দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
কার্বন ডাই-অক্সাইডে কোনো শিশু মরেনি, মন্ত্রীর পেছনে ঘুষ নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীনের প্রধান
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আশঙ্কাজনকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে কোনো নবজাতক বা শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে জোর দাবি করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। একই সঙ্গে এই নামী হাসপাতালটির নিবন্ধন ও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের পেছনে ‘ঘুষের টাকা’ নিয়ে ঘোরার যে গুঞ্জন বা অভিযোগ উঠেছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এসব কথা বলেন ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। সম্প্রতি ওই হাসপাতালে পরপর শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং তার জেরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া আইনি পদক্ষেপের পর হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করতেই মূলত এই জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডাকা হয়।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারের তদন্ত কমিটি যে কারিগরি প্রতিবেদন দিয়েছে, তার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। সেই বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গাইডলাইন অনুযায়ী হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও কক্ষের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তা দ্রুত সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রায় আনার কারিগরি কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতাল ভবনটির নিচ থেকে বেকারিটি সম্পূর্ণ অন্য জায়গায় স্থানান্তরের কাজও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই শিশুদের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে বাইরে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়; এই সুনির্দিষ্ট কারণে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়া ঠেকাতে বা পুনরায় সচল করতে সরকারের উচ্চমহলে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন বা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে আদ্-দ্বীনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন—আমরা কোনো মন্ত্রী বা কর্মকর্তার পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি। ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ যদি থেকে থাকে, তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয় নিজে সরাসরি কথা বললেই সবচেয়ে ভালো হয়।
লাইসেন্স বাতিল ও হাসপাতাল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করা হবে জানিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, এই আদেশ ঠেকাতে হাইকোর্টে নতুন করে কোনো রিট করার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে মঙ্গলবার আমরা সরকারের কাছে আপিল আবেদন জমা দেবো।
একই সাথে হাসপাতাল ভবনটির কাঠামোগত উপযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, ভবনটি হাসপাতালের জন্য একেবারেই অনুপযোগী বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে গুরুতর মতামত দেওয়া হয়েছে, সেটি যদি আইনি ও কারিগরি দল দ্বারা শতভাগ প্রমাণিত হয়, তবে জনস্বার্থে আমরা এই ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলবো। লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, উদ্ভূত এই চরম পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁরা হাত গুটিয়ে বসে নেই; বরং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত করতে বর্তমানে কর্মরত সকল ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হয়। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় পরপর ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই অফিসিয়াল আদেশে বলা হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রথমে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই নোটিশের যে লিখিত জবাব দাখিল করে, তা সরকারের কাছে বিন্দুমাত্র সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ও জননিরাপত্তায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলো।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই আদেশ জারির ঠিক আগের দিন দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে একটি ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ বলে কড়া আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তদন্তে প্রতিষ্ঠানের দায় ও গাফিলতি প্রমাণিত হলে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন চিরতরে বাতিল করা হবে। তাঁর ওই কঠোর বক্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রশাসনিক আদেশ চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় অত্যন্ত রহস্যজনক ও বিতর্কিতভাবে পরপর ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও কারিগরি গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জবাবে দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
/আশিক
ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব সাফল্যের দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন এক ধরনের ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ কিছু রোগীর শরীরে থাকা টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ‘অ্যামিভ্যানটাম্যাব’ (amivantamab) নামের এই নতুন ওষুধটি মূলত একটি ট্রিপল-অ্যাকশন ক্যান্সার থেরাপি হিসেবে কাজ করে, যা অত্যন্ত জটিল রোগীদের ক্ষেত্রেও অভাবনীয় ফলাফল দেখিয়েছে।
বিশ্বের ১১টি দেশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মেগা ট্রায়ালে এমন সব জটিল রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের ক্যান্সার ইতোমধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল (মেটাস্ট্যাসিস) অথবা যারা প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসায় কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছিলেন না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ইনজেকশনটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারে (Head and Neck Cancer) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এমন ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনেরই টিউমার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের ক্ষেত্রে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সার টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত বা ভ্যানিশ হয়ে গেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ও বায়োলজিক্যাল ক্যান্সার থেরাপির খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ কেভিন হ্যারিংটন এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রচলিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয়ের প্রতিই প্রতিরোধী বা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে, তাদের শরীরে এমন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই স্মার্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আগামী দিনে প্রতিবছর বিশ্বের হাজার হাজার ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মেডিকেল সায়েন্সের এই যুগান্তকারী গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজিতে’ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
গবেষকদের মতে, মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের পাশাপাশি একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung Cancer) রোগীদের ক্ষেত্রেও। বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি জে অ্যান্ড জে (জনসন অ্যান্ড জনসন) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ওষুধটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০টি পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ফুসফুস ছাড়াও কোলন, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই স্মার্ট ইনজেকশনটি মূলত মানবদেহে ক্যান্সারকে তিনটি ভিন্ন উপায়ে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে: প্রথমত, এটি ‘ইজিএফআর’ (EGFR) নামক প্রোটিনকে ব্লক বা বাধা দেয়; দ্বিতীয়ত, এটি ‘এমইটি’ (MET) নামক সেই কোষীয় পথকে বন্ধ করে দেয় যা ক্যান্সার কোষকে চিকিৎসা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে; এবং তৃতীয়ত, এটি রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে সরাসরি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্ররোচিত করে।
এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ নামের একজন ব্রিটিশ রোগী নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পূর্বের সব কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি চরম হতাশায় এই ট্রায়ালে যুক্ত হয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অলৌকিক উন্নতি ঘটে। চিকিৎসা শুরুর মাত্র কয়েকটি সাইকেলের পরই তিনি স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে পারেন এবং তার অসহ্য শারীরিক ব্যথা সম্পূর্ণ কমে যায়।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ইনজেকশনটি সাধারণত রোগীর ত্বকের নিচে (Subcutaneous) ছোট আকারে দেওয়া হয়, যা হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে প্রচলিত ইনট্রাভেনাস ড্রিপ বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়ার তুলনায় অনেক দ্রুত, সহজ এবং আরামদায়ক। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধের অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার, যার কারণে খুব কম রোগীকেই মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
গবেষকদের মতে, বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ট্রায়ালে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-নেতিবাচক মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার রোগীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের চিকিৎসা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত সবচেয়ে বেশি কঠিন ও জটিল বলে গণ্য হয়। এই ইনজেকশন বা চিকিৎসা শুরু করার পর অত্যন্ত অগ্রসর (Advanced Stage) পর্যায়ে থাকা রোগীদেরও গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৫ মাস।
ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে একদম সীমিত বিকল্প থাকা মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর নতুন চিকিৎসা নিয়ে আসা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসাধারণ ফলাফল বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যদিও ওষুধটি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে বাণিজ্যিকভাবে আসার আগে আরও কিছু বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ
রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (Measles)। প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৫ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে। এছাড়া ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জনের শরীরে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনে।
প্রতিবেদনে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। মে মাসের তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
যে রোগ হলে খেতে ইচ্ছা করে মাটি, চক, চুল। জানুন চিকিৎসা
মানুষ সাধারণত খাবার হিসেবে যেসব জিনিস গ্রহণ করে, সেগুলো শরীরের পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি ব্যাধি রয়েছে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মাটি, চক, কাগজ, চুল, বরফ, সাবান বা বালির মতো অখাদ্য ও পুষ্টিহীন জিনিস খেতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক খাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় “পিকা”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকা একটি মানসিক ও খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি বা ইটিং ডিসঅর্ডার। এটি শুধু অদ্ভুত আচরণ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা স্নায়ুবিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমন জিনিস খেতে চান, যা সাধারণ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত নয় এবং যেগুলোর কোনো পুষ্টিগুণও নেই। এই প্রবণতা একদিন বা দুইদিনের নয়; বরং সাধারণত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।
পিকা রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বা বিকাশজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের মধ্যেও এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে আয়রন, জিঙ্ক বা অন্যান্য খনিজ উপাদানের ঘাটতি পিকার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে। অনেক সময় অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, শৈশবের মানসিক আঘাত বা আচরণগত সমস্যার কারণেও এই ব্যাধি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অখাদ্য জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। কেউ মাটি খান, কেউ কাগজ বা চক চিবান, আবার কেউ বরফ, সাবান বা চুল খাওয়ার প্রবণতায় ভোগেন। এই অভ্যাস অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পিকা রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এর শারীরিক জটিলতা। অখাদ্য বস্তু খাওয়ার ফলে পেটে সংক্রমণ, অন্ত্রে বাধা, পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতি, দাঁতের সমস্যা এবং বিষক্রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে সীসাযুক্ত বস্তু খেলে লেড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চিকিৎসাবিদরা এটিও মনে করিয়ে দেন যে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মাটি বা অন্য কিছু মুখে দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক আচরণের অংশ হতে পারে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে বিশেষ ধরনের মাটি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তা সবসময় পিকা হিসেবে ধরা হয় না।
পিকা রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর আচরণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরীক্ষা মূল্যায়ন করেন। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি আছে কি না তা দেখা হয়।
এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো একক ওষুধ নেই। চিকিৎসকদের মতে, পিকার পেছনের মূল কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। আর মানসিক বা আচরণগত সমস্যা থাকলে কাউন্সেলিং ও থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্ত করা গেলে পিকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে অখাদ্য কিছু খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
করোনার চেয়েও ভয়ংকর? রহস্যময় ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সতর্কতা
করোনার ক্ষত শুকোতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই রহস্যময় ভাইরাসটি সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়েও বেশি সংক্রামক এবং দ্রুত রূপ বদলাতে সক্ষম। আগে গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বড় ধরনের মহামারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমেরিকা ও জার্মানির গবেষকরা দেখেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল আরএনএ (RNA) ভাইরাস, যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মেলায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের লিভারে থাকা ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ এই ভাইরাসের বিস্তারকে আরও মারাত্মক করে তোলে। এটি শরীরের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে কোষের মৃত্যু ঘটায়, ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে।
প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হলেও এটি শরীরের ভেতরে অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। যদিও এটি এখনও বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে এর বিবর্তন ও অভিযোজন ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একে সাধারণ ফ্লু হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং কার্যকর প্রতিষেধক তৈরিতে এখন থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।
/আশিক
হামে মৃত্যুর মিছিলে শিশুদের সংখ্যাই বেশি! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রকোপ। গত ৫৬ দিনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধলক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, আর প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ মে সকাল ৮টা থেকে ১১ মে সকাল ৮টা) হাম সন্দেহে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুসারে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। গত এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ৩৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জনে। এই ৫৬ দিনে মোট ৩৫০ জন মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। মৃতদের একটি বড় অংশই শিশু।
হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম (৬,৫৫৫ জন) এবং তৃতীয় স্থানে রাজশাহী (৪,৩৭৩ জন)। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগে আক্রান্ত (৪১৮ জন) ও মৃত্যু (৪ জন) উভয়ই সবচেয়ে কম।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৯৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানেও কয়েক হাজার রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
/আশিক
নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলে পস্তাতে হতে পারে
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমান সময়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিডনিকে বলা হয় শরীরের 'ছাঁকনি', যার প্রধান কাজ রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণ করা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনি বিকল হতে শুরু করলেও অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না। ফলে রোগটি যখন শনাক্ত হয়, তখন তা অনেকটা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
কিডনি সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ
কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হতে পারে না, যার ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে চোখ, পা কিংবা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান সংকেত। এছাড়া প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া (প্রোটিন ক্ষরণ), রং পরিবর্তন বা অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়া সতর্কবার্তার লক্ষণ। ক্ষুধার অভাব, বমি ভাব এবং ত্বকে হঠাৎ চুলকানি বা খসখসে ভাব দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্যথার অবস্থান ও ধরন
কিডনির ব্যথা এবং সাধারণ কোমর ব্যথার মধ্যে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা মূলত পিঠের নিচের দিকে পাঁজরের ঠিক নিচে অনুভূত হয়। পাথর থাকলে এই ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে কুঁচকি বা তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয়ে তীব্রতর রূপ নেয়।
প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া কিংবা রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া কিডনি বিকলের ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা লালচে আভা বা রক্ত দেখা দিলে তা মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
যদি কোমর বা পাঁজরের ব্যথা এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সাথে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে, তবে দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ কম খাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
/আশিক
অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি বেশি! গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য
২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক ভীতিকর চিত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় অনেক বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা আরও ভয়াবহ, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গবেষণায় নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভয়াবহ পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। যেমন, অবিবাহিত পুরুষদের মলদ্বারের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, বৈবাহিক জীবন মানুষের জীবনযাত্রায় এক ধরনের শৃঙ্খলা আনে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং একে অপরের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ফলে বিবাহিতরা পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হন।
তবে বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ফলকে সতর্কতার সাথে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিয়ে করলেই যে ক্যানসার হবে না—বিষয়টি তেমন নয়। এটি মূলত একটি সামাজিক ও আচরণগত নির্দেশক মাত্র।
যারা অবিবাহিত রয়েছেন, গবেষকরা তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা তাঁদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই গবেষণার ফলাফল বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
কিডনিতে পাথর কেন হয়? প্রাণঘাতী এই ব্যথা থেকে বাঁচার ৫টি অব্যর্থ উপায়
কিডনি বা মূত্রনালির পাথর হওয়া আধুনিক জীবনযাত্রায় একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের ভেতর জমে থাকা খনিজ ও লবণের এই শক্ত কণাকেই আমরা পাথর বলে থাকি।
হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা রক্ত—শরীরের এই নীরব সংকেতগুলো হতে পারে কিডনি বা মূত্রনালির পাথরের লক্ষণ। সময়মতো সচেতন না হলে এই ক্ষুদ্র স্ফটিকই হয়ে উঠতে পারে অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ। কেন তৈরি হয় এই পাথর আর কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? দেখে নিন একনজরে
প্রস্রাবে থাকা খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ যখন ঠিকমতো শরীর থেকে বের হতে পারে না, তখন সেগুলো জমাট বেঁধে স্ফটিক বা পাথরে পরিণত হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধার সুযোগ পায়।
অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস (Red Meat) এবং অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম) বেশি খেলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয় এবং পাথর তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম না করাও একটি কারণ।
পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। কিন্তু বড় হলে কোমরের এক পাশে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে বমিভাব বা জ্বরও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা এই রোগ প্রতিরোধের সবথেকে বড় অস্ত্র। পাশাপাশি খাবারে বাড়তি লবণের ব্যবহার কমানো এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুর শরবত বা সাইট্রাস জাতীয় ফল রাখা অত্যন্ত কার্যকর।
শরীরের নীরব সংকেতগুলো অবহেলা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতাই পারে আপনাকে বড় ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- দীর্ঘ ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- দিনে-রাতে ২০ থেকে ৩০ বার লোডশেডিং, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
- দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান
- টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত জাপান কি পারবে ব্রাজিলের জয়রথ থামাতে?
- ১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর
- পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ
- ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস
- সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?
- 'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা
- ৪৮ দল থেকে টিকে রইল ৩২: দেখে নিন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সম্পূর্ণ সূচি
- অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান: ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল, ভরি এখন যত টাকায়
- রোববার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ
- আজ কোথায় কী, দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি জানুন
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- ভারতে সোনার বাজারে নতুন সংকট, কেন বাড়ছে চোরাচালান?
- যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
- মেসিকে বিশ্রাম দিয়ে কি বড় রেকর্ড হাতছাড়া করছে আর্জেন্টিনা? জর্ডান ম্যাচে নতুন ছক
- সমঝোতা ভাঙলেই 'দ্রুত ও চূড়ান্ত' জবাব: ওয়াশিংটনকে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া আলটিমেটাম
- চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি: ৩৭টি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে নাসার মেগা প্রজেক্ট
- বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ হলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী
- কুমিল্লা হোমনার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৪টি কবরে দাফন
- জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল, কোয়ার্টারে বিদায় আর্জেন্টিনার! ‘বিশ্বকাপ গুরু’র নতুন বোমা
- এটি একটি বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ ফিফা ও ইনফান্তিনোকে ধুয়ে দিলেন ইরানি অধিনায়ক
- বাংলাদেশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে ভারত: চরমোনাই পীর
- ৪১ বছরেও শেষ নয়! ২০৩০ বিশ্বকাপে ছেলের সাথে খেলার ইঙ্গিত রোনালদোর
- জাকাত হলো দেশের অর্থনীতির ‘হিডেন ইকোনমি’: কেন এমন বললেন বিজেপি চেয়ারম্যান?
- কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কী? বেইজিং সফরের পর সংসদের সামনে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে চীনের মেগা বিনিয়োগের ছক: বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখে নতুন পথ ও পরিকল্পনার কথা
- ইসলামাবাদ সমঝোতা কি ভেস্তেই গেল? বাহরাইনে ড্রোন হামলার নেপথ্যে কী?
- অন্ধ বিরোধিতার কালচার আমি সমর্থন করি না: জামায়াত আমির
- মানুষ নিজেদের স্বার্থ দেখার জন্যই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আভিজাত্যের তকমা হারাচ্ছে ধানমন্ডি: ৩১ বছর পর কোন বড় অ্যাকশনে সরকার?
- সাড়ে ৭ ঘণ্টায় রেকর্ড চূর্ণ: পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল কত কোটি?
- ১৭ এমওইউর পর সংসদে ধন্যবাদ পেলেন প্রধানমন্ত্রী
- প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার
- চুক্তির মেয়াদ ১০ দিনও টিকল না: হরমুজে পাল্টা-পাল্টি হামলা, কোন মহাযুদ্ধের মুখে মধ্যপ্রাচ্য?
- পতনের পরই বিশাল লাফ: রেকর্ড ভেঙে এবার কত হলো সোনার ভরি?
- ৬ মাস পর খুলল পাগলা মসজিদের দানবাক্স, ৪৩ বস্তা টাকার গণনা চলছে!
- কাঁটাবনে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ হারালেন দুই আইনজীবীর সহকারী, নেপথ্যে কী?
- রোমের বুকে রক্তক্ষরণ: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংস হত্যা, নেপথ্যে কী?
- জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চে মেসি, নকআউটের আগে স্কালোনির বড় সিদ্ধান্ত
- প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়
- ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবাননের ১৪ দফা চুক্তি
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন সব সময়
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২: দ্বিতীয় রাউন্ডে যাদের বিপক্ষে খেলতে পারে আর্জেন্টিনা
- বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আজ রাতে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা, মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে
- ২৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








