"শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, রাবিতে অচল অবস্থা"

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৯ ১৬:০২:৪০
"শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, রাবিতে অচল অবস্থা"

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও প্রশাসনের উদাসীনতায় এবার রাজপথে। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ নয় দফা দাবি আদায়ে রোববার (২৯ জুন) দুপুরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। প্যারিস রোড থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দেন—দাবি মানা না হলে তারা অবস্থান ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, এই ৯ দফা কোনো হঠাৎ উত্থাপিত দাবি নয়—দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বারবার নীরবতা ও গড়িমসির কারণে তারা এবার ‘সমঝোতা নয়, সংগ্রাম’ পথেই হাঁটছেন।

দাবিসমূহ:

পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতার রোডম্যাপ ঘোষণা

পরীক্ষায় রোলবিহীন খাতা মূল্যায়ন ও খাতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ

ক্যাম্পাসে সপ্তাহে ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মেডিকেল সেন্টারকে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেলে উন্নীতকরণ

প্রশাসনিক সব কার্যক্রম ডিজিটাল ও অনলাইনভিত্তিক করা

হল ডাইনিংয়ে মানসম্মত খাবারের জন্য পর্যাপ্ত ভর্তুকি

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সংস্কার

পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি কার্যকর করা

রাকসুর পূর্ণাঙ্গ তফসিল দ্রুত ঘোষণা

সমাবেশে সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই ৯ দফা দাবি ন্যায্য, যৌক্তিক এবং সময়ের দাবি। এগুলো বাস্তবায়নে সদিচ্ছা আর উদ্যোগ থাকলেই সম্ভব। প্রশাসনকে আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—আর সময়ক্ষেপণ নয়। দাবি না মানলে আন্দোলন আরও কঠিন হবে।”

ইসলামি সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু যদি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে আমরা প্রয়োজনে রাজপথেই কঠোর কর্মসূচি গড়ে তুলব।”

মিছিলে অংশ নেওয়া দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী স্লোগানে স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখর করে তোলেন। তাদের মুখে ছিল—“আপস না, সংগ্রাম চাই”; “হল আমার অধিকার”; “সিন্ডিকেটের কালো হাত ভেঙে দাও”; “গড়িমসি চলবে না”—এমন নানা স্লোগান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


গীতি কবিতায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১১:২০:৫৯
গীতি কবিতায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল
ছবি : শিমুল হোসেন

গীতি কবিতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী জন্মোৎসব ২০২৬’ উপলক্ষে মর্যাদাপূর্ণ ‘আব্দুর রউফ চৌধুরী প্রজন্ম প্রান্তিক সম্মাননা’ অর্জন করেছেন লেখক ও সমাজকর্মী সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল।

গত শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ২ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রামে ১৯৮৬ সালের ১৬ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল। তাঁর পিতার নাম গফফার মাস্টার এবং মায়ের নাম সালেহা খানম। শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামেই। কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামীণ শিকড়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে। নানাবিধ সমাজসেবামূলক কর্মের পাশাপাশি তিনি গান, কবিতা ও বাস্তবধর্মী বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে চলেছেন।

১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয় দৈনিক, সাহিত্যপত্র, লিটল ম্যাগাজিন এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত গল্প, গদ্য, ছড়া ও গান লিখে আসছেন তিনি। তাঁর লেখায় সমাজের বাস্তব চিত্র, সংগ্রাম ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ আমি কেবল মানুষ হবো, উঁইয়ের ঢিবি হয় না কভু হিমালয়ের তুল্য, ধানমন্ডি ৩২: স্বাধীনতার সূতিকাগার।

উল্লেখযোগ্য গান অতুল তিনি, জন্মভূমি মা, ও আমার দেশ, ডোবায় মারে ডুব।‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেব দ্রোহী শব্দাবলি’ এই স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত সাহিত্য-উৎসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার। সিফাত বন্যার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক শামস সাইদ।

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবিক কাজেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। গ্রাম ও শহরের অসহায় মানুষের কল্যাণে সারা বছরই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের জন্য এর আগেও দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই লেখক ও সমাজকর্মী।

ট্যাগ: সাতক্ষীরা

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১০:১২:৩৯
মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে আমাদের দোকানপাট বা শপিং মলে যেতে হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছে যদি দেখেন কাঙ্ক্ষিত মার্কেটটি বন্ধ, তবে ভোগান্তির শেষ থাকে না। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগেই জেনে নেওয়া জরুরি আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার মূলত রাজধানীর একটি নির্দিষ্ট জোনের মার্কেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া এভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরি পাড়া, তেজকুনী পাড়া, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকা। এছাড়া নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়া এলাকার দোকানপাটও আজ বন্ধ থাকবে।

মার্কেটগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শপিং মল বসুন্ধরা সিটি। পাশাপাশি মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট এবং গাউসিয়া মার্কেটও আজ তাদের সাপ্তাহিক ছুটি পালন করবে। যারা ধানমণ্ডি হকার্স, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার কিংবা গাউসুল আজম মার্কেটে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদেরও আজ বিরত থাকতে হবে।

এছাড়া রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমণ্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা এবং অর্কিড প্লাজাও মঙ্গলবার বন্ধ থাকে। কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই অযথা সময় ও শ্রম নষ্ট না করতে তালিকাটি দেখে আপনার আজকের কেনাকাটার পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে পারেন।

/আশিক


আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৮:২২:৩৬
আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনের মতো আজও নানা সরকারি, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সরগরম থাকতে যাচ্ছে পুরো শহর। সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, সেমিনার, অধিবেশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেবেন। পরে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধি ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একই দিনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপি-এর আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গেও তার বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। বিকেলে সরকারি দলের সংসদীয় সভাতেও তিনি অংশ নেবেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুপুরে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হবে।

স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য আয়োজন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নেবেন। এতে জনস্বাস্থ্য ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণেও আজ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠকে অংশ নেবেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান খাতে বড় একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংস্থাটির অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

আইনশৃঙ্খলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কেও আজ দুটি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রাজধানীতে বড় মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য এবং আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কিটামিন ল্যাবের তদন্ত অগ্রগতি তুলে ধরা হবে এসব ব্রিফিংয়ে।

এদিকে আর্থিক খাতকে ঘিরেও রয়েছে আন্দোলনের কর্মসূচি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। তাদের দাবি, ব্যাংকিং খাতে আরোপিত ‘হেয়ারকাট’ নীতি প্রত্যাহার এবং লেনদেন স্বাভাবিক করা।

সব মিলিয়ে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে সমান্তরালভাবে চলবে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কর্মসূচি কেবল দৈনন্দিন কার্যক্রম নয়, বরং নীতিনির্ধারণ, জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

-রফিক


টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:৫৪:২৩
টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও আসবাবপত্রসহ গৃহস্থালি সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে টঙ্গী মিলগেট এলাকার বাসিন্দা শিল্পীর ঘর থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আগুন লাগার খবর পেয়ে হামীম গ্রুপ ও এসএস স্টিল করপোরেশনের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মোট ৫টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের টানা ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া না গেলেও অগ্নিকাণ্ডের ফলে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারের।

ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি আব্দুল মান্নান জানান, ৫টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম উল্লেখ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন বস্তির বড় অংশে ছড়াতে পারেনি, যার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।

/আশিক


মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:২৮:১৮
মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
ছবি : সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ জেলায় আগামীকাল মঙ্গলবার জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য টানা চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), সুনামগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধানে ছাতক গ্রিড উপকেন্দ্রের সিলেট-ছাতক সঞ্চালন লাইনের সার্কিট-১ ও সার্কিট-২-এ জাম্পারিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই কারিগরি কাজের প্রয়োজনেই ১৩২/৩৩ কেভি সুনামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্রের ১৩২ কেভি ইনকামিং সার্কিটে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শাটডাউন কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ৩৩ কেভি সুনামগঞ্জ ফিডারেও মেরামত ও সংরক্ষণমূলক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই বিশেষ মেরামত কাজের কারণে বিউবোর আওতাধীন সুনামগঞ্জ জেলার সব এলাকায় উল্লিখিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হবে, তার জন্য বিউবো কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

/আশিক


তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর নতুন মোড়: ৩ জনের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২০:১০:২৪
তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর নতুন মোড়: ৩ জনের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ
তনু /ফাইল ছবি

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এবার নতুন মোড় নিচ্ছে। মামলা দায়েরের ১০ বছর পর সোমবার (৬ এপ্রিল) আদালতের বিচারক ৩ জনের ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সোমবার সকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পরই সোমবার ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। এতে বিচারক সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ করার নির্দেশ দেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে ৩ জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছেন সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ করতে। ওই ৩ জন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেছেন আদালত। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও সোমবার আদালতে আসেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতার এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইব। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ার হোসেন আরও বলেন, দেশের সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করব। এ জীবন আর রেখে কী লাভ।


লালমাইতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৩ বসতঘর

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৯:০৪:১৮
লালমাইতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৩ বসতঘর
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ধ্বংস হয়ে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাতিলোটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হাতিলোটা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও মোজাম্মেলের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে তিনটি বসতঘর ও ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সাইফুদ্দিন শাকিল বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।পরে মোটরসাইকেলটি অন্য বাড়িতে সরিয়ে রাখা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা আগুনে তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করেন তিনি।তিনি আরো বলেন, লালমাই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় পাশের উপজেলা থেকে গাড়ি আসতে সময় লেগেছে।

উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারত।স্থানীয় বাসিন্দা ও লালমাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে অন্য উপজেলা থেকে আসতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে লালমাই উপজেলায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরি।

ট্যাগ: কুমিল্লা

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:১২:১৬
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরণ ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, সন্ধ্যায় ৭টায় নগরীর টাইগারপাসস্থ মোড়ের মামা-ভাগিনা মাজার সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মোস্তফা আলম মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা একরাম হোসেন চৌধুরী। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলশী থানা কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম লিয়াকত হোসেন। শুরুতে সংগঠনের সদস্য আকতার হোসেন নিজামীর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও নারী উদ্যোক্তা ফারহানা আফরোজ।

সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট আধ্যাত্মিক রাজধানী এবং চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী। এই দুটি বিভাগের মানুষের মধ্যে একটি অন্তর্মিল রয়েছে। সিলেটের মানুষ যেমন অতিথিপরায়ণ ও আন্তরিকতায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, ঠিক তেমনি চট্টগ্রামের মানুষ অতিথিপরায়ণ ও আন্তরিক। এ দুটি অঞ্চলের মানুষ দুটি বিভাগের জনমানুষ হলেও এ দুটি অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশ তথা কৃষ্টি-সংস্কৃতি-সভ্যতায় প্রায়ই মিল।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম এবং সিলেট একসময় এক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তা ভৌগোলিকভাবে আলাদা হলেও সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক স ম জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের জিএম এম এ সবুর, সহসভাপতি মুছা আলম খান চৌধুরী, সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব এম নুরুল হুদা চৌধুরী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এমরান, সাংবাদিক নজিব চৌধুরী, মোহাম্মদ তিতাস, নাহিদা আকতার, সিরাজুম মুনিরা রিমঝিম, আয়েশা সিদ্দিকা, কবি আসিফ ইকবাল, মো. মুজিবুর রহমান।

আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।


১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১২:৪৮:৪৩
১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
ছবি : সংগৃহীত

চৈত্রের তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাব এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

চলতি মাসের শুরু থেকেই এই সংকট ঘনীভূত হতে হতে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ এক হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দৈনিক এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত পরিকল্পিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের মতে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকোপ অনেক বেশি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিএলসি (পিজিসিবি)-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও চলতি গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার ২০৪ মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও গ্যাসের তীব্র সংকটে অর্ধেকের বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দৈনিক অন্তত ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯৩ কোটি ঘনফুট। এর ওপর ভারতের আদানির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে আরও ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত শনিবার সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮০ মেগাওয়াট, যা রোববার কিছুটা কমে ৭৩৭ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে এবং সেখান থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকেও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা মেটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি তেলের সংকট ও বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এসব উদ্যোগ সংকট মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সংশয় রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: