Banner

স্বাস্থ্য কথন

ম্যালেরিয়া: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০২ ২২:০১:৩৯
ম্যালেরিয়া: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ম্যালেরিয়া একটি মশাবাহিত জীবন-হুমকিপূর্ণ রোগ, যার কার্যকারক জীব প্লাজমোডিয়াম নামে পরজীবী। সংক্রামিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এই পরজীবীমানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং এক জটিল জীবনচক্রের মাধ্যমে লিভার ও লোহিত রক্তকণিকায় বংশবৃদ্ধি করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে রোগটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি এখনও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নিচের অংশগুলোতে আমরা ম্যালেরিয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থেকে শুরু করে উপসর্গ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিরোধ, বিশেষ পরিস্থিতি, এমনকি আহার ও স্ব-যত্ন পর্যন্ত সবকিছু ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছি।

প্লাজমোডিয়াম প্রজাতি ও রোগতত্ত্বের সারসংক্ষেপ

মানুষে ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী প্রধান পাঁচটি প্লাজমোডিয়াম প্রজাতি হলো প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম, প্লাজমোডিয়াম ভিভ্যাক্স, প্লাজমোডিয়াম ওভালে, প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়ে এবং প্লাজমোডিয়াম নলেসি।

ফ্যালসিপেরাম সর্বাধিক মারাত্মক এবং আফ্রিকায় বেশি দেখা যায়। ভিভ্যাক্স এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় বেশি, লিভারে সুপ্ত থেকে বারবার রিল্যাপ্স ঘটাতে পারে। ওভালে তুলনামূলক বিরল, পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা যায় এবং দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকতে পারে। ম্যালেরিয়ে সাধারণত মৃদু কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ দিতে পারে। নলেসি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানব ও ম্যাকাক প্রাইমেট থেকে জোনোটিক সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত জ্বর-চক্র সৃষ্টি করতে সক্ষম।

সংক্রমণ ও জীবনচক্রকে সহজভাবে বোঝা

সংক্রামিত মশা কামড়ালে স্পোরোজোয়েট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে প্রথমে লিভারের হেপাটোসাইটে প্রবেশ করে অযৌন বংশবৃদ্ধি করে। দিন কয়েক পর লিভার থেকে মেরোজোয়েট রক্তে ফিরে আসে এবং লোহিত কণিকায় ঢুকে চক্রাকারে বংশবৃদ্ধি করে। ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার অন্তর কোষ ভেঙে নতুন মেরোজোয়েট ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম এই পর্যায়ভিত্তিক উপসর্গচক্র তৈরি হয়। কিছু পরজীবী গ্যামেটোসাইটে রূপ নিয়ে আবার মশায় প্রবেশ করলে মশার দেহে যৌন প্রজননের পর নতুন স্পোরোজোয়েট গঠিত হয়।

রোগের ভার ও অর্থনৈতিক প্রভাব

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বহু দেশে ম্যালেরিয়া শিশুগর্ভবতীনারীরঅসুস্থতাএবং মৃত্যুর বড় কারণ। কর্মঘণ্টা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ায় ম্যালেরিয়া দরিদ্রতা ও রোগের এক দুষ্টচক্র তৈরি করে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জনসংখ্যার চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যগতভাবে কম-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও মাঝে মাঝে ইম্পোর্টেড কেস দেখা যায়।

ঝুঁকির কারণ ও উচ্চঝুঁকির গোষ্ঠী

উচ্চ আর্দ্রতা, স্থির পানির আধিক্য ও মাঝারি উষ্ণতা মশার বংশবৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। সাহারা-উপসাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশবিশেষ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী ও তাদের অনাগত সন্তান, ম্যালেরিয়া-অপ্রচলিত এলাকা থেকে আগত ভ্রমণকারী, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা বাইরে বেশি কাজ করেন যেমন কৃষক, বনকর্মী বা খনি শ্রমিক।

বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের চা-বাগান এলাকা এবং ভারতমিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বেশি দেখা যায়। দেশের মোট ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় এক ডজন এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আক্রান্তদের মধ্যে চা-বাগানের শ্রমিক, পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী, শিশু এবং গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

উপসর্গ: জটিলতা অনুযায়ী বিভাজন

অনাক্রমিক বা তুলনামূলক জটিলতাহীন ম্যালেরিয়া:হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেশী ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, অবসাদ, কখনও ডায়রিয়া। এই উপসর্গ ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়ে প্রতি দুই বা তিন দিন অন্তর চক্রাকারে ফিরে আসতে পারে।

জটিল বা গুরুতর ম্যালেরিয়া:উচ্চ জ্বরের সঙ্গে চেতনা-হ্রাস, বিভ্রান্তি, বারবার খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত গভীর শ্বাস, লিভার-কিডনির কর্মহানি, ক্লিনিক্যাল জন্ডিস, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, তীব্র রক্তাল্পতা, অস্বাভাবিক রক্তপাত ইত্যাদি। সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া হলে মস্তিষ্কে ফোলা বা ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসা না হলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে।

রোগ নির্ণয়: দ্রুততা এখানে জীবন বাঁচায়

ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলেই অবিলম্বে রক্তপরীক্ষা জরুরি।

১) থিক ও থিন ব্লাড স্মিয়ার মাইক্রোস্কোপি পরজীবীর উপস্থিতি, ঘনত্ব ও প্রজাতি শনাক্ত করতে স্বর্ণমান।

২) র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট অ্যান্টিজেন সনাক্ত করে দ্রুত ফল দেয়। ইতিবাচক ফল মাইক্রোস্কোপি দ্বারা নিশ্চিত করা উত্তম।

৩) প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণ রক্তকণিকা গণনা, লিভার-কিডনি ফাংশন, রক্তে শর্করা, আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস ইত্যাদি জটিলতা মূল্যায়নে সাহায্য করে।

চিকিৎসা: প্রজাতি, জটিলতা ও প্রতিরোধক্ষমতার উপর নির্ভরশীল

চিকিৎসা শুরুর সময়ই রোগীর ভৌগোলিক এক্সপোজার, সম্ভাব্য ওষুধ-প্রতিরোধ এবং রোগের তীব্রতা বিবেচ্য।

অনাক্রমিক ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়া: আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক কম্বিনেশন থেরাপি যেমন আর্টেমেথার-লুমেফ্যান্ট্রিন অথবা অ্যাটোভাকোন-প্রোগুয়ানিল প্রচলিত।

ভিভ্যাক্স বা ওভালে: তাত্ক্ষণিক রক্তধাপের চিকিৎসার পর প্রাইমাকুইন বা টাফেনোকুইনদিয়ে হাইপনোজোয়েট নির্মূল করে রিল্যাপ্স প্রতিরোধ করা হয়। গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজ ঘাটতি থাকলে এই ওষুধ বিপজ্জনক, তাই আগে স্ক্রিনিং দরকার।

গুরুতর ম্যালেরিয়া: হাসপাতালভিত্তিক শিরায় আর্টেসুনেট প্রথম পছন্দ। নিবিড় পর্যবেক্ষণে তরল-ইলেক্ট্রোলাইট সাম্য, রক্তে শর্করা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ, রক্তাল্পতা ও অঙ্গ-অসফলতার ব্যবস্থাপনা করা হয়।

অন্যান্য ওষুধ: ক্লোরোকুইন এখনও কিছু অঞ্চলে ভিভ্যাক্সের জন্য কার্যকর। মেফ্লোকুইন নির্বাচিত ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য হলেও স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারঝুঁকি বিবেচ্য। কুইনাইন বর্তমানে সীমিত নির্দেশনায় ব্যবহৃত হয়।

গর্ভাবস্থায়: প্রথম ত্রৈমাসিকে ওষুধনির্বাচন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। প্রতিরোধ ও চিকিৎসা উভয় ক্ষেত্রেই মা ও ভ্রূণের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অপরিহার্য।

ভ্রমণকারীর জন্য প্রতিরোধমূলক ওষুধ

ভ্রমণের স্থান, সময়কাল, প্রতিরোধ-নকশা ও ব্যক্তিগত অবস্থা দেখে প্রফিল্যাক্সিস নির্ধারিত হয়। প্রচলিত বিকল্পের মধ্যে আছে অ্যাটোভাকোন-প্রোগুয়ানিল, ডক্সিসাইক্লিন ও মেফ্লোকুইন। যেকোনো কোর্স সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে শুরু ও শেষ করা জরুরি। একই সাথে কামড়-এড়ানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য।

কামড়-এড়ানো ও ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ: ABCD নিয়ম মনে রাখুন

Awareness বা ঝুঁকিসচেতনতা, Bite prevention বা কামড় প্রতিরোধ, Chemoprophylaxis বা প্রফিল্যাক্সিস প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ এবং Diagnosis বা উপসর্গ হলেই দ্রুত পরীক্ষা এই চারটি স্তম্ভই প্রতিরোধের ভিত্তি।

বাস্তবে যা করবেন

  • সূর্যাস্তের পর ঢিলেঢালা লম্বা হাতা পোশাক পরুন, উন্মুক্ত ত্বকে DEET বা অন্যান্য অনুমোদিত রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করুন
  • দরজা-জানালায় স্ক্রিন, এয়ার কন্ডিশনিং বা ফ্যানের ব্যবহার
  • ঘর-বাসার চারপাশে স্থির পানি অপসারণ করে মশার প্রজননস্থল নষ্ট করুন
  • উচ্চঝুঁকির এলাকায় ইনডোর রেসিডুয়াল স্প্রে ও কীটনাশক-প্রক্রিয়াজাত মশারি কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা

টিকা সম্পর্কিত কথা

ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা বর্তমানে কিছু অঞ্চলে ধাপে ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং শিশুদের ভার কমাতে সহায়তা করছে। টিকা জনস্বাস্থ্য প্যাকেজেরএকটিউপাদান, তবেএটি কামড়-এড়ানো ও প্রফিল্যাক্সিসের বিকল্প নয়। স্থানীয় গাইডলাইন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

বিশেষ পরিস্থিতি: গর্ভাবস্থা, শিশু ও সহ-রোগ

গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া প্লাসেন্টাল ম্যালেরিয়া, রক্তাল্পতা, কম ওজনের শিশুজন্মসহ জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু ও নবজাতকে রোগটি দ্রুত জটিল হতে পারে। ডায়াবেটিস, অপুষ্টি, এইচআইভি বা ক্যান্সার-থেরাপির মতো সহ-অবস্থায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিবিড় তদারকি প্রয়োজন।

ডায়েট ও স্ব-যত্ন: সুস্থতায় সহায়ক

  • অসুখ চলাকালে অল্প অল্প করে বারবার সহজপাচ্য খাবার খান।
  • পর্যাপ্ত পানি, ওরাল রিহাইড্রেশন, ডাবের পানি, ফলের রস
  • শক্তির চাহিদায় ভাত ও অন্যান্য সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট
  • প্রোটিনের উৎস হিসেবে স্যুপ, ডিম, ডাল, মাছ-মুরগি
  • ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ ফল-সবজি
  • খুব চর্বিযুক্ত, অতিমশলাদার খাবার ও ক্যাফেইন পরিহার করুন

এসব ডায়েটারি টিপস চিকিৎসারবিকল্পনয়, বরং চিকিৎসার সঙ্গে সুস্থতায় সহায়তা করে।

করণীয় ও বর্জনীয়

করণীয়

  • জ্বর শুরু হলেই ভ্রমণ-ইতিহাসসহ দ্রুত পরীক্ষা করান
  • নির্ধারিত অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ঠিকভাবেএবংকোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান
  • কামড়-এড়ানোর প্রতিটি নিয়ম বাস্তবায়ন করুন

বর্জনীয়

  • উপসর্গ কমে গেলেই ওষুধ বন্ধ করবেন না
  • নিজে নিজে ওষুধ পাল্টাবেন না
  • শিশু ও গর্ভবতীর ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ শুরু করবেন না

২০০০ সালেরপরম্যালেরিয়াবাংলাদেশেব্যাপকআকারধারণ করলেও সরকারের জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NMCP), এনজিও ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিনামূল্যে কীটনাশক মশারি বিতরণ, র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিকটেস্টের ব্যবহার এবং কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই অগ্রগতির প্রধান কারণ।

তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো কঠিন, ভিভ্যাক্স ম্যালেরিয়ার পুনরাবৃত্তি রোগীদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করছে, আর সীমান্তবর্তী এলাকায় ওষুধ প্রতিরোধী পরজীবীর ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বেড়ে নতুন এলাকায় ম্যালেরিয়া ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ঘন ঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ম্যালেরিয়া কি মানুষে মানুষে ছড়ায়?

-না, স্বাভাবিকসংস্পর্শেছড়ায়নারক্তসঞ্চালন, সূঁচ ভাগাভাগি বা বিরলভাবে গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা দিয়ে সংক্রমণ হতে পারে, তবে প্রধানত মশার কামড়ই মাধ্যম।

প্রতিরোধী ট্যাবলেট খেলেও কি সংক্রমণ হতেপারে?

-হ্যাঁ, শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। তবে ঝুঁকি অনেক কমে এবং তীব্রতা সাধারণত কম থাকে। তাই কামড়-এড়ানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য।

লক্ষণ না থাকলে কি পরীক্ষা দরকার?

-উচ্চঝুঁকির এলাকায় জ্বর হলেই পরীক্ষা জরুরি। কিছু প্রজাতি দেরিতে উপসর্গ দিতে পারে, তাই ভ্রমণ-পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস সতর্ক থাকুন।

দ্রুত সহায়তা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ম্যালেরিয়া খুব দ্রুত গুরুতর হতে পারেতাইজ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিনশিশু, গর্ভবতী নারী এবং সহ-রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যালেরিয়াপ্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য। সচেতনতা, কামড়-এড়ানো, সঠিক প্রফিল্যাক্সিস, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং গাইডলাইন-ভিত্তিক চিকিৎসাএই পাঁচ স্তম্ভে আস্থা রাখলেই ব্যক্তিগত ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমানোসম্ভবনিজের স্বাস্থ্যসচেতন অভ্যাস, পরিবারের সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-স্তরের ভেক্টর নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ মিলে আমরা ম্যালেরিয়ামুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারি।


স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ২১:৪৪:৫১
স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক এখন একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। নিউরোলজিস্টদের মতে, বড় ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই মানুষের শরীর কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্ক সংকেত দেয়। যদি সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসা নেওয়া যায়, তবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ করে শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিনি অনুভব করা। অনেক সময় রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যেতে পারে এবং হাসতে গেলে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এছাড়া কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জড়িয়ে যাওয়া বা শব্দ খুঁজে না পাওয়া এবং অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়াও স্ট্রোকের অন্যতম বড় ইঙ্গিত। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা, যার কোনো স্পষ্ট কারণ নেই, সেটিও হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ। এর পাশাপাশি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মানসিক বিভ্রান্তি অনুভব করতে পারেন, যা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ধূমপান বর্জন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের দেওয়া এই ছোট ছোট সিগন্যালগুলোকে গুরুত্ব দিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান’; তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।


মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১৯:১৫:২৯
মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক যুগের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরল এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আগে মনে করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, তবে বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। মূলত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজাভুজি, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক পরিকল্পনা মেনে চললে মাত্র এক মাসেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা কোলেস্টেরল কমাতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, সুষম আহার নিশ্চিত করতে হবে। দৈনন্দিন তালিকায় ওটস বা লাল চালের মতো গোটা শস্য, সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল যেমন—আপেল, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপে রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা জরুরি, কারণ এগুলো সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

তৃতীয়ত, নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যানের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো একটানা ৩০ দিন মেনে চললে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


কেন শীতেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বাঁচার উপায় কী?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৮ ১১:৫৪:৩৩
কেন শীতেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বাঁচার উপায় কী?
ছবি : সংগৃহীত

শীতের মৌসুমে সাধারণ সর্দি-কাশির আড়ালে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিডনির জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে রক্তসঞ্চালন ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ভারতের বিখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট ডা. আদিত্য নায়ক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শীতে মানুষের কম পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকার প্রবণতা মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে শেষ পর্যন্ত কিডনি বিকল হতে পারে।

২০২৩ সালে ‘বিএমসি নেফ্রোলজি’ সাময়িকায় প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, শীতকালীন ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে কিডনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কিছুটা কম, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এছাড়া শীতকালে নিউমোনিয়ার মতো বক্ষসংক্রমণও বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষকদের মতে, পানিশূন্যতা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শীতকালে ‘আকস্মিক কিডনি বিকল’ বা ‘একিউট কিডনি ইনজুরি’র প্রধান কারণ।

কিডনি সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। শরীর গরম রাখতে স্তরে স্তরে পোশাক পরার পাশাপাশি তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সুষম খাদ্য হিসেবে ফল ও সবজি গ্রহণ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং যারা আগে থেকেই কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে আগাম টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আদিত্য নায়ক। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা কিডনি সুরক্ষায় অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রস্রাবে জ্বালা, জ্বর, তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না। শীতকালে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই পারে হাড়কাঁপানো শীতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটিকে নিরাপদ রাখতে।


স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ: হার্ট অ্যাটাক রুখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ২১:৫৪:১৫
স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ: হার্ট অ্যাটাক রুখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক যুগের ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এখন নিত্যসঙ্গী। তবে এই চাপ যখন দীর্ঘমেয়াদি হয়, তখন তা কেবল মনের ওপর নয়, সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর মরণ কামড় বসায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে শরীরে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই হরমোনের আধিক্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ধমনীতে চর্বি জমায় এবং রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক কলহ, আর্থিক অনটন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মানসিক অস্থিরতা সরাসরি হৃদস্পন্দনকে অনিয়মিত করে তোলে এবং হৃদপিণ্ডের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো আগাম উপসর্গ ছাড়াই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এক ধরনের 'সাইলেন্ট কিলার' বা নীরব ঘাতক বলা হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, জাঙ্ক ফুড গ্রহণ এবং কায়িক শ্রম কমিয়ে দেওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, জীবনের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে হবে। যদি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই পারে আপনার হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘকাল সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে।


অজান্তেই পিত্তথলিতে পাথর জমাচ্ছে আপনার এই ৫টি ভুল অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ১২:১৭:০৫
অজান্তেই পিত্তথলিতে পাথর জমাচ্ছে আপনার এই ৫টি ভুল অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি শুরুতে কোনো উপসর্গ প্রকাশ করে না, কিন্তু যখন পাথর পিত্তনালিতে আটকে যায়, তখন শুরু হয় অসহ্য ব্যথা, বমি এবং বদহজম। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাসই লিভারে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমিয়ে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ম্যানিপাল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. অনিকেত পায়াগুডে সতর্ক করেছেন যে ৫টি অভ্যাস পিত্তথলির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

প্রথমত, নিয়মিত সময় মেনে খাবার না খাওয়া পিত্তথলির বড় শত্রু। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পিত্তথলিতে পিত্ত জমে ঘন হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই কোলেস্টেরল জমে পাথর তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার পিত্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, শারীরিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা স্থূলতা ও গলস্টোনের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া দ্রুত ওজন কমানোর জন্য 'ক্র্যাশ ডায়েট' করলে লিভার অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিঃসরণ করে, যা পিত্তথলির ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। সবশেষে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের অভাব হজম প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে সব ধরনের গলস্টোনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবে যদি পিত্তথলিতে সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হয়, তবে 'ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি' বা আধুনিক ফুটো করে অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান। জটিল ক্ষেত্রে অনেক সময় ওপেন সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের পেটব্যথা বা হজমের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক মনে করে অবহেলা করা ঠিক নয়।

পিত্তথলির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল এবং হোলগ্রেন খাবার পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে আপনিও এড়িয়ে যেতে পারেন পিত্তথলিতে পাথরের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


শীতে বাড়ে কর্নিয়ার আলসার: চোখের যত্নে করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৫ ১১:১৮:২৯
শীতে বাড়ে কর্নিয়ার আলসার: চোখের যত্নে করণীয়
ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের প্রখর রোদে আমরা চোখের সুরক্ষায় সচেতন থাকলেও শীতকালে বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে বছরের এই সময়ে চোখের স্বাস্থ্যঝুঁকি গ্রীষ্মের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো শীতের শুষ্ক বাতাস এবং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া বায়ুদূষণ। বাতাসে ভেসে থাকা বিষাক্ত ধূলিকণা আর ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরাসরি চোখের সংস্পর্শে এসে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। শহর ও শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়াশা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে যার ফলে চোখের কর্নিয়ায় সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এই ক্ষতস্থানে ধূলিকণা বা জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কর্নিয়ার আলসার’ বলা হয়।

কর্নিয়া হলো আমাদের চোখের আলোক প্রবেশের স্বচ্ছ লেন্স বা প্রবেশদ্বার। কর্নিয়ার আলসারকে একটি ‘মেডিকেল এমার্জেন্সি’ হিসেবে গণ্য করা হয় কারণ এটি চোখের স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। সংক্রমণের ফলে কর্নিয়ায় যে সাদাটে দাগ তৈরি হয় তা আলোক রশ্মি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ঝাপসা করে দেয়। সংক্রমণের মাত্রা গভীর হলে কর্নিয়া ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা চোখের অভ্যন্তরীণ অংশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে ছত্রাক বা বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এতটাই দ্রুত ছড়ায় যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে চোখ বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কর্নিয়ার আলসারের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ প্রচণ্ড লাল হয়ে যাওয়া এবং অনবরত পানি পড়া। এর পাশাপাশি চোখে তীব্র ব্যথা বা খচখচানি ভাব অনুভব করা এবং আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হওয়া অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় চোখের মণির ওপর স্পষ্ট সাদা দাগ লক্ষ্য করা যায় যা সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে। বিশেষ করে যারা পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করেন কিংবা ধুলোবালির মধ্যে বেশি যাতায়াত করেন তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস বা প্রোটেক্টিভ চশমা ব্যবহার করা উচিত যা সরাসরি বাতাস ও ধূলিকণা থেকে চোখকে রক্ষা করবে। চোখে বারবার হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি প্রতিদিন পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধোয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যদি চোখে কোনো ধরণের অস্বস্তি বা লাল ভাব দেখা দেয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ড্রপ ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। সামান্য সচেতনতাই পারে শীতের এই বৈরি পরিবেশে আপনার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তিকে সুরক্ষিত রাখতে।


পাকস্থলীর ধ্বংস করছে আপনার এই ৩টি সাধারণ অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৪ ২১:৩৯:৩৪
পাকস্থলীর ধ্বংস করছে আপনার এই ৩টি সাধারণ অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলোকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে খুব একটা ক্ষতিকর মনে করি না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই অভ্যাসগুলোই নীরবে আমাদের পাকস্থলীর অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. জোসেফ সালহাব সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় পাকস্থলীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তিনটি ‘গাট টক্সিন’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে ধূমপান, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার এবং নিয়মিত মদ্যপান—এই তিনটি অভ্যাসই গ্যাস্ট্রাইটিস ও রক্তক্ষরণজনিত আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ডা. সালহাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ধূমপান বা ভেপিং কেবল ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না বরং এটি সরাসরি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে আঘাত হানে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা রাসায়নিক উপাদান পাকস্থলীর নরম আস্তরণে ক্ষত সৃষ্টি করে যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ ও তীব্র গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণ হয়। এছাড়া নিকোটিনের প্রভাবে পাকস্থলীতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ কমে যায় যার ফলে কোনো ক্ষত তৈরি হলে তা সহজে সারতে চায় না। এটি ক্রমান্বয়ে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।

অনেকেই সামান্য শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসএআইডিএস (NSAIDs) গ্রহণ করেন। ডা. সালহাব জানান যে এই ধরণের ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার পাকস্থলীর আস্তরণে তীব্র জ্বালা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ব্যবহারের ফলে পেপটিক আলসারের সম্ভাবনা তৈরি হয় যা প্রাণঘাতী হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতির পাশাপাশি পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যালকোহল গ্যাস্ট্রাইটিস’ বলা হয়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বমি ও বুকজ্বালার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

পাকস্থলী ও হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ডা. সালহাব কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ধূমপান ও ভেপিং সম্পূর্ণ বর্জন করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরণের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। পেটের কোনো সমস্যা বা আলসারের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট। ছোট কিছু সচেতন সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে আপনার পাকস্থলীকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে পারে।


ঠোঁট ফাটা কেবল শীতের দোষ নয় বরং আসল অপরাধী অন্য কেউ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ২০:৫৪:১৪
ঠোঁট ফাটা কেবল শীতের দোষ নয় বরং আসল অপরাধী অন্য কেউ
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আগমনে প্রকৃতির রুক্ষতার প্রথম প্রভাব পড়ে মানুষের ঠোঁটের ওপর। বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে গায়ের চামড়ার পাশাপাশি অনেকের ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ একে কেবল ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। ঠোঁট ফাটার নেপথ্যে কেবল আবহাওয়া নয় বরং শরীরে বিশেষ একটি পুষ্টি উপাদানের অভাব বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিনের ঘাটতি থাকলে শীতের প্রকোপ ছাড়াও সারা বছর ঠোঁট শুষ্ক ও খসখসে থাকতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অন্য যেকোনো ঋতুর তুলনায় অনেক কম থাকে যার ফলে আমাদের শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ কমে যায়। এর ফলে ত্বকের গভীরে থাকা সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে যে তৈলাক্ত পদার্থ বা সিবাম নির্গত হয় তা পুরো ত্বকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। লুব্রিকেন্টের এই অভাবের কারণেই ত্বক কুঁচকে যায় এবং ঠোঁটের সূক্ষ্ম চামড়া ফাটতে শুরু করে। তবে যাদের শরীরে ভিটামিন বি২ পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ভিটামিনের অভাবে কেবল ঠোঁট ফাটা নয় বরং মুখে আলসার বা ঘায়ের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন বি২ মূলত ত্বকের কোষ পুনর্গঠন এবং এর নমনীয়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই চিকিৎসকদের মতে কেবল বাহ্যিক প্রসাধনী ব্যবহার করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঠোঁটের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সবার আগে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি২ যুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, সবুজ শাকসবজি এবং কলিজার মতো খাবারগুলো এই ভিটামিনের চমৎকার উৎস। এছাড়া শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি কারণ অভ্যন্তরীণ পানিশূন্যতা ঠোঁট ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ।

ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক স্ক্রাব ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারবার হলুদ এবং মধুর মিশ্রণ দিয়ে ঠোঁট স্ক্রাব করলে মৃত কোষ দূর হয়ে ঠোঁট সজীব হয়ে ওঠে। বাজারে থাকা রাসায়নিকযুক্ত লিপবামের বদলে খাঁটি নারিকেল তেল বা অর্গানিক লিপবাম ব্যবহার করা অধিকতর নিরাপদ। চিকিৎসকদের মতে শীতের শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পরিচর্যার দিকে নজর দিলে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হওয়া বা ব্যথার মতো কষ্টদায়ক পরিস্থিতি অনায়াসেই এড়ানো সম্ভব।


শীতে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের কার্যকরী টিপস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ১২:১৮:৫৭
শীতে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের কার্যকরী টিপস
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে জেঁকে বসা শীতের প্রকোপে জনজীবনে যেমন স্থবিরতা নেমে এসেছে তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ও জয়েন্টে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। এই তীব্র ঠান্ডায় অনেকেই পেশিতে টান পড়া বা হাড়ের সংযোগস্থলে শক্তভাব অনুভব করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে যে এটি মূলত শরীরের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা স্নায়ুর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই পরিস্থিতি বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে শীতকালে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ ধরে রাখার জন্য রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে যার ফলে হাত ও পায়ের প্রান্তে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণেই মূলত পেশিগুলো শক্ত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া হাড়ের জয়েন্টের ভেতরে থাকা লুব্রিকেন্ট বা সিনোভিয়াল ফ্লুইড ঠান্ডায় ঘন হয়ে যাওয়ায় জয়েন্টের নড়াচড়া কঠিন হয়ে পড়ে। ঠান্ডার সময় মানুষের স্নায়ুগুলো ব্যথার সংকেত অনেক বেশি তীব্রভাবে মস্তিষ্কে পাঠায় যার ফলে পুরনো চোট বা বাতের ব্যথা কয়েক গুণ বেশি অনুভূত হয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকেরা শরীর সবসময় গরম রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। উলের মোজা, গ্লাভস এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি কুসুম গরম পানি দিয়ে সেঁক নেওয়া বা নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার করা বেশ কার্যকর হতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করলে শরীরে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং জয়েন্টের জড়তা কেটে যায়। এছাড়া শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি কারণ পানিশূন্যতা পেশিকে আরও শক্ত করে তোলে যা ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেও এই সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সামুদ্রিক মাছ, ডিম, কলা, বাদাম এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফ্ল্যাক্সসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে হুটহাট ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া কিডনি বা পাকস্থলীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় কিংবা জয়েন্ট ফুলে লাল হয়ে যায় তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শীতকালীন এই ব্যথা নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার বা ঝাড়ফুঁকের বদলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত