মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

আরিফুল ইসলাম
আরিফুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২১:২৮:১০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কোনো স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি; বরং তা দ্রুতই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, পাল্টা হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি এখানে একটি কৌশলগত বিরতি মাত্র, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন ও পরবর্তী সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রতিযোগিতা সংঘাতকে অব্যাহত রাখে।

যুদ্ধবিরতির পরই তেল পাইপলাইনে হামলা

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা সংঘাতের প্রকৃত চরিত্রকে উন্মোচন করে। এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি রুট হওয়ায় এর ওপর আঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে যে, তারা অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ইয়ানবুর তেল স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত। যদিও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও পরিষ্কার নয়, এই হামলা জ্বালানি অবকাঠামোকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন প্রতিরোধ

সংঘাতটি দ্রুত আঞ্চলিক মাত্রা অতিক্রম করেছে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে, যা একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দেয়। ড্রোন প্রযুক্তির এই ব্যবহার যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন করছে, যেখানে কম খরচে এবং উচ্চ গতিশীলতায় আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করছে, যা নিরাপত্তা দ্বিধাকে আরও তীব্র করে তুলছে।

লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা

ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ৬০টিরও বেশি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং এতে শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছে। একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হামলার মতো ঘটনাগুলো সংঘাতের মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বৈরুতের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, সংঘাত এখন কেবল সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননে বাস্তবতা: যুদ্ধবিরতির বাইরে এক অঞ্চল

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তারা কার্যত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বহু মানুষ পরিবারে ফিরে যাওয়ার আশা করলেও ইসরায়েলের নতুন হামলায় সেই আশাগুলো ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা এই সংঘাতকে একটি বৃহৎ মানবিক সংকটে পরিণত করেছে। এই বাস্তবতা দেখায় যে, কাগুজে যুদ্ধবিরতি এবং মাঠের বাস্তবতার মধ্যে একটি গভীর ব্যবধান বিদ্যমান।

ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি

ইসরায়েলের হামলার পর ইরান সরাসরি প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই হামলার “শাস্তি” দেওয়া হবে এবং তারা উপযুক্ত জবাব প্রস্তুত করছে। IRGC ইতোমধ্যে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং বিদেশি বিমান তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, ইরান সংঘাতকে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের ভাষায় উপস্থাপন করছে, যা তাদের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা।

কূটনৈতিক আহ্বান: পাকিস্তানের ভূমিকা

এই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই ধরনের ঘটনা শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ না করলেও পুরো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অন্তত দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, কূটনীতিকে সুযোগ না দিলে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এই আহ্বান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নির্দেশ করলেও বাস্তব পরিস্থিতি কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য খুব বেশি অনুকূল নয়।

পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনা: কূটনীতির নতুন জানালা?

এই সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে আলোচনার জন্য আসার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিছু সূত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং ইসলামাবাদে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভ্যান্স উপস্থিত নাও থাকতে পারেন, যদিও শিগগিরই সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই অনিশ্চয়তা দেখায় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হলেও তা এখনও ভঙ্গুর ও অনির্দিষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: “যুদ্ধবিরতি মানে বিরতি, সমাপ্তি নয়”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করা হবে এবং বাহিনী সেই প্রস্তুতি রেখেই অবস্থান করছে। এই অবস্থান বাস্তববাদী আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি ক্লাসিক উদাহরণ, যেখানে সামরিক সক্ষমতা ও শক্তির প্রদর্শন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যুদ্ধবিরতি কি ব্যর্থ হচ্ছে?

এই যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, পক্ষগুলোর মধ্যে গভীর অবিশ্বাস কোনো স্থায়ী চুক্তিকে কার্যকর হতে দিচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা দ্বিধা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য পক্ষের কাছে হুমকি হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। তৃতীয়ত, এই সংঘাত বহুপাক্ষিক এবং প্রক্সি-নির্ভর হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। চতুর্থত, জ্বালানি ভূরাজনীতি এই সংঘাতকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে, ফলে এর প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং এটি একটি অন্তর্বর্তী পর্যায়, যেখানে সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না রাজনৈতিক সমাধান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে ওঠে, ততক্ষণ এই ধরনের যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়বে। বর্তমান বাস্তবতা ইঙ্গিত করছে যে, এই সংঘাত ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে, যদি না কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।


শিগগিরই খুলছে হরমুজ প্রণালি! বিশ্বকে বড় বার্তা দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৭:৫৮:৫৭
শিগগিরই খুলছে হরমুজ প্রণালি! বিশ্বকে বড় বার্তা দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই এই প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেবে।

তবে কাজটি যে সহজ হবে না, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নয় বরং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করতে চায়, যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম তিনি প্রকাশ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রাখে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং এলপিজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এই অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও এখনো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

ট্রাম্প এই পরিস্থিতির জন্য ন্যাটো মিত্রদের ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নৌপথটি নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না। রয়টার্সের তথ্যমতে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর ইউরোপীয় দেশগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন মিত্রদের কাছ থেকে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায়।

হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির পর এই নাজুক যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালি কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


শান্তি আলোচনার মাঝে অর্থের প্যাঁচ! ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে লুকোচুরি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৭:৪৬:৩৩
শান্তি আলোচনার মাঝে অর্থের প্যাঁচ! ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে লুকোচুরি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ আলোচনার মাঝেই ৬০০ কোটি ডলারের (৬ বিলিয়ন) বিশাল এক তহবিল ঘিরে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা এই জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরান এই পদক্ষেপকে ‘আন্তরিকতার লক্ষণ’ হিসেবে স্বাগত জানালেও মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবি দ্রুত নাকচ করে দিয়েছেন।

রয়টার্সের তথ্যমতে, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের শর্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মূলত ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় তেল বিক্রির এই অর্থ আটকে যায়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় এই ৬০০ কোটি ডলার কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হলেও, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর বাইডেন প্রশাসন পুনরায় তা স্থগিত করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট অবস্থান ছিল যে, এই অর্থ কেবল মানবিক প্রয়োজনে (খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম) ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।

বর্তমানে ইসলামাবাদে চলমান সংলাপে এই তহবিল ছাড়ের বিষয়টি তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানের দাবির সপক্ষে বক্তব্য এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অস্বীকৃতি—এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান চলমান কূটনৈতিক আলোচনার জটিলতাকেই আরও স্পষ্ট করছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অস্বীকৃতি ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার স্থায়ী সমাধানকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানে: অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১২:৩১:৪১
বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানে: অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ!
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে সারা বিশ্বের দৃষ্টি এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদকে বর্তমানে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল যখন ইরানের প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন থেকেই দেশটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরে ইরানের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তেহরানের এই শক্তিশালী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বিমানবন্দর থেকে প্রতিনিধিদলটি বের হওয়ার পর পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস ইউনিট এবং এলিট কমান্ড ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশাল কনভয় তাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে নিয়ে যায়।

এই আলোচনার গুরুত্ব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এছাড়া শহরজুড়ে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কূটনৈতিক সফরের ক্ষেত্রে বিরল।

বর্তমানে ইসলামাবাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোন’ এলাকা, যেখানে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দূতাবাস অবস্থিত, তা পুরোপুরি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত রেড জোনে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এখন সেখানে সব ধরনের যান চলাচল ও সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

রেড জোনের সীমানার বাইরে এখন দেশি-বিদেশি অসংখ্য সংবাদকর্মীর ভিড় জমেছে। আল জাজিরার ভাষ্যমতে, এই বৈঠককে সফল করতে পাকিস্তান কোনো ধরনের ত্রুটি রাখতে চাইছে না। তবে আলোচনার টেবিলে দুই পরাশক্তি শেষ পর্যন্ত কতটুকু ছাড় দেবে, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

/আশিক


পাকিস্তানগামী বিমানে শিশুদের ছবি! কী বোঝাতে চাইলেন গালিবাফ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১২:১৭:৫৩
পাকিস্তানগামী বিমানে শিশুদের ছবি! কী বোঝাতে চাইলেন গালিবাফ?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। ইরানের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তবে বর্তমানে আলোচনার টেবিলের চেয়েও বেশি চর্চা হচ্ছে গালিবাফের সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা একটি বিশেষ ছবি নিয়ে।

স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের শেয়ার করা সেই ছবিতে দেখা যায়, তাঁর বিমানে বেশ কিছু আসন খালি রাখা হয়েছে এবং সেই আসনগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ইরানের মিনাব এলাকার একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি ও তাদের ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সরঞ্জাম। ছবির ক্যাপশনে তিনি অত্যন্ত আবেগঘনভাবে লিখেছেন, ‘ফ্লাইটে আমার সঙ্গীরা, মিনাব ১৬৮।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার সময় মিনাব এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। নিহত সেই শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং বিশ্ববাসীর কাছে তাদের স্মৃতি তুলে ধরতেই গালিবাফ এই প্রতীকী উদ্যোগ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গালিবাফের এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে অত্যন্ত মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল শোক প্রকাশ নয় বরং শান্তি আলোচনার আগে ইরান যে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি বিশ্ব দরবারে জোরালোভাবে তুলতে চায়, এটি তারই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। ইসলামাবাদে আলোচনা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এমন একটি ছবি চুক্তির গতিপ্রকৃতি ও দুই পক্ষের অবস্থানের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ইসলামাবাদে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, শুরু হচ্ছে মূল পর্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:৫১:১৩
ইসলামাবাদে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, শুরু হচ্ছে মূল পর্ব
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সব নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলকে বহনকারী একটি সরকারি বিমান আজ সকালেই ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে।

এই শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

দুই পক্ষই ইসলামাবাদে পৌঁছালেও তাদের মধ্যে বিদ্যমান ‘অবিশ্বাস’ কাটেনি। গালিবাফ বিমানবন্দরে নেমেই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।”

ইসলামাবাদকে বর্তমানে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোন’ এলাকা পুরোপুরি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও যান চলাচল নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টার বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখান থেকে তারা এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই সংলাপে মূলত ৬ সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও লেবানন পরিস্থিতি ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ বজায় রয়েছে।

/আশিক


ওয়াশিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল-লেবানন: শান্তির পথে বড় মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:৩৪:৩৮
ওয়াশিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল-লেবানন: শান্তির পথে বড় মোড়
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার প্রথমবারের মতো সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন।

এই ফোনালাপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক পথ তৈরি হলো। এই সংলাপে বৈরুতে থাকা মার্কিন দূত মিশেল ইসাও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে মূলত একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সরাসরি শান্তি আলোচনার রূপরেখা ও তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা লেবানন সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় বসবে না। ইসরায়েলের ভাষায়, হিজবুল্লাহ একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং তারা শান্তির পথে প্রধান বাধা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট নিক্ষেপে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

গত মাসে ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে লেবাননে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল মাত্র ১০ মিনিটের ঝটিকা বিমান হামলায় ৩০৩ জন নিহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেই তারা শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। এখন সবার নজর মঙ্গলবারের ওয়াশিংটন বৈঠকের দিকে, যা এই অঞ্চলের ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

/আশিক


যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সমীকরণ: ইরানকে অত্যাধুনিক মিসাইল দিচ্ছে চীন!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:১৭:৩০
যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সমীকরণ: ইরানকে অত্যাধুনিক মিসাইল দিচ্ছে চীন!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন বেইজিং নিজেকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাহির করছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘ম্যানপ্যাডস’ (MANPADS) সরবরাহ করতে পারে। এই ধরনের অস্ত্র নিচু দিয়ে উড়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে এবং উৎসের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এই সরঞ্জামগুলো সরাসরি চীন থেকে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, চীন কখনো কোনো সংঘাতমান পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করে না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানে ‘তাপ-অনুসন্ধানী ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ইরানও একটি ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে, যা সিএনএন-এর এই দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন একদিকে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিও বজায় রাখতে আগ্রহী।

আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই অস্ত্র সরবরাহ এবং ইরান ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়লেই মিলবে ইরানের সাথে চুক্তি: ট্রাম্প 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১০:১৯:৪৫
পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়লেই মিলবে ইরানের সাথে চুক্তি: ট্রাম্প 
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এক কথায় জানিয়ে দিয়েছেন, একটি ভালো চুক্তির মূল নির্যাস হলো— ‘ইরানের জন্য কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ৯৯ শতাংশ শর্তই হওয়া উচিত দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখা। আলোচনার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই সংলাপ এক দফাতেই শেষ হবে না কি দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে কোনো বিকল্প বা ‘ব্যাকআপ’ পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর মতে ইরানে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে গেছে।

আলাপকালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যদিও তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই পথটির খুব একটা প্রয়োজন নেই। তবে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমনটা হতে দেবো না।”

- আল-জাজিরা


চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১০:১১:০০
চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আধা শতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদের পথে মানুষের ঐতিহাসিক সফরের সফল সমাপ্তি ঘটল। নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী ১০ দিনের মহাকাশযাত্রা শেষে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিরাপদে পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু পরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে মহাকাশযানটি অবতরণ (স্প্ল্যাশ ডাউন) করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে নভোচারীরা প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯২ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল দূর দিয়ে একটি ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করেছে, যা মহাকাশের এত গভীরে মানুষের এযাবৎকালের সবচেয়ে দূরের সফর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালের বিখ্যাত ‘অ্যাপোলো-১৩’ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিল আর্টেমিস-২।

মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানিয়েছেন, তিনিসহ দলের চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার সম্ভাবনা যাচাই করা। আর্টেমিস-২-এর এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই নাসা ২০২৮ সাল নাগাদ পুনরায় চাঁদের মাটিতে সরাসরি পা রাখার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে। রিকভারি টিম ইতিমধ্যে সমুদ্র থেকে ক্যাপসুলটি উদ্ধার করে নভোচারীদের নিরাপদে উপকূলে নিয়ে এসেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: