Banner

আল-আকসায় তৃতীয় মন্দির নির্মাণের ঘোষণা ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২০ ০৮:৩৫:০৯
আল-আকসায় তৃতীয় মন্দির নির্মাণের ঘোষণা ইসরায়েলের
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক গণহত্যা, দখলনীতি এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘকাল ধরে যে ভীতি তারা বুকে লালন করে আসছিলেন, সেটি আজ বাস্তবায়নের পথে মসজিদটি তার ইসলামি পরিচয় হারিয়ে ইসরায়েলি দখলদারদের “তৃতীয় মন্দির” নির্মাণ পরিকল্পনার শিকার হতে চলেছে।

অকল্পনীয় থেকে বাস্তব

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে হামলার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে গেছে। অতীতে যেখানে আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রকাশ্যে প্রার্থনা, গান বা পতাকা ওড়ানো কল্পনাতীত ছিল, এখন তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশের নিরাপত্তায় ইহুদিরা দলবদ্ধভাবে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করছে, উচ্চস্বরে প্রার্থনা করছে, এমনকি নাচ-গান করছে এবং ইসরায়েলি পতাকা ওড়াচ্ছে। ইসলামিক ওয়াকফের আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাজবাজ সতর্ক করে বলেন, “এভাবে ইসরায়েল ধীরে ধীরে আল-আকসার ওপর সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে এবং মুসলিমদের প্রার্থনার অধিকার খর্ব করছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও ঐতিহাসিক চুক্তির প্রকাশ্য লঙ্ঘন।”

ঐতিহাসিক পটভূমি

আল-আকসা মসজিদ জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত, যা কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিমদের আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা এবং প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতীক। অটোমান আমলে ১৯শ শতকের শেষদিকে "স্ট্যাটাস কো" চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা কমপ্লেক্স কেবল মুসলিম প্রশাসনের অধীনে থাকবে এবং এখানে শুধুমাত্র মুসলিমদের নামাজ পড়ার অধিকার থাকবে। জর্ডানের অধীনে ইসলামিক ওয়াকফ এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। ১৯৯৪ সালের জর্ডান-ইসরায়েল শান্তি চুক্তিতে এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরায়েল ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং ইহুদিদের প্রবেশ বাড়িয়েছে। ২০০০ সালে এরিয়েল শ্যারনের নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র সৈন্যসহ আল-আকসায় প্রবেশ দ্বিতীয় ইন্তিফাদার জন্ম দেয়। এরপর থেকে মসজিদের ওপর দখলদারিত্ব আরও বাড়তে থাকে।

অনুপ্রবেশের স্বাভাবিকীকরণ

২০০২ সালের পর থেকে আল-আকসায় ইহুদিদের প্রবেশ “বিশেষ আয়োজন” থেকে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় রূপ নেয়। প্রথমদিকে তারা নির্দিষ্ট কিছু দিনে প্রবেশ করত। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে প্রতিদিনই সকাল ও দুপুরে তাদের দলবদ্ধভাবে প্রবেশ সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে শুধু এক বছরেই ৫৬ হাজারের বেশি ইহুদি আল-আকসায় প্রবেশ করে প্রকাশ্যে প্রার্থনা করেছে, যা একসময় গোপনে করা হতো। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির কেবল সমর্থনই দেননি, বরং নিজেও সেখানে প্রকাশ্যে প্রার্থনা করেছেন।

মুসলিম প্রবেশে কঠোর সীমাবদ্ধতা

যেখানে একসময় শুক্রবারে লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন, এখন কঠোর বিধিনিষেধে সেই সংখ্যা কয়েক হাজারে নেমে এসেছে। অনেক সময় ৫০ বছরের নিচে পুরুষদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের প্রবেশও প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। ফলে মসজিদে মুসলিম উপস্থিতি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

উত্তেজনা ও বিদ্রোহ

২০২১ সালের রমজানে ইসরায়েলি হামলার পর পুরো ফিলিস্তিন জুড়ে ১১ দিনের বিদ্রোহ শুরু হয় এবং হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাধে। ২০২৩ সালে হামাস ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ চালায়, যার নামকরণই করা হয়েছিল আল-আকসায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে।

"তৃতীয় মন্দির" পরিকল্পনা

ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে বড় শঙ্কা এখন আল-আকসার ভেতরে ইসরায়েলি সিনাগগ নির্মাণ। ২০২৩ সালে ইসরায়েলি এমপি অমিত হালেভি প্রস্তাব দেন, আল-আকসার ৩০ শতাংশ দক্ষিণাংশ মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ থাকবে, আর ডোম অব দ্য রকসহ বাকি অংশ ইহুদিদের জন্য। ২০২৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গিভিরও ভেতরে সিনাগগ নির্মাণের পক্ষে মত দেন। এমনকি অর্থমন্ত্রী বেজায়েল স্মোরিচ প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, “আমরা আল-আকসায় তৃতীয় মন্দির পুনর্নির্মাণ করব।”

ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, ধাপে ধাপে মসজিদের ভেতরে সিনাগগ প্রতিষ্ঠার পর পুরো কমপ্লেক্সই ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদ দখলের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। ইসলামিক ওয়াকফের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি কেবল অস্থায়ী লঙ্ঘন নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ইহুদিকরণ প্রকল্প। এখনই মুসলিম বিশ্বকে সচেতন না হলে বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া হবে, যা পরে আর ফেরানো সম্ভব হবে না।”

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই


ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ০৯:২২:৩১
ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য হিল’ তাদের এক বিশ্লেষণে দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটনের বর্তমান এই অবস্থান ইরাক যুদ্ধের সময়কার সেই ভুল কৌশলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে অতিরঞ্জিত হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে, তা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে।

দ্য হিল-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বর্তমানে তেল, নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে ভেনেজুয়েলা বিরোধী নীতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক একইভাবে ইরাক আক্রমণের আগে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ এর দোহাই দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসাজশের যে অভিযোগ তুলছেন, তা ইরাক যুদ্ধের আগের ভুল গোয়েন্দা তথ্যের এক আধুনিক সংস্করণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ফেন্টানিলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে অত্যন্ত বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই বৈরী পথে আরও অগ্রসর হয়, তবে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বাড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। মাদুরোর সঙ্গে কলম্বিয়ার গেরিলা ও মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর কথিত যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ইরাক যুদ্ধ থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করলে ভেনেজুয়েলা সংকট আরও গভীরে তলিয়ে যাবে এবং লাতিন আমেরিকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।


নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৮:৫৮:৩৫
নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ অভিবাসীদের হটাতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘নরম নীতি’র যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিতাড়নের ক্ষেত্রে আর কোনো দীর্ঘ কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করবেন না।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আগে কাউকে বিদেশি সাব্যস্ত করা হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যাচাই-বাছাইসহ দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করে আদেশ জারি হওয়া মাত্রই তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি আসামের নিজস্ব ‘পরিচয়’ রক্ষার লড়াই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের পরিচয় রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য যে, একটি অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, বর্তমানে আসামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে আসাম ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত’ হয়ে যাবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে মূল এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। পরিচয় রক্ষার এই শাসননীতি আসামের রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


যুদ্ধের দাবদাহ ও ক্ষমতার রদবদল: ২০২৫ সালের আলোচিত সব ঘটনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১১:৪৩:১০
যুদ্ধের দাবদাহ ও ক্ষমতার রদবদল: ২০২৫ সালের আলোচিত সব ঘটনা
ছবি : সংগৃহীত

শান্তির বারতা নিয়ে ২০২৫ সাল শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সংঘাত আর মানবিক সংকটের এক কালো অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমি থেকে শুরু করে ইউরোপের তুষারশুভ্র প্রান্তর—২০২৫ সালে পৃথিবীর কোনো প্রান্তই বারুদের গন্ধ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। গত এক বছরে সভ্যতা যে ভয়াবহ বর্বরতার সাক্ষী হয়েছে, তা আধুনিক বিশ্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সবচাইতে বড় মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে ২০২৫ সালেও অব্যাহত ছিল গাজার আর্তনাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরাইলি বর্বরতা এ বছরও গাজাবাসীকে এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দেয়নি। যদিও অক্টোবরে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে উপত্যকাটিতে রক্তপাত পুরোপুরি থামেনি। গাজার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইসরাইলি আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ে লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ায়। বিশেষ করে জুন মাসে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের সেই সরাসরি সংঘাত পৃথিবীকে এক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বড় ধরণের মহাপ্রলয় থেকে রক্ষা পায় মধ্যপ্রাচ্য।

ইউরোপের বুকে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন ২০২৫ সালেও কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি। যুদ্ধের তিন বছর পার হলেও দুই পক্ষই এখন পর্যন্ত শান্তি চুক্তিতে একমত হতে পারেনি। অন্যদিকে, আফ্রিকা মহাদেশে সুদান ও কঙ্গোর গৃহযুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। অনাহার ও মহামারীতে সেখানে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ৪ দিনের সেই খণ্ডযুদ্ধ ও আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত অঞ্চলটিকে বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় অস্থির করে রেখেছিল।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ২০২৫ সাল ছিল ‘শুল্ক যুদ্ধের’ বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হোয়াইট হাউসে ফিরেই বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর বিশাল অংকের শুল্ক আরোপ করেন। এর প্রভাবে বিশ্ব বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। এছাড়া দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে নেপাল থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যার ফলে পতন ঘটেছে একাধিক পরাক্রমশালী সরকারের। প্রকৃতির রুদ্ররোষও এ বছর কম ছিল না; ভয়াবহ ভূমিকম্প ও বন্যার তান্ডবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল এক অস্থির পৃথিবী ও লড়াকু মানবতার নীরব সাক্ষী।


২০২৬ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আশঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১১:০২:৪২
২০২৬ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া আবারও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)। সংস্থাটির ‘কনফ্লিক্টস টু ওয়াচ ইন ২০২৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আগামী বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের জোরালো ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক বিশেষ জরিপের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। এর জবাবে ৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে, যেখানে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করে ভারত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে ভারতের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে পরিস্থিতি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সিএফআরের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, কেবল ভারত-পাকিস্তান নয়, বরং পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তও এখন অগ্নিগর্ভ। চলতি বছরের অক্টোবরে কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে এই দুই দেশের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই বর্তমানে তুরস্ক ও চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইউক্রেন ও গাজা সংঘাত নিরসনে ব্যস্ত থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় যেকোনো মুহূর্তের একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীকে আবারও যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।


এস জয়শঙ্কর ও ইসহাক দার ঢাকা আসছেন কাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ১৭:২৯:২১
এস জয়শঙ্কর ও ইসহাক দার ঢাকা আসছেন কাল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–এর জানাজাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উভয়েই জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন। এই সফরগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বুধবার ঢাকায় পৌঁছাবেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানাতেই পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক রাজনৈতিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে যে, জানাজা উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সফরে আসছেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই উপস্থিতিকে একটি আনুষ্ঠানিক শোকজ্ঞাপন ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ধারাবাহিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার দিকটিও তুলে ধরছে।

সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তান ও ভারতের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বার্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


পারমাণবিক শক্তি হবে সীমাহীন: কিম জং উনের নতুন নির্দেশে কাঁপছে বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ০৯:৪৬:৫৭
পারমাণবিক শক্তি হবে সীমাহীন: কিম জং উনের নতুন নির্দেশে কাঁপছে বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন আবারও তাঁর সমর শক্তির জানান দিলেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনান এলাকা থেকে দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় ধরণের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সরাসরি তদারকি করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন কেবল এই পরীক্ষার সাফল্য দেখে সন্তোষ প্রকাশই করেননি, বরং দেশের পারমাণবিক যুদ্ধক্ষমতাকে ‘সীমাহীন ও ধারাবাহিকভাবে’ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম দিকের সমুদ্রপথ ধরে উড়ে গিয়ে নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

কিম জং উন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা করা একটি ‘দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং পারমাণবিক যুদ্ধশক্তি আরও শক্তিশালী করতে সব ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি কিম একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনও পরিদর্শন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি জানান, সিউলের প্রতিটি পদক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের এই তৎপরতা অত্যন্ত উদ্বেগের। তারা সতর্ক করেছে যে, নতুন বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেসের আগে উত্তর কোরিয়া আরও বড় ধরণের উস্কানিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণের আগে কিম জং উনের এই কঠোর অবস্থান আদতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা।


সিরিয়ার সার্বভৌমত্বে ইসরায়েলের বড় আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৮ ০৯:২৪:৪৭
সিরিয়ার সার্বভৌমত্বে ইসরায়েলের বড় আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার উত্তর কুনেইত্রা প্রদেশের তারাঞ্জা গ্রামে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অনুপ্রবেশের ফলে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ছয়টি উন্নত সামরিক যান নিয়ে গঠিত একটি ইসরায়েলি ইউনিট তুলুল আল-হুমর অঞ্চল দিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এই সামরিক বহরটি বেইত জন্ন ও হাদার এলাকার মধ্যবর্তী পথ অতিক্রম করে সরাসরি তারাঞ্জা গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবাথা আল-খাশাব শহরের উপকণ্ঠের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

তদন্তকারী সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী জাবাথা আল-খাশাবের দক্ষিণ প্রান্তে একটি উঁচু টিলায় অবস্থান নিয়েছে, যেখান থেকে পুরো শহরটির ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব। এই অনুপ্রবেশের সময় আকাশজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোনের কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলি বাহিনী উফানিয়া গ্রামের দিকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। এর মাত্র একদিন আগেই দক্ষিণ কুনেইত্রার পূর্ব তেল আল-আহমার এলাকায় তিনটি ভারী গোলা এবং মাঝারি পাল্লার মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনারা, যা এই আগ্রাসনের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ১৯৭৪ সালের ডিসএঙ্গেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট বা অনাক্রমণ চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ কয়েক গুণ বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে ঘরবাড়ি তল্লাশি করছে এবং বুলডোজার দিয়ে জমি দখল করে নতুন নতুন চেকপোস্ট বসাচ্ছে। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কুনেইত্রার বিভিন্ন শহরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করলেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

সিরিয়ার নতুন প্রশাসন এই অনুপ্রবেশকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নালিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে 'নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' ও 'ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধের' অজুহাত দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুনেইত্রার এই অস্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


নাইজেরিয়ায় ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ১১:৩৪:৩৪
নাইজেরিয়ায় ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। নাইজেরিয়া সরকারের সরাসরি অনুরোধে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান যে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে তাঁর আদেশে নাইজেরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই জঙ্গিরা নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে এমন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল যা আধুনিক ইতিহাসে বিরল।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সকোতো অঙ্গরাজ্যে আইএসের একাধিক ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে যে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানের সফলতায় নাইজেরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্সে লিখেছেন— ‘আরও আসছে’। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে গত অক্টোবরে খ্রিষ্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প যে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, এটি তারই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে জঙ্গি গোষ্ঠীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে নাইজেরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরও পাওয়া গেছে। তারা জানিয়েছে যে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিষ্টান—উভয় সম্প্রদায়কেই সমানভাবে লক্ষ্যবস্তু করে। শুধুমাত্র একটি বিশেষ ধর্মের ওপর জোর দেওয়া হলে দেশের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

আফ্রিকার এই জনবহুল দেশটির উত্তরাঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের অস্থিরতায় ভুগছে। হামলার দিনই নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এই অস্থিতিশীলতার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বড়দিনের বার্তায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিরিয়ার পর নাইজেরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে জঙ্গি দমনে আগের চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে।


পুতিনের মৃত্যু নিয়ে জেলেনস্কির বিস্ফোরক উক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ০৯:৪৭:৪৬
পুতিনের মৃত্যু নিয়ে জেলেনস্কির বিস্ফোরক উক্তি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র বড়দিনের উৎসবের আবহেও থামেনি ইউক্রেন-রাশিয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। বড়দিন উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নাম উচ্চারণ না করে তাঁর চরম পরিণতি বা মৃত্যু কামনা করেছেন। জেলেনস্কি তাঁর বার্তায় বলেন যে ইউক্রেনীয়দের জন্য রাশিয়া অবর্ণনীয় দুর্ভোগ বয়ে আনলেও তাঁরা ইউক্রেনীয়দের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস এবং ঐক্য কেড়ে নিতে পারেনি। তিনি দাবি করেন যে রাশিয়া ভূমি দখল করতে পারলেও ইউক্রেনীয়দের মন ও সাহস জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জেলেনস্কি তাঁর বক্তব্যে এক গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে আজ প্রতিটি ইউক্রেনীয় নাগরিকের মনে একটিই স্বপ্ন এবং একটিই অভিন্ন প্রত্যাশা তা হলো— ‘তাঁর (পুতিনের) ধ্বংস বা মৃত্যু হোক’। বড়দিনের ঠিক আগ মুহূর্তে ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান এবং ইউক্রেনের বিশাল একটি অংশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যায়। উৎসবের দিনে এমন নৃশংস হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি রাশিয়াকে ‘ধর্মহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

রুশ বাহিনীর এই সাম্প্রতিক হামলার চিত্র তুলে ধরে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন যে বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় রাশিয়া আবারও বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করেছে। রুশ সেনারা শত শত শহীদ ড্রোন, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ভয়ংকর কিনঝাল মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া এই পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী, তবে জেলেনস্কি তাঁর বার্তায় জয়ী হওয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে জেলেনস্কির এই সরাসরি ‘ধ্বংস’ কামনার সুর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে যেখানে সমঝোতার পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। রাশিয়ার ক্রমাগত বিমান হামলার মুখেও ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধের শক্তিই এখন কিয়েভের একমাত্র ভরসা। জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন যে আকাশপথে বোমা হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ধ্বংস করা গেলেও ইউক্রেনের স্বাধীনতার চেতনাকে দমানো অসম্ভব। বড়দিনের এই বার্তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয় বরং বিশ্বমঞ্চে পুতিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক তীব্র কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত