স্বাস্থ্য কথন

ম্যালেরিয়া: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০২ ২২:০১:৩৯
ম্যালেরিয়া: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ম্যালেরিয়া একটি মশাবাহিত জীবন-হুমকিপূর্ণ রোগ, যার কার্যকারক জীব প্লাজমোডিয়াম নামে পরজীবী। সংক্রামিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এই পরজীবীমানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং এক জটিল জীবনচক্রের মাধ্যমে লিভার ও লোহিত রক্তকণিকায় বংশবৃদ্ধি করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে রোগটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি এখনও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নিচের অংশগুলোতে আমরা ম্যালেরিয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থেকে শুরু করে উপসর্গ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিরোধ, বিশেষ পরিস্থিতি, এমনকি আহার ও স্ব-যত্ন পর্যন্ত সবকিছু ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছি।

প্লাজমোডিয়াম প্রজাতি ও রোগতত্ত্বের সারসংক্ষেপ

মানুষে ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী প্রধান পাঁচটি প্লাজমোডিয়াম প্রজাতি হলো প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম, প্লাজমোডিয়াম ভিভ্যাক্স, প্লাজমোডিয়াম ওভালে, প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়ে এবং প্লাজমোডিয়াম নলেসি।

ফ্যালসিপেরাম সর্বাধিক মারাত্মক এবং আফ্রিকায় বেশি দেখা যায়। ভিভ্যাক্স এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় বেশি, লিভারে সুপ্ত থেকে বারবার রিল্যাপ্স ঘটাতে পারে। ওভালে তুলনামূলক বিরল, পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা যায় এবং দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকতে পারে। ম্যালেরিয়ে সাধারণত মৃদু কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ দিতে পারে। নলেসি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানব ও ম্যাকাক প্রাইমেট থেকে জোনোটিক সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত জ্বর-চক্র সৃষ্টি করতে সক্ষম।

সংক্রমণ ও জীবনচক্রকে সহজভাবে বোঝা

সংক্রামিত মশা কামড়ালে স্পোরোজোয়েট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে প্রথমে লিভারের হেপাটোসাইটে প্রবেশ করে অযৌন বংশবৃদ্ধি করে। দিন কয়েক পর লিভার থেকে মেরোজোয়েট রক্তে ফিরে আসে এবং লোহিত কণিকায় ঢুকে চক্রাকারে বংশবৃদ্ধি করে। ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার অন্তর কোষ ভেঙে নতুন মেরোজোয়েট ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম এই পর্যায়ভিত্তিক উপসর্গচক্র তৈরি হয়। কিছু পরজীবী গ্যামেটোসাইটে রূপ নিয়ে আবার মশায় প্রবেশ করলে মশার দেহে যৌন প্রজননের পর নতুন স্পোরোজোয়েট গঠিত হয়।

রোগের ভার ও অর্থনৈতিক প্রভাব

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বহু দেশে ম্যালেরিয়া শিশু ও গর্ভবতীনারীরঅসুস্থতাএবং মৃত্যুর বড় কারণ। কর্মঘণ্টা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ায় ম্যালেরিয়া দরিদ্রতা ও রোগের এক দুষ্টচক্র তৈরি করে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জনসংখ্যার চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যগতভাবে কম-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও মাঝে মাঝে ইম্পোর্টেড কেস দেখা যায়।

ঝুঁকির কারণ ও উচ্চঝুঁকির গোষ্ঠী

উচ্চ আর্দ্রতা, স্থির পানির আধিক্য ও মাঝারি উষ্ণতা মশার বংশবৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। সাহারা-উপসাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশবিশেষ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী ও তাদের অনাগত সন্তান, ম্যালেরিয়া-অপ্রচলিত এলাকা থেকে আগত ভ্রমণকারী, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা বাইরে বেশি কাজ করেন যেমন কৃষক, বনকর্মী বা খনি শ্রমিক।

বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের চা-বাগান এলাকা এবং ভারত–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বেশি দেখা যায়। দেশের মোট ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় এক ডজন এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আক্রান্তদের মধ্যে চা-বাগানের শ্রমিক, পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী, শিশু এবং গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

উপসর্গ: জটিলতা অনুযায়ী বিভাজন

অনাক্রমিক বা তুলনামূলক জটিলতাহীন ম্যালেরিয়া:হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেশী ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, অবসাদ, কখনও ডায়রিয়া। এই উপসর্গ ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়ে প্রতি দুই বা তিন দিন অন্তর চক্রাকারে ফিরে আসতে পারে।

জটিল বা গুরুতর ম্যালেরিয়া:উচ্চ জ্বরের সঙ্গে চেতনা-হ্রাস, বিভ্রান্তি, বারবার খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত গভীর শ্বাস, লিভার-কিডনির কর্মহানি, ক্লিনিক্যাল জন্ডিস, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, তীব্র রক্তাল্পতা, অস্বাভাবিক রক্তপাত ইত্যাদি। সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া হলে মস্তিষ্কে ফোলা বা ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসা না হলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে।

রোগ নির্ণয়: দ্রুততা এখানে জীবন বাঁচায়

ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলেই অবিলম্বে রক্তপরীক্ষা জরুরি।

১) থিক ও থিন ব্লাড স্মিয়ার মাইক্রোস্কোপি পরজীবীর উপস্থিতি, ঘনত্ব ও প্রজাতি শনাক্ত করতে স্বর্ণমান।

২) র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট অ্যান্টিজেন সনাক্ত করে দ্রুত ফল দেয়। ইতিবাচক ফল মাইক্রোস্কোপি দ্বারা নিশ্চিত করা উত্তম।

৩) প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণ রক্তকণিকা গণনা, লিভার-কিডনি ফাংশন, রক্তে শর্করা, আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস ইত্যাদি জটিলতা মূল্যায়নে সাহায্য করে।

চিকিৎসা: প্রজাতি, জটিলতা ও প্রতিরোধক্ষমতার উপর নির্ভরশীল

চিকিৎসা শুরুর সময়ই রোগীর ভৌগোলিক এক্সপোজার, সম্ভাব্য ওষুধ-প্রতিরোধ এবং রোগের তীব্রতা বিবেচ্য।

অনাক্রমিক ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়া: আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক কম্বিনেশন থেরাপি যেমন আর্টেমেথার-লুমেফ্যান্ট্রিন অথবা অ্যাটোভাকোন-প্রোগুয়ানিল প্রচলিত।

ভিভ্যাক্স বা ওভালে: তাত্ক্ষণিক রক্তধাপের চিকিৎসার পর প্রাইমাকুইন বা টাফেনোকুইনদিয়ে হাইপনোজোয়েট নির্মূল করে রিল্যাপ্স প্রতিরোধ করা হয়। গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজ ঘাটতি থাকলে এই ওষুধ বিপজ্জনক, তাই আগে স্ক্রিনিং দরকার।

গুরুতর ম্যালেরিয়া: হাসপাতালভিত্তিক শিরায় আর্টেসুনেট প্রথম পছন্দ। নিবিড় পর্যবেক্ষণে তরল-ইলেক্ট্রোলাইট সাম্য, রক্তে শর্করা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ, রক্তাল্পতা ও অঙ্গ-অসফলতার ব্যবস্থাপনা করা হয়।

অন্যান্য ওষুধ: ক্লোরোকুইন এখনও কিছু অঞ্চলে ভিভ্যাক্সের জন্য কার্যকর। মেফ্লোকুইন নির্বাচিত ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য হলেও স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারঝুঁকি বিবেচ্য। কুইনাইন বর্তমানে সীমিত নির্দেশনায় ব্যবহৃত হয়।

গর্ভাবস্থায়: প্রথম ত্রৈমাসিকে ওষুধনির্বাচন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। প্রতিরোধ ও চিকিৎসা উভয় ক্ষেত্রেই মা ও ভ্রূণের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অপরিহার্য।

ভ্রমণকারীর জন্য প্রতিরোধমূলক ওষুধ

ভ্রমণের স্থান, সময়কাল, প্রতিরোধ-নকশা ও ব্যক্তিগত অবস্থা দেখে প্রফিল্যাক্সিস নির্ধারিত হয়। প্রচলিত বিকল্পের মধ্যে আছে অ্যাটোভাকোন-প্রোগুয়ানিল, ডক্সিসাইক্লিন ও মেফ্লোকুইন। যেকোনো কোর্স সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে শুরু ও শেষ করা জরুরি। একই সাথে কামড়-এড়ানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য।

কামড়-এড়ানো ও ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ: ABCD নিয়ম মনে রাখুন

Awareness বা ঝুঁকিসচেতনতা, Bite prevention বা কামড় প্রতিরোধ, Chemoprophylaxis বা প্রফিল্যাক্সিস প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ এবং Diagnosis বা উপসর্গ হলেই দ্রুত পরীক্ষা এই চারটি স্তম্ভই প্রতিরোধের ভিত্তি।

বাস্তবে যা করবেন

  • সূর্যাস্তের পর ঢিলেঢালা লম্বা হাতা পোশাক পরুন, উন্মুক্ত ত্বকে DEET বা অন্যান্য অনুমোদিত রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করুন
  • দরজা-জানালায় স্ক্রিন, এয়ার কন্ডিশনিং বা ফ্যানের ব্যবহার
  • ঘর-বাসার চারপাশে স্থির পানি অপসারণ করে মশার প্রজননস্থল নষ্ট করুন
  • উচ্চঝুঁকির এলাকায় ইনডোর রেসিডুয়াল স্প্রে ও কীটনাশক-প্রক্রিয়াজাত মশারি কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা

টিকা সম্পর্কিত কথা

ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা বর্তমানে কিছু অঞ্চলে ধাপে ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং শিশুদের ভার কমাতে সহায়তা করছে। টিকা জনস্বাস্থ্য প্যাকেজেরএকটিউপাদান, তবেএটি কামড়-এড়ানো ও প্রফিল্যাক্সিসের বিকল্প নয়। স্থানীয় গাইডলাইন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

বিশেষ পরিস্থিতি: গর্ভাবস্থা, শিশু ও সহ-রোগ

গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া প্লাসেন্টাল ম্যালেরিয়া, রক্তাল্পতা, কম ওজনের শিশুজন্মসহ জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু ও নবজাতকে রোগটি দ্রুত জটিল হতে পারে। ডায়াবেটিস, অপুষ্টি, এইচআইভি বা ক্যান্সার-থেরাপির মতো সহ-অবস্থায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিবিড় তদারকি প্রয়োজন।

ডায়েট ও স্ব-যত্ন: সুস্থতায় সহায়ক

  • অসুখ চলাকালে অল্প অল্প করে বারবার সহজপাচ্য খাবার খান।
  • পর্যাপ্ত পানি, ওরাল রিহাইড্রেশন, ডাবের পানি, ফলের রস
  • শক্তির চাহিদায় ভাত ও অন্যান্য সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট
  • প্রোটিনের উৎস হিসেবে স্যুপ, ডিম, ডাল, মাছ-মুরগি
  • ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ ফল-সবজি
  • খুব চর্বিযুক্ত, অতিমশলাদার খাবার ও ক্যাফেইন পরিহার করুন

এসব ডায়েটারি টিপস চিকিৎসারবিকল্পনয়, বরং চিকিৎসার সঙ্গে সুস্থতায় সহায়তা করে।

করণীয় ও বর্জনীয়

করণীয়

  • জ্বর শুরু হলেই ভ্রমণ-ইতিহাসসহ দ্রুত পরীক্ষা করান
  • নির্ধারিত অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ঠিকভাবেএবংকোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান
  • কামড়-এড়ানোর প্রতিটি নিয়ম বাস্তবায়ন করুন

বর্জনীয়

  • উপসর্গ কমে গেলেই ওষুধ বন্ধ করবেন না
  • নিজে নিজে ওষুধ পাল্টাবেন না
  • শিশু ও গর্ভবতীর ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ শুরু করবেন না

২০০০ সালেরপরম্যালেরিয়াবাংলাদেশেব্যাপকআকারধারণ করলেও সরকারের জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NMCP), এনজিও ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিনামূল্যে কীটনাশক মশারি বিতরণ, র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিকটেস্টের ব্যবহার এবং কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই অগ্রগতির প্রধান কারণ।

তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো কঠিন, ভিভ্যাক্স ম্যালেরিয়ার পুনরাবৃত্তি রোগীদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করছে, আর সীমান্তবর্তী এলাকায় ওষুধ প্রতিরোধী পরজীবীর ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বেড়ে নতুন এলাকায় ম্যালেরিয়া ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ঘন ঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ম্যালেরিয়া কি মানুষে মানুষে ছড়ায়?

-না, স্বাভাবিকসংস্পর্শেছড়ায়না। রক্তসঞ্চালন, সূঁচ ভাগাভাগি বা বিরলভাবে গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা দিয়ে সংক্রমণ হতে পারে, তবে প্রধানত মশার কামড়ই মাধ্যম।

প্রতিরোধী ট্যাবলেট খেলেও কি সংক্রমণ হতেপারে?

-হ্যাঁ, শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। তবে ঝুঁকি অনেক কমে এবং তীব্রতা সাধারণত কম থাকে। তাই কামড়-এড়ানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য।

লক্ষণ না থাকলে কি পরীক্ষা দরকার?

-উচ্চঝুঁকির এলাকায় জ্বর হলেই পরীক্ষা জরুরি। কিছু প্রজাতি দেরিতে উপসর্গ দিতে পারে, তাই ভ্রমণ-পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস সতর্ক থাকুন।

দ্রুত সহায়তা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ম্যালেরিয়া খুব দ্রুত গুরুতর হতে পারে। তাইজ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। শিশু, গর্ভবতী নারী এবং সহ-রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যালেরিয়াপ্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য। সচেতনতা, কামড়-এড়ানো, সঠিক প্রফিল্যাক্সিস, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং গাইডলাইন-ভিত্তিক চিকিৎসা—এই পাঁচ স্তম্ভে আস্থা রাখলেই ব্যক্তিগত ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমানোসম্ভব। নিজের স্বাস্থ্যসচেতন অভ্যাস, পরিবারের সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-স্তরের ভেক্টর নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ মিলে আমরা ম্যালেরিয়ামুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারি।


প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৯:২১:৫৯
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
ছবি : সংগৃহীত

ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাদ্যতালিকা থেকেই এই পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব, যার জন্য ব্যয়বহুল কোনো কৃত্রিম উপায়ের প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতিতে এমন অনেক ফল রয়েছে যা ভিটামিন সি-এর দারুণ উৎস।

ভিটামিন সি পেতে পেয়ারা অত্যন্ত কার্যকর একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে এই ভিটামিন থাকে এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারা থেকে ২১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। নিয়মিত ডায়েটে পেয়ারা রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব।

ভিটামিন সি-এর আরেকটি ঐতিহ্যবাহী এবং চমৎকার উৎস হলো আমলকী। নিয়মিত আমলকী খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর পেঁপেতেও প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে প্রায় ৬২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা দৈনন্দিন পুষ্টির জোগান দিতে বড় ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত পুষ্টির চাহিদা পূরণে স্ট্রবেরি চমৎকার একটি বিকল্প। এক কাপ পরিমাণ স্ট্রবেরি থেকে প্রায় ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি দূর করে।

কিউই ফলে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশ ভালো। একটি মাত্র কিউই ফল থেকে প্রায় ৬৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর।

স্বাদের জন্য পরিচিত আনারসে প্রচুর ভিটামিন সি থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজও থাকে। এই ম্যাঙ্গানিজ উপাদানটি ভিটামিন সি-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বেশি জোরদার করতে সাহায্য করে।

/আশিক


ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:২৪:৩৯
ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
ছবি : সংগৃহীত

ওজন কমানো বা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা থাকলে অনেকেই একঘেয়ে সেদ্ধ খাবার কিংবা সাধারণ সালাদ খেয়ে থাকেন। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই যে স্বাদের সঙ্গে আপস করতে হবে, তা নয়। ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল ও অস্বাস্থ্যকর মেয়োনিজের পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফাইবার ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সালাদ যুক্ত করা যেতে পারে। মাত্র ১৫ মিনিটেই ঘরে তৈরি করা সম্ভব এমন পুষ্টিকর তিন ধরনের সালাদের প্রস্তুত প্রণালি নিচে দেওয়া হলো:

১. মসুর ডাল ও গ্রিলড সবজির সালাদ

মসুর ডালে প্রচুর প্রোটিন এবং সবজিতে পর্যাপ্ত ফাইবার রয়েছে। এই উপাদানগুলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে সাহায্য করে।তৈরি করার পদ্ধতি: প্রথমে আধা কাপ মসুর ডাল ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিতে হবে, যেন ডাল একেবারে গলে না যায়। এরপর একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে ছোট টুকরো করে কাটা গাজর, শিম, ক্যাপসিকাম ও ব্রকলি হালকা ভেজে নিতে হবে। সামান্য লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে রাখলে সবজি সহজেই সেদ্ধ হয়ে যাবে। এরপর এর সঙ্গে সেদ্ধ ডাল মিশিয়ে ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ও অরিগ্যানো ছড়িয়ে পরিবেশন করা যায়। দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির বিকল্প হিসেবে কিংবা পরিপূরক হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে।

২. মেডিটেরেনিয়ান প্রোটিন সালাদ

স্বাদ ও পুষ্টির চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি এই সালাদে শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, পনির ও অলিভ ব্যবহার করা হয়। পনির থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং সবজি থেকে ফাইবারের চাহিদা পূরণ হয়।তৈরি করার পদ্ধতি: শসা, টমেটো ও পেঁয়াজ ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। সঙ্গে কালো অলিভ যোগ করা যেতে পারে। পনির কিউব আকারে কেটে সামান্য মাখনে হালকা ভেজে নেওয়া ভালো, তবে কাঁচাও ব্যবহার করা যায়। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিতে হবে। ড্রেসিংয়ের জন্য অল্প অলিভ অয়েল, লেবুর রস ও অরিগ্যানো ব্যবহার করা যায়। তবে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেল ও মাখনের পরিমাণ সবসময় সীমিত রাখাই শ্রেয়।

৩. বাঁধাকপি, গাজর ও রোস্টেড বাদামের সালাদ

যারা হালকা খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য বাঁধাকপি, গাজর ও বাদামের এই সালাদ একটি চমৎকার বিকল্প। বাঁধাকপি ও গাজরে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার এবং বাদাম জোগায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন।তৈরি করার পদ্ধতি: বাঁধাকপি খুব মিহি করে কুচিয়ে এবং গাজর গ্রেট করে নিতে হবে। এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ রোস্ট করা বাদাম বা তিল, পাতিলেবুর রস, সামান্য মধু ও কাঁচা মরিচ কুচি মেশাতে হবে। সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিলে স্বাদ ভালো হয়। পরিবেশনের ঠিক আগে ওপর থেকে আরও কিছু রোস্ট করা বাদাম ছড়িয়ে দিতে হবে।

ফ্যাটি লিভার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাটি লিভারের সুরক্ষায় সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমানো অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও পরিমিত বাদাম রাখা উচিত। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট সালাদ খেলেই ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো খাবার একা লিভারকে ডিটক্স করতে পারে না। তাই ফ্যাটি লিভারের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করা উচিত।

/আশিক


চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:৩৫:১১
চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

নিয়মিত টমেটো খাওয়া লিভার সুস্থ রাখতে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘নিউট্রিয়েন্টস’-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণায় মানবদেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং বিশেষভাবে লিভারের ওপর টমেটোর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।

গবেষকদের মতে, টমেটোতে বিপুল পরিমাণে লাইকোপিন নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারের সুরক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমার পরিমাণ কম থাকে। লাইকোপিন মূলত লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া টমেটোতে থাকা প্রাকৃতিক যৌগগুলো প্রদাহবিরোধী প্রভাব ফেলতে সক্ষম, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।

রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি কাঁচা অবস্থায় সালাদ হিসেবে টমেটো সহজে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র টমেটো খাওয়াকে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র বা নিশ্চিত উপায় ভাবা উচিত নয়। লিভারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত ওজন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। যেহেতু ফ্যাটি লিভার রোগ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে, তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুষম জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সূত্র: সামা টিভি


শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২২:০৬:২৯
শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
ছবি : সংগৃহীত

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের মেজাজ বদলের কারণে গলা খুসখুস, ঢোক গিলতে ব্যথা বা শ্বাসনালিতে জমে থাকা কফ ও মিউকাসের অস্বস্তি ঘরে ঘরে বেড়ে যায়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে গলার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মিউকাস পাতলা করে দ্রুত স্বস্তি পেতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে পেঁয়াজ, মধু ও অলিভ অয়েলের সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক পানীয়।

ঘরোয়া মিশ্রণটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে একটি পেঁয়াজ, এক টেবিল চামচ ভালো মানের অলিভ অয়েল এবং দুই টেবিল চামচ খাঁটি মধু। প্রস্তুতপ্রণালী অনুযায়ী, প্রথমে পেঁয়াজটি মোটা ও গোল চাকতির মতো কেটে কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ফোটাতে হবে। পেঁয়াজ ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে পানি ছেঁকে নিয়ে তাতে অলিভ অয়েল ও মধু ভালোভাবে মিশিয়ে হালকা গরম অবস্থায় অল্প অল্প করে পান করতে হবে।

পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট 'কুয়েরসেটিন' শ্বাসনালির প্রদাহ কমায় এবং জমে থাকা ঘন কফ পাতলা করে স্বাভাবিক উপায়ে বের হয়ে আসতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অলিভ অয়েলে বিদ্যমান 'ওলিওক্যানথাল' গলার টিস্যুর ওপর একটি মসৃণ ও স্বস্তিদায়ক প্রলেপ সৃষ্টি করে কাসির ফলে তৈরি হওয়া জ্বালাভাব প্রশমিত করে। আর মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও মিউকাস উপশমকারী গুণাগুণ গলার খাঁজ কেটে দ্রুত আরাম পৌঁছে দেয়। তবে এই প্রাকৃতিক পানীয়টি কেবল সাময়িক লক্ষণীয় উপশমের জন্য কার্যকারী; যদি কফ বা গলার ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় কিংবা সঙ্গে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২২:০২:২০
বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হরমোনের এই ঘাটতিকে ‘লো টেস্টোস্টেরন’ বা সংক্ষেপে ‘লো টি’ বলা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তদুর্ধ বয়সসীমার প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে অন্তত ২ জন এই হরমোনজনিত জটিলতায় ভুগে থাকেন।

অণ্ডকোষে উৎপাদিত এই অতি প্রয়োজনীয় হরমোনটি পুরুষাল যৌন আকাঙ্ক্ষা, পেশির সুদৃঢ় গঠন, হাড়ের সঠিক ঘনত্ব, শক্তি বৃদ্ধি ও শুক্রাণু উৎপাদনের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে হরমোন নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় অসচেতনতার কারণে সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যৌন উদ্দীপনা বা লিবিডো অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়া এবং যৌন মিলনকালে উত্থানজনিত জটিলতা সৃষ্টি হওয়া। এ ছাড়া মাথার চুলের পাশাপাশি হাত, পা ও মুখের লোম কমে যাওয়া, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পেয়ে তা ভঙ্গুর হয়ে পড়া এবং দ্রুত শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া এর প্রধান উপসর্গ। চিকিৎসকরা আরও জানান, এই হরমোনের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, নিদ্রাহীনতা এবং সারাক্ষণ শারীরিক অবসাদ ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা শারীরিক ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে চরম ঘাটতির ক্ষেত্রে নিছক জীবনযাত্রার পরিবর্তন পর্যাপ্ত নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টরা ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন, ট্রান্সডার্মাল জেল বা প্যাচ, সাবকিউটেনিয়াস ইমপ্ল্যান্ট কিংবা সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক পুরুষদের ক্ষেত্রে 'ক্লোমিফিন সাইট্রেট'-এর মতো সুনির্দিষ্ট থেরাপি প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো হরমোন থেরাপি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: ইউরোলজি স্পেশালিস্টস এনসি


বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৯:৫৭:৪৩
বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স' নামে পরিচিত। যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দিতে পারলেও সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, প্রাত্যহিক ঘুম, সামাজিক আত্মবিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার মান ব্যাহত করলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর সিংহভাগ কারণই নিরাময় সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। কাশি, হাঁচি, হাসি বা ভারী জিনিস তোলার সময় প্রস্রাব হওয়াকে বলা হয় ‘স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’, যা সাধারণত নারীদের প্রসবপরবর্তী সময়ে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট অস্ত্রোপচারের পর বেশি দেখা যায়। আবার হঠাৎ তীব্র বেগ সামলাতে না পারার ঘটনাকে ‘আর্জেন্সি ইনকন্টিনেন্স’ এবং উভয় লক্ষণের উপস্থিতি থাকলে তাকে ‘মিক্সড ইনকন্টিনেন্স’ বলা হয়। এ ছাড়া মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হয়ে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ঝরাকে ‘ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, একাধিকবার স্বাভাবিক প্রসব, বয়সের ভারে পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হওয়া কিংবা মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। অপরদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার কিংবা বয়সজনিত কারণে মূত্রনালিতে বাধা তৈরি হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে গণ্য করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুরোগ এবং অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল সেবনের কারণেও উভয় লিঙ্গের মানুষের এই রোগ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর পেশির ব্যায়াম (কিগেল এক্সারসাইজ), অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার এবং সঠিক সময়ে প্রস্বাবের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে সমস্যাটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া, তলপেটে তীব্র ব্যথা বা জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটলে এটিকে কেবল বয়সকালের স্বাভাবিক পরিবর্তন না ভেবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৩২:০৪
মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
ছবি : সংগৃহীত

ঘুমের সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য শারীরিক ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্য ও মূল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতামত এবং আপনার প্রদান করা খবরের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং আন্তর্জাতিক অ-আয়নাইজিং রেডিয়েশন সুরক্ষা কমিশন (ICNIRP)-এর মতে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) হলো অ-আয়নাইজিং বিকিরণ (Non-ionizing radiation)। এক্স-রে বা গামা-রশ্মির মতো আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু মোবাইল ফোনের অ-আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ অণুর বন্ধন ভাঙতে পারে না বা শরীরের কোষ পুড়িয়ে ফেলতে পারে না। বহু বছরের ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমানোর সাথে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সারের প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পকেটে ফোন রাখা বা প্রজনন অঙ্গের কাছাকাছি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে নিঃসৃত তাপ (Heat) ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োগে শুক্রাণুর গুণগত মানে আংশিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সাথে সরাসরি রেডিয়েশনের সংযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ নেই।

তবে মাথার কাছে মোবাইল রাখার অন্যান্য বাস্তবসম্মত শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে

১. ঘুমের ব্যাঘাত

নোটিফিকেশনের শব্দ, ভাইব্রেশন এবং ডিসপ্লের 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার লক্ষণ তীব্র হতে পারে।

২. অগ্নিঝুঁকি ও বিস্ফোরণ

বালিশ বা তোশকের নিচে ফোন রাখলে বাতাসের চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিরাপদ অভ্যাসের অংশ হিসেবে ঘুমানোর সময় ফোন বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখা এবং রাত জেগে ব্যবহারের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

/আশিক


গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:৩৯:৫০
গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ লুটিয়ে পড়াকে হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ মনে করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত উপসর্গ এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই নীরব ও সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম বের হওয়ার মতো শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। তবে এসব সাধারণ শারীরিক উপসর্গও ক্ষেত্রবিশেষে হৃদরোগের মারাত্মক পূর্বসংকেত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত ও বিভ্রান্তিকর লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রথমত, বুকের মাঝখানে অসচ্ছলতা বা অস্বস্তি হওয়া, যা সব সময় খুব তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে; বরং বুক চেপে থাকা, ভারী লাগা বা চাপ বোধ হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যথা কেবল বুকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, এক বা দুই হাত এবং পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ পেশির টান বা হজমের সমস্যা মনে করে ভুল করেন।

তৃতীয় প্রধান সতর্কসংকেত হলো হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। ভারী কোনো কাজ না করা সত্ত্বেও হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁসফাঁস লাগা হৃদযন্ত্রের জটিলতার অন্যতম লক্ষণ। চতুর্থত, হঠাৎ করেই শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘেমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার অনুভূতি হওয়া। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো ফ্লু, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়।

ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কারণ অন্য অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও একই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে যদি এই ধরনের একাধিক উপসর্গ হঠাৎ করে শরীরে দেখা দেয় এবং তীব্র হতে থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

/আশিক


হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৭:৫৬:০৯
হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিগত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন রোগী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ঘটনায় চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ছয়জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া এক হাজার ৫৯৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৯০ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৩ জনে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: