টাকা চুরি নিয়ে খালাকে খুন করল কিশোর: ডিবি

সত্য নিউজ: রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি ফ্ল্যাটে গত শুক্রবার ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর তার দুই খালাকে হত্যা করেছে। ঘটনা মূলত টাকা চুরির কারণে ঘটে, যেখানে কিশোরটি খালার মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। পরে, ভয় পেয়ে সে উক্ত খালাকে ছুরিকাঘাত করে। যখন অন্য খালা সুফিয়া বেগম বিষয়টি জানার জন্য এগিয়ে আসেন, তাকেও প্রাণনাশের চেষ্টা চালায় কিশোরটি।
ডিবি’র যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানায়, কিশোরটি ঐ দিন বেলা ১২টা ৪৭ মিনিটে তার খালার বাসায় আসে। প্রথমে শরবত বানাতে ডাইনিংরুমে যাওয়ার সময়, খালা মরিয়ম বেগমের মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। খালা তাকে ভয় দেখিয়ে তার মাকে জানাবে বলে শাসন করায়, ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরটি ছুরি দিয়ে খালাকে আক্রমণ করে। এরপর অন্য খালা সুফিয়া বেগম এগিয়ে আসলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। হত্যার পর, কিশোরটি রান্নাঘরে গিয়ে পাটা এনে দুই খালার মাথায় আঘাত করে।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই কিশোর ঘটনার পর ১টা ৫৭ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং পরনে থাকা টি-শার্ট পরিবর্তন করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে কিশোরটি শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কিশোরটি অপরাধের ওপর নজর রাখছিল এবং পুলিশকে নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছিল। তবে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো বিরোধের ইঙ্গিত পায়নি।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, হত্যার দায় স্বীকার করে কিশোরটি পুলিশকে জানিয়েছে যে, খালার বাসায় টাকা চুরির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল, কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে রাতের দিকে তাকে ঝালকাঠির সদর উপজেলার আছিয়ার গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে কিশোরটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নয়াপল্টনের স্কুলে শিশু নির্যাতন: ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
রাজধানীর ব্যস্ত নয়াপল্টনের একটি স্কুলের অফিসকক্ষে যা ঘটেছে, তা কেবল একটি অপরাধ নয়—এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিশু সুরক্ষার ওপর ভয়াবহ প্রশ্নচিহ্ন। চার বছরের কম বয়সী একটি শিশুকে স্কুলের ভেতর আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নগরজুড়ে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার ভোরে স্কুলটির ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে পবিত্র কুমার বড়ুয়া কে। তিনি নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক এবং একই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান-এর স্বামী। ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত আঠারো জানুয়ারি নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে প্রি-প্লে শ্রেণিতে পড়ুয়া চার বছরের কম বয়সী একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্কুলের অফিসকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে একটি নারী ধরে রেখেছেন এবং একজন পুরুষ তাকে মারধর করছেন। কখনো গলা চেপে ধরা, কখনো মুখ চেপে রাখা, এমনকি হাতে স্ট্যাপলার নিয়ে ভয় দেখানোর দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়ে। ওই নারী হলেন প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাঁর সন্তান এখনো গভীর মানসিক ট্রমায় রয়েছে। ঘুমের মধ্যেও সে চিৎকার করে ওঠে—“মুখ সেলাই করে দিও না।” শিশুটি স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গেও থাকতে চাইছে না। বর্তমানে সে নানাবাড়িতে অবস্থান করছে।
শিশুটির বাবা জানান, স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয় তাদের একমাত্র সন্তান। ভিডিও দেখে তাঁরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। শিশুটি বারবার বলছিল, স্কুলে কথা বললে তাকে গলায় চাপ দেওয়া হবে এবং মুখ সেলাই করে দেওয়া হবে—এমন ভয় দেখানো হয়েছিল।
ঘটনার পর স্কুলটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সেখানে এসে ভিড় করেন একাধিক অভিভাবক। অনেকেই ভিডিও দেখে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ জানান, আগে কখনো এমন ঘটনার কথা শোনেননি, কিন্তু এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েই ভয় কাজ করছে।
এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেছেন। শিশু আইনের সত্তর ধারায় দায়ের করা মামলায় শারমিন জাহান ও পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আসামি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত চাইল্ড হেল্পলাইন এক শূন্য নয় আট-এর শিশু সুরক্ষা কর্মীরা শিশুটির মানসিক পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শিশুর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিকাশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পুরো সমাজের জন্যই অশনি সংকেত।
এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—নীতিমালা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষার বাস্তব প্রয়োগে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন সহিংসতা বন্ধ হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুলাই অভ্যুত্থানে লুণ্ঠিত অস্ত্র কুমিল্লায় উদ্ধার

মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত অস্ত্র যে এখনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য নীরব হুমকি হয়ে আছে, তারই নতুন প্রমাণ মিলেছে কুমিল্লায়। জেলার মুরাদনগর উপজেলায় হাইওয়ে পুলিশের একটি লুণ্ঠিত অস্ত্রসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি নির্বাচনপূর্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর এলাকার একটি ডোবা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লাস্থ র্যাবের একটি বিশেষ দল। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাজৈর এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সড়কের পাশে একটি ডোবা থেকে কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি চাইনিজ রাইফেল রয়েছে, যা হাইওয়ে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি জুলাই অভ্যুত্থান আন্দোলনের সময় পার্শ্ববর্তী ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল। অন্য অস্ত্রটির উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছাল, কারা এতে জড়িত এবং আরও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ ও সহিংসতার ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ৮ আসন থেকে প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক আহমেদ এনটিভি অনলাইনকে জানান, ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং প্রার্থীর শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করতে থাকেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুর্বৃত্তরা হাদির অবস্থান শনাক্ত করে। তাদের একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। হামলার পর তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা যায়নি। কর্তৃপক্ষ হামলার যথাযথ তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ছেলের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বাবার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রসুলপুর ইউনিয়নের হামকুড়া গ্রামে ছেলে আসলাম শেখের আঘাতে বাবা আরশেদ শেখ মারা গেছেন। শান্ত গ্রামটি মুহূর্তেই উত্তেজনা আর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরশেদ শেখ ও তার ছেলে আসলাম শেখের মাঝে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। প্রতিদিনের মতই শনিবারও তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। তবে পরিস্থিতি এক পর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছেলে আসলাম উত্তেজনার বশে বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের পর আরশেদ শেখ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরপরই আসলাম শেখ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিকভাবে সক্রিয় গ্রামটি এমন ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশ আসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং ঘটনাটি আইনগতভাবে তদন্তাধীন। তিনি জানান, “ঘটনা ঘটার পরই আসলাম পালিয়ে যায়। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমরা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছি।”
ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক অস্থিরতার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারে দীর্ঘদিনের চাপ, বোঝাপড়া ও সংলাপের অভাব অনেক সময় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
হামকুড়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, পরিবারটির মধ্যে পরিস্থিতি দীর্ঘদিনই টানটান ছিল। কিন্তু শোকাভিভূত গ্রামের অনেকে এমন মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না।
-রফিক
৮ হাজার পৃষ্ঠার প্রমাণ, হাজারো নিহত–আহত: শেখ হাসিনাদের বিরুদ্ধে রায়ে কী ঘটতে যাচ্ছে? সরাসরি দেখুন!
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময়কার দমন–পীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় পড়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় পাঠ শুরু করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা।
মামলাটিতে প্রসিকিউশন মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করেছে, যেখানে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠার জব্দতালিকা ও অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ এবং ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, এসব নথি প্রমাণ করে যে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ দমনে অভিযুক্ত তিনজন পরিকল্পিত, পদ্ধতিগত এবং ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন—বিশেষত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদেরও বিক্ষোভ দমনে ব্যবহারের জন্য সরাসরি নির্দেশ দেন। এসব নির্দেশের ফলেই দেশব্যাপী দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত, অঙ্গহানি বা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। তদন্তে এসব ঘটনাকে গণহত্যা, পরিকল্পিত হত্যা এবং অমানবিক নির্যাতনের শামিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিনে আশুলিয়ায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়, এরপর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়; এমনকি অন্তত একজনকে জীবন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, এই ঘটনার নির্দেশও এসেছে শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির কাছ থেকেই, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের স্পষ্ট উদাহরণ।
রায় পড়া শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলার সংবেদনশীলতা, অভিযুক্তদের সাবেক রাষ্ট্রক্ষমতার অবস্থান এবং নথিপত্রের বিশাল পরিমাণের কারণে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন। আদালত–সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নথিপত্রের বিশালতা বিবেচনায় রায় সম্পূর্ণ পড়তে সময় লাগবে এবং রায়টির রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরাসরি দেখুন:
বাড্ডায় দারোয়ান ও তাঁর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্যে ধোঁয়াশা
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি আবাসিক ভবনের কক্ষ থেকে এক দম্পতির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া গেলেও মৃত্যুর কারণ বা ধরন সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাটি প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঘটেছে।
রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উত্তর বাড্ডার পূর্বাঞ্চল ৩ নম্বর রোডের ২ নম্বর গলির একটি বাড়ির ভেতরে ঘর থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ওসি বলেন, মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে পুরুষটির নাম সাইফুল ইসলাম (৩০), যিনি ওই ভবনের দারোয়ান হিসেবে কাজ করতেন। আর নারীটি সাইফুলের স্ত্রী শাকিলা, যিনি একই ভবনের ভাড়াটিয়া পরিবারের কাছে রান্নার কাজ করতেন। পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত্যুর সময়কাল ও সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা সন্দেহজনক কিছু টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে বাড্ডা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে স্বামী–স্ত্রীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে তখন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু ২৫ অক্টোবরের পর কোনো এক সময় ঘটেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ ঘরে লাশ থাকায় তীব্র পচন ধরেছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশের তদন্ত দল কাজ করছে। লাশ দুটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি কেস) দায়ের করা হচ্ছে। তবে তদন্তে যদি হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়, তাহলে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার খবরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, সাইফুল ও শাকিলা দম্পতি প্রায় তিন বছর ধরে ওই ভবনের নিচতলায় বসবাস করছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সমস্যার কথা শোনা যায়নি বলে দাবি করেন অনেকে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত কিছু জানানো যাচ্ছে না। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর প্রকৃতি নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য পারমাণবিক অস্ত্র পসাইডন ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন হুমকি
রাশিয়া সফলভাবে 'পসাইডন' নামের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপার টর্পেডোর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার এই ঘোষণা দেন। গ্রিক পুরাণের সমুদ্রদেবতা পসাইডনের নামে নামকরণ করা এই অস্ত্র সমুদ্রের নিচে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় ঢেউ সৃষ্টি করে উপকূলীয় অঞ্চল ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুতিনের দাবি, এ ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র বিশ্বের আর কোনো দেশের কাছে নেই। রুশ পার্লামেন্টের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এই টর্পেডোকে ড্রোন ও পারমাণবিক টর্পেডোর সংমিশ্রণ বলে অভিহিত করেছেন; তার দাবি, এটি পুরো একটি রাষ্ট্রকে অচল করে দিতে সক্ষম।
পসাইডনের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে ২০১৮ সালে; তখন বলা হয়েছিল এটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম, যা একে আটকানো প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
এর আগে ২১ অক্টোবর রাশিয়া 'বুরেভেস্তনিক' নামের পারমাণবিক চালিত নতুন এক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষারও ঘোষণা দেয়; রাশিয়ার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে পারে। ন্যাটো এই অস্ত্রটিকে 'এসএসসি-এক্স-৯ স্কাইফল' নামে চিহ্নিত করেছে। পসাইডন ও বুরেভেস্তনিক ছিল ২০১৮ সালে পুতিনের প্রকাশিত 'অজেয় অস্ত্রের' তালিকারই অংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এসব ঘোষণা মূলত একটি রাজনৈতিক প্রচারণা। ব্রিটিশ রাশিয়া-বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্যালিওটি বিবিসিকে বলেন, পসাইডন ও বুরেভেস্তনিক মূলত 'আর্মাগেডন অস্ত্র'—এগুলো ব্যবহারের অর্থ হবে পৃথিবী ধ্বংস। তিনি মনে করেন, এসব অস্ত্র 'সেকেন্ড-স্ট্রাইক' বা প্রতিশোধমূলক হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
অনেকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৯ সালে একটি রকেট ইঞ্জিন বিস্ফোরণে পাঁচ রুশ পারমাণবিক প্রকৌশলী নিহত হয়েছিলেন; ধারণা করা হয়, সেই বিস্ফোরণ বুরেভেস্তনিক প্রকল্পেরই অংশ ছিল। আন্তর্জাতিক কৌশল গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএস জানিয়েছে, পারমাণবিক প্রোপালশন প্রযুক্তিতে রাশিয়ার এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে; তারই পরপর পুতিনের এই অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা আসে। বিশ্লেষক গ্যালিওটির মতে, পুতিনের লক্ষ্য হলো ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নিজের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা।
রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ: লগি-বৈঠায় পল্টনে পেটানো হয়েছিল মানবতা
রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি এক ভয়াবহ, বিভীষিকাময় স্মৃতি হয়ে আছে। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টনে যা ঘটেছিল, তা শুধু রাজনীতির সহিংসতার উদাহরণ নয়, বরং মানবতার ইতিহাসে এক গভীর কলঙ্ক। প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, মৃতদেহের উপর উল্লাস—এই দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়েছিল পুরো দেশ, কেঁপে উঠেছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও।
২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছায়। ২৭ অক্টোবর রাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। পরদিন, ২৮ অক্টোবর, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট একই এলাকায় পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। সকাল থেকেই রাজধানীর পল্টন-মুক্তাঙ্গন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হতে থাকে।
দুপুরের আগেই সংঘর্ষ শুরু হয়। বিজয়নগর ও তোপখানা দিক থেকে আসা আওয়ামী লীগের কর্মীরা লগি-বৈঠা হাতে জামায়াতের সমাবেশমুখী হয়। মুহূর্তেই চারদিক জুড়ে বোমা, ইটপাটকেল, অস্ত্রের ঝড় শুরু হয়।
দুপুরের পর পল্টনে ঘটে নির্মমতম দৃশ্য। টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়, কয়েকজন মানুষকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী জসিম উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃত্যুর পর তাদের দেহের ওপরও অমানবিক আচরণ করা হয়। সেদিনের সেই দৃশ্য শুধু দেশ নয়, বিদেশেও চমকে দিয়েছিল বিশ্বমানবতাকে।
সেই থেকেই “লগি-বৈঠা” শব্দটি বাংলাদেশের রাজনীতির অভিধানে যুক্ত হয় সহিংসতার প্রতীক হিসেবে।
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তখন ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকলেও সংঘর্ষ থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে পড়ে থাকে রক্তাক্ত দেহ। বিকেলের দিকে বিডিআর মোতায়েনের পরই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
পরদিন জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানায় মামলা করে। মামলায় আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের ৪০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। ২০০৭ সালে আদালতে চার্জশিট জমা হয়, যাতে শেখ হাসিনার নামও ছিল। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মামলাটি “জনস্বার্থে” প্রত্যাহার করা হয়। আইনি মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেন, হত্যা মামলা বাদীর সম্মতি ছাড়া প্রত্যাহার সংবিধানবিরোধী ও বিচারব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক নজির।
নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নারগিস আক্তার বলেছিলেন, “আমরা কার কাছে বিচার চাইবো? যারা হত্যা করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায়।”আরেক নিহত মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবি বলেন, “আমার ছেলে আর ফিরবে না, কিন্তু চাই যেন আর কোনো মা এরকম না কাঁদে।” তাদের একটাই দাবি—দোষীদের বিচার হোক, সত্য প্রকাশ পাক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার সহিংসতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা হারানোর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রতিপক্ষকে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে দেখার প্রবণতা আরও গভীর হয়। নির্বাচনী বা আন্দোলনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে এখনো সেই লগি-বৈঠার ছায়া দেখা যায়।
রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতিতে যখন মানবতা হারায়, তখন সভ্যতার মুখও রক্তে রঞ্জিত হয়। ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনার বিচার হয়নি। বরং এটি পরিণত হয়েছে “বিচারহীনতার সংস্কৃতি”-র প্রতীক হিসেবে। যতদিন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন বাংলাদেশের রাজনীতির বুক থেকে মুছে যাবে না “রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর”-এর দাগ।
ছবি, ভিডিও আর ভয়ের ব্যবসা: অনলাইনে হানিট্র্যাপের অন্ধকার দুনিয়া

মো: মনিরুজ্জামান
গবেষক ও সাংবাদিক
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবনের গতি, ধরন ও আশেপাশের পরিবেশ। এখন এক ক্লিকেই হাজর মাইল দূরের কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায়, ছবি পাঠানো যায়, এমনকি ভিডিও কলে মুখোমুখি হয়ে একজন আরেকজনের ভালোমন্দের খোজ খবর নেয়া যায়। প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সহজ যোগাযোগ মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে, বাড়িয়েছে বন্ধুত্ব ও সাথে খুলে দিয়েছে সম্পর্কের নতুন পথ।
কিন্তু কিছু মানুষ প্রযুক্তির হাজারো ভালো দিকের মধ্যেও কিছু খারাপ দিক খুজে বের করছে। প্রযুক্তির এই সংযোগের আড়ালে গড়ে তুলেছে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার জগৎ—যার নাম “হানি ট্র্যাপ”।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক কোটি। আর এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ—সব জায়গাতেই প্রতিদিন গড়ে তুলছে অসংখ্য নতুন সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব আর সেই সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব থেকে তৈরি হচ্ছে ভালোবাসার নতুন নতুন গল্প।
এই সম্পর্কের শুরুটা হয় খুব সাধারণভাবে—একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, কিছু প্রশংসা, কিছু হাস্যরস, তারপর নিয়মিত কথা বলা। ধীরে ধীরে বিশ্বাস তৈরি হয়, মনে জন্ম নেয় অনুভূতি বা ভালোবাসার। কিন্তু সেই বিশ্বাসের ভেতর দিয়েই অনেকে হারাচ্ছেন জীবন, সম্মান, টাকা আর ভবিষ্যৎ।
ভালোবাসার অভিনয়ে প্রতারণা: কীভাবে ঘটে এই হানি ট্র্যাপ
একটি সাধারণ গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। যেখানে এক তরুণী ফেসবুকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পান এক তরুণের কাছ থেকে। কিছুদিন কথাবার্তা, মিষ্টি আলাপ, তারপর ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। তরুণটি ভালোবাসার কথা বলে, নিজের একাকিত্বের গল্প শোনায়। তারপর আসে “বিশ্বাসের পরীক্ষা”—একটি ভিডিও কল, কিছু ব্যক্তিগত ছবি, কিছু ‘প্রাইভেট’ মুহূর্ত।
এরপর হঠাৎই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। সেই চেনা মানুষটাই হয়ে যায় অচেনা। সেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি আসে সেই মানুষটার কাছ থেকে, করা হয় টাকার দাবি। কেউ আবার জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভিডিও ধারণ করে। ভুক্তভোগী হয় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, পরিবারের ও সমাজে মুখ দেখাতে পারেন না।এইভাবেই প্রেমের অভিনয়ে তৈরি হয় ‘হানি ট্র্যাপ’।
বাংলাদেশে হানি ট্র্যাপের সাম্প্রতিক ভয়াবহ কিছু উদাহরণ
- খুলনার প্রতারণা চক্র: প্রেম থেকে চাঁদাবাজি
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুলনায় ফেসবুক-ভিত্তিক এক হানি ট্র্যাপ চক্রকে আটক করে পুলিশ। তারা ভুয়া নারী প্রোফাইল খুলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তরুণ চাকরিজীবীদের টার্গেট করত। ভিডিও কলে আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করে “ভিডিও ভাইরাল” করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করত। তদন্তে জানা যায়, এই চক্রটি অন্তত ২৫ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে।
- চট্টগ্রামের মেয়েদের দেহব্যবসায় নামানোর ফাঁদ
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে আরেকটি হানি ট্র্যাপ চক্রের সন্ধান মেলে, যারা মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে দেহব্যবসায় নামাতে বাধ্য করত। প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলত, পরে সেই ছবি ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে তাদের জোরপূর্বক হোটেলে পাঠানো হতো। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, চক্রটি অন্তত আটজন তরুণীকে বিভিন্ন হোটেলে ব্যবহার করেছে এবং কয়েকজন হোটেল মালিকও এতে জড়িত ছিল।
- রাজশাহীর কলেজছাত্রী: টিকটকের প্রেমে ধ্বংস
রাজশাহীর এক কলেজছাত্রী টিকটকের মাধ্যমে এক তরুণের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেই তরুণ ভিডিও কলে তাকে প্রতারণার মাধ্যমে আপত্তিকর অবস্থায় ধারণ করে। ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে তাকে ঢাকায় এনে দেহব্যবসায় জড়াতে বাধ্য করা হয়। পুলিশের অভিযানে মেয়েটি উদ্ধার হলেও সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
- নারায়ণগঞ্জের নারী চক্র: ধনীদের টার্গেট
নারায়ণগঞ্জে র্যাবের হাতে ধরা পড়ে আরেকটি চক্র, যারা মেয়েদের ব্যবহার করে ধনবান পুরুষদের টার্গেট করত। তারা প্রেমের অভিনয় করে নির্জন স্থানে ডেকে নিত, পরে সহযোগীরা হাজির হয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত।
- ঢাকার প্রবাসী প্রতারণা: বিদেশিরাও নিরাপদ নয়
২০২৫ সালের মার্চে বনানী এলাকায় এক ব্রিটিশ নাগরিক অনলাইনে পরিচিত এক তরুণীর মাধ্যমে ফাঁদে পড়েন। দেখা করার নামে হোটেলে ডেকে এনে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, “আমি ভেবেছিলাম এটি একটি সম্পর্ক, কিন্তু এটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।”
নারীদের শিকার বানানো নতুন কৌশল
কিছু ক্ষেত্রে মেয়েরাই ফাঁদে পড়ছেন। ২০২৫ সালের জুনে নারায়ণগঞ্জে এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়, যাকে প্রেমের মাধ্যমে প্রতারণা করে তার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন হোটেলে পাঠানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, একটি সংগঠিত চক্র এই কাজটি করত, যারা নারী পাচারের সঙ্গেও যুক্ত।
হানি ট্র্যাপের নেপথ্যে কারা, কীভাবে কাজ করে এই চক্রগুলো
সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ হানি ট্র্যাপ চক্রই সংগঠিতভাবে কাজ করে। তাদের আলাদা বিভাগ থাকে—
- কেউ ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট দেয়,
- কেউ অনলাইনে বন্ধুত্ব করে সম্পর্ক গড়ে তোলে,
- কেউ আবার ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের দায়িত্বে থাকে।
তারা সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল, সামাজিকভাবে ভীত, ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবী, প্রবাসী, ছাত্র বা গৃহিণী—এধরণের মানুষদের টার্গেট করে।
ছেলেরা যেমন অপরাধী, মেয়েরাও তেমনি যুক্ত
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা গেছে, হানি ট্র্যাপ কেবল ছেলেদের অপরাধ নয়—কিছু মেয়েও এখন এই চক্রের অংশ। ফেসবুকে আকর্ষণীয় ছবি ব্যবহার করে প্রেমের অভিনয় করে তারা ছেলেদের টার্গেট করছে। দেখা করার নামে নির্জন স্থানে ডেকে এনে সহযোগীদের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে কুমিল্লা, ফেনী, ও নরসিংদীতে এমন তিনটি নারী চক্রকে গ্রেফতার করা হয়। তারা মূলত প্রবাসী পুরুষদের লক্ষ্য করত। অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে, পরে ভিডিও কলে কিছু ‘ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত’ ধারণ করত। এরপর বিদেশে থাকা ওই পুরুষদের কাছ থেকে নিয়মিত ডলারে টাকা আদায় করা হতো।
মানসিক ও সামাজিক ধ্বংস: শিকারদের জীবনের ভয়াবহ বাস্তবতা
হানি ট্র্যাপের শিকারদের অনেকেই সমাজে মুখ দেখাতে পারেন না। তাদের অনেকের সংসার ভেঙে গেছে, কেউ চাকরি হারিয়েছে, কেউ আবার আত্মহত্যা করেছে।
ঢাকায় এক নারী শিক্ষক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আত্মহত্যা করেন—কারণ, তার ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা অর্থ দাবি করছিল।
আরেকজন প্রবাসী শ্রমিক, যিনি সৌদি আরবে কাজ করতেন, অনলাইনে এক তরুণীর প্রেমে পড়ে নিজের পারিবারিক সব সঞ্চয় পাঠিয়ে দেন—পরে জানতে পারেন, সেই প্রোফাইলের পেছনে ছিল একটি পুরুষ সদস্যের চক্র।
মনোবিজ্ঞানীদেরমতে, এসবঘটনারসবচেয়েভয়াবহদিকহচ্ছেমানসিকট্রমা। ভুক্তভোগীরাবিষণ্নতা, আত্মসম্মানহীনতা ও আত্মঘৃণায়ভোগেন। কেউকেউপরিবারথেকেবিচ্ছিন্নহয়েপড়েন।
আইনি বাস্তবতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ
বাংলাদেশে হানি ট্র্যাপ অপরাধের আওতায় আসে মূলত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর অধীনে।
এই আইন অনুযায়ী—
- কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ বা ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে,
- অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল বা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করলে তা সাইবার এক্সটরশন হিসেবে গণ্য হয়।
র্যাব, পুলিশ, ও বিভিন্ন সাইবার ক্রাইম ইউনিট এখন নিয়মিত এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি র্যাব-৩ এবং সাইবার ক্রাইম দমন টিম যৌথভাবে ৩০টিরও বেশি হানি ট্র্যাপ সম্পর্কিত মামলা তদন্ত করেছে।তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দরকার জনসচেতনতা ও ডিজিটাল শিক্ষা। কারণ, অনেকেই এখনো জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে বা কীভাবে সাহায্য পাওয়া যায়।
হানি ট্র্যাপ থেকে বাঁচার উপায়
হানি ট্র্যাপ থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—
- অপরিচিত কাউকে বিশ্বাস করার আগে যাচাই করুন। অনলাইনে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পেলেই তা গ্রহণ করবেন না।
- ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও কখনো পাঠাবেন না, এমনকি সম্পর্কের বিশ্বাসের জায়গা থেকেও নয়।
- অজানা লিংক বা ফাইল ওপেন করবেন না, কারণ অনেক সময় এর মাধ্যমেও হ্যাকিং হয়।
- যদি প্রতারণার শিকার হন, ভয় না পেয়ে অভিযোগ করুন।
জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯ এ ফোন করতে পারেন অথবাসাইবার পুলিশ সেন্টার (ফেসবুক পেজ) অথবা র্যাবের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে জানাতে পারেন। তবে প্রথমেই পরিবার বা ঘনিষ্ঠজনকে জানান। লজ্জা বা ভয় নয়, সহযোগিতা চাইতে হবে। ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে হবে। স্কুল, কলেজ, ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ বিষয়ে শিক্ষাদান জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: প্রযুক্তি নয়, দোষ মানুষের অপব্যবহারে
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তি নিজে কখনো ক্ষতিকর নয়, বরং তার ব্যবহার ও অপব্যবহারের ওপরই নির্ভর করে।
ড. শামসুদ্দিন আহমেদ, মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষক বলেন—
“প্রেমের ফাঁদ নতুন কিছু নয়, কিন্তু এখন তা ডিজিটাল হয়েছে। আজকের তরুণ সমাজ অনলাইনে দ্রুত বিশ্বাস করে ফেলে, যার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।”
সাইবার বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল ইসলাম বলেন—
“অপরাধীরা এখন আরও স্মার্ট। তারা ভুয়া লোকেশন, ভুয়া নম্বর, ও এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে। তাই প্রযুক্তিগত সচেতনতা বাড়ানোই একমাত্র উপায়।”
ভালোবাসার আড়ালে লুকানো ভয়
প্রেম মানে বিশ্বাস, সম্মান আর আন্তরিকতা। কিন্তু আজ সেই ভালোবাসাই অনেক সময় প্রতারণার মুখোশ পরছে। ডিজিটাল যুগে ভালোবাসা প্রকাশের ধরন পাল্টে গেছে, কিন্তু তার ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুণ।যখন সম্পর্কের শুরুতেই থাকে কৌশল, আর বিশ্বাসের জায়গায় থাকে ব্ল্যাকমেইল—তখন সমাজ হারায় মানবিকতা।তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার, শিক্ষা দেওয়ার এবং সাহসিকতার সঙ্গে প্রতারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর।
পাঠকের মতামত:
- চাঁদ জয় কি তবে স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে? নাসার ঐতিহাসিক মিশনে আবারও বড় বাধা
- মাত্র ৯ কোটির মোস্তাফিজের কারণে ৬ হাজার কোটির ক্ষতি!
- নির্বাচনের আগে উত্তরের পথে শফিকুর রহমান: উত্তরের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ
- নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?
- ৯ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিকুর রহমান: আমির হামজা
- দিল্লি-কলকাতায় গোপন বৈঠক: ভারত থেকেই দল গোছাচ্ছেন শেখ হাসিনা
- আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া? জেনে নিন সকালের পূর্বাভাস
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- দুই দশক পর বরিশালে বিএনপির রাজকীয় শোডাউন: জনসমুদ্রে রূপ নিচ্ছে বেলস পার্ক
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- আজ টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান
- ঢাকাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
- অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান
- প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
- ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল জামায়াত
- গায়ক নোবেল ও তাঁর মাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর
- বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!
- শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান
- মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ
- পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
- অচল চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন কাণ্ড! ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ল দাম
- আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজকের শীর্ষ দরপতনকারী ১০ শেয়ার
- আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল
- কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত
- শিক্ষাবৃত্তির আবেদন নিয়ে নতুন ঘোষণা, জানাল বোর্ড
- শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতে ক্ষমা ও রহমত কামনায় তারেক রহমানের বার্তা
- আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির
- ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
- প্রথম শিকারকে যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা
- মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
- চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
- ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?
- রাজধানীসহ ৪৮ স্থানে কম দামে মাংস-দুধ-ডিম বিক্রি
- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: জানুয়ারিতে রেকর্ড আয়
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
- যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম








