স্বাস্থ্য কথন

ম্যালেরিয়া: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০২ ২২:০১:৩৯
ম্যালেরিয়া: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ম্যালেরিয়া একটি মশাবাহিত জীবন-হুমকিপূর্ণ রোগ, যার কার্যকারক জীব প্লাজমোডিয়াম নামে পরজীবী। সংক্রামিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এই পরজীবীমানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং এক জটিল জীবনচক্রের মাধ্যমে লিভার ও লোহিত রক্তকণিকায় বংশবৃদ্ধি করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে রোগটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি এখনও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নিচের অংশগুলোতে আমরা ম্যালেরিয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থেকে শুরু করে উপসর্গ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিরোধ, বিশেষ পরিস্থিতি, এমনকি আহার ও স্ব-যত্ন পর্যন্ত সবকিছু ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছি।

প্লাজমোডিয়াম প্রজাতি ও রোগতত্ত্বের সারসংক্ষেপ

মানুষে ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী প্রধান পাঁচটি প্লাজমোডিয়াম প্রজাতি হলো প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম, প্লাজমোডিয়াম ভিভ্যাক্স, প্লাজমোডিয়াম ওভালে, প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়ে এবং প্লাজমোডিয়াম নলেসি।

ফ্যালসিপেরাম সর্বাধিক মারাত্মক এবং আফ্রিকায় বেশি দেখা যায়। ভিভ্যাক্স এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় বেশি, লিভারে সুপ্ত থেকে বারবার রিল্যাপ্স ঘটাতে পারে। ওভালে তুলনামূলক বিরল, পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা যায় এবং দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকতে পারে। ম্যালেরিয়ে সাধারণত মৃদু কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ দিতে পারে। নলেসি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানব ও ম্যাকাক প্রাইমেট থেকে জোনোটিক সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত জ্বর-চক্র সৃষ্টি করতে সক্ষম।

সংক্রমণ ও জীবনচক্রকে সহজভাবে বোঝা

সংক্রামিত মশা কামড়ালে স্পোরোজোয়েট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে প্রথমে লিভারের হেপাটোসাইটে প্রবেশ করে অযৌন বংশবৃদ্ধি করে। দিন কয়েক পর লিভার থেকে মেরোজোয়েট রক্তে ফিরে আসে এবং লোহিত কণিকায় ঢুকে চক্রাকারে বংশবৃদ্ধি করে। ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার অন্তর কোষ ভেঙে নতুন মেরোজোয়েট ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম এই পর্যায়ভিত্তিক উপসর্গচক্র তৈরি হয়। কিছু পরজীবী গ্যামেটোসাইটে রূপ নিয়ে আবার মশায় প্রবেশ করলে মশার দেহে যৌন প্রজননের পর নতুন স্পোরোজোয়েট গঠিত হয়।

রোগের ভার ও অর্থনৈতিক প্রভাব

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বহু দেশে ম্যালেরিয়া শিশুগর্ভবতীনারীরঅসুস্থতাএবং মৃত্যুর বড় কারণ। কর্মঘণ্টা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ায় ম্যালেরিয়া দরিদ্রতা ও রোগের এক দুষ্টচক্র তৈরি করে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জনসংখ্যার চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যগতভাবে কম-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও মাঝে মাঝে ইম্পোর্টেড কেস দেখা যায়।

ঝুঁকির কারণ ও উচ্চঝুঁকির গোষ্ঠী

উচ্চ আর্দ্রতা, স্থির পানির আধিক্য ও মাঝারি উষ্ণতা মশার বংশবৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। সাহারা-উপসাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশবিশেষ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী ও তাদের অনাগত সন্তান, ম্যালেরিয়া-অপ্রচলিত এলাকা থেকে আগত ভ্রমণকারী, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা বাইরে বেশি কাজ করেন যেমন কৃষক, বনকর্মী বা খনি শ্রমিক।

বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটের চা-বাগান এলাকা এবং ভারতমিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বেশি দেখা যায়। দেশের মোট ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় এক ডজন এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আক্রান্তদের মধ্যে চা-বাগানের শ্রমিক, পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী, শিশু এবং গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

উপসর্গ: জটিলতা অনুযায়ী বিভাজন

অনাক্রমিক বা তুলনামূলক জটিলতাহীন ম্যালেরিয়া:হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেশী ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, অবসাদ, কখনও ডায়রিয়া। এই উপসর্গ ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়ে প্রতি দুই বা তিন দিন অন্তর চক্রাকারে ফিরে আসতে পারে।

জটিল বা গুরুতর ম্যালেরিয়া:উচ্চ জ্বরের সঙ্গে চেতনা-হ্রাস, বিভ্রান্তি, বারবার খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত গভীর শ্বাস, লিভার-কিডনির কর্মহানি, ক্লিনিক্যাল জন্ডিস, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, তীব্র রক্তাল্পতা, অস্বাভাবিক রক্তপাত ইত্যাদি। সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া হলে মস্তিষ্কে ফোলা বা ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসা না হলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে।

রোগ নির্ণয়: দ্রুততা এখানে জীবন বাঁচায়

ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলেই অবিলম্বে রক্তপরীক্ষা জরুরি।

১) থিক ও থিন ব্লাড স্মিয়ার মাইক্রোস্কোপি পরজীবীর উপস্থিতি, ঘনত্ব ও প্রজাতি শনাক্ত করতে স্বর্ণমান।

২) র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট অ্যান্টিজেন সনাক্ত করে দ্রুত ফল দেয়। ইতিবাচক ফল মাইক্রোস্কোপি দ্বারা নিশ্চিত করা উত্তম।

৩) প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণ রক্তকণিকা গণনা, লিভার-কিডনি ফাংশন, রক্তে শর্করা, আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস ইত্যাদি জটিলতা মূল্যায়নে সাহায্য করে।

চিকিৎসা: প্রজাতি, জটিলতা ও প্রতিরোধক্ষমতার উপর নির্ভরশীল

চিকিৎসা শুরুর সময়ই রোগীর ভৌগোলিক এক্সপোজার, সম্ভাব্য ওষুধ-প্রতিরোধ এবং রোগের তীব্রতা বিবেচ্য।

অনাক্রমিক ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়া: আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক কম্বিনেশন থেরাপি যেমন আর্টেমেথার-লুমেফ্যান্ট্রিন অথবা অ্যাটোভাকোন-প্রোগুয়ানিল প্রচলিত।

ভিভ্যাক্স বা ওভালে: তাত্ক্ষণিক রক্তধাপের চিকিৎসার পর প্রাইমাকুইন বা টাফেনোকুইনদিয়ে হাইপনোজোয়েট নির্মূল করে রিল্যাপ্স প্রতিরোধ করা হয়। গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজ ঘাটতি থাকলে এই ওষুধ বিপজ্জনক, তাই আগে স্ক্রিনিং দরকার।

গুরুতর ম্যালেরিয়া: হাসপাতালভিত্তিক শিরায় আর্টেসুনেট প্রথম পছন্দ। নিবিড় পর্যবেক্ষণে তরল-ইলেক্ট্রোলাইট সাম্য, রক্তে শর্করা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ, রক্তাল্পতা ও অঙ্গ-অসফলতার ব্যবস্থাপনা করা হয়।

অন্যান্য ওষুধ: ক্লোরোকুইন এখনও কিছু অঞ্চলে ভিভ্যাক্সের জন্য কার্যকর। মেফ্লোকুইন নির্বাচিত ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য হলেও স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারঝুঁকি বিবেচ্য। কুইনাইন বর্তমানে সীমিত নির্দেশনায় ব্যবহৃত হয়।

গর্ভাবস্থায়: প্রথম ত্রৈমাসিকে ওষুধনির্বাচন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। প্রতিরোধ ও চিকিৎসা উভয় ক্ষেত্রেই মা ও ভ্রূণের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অপরিহার্য।

ভ্রমণকারীর জন্য প্রতিরোধমূলক ওষুধ

ভ্রমণের স্থান, সময়কাল, প্রতিরোধ-নকশা ও ব্যক্তিগত অবস্থা দেখে প্রফিল্যাক্সিস নির্ধারিত হয়। প্রচলিত বিকল্পের মধ্যে আছে অ্যাটোভাকোন-প্রোগুয়ানিল, ডক্সিসাইক্লিন ও মেফ্লোকুইন। যেকোনো কোর্স সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে শুরু ও শেষ করা জরুরি। একই সাথে কামড়-এড়ানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য।

কামড়-এড়ানো ও ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ: ABCD নিয়ম মনে রাখুন

Awareness বা ঝুঁকিসচেতনতা, Bite prevention বা কামড় প্রতিরোধ, Chemoprophylaxis বা প্রফিল্যাক্সিস প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ এবং Diagnosis বা উপসর্গ হলেই দ্রুত পরীক্ষা এই চারটি স্তম্ভই প্রতিরোধের ভিত্তি।

বাস্তবে যা করবেন

  • সূর্যাস্তের পর ঢিলেঢালা লম্বা হাতা পোশাক পরুন, উন্মুক্ত ত্বকে DEET বা অন্যান্য অনুমোদিত রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করুন
  • দরজা-জানালায় স্ক্রিন, এয়ার কন্ডিশনিং বা ফ্যানের ব্যবহার
  • ঘর-বাসার চারপাশে স্থির পানি অপসারণ করে মশার প্রজননস্থল নষ্ট করুন
  • উচ্চঝুঁকির এলাকায় ইনডোর রেসিডুয়াল স্প্রে ও কীটনাশক-প্রক্রিয়াজাত মশারি কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা

টিকা সম্পর্কিত কথা

ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা বর্তমানে কিছু অঞ্চলে ধাপে ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং শিশুদের ভার কমাতে সহায়তা করছে। টিকা জনস্বাস্থ্য প্যাকেজেরএকটিউপাদান, তবেএটি কামড়-এড়ানো ও প্রফিল্যাক্সিসের বিকল্প নয়। স্থানীয় গাইডলাইন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করুন।

বিশেষ পরিস্থিতি: গর্ভাবস্থা, শিশু ও সহ-রোগ

গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া প্লাসেন্টাল ম্যালেরিয়া, রক্তাল্পতা, কম ওজনের শিশুজন্মসহ জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু ও নবজাতকে রোগটি দ্রুত জটিল হতে পারে। ডায়াবেটিস, অপুষ্টি, এইচআইভি বা ক্যান্সার-থেরাপির মতো সহ-অবস্থায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিবিড় তদারকি প্রয়োজন।

ডায়েট ও স্ব-যত্ন: সুস্থতায় সহায়ক

  • অসুখ চলাকালে অল্প অল্প করে বারবার সহজপাচ্য খাবার খান।
  • পর্যাপ্ত পানি, ওরাল রিহাইড্রেশন, ডাবের পানি, ফলের রস
  • শক্তির চাহিদায় ভাত ও অন্যান্য সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট
  • প্রোটিনের উৎস হিসেবে স্যুপ, ডিম, ডাল, মাছ-মুরগি
  • ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ ফল-সবজি
  • খুব চর্বিযুক্ত, অতিমশলাদার খাবার ও ক্যাফেইন পরিহার করুন

এসব ডায়েটারি টিপস চিকিৎসারবিকল্পনয়, বরং চিকিৎসার সঙ্গে সুস্থতায় সহায়তা করে।

করণীয় ও বর্জনীয়

করণীয়

  • জ্বর শুরু হলেই ভ্রমণ-ইতিহাসসহ দ্রুত পরীক্ষা করান
  • নির্ধারিত অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ঠিকভাবেএবংকোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান
  • কামড়-এড়ানোর প্রতিটি নিয়ম বাস্তবায়ন করুন

বর্জনীয়

  • উপসর্গ কমে গেলেই ওষুধ বন্ধ করবেন না
  • নিজে নিজে ওষুধ পাল্টাবেন না
  • শিশু ও গর্ভবতীর ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ শুরু করবেন না

২০০০ সালেরপরম্যালেরিয়াবাংলাদেশেব্যাপকআকারধারণ করলেও সরকারের জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NMCP), এনজিও ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিনামূল্যে কীটনাশক মশারি বিতরণ, র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিকটেস্টের ব্যবহার এবং কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই অগ্রগতির প্রধান কারণ।

তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো কঠিন, ভিভ্যাক্স ম্যালেরিয়ার পুনরাবৃত্তি রোগীদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করছে, আর সীমান্তবর্তী এলাকায় ওষুধ প্রতিরোধী পরজীবীর ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বেড়ে নতুন এলাকায় ম্যালেরিয়া ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ঘন ঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ম্যালেরিয়া কি মানুষে মানুষে ছড়ায়?

-না, স্বাভাবিকসংস্পর্শেছড়ায়নারক্তসঞ্চালন, সূঁচ ভাগাভাগি বা বিরলভাবে গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা দিয়ে সংক্রমণ হতে পারে, তবে প্রধানত মশার কামড়ই মাধ্যম।

প্রতিরোধী ট্যাবলেট খেলেও কি সংক্রমণ হতেপারে?

-হ্যাঁ, শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। তবে ঝুঁকি অনেক কমে এবং তীব্রতা সাধারণত কম থাকে। তাই কামড়-এড়ানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য।

লক্ষণ না থাকলে কি পরীক্ষা দরকার?

-উচ্চঝুঁকির এলাকায় জ্বর হলেই পরীক্ষা জরুরি। কিছু প্রজাতি দেরিতে উপসর্গ দিতে পারে, তাই ভ্রমণ-পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস সতর্ক থাকুন।

দ্রুত সহায়তা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ম্যালেরিয়া খুব দ্রুত গুরুতর হতে পারেতাইজ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিনশিশু, গর্ভবতী নারী এবং সহ-রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যালেরিয়াপ্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য। সচেতনতা, কামড়-এড়ানো, সঠিক প্রফিল্যাক্সিস, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং গাইডলাইন-ভিত্তিক চিকিৎসাএই পাঁচ স্তম্ভে আস্থা রাখলেই ব্যক্তিগত ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমানোসম্ভবনিজের স্বাস্থ্যসচেতন অভ্যাস, পরিবারের সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-স্তরের ভেক্টর নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ মিলে আমরা ম্যালেরিয়ামুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারি।


দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ২১:৪২:৩৮
দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (Measles)। প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৫ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে। এছাড়া ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জনের শরীরে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনে।

প্রতিবেদনে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। মে মাসের তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


যে রোগ হলে খেতে ইচ্ছা করে মাটি, চক, চুল। জানুন চিকিৎসা 

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ১২:৪৯:০০
যে রোগ হলে খেতে ইচ্ছা করে মাটি, চক, চুল। জানুন চিকিৎসা 
ছবি: সংগৃহীত

মানুষ সাধারণত খাবার হিসেবে যেসব জিনিস গ্রহণ করে, সেগুলো শরীরের পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি ব্যাধি রয়েছে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মাটি, চক, কাগজ, চুল, বরফ, সাবান বা বালির মতো অখাদ্য ও পুষ্টিহীন জিনিস খেতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক খাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় “পিকা”।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকা একটি মানসিক ও খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি বা ইটিং ডিসঅর্ডার। এটি শুধু অদ্ভুত আচরণ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা স্নায়ুবিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমন জিনিস খেতে চান, যা সাধারণ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত নয় এবং যেগুলোর কোনো পুষ্টিগুণও নেই। এই প্রবণতা একদিন বা দুইদিনের নয়; বরং সাধারণত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।

পিকা রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বা বিকাশজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের মধ্যেও এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে আয়রন, জিঙ্ক বা অন্যান্য খনিজ উপাদানের ঘাটতি পিকার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে। অনেক সময় অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, শৈশবের মানসিক আঘাত বা আচরণগত সমস্যার কারণেও এই ব্যাধি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অখাদ্য জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। কেউ মাটি খান, কেউ কাগজ বা চক চিবান, আবার কেউ বরফ, সাবান বা চুল খাওয়ার প্রবণতায় ভোগেন। এই অভ্যাস অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, পিকা রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এর শারীরিক জটিলতা। অখাদ্য বস্তু খাওয়ার ফলে পেটে সংক্রমণ, অন্ত্রে বাধা, পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতি, দাঁতের সমস্যা এবং বিষক্রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে সীসাযুক্ত বস্তু খেলে লেড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে চিকিৎসাবিদরা এটিও মনে করিয়ে দেন যে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মাটি বা অন্য কিছু মুখে দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক আচরণের অংশ হতে পারে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে বিশেষ ধরনের মাটি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তা সবসময় পিকা হিসেবে ধরা হয় না।

পিকা রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর আচরণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরীক্ষা মূল্যায়ন করেন। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি আছে কি না তা দেখা হয়।

এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো একক ওষুধ নেই। চিকিৎসকদের মতে, পিকার পেছনের মূল কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। আর মানসিক বা আচরণগত সমস্যা থাকলে কাউন্সেলিং ও থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্ত করা গেলে পিকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে অখাদ্য কিছু খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


করোনার চেয়েও ভয়ংকর? রহস্যময় ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১১:৩১:৩৪
করোনার চেয়েও ভয়ংকর? রহস্যময় ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

করোনার ক্ষত শুকোতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই রহস্যময় ভাইরাসটি সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়েও বেশি সংক্রামক এবং দ্রুত রূপ বদলাতে সক্ষম। আগে গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বড় ধরনের মহামারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা ও জার্মানির গবেষকরা দেখেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল আরএনএ (RNA) ভাইরাস, যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মেলায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের লিভারে থাকা ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ এই ভাইরাসের বিস্তারকে আরও মারাত্মক করে তোলে। এটি শরীরের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে কোষের মৃত্যু ঘটায়, ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে।

প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হলেও এটি শরীরের ভেতরে অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। যদিও এটি এখনও বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে এর বিবর্তন ও অভিযোজন ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একে সাধারণ ফ্লু হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং কার্যকর প্রতিষেধক তৈরিতে এখন থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।

/আশিক


হামে মৃত্যুর মিছিলে শিশুদের সংখ্যাই বেশি! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১১ ১৮:১৩:৩১
হামে মৃত্যুর মিছিলে শিশুদের সংখ্যাই বেশি! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রকোপ। গত ৫৬ দিনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধলক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, আর প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ মে সকাল ৮টা থেকে ১১ মে সকাল ৮টা) হাম সন্দেহে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুসারে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। গত এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ৩৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জনে। এই ৫৬ দিনে মোট ৩৫০ জন মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। মৃতদের একটি বড় অংশই শিশু।

হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম (৬,৫৫৫ জন) এবং তৃতীয় স্থানে রাজশাহী (৪,৩৭৩ জন)। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগে আক্রান্ত (৪১৮ জন) ও মৃত্যু (৪ জন) উভয়ই সবচেয়ে কম।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৯৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানেও কয়েক হাজার রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

/আশিক


নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলে পস্তাতে হতে পারে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১৩:০১:৪৯
নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলে পস্তাতে হতে পারে
ছবি : সংগৃহীত

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমান সময়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিডনিকে বলা হয় শরীরের 'ছাঁকনি', যার প্রধান কাজ রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণ করা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনি বিকল হতে শুরু করলেও অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না। ফলে রোগটি যখন শনাক্ত হয়, তখন তা অনেকটা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

কিডনি সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ

কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হতে পারে না, যার ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে চোখ, পা কিংবা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান সংকেত। এছাড়া প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া (প্রোটিন ক্ষরণ), রং পরিবর্তন বা অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়া সতর্কবার্তার লক্ষণ। ক্ষুধার অভাব, বমি ভাব এবং ত্বকে হঠাৎ চুলকানি বা খসখসে ভাব দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্যথার অবস্থান ও ধরন

কিডনির ব্যথা এবং সাধারণ কোমর ব্যথার মধ্যে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা মূলত পিঠের নিচের দিকে পাঁজরের ঠিক নিচে অনুভূত হয়। পাথর থাকলে এই ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে কুঁচকি বা তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয়ে তীব্রতর রূপ নেয়।

প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া কিংবা রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া কিডনি বিকলের ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা লালচে আভা বা রক্ত দেখা দিলে তা মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

যদি কোমর বা পাঁজরের ব্যথা এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সাথে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে, তবে দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ কম খাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

/আশিক


অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি বেশি! গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২১:৩৬:৪৬
অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি বেশি! গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক ভীতিকর চিত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় অনেক বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা আরও ভয়াবহ, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

গবেষণায় নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভয়াবহ পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। যেমন, অবিবাহিত পুরুষদের মলদ্বারের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি দেখা গেছে।

গবেষকদের মতে, বৈবাহিক জীবন মানুষের জীবনযাত্রায় এক ধরনের শৃঙ্খলা আনে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং একে অপরের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ফলে বিবাহিতরা পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হন।

তবে বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ফলকে সতর্কতার সাথে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিয়ে করলেই যে ক্যানসার হবে না—বিষয়টি তেমন নয়। এটি মূলত একটি সামাজিক ও আচরণগত নির্দেশক মাত্র।

যারা অবিবাহিত রয়েছেন, গবেষকরা তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা তাঁদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই গবেষণার ফলাফল বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


কিডনিতে পাথর কেন হয়? প্রাণঘাতী এই ব্যথা থেকে বাঁচার ৫টি অব্যর্থ উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১২:৪২:৩০
কিডনিতে পাথর কেন হয়? প্রাণঘাতী এই ব্যথা থেকে বাঁচার ৫টি অব্যর্থ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

কিডনি বা মূত্রনালির পাথর হওয়া আধুনিক জীবনযাত্রায় একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের ভেতর জমে থাকা খনিজ ও লবণের এই শক্ত কণাকেই আমরা পাথর বলে থাকি।

হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা রক্ত—শরীরের এই নীরব সংকেতগুলো হতে পারে কিডনি বা মূত্রনালির পাথরের লক্ষণ। সময়মতো সচেতন না হলে এই ক্ষুদ্র স্ফটিকই হয়ে উঠতে পারে অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ। কেন তৈরি হয় এই পাথর আর কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? দেখে নিন একনজরে

প্রস্রাবে থাকা খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ যখন ঠিকমতো শরীর থেকে বের হতে পারে না, তখন সেগুলো জমাট বেঁধে স্ফটিক বা পাথরে পরিণত হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধার সুযোগ পায়।

অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস (Red Meat) এবং অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম) বেশি খেলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয় এবং পাথর তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম না করাও একটি কারণ।

পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। কিন্তু বড় হলে কোমরের এক পাশে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে বমিভাব বা জ্বরও থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা এই রোগ প্রতিরোধের সবথেকে বড় অস্ত্র। পাশাপাশি খাবারে বাড়তি লবণের ব্যবহার কমানো এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুর শরবত বা সাইট্রাস জাতীয় ফল রাখা অত্যন্ত কার্যকর।

শরীরের নীরব সংকেতগুলো অবহেলা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতাই পারে আপনাকে বড় ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে।

/আশিক


হৃদরোগ আসার আগেই শরীর দেয় সংকেত: জেনে নিন রক্তনালির গোপন সংক্রামক

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১২:৫৭:৫৫
হৃদরোগ আসার আগেই শরীর দেয় সংকেত: জেনে নিন রক্তনালির গোপন সংক্রামক
ছবি : সংগৃহীত

আপনার হার্টের রোগ কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না, তবে শরীর নিঃশব্দে এক বিশেষ সংকেত পাঠাতে থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, হৃদরোগ হানা দেওয়ার অনেক আগেই রক্তনালির ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল আস্তরণ বা ‘এন্ডোথেলিয়াম’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একেই বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। এটি কোনো সরাসরি রোগ নয়, বরং ধমনিতে চর্বি জমা বা ব্লকেজ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়।

রক্তনালির সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায় যেভাবে

শরীরের প্রতিটি রক্তনালির ভেতরে এন্ডোথেলিয়াম নামক একটি আস্তরণ থাকে, যার কাজ হলো রক্তনালিকে নমনীয় রাখা এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম করা। এই স্তরটি শরীরকে প্রয়োজনীয় ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ সরবরাহ করে। কিন্তু ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কমে যায় এবং রক্তনালিগুলো শক্ত ও সরু হতে শুরু করে।

কেন এটি বিপজ্জনক?

এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি নষ্ট হয়ে গেলে রক্তনালির ভেতরে প্রদাহ শুরু হয় এবং এর নিচে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ‘প্লাক’ তৈরি করে। এই প্লাকই মূলত ধমনিতে ব্লকেজ সৃষ্টি করে, যা থেকে পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক ঘটে। গবেষকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ শর্করা এবং ধূমপায়ীদের নিকোটিন এই স্তরটিকে সবচেয়ে দ্রুত ধ্বংস করে।

বাঁচার উপায় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন এবং রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে রক্তনালির এই আস্তরণকে সুস্থ রাখা যায়।

/আশিক


তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকার মহৌষধ: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১২:৫৮:০৮
তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকার মহৌষধ: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র তাপদাহে সারা দেশের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। এই অসহনীয় গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং দ্য টাইমস ম্যাগাজিনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তীব্র গরমে সুস্থ ও নিরাপদ থাকার কিছু কার্যকর উপায় নিচে দেওয়া হলো।

তীব্র রোদে ঘর ঠান্ডা রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দিনের বেলা রোদের তাপ বেশি থাকলে জানালা বন্ধ রেখে ভারি পর্দা ব্যবহার করুন। তবে সন্ধ্যার পর বাইরের বাতাস যখন কিছুটা ঠান্ডা হয়, তখন সব জানালা খুলে দিয়ে ঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করুন। ঘরে অপ্রয়োজনীয় লাইট বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখলে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে।

অনেকেই মনে করেন ফ্যান সব সময় আরাম দেয়, কিন্তু তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে গেলে ফ্যান সরাসরি ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রিতে সেট করে সাথে একটি ফ্যান চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং বিদ্যুৎ বিলও কম আসে।

গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরার বিকল্প নেই। নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন এবং বাইরে থেকে ফিরে ঘাম শুকিয়ে শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। মাঝেমধ্যে চোখে-মুখে পানির ঝাপটা বা স্প্রে ব্যবহার করলে প্রশান্তি পাওয়া যায়।

তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। আপনার প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হয়, তবে বুঝতে হবে শরীর পানিশূন্যতায় ভুগছে। ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি লেবুর শরবত এ সময় শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

এই গরমে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার (যেমন চিপস) পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন চা-কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে। এছাড়া উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমে সমস্যা তৈরি করে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

অতিরিক্ত গরমে যদি মাথা ঘোরা, বমিভাব, প্রচণ্ড ক্লান্তি বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগীদের এই সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: