দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:৩৪:২৮
দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৩২:০৪
মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
ছবি : সংগৃহীত

ঘুমের সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য শারীরিক ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্য ও মূল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতামত এবং আপনার প্রদান করা খবরের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং আন্তর্জাতিক অ-আয়নাইজিং রেডিয়েশন সুরক্ষা কমিশন (ICNIRP)-এর মতে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) হলো অ-আয়নাইজিং বিকিরণ (Non-ionizing radiation)। এক্স-রে বা গামা-রশ্মির মতো আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু মোবাইল ফোনের অ-আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ অণুর বন্ধন ভাঙতে পারে না বা শরীরের কোষ পুড়িয়ে ফেলতে পারে না। বহু বছরের ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমানোর সাথে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সারের প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পকেটে ফোন রাখা বা প্রজনন অঙ্গের কাছাকাছি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে নিঃসৃত তাপ (Heat) ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োগে শুক্রাণুর গুণগত মানে আংশিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সাথে সরাসরি রেডিয়েশনের সংযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ নেই।

তবে মাথার কাছে মোবাইল রাখার অন্যান্য বাস্তবসম্মত শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে

১. ঘুমের ব্যাঘাত

নোটিফিকেশনের শব্দ, ভাইব্রেশন এবং ডিসপ্লের 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার লক্ষণ তীব্র হতে পারে।

২. অগ্নিঝুঁকি ও বিস্ফোরণ

বালিশ বা তোশকের নিচে ফোন রাখলে বাতাসের চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিরাপদ অভ্যাসের অংশ হিসেবে ঘুমানোর সময় ফোন বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখা এবং রাত জেগে ব্যবহারের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

/আশিক


গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:৩৯:৫০
গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ লুটিয়ে পড়াকে হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ মনে করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত উপসর্গ এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই নীরব ও সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম বের হওয়ার মতো শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। তবে এসব সাধারণ শারীরিক উপসর্গও ক্ষেত্রবিশেষে হৃদরোগের মারাত্মক পূর্বসংকেত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত ও বিভ্রান্তিকর লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রথমত, বুকের মাঝখানে অসচ্ছলতা বা অস্বস্তি হওয়া, যা সব সময় খুব তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে; বরং বুক চেপে থাকা, ভারী লাগা বা চাপ বোধ হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যথা কেবল বুকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, এক বা দুই হাত এবং পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ পেশির টান বা হজমের সমস্যা মনে করে ভুল করেন।

তৃতীয় প্রধান সতর্কসংকেত হলো হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। ভারী কোনো কাজ না করা সত্ত্বেও হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁসফাঁস লাগা হৃদযন্ত্রের জটিলতার অন্যতম লক্ষণ। চতুর্থত, হঠাৎ করেই শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘেমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার অনুভূতি হওয়া। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো ফ্লু, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়।

ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কারণ অন্য অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও একই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে যদি এই ধরনের একাধিক উপসর্গ হঠাৎ করে শরীরে দেখা দেয় এবং তীব্র হতে থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

/আশিক


হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৭:৫৬:০৯
হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিগত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন রোগী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ঘটনায় চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ছয়জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া এক হাজার ৫৯৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৯০ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৩ জনে।

/আশিক


অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২০:০৮:৫৩
অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ

কম বয়সেও অনেকের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘদিনের কাশি কিংবা সামান্য কায়িক পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা যায়। এসব সমস্যার পেছনে কেবল কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ বা সংক্রমণই একমাত্র কারণ নয়, বরং প্রতিদিনের কিছু অসচেতন জীবনযাপনও দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান, পরিবেশের দূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিয়মবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শ্বাসযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়া এবং বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক।

ফুসফুস তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করলে স্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, শ্বাস নেওয়ার সময়ে সাঁই-সাঁই শব্দ হওয়া কিংবা অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো স্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ পায়। শ্বাসযন্ত্রের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে চিকিৎসকেরা স্পাইরোমেট্রি নামক একটি বিশেষ পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুস ঠিক কতটা বাতাস ধারণ করতে সক্ষম এবং কত দ্রুত তা নির্গমন করতে পারে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা হয়। মূলত দৈনন্দিন জীবনের সাতটি বিশেষ অভ্যাসের কারণেই ফুসফুসের এই ক্ষতি তরান্বিত হয়।

শ্বাসনালির জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে তামাক সেবনের অভ্যাস। সিগারেট ও তামাকজাত বিভিন্ন পণ্যের বিষাক্ত রাসায়নিক শ্বাসনালি ও ফুসফুসের ভেতরে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো দুরারোগ্য ব্যাধির আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করে। তাই শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষিত রাখার মৌলিক শর্তই হলো ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা বা এটি থেকে দূরে থাকা।

একইভাবে অন্যের ছেড়ে দেওয়া সিগারেটের ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলেও প্রায় সমপরিমাণ ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শ্বাসনালির জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। ফলে পরিবার, কর্মস্থল কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ধূমপায়ীদের আশপাশ থেকে সতর্কতার সাথে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।

সড়কে বা কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ছাড়া চলাচল করাও ফুসফুসের সুরক্ষায় বড় অন্তরায়। যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, ক্ষতিকর ভাসমান ধূলিকণা এবং কলকারখানার রাসায়নিক উপাদান শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় এমন দূষিত আবহে সুরক্ষা ছাড়া থাকলে বিদ্যমান শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয় এবং নতুন রোগের পথ তৈরি হয়। তাই অপ্রয়োজনে দূষিত স্থানে না থাকা এবং ধোঁয়া ও রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে সঠিক সুরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা আবশ্যক।

বাইরের দূষণের পাশাপাশি আবদ্ধ পরিবেশের অপরিচ্ছন্ন বাতাসও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ না করা ঘরে রান্নার ধোঁয়া, মশার কয়েল কিংবা জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাস আটকে থাকলে ফুসফুস ক্রমাগত বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে আসে। তাই ঘরের ভেতরে যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং রান্নার ক্ষতিকর ধোঁয়া সহজেই বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত দরকারি।

দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এবং কায়িক শ্রম থেকে দূরে থাকাও ফুসফুসের সহনশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। শারীরিক সক্রিয়তা মানুষের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা ও কার্যকারিতা অটুট রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস পরিহার করে কাজের ফাঁকে হাঁটাচলা এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুসারে নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সাধারণ সর্দি-কাশি দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রবণতা শরীরে নতুন বিপদের জন্ম দেয়। সাধারণ ফ্লু বা সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজেই আসে না। বরং অপ্রয়োজনীয় ও যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে শরীরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যার ফলে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সংক্রমণের সময় কোনো ওষুধ আর কাজ নাও করতে পারে।

অন্যদিকে শরীরে পানির ঘাটতি হলে শ্বাসনালির স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক মিউকাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ফুসফুসের আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে কেবল পর্যাপ্ত পানি পান করলেই ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ঠেকানো সম্ভব—এমন ধারণা অবৈজ্ঞানিক। ফুসফুস সুস্থ রাখতে পানি পানের পাশাপাশি ধূমপান এড়ানো, দূষণমুক্ত থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম অব্যাহত রাখাই হলো কার্যকর সমাধান।

স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির কারণে ফুসফুসের ক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দূষিত বায়ু, পরোক্ষ ধূমপান পরিহার, উন্মুক্ত বাতাসের নিশ্চয়তা এবং নিয়মিত চলাফেরার মাধ্যমেই ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘদিনের কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরা ভাব কিংবা সামান্য নড়াচড়াতেও বুক ধড়ফড় করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

/আশিক


কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:৪২:৫০
কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
ছবি : সংগৃহীত

মানবদেহে কোনো রোগ সাধারণত হঠাৎ করে বাসা বাঁধে না; বড় ধরনের অসুস্থতার আগে শরীর প্রায়ই বিভিন্ন নীরব সংকেত দিতে থাকে, যা অনেক সময় অবহেলার কারণে নজর এড়িয়ে যায়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, মারণব্যাধি ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শরীর এমন কিছু মৃদু লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে, যা সময়মতো শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়া মানেই ক্যানসার নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার সংকেতও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা প্রধান যে পাঁচটি লক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো ধরনের ডায়েট বা শরীরচর্চা ছাড়াই হঠাৎ দ্রুত ওজন কমে যাওয়া; বিশেষ করে কয়েক মাসে সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন হ্রাস পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ক্লান্তি ভাব থাকা, কোনো সংক্রমণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা (বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত ঘামসহ জ্বর), এবং কারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে শরীরের কোনো অংশে ক্রমাগত ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। টিউমারের চাপ বা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তৈরি হতে পারে।

পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণটি হলো ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন। ত্বক বা চোখ হঠাৎ হলুদ হয়ে যাওয়া ছাড়াও শরীরের কোনো তিলের আকার, রঙ ও কিনারায় পরিবর্তন এলে, কিংবা তিলটি দ্রুত বড় ও অসমান হতে থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের পেছনে রক্তস্বল্পতা, মানসিক চাপ বা সাধারণ সংক্রমণের মতো অন্যান্য কারণও থাকতে পারে; তবে লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক পরীক্ষা করানোই সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায়।

/আশিক


কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:৪৫:৫৯
কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
ছবি : সংগৃহীত

কাশির সঙ্গে কফ, লালা বা শ্লেষ্মায় রক্ত দেখা দিলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তবে এটি সবসময় জটিল বা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়াকে ‘হেমোপ্টাইসিস’ বলা হয়। অতিরিক্ত কাশির কারণে গলা বা শ্বাসনালিতে সামান্য ক্ষত সৃষ্টি হলেও কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে। রক্ত সাধারণত অল্প পরিমাণে থাকে এবং তা গোলাপি, লাল, মরিচা রঙের কিংবা ফেনার মতোও দেখা যেতে পারে। কাশির সঙ্গে বের হওয়া রক্ত শ্বাসনালি বা ফুসফুস থেকে আসে, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে হওয়া রক্তবমি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, কাশির সঙ্গে রক্ত আসার পেছনে সাধারণ ও জটিল বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রঙ্কাইটিস বা শ্বাসনালির প্রদাহ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা (টিবি), দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত কাশি, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন এবং নাক, দাঁত, টনসিল বা গলা থেকে রক্ত শ্বাসনালিতে চলে আসা। এছাড়া ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তনালির সমস্যা, অটোইমিউন রোগ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা কিংবা ফুসফুসের ক্যানসারের মতো কারণেও এটি হতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা অবহেলা করা বিপজ্জনক।

অল্প পরিমাণ রক্ত একবার দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ভয়ের কিছু না থাকলেও বেশি পরিমাণে রক্ত বের হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া রক্তের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, তীব্র জ্বর, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানায় রক্তের মতো উপসর্গ থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। এমনকি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অল্প অল্প রক্ত দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রোগের সঠিক কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকরা রক্তের পরিমাণ, স্থায়িত্ব ও উপসর্গের তীব্রতা পর্যালোচনা করেন। নিশ্চিত হতে বুকের এক্স-রে, ফুসফুসের বিস্তারিত পর্যালোচনায় সিটি স্ক্যান, শ্বাসনালির ভেতরের উৎস খুঁজতে ব্রঙ্কোস্কপি, রক্ত পরীক্ষা এবং ব্যাকটেরিয়া বা যক্ষ্মা শনাক্তে কফ পরীক্ষার মতো প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার সহায়তা নেওয়া হয়। কাশির সঙ্গে রক্ত মানেই ক্যানসার নয়, তবে কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অবহেলা না করে দ্রুত সঠিক চিকিৎসার পদক্ষেপ নেওয়াই নিরাপদ।

/আশিক


পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:৩১:১১
পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

অ্যাপেনডিসাইটিস এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যা শুরুতে সাধারণ পেটব্যথার মতো মনে হলেও দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে। অ্যাপেনডিক্স হলো আঙুলের মতো ছোট, নলাকার একটি থলির মতো অঙ্গ, যা পেটের নিচের ডানদিকে বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ দেখা দিলে তাকে অ্যাপেনডিসাইটিস বলা হয়। এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অ্যাপেনডিক্সে অতিরিক্ত প্রদাহ ও ফোলাভাব হলে সেখানে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একপর্যায়ে অ্যাপেনডিক্স ফেটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে গুরুতর জটিলতা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অ্যাপেনডিসাইটিসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পেটের নিচের ডানদিকে চলে যাওয়া। আক্রান্ত স্থানে নড়াচড়া, কাশি বা গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বমি, বদহজম, জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হঠাৎ ক্ষুধামন্দার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

অ্যাপেনডিসাইটিস সাধারণত কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গুরুতর হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে নাভির চারপাশে ব্যথা অনুভূত হয়। পরে তীব্র পর্যায়ে ব্যথা পেটের নিচের দিকে, বিশেষ করে ডানদিকে চলে যায় এবং এর সঙ্গে জ্বর বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

অ্যাপেনডিসাইটিসের চিকিৎসা রোগীর অবস্থা ও অ্যাপেনডিক্সের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রচলিত চিকিৎসার একটি পদ্ধতি হলো খোলা অস্ত্রোপচার। এ ক্ষেত্রে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর পেটে প্রয়োজনীয় স্থানে কেটে অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়। অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেলে সংক্রমণ ও পুঁজ পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আরেকটি পদ্ধতি হলো ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার। এতে পেটে বড় করে কাটার পরিবর্তে ছোট কয়েকটি ছিদ্র করে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।

অ্যাপেনডিসাইটিসের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ব্যবস্থাকে মূল চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ও শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা চলাফেরা করা যেতে পারে এবং পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলতে হয়। অস্ত্রোপচারের কাটা স্থানও পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

অ্যাপেনডিক্স শরীরের এমন একটি অঙ্গ, এটি অপসারণ করলেও সাধারণত মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। তবে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে পেটের ডানদিকে তীব্র বা ক্রমাগত ব্যথা, জ্বর, বমি কিংবা দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে থেকে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

/আশিক


কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৮:১৬:০৮
কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

কলেরা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মুখে খাওয়ার টিকা (পিওসিভি) প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ডোজ চলছে, যা চলবে আগামী দিনগুলোতে এবং এর দ্বিতীয় ডোজ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক এই টিকা নিতে পারবেন, তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।

কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত এলাকা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪টি থানা ও উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

টিকা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত নাগরিকদের নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল (vaxepi.gov.bd) অথবা নির্ধারিত কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নিবন্ধন শেষে প্রাপ্ত ন্যাশনাল হেলথ আইডি (NHID) কার্ডটি ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সহায়ক হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে গ্যাভি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইসিডিডিআর,বি ও আইএফআরসিসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো সহায়তা প্রদান করছে।

/আশিক


ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৩:২০:৩৯
ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকে। চলতি বছরও সেই চিত্রের ব্যতিক্রম হয়নি। ২৯ জুন পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ছয় হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গেলে ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার কামড়ে এ রোগ ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রক্তক্ষরণ, শক সিনড্রোম, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর। এর সঙ্গে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, ত্বকে র‍্যাশ, চোখের পেছনে ব্যথা, চুলকানি কিংবা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ রোগী দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সুস্থ হতে শুরু করলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়টি অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পর শুরু হয়। এ সময় রক্তের প্লাটিলেট কমে যেতে পারে, রক্তনালিতে তরল পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা। তবে রোগের কোন পর্যায়ে রোগী আছেন, তার ওপর নির্ভর করে পরীক্ষার ধরন পরিবর্তিত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা না করলে অনেক সময় রিপোর্ট বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

জ্বরের শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেঙ্গু এনএস১ (NS1 Antigen) পরীক্ষা

চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের প্রথম দিন থেকে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তের সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা হলো এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট। ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রাথমিক পর্যায়েই এই পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে পাঁচ দিনের পর সাধারণত এনএস১ নেগেটিভ হয়ে যেতে পারে, তাই দেরিতে পরীক্ষা করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রথমদিকে এনএস১ নেগেটিভ এলেও কেবল সেই রিপোর্ট দেখে ডেঙ্গু নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা বিবেচনায় নিতে হয়।

জ্বরের পঞ্চম দিনের পর প্রয়োজন হতে পারে ডেঙ্গু IgM পরীক্ষা

যদি জ্বরের শুরুতে এনএস১ পরীক্ষা করা না হয় বা পাঁচ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে যায়, তখন চিকিৎসকরা সাধারণত ডেঙ্গু IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে বলেন। এই পরীক্ষায় শরীরের তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয় এবং বর্তমান সংক্রমণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত জ্বরের ষষ্ঠ দিন থেকে এই পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফল দেয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত পজিটিভ থাকতে পারে।

দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ IgG পরীক্ষা

IgG অ্যান্টিবডি পরীক্ষা মূলত বোঝায় রোগী আগে কখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। রক্তে IgG পজিটিভ পাওয়া গেলে পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই IgG রিপোর্ট চিকিৎসা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রায় সব রোগীর জন্য প্রয়োজন সিবিসি (CBC) পরীক্ষা

ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো Complete Blood Count (CBC)। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্লাটিলেট কাউন্ট, শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিন এবং হেমাটোক্রিট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্লাটিলেট কমেছে কি না সেটিই নয়, বরং হেমাটোক্রিট বৃদ্ধি পেয়েছে কি না সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হেমাটোক্রিট বেড়ে গেলে শরীর থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা গুরুতর ডেঙ্গুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে লাগতে পারে অতিরিক্ত পরীক্ষা

যদি রোগীর শরীরে রক্তক্ষরণ, লিভারের জটিলতা, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা বা শক সিনড্রোমের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকরা Prothrombin Time (PT), International Normalized Ratio (INR) এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Bleeding Time–Clotting Time (BT-CT) পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয় এবং গুরুতর জটিলতা নির্ণয়ে সহায়তা পাওয়া যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জ্বরকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর দেখা দিলে রোগের দিন গণনা করে সঠিক সময়ে NS1, IgM, IgG ও CBC পরীক্ষা করানো রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পাঠকের মতামত: