যেভাবে আইজিপির স্বীকারোক্তি মামলার গতিপথ বদলে দেবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১১ ১০:২৪:২১
যেভাবে আইজিপির স্বীকারোক্তি মামলার গতিপথ বদলে দেবে

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ গণ-অভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী দমন-পীড়নের ঘটনা অবশেষে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হলো। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারিক বেঞ্চ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং গ্রেপ্তারকৃত তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে যখন একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ইংরেজিতে তিনি বলেন, "আই ফিল গিলটি, আই হুইল ডিসক্লোজ।" তিনি আরও বলেন, “আমি এই অপরাধে দোষী এবং আদালতকে সত্য উদ্ঘাটনে সাহায্য করতে প্রস্তুত।” আদালত তার এই আবেদন গ্রহণ করে তাকে ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে গ্রহণ করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। মামুনের এই ভূমিকা মামলার গতিপথকে নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মত দিয়েছেন প্রসিকিউটররা।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, মামুনের স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষ্য এবং প্রত্যক্ষ জ্ঞান শেখ হাসিনাকে ‘অপারেশনাল মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে। তাজুল ইসলাম আরও বলেন, মামুন একাধিক গোপন নথিপত্র ও আদেশের বিষয়ে অবগত ছিলেন, যা আদালতে উপস্থাপন করা হলে সত্য উদ্ঘাটনের পথ সুগম হবে। আদালতের বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আদালত ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের প্রাথমিক বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করেন এবং ৪ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদেশ দেন। এই বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন, যেখানে একটি সরকার কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হলো।

মামলার তদন্ত সংস্থা ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে পাঁচটি স্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমন করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা, নির্যাতন, নিখোঁজ এবং দমন চালান। তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র আওতায় অভিযুক্ত করা হয়।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনকারীদের রাজাকার ও তাদের উত্তরসূরি আখ্যা দিয়ে নির্মূলের ঘোষণা দেন। এই উসকানির পর সারা দেশে একযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে, আহত করে প্রায় ২৫ হাজারকে। এই গণহত্যার জন্য অভিযুক্তদের সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ও আত্মীয়দের সঙ্গে কথোপকথনে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং মারাত্মক মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই আদেশের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনা করে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ নামের এক নিরীহ ছাত্রকে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের মৃত্যুর কারণ গোপন করতে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চারবার পরিবর্তন করা হয়। হত্যার এই ঘটনা শেখ হাসিনার প্রকাশ্য উসকানির ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকালে ঢাকার চানখারপুল এলাকায় ছয়জন ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা উচ্চ পর্যায় থেকে আসে এবং অভিযুক্তদের প্রত্যক্ষ মদদে সংঘটিত হয়।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশগুলো একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। একজন আহত হলেও জীবিত ছিলেন, তাকেও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এটি ছিল অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রসূত এক নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, মামুনের সাক্ষ্যে জানা যাবে কিভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, কাদের নির্দেশে এবং কোন বাহিনী কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তার এই ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আদালতের রায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী ব্যক্তিদের চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার পথ সুগম করবে।

এই মামলা 'চিফ প্রসিকিউটর বনাম শেখ হাসিনা গং' নামে রুজু হয়েছে এবং এই বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মোড় সৃষ্টি করতে চলেছে, যেখানে সাবেক শাসকগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিচার হচ্ছে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এই বিচারিক কার্যক্রম একটি নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারে।

-ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক


ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৮:৫৫:০৭
ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সমীক্ষা শেষ হলে সেতু দুটির ভৌগোলিক অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকে মূলত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য ‘ওয়াই-আকৃতি’র সংযোগ ব্যবস্থা এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর মাধ্যমে রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ কেবল দ্রুততরই হবে না, বরং মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের মধ্যে সরাসরি বিকল্প উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

একই সঙ্গে বৈঠকে বহুমুখী পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে সারা দেশে পানির তীব্র সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদনে গতি আনা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়েই বিকল্প সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আরও জানান, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে অর্থায়নের উৎস, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

উক্ত বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সহ অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি ও প্রকৌশলী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:৩৫:০৮
ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের মক্কায় এক মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশটির সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব পায়নি ঢাকা। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা এবং সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত তথ্য চায়। পরবর্তীতে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে পুনরায় একই চিঠি হস্তান্তর করা হয়। সোমবার পর্যন্ত সেসব চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

/আশিক


সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২৩:৪৩:৩৩
সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের নির্দিষ্ট সময় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিক পক্ষের নাম দ্রুত পাওয়া গেলেও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় নাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্প ধ্বংসের চক্রান্তে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতাকারীদের কঠোরহস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২০:৪২:০২
পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে সরকার। এর আগে শ্রমিক অসন্তোষের বর্তমান পরিস্থিতি, এর অন্তর্নিহিত কারণ এবং উদ্ভূত সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এদিকে, পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। গঠিত এই বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ’র পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

/আশিক


১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৯:৩০:৫৮
১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
ছবি : সংগৃহীত

১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার জিতেছে ০৯২৩২৮৩ নম্বরটি এবং ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছে ০৮৪২৫১১ নম্বরটি।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। আয়োজকরা জানান, একক সাধারণ পদ্ধতিতে অর্থাৎ প্রতিটি সিরিজের একই নম্বরের বিপরীতে এই ড্র পরিচালনা করা হয়। এবারের ড্রয়ে মোট ৮৬টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যার বিপরীতে ৩ হাজার ৯৫৬টি প্রাইজবন্ড পুরস্কারের জন্য বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা করে দুটি তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী নম্বর হলো ০৮৭৩৬১১ ও ০৮৯১৯৫৬। ৫০ হাজার টাকা করে দুটি চতুর্থ পুরস্কার জিতেছে ০৪৫৮৬৫৮ ও ০৯২৪৬৯৫ নম্বর। এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা মূল্যমানের পঞ্চম পুরস্কার জিতেছেন ৪০ জন বিজয়ী। প্রাইজবন্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে, ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত ৬০ দিন পূর্বে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ডগুলোই কেবল এই ড্রয়ের আওতাভুক্ত হয়েছে। বিজয়ী প্রাইজবন্ডধারীদের আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হবে।

/আশিক


সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:৫৯:২০
সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ৩ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দুই দিনব্যাপী প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।

‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এই এক্সপোর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীটি ৩ ও ৪ নভেম্বর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি হ্রাস এবং গ্রীষ্মকালীন জনদুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। এক্সপো চলাকালে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে এর অংশ বাড়ানো এবং অব্যবহৃত জমি ও ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে মোট চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়ন এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

প্রদর্শনীতে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে অর্থায়নের সুযোগ তুলে ধরা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেবেন। প্রদর্শনীতে কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:৩৮:৫০
এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য কিংবা আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী নিজে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাসের হার শূন্য বা আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বেড়েছে। অন্যদিকে, এ বছরের পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৩৯টি।

/আশিক


সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:১৪:৫৮
সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য
বারের লিফটে উঠছেন তাহসিফ সাউরি, তার বান্ধবী ও ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (হেলমেট পরিহিত)। সিসিটিভি ফুটেজ: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। জানা গেছে, ঘটনার দিন টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার বান্ধবী এবং জুনিয়র বন্ধু দীপ।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে একটি মোটরসাইকেলে করে তাহসিফ ও তার বান্ধবী উত্তরার ওই রেস্টুরেন্টে পৌঁছান। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে যোগ দেন দীপ। এরপর তিনজনে মিলে লিফটে করে বারে প্রবেশ করেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে পুনরায় মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বের হন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বার থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ দুজনে মিলে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। মৃত্যুর আগের রাতের এই চলাচল ও বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থানের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

/আশিক


রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:১০:৫১
রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজপথে লংমার্চ না করে সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, কর্মপরিধি, এখতিয়ার এবং আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তার সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের ক্ষমতা বা এখতিয়ার কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। নিম্নকক্ষ থেকে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনার জন্য উচ্চকক্সে পাঠানো হলে কত দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার, অন্যথায় সংসদীয় কার্যক্রমে জট লাগতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের জন্য গাড়ি, বাড়ি বা বিশেষ বেতন-ভাতা না রাখার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তিনি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

অর্ডার দিয়ে বা গায়ের জোরে সংবিধান পরিবর্তনের বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল আদেশ জারি করে বা সংবিধানকে স্পর্শ করা সমীচীন নয়, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা ও অঙ্গীকার। অতীতে তিন জোটের সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমঝোতার দলিল থাকলে তা পালনে সবাই বাধ্য থাকে এবং কোনো পক্ষ তা ভাঙলে সংসদে তার রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের দাবি বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি অতীতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সবাই সমর্থন করে এবং বর্তমানে বিচারকরা বিচারকার্য পরিচালনায় যথেষ্ট স্বাধীন রয়েছেন। তবে বিচারকদের স্বাধীনতার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কেবল সাংবিধানিক সংস্কার নয়, বরং যেকোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে আইনি জবাবদিহি ও ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: