বিএনপি

গুলশানে আজ বিএনপির জরুরি ব্রিফিং, কথা বলবেন মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৩ ১১:৩৪:৪২
গুলশানে আজ বিএনপির জরুরি ব্রিফিং, কথা বলবেন মির্জা ফখরুল

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ জরুরি সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ দুপুর ১টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু।

এর আগে গত সোমবারও একই বিষয়ে বিএনপি একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। দেশের রাজনীতিতে বিরাজমান উত্তেজনা, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান এবং বিএনপির চলমান আন্দোলনকে ঘিরে এ ধরনের ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

বিশেষ করে নির্বাচনোত্তর বাস্তবতা, মানবাধিকার প্রশ্ন, বিরোধী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা ও চলমান গ্রেফতার অভিযানের প্রেক্ষাপটে বিএনপির আজকের বক্তব্যে দলটির পরবর্তী কৌশল ও অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

-হাসানুজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক


কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২২:৪৬:০৬
কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাস্তব জীবনে পবিত্র কোরআন সহিহভাবে ও অর্থসহ তিলাওয়াত করতে শেখা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব বা ফরজ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোরআন শুধু পাঠ করলেই হবে না; বরং তা যথাযথভাবে শিখতে হবে, মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হবে এবং প্রাত্যহিক জীবনে এর বিধান মেনে চলতে হবে। তবেই ইহকাল ও পরকালে প্রকৃত মুক্তি অর্জন করা সম্ভব।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগ আয়োজিত জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারী।

সম্মেলনে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ মানবজাতির মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের নবী ও রাসুল হিসেবে মনোনীত করে তাদের ওপর ঐশী কিতাব নাজিল করেছেন। তাই আল্লাহর এই কালাম সঠিকভাবে পড়া ও অপরকে তা শেখানো জরুরি। মানবজাতি যখনই আল্লাহর কিতাবের নির্দেশনা মেনে চলেছে, তখনই সমাজে শান্তি ও মর্যাদা বজায় থেকেছে। পক্ষান্তরে ঐশী বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলেই অতীতে নানা বিপর্যয় এসেছে এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, যা বর্তমান সময়েও দৃশ্যমান। তাই কোরআনের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে জীবনে ধারণ করাই মুক্তির একমাত্র উপায়।

কোরআন ও হাদিসের সঠিক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়া কোরআনের দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অন্য মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানাতে হলেও নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শুধু মৌখিক প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পথ।

দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং তা’লীমুল কুরআন বিভাগের প্রধান ওস্তাদ মাওলানা আব্দুর রহিম।

/আশিক


ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২২:৩৭:১৯
ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে-শীর্ষক গোলটেবিলে আলোচকরা। ছবি- সত্য নিউজ।

কেবল সরকার বা রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চর্চায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য গড়ে তোলা এবং সংঘাত ও প্রতিশোধনির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) অডিটোরিয়ামে Alliance for Multidisciplinary Research and Analysis (AMRA) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নারী ও যুবনেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তাঁরা গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, কোন কোন পুরোনো প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে এবং একটি গণতান্ত্রিক, সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন—এসব বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতা প্রয়োজন: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রয়োজন যেখানে সরকার ও বিরোধী দল দেশের স্বার্থে সহযোগিতা করবে, আবার গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে যৌক্তিক সমালোচনারও সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে এককভাবে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলেরই এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা এমন সংসদ ও রাষ্ট্রকাঠামো চাই, যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে। গণতন্ত্রে অবশ্যই সমালোচনা থাকবে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক। অপপ্রচার, মিথ্যাচার কিংবা চরিত্রহনন গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার অংশ হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে বলে তার দায়িত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সরকারের ভালো উদ্যোগকে সমর্থন করা এবং যেসব সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে, সেগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করা।

প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরকার সরে এসেছে: ফারজানা শারমিন পুতুল

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, রাজনীতি সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্রই রয়েছে, তবে বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে আসার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছি এবং তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। মাত্র ১৮০ দিন আগে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। পরিস্থিতি গুছিয়ে নিতে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। এ কাজে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।”

নাগরিককে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে: সালেহ শিবলী

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এ পরিবর্তনকে টেকসই করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি হওয়া প্রয়োজন যে তাঁরাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নাগরিকদের সেই মর্যাদায় বিবেচনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সালেহ শিবলী বলেন, “নিজেকে জনগণের চেয়ে ঊর্ধ্বে মনে না করাটাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্যোগকে তার গুণগত মান ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। একইভাবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলীয় আচরণ করছেন কি না, সেটিও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হওয়া প্রয়োজন।

দলীয় সংস্কার ছাড়া সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও বদলাবে না: কামাল আহমেদ

দ্য ডেইলি স্টার-এর কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আলোচনার পরিবর্তে শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অনেক সময় মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরিবর্তে বড় সমাবেশ বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক সংস্কার করতে না পারলে তারা সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও পরিবর্তন করতে পারবে না।”

গণমাধ্যমে কালো টাকা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কামাল আহমেদ। তাঁর মতে, গণমাধ্যমের একটি অংশে ব্যবসায়িক স্বার্থ, অর্থ ও ক্ষমতার মধ্যে একটি ক্ষতিকর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণমাধ্যম সংস্কার-প্রক্রিয়ায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোয় এখনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি: নুসরাত তাবাসসুম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামোয় এখনো উল্লেখযোগ্য বা মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনপ্রশাসন ও পুলিশকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কোনো মঞ্চ নয়, আর রাজনীতিও কোনো থিয়েটার নয়।”

পুলিশ যদি রাষ্ট্রের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন সরকারের সেবা করাকেই পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নুসরাত তাবাসসুম বলেন, “এত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে পুলিশ যদি রাষ্ট্রের পরিবর্তে দলের কাজ করে এবং সরকারের সেবাকেই নিজের দায়িত্ব মনে করে, তাহলে কোনো গণ-অভ্যুত্থানই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।”

দলের ভেতরে গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন: নজিবুর রহমান মোমেন

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ করা অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে প্রথমে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের সংস্কৃতির সমালোচনা করেন এবং সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সংঘাতমুখী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংঘাত, পরমত-অসহিষ্ণুতা, প্রতিশোধপরায়ণতা, পেশিশক্তির ব্যবহার, দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রবণতা গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এই প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

বক্তারা মনে করেন, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য কেবল আইন বা সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ, নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি, সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার সম্পর্কেও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর checks and balances, ভোটার ও নাগরিকদের প্রতি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের সীমারেখা স্পষ্ট করার তাগিদ

আলোচনায় বক্তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, অপরাধ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার অবশ্যই হতে হবে; তবে বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন বা প্রতিশোধ গ্রহণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি দুর্বল হবে।

সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই সংঘাত ও প্রতিশোধের পথ পরিহার করে সংলাপ, সহাবস্থান, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।

নারীর মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান

রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নারীর প্রতি অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক ভাষার ব্যবহার বন্ধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে নারীবান্ধব সাংগঠনিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা দলীয় কাঠামোর সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রাজনৈতিক পরিসরে নারীকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, তাঁদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে এবং নেতৃত্বে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ কতটা তৈরি হচ্ছে—এসবও রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

তরুণদের আন্দোলনের শক্তি থেকে নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে কেবল আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, নির্বাচনী শক্তি বা রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। তাঁদের ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল, সহনশীল ও নীতিনির্ধারণে সক্ষম রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এ জন্য রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক ও নাগরিক শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামত তুলে ধরার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন

গোলটেবিলে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণ, সামাজিক সংহতির দুর্বলতা এবং গ্রামীণ বিচার ও সালিশব্যবস্থায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়ও আলোচিত হয়।

বক্তারা বলেন, স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যক্তিস্বার্থ বা ক্ষমতা বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় শাসন ও সামাজিক বিচারব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত, অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে হবে।

রাজনৈতিক সংস্কারকে সামাজিক প্রক্রিয়ায় রূপ দিতে হবে: AMRA

AMRA-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নকে শুধু সরকারি নীতি, আইন কিংবা কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ করে মতপার্থক্যকে শত্রুতা হিসেবে বিবেচনা না করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে গ্রহণ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন সহিংসতা, প্রতিশোধ, চরিত্রহনন কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের দিকে না যায়—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় আমন্ত্রিত ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন; সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, এমপি; জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, এমপি; এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক ফরিদুল হক; আমার বাংলাদেশ পার্টির (AB Party) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি; দ্য ডেইলি স্টার-এর কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ; বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরীন আই. খান; প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা; সাংবাদিক ও কূটনীতিক আকবর হোসেন; নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. ওয়ারেসুল করিম; ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলির (NPA) মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন, এমপি; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ আবদুল মান্নান; স্বাধীন সাংবাদিক শাহেদ আলম; এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন; নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমশিয়াত শরীফ; সাংবাদিক এহসান মাহমুদ; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের এবং সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবি মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। গোলটেবিল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী, আহ্বায়ক, Alliance for Multidisciplinary Research and Analysis (AMRA)।

AMRA জানিয়েছে, গোলটেবিলে উঠে আসা মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক দল, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে এসব সুপারিশ একটি সংক্ষিপ্ত Policy Brief আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।


ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২২:১১:২৩
ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ভোট না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর কাছে এই নির্বাচন অর্থহীন ও প্রহসনের। তাঁর মতে, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আগে থেকেই সবার জানা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে তাঁর দৃষ্টিতে এটি নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়ন প্রক্রিয়া।

রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তোলেন, একজন অরাজনৈতিক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হলো না কেন। তিনি বলেন, দেশে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার সঙ্গে জাতির আত্মত্যাগ ও অনেক প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা গেল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছিল বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে কথা বললেও এখন দলের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি এই ভোটকে প্রহসন হিসেবে দেখছেন এবং সে কারণে ভোট দেননি বলে জানান।

রুমিন ফারহানা ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া অন্য পাঁচ সংসদ সদস্য হলেন বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

/আশিক


নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২১:৩৭:২৯
নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের
ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।

বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত অলংকারিক। তবে রাষ্ট্রপতিকে দলীয় রাজনীতির গণ্ডির বাইরে থাকার বিষয়টিও সংবিধানে নির্ধারিত রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে আসার জন্য তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও সব মানুষের আস্থার প্রতীক। তাই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির আরও বলেন, রাজনীতিতে সততা বর্তমানে বিরল হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সততার ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। পাশাপাশি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সুষ্ঠু রাজনীতির বিকাশে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ও প্রচেষ্টা সর্বজনবিদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, এমন একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যে প্রত্যাশা ও আশাবাদ নিয়ে মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, তা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন।

শেষে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।

/আশিক


স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২০:৩০:০১
স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি
ছবি : সংগৃহীত

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার পর আবারও মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপু মনিকে বহনকারী পুলিশের প্রিজনভ্যান মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে পৌঁছায়। পরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে মেয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান দীপু মনি। প্যারোলে মুক্তির পর তিনি স্বামীর শেষ বিদায়কার্যে অংশ নেন।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীপু মনিকে গ্রেফতার করে। এরপর তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর দীপু মনির মেয়ের পক্ষ থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে চার দিনের প্যারোলের আবেদন করা হয়। তবে প্রশাসন ১২ ঘণ্টার জন্য তার প্যারোল মঞ্জুর করে। সেই সময় শেষ হওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

/আশিক


মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৯:১৯:২৮
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিবের পদটি শূন্য হয়।

বিএনপি সরকার গঠন করার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী আহমেদের পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে এবং ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিও লাভ করেন।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন রিজভী। সে সময় তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সংগঠনটিতে যোগ দেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট তাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। এবার তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

/আশিক


জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:৩১:০৯
জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, তাই তারা ফ্যাসিস্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর দাবি, জামায়াত-শিবির সেই সুযোগ পায়নি বলেই তারা ফ্যাসিস্ট হতে পারেনি। তবে সুযোগ পেলে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান প্রতিমন্ত্রী নুর। সেখানে তিনি আহত কর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, ফ্যাসিবাদের সময় যারা নির্যাতিত ও মজলুম ছিল, তারা সবাই একসঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। ছয় মাস না যেতেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিষোদগার শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচির নামে জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবির তাদের শক্তি দেখাতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, জামায়াতের এক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে।

নুরুল হক বলেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মহাদিসকে কুপিয়ে তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সংগঠনটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মজলুম থাকলেও গত ছয় মাসে সারাদেশে তাদের কর্মকাণ্ডে একটি জালেম সংগঠনে পরিণত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল হক নুর।

জামায়াত-শিবিরকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য এবং জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:১৩:২৭
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির।

পোস্টের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

/আশিক


ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:৩৩:১৫
ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পক্ষ থেকে কোনো স্বার্থ ছাড়া বন্ধুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, তবে আমন্ত্রণের পেছনে কোনো স্বার্থ থাকলে দেশ সে পথে এগোবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী জানান, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গেই সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলায় বিশ্বাসী। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও সমমর্যাদা, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং তুলে ধরতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: