শেখ হাসিনার মামলার বিচার শেষ পর্যায়, রায় শীঘ্রইে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। মাত্র ৯ দিনে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন শহীদ আন্দোলনকারীর বাবা-মা ও ভাইসহ আহত আন্দোলনকারী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়েছেন। সাক্ষীরা সবাই এক কণ্ঠে বলেছেন—হাজারো মানুষ হত্যার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ফাঁসি হওয়া উচিত।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মামলায় আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন সাক্ষী আদালতে হাজির হবেন। অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর উভয় পক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। প্রসিকিউশনের মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার কথা। এরপর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য দিন ঘোষণা করবে।
এই মামলায় মোট সাক্ষী রয়েছেন ৮১ জন, যাদের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা ও একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকও আছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হবে এবং এরপর আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করবে।
তিনি আরও জানান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতোমধ্যেই দোষ স্বীকার করেছেন এবং রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আইনজীবীরা চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট ৫টি অভিযোগে বিচার শুরু করার আদেশ দেয়। অভিযোগগুলো হলো: ১,৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনা, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। চৌধুরী আল-মামুন মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।
চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ করছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এছাড়া, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর একটি হলো আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনা, অন্যটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত এই রায়ে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে এনবিআরের উল্লেখিত বকেয়া কর পরিশোধের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারকদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দায়ের করা দুটি পৃথক রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে এনবিআরের দাবি করা এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া আয়কর আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ায় আর কোনো বাধা রইল না।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এনবিআরের পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত টানা পাঁচ বছরের আয়কর দাবি করা হলে, ২০১৭ সালে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত এনবিআরের সিদ্ধান্তের ওপর রুল জারি করলেও পরবর্তীতে চূড়ান্ত শুনানি শেষে নতুন বেঞ্চ রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, তাদের দায়ের করা রিটের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় এনবিআরের আগের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির সিদ্ধান্তই বহাল বহাল রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায় সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্বের একটি রায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বাতিল করে দেন। এরপর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেখানে সব পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের কর পরিশোধের বিষয়টি চূড়ান্ত আইনি রূপ পেল।
/আশিক
বহুল আলোচিত আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আইনি কার্যক্রমে নতুন মোড়
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন তৃতীয় দফার মতো খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল বিরুনী মীরের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ দিন আদালতে আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর গাজী নজরুলের জামিন শুনানিকালে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামি বয়স্ক এবং ভিকটিম অতি অল্প বয়সের নারী। আসামির নিজস্ব হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন এবং এই পর্যায়ে পর্যাপ্ত হাজতবাস না হওয়ায় জামিন মঞ্জুর করা সম্ভব নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, এই স্পর্শকাতর মামলায় এ মুহূর্তে আসামি জামিন পেলে সমাজে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এরও আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় সংসদ সদস্য নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় আদালত প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জামিন দিলেও সংসদ সদস্য নজরুলের জামিন নামঞ্জুর বহাল রাখেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি সরকারি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন আদালত নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে আরও এক দফায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য নজরুলকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি ওবায়দুর রহমানকেও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
/আশিক
আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার বাদী ও তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে একটি আপসনামা দাখিল করে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের জামাই গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনা বা রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি এই লিখিত আবেদন জমা দেন এবং আসামিদের জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর অনুসন্ধানে ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে শান্তির স্বার্থে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই আপসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ এই আপসনামার তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করে যে, বাদীপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এই আপসনামা করানো হয়েছে এবং আইনানুযায়ী এ ধরনের প্ররোচনা মামলায় আপসের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাদী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই আদালতকে এটি অবহিত করেছেন। বাদী উপস্থিত থেকে জামিনে সম্মতি প্রকাশের পর আদালত শুনানি শেষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও প্রধান আসামি গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও মামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিন ও আপসনামার বিষয়ে এসব সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেন।
/আশিক
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোড এবং আশপাশের এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামিরা হলেন হামলার মাস্টারমাইন্ড শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তি এলাকার মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূলত যে জমিতে স্টুডিওটি অবস্থিত, তার মালিক ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর সাথে স্থানীয় অন্য জমি মালিকদের যাতায়াতের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। নিউ গিনি প্রপার্টিজ বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি গেট নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালায়। তবে এর নেপথ্যে কোনো চাঁদা দাবির বিষয় যুক্ত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে দুটি ট্রাকে করে আসা সশস্ত্র একদল লোক ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভেতরের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। রাত পৌনে ২টায় ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার তাণ্ডব দেখান সালমান মুক্তadir এবং স্টুডিও ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন যে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক কিংবা চাঁদা আদায় সংক্রান্ত কোনো উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
/আশিক
বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ির চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় মামলার আপস
রাজধানীর বারিধারায় অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মামলার শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে এই তথ্য জানানো হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে নিশ্চিত করেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে আসামিদের জামিন বা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার বিষয়ে বাদীপক্ষের আর কোনো আপত্তি নেই। জীবনহানির বিপরীতে ৯ লাখ টাকার আপস প্রসঙ্গে আইনজীবী দাবি করেন, নিহত পথচারী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীরা এই আপস চুক্তিতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদিত আপসনামা সূত্র অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রথম পক্ষের একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-১৮-৬৬৭৬) হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়লে সেখানে বসে থাকা মেহেদী হাসান মিম (২৪) নামের ওই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মারা যান। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক আকাশ মারক (৪৪) এবং গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম পক্ষের ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই আজান আলী শারীফ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বাদী হয়ে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেছিল।
চুক্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে এই আপস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের সহায়তায় আরও ৮ লাখ টাকা—সর্বমোট ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করেছে প্রথম পক্ষ। এর বিনিময়ে বাদীপক্ষ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে এবং আসামিদের জামিনে পূর্ণ অনাপত্তি জানাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদালতে নতুন করে অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।
/আশিক
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের একক বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার (ডিলিট) এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পর্যবেক্ষণ না করে ওই রায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়করের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই রায়ের কারণে গ্রামীণ কল্যাণকে বকেয়া এই আয়কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হয়। হাইকোর্টের আদেশের চার দিনের মাথায় এর কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন নিয়ে চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ হন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন অংশ নেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ।
শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী লিভ টু আপিল দায়ের করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ রায় ও আপিল করার পূর্ব পর্যন্ত রায়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, সেজন্যই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার আদালত জানিয়েছেন, লিখিত রায় প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, চেম্বার কোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের বিবিধ আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার ১৪ নম্বর কর অঞ্চল পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি কর দাবি করে এবং শুনানির দিন ধার্য করে। প্রতিষ্ঠানটি নথিপত্র প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করলেও তা খারিজ করে কর অফিস। পরবর্তীতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও নাকচ হলে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং কর দাবির বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কয়েক দফায় স্থগিত রাখা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ কর অঞ্চলের আদেশ বাতিল করে পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনবিআর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টে মূল বিষয়ের ওপর পুনরায় শুনানির আদেশ দেন। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে রিট খারিজ করে রায় হলেও অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সেই বেঞ্চই গ্রামীণ কল্যাণের রুল চূড়ান্তভাবে খারিজ করে রায় প্রদান করেন।
/আশিক
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় আওতা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নোটিশে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
বাবা-মা বা দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও যেন তাদের নিজ জীবদ্দশায় সেটি নির্বিঘ্নে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনীটি অনুমোদন পায়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনটির মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সুরক্ষার নতুন ধারা সংযোজন করা হলো। ইতিপূর্বে বলবৎ আইনে এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাবা-মা বা বয়োবৃদ্ধরা সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের জমি বা ঘরবাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার পর অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পত্তিতে অধিকার হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতেন। প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর ফলে এই জটিলতার একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে।
বিদ্যমান হেবা বা অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তি দানের ফলে দাতা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বত্ব হারাতেন। সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান বা গ্রহীতাকে সম্পত্তি উপহার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার নিজ হাতে রেখে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে যে, দাতার জীবদ্দশায় কোনো পক্ষই—সন্তান বা দাতা এককভাবে—উক্ত সম্পত্তি অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
/আশিক
১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ইতিমধ্যেই শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশনের খসড়া তালিকায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩ জনের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা নিয়ে কাজ চলছে।
তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তারা রিপোর্টের খসড়া বিবরণী নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। প্রসিকিউশনের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত কোনো আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে বলির পাঁঠা না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত আইনি সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা ও তৎকালীন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুম ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগীর বিবরণ এই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যে ৬১ জনের তালিকা তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল, এই প্রতিবেদনে মূলত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, একই দিন অর্থাৎ রোববার সকালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে চালানো ওই নৃশংস সামরিক ও পুলিশি অভিযানের ওপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তৈরি করা মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছায়। স্পর্শকাতর এই মামলায় দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে প্রধান আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এ ছাড়া এই মামলার আসামির তালিকায় তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি বিতর্কিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরও যুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম নেতা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের অভিযানে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- নানিয়ারচর জোন কর্তৃক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত
- টিকটকের মোহে নতুন জীবনের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল চার স্কুলছাত্রী
- সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- সাভারের হেমায়েতপুরে মাদানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুন
- সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
- আগামীকাল আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
- ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক
- সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ
- জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার
- ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
- অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
- ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
- বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
- জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
- সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- আবহাওয়ার নতুন বার্তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
- দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
- বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম
- হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
- যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের
- ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান
- দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত
- চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়
- মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
- বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীর নতুন জীবনের পাশে স্পাইডার-ম্যান
- মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
- ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
- রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
- কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
- সর্বকালের সেরা কে? নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করলেন রোনালদো
- ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?
- চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
- ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
- রমজানে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: পর্যাপ্ত আমদানির আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে গভীর শোকের ছায়া: হঠাৎ থমকে গেল এক রূপালী পথচলা
- ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও রিজভীউল হাসান মুন্সী
- রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে
- আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পূর্বাভাস: বর্ষার শেষে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু?
- চম্পাফুলে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আমের চারা বিতরণ
- ১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত








