সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস: আইনি সুরক্ষা ও পূর্ণ দায়মুক্তি পেলেন জুলাই যোদ্ধারা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি ঐতিহাসিক বিল সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলটি পাসের ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা চিরতরে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ বাতিল করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে।
একই দিনে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো। নতুন এই আইন অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন যদি সন্ত্রাসে জড়িত থাকে, তবে সরকার সেই নির্দিষ্ট দলকে সরাসরি নিষিদ্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করল।
মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নির্বিচারে মানুষ হত্যার দায়ে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলটিকে সাংগঠনিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি এই আইনের মাধ্যমে আরও সুসংহত হলো। সংসদ অধিবেশনে এই বিলগুলো পাসের সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
/আশিক
সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
ডিজিটাল কারসাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব ধরনের পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির আইনি বিধান রেখে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার ঐতিহ্যগত স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরীক্ষা পদ্ধতির সুষ্ঠুতা বজায় রাখার বজ্রকঠিন লক্ষ্য নিয়েই এই যুগোপযোগী বিলটি প্রণয়ন ও পাস করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এই নতুন বিলের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ৪৫ বছর পুরোনো ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর অচল ও দুর্বল বিধানগুলো সংশোধন করে বর্তমানের সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক নতুন ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে মোকাবিলার আইনি রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি সনাতন পদ্ধতির নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পূর্বের আইনের বিধানগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এই সংশোধনীতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো 'ডিজিটাল কারসাজি'-এর একটি আধুনিক আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে; যার আওতায় পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, জালিয়াতির মাধ্যমে সংশোধন, রেজাল্ট মুছে ফেলা বা গোপন করাকে কঠোর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা ৫এ (5A) অনুযায়ী, ডিজিটাল কারসাজির এই অপরাধে অপরাধীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের আইনি বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নকল প্রতিরোধে ধারা ৩এ (3A) সংযোজন করে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত যেকোনো ধরনের স্মার্ট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বা নেওয়ার চেষ্টা করে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের মরণব্যাধির শাস্তি আরও কঠোর করতে বিদ্যমান ধারা ৮ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে পরীক্ষার আগে যেকোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে অবৈধভাবে রাখা, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য উপায়ে প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে শক্ত হাতে রুখতে নতুন ধারা ৯এ (9A) যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে অবৈধ কেন্দ্র পরিচালনায় জড়িত ব্যক্তি এবং জেনেশুনে অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া মালিকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কারসাজি ঠেকাতে ধারা ১০এ (10A) সংযোজন করা হয়েছে; কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হবেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ধারা ১২এ (12A)-এর মাধ্যমে কোনো কোচিং সেন্টার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সেবাদানকারী সংস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা কর্মীদের যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বড় সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নতুন ধারা ১৩এ (13A)-তে বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে অভিযুক্ত কোনো শিশুর বিচার সাধারণ আদালতে নয়, বরং ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার বিশেষ আওতায় পরিচালিত হবে। এছাড়া নতুন ধারা ১৩বি (13B)-তে সৎ উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য ফাসকারী বা প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সব ধরনের দেওয়ানি, ফৌজদারি বা বিভাগীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা থেকে পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার এক যুগান্তকারী বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত এই নতুন আইনে সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধকে সম্পূর্ণ ‘আমলযোগ্য’ (কগনিজেবল) ও অ-জামিনযোগ্য করা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই অপরাধীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা নিতে পারে। ঢাকা ও অন্যান্য মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পর্যায়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুততম সময়ে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে (Summary Trial) এসব মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করবেন।
/আশিক
সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
জাতীয় সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে আসা দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনেই এসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী পরিদর্শন এবং সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই সংসদ ভবন পরিদর্শনে অংশ নেন।
দুপুরে জাতীয় সংসদে এসে তারা প্রথমে সংসদ ভবনের বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন, সংসদীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন। পরবর্তীতে তারা মূল গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এরপর নামাজের বিরতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের সরাসরি সাক্ষাতের এক চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, পরিদর্শনে আসা দলগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলিয়ে ৬৯ জন অংশ নেন।
এছাড়া ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজ থেকে ৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের (BLAST) মাধ্যমে আসা যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের (University of Oxford) চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (CGS) ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও এদিন সংসদ অধিবেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য আলাপকালে তাদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ জানতে চান এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আধুনিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
/আশিক
শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
উত্তরাঞ্চলের জীবন-মরণ সমস্যা তিস্তা নদীর টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নে নেওয়া ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র (Teesta Mega Plan) আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মাণ-মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ ভূমি পুনরুদ্ধারের মেগা প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
জাতীয় সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণসহ নানা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ সামগ্রিক কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে উজানের অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও তীব্র নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। এই সংকট মোকাবিলায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলা—রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে নদীভাঙন রোধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে ৪২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এই টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) সম্পন্ন হয়েছে। সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নদীশাসন, ড্রেজিং, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, স্পার মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের মতো বিশাল প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও সেচসুবিধা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষি উৎপাদন ও ফসলের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করবে।
পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন রাস্তা, সেতু ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নৌযোগাযোগের আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের এক নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
/আশিক
ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ও বর্তমান সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, “বিগত আট দশকে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সেবায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনন্য অবদান সমগ্র জাতির জন্য এক পরম গর্বের বিষয়।”
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি জাতির সার্বিক অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; তা মূলত নির্ভর করে একটি সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আর সেই ভিত্তিটি মজবুতভাবে নির্মাণে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম। এই ধারাকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, “১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান প্রধান বাতিঘর হিসেবে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য বিশ্বমানের দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যাঁরা দেশে ও বিদেশে নিজেদের পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব এবং নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদাকে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রেখেছেন।”
জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবিস্মরণীয় অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
একই সাথে তিনি দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত ঢামেকের সকল শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা এবং জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ রোগীদের সেবায় আরও নিবিড়ভাবে এগিয়ে আসুন। এতে এই মহান প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।”
/আশিক
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সরকারের ধারাবাহিক ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই বিশাল অগ্রগতি এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বিশ্বের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের শ্রমবাজারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই সুখবর জানান।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোর সংকট দূর করে তা সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জোরালো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই সফল ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে সিলেট সার্কিট হাউসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি—বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অসামান্য অবদান, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই কূটনৈতিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও বেশি শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও বেশি গতিশীল ও বেগবান করবে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু করে দিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক খাতকে একটি শক্ত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চান বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সোমবার (৬ জুলাই) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখা আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “আমি এটি বলবো না যে তিনি মাত্র ৫ বছরেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলবেন। তবে তিনি যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও কিছু সময় পান, তাহলে সত্যিকার অর্থেই নিজ দূরদর্শিতায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে নিয়ে যাবেন।”
সরকারের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে দুপুর বেলা মাত্র ১০০ টাকার সাধারণ খাবার খান, যা বর্তমানে সখীপুরের মতো এলাকাতেও পাওয়া কঠিন। আমরা মন্ত্রীরাও এখন প্রত্যেকে দুপুর বেলা এই ১০০ টাকার খাবারই খাই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল পৌনে ৯টার মধ্যে দপ্তরে চলে আসেন। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে আমাদের ওপরেও; আমরা মন্ত্রীরা এখন প্রতিদিন পৌনে ৯টার মধ্যে যার যার অফিসে হাজির থাকি। এমনকি আমার দপ্তরে কোনো দিন সাড়ে ৮টা বা পৌনে ৯টায় গেলেও দেখবেন আমি উপস্থিত আছি। অর্থাৎ শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনটা একদম শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু হয়ে গেছে।”
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যে ধস বা স্থবিরতা নেমে এসেছে, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ভগ্নদশা থেকে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক সমাজের কাছে বর্তমান নতুন জাতি ও রাষ্ট্রের অনেক বড় বড় প্রত্যাশা রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সুশৃঙ্খল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি খুরশিদ জাহান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক টিটুসহ স্থানীয় শিক্ষা খাতের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা ও নিকেতন লেকের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষা, মারাত্মক পানি দূষণ রোধ এবং একটি সুশৃঙ্খল সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানিয়ে বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার বহুতল ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন (স্যুয়ারেজ) সংযোগ ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ লেকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে দূষণমুক্ত করার সার্বিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেকের তলদেশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এককভাবে কাজ না করে সম্পূর্ণ সমন্বিতভাবে মাঠে নামার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকার এই অভিজাত এলাকার লেকগুলোকে দূষণমুক্ত ও সচল করতে ইতিমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক ও জরুরি অংশ হিসেবে গুলশান-বনানী এলাকার যেসব আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষতিকারক পয়ঃবর্জ্য সরাসরি পাইপের মাধ্যমে লেকের পানিতে গিয়ে পড়ছে, তা অবিলম্বে কঠোর হস্তে রোধ করা এবং ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।
সভায় লেকের পরিবেশ আমূল বদলে দিতে সর্বাধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের বিষয়েও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা করা হয়। এছাড়া লেক এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত চারপাশের সবকটি খাল যাতে পলিথিন ও অন্যান্য ময়লায় ভরাট না হয়, সেজন্য সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ সচল রাখতে আধুনিক খনন বা ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীতো হয়। একই সঙ্গে কড়াইল বস্তির বিশাল জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন গৃহস্থালি বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকের পানিতে মিশে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাতে না পারে, সেজন্য সেখানে বিশেষ কী ধরনের টেকসই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া যায়, তা নিয়েও সভায় পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
উচ্চপর্যায়ের এই নীতি-নির্ধারণী সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
/আশিক
‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব
সদ্য বিদায়ী জুন মাসে সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অসংখ্য অভিযোগ আসার প্রেক্ষিতে এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও সম্ভাব্য সমাধানের উপায় ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত যাবতীয় সংকটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের মূল কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুন মাসে বিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ট্যারিফ বা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে ঘটেনি, বরং এই সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের সামগ্রিক ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াটাও অন্যতম একটি প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের অফিশিয়াল দাম বৃদ্ধি, তীব্র গরমে গ্রাহকদের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিল উচ্চতর স্ল্যাবে (ধাপে) প্রবেশ করার কারণেই মূলত অনেকের বিল অস্বাভাবিক এসেছে। তবে সাধারণ এই কারণগুলোর বাইরে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের করণিক ভুল বা টাইপিংয়ের ভুলও তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং সে ধরনের অভিযোগগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতিমধ্যে যথাযথ প্রতিকার করা হয়েছে।
করণিক ভুলের একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে সচিব বলেন, খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত করণিক ভুল প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে এক সাধারণ গ্রাহকের প্রকৃত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ইউনিট মাত্র ৭০ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ডেটা এন্ট্রির সময় অসাবধানতাবশত করণিক ভুলের কারণে সেটি কাগজে-কলমে ৭০০ ইউনিট হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায়।
ফলে নতুন বর্ধিত বিদ্যুতের মূল্য দিয়ে যখন ওই বিশাল ইউনিটকে গুণ করা হয়, তখন গ্রাহকের কাছে একটি অস্বাভাবিক ও কাল্পনিক বিল চলে আসে। এ ঘটনার সুরাহা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা ও করণিক ভুলের জন্য দায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইন অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহকের বিলটি সম্পূর্ণ সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সচিব আরও জোর দিয়ে বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা সব ধরনের ‘ভূতুড়ে বিলের’ অভিযোগ অনুসন্ধান ও দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার দেশের সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে, যাতে করে উৎপাদনের সম্পূর্ণ ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে।
সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা, সিস্টেম লস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা, প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তব্যের শেষাংশে সচিব বলেন, যেসব সম্মানিত গ্রাহকের নিজস্ব বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কে কোনো ধরনের সন্দেহ, অসঙ্গতি বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে ল্যাবে মিটার পরীক্ষা করা, বিল পুনর্যাচাই করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/আশিক
অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা
আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনি ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে প্রায় সব স্তরের বকেয়া নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই এসব নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভাগুলোতে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। পুরো দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনার জানান, কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কারণে প্রথমে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে এই দুটি নির্বাচনের গুরুত্ব থাকায় এগুলো আগে শেষ করে পরে উপজেলা নির্বাচনের দিকে এগোবে ইসি।
নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা বা চিঠি না এলেও ইসি নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশোধিত আচরণবিধির খসড়া এরই মধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে। নতুন বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্যতম।
এবারের নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না। বর্তমানে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন যেহেতু অঞ্চলভিত্তিক ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হবে। আব্দুর রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে সংঘাত বেশি হতো, তবে এবার সহিংসতা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার মান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে কমিশন।
এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইসি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ফিলিস্তিনের কষ্ট যে বোঝে না সে মানুষই না: মিসরীয় কোচ
- সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
- সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
- পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ
- ৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি
- এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম
- বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত ৬ পরাশক্তি, কার সামনে কোন প্রতিপক্ষ?
- শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
- বাবা হিসেবে সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত: ভেঙে পড়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন চিঠি
- ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
- বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
- গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস
- যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভের চেয়েও পিছিয়ে: বিশ্বের অন্যতম কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার রেকর্ড
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
- ৭ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৭ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি
- আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের ক্রীড়াসূচি: বিশ্বকাপ, উইম্বলডন ও টি-টোয়েন্টি
- মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ
- ‘ফিলিস্তিনের কষ্ট না বুঝলে মানুষ নন’
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- ক্রসবারে বাঁচল স্পেন, পরক্ষণেই বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড
- টানা বাড়তির পর বড় ধাক্কা, কমল স্বর্ণের দাম
- আজ বের হওয়ার আগে দেখুন কোন মার্কেট বন্ধ
- তিতাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি: মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ
- ৩ বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতিতে পিজিআর সদর দপ্তরে কেক কেটে ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
- ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে
- বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়
- গাজায় দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনের অবসান, নিজেদের শাসন কমিটি বিলুপ্ত করল হামাস
- আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার
- গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ
- প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান
- ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস
- খামেনির জানাজার মাঠে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান, তেহরানে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত লাখো জনতা
- গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
- এক আঘাতেই খতম করার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতা নিয়ে খোঁচা দিল ইরান
- ‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব
- অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা
- ৬ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল
- ‘আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারতের মতো বড় বন্ধু আছে’-ভ্যান্সকে জবাব নেতানিয়াহুর
- বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা








