এই এক ফলই যথেষ্ট: মাত্র এক সপ্তাহে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ০৯:৪৮:১৩
এই এক ফলই যথেষ্ট: মাত্র এক সপ্তাহে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনযাপন ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আজকাল অনেকেই রক্তাল্পতা, দুর্বলতা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত নারী ও শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেন।

রক্তের ঘাটতি পূরণে খেজুর

আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা. আইজল প্যাটেল বলেন, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা শরীরে দ্রুত হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মাত্র দুটি খেজুর খেলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এর উপকারিতা দেখা যায়। এটি শুধু রক্তের ঘাটতিই পূরণ করে না, বরং শরীরকে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তোলে। খেজুরকে বলা হয় প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার। হালকা গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে এর উপকারিতা আরও বেশি হয়।

খেজুরের অন্যান্য উপকারিতা

হাড় ও হৃদযন্ত্র: খেজুরে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ হাড় মজবুত করে ও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

হজমশক্তি: এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

রোগ প্রতিরোধ: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

উচ্চ রক্তচাপ: খেজুর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে।

সর্দি-কাশি: ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশির মতো সাধারণ রোগ প্রতিরোধে এটি বেশ কার্যকর।

সতর্কতা

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়াও, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রতিদিন মাত্র এক বা দুটি খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


ডার্ক চকলেটের জাদু: মস্তিষ্ক সচল রাখার এক গোপন রহস্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ০৯:৩০:৩৫
ডার্ক চকলেটের জাদু: মস্তিষ্ক সচল রাখার এক গোপন রহস্য
ছবিঃ সংগৃহীত

মানুষের শরীরের সবচেয়ে জটিল এবং কার্যকর অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা সৃজনশীল চিন্তাভাবনা—সবকিছুই নির্ভর করে তার সঠিক পুষ্টি ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর। আর এই মস্তিষ্ককে সচল রাখতে যেসব খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে ডার্ক চকলেট বিশেষভাবে উপকারী। অনেকেই ডার্ক চকলেটকে কেবল একটি বিলাসী খাবার হিসেবে দেখলেও, গবেষণা বলছে এটি মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি খাবার।

ডার্ক চকলেটে থাকা কোকো বীজ ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যাফেইনের মতো নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এই উপাদানগুলো মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত করে এবং নিউরনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ক্লান্তি দূর হয় এবং একাগ্রতা বেড়ে যায়।

ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের রক্তনালীতে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা কমাতে সাহায্য করে এবং নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরি করতেও ভূমিকা রাখে। এর ফলে মস্তিষ্কে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই শিক্ষার্থী বা যারা বিশ্লেষণমূলক কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি অসাধারণ সহায়ক খাবার হতে পারে।

ডার্ক চকলেটের ভেতরের ক্যাফেইন ও থিওব্রোমিন নামের যৌগ মস্তিষ্ককে সাময়িকভাবে উদ্দীপ্ত করে। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং মানসিকভাবে সতেজ অনুভব করা যায়। দীর্ঘ সময় কাজের পর যখন ক্লান্তি আসে, তখন সামান্য ডার্ক চকলেট সেই ক্লান্তি দূর করতে পারে।

এটি প্রাকৃতিকভাবে মেজাজ উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। কারণ ডার্ক চকলেট খাওয়ার পর শরীরে সেরোটোনিন ও এন্ডরফিনের মতো হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মানসিক প্রশান্তি আনে।

বয়সজনিত মানসিক অবনতি ঠেকাতে ডার্ক চকলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগে মস্তিষ্কের কোষ ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ডার্ক চকলেটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেই ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করে। যদিও এটি কোনো রোগ সারিয়ে তুলতে পারে না, তবে এর প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। ফলে বৃদ্ধ বয়সেও তুলনামূলক ভালোভাবে স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব হয়।

তবে ডার্ক চকলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে সংযম খুবই জরুরি। এতে ক্যালরি ও চিনি থাকে, তাই অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে। সাধারণত, দিনে এক বা দুই টুকরো ডার্ক চকলেট খাওয়াকে উপকারী মনে করেন গবেষকরা। এটিকে মূল খাবার হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যের পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

/আশিক


শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য: কেন হয় এবং মুক্তির উপায় কী?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৭ ২০:১৯:৪৬
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য: কেন হয় এবং মুক্তির উপায় কী?
ছবিঃ সংগৃহীত

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে সব বাবা-মায়েরই দুশ্চিন্তা হয়। নিয়মিত পায়খানা না হওয়া, মল শক্ত ও শুষ্ক হওয়া, পেটব্যথা এবং বিরক্তি ছোট্ট শিশুর জন্য কষ্টকর। কিন্তু এই সমস্যা কেন হয়, তা জানা বাবা-মায়ের জন্য ভীষণ জরুরি। এর পেছনে কিছু সাধারণ অভ্যাস ও খাবারের ভুল রয়েছে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান কারণগুলো হলো:

১. জাঙ্ক ফুড ও কম আঁশযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এবং কম আঁশযুক্ত খাবার শিশুর হজম প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। যেসব খাবারে ফাইবার কম থাকে, সেগুলো মলকে শক্ত করে দেয়।

২. গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, যেমন পনির, হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে। যেসব শিশুকে অতিরিক্ত পরিমাণে গরুর দুধ খাওয়ানো হয়, তাদের মল শক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

৩. কম পাকা কলা ও ভাত: যদিও কলা সহজে খাওয়ানো যায়, তবে কাঁচা বা কম পাকা কলায় থাকা স্টার্চ মলত্যাগে বাধা দেয়। পাকা কলায় বেশি ফাইবার থাকায় সেটি হজমের জন্য ভালো। একইরকমভাবে, ভাতে ফাইবার কম থাকায় এটিও মল শক্ত করে দেয়। ভাত খাওয়ালেও এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার যোগ করা জরুরি।

৪. রান্না করা গাজর: গাজর স্বাস্থ্যকর হলেও, রান্না করা গাজর কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে, কারণ রান্নার ফলে এর ফাইবার ভেঙে যায়। তুলনামূলকভাবে বেশি বয়সী শিশুদের জন্য কাঁচা ও কুচি করা গাজর উপকারী হতে পারে।

৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার: ক্র্যাকার বা মিষ্টি পিউরির মতো প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারে ফাইবার কম থাকে এবং অ্যাডিটিভ থাকায় সেগুলো শিশুর হজমের জন্য কঠিন হয়।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শিশুকে রক্ষা করতে বাবা-মায়ের কিছু বিষয়ে নজর রাখা উচিত:

সুষম খাদ্য: শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ানো উচিত, যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।

সচেতনতা: কোন কোন খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়, সে সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সেগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।

শারীরিক কার্যকলাপ: শিশুকে নিয়মিত খেলাধুলা বা শারীরিক কার্যকলাপে যুক্ত রাখলে তার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

ঘরে তৈরি খাবার: প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে টাটকা ও ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন।

এসব বিষয়ে মনোযোগ দিলে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো সম্ভব এবং আপনার সন্তান সুস্থ ও হাসিখুশি থাকতে পারবে।


স্বস্তির খবর: ডেঙ্গুতে একদিনে কারও মৃত্যু নেই, সুস্থ হয়েছেন ৪২০ জন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৭ ১৭:৩৮:০৪
স্বস্তির খবর: ডেঙ্গুতে একদিনে কারও মৃত্যু নেই, সুস্থ হয়েছেন ৪২০ জন
ছবিঃ সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ৪৩০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২০ জন রয়েছেন বরিশাল বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকা)। এছাড়া, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৭৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) সাত জন এবং রংপুর বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) পাঁচ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪২০ জন ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৪০০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

/আশিক


ওজন কমানোর রহস্য: ডায়েট নয়, সমস্যা লুকিয়ে আছে ৩টি অভ্যাসে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৬ ১৭:৫৩:২৮
ওজন কমানোর রহস্য: ডায়েট নয়, সমস্যা লুকিয়ে আছে ৩টি অভ্যাসে
ছবিঃ সংগৃহীত

ওজন কমানো কিংবা শরীর সুস্থ রাখার জন্য অনেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, ডায়েট করেন। তবে অনেক চেষ্টার পরও দেখা যায়, বাড়তি ওজন যেন একচুলও নড়ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূল কারণ শরীরচর্চা বা ডায়েট নয়, বরং কিছু অভ্যাসগত ভুল। বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর এবং সপ্তাহে ৫০ ঘণ্টার বেশি কাজের চাপ থাকলে শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে কোমরের চারপাশে একগুঁয়ে চর্বি জমে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফিটনেস কোচ লার্স মিডেল এমন তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যার জন্য শত চেষ্টা করেও ওজন কমানো সম্ভব হয় না।

১. স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস

অনেকের ধারণা, শুকনো ফল, সালাদ বা স্যান্ডউইচের মতো খাবারগুলো স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বাস্তবে এসব খাবারেই প্রায় ৩ হাজার পর্যন্ত ক্যালরি থাকতে পারে। ফলে আপনি যত ব্যায়ামই করুন না কেন, এই বাড়তি ক্যালরিগুলো শরীরে জমতে থাকে। তাই বাড়তি ক্যালরি এড়াতে অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং বা অতিরিক্ত মুখরোচক খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে।

২. রাতে অ্যালকোহল পান

গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর রাতে অ্যালকোহল পান করলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর অ্যালকোহল গ্রহণ করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই কঠিন হয় না, পাশাপাশি ঘুমেরও সমস্যা দেখা দেয়। তাই ফিট থাকতে চাইলে অ্যালকোহলকে সম্পূর্ণভাবে ‘না’ বলুন।

৩. লুকানো ক্যালরি

অনেক সময় আমরা যেসব খাবারকে নির্দোষ ভাবি, সেগুলোতেও লুকিয়ে থাকে বাড়তি ক্যালরি। যেমন—সালাদের ড্রেসিং, তেলে ভাজা খাবার কিংবা লবণ মেশানো কাজুবাদাম। নিয়মিত এসব খেলে শরীরে বাড়তি ক্যালরি জমা হতে থাকে। তাই খাবার বাছাইয়ের আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।


হৃদপিণ্ডের দুর্বলতার লক্ষণ: জেনে নিন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৩ ১০:০৮:৪৬
হৃদপিণ্ডের দুর্বলতার লক্ষণ: জেনে নিন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
ছবিঃ সংগৃহীত

হৃদপিণ্ড আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি সুস্থ থাকলে দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। কিন্তু কোনো কারণে হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

এখানে এমন ৩টি লক্ষণের কথা বলা হলো, যা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার হার্টের অবস্থা ভালো নেই:

১. বুক ধড়ফড় করা: অনিয়মিত হৃদস্পন্দন অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও, ঘন ঘন এমন হলে তা হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে। হৃদপিণ্ড যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এটি সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, ফলে বুক ধড়ফড় বা বুক ভারী লাগার মতো অনুভূতি তৈরি হয়।

২. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব: হৃদপিণ্ড যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন এটি ফুসফুসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না। এর ফলে অল্প পরিশ্রমে, এমনকি বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বুকে চাপ অনুভব হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় লক্ষণ হতে পারে।

৩. পা ও হাত ফোলা: দুর্বল হৃদপিণ্ড রক্ত সঠিকভাবে পাম্প করতে না পারায় পায়ে, গোড়ালিতে বা হাতে তরল জমা হয়। এর ফলে পা ও হাত ফুলে যায়। যদি আপনার পা বা গোড়ালি হঠাৎ করে ফুলে যায়, তবে এটি হৃদরোগের একটি গুরুতর লক্ষণ হতে পারে।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা করালে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।


কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে: আজই শুরু করুন এই সহজ অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১০:২১:৫০
কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে: আজই শুরু করুন এই সহজ অভ্যাস

কিডনি মানব শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। এটি রক্ত থেকে অপ্রয়োজনীয় টক্সিন ও অতিরিক্ত পানি বের করে শরীরকে সুস্থ রাখে। তাই কিডনির সুস্থতা বজায় রাখা অপরিহার্য। আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা প্রায়ই এর যত্ন নিতে ভুলে যাই। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো সকালে খালি পেটে পর্যাপ্ত পানি পান করা।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীর দীর্ঘক্ষণ পানি থেকে বঞ্চিত থাকে। এই সময়ে পানি পান করলে তা কিডনির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। সকালে পানি পান করলে কিডনি হাইড্রেটেড থাকে, যা রক্ত পরিস্রাবণের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এর ফলে কিডনির ওপর চাপ কমে এবং এর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

সকালে খালি পেটে পানি পানের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এটি শরীরের জমে থাকা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। ঘুমের সময় শরীর যে টক্সিন তৈরি করে, তা সহজেই বেরিয়ে যায়। এতে কিডনির কাজ সহজ হয় এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে সুস্থ থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান কিডনিতে পাথর বা স্টোন তৈরি হওয়াও প্রতিরোধ করে।

এটি শুধু কিডনির জন্যই নয়, বরং পুরো শরীরের জন্য উপকারী। এটি রক্তের প্রবাহকে উন্নত করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালে খালি পেটে পানি পান করেন, তাদের কিডনির সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং লিভার ও কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

তবে মনে রাখতে হবে, পানি পান করা একটি ধারাবাহিক অভ্যাস হতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ হওয়া উচিত কমপক্ষে দুই গ্লাস পানি পান করা। পানি ধীরে ধীরে পান করলে হজমে কোনো সমস্যা হয় না। পাশাপাশি, পানি অবশ্যই পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ হতে হবে।

সকালের পানি কেবল কিডনি নয়, পুরো শরীরের জন্যই উপকারী। এটি ত্বককে সতেজ রাখে, মাথা ব্যথা কমায় এবং শরীরের প্রাকৃতিক শক্তি বাড়ায়। তবে, কেবল পানি পানই যথেষ্ট নয়। কিডনিকে সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি এড়িয়ে চলা উচিত, এতে কিডনি দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকবে।

সকালে খালি পেটে পানি পান করা একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী অভ্যাস, যা কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করে, শরীরকে ডিটক্সিফাই করে এবং কিডনি পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই অভ্যাস আমাদের কিডনির জন্য একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।

/আশিক


ত্বকের কালো দাগ: কোন ধরনের দাগের কী চিকিৎসা?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২০ ২১:২১:৪৬
ত্বকের কালো দাগ: কোন ধরনের দাগের কী চিকিৎসা?

ত্বকের দাগ অনেক ধরনের হয় এবং সেগুলো সামনাসামনি দেখে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা জরুরি। শুধুমাত্র সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এর সঠিক কারণ বা ধরন নির্ণয় করা কঠিন।

দাগের প্রকারভেদ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

বিশেষজ্ঞের মতে, কাটা দাগ বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যদি আপনার দাগ হাইপারট্রপিক বা কিলয়েড ধরনের হয়, তবে তার জন্য সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। হাইপারট্রপিক দাগ সাধারণত ত্বকের উপরে উঁচু হয়ে থাকে, আর কিলয়েড দাগ আরও বড় ও ছড়িয়ে যায়। আবার কিছু কাটা দাগ গর্তের মতো (অ্যাট্রোফিক স্কারস) হতে পারে, যার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

অন্যদিকে, অ্যালার্জি থেকে সৃষ্ট দাগও কয়েক ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে একটি প্রধান ধরন হলো ‘পোস্টইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন’। এটি ত্বকের কোনো প্রদাহ বা জ্বালা সেরে যাওয়ার পর সেখানে থেকে যাওয়া গাঢ় রঙের দাগ। এই দাগ ত্বকের কোন স্তরে রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে কখনো ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, আবার কখনো লেজার থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

প্রাথমিক যত্নে করণীয়

বিশেষজ্ঞের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ত্বকে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার এবং বায়ো অয়েল ব্যবহার করলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান নয়।

বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার গুরুত্ব

ত্বক মানব শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ। তাই কোনো ধরনের ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, এই সমস্যার সম্পূর্ণ পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই একজন ডার্মাটোলজিস্ট বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধুমাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই আপনার দাগের ধরন সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারবেন এবং আপনার ত্বকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবেন।

/আশিক


 ৬ বছর ধরে চুল খেয়ে পাকস্থলীতে ২ কেজির চুলের গোলা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৮ ১৭:০৩:৩৩
 ৬ বছর ধরে চুল খেয়ে পাকস্থলীতে ২ কেজির চুলের গোলা
ছবি: সাউথ মর্নিং চায়না পোস্ট

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চুল খাওয়ার অদ্ভুত অভ্যাসের কারণে এক কিশোরীর পাকস্থলীতে প্রায় ২ কেজি ওজনের বিশাল একটি চুলের পিণ্ড জমেছিল, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশে সম্প্রতি এ বিরল ঘটনাটি ঘটে।

সাউথ মর্নিং চায়না পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী তীব্র পেট ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে হুবেই প্রদেশের উহান শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হুবেই ডেইলি জানিয়েছে, ১.৬ মিটার উচ্চতার ওই কিশোরীর ওজন ছিল মাত্র ৩৫ কেজি, যা তার মারাত্মক অপুষ্টির ইঙ্গিত দেয়। গত ছয় মাস ধরে তার ঋতুস্রাবও বন্ধ ছিল এবং সে তীব্র রক্তাল্পতায় ভুগছিল।

চিকিৎসকদের প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটির মা জানান, তার মেয়ে প্রায় ছয় বছর ধরে নিজের চুল খাওয়ার অস্বাভাবিক অভ্যাসে আসক্ত। পরে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখতে পান, কিশোরীর পাকস্থলির ভেতরে চুল ও খাবারের অবশিষ্টাংশে তৈরি এক বিশাল চুলের দলা জমাট বেঁধে আছে। এই চুলের গোলা পুরো পাকস্থলিকে ঢেকে ফেলেছিল এবং স্বাভাবিক আকারের প্রায় দ্বিগুণ করে ফুলিয়ে তুলেছিল।

গত ১৪ জুলাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই ২ কেজি ওজনের চুলের পিণ্ডটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর কিশোরীটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়া শুরু করে। এরপর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট ফলোআপ পরীক্ষার জন্য পুনরায় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যদি কোনো শিশু এক মাসের বেশি সময় ধরে চুল বা কাঁচের মতো অখাদ্য জিনিস খাওয়ার অভ্যাস করে এবং তা থামাতে না পারে, তবে অভিভাবকদের অবশ্যই 'ট্রাইকোফ্যাগিয়া' নামক মানসিক সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

/আশিক


নীরব ঘাতক কিডনি ক্যানসার: এই ৫ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৬ ২০:২২:৪১
নীরব ঘাতক কিডনি ক্যানসার: এই ৫ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হন
ছবি: সংগৃহীত

কিডনি ক্যানসারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যা অবহেলা করা বিপজ্জনক। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেশি থাকে।

সতর্কতা: যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ক্যানসারের কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো:

প্রস্রাবে রক্ত: প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা বাদামি হলে সতর্ক হতে হবে। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেমেচুরিয়া নামে পরিচিত। ব্যথাহীনভাবে এটি ঘটলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পিঠের নিচের দিকে বা পাশে ব্যথা: পিঠের নিচের দিকে বা পাশের অংশে (ফ্ল্যাংক) যদি কোনো আঘাত ছাড়াই স্থায়ী ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তবে তা কিডনির টিউমারের কারণে হতে পারে।

হঠাৎ ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া: কোনো খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের পরিবর্তন ছাড়াই যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তবে এটি কিডনি ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে।

কিডনির আশপাশে চাকা বা ফোলাভাব: কিডনির পাশে বা পাঁজরের নিচে চাকা বা ফোলাভাব হলে সতর্ক হতে হবে। ক্যানসার হলে এই চাকা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা: কিডনি ক্যানসার রক্তকণিকা উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটালে অ্যানিমিয়া হয়, ফলে রোগী স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

পাঠকের মতামত: