জনসমুদ্রে পরিণত সংসদ ভবন,চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে রাজধানী ঢাকায় এক আবেগঘন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার বদলে এবার মরদেহবাহী কফিনটি রাখা হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে। সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে মুসল্লিদের জন্য জানাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জানাজা ও দাফন চলাকালীন নিরাপত্তার খাতিরে এভারকেয়ার হাসপাতাল, সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরণের আতশবাজি, ফানুস ও ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজিডিসিএল এবং ট্রাফিক পুলিশের দেওয়া রুট ম্যাপ অনুযায়ী, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম জিয়ার মরদেহ গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা' হয়ে বিজয় সরণি ও উড়োজাহাজ ক্রসিং দিয়ে সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আজ বিশেষ মেট্রো ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে ডিএমটিসিএল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো বা জন-উপদ্রব সৃষ্টিকারী কোনো কাজ না করার জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকের এই দিনে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ফলাফল প্রকাশে কেন সময় লাগবে, ব্যাখ্যা দিল ইসি
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সাথে পৃথক বৈঠক শেষে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। সচিবের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ভিন্ন ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং সারাদেশে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ার কারণেই গণনা প্রক্রিয়ায় এই ধীরগতি আসতে পারে। বিশেষ করে, প্রবাসীদের জন্য এবং অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য ভিন্ন ধরনের ব্যালট পেপারের ব্যবহার গণনা প্রক্রিয়ায় এক নতুন ধরণের জটিলতা ও সময়ক্ষেপণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবের মতে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পোস্টাল ব্যালট’ গণনা। ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-১৫ এবং কুমিল্লার মতো আসনগুলোতে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে একটি সাধারণ কেন্দ্রে ৩ হাজার ভোটার থাকে, সেখানে ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এই বিশাল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট নিখুঁতভাবে গণনা করা এবং সেগুলো মূল ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত করা একটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কঠিন কাজ। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল হাতে পেতে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ইসি সচিব। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ৩৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আগামী নির্বাচন কভার করবেন। কমনওয়েলথ ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব প্রতিনিধিদের জন্য ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’র বিশেষ সুবিধাও রাখা হয়েছে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কালো টাকার প্রভাব রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ও আই-ব্যাংকিং সেবার ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে লেনদেনের একটি নির্দিষ্ট ‘লিমিট’ বা সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে কমিশন, যা শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮১ জনে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী হিসেবে ৭৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সবথেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি এবার ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে টিআইবির উদ্বেগের জবাবে সচিব স্পষ্ট করেছেন যে, কেউ তথ্য গোপন করে প্রার্থী হলে আরপিও’র নতুন বিধান অনুযায়ী কমিশন যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে পারবে। ভোটারদের নিজেদের এনআইডি কার্ড সুরক্ষা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসি সচিব।
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য খুশির খবর: ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ছুটির হাতছানি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এক বিশেষ স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটির এক বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা মূলত জাতীয় নির্বাচনের আয়োজনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান যে, নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারিকেও সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত কেবল ভোটারদের সুবিধার্থেই নয়, বরং প্রশাসনিক ও নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও সুসংহত করতেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের এক দীর্ঘ বিরতি পেতে যাচ্ছেন, যা বর্তমান কর্মব্যস্ত সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সংবাদ।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব আরও বিস্তারিত উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন আগে থেকেই সাধারণ ছুটি হিসেবে নির্ধারিত ছিল। তবে নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারিকেও সাধারণ ছুটির আওতায় আনার ফলে এই ছুটির ব্যাপ্তি দীর্ঘতর হয়েছে।
যেহেতু এর পরবর্তী দুই দিন অর্থাৎ ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার, যা সাধারণভাবেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন, তাই সব মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীরা টানা চার দিনের একটি নিরবচ্ছিন্ন অবসর কাটাতে পারবেন। এই বর্ধিত ছুটি সরকারি দপ্তরের কাজের চাপ কমিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেবল সরকারি কর্মচারীরাই নন, এই ছুটির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও শ্রমিকদের স্বার্থকেও। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সকল শিল্পাঞ্চলে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো মিলিয়ে এক দীর্ঘ বিরতির সুবিধা পাবেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন যে, শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং বাড়ি ফেরার সুবিধার্থেই এই বিশেষ দিনের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপ মূলত আগামী নির্বাচনকে সর্বজনীন এবং অংশগ্রহণমূলক করার এক প্রশাসনিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। নির্বাচনের এই বিশেষ ছুটি দেশের নাগরিক সুবিধা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনার কোনো বার্তা কাম্য নয়: তৌহিদ হোসেনের কড়া বার্তা
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে দৃশ্যমান টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে থাকা ‘শেখ হাসিনা ফ্যাক্টর’ নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরাসরি ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে ঢাকা। বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের মাটিতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উসকানিমূলক বিবৃতি প্রদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির এই প্রচেষ্টা কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূতই নয়, বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের পথেও একটি নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে। ঢাকার পক্ষ থেকে এই বার্তা নয়াদিল্লিকে পুনরায় দেওয়ার মাধ্যমে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির চাবিকাঠি অনেকটাই নির্ভর করছে এই ধরণের স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ভারতের কার্যকর ভূমিকার ওপর।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধ নিরসনে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অনিবার্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৌহিদ হোসেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে হাসিনা সরকারের পতন এবং সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে ভারতের অতি-সংবেদনশীল অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক টেবিলে যে মেঘ জমিয়েছে, তা কাটানোর জন্য তিনি খোলামেলা আলোচনাকে প্রধান পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সীমান্ত উত্তেজনা এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে ‘অস্বস্তি’ তৈরি করেছে, উপদেষ্টা সেটিকে অস্বীকার করেননি। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এই সাময়িক সংকট কাটিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই।
সংখ্যালঘু সুরক্ষা ইস্যুতে দিল্লির ক্রমাগত উদ্বেগের বিপরীতে তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশের সার্বভৌম অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসনের উদাহরণ টেনে এক বলিষ্ঠ জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর, যা বিগত সরকারগুলোর আমলের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
ভারতের অভ্যন্তরীণ সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ যেমন কখনো কোনো বিরূপ মন্তব্য করে না বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে না, তেমনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতেও ভারতের পক্ষ থেকে একই ধরণের নীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা কাম্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। ১০ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেনের বার্তাটি ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একটি সম্মানজনক ও সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব চায়, যেখানে একে অপরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর অবকাশ থাকবে না।
নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বড় সুখবর
নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের বৈঠক শেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় পরিসরের আর্থিক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। কমিশন সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় পেনশনভোগীদের ভাতায় স্তরভেদে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সুপারিশ করা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জীবনযাত্রার ব্যয়চাপ অনেকটাই কমবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পেনশনভোগীদের আয়স্তর বিবেচনায় নিয়ে পৃথক হারে পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাবেন।
পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাবিত কাঠামো
সভা সূত্রে জানা গেছে, যেসব পেনশনভোগী বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন শতভাগ বৃদ্ধি অর্থাৎ দ্বিগুণ করার সুপারিশ রাখা হয়েছে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা মাসিক পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য প্রস্তাবিত বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ। আর যাঁরা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাঁদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে।
কমিশনের মতে, এই স্তরভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম আয়ের প্রবীণ পেনশনভোগীদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করা সম্ভব হবে এবং সামাজিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
চিকিৎসা ভাতায় বাড়তি সুবিধা
পেনশন বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে মাসিক ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রবীণদের স্বাস্থ্যব্যয় বিবেচনায় নিয়েই এই পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে বার্ধক্যজনিত চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হয়।
দীর্ঘ আলোচনা ও আর্থিক বিশ্লেষণের পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন শেষে নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামো কার্যকর হবে।
-রফিক
পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
নির্বাচনী প্রচারণা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কথা, ঠিক সেই সংবেদনশীল মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলেই জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
গত বুধবার কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। যদিও আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত কমিয়ে ১ঃ৮ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ঃ৯.৪। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে। ওই সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা একে “দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফল” এবং “সৃজনশীল প্রয়াস” হিসেবে আখ্যা দেন।
তবে কমিশন প্রধান নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বাৎসরিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়।
বেতন কাঠামোর প্রতিটি ধাপেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তৃতীয় ধাপে ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং চতুর্থ ধাপে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ রয়েছে। একইভাবে পঞ্চম থেকে ঊনবিংশ ধাপ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই প্রায় দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য ২০ ধাপের বাইরে বিশেষ গ্রেড প্রবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের সময় নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক এখতিয়ার নিয়ে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোনো সরকার নীতিগতভাবে কেবল রুটিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতে পারে। একটি অনির্বাচিত বা অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, এ ধরনের মৌলিক সিদ্ধান্ত কেবল নির্বাচিত সরকারেরই নেওয়া উচিত।
অর্থনীতিবিদরা আরও আশঙ্কা করছেন, এই ঢালাও বেতন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। সরকারি বেতন বাড়লে বেসরকারি খাতেও অনিবার্যভাবে একই ধরনের চাপ তৈরি হয়। অথচ বর্তমানে বেসরকারি খাত গভীর সংকটে রয়েছে। গত দেড় বছরে বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, রপ্তানি আয় কমেছে, নতুন বিনিয়োগ কার্যত স্থবির এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে।
এর ওপর গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। উচ্চ সুদহার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত অনিশ্চয়তা মিলিয়ে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই বাস্তবতায় সরকারি বেতন বৃদ্ধির চাপ বেসরকারি শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে শ্রমঘন খাতগুলোতে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে শ্রমিকদের মধ্যেও মজুরি বৃদ্ধির দাবি জোরালো হবে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, আন্দোলন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই সংকটে থাকা গার্মেন্টস শিল্প এই চাপ সামাল দিতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
এ ছাড়া অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতিবার নতুন পে স্কেল ঘোষণার পর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তিন ধাপে বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এবারের পে স্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতি ২০ থেকে ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে ৮ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটি হবে চরম দুঃসংবাদ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাজস্ব আয়ের দুর্বল অবস্থা। চলতি অর্থবছরে সরকার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায়ের মুখোমুখি হয়েছে। বেতনসহ নির্বাহী ব্যয় মেটাতে সরকার ইতোমধ্যেই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ভ্যাট ও অন্যান্য পরোক্ষ কর বাড়ানো হলে তার বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।
অতীতে ঘুস-দুর্নীতি কমানো ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর যুক্তিতে বেতন বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং অনির্বাচিত সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে বলে মত বিশ্লেষকদের। সংকটাপন্ন অর্থনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা” হিসেবে দেখছেন।
-রফিক
শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার মধ্যরাত থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা এই নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন বৈধ প্রার্থী। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও আপিল শুনানির পর ৪১৮ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। আপিল শুনানি শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৫৩ জন হলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ালে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৭ জনে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইনে প্রচারের ক্ষেত্রে ইসি সাতটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। প্রার্থীরা যে ফেসবুক আইডি বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন, তার তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। নির্বাচনি প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ভুয়া কনটেন্ট তৈরি, ছবি বিকৃতি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘৃণা ছড়ানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চরিত্র হনন করলে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গুজব প্রতিরোধে এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
এবারের নির্বাচনে পরিবেশ রক্ষায় পোস্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থীরা এর বিকল্প হিসেবে ফেস্টুন ও ডিজিটাল ব্যানারে ঝুঁকছেন। নিয়মানুযায়ী, একটি আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড (১৬ ফুট বাই ৯ ফুট) ব্যবহার করা যাবে। আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকলেও ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলোর ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনোভাবেই পলিথিন আবরণ বা পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না।
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশের ৩০০টি আসনে ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ গঠন করেছে কমিশন। ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে এই কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। বিধিনিষেধ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রয়োজনে তদন্তসাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসির রয়েছে।
নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে তাঁরা কোনো প্রার্থীর হয়ে সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া বিদেশে কোনো জনসভা বা পথসভা করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই ঢাকার ১৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের প্রতিনিধিরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত লোক নিয়ে এসেছেন এবং নারীকর্মীদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই অভিযোগকে অসত্য দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রচারণার সময় কর্মীরা যদি কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন করে, তবে তার পূর্ণ দায়ভার প্রার্থীকেই নিতে হবে। প্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণার সময় আচরণবিধি মানার লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধানও যুক্ত করেছে কমিশন।
স্মার্টফোনেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ? শুরু হলো প্রবাসীদের ঐতিহাসিক পোস্টাল ভোট
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে প্রবাসে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা আজ বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা শুরু করেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশে বসেই দেশের ভাগ্যনির্ধারণী এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে যারা সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন, তাঁরা আজ বিকেল পাঁচটা থেকে অ্যাপ বা ইসির ওয়েবসাইটের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ আসনের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট দিতে পারছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল অ্যাপে শুরু হলেও এর একটি শারীরিক বা ফিজিক্যাল ধাপ রয়েছে। ভোটারদের ভোট প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট পোস্টাল ব্যালটটি একটি হলুদ খামে ভরে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিতে হবে। এই ব্যালটগুলো ডাকযোগে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো বাধ্যতামূলক।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা অনিয়মের যে কোনো আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটিতে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে একজন ভোটারের ভোট অন্য কারও দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা যাতে শতভাগ বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের কারিগরি টিমের মতে, এই অ্যাপটি প্রবাসীদের আস্থার সাথে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিশ্বের ১২১টি দেশে অবস্থানরত ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসীদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।
নির্ধারিত সময়ের ৩ সপ্তাহ আগেই জমা পড়ল নবম পে স্কেল রিপোর্ট
দীর্ঘ ১২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রূপরেখা নিয়ে জমা পড়েছে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন পেশ করা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই কমিশন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করে এক নজিরবিহীন পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকার যখন ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন গঠন করে, তখন তাদের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছিল শেষ তারিখ। তবে কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের এই দল নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করেছেন। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে কমিশন তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করেছে, যা সরকারি খরচ হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।"
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য বর্তমান ২০টি স্কেল বহাল রেখে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় মূল বেতনে বিশাল উল্লম্ফন আনা হয়েছে
বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বর্তমান কাঠামোতে জীবন নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও ভাতাদির জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, সরকারি সেবায় গুণগত পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবীমা চালুর প্রস্তাব।
বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার।
সরকারি দপ্তরের জন্য একটি পৃথক সার্ভিস কমিশন গঠনের প্রস্তাব।
সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডকে আরও কার্যকর করতে পুনর্গঠনের সুপারিশ।
এই দুই খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ ও পরিকল্পনা।
প্রতিবেদন দাখিলের সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। এই কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং আর্থিক সংস্থানের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা। কমিশনের এই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এখন সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
৩০০ আসনেই ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি; আজ মধ্যরাত থেকেই ঘুরবে ব্যালট ছাপার চাকা
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে কোনো আসন বাদ যাচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম আজ বুধবার বিকেলে জানিয়েছেন, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাত দিয়ে প্রেসসচিব জানান, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আইনি ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি নিরসন হয়েছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকল আসনেই ভোটগ্রহণের বাধা দূর হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আজ বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
এবারের নির্বাচনটি ঐতিহাসিকভাবে কিছুটা ভিন্ন হতে যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশব্যাপী একটি বিশেষ ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ভোট প্রদানের পর ব্যালট গণনা প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গণনা করতে হওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। এর ফলে ফল প্রকাশেও কিছুটা বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের দিন স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রেসসচিব জানান, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০টি ‘বডি অন ক্যামেরা’ থাকবে। এই ক্যামেরাগুলোর লাইভ ফুটেজ সরাসরি ‘সুরক্ষা’ (Surakkha) অ্যাপের সাথে যুক্ত করা হবে। প্রধান কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক এই ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স’ টিম প্রস্তুত থাকবে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার নির্বাচনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, বিগত সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে লুণ্ঠিত হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে।
পাঠকের মতামত:
- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ফলাফল প্রকাশে কেন সময় লাগবে, ব্যাখ্যা দিল ইসি
- ফাইবার খেয়েও মুক্তি মিলছে না কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে? জেনে নিন নেপথ্যের কারণ
- মার্কিন স্বপ্ন কি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে? ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতির ৫টি বড় দিক
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে করলার রসের ভূমিকা নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- মায়েদের ইজ্জতে টান দিলে আগুন জ্বলবে: জামায়াত আমির
- অর্থনীতির চাকা ঘুরাচ্ছে প্রবাসীরা: জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সের বড় উল্লম্ফন
- শীতের ভ্রমণে সতেজ ত্বক: মেনে চলুন সহজ কিছু জাদুকরী কৌশল
- ফ্যাসিবাদী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম
- রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য
- নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য খুশির খবর: ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ ছুটির হাতছানি
- ভারতের মাটিতে থেকে হাসিনার কোনো বার্তা কাম্য নয়: তৌহিদ হোসেনের কড়া বার্তা
- শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
- জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
- ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চের অবসান; ভারতের মাটিতে পা রাখছে না টিম বাংলাদেশ
- নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বড় সুখবর
- শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে
- ২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার
- ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম কি ছুঁবে ৫৪০০ ডলার? গোল্ডম্যানের পূর্বাভাস জানুন
- ভালুকায় বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে উত্তাল মহাসড়ক
- সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা কবে
- নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
- পে স্কেলে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কতটা বিপদে পড়বে বেসরকারি খাত
- তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান
- শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র
- এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি
- ইন্দোনেশিয়ার গুহায় মিলল বিশ্বের প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর
- বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- পাকিস্তানে তেলের নতুন খনি: এক কূপেই মিলল বড় সাফল্য
- আইসিসির আল্টিমেটামের মাঝেও আশা দেখছেন বুলবুল
- জুট্রোপলিস ২-এর রেকর্ড: হলিউড অ্যানিমেশনের মুকুট এখন ডিজনির মাথায়
- প্রাক্তনের মায়া ও ভুলের চক্র: নতুন বছরে নিজেকে বদলানোর ৩টি চাবিকাঠি
- মোস্তাফিজ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল আইসিসি, কী বলল বিশ্ব সংস্থা
- ওজন কমাতে নাশতা বাদ? হিতে বিপরীত হওয়ার সতর্কতা
- নীরবে রক্তপাত? পাইলসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ জানুন
- তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (২২ জানুয়ারি ২০২৫)
- যানজটমুক্ত ঢাকা ও স্যাটেলাইট সিটি; উন্নয়ন রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- গাজা শান্তি উদ্যোগে বড় মোড়; ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ ৯ মুসলিম দেশ
- জীবনের নিরাপত্তায় গানম্যান চাইলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২২ জানুয়ারি ২০২৬
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার: নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত বাড়ছে?
- সোনা ও রুপার বাজারে ফের রেকর্ড; কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
- দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- চরভদ্রাসনে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান; ফেঁসে গেলেন দুই সাংবাদিক
- একাধিক ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড সভা ঘোষণা








