হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ দেখা দিলে যা করবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৫ ১৬:১২:৩৪
হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ দেখা দিলে যা করবেন

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মাঝে মাঝে এমন কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়, যেগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিই না। যেমন বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, কিংবা হাত-পায়ের আঙুল ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। অথচ এগুলো হতে পারে নিম্ন রক্তচাপ (লো ব্লাড প্রেশার) বা হাইপোটেনশনের লক্ষণ।

নিম্ন রক্তচাপ একটি অবহেলিত শারীরিক সমস্যা হলেও, তা থেকে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে। সাধারণত আমাদের দেহে রক্তচাপ একটি ভারসাম্য রক্ষা করে, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর কার্যকারিতা ঠিক রাখে। এটি যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তাহলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো জটিলতা হতে পারে। আবার রক্তচাপ যদি অতিরিক্ত কমে যায়, তখন শরীর সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না ফলে দেখা দেয় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি হৃদপিণ্ডে সমস্যা।

স্বাভাবিক রক্তচাপ ও লো প্রেসারের সংজ্ঞা

সাধারণত ১২০/৮০ mmHg রক্তচাপকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ mmHg এর নিচে নেমে যায়, তখন তা নিম্ন রক্তচাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অবস্থায় শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং মস্তিষ্কসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে।

এজন্যই রক্তচাপ কমে গেলে তা অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণসমূহ

নিম্ন রক্তচাপের কিছু লক্ষণ সহজেই বোঝা সম্ভব, যেমন:

- হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারী অনুভব করা

- চোখে ঝাপসা দেখা

- মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানো

- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ক্লান্তি

- বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া

- হাত-পায়ের আঙুল ঠান্ডা হয়ে যাওয়া

- শরীরে ঝিমঝিম অনুভব করা

এই উপসর্গগুলো কারো ক্ষেত্রে একবারেই দেখা দিতে পারে আবার কারো ক্ষেত্রে সময় ধরে চলতে পারে। একাধিক লক্ষণ একসাথে দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ঘরোয়া সমাধান: হিমালয়ান পিংক সল্ট ওয়াটার

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. দীক্ষা ভাবসার নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সহজ, কার্যকর এবং নিরাপদ ঘরোয়া উপায় শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, রক্তচাপ কমে যাওয়ার মুহূর্তে ১ গ্লাস পানিতে আধা চা চামচ হিমালয়ান পিংক সল্ট মিশিয়ে পান করলেই দ্রুত রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এই লবণ সাধারণত হালকা মিষ্টি ও নোনতা স্বাদের হয়ে থাকে, ফলে খেতে অসুবিধা হয় না। এটি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

হিমালয়ান পিংক সল্টের উপকারিতা

হিমালয়ান সল্টে থাকে প্রাকৃতিক পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রান্নার লবণের চেয়ে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় এটি হৃদপিণ্ডের জন্যও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

এই লবণ শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ করে। একইসঙ্গে এটি হজমশক্তি বাড়ায়, দেহের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং এমনকি শ্বাসকষ্ট বা বুকে কফ জমা থাকলেও তা উপশমে সহায়ক।

বিকল্প না থাকলে কী করবেন?

যদি হিমালয়ান সল্ট হাতের কাছে না থাকে, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে সামান্য পরিমাণে রান্নার লবণও পানিতে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ তা উল্টো উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বারবার ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

যদিও এই ঘরোয়া সমাধান নিম্ন রক্তচাপে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে, তবুও নিয়মিত বা ঘন ঘন লো প্রেসারের সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, এ ধরনের সমস্যা সাধারণত অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার উপসর্গ হয়ে থাকতে পারে।

এই জটিলতাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে:

- হৃদযন্ত্রের সমস্যা

- দীর্ঘস্থায়ী ডিহাইড্রেশন

- থাইরয়েডের সমস্যা

- হরমোন ভারসাম্যহীনতা

- রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া

- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ

নিম্ন রক্তচাপ প্রতিরোধে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা:

- সময়মতো খাওয়া এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা থেকে বিরত থাকা

- পর্যাপ্ত পানি পান করা

- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

- শরীরচর্চা করা কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা

- হঠাৎ করে বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলা

নিম্ন রক্তচাপ এমন এক সমস্যা, যেটি অবহেলা করলে বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলেই সতর্ক হতে হবে, ঘরোয়া সমাধান ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


হাম হলে কী করবেন? জরুরি নির্দেশনা জানুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:৩৪:৪৭
হাম হলে কী করবেন? জরুরি নির্দেশনা জানুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশে সংক্রামক রোগ হিসেবে হাম এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে আক্রান্ত হলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা এবং পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ অবহেলা করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাম ধরা পড়লে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আলাদা ঘরে আইসোলেশনে রাখা প্রয়োজন।

রোগীর শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ডাবের পানি, ফলের রস এবং স্যুপের মতো সহজপাচ্য তরল খাবার বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না দেখা দেয়।

হামের কারণে জ্বর ও শরীর ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

এছাড়া রোগীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

হামের সময় চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা কষ জমা একটি সাধারণ উপসর্গ। এ ক্ষেত্রে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পরিষ্কার পানি ও তুলা দিয়ে আলতোভাবে চোখ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিলে রোগীর আরাম পেতে সহায়তা করে।

চিকিৎসাবিদরা আরও বলেন, হাম হলে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা উচিত। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। যেমন শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত জ্বর বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকাদান। শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সামগ্রিকভাবে, সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই হামকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


দেশে হামের মহামারি আতঙ্ক: আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়াল, বাড়ছে লাশের মিছিল

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৯:৫৮:২৩
দেশে হামের মহামারি আতঙ্ক: আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়াল, বাড়ছে লাশের মিছিল
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৩৩ জনে। এর মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৪৮ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৯ জন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ২৪১ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ জ্বরের সাথে শরীরে লালচে র‍্যাশ বা দানা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চললেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

/আশিক


হাম নাকি সাধারণ র‍্যাশ? চেনার উপায় ও চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১২:২৬:৩৪
হাম নাকি সাধারণ র‍্যাশ? চেনার উপায় ও চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র গরমে শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও শরীরে র‍্যাশের মতো উপসর্গের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই লক্ষণগুলোর অনেকটাই হামের মতো মনে হলেও সব ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত হচ্ছে না। বিশেষ করে নবজাতক থেকে ৬ মাস বয়সি শিশুরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। রাজধানীর শিশু হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে অনেক শিশু হাসপাতালে আসার পাশাপাশি কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা অভিভাবকদের জন্য চরম সতর্কবার্তাস্বরূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।

শিশুর যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি শিশুর অতিরিক্ত দুর্বলতা বা পাতলা পায়খানা শুরু হয়, তবে তাকে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়া সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সরকারি টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে শিশুদের বড় ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

/আশিক


সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১২:৪২:৫১
সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

ডায়াবেটিস বর্তমানে অনেকের কাছেই এক সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে কেবল নিয়মিত ওষুধ সেবন বা খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই এই রোগ পুরোপুরি আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয় না। অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকলেও শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটতে থাকে, যা শুরুতে আমাদের নজরে আসে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ল্যাবরেটরির রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোর দিকে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা আগেভাগেই শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর কিছু প্রাথমিক সংকেত দেয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ঘনঘন তৃষ্ণা পাওয়া এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব হওয়া। এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি শরীর সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, তবে বুঝতে হবে রক্তে শর্করার ওঠানামা আপনার জীবনীশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে।

খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও যদি শরীরের ওজন হঠাৎ কমে যায় বা বেড়ে যায়, তবে সেটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর লক্ষণ, কারণ উচ্চ শর্করা সরাসরি চোখের লেন্সের ওপর প্রভাব ফেলে।

শরীরের কোনো অংশে ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া বা ঘা যদি সহজে শুকাতে না চায়, তবে তা ডায়াবেটিসের জটিলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ শর্করার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে হাত-পা ঝিনঝিনি করা, জ্বালাপোড়া বা অবশ হওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি হয়। এছাড়া ত্বকের অস্বাভাবিক শুষ্কতা, বারবার সংক্রমণ হওয়া বা চুলকানিও এই রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এমনকি হঠাৎ খুব বেশি ক্ষুধা পাওয়া কিংবা খাওয়ার রুচি একেবারে চলে যাওয়াও রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।

ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করতে হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরের এই ভাষাহীন সংকেতগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লিখিত লক্ষণগুলোর কোনোটি যদি দীর্ঘসময় ধরে স্থায়ী হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকলেই ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা


যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৩:১৮:১৪
যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

অসুস্থ বা জ্বর থাকা শিশুদের এই মুহূর্তে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে। তবে যেসব শিশু বর্তমানে উচ্চ জ্বর, তীব্র সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়া আগে হামের টিকা নিয়ে যাদের মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল বা যারা ক্যানসারের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড সেবনের কারণে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভুগছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। যারা সম্প্রতি রক্ত বা রক্তজাত পণ্য গ্রহণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।

এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে আগে হামের টিকা নেওয়া শিশুরাও অংশ নিতে পারবে। প্রথম ধাপে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

/আশিক


ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:১৩:০৯
ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

নিমগাছের ভেষজ গুণাবলি এবার অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিমের মধ্যে থাকা 'গেডুনিন' এবং 'নিম্বোলাইড' নামক দুটি প্রাকৃতিক যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের গবেষকদের মতে, গেডুনিন যৌগটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী 'সনিক হেজহগ' নামক সিগন্যালিং পাথওয়েকে বাধা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিমের উপাদান ইঁদুর ও কোষের ওপর পরীক্ষায় ক্যানসার কোষের বিস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এটি সুস্থ কোষের ক্ষতি না করেই টিউমার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে শুধু নিমের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূলধারার চিকিৎসা (সার্জারি বা কেমোথেরাপি) চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। ভবিষ্যতে ক্যানসারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন নতুন ওষুধ তৈরিতে নিমের এই গুণাবলি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্যানসার ছাড়াও নিমের আরও বহুবিধ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্রণ ও এগজিমা সারাতে কার্যকর। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও নিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে নিমের নির্যাস বা ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

/আশিক


টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১১:৪২:২৭
টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। বাংলাদেশের প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, শিশুদের হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। অর্থাৎ, টিকার আওতায় আসার আগেই এই বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত।

সোমবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ১০ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে মোট ২৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে পরীক্ষা করা ৬৩টি নমুনার মধ্যে ৩৪টিই পজিটিভ এসেছে, যার অর্থ আক্রান্তের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে, এছাড়া পাবনা, রাজশাহী ও নওগাঁর শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিইউতে ১৬টি শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই ৯ মাসের কম বয়সী। শিশুদের মধ্যে সাধারণত তীব্র জ্বর কমার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা হাম দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বারান্দাতেও রোগী রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার বয়সের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া প্রমাণ করে যে ওই অঞ্চলে ভাইরাসের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা এখনও টিকা পায়নি, তাই তাদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন 

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:৫৮:৩৩
হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন 
ছবি: সংগৃহীত

দেশে পুনরায় হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসজনিত এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে, ফলে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে দ্রুত বিস্তার লাভের আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি জটিল ভাইরাস সংক্রমণ, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই রোগ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

রোগের শুরুতে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চোখে পানি পড়া এবং আলো সহ্য করতে না পারার সমস্যাও দেখা যায়, যা রোগের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

পরবর্তী ধাপে, সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এই ফুসকুড়িগুলো ধীরে ধীরে গাঢ় হয় এবং একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে গালের অংশে ছোট ধূসর-সাদা দাগ দেখা যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কপলিক স্পট বলা হয় এবং এটি হাম শনাক্তকরণের একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ।

হাম রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রোগীকে দ্রুত আইসোলেশনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আলাদা রাখা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

পাশাপাশি, রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশ্রামও এই রোগ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট হাম রোগের জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি বিশেষ করে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা, তোয়ালে এবং অন্যান্য সামগ্রী আলাদা রাখা উচিত এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের এমএমআর টিকা প্রদান করলে এই রোগের সংক্রমণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

এছাড়া, যদি রোগীর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এই রোগের জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সার্বিকভাবে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অবহেলিত হলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে এমন একটি সংক্রামক রোগ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।


দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:৩৪:২৮
দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

পাঠকের মতামত: