্দ্রে সরকারি বিদ্যালয় না থাকলে দুইজন বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য করা যাবে। কেন্দ্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রধান পদাধিকার বলে কেন্দ্রসচিব ও কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদি কোনো কারণে কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান প্রধান এই দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তবে চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে অন্য কোনো অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্রসচিব নিয়োগ দেওয়া যাবে।

উল্লেখ্য যে, কেন্দ্র কমিটির চেয়ারম্যান স্বয়ং কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন। যদি কোনো অনিবার্য কারণে তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে তাঁর পরিবর্তে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সন্তান যদি সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তবে তিনি কোনোভাবেই কেন্দ্রসচিব হতে পারবেন না। ৫ এপ্রিলের সময়সীমার মধ্যে এই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বোর্ডকে অবহিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

/আশিক


লটারি প্রথা চূড়ান্ত বাতিল! স্কুলে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৬:৫১:২৩
লটারি প্রথা চূড়ান্ত বাতিল! স্কুলে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে বিতর্কিত ‘লটারি প্রথা’ চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তির জন্য বর্তমানের লটারি পদ্ধতি আর কার্যকর থাকবে না। মেধার সঠিক যাচাই ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রথা বাতিলের ফলে স্কুলগুলোতে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাচাই করে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। গত কয়েক বছর ধরে লটারি পদ্ধতিতে মেধার অবমূল্যায়ন হচ্ছে—এমন দাবির প্রেক্ষিতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সংস্কারের পথে হাঁটল।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। ২০২৭ সাল থেকে নতুন এই ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত রূপরেখা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

/আশিক


শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বিশেষ বার্তা: আমূল বদলে যাচ্ছে ভর্তি প্রক্রিয়া

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৬:৩৭:৩২
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বিশেষ বার্তা: আমূল বদলে যাচ্ছে ভর্তি প্রক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিকেল ৪টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিং থেকে স্কুল পর্যায়ে বহুল আলোচিত ‘লটারি প্রথা’ বাতিল এবং পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, লটারি পদ্ধতিতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না—অভিভাবক ও শিক্ষক মহলের এমন দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। আজকের ব্রিফিংয়ে এই নতুন ভর্তি প্রক্রিয়ার রূপরেখা ও বাস্তবায়নের সময়সূচী ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের তিনটি শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা উপাচার্য (ভিসি) পদে নতুন নিয়োগের বিষয়টিও আজ চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরবেন। উল্লেখ্য যে, আজ সকালেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের লাগাম টানছে সরকার; আর চলবে না ইচ্ছেমতো টিউশন ফি!

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ০৯:৪৫:৫৬
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের লাগাম টানছে সরকার; আর চলবে না ইচ্ছেমতো টিউশন ফি!
ছবি : সংগৃহীত

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে সরকারি নজরদারিতে আনতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোনো নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা না থাকার সুযোগ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান এতদিন ইচ্ছেমতো টিউশন ফি আদায় ও কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এবার সেই সুযোগ বন্ধ হতে যাচ্ছে। নতুন এই নীতিমালার আওতায় প্রতিটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলেরই কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নীতিমালায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর শিক্ষাপঞ্জি, ছুটি এবং টিউশন ফি সরাসরি সরকার নির্ধারণ করে দেবে। প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক হবে এবং এই কমিটিই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা (অডিট) সম্পাদন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে হবে এবং আন্তর্জাতিক কারিকুলাম অনুসরণ করলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাইরে থাকবে না। খসড়া নীতিমালায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে স্কুলগুলোকে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’—এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হলো, এসব প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলাদেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রায় অন্ধকার। অনেক শিক্ষার্থী বিদেশের ইতিহাস-ভূগোল মুখস্থ করলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বা জাতীয় সংগীত সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখে না। এছাড়া বছরের পর বছর অস্বাভাবিক হারে বেতন বৃদ্ধি এবং ভর্তি ফির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক স্কুল পুনঃভর্তি ফি বা সেশন ফি আদায় চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালায় এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা মাত্র ১৫৯টি বলা হলেও বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রের মতে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতার আওতায় আনা হবে। পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নীতিমালায় গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ড এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের আর্থিক হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়।

/আশিক


পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০ নিয়ম

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৯:০২:৫৭
পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০ নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। আসন্ন এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার হলে পালনীয় ১০টি বিশেষ নির্দেশনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।

প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এছাড়া পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অননুমোদিত কাগজপত্র সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) শিটে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না এবং উত্তরপত্রে অবশ্যই হল পরিদর্শকের (ইনভিজিলেটর) স্বাক্ষর থাকতে হবে, অন্যথায় উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

পরীক্ষার্থীদের আচরণের বিষয়ে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, উত্তরপত্রের কোথাও নাম, ঠিকানা বা কোনো ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।

খসড়া কাজের জন্য আলাদা কোনো কাগজ দেওয়া হবে না; যা করার উত্তরপত্রেই করতে হবে এবং পরে তা কেটে দিতে হবে।

এছাড়া টেবিল, স্কেল বা নিজ শরীরে কিছু লেখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর অন্তত এক ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী হলের বাইরে যেতে পারবে না।

পরীক্ষা শেষ হলে উত্তরপত্রটি দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে জমা দিয়ে তবেই হল ত্যাগ করতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কিছু কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা, প্রশ্নপত্র বা অন্য মাধ্যমে তথ্য বিনিময় করা এবং অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা বা দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না। কেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত উত্তরপত্রের কোনো পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সঠিক মান বজায় রাখতেই এই আধুনিক ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: